খ্রিস্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে লেখা এই বইটিকে বাংলা ভাষার প্রথম উপন্যাস বলে ধরে নেয়া হয় । লেখিকা, খ্রিস্টধর্ম দীক্ষিত এক বাঙ্গালি পরিবারের ছবি এঁকেছেন এই বইয়ে, দেখাতে চেয়েছেন যীশুতে যার গভীর আস্থা, সে সুখে থাকে এবং যার আস্থা নেই, সে থাকে কষ্টে । প্রথম প্রকাশ: ১৮৫২ । বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে লেখিকা এই বই লেখার উদ্দেশ্য বর্ণনা করেছেন এভাবে -- "" ধর্ম্মপুস্তক পাঠ করিলে আমরা দেখিতে পাই যে পরমেশ্বর প্রাচীন ধার্ম্মিক লোকদের চরিত্র বর্ণনাকরণ দ্বারা আপন মণ্ডলীস্থ লোকদিগকে বিশেষরূপে শিক্ষা দেন, তাহাতে যেন তাহারা ঐ ধার্ম্মিক ব্যক্তিদিগকে নিদর্শন স্বরূপ জানিয়া তাহাদের ন্যায় সদাচারী হইতে চেষ্টা করে। ইহা জ্ঞাত হইয়া আমি বিবেচনা করিলাম যদি উক্ত খ্রীষ্টিয়ানদের চরিত্রের বিষয়ে কিঞ্চিৎ লিখি তবে ঈশ্বরের আশীর্ব্বাদে বঙ্গদেশস্থ ভগিনীরা তাহা পাঠ করিয়া পারমার্থিক লাভ ও সন্তোষ পাইতে পারিবে। এই অভিপ্রায়ে আমি এই ক্ষুদ্র পুস্তক রচনা করিতেছি ।""
Hana Catherine Mullens [(1826-1861)] is credited by some with having written the first novel in the Bengali language, Phulmani O Karunar Bibaran (Description of Phulmani and Karuna), in 1852.
Her father, Rev Francois Lacroix was a Swiss citizen who went to Chinsurah in India in 1821 to preach Christianity on behalf of the London Missionary Society. Hana learnt Bengali from the servants at home and at the age of 12 started teaching Bengali in a newly established school in Calcutta (now, Kolkata). In 1845, she was married to J. Mullens, who was also engaged in preaching Christianity in India. It was a period when Sanskrit was used for literary expressions, and Bengali was only a language of conversation.
Her first Bengali book Phulmani O Karunar Bibaran was written for native Christian women in 1852. The objective was to preach Christianity.
[...]
Mullens wrote another book, The Missionary on the Ganges or What is Christianity, in both English and Bengali. She translated Daybreak in Britain into Bengali.
ফুলমণি এবং করুণা হলেন বঙ্গদেশীয় দুজন converted খ্রিষ্টান। ফুলমণি খুবই ভক্তিমতি, খ্রিষ্টের সকল উপদেশ মেনে চলেন। তার জীবন অনেক সুন্দর। কিন্তু করুণা খ্রিষ্টের উপদেশ মেনে চলেন না। পরবর্তীতে তিনিও ঈশ্বরপুত্রের করুণা সাগরে নিজেকে সমর্পিত করেন। এছাড়া এই দুই প্রধান চরিত্রের আশেপাশের কিছু ঘটনা ক্যাথেরিনার জবানীতে তুলে আনা হয়েছে এই বইয়ে। বইটা আমার কাছে ঠিক উপন্যাস মনে হয়নি। ক্রিশ্চান একটা আদর্শ পরিবারের হতে বঙ্গীয় অন্যান্য ক্রিশ্চান এবং অন্যান্য ধর্মের মানুষদের শিক্ষা নিতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে এই পরিবারটি তখনকার সময়ের পারিবারিক সমস্যাগুলো (কৃত্রিম) কিভাবে খ্রিষ্টের আদর্শ নিয়ে সমাধান করছে সেটা দেখানো হয়েছে। এবং উপসংহারে যীশুর অনুসারী হতে বলা হয়েছে। এটা লেখিকার খ্রিস্টান পল্লীতে ভ্রমনের ১০ টি ভিন্ন ভিন্ন দিনের বয়ান। বাংলা ভাষার প্রথম মুদ্রিত বই। ১৮৫২ সালে প্রথম মুদ্রণ। লেখিকার স্বামী একজন ডাক্তার ছিলেন। ভাষার বিন্যাস অনেক ভিন্নরকমের। পড়তে ভালই লেগেছে। কেন খ্রিষ্ট ধর্ম গ্রহণ করতে হবে সেটার পক্ষে যুক্তি আছে, মাতাল হওয়া স্বামীর উল্লেখ আছে, সমিতির চাঁদার উল্লেখ আছে, স্কুলে পড়া মেয়েরা যে আধুনিকা হয়ে যায় সেটার উল্লেখ আছে আরও অন্যান্য। সব মিলিয়ে পড়ার জন্য অনেক ভাল বই না, কিন্তু ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করলে ভালই লেগেছে পড়তে।