বই টিকে 'একতারা' ধরালাম কারন সভ্য ভাষায় এর নীচে মন্দ বাক্য নেই। আর বলতে বাধা নেই বইটির এক দুই পাতাই আমি পড়েছি, সমলোচনা লেখার জন্যে তাই যথেষ্ট। রঞ্জন এর দোষ নেই। যে সারাজীবন পাঠকের 'আদর' পায়নি, তাকে পেট চালাতে অন্যের 'আদর' নিয়ে কল্পনার কোষাগার বিদীর্ণ করতেই হয়। কিন্তু প্রশ্নটা এই যে, রবীন্দ্রনাথ কেন? এই খানে রঞ্জন বাবু ও প্রকাশক ত্রিদীব বাবু কে সাবাস! সাবাসী এই জন্যে যে তারা যুগলে খুজে বের করেছেন এমন একজন কে যার কোন copyright আর নেই, সর্বঅর্থেই! যে যা খুশী লিখুন, কোন বাধা নেই। কথায় বলে 'অধিক স্তুতি নিন্দার কারন'...বাঙ্গালী যাকে মাথায় নিয়ে নাচে,যার কবিতার ছত্র আওড়ালে বোদ্ধা সাজা যায়, কর্কশ স্বরে গান গুনগুনালে 'দেবদাস' তারীফ পাওয়া যায়, তাকে কাদায় ফেলে পা দিয়ে মাড়িয়ে দেওয়ার অধিকার তো বাঙ্গালিরই! রঞ্জন কিন্তু গান্ধী, সুভাষ বা বিবেকানন্দ কে নেন নি, নিলে কংগ্রেস, ফরওয়ার্ড ব্লক আর রামকৃষ্ণ মিশনের চ্যালারা 'আদর' কাকে বলে, বুঝিয়ে দিত। তাই রবিবাবু। রঞ্জন তার আপন পিতা-মাতার 'আদর' নিয়েও লিখতে পারত কিন্তু তাহলে বইপাড়ার ইদুর গুলো ও জিনিষ চেটে দেখত না। আবার ও তাই রবিবাবু! অগতির তিনিই তো গতি! অতএব, রঞ্জন লিখুক,ত্রিদীব ছাপুক, পেট তো চালাতে হবে রে বাবা! শ্লীলতা বোধ দিয়ে আটার রুটী নরম করা যায় না।
এই খাটাশ লেখক ব্যাটা নিশ্চয় তার আগের জন্মে(রবীন্দ্রনাথের সময়ে) রবীন্দ্রনাথের শত্রু ছিলো। তখন কবির কোনো কিছু করতে পারে নাই বলে এই জন্মে আইসা তার শোধ নিতেছে। এজন্যেই এরকম খাটাশ মার্কা লেখা লিখে।
এটাই মনে হয় আমার দেয়া সবচেয়ে খারাপ রেটিং। আচ্ছা এই রঞ্জন বাবুর কি আর কোন কাজ নেই? উনি রবীন্দ্রনাথের পেছনে ক্যান লাগলেন? কিছুদিন আগে পড়লাম কাদম্বরীর সুইসাইড নোট, এখন এইটা। গত রাতে কয়েক পাতাই পড়লাম। তাতেই পড়ার ইচ্ছে চলে গেছে। রবি বাবু মরে গিয়ে বেঁচেছেন । বাসায় উনার আরেকটা বই আছে, সুচিত্রা সেন কে নিয়ে, ঐটা কেমন হবে কে জানে! আচ্ছা রাণু আর রবি কে নিয়ে সুনীলের একটা বই আছে 'রাণু ও ভাণু' নামে। ঐটা আশা করি ভালো হবে।
"রবি ও রাণুর আদরের দাগ" - রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় (078)
১৯১৮ সালে আঠান্ন বয়সী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে বারো বছর বয়সী কাশীর রাণু অধিকারীর প্রথম দেখা। শান্তিনিকেতন, জোড়াসাঁকো, শিলং পাহাড়ের পটভূমিতে ছয় বছর টিকে ছিল এক প্রৌঢ় ও এক কিশোরীর গভীর গহন ভালোবাসা। শিল্পপতি স্যার বীরেন মুখোপাধ্যায়ের সাথে রাণুর বিয়েতে আপাত দৃষ্টিতে এই গাঁথা মালা ছিন্ন হলেও ফল্গুধারার মতো বয়ে চলে এক বন্ধন। জীবনের বিষন্ন গোধূলি বেলায় রাণু অধিকারী লেখেন তাঁর ভানুদাকে নিয়ে শেষ চিঠি, এক সগতোক্তি।
"আমার কাছে সব বৃষ্টির দিন, সব বৃষ্টির রাত বাইশে শ্রাবণ।"
"আমার মধ্যে ছিল শুধু এই বিশ্বাস যে বাইশে শ্রাবণ তোমার চলে যাওয়ার দিন নয়, বাইশে শ্রাবণ তোমার দ্বিতীয় জন্মদিন - ভানুদাদা, ওই দিনই তুমি জন্মেছিলে মৃত্যুহীন হয়ে।"