📖 বই - সাইলেন্ট কিলার
🖋️ লেখিকা - অর্পিতা সারকার
🖨️ প্রকাশনী - দীপ প্রকাশন
💰 মুদ্রিত মূল্য - ২৬৫ টাকা
সদ্য পড়ে শেষ করলাম লেখিকা অর্পিতা সরকারের "অফিসার লগ্নজিতা" সিরিজের আর একটি নতুন রহস্য উপন্যাস সিরিয়াল কিলিং।
গল্পের বিষয়বস্তু - কলকাতা শহরের বুকে পুলিশের নাকের ডগায় বসে একটি চক্র আসতে আসতে তাদের নেশার কারবার ছড়িয়ে দিচ্ছে শুধু কি তাই মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়েদের পয়সার লোভ দেখিয়ে কিভাবে অসৎ কাজ কর্মে জড়িয়ে দেওয়া ও সচ্ছল জীবনের স্বপ্নকে হাতিয়ার করে নেশার জগতে টেনে নামানো ও তাদের মাধ্যমেই একটা গোটা সিস্টেম পরিচালনা করা, এই চক্রের মূল উদ্দেশ্যই হলো শহরের নানান সরকারি বেসরকারি স্কুলের বাচ্চাদের নেশার কালো জগতে টেনে নামানো যাতে আসতে আসতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার আগে পর্যন্ত এরা মাদক দ্রব্যের কনজ্যুমার হয়েই থাকে।। এদিকে সামান্য একটি ছোট ঘটনার জন্যে শহরের একটি সরকারি স্কুল ও সেই এলাকায় পরপর তিনটি খুন হয়ে যায় । কারা এই খুনের পেছনে ?
কে এই চক্রের মূল পান্ডা? সেকি কোনো ক্রিমিনাল নাকি আর পাঁচটা সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষের আড়ালে থাকা ঠান্ডা মাথার খুনি ?
অফিসার লগ্নজিতা ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ হয়েও কেন নিজে থেকেই এই কেস হাতে তুলে নিলেন ?
পাঠ প্রতিক্রিয়া - মাদক এমন একটি সাবস্ টেন্স যার পাল্লায় একবার কেউ পরলে তার থেকে নিস্তার পাওয়া খুবই কঠিন এবং কষ্টসাধ্য । মানুষের শরীর ও মনের সবটুকু সুষে নিয়ে তাকে এমন একটি মানসিক পর্যায় নিয়ে যায় সেখান থেকে ফিরে আশা প্রায় অসাধ্য ,লেখিকার এমন একটি বিষয় নির্বাচন করেছেন তার জন্যে অবশ্যই সাধুবাদ দিতেই হয় ।
রহস্য উপন্যাসের মোড়কে লেখিকা খুব সুন্দর ভাবে মানুষের মনের আদিম প্রবৃত্তি গুলোর সাথে মানসিক বিকৃতির ও একটি সুস্পষ্ট ছবি তুলি ধরেছেন।। তবে সমগ্র উপন্যাসটি পড়ে কোথাও একটু আশাহত হলাম সত্যি বলতে , রহস্য উপন্যাস হিসেবে যদি বিচার করি তাহলে অবাক হওয়ার অনুভূতি গোটা গল্পে খুবই কম সত্যি বলতে , পাঠক হিসেবে কোথাও গিয়ে মনে হলো খুব একটা ইম্প্যাক্টফুল নয়। "এটাই হওয়ার ছিল" গোছের একটা অনুভূতি গোটা গল্প জুড়ে অনুভব করলাম।
এই সিরিজের আগের বই পড়ে লগ্নজিতার প্রতি যে মুগ্ধতা জন্মেছিল এই বইতে এসে একটু হলেও তার তীব্রতা ধাক্কা খেয়েছে , ডিসিপি হিসেবে তার তদন্তের পদ্ধতি আর পাঁচটা সাধারণ পুলিশের মত লেগেছে । গল্পের গতিময়তা যথেষ্ট ভালো , ক্লিপ - হাঙ্গার গুলো যথেষ্ট ভালো , টানা পড়ে যেতে ভালই লেগেছে।।
কিন্তু শেষে গিয়ে ডিসিপি হিসেবে অপরাধীকে চিহ্নিতকরণ প্রক্রিয়া ভালো লাগে নি , অপরাধীর শেষ *পরিণতি* তাও আবার এতগুলো পুলিশের সামনে এরকম ভাবে হবে , এটা একটু মেনে নিতে কষ্টই হয়।।
মোটের ওপর ভালো লেগেছে ,খুব একটা রোমাঞ্চকর তা বলা যাবে না ।।
রেটিং ৫/১০