'চিত্রছায়া' গল্পটি আমার লেখনী-জীবনের একটি নতুন অধ্যায়, যা আমাকে এক অভাবনীয় যাত্রায় নিয়ে গেছে। শুরুতে ভেবেছিলাম একটি সাধারণ ভূতের গল্প লিখব। কিন্তু লেখার প্রক্রিয়ায় আমি নিজেই অবাক হয়ে গেলাম। আমার ভেতরে লুকিয়ে থাকা এক চিত্রশিল্পী, এক কবি এবং এক মনোবিজ্ঞানী যেন জেগে উঠল। এই তিন সত্তা মিলে আমার লেখনীকে এমন এক জায়গায় নিয়ে গেল, যা আমি কখনও কল্পনাও করিনি। 'চিত্রছায়া' আমার লেখা - সাইকোলজিক্যাল হরর জনরার বই। এই জনরার লেখা আমার জন্য একেবারেই নতুন। এটি আমার প্রথম প্রয়াস। এর মাধ্যমে আমি নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করেছি। আমার মনে হয়, এই বইয়ের মাধ্যমে পাঠকরাও আমাকে নতুন করে চিনবে।
'চিত্রছায়া' পড়ার সময় যে খুব আগ্রহ নিয়ে পড়তে বসেছিলাম ব্যাপারটা তা না। রিডারস ব্লকে ভুগছিলাম। তাছাড়া 'পদ্মজা' পড়ে যখন হতাশ হয়েছিলাম তখন লেখিকার অন্য কোনো বই ধরার সাহস হয়নি। তবে হ্যাঁ, ইলমা বেহরোজের লেখা পড়ে আমি আর যা-ই হোক, বোর হই না। তাছাড়া সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার জনরাটা আমার খুব পছন্দের। সুতরাং, সাত- পাঁচ না ভেবে পড়া শুরু করলাম। আমি ইলমা বেহারাজ ফ্যান বা হেটার কিছুই না, তবে আমি বলতে বাধ্য এই বইটা যথেষ্ট ভালো ছিল। খুব টানটান সাসপেন্স যে ছিল তেমনটা না,খনিকটা স্লো বার্ন ধরনের। তবে পড়তে খারাপ লাগেনি, গল্পটা শেষ পর্যন্ত আগ্রহ ধরে রাখতে পেরেছে। অবশ্য পুরো গল্পটাই খানিকটা প্রেডিকটেবল লেগেছে (আমার কাছে), কিন্তু গল্পের শেষ দিকে কী হবে বুঝতে পারার পরও মনে প্রানে চাইছিলাম আফ্রিদি সেন সত্যি হয়, বেচারা যেন অন্তত মুক্তি পায়। বিশেষ করে এন্ডিংটা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে, যে সমাপ্তিকে হ্যাপি বা স্যাড কোনো পর্যায়েই ফেলা যাবে না, তবু মনে একটা শান্তি আসবে। সত্যি বলতে অন্তত এই বইটাকে কেউ অখাদ্য বা কুরুচিপূর্ণ বলতে পারবে না। গল্পের পরতে পরতে হয়তো টুইস্ট নেই, তবে একটা মোটামুটি সাদামাটা প্লটকে সুন্দর করে উপস্থাপন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে লেখিকার কাছ থেকে এমন আরও বই আশা করি।