শৈশবে ক্রিকেটের অন্ধভক্ত ছিলাম। এই 'ভক্ত' হবার পেছনে প্রথম আলোর খেলার পেজে উৎপল শুভ্রের লেখা কলামগুলো অনেকাংশেই দায়ী। জাদুকরী কলমের সৌজন্যে এক-একটি সাক্ষাৎকার, ফিচার হয়ে উঠতো তীব্র জীবন্ত। পেশায় সাংবাদিক হলেও লেখকসত্ত্বা ছিলো ষোলোআনাই। তার বদৌলতেই গ্রামের টিনের ঘরে বসে থেকে বার বার ছুটে যেতাম শারজা, অ্যাডিলেড, চেন্নাই, ওয়াংখেড়ে কিংবা এজবাস্টনে। ব্যাটসম্যানরা পরিণত হতো রূপকথার অদম্য-অপ্রতিরোধ্য নায়কে, বোলাররা রূপ নিতো কৌশলী-ধুরন্ধর প্রতিপক্ষে, যাদের বিষবাণ দেখে শ্রদ্ধা না করে উপায় নেই।
আর সেই মানুষের কলমেই যখন প্রিয় ক্রিকেটারকে নিয়ে বই লেখা হলো- তখন না পড়ে উপায় আছে? পড়তে পড়তে কখনো যেন ফিরে যাচ্ছিলাম সেই আবেগপূর্ণ শৈশবে, খাতার পাতা ভরে ফেলা কাঁচা হাতে আঁকা MRF ব্যাটের ছবিগুলো কিংবা ১৯৯৯ বিশ্বকাপের ভারতের জার্সির নকশা স্পষ্ট হয়ে ধরা দিচ্ছিল মানসপটে। দারুণ কোনো ম্যাচের স্কোরকার্ড কিংবা দৃষ্টিনন্দন শটের ছবি হোক- অজস্র পত্রিকার কাটিং জমিয়ে রাখা শিশু/কিশোরটা যেন হুটহাট উঁকি দিয়ে যাচ্ছিল এই পড়ন্ত বেলায়। শচীন টেন্ডুলকারকে এখনো মনে করি ভারতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যাটসম্যান পরে, বিনয়ে অবনত একজন মানুষ আগে। এহেন বিনয়ের প্রতিচ্ছবি এখনকার ক্রিকেটে কাউকে দেখি না। এরকম কেউ আর আসে না, আসবেও না। হিমালয়ের চূড়ায় রাজত্ব প্রতিষ্ঠার পরেও যার পা থাকতো মাটিতে- সেই হোমো স্যাপিয়েন্সকে সবার থেকে আলাদা চোখে দেখাটা কেন স্বাভাবিক বলে গণ্য হবে না?
আফসোস একটাই, মাত্র ১৯৫ পৃষ্ঠা লিখেই ইতি টেনে দেয়া হয়েছে বইয়ের। ৯৫১ পৃষ্ঠা হলেও কম হয়ে যেতো সত্যিকারের রূপকথার রাজার (রাজপুত্র নন কিন্তু) কিসসা শোনানোর জন্য।
দ্য গড অফ ক্রিকেটের উপর লিখা বইটা এক কথায় অপূর্ব। উৎপল শুভ্রের ট্রেডমার্ক লেখনীতে অনেক অজানা জিনিস জানতে পারলাম। রিয়েলি শচীন টেন্ডুলকার অন্য ধাতুতে গড়া এক ক্রিকেটার।মনে হয় না এরকম ক্রিকেটার আর কোন দিন আসবে।
>চমৎকার লেখা, 'Bore' হতে দেননি উৎপল শুভ্র। এমন একজন বিখ্যাত জনকে নিয়ে নতুন কিছু লেখা challenging, সেক্ষেত্রে সফল তিনি। sports reporting কে তিনি অন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছেন চমৎকার লেখনীর মাধ্যমে। আরও লিখলে ভালই হবে পাঠকদের জন্য।