প্রথমেই বলে নেওয়া দরকার, এই গ্রন্থ মূল সংস্কৃত রামায়ণের মূলানুগ কিংবা ভাবানুবাদ নয়। সে কাজ ইতিপূর্বে অনেক নমস্য মনীষী অনেক ভাবে করেছেন। বহুচর্চিত সেই পথ পরিত্যাগ করে লেখক এখানে রচনা করেছেন রামায়ণের দ্বিভাষ্য। একটি বৃহৎ ভাষ্য আর একটি সংক্ষিপ্ত ভাষ্য। দুটি ভাষ্যেই আদি মহাকাব্যের মূলের আস্বাদ পাওয়া যাবে। তবে ভিন্ন মাত্রায়। এ যুগের মানুষের হাতে সময় কম। তাই নিজস্ব সময় অনুযায়ী যে যেভাবে রামকাহিনী জানতে চান, তিনি ঠিক সেইভাবেই এই গ্রন্থপাঠে আনন্দ পাবেন। আবার এই দুটি ভাষ্য মিলিয়ে সম্পূর্ণ গ্রন্থটি হয়ে উঠেছে একটি অভিনব ‘রামায়ণ অভিধান’। রামায়ণ সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এখানে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। রামকথার নানা জানা-অজানা কাহিনী, সব মুখ্য ও গৌণ চরিত্র, সেই সময়কার ভৌগোলিক পরিবেশ, পৌরাণিক বাতাবরণ, শাস্ত্র, শস্ত্র, সতেরোটি বংশ তালিকা। রাম, রামানুজ ও সীতার বনবাসকালের বিচরণপথের মানচিত্র এবং সূর্যবংশের কালানুক্রমিক পরম্পরা ইত্যাদি বিষয়গুলি তৎক্ষণাৎ দেখে নেওয়া ও যাচাই করার সুযোগ এই বইয়ের পাতায় পাতায়। মহাকাব্যের গভীর গহন অতল থেকে সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্যকে গ্রন্থকার তুলে এনেছেন পরমনিষ্ঠায় ও অক্লান্ত পরিশ্রমে। কিংবা বলা যেতে পারে, যেসব মণিরত্ন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল রামকাহিনীর সপ্তকাণ্ডে, তাকেই দুই মলাটের মধ্যে পরিবেশন করেছেন লেখক।
বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী-র জন্ম ১৩ অগ্রহায়ণ ১৩৫৪ (২৯ নভেম্বর ১৯৪৭) অধুনা বাংলাদেশের অন্তর্গত কুমিল্লায়। মা সুহাসিনী দেবী, বাবা অশ্বিনীকান্ত চক্রবর্তী। বিশুদ্ধ পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে পড়েছেন। কর্মসূত্রে যুক্ত থেকেছেন বরাহনগর নরেন্দ্রনাথ বিদ্যামন্দির, ইউনাইটেড ব্যাংক অব ইন্ডিয়ায়। রেডিয়ো-টেলিভিশনে ধর্ম এবং বিজ্ঞান বিষয়ে অনুষ্ঠান করে থাকেন। প্রকাশিত নানা গ্রন্থের কয়েকটি- ‘রামায়ণ’, ‘মহাভারত’, ‘গাবলুর বিজ্ঞান ডায়েরি’, ‘আয় বুদ্ধি ঝেঁপে’। ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে ‘রামায়ণ’, ‘মহাভারত’-সহ কয়েকটি গ্রন্থ। পুরস্কার: জাতীয় পুরস্কার (NCERT) (১৯৯৬), ‘গাবলুর বিজ্ঞান ডায়েরি’। গ্রন্থের প্রথম খণ্ড ‘মহাকাশের কথা’-র জন্য ১৯৯৬-এ পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার (NCERT)।
রামায়ণ একাধিক ভার্শন আগে পড়া থাকলেও ছোট আকারের বই দেখে আগ্রহভরে কিনেছিলাম। ২৬০ পাতার বইয়ে দুইটা রামায়ণ - প্রথমে সংক্ষিপ্ত ভার্শন, তারপর কম সংক্ষিপ্ত ভার্শন। তারপরেও ১৫০ পাতার মধ্যেই দুই রামায়ণ শেষ। এপর্যন্ত ঠিক ছিল। এরপর শুরু হলো রামায়ণে বিজ্ঞান গবেষণা। বৈদিক যুগে পুষ্পক রথ যে আসলে বিমান, সেটা লেখক আগেও কয়েক জায়গায় ইঙ্গিত দিলেও পরিশিষ্ট অংশে রীতিমত একাধিক চিত্র সহযোগে ব্যাখ্যা করে দিয়েছেন রাইট ব্রাদার্স বিমান আবিষ্কারের অনেক আগেই বাল্মীকির বর্ণনায় আধুনিক বিমানের কথা আছে। এমনকি বর্তমান এয়ার ইন্ডিয়ার শ্রীলঙ্কা গামী বিমানপথের সাথে সীতা উদ্ধারের পর পুষ্পক রথের লংকা থেকে অযোধ্যা যাত্রার পথও অবিকল এক সেটাও চিত্র সহকারে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। আধুনিক যুগের গাইডেড মিজাইল যে বৈদিক যুগের শক্তিশেলের ঈষৎ পরিবর্তিত সংস্করণ সেটাও শিখলাম এই বই থেকে।
লেখক পদার্থ বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলেন। এই বইয়ে ধর্মের সাথে বিজ্ঞান মেশানোর সম্ভবনার কথা তখনই মাথায় আসা উচিৎ ছিল!
These books are awesome for any Ramayana-Mahabharata lover. summary, character dictionary, ancient maps, ancient plane designs, full list of all kings of all dynasties- well researched, well-written books.
রাম হয়তো অনেক সাহসী একজন যোদ্ধা, জনহিতৈষী, আরো অনেক গুণে পূর্ণ একজন মানুষ, কিন্তু তার খারাপ দিকগুলোই কেন জানি চোখে লেগে আছে। যে কিনা অভিশাপ আর সমাজ সংসারের ভয়ে সীতাকে ত্যাগ করতে পারে, তাকে ভালো লাগার কোন কারণ থাকতে পারেনা। কি অদ্ভূত একজন মানুষ, সীতাকে হারিয়ে কত কান্না, কিন্তু স্বর্গে গেলো কিন্তু ভাই লক্ষ্মণকে হারানোর ব্যথায়!!
বইটাতে যদি ১৩৩ পৃষ্ঠায় পর পাঠ্যবইয়ের স্টাইলের কথাগুলো না থাকতো, তবে অনেক ভালো লাগতো। লেখকের গল্প বলার ঢং দারুণ, এক পৃষ্ঠা থেকে অন্য পৃষ্ঠায় টেনে নিয়ে যাবেই। তবে রাবণ বধ করে সীতা উদ্ধারের পর কিছু অংশ একটু খাপছাড়া লেগেছে। গল্প বলার ফাঁকে ফাঁকে লেখকের নিজের কিছু কথা আছে। কিছু কিছু খুব ভালো লেগেছে, আর কিছু কিছু কেমন জানি ভাল্লাগেনি।