Sunil Gangopadhyay (Bengali: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়) was a famous Indian poet and novelist. Born in Faridpur, Bangladesh, Gangopadhyay obtained his Master's degree in Bengali from the University of Calcutta, In 1953 he started a Bengali poetry magazine Krittibas. Later he wrote for many different publications.
Ganguly created the Bengali fictional character Kakababu and wrote a series of novels on this character which became significant in Indian children's literature. He received Sahitya Academy award in 1985 for his novel Those Days (সেই সময়). Gangopadhyay used the pen names Nil Lohit, Sanatan Pathak, and Nil Upadhyay.
Works: Author of well over 200 books, Sunil was a prolific writer who has excelled in different genres but declares poetry to be his "first love". His Nikhilesh and Neera series of poems (some of which have been translated as For You, Neera and Murmur in the Woods) have been extremely popular.
As in poetry, Sunil was known for his unique style in prose. His first novel was Atmaprakash (আত্মপ্রকাশ) and it was also the first writing from a new comer in literature published in the prestigious magazine- Desh (1965).The novel had inspiration from ' On the road' by Jack Kerouac. His historical fiction Sei Somoy (translated into English by Aruna Chakravorty as Those Days) received the Indian Sahitya Academy award in 1985. Shei Somoy continues to be a best seller more than two decade after its first publication. The same is true for Prothom Alo (প্রথম আলো, also translated recently by Aruna Chakravorty as First Light), another best selling historical fiction and Purbo-Paschim (পূর্ব-পশ্চিম, translated as East-West) a raw depiction of the partition and its aftermath seen through the eyes of three generations of Bengalis in West Bengal, Bangladesh and elsewhere. He is also the winner of the Bankim Puraskar (1982), and the Ananda Puraskar (twice, in 1972 and 1989).
Sunil wrote in many other genres including travelogues, children's fiction, short stories, features, and essays. Though he wrote all types of children's fiction, one character created by him that stands out above the rest, was Kakababu, the crippled adventurer, accompanied by his Teenager nephew Santu, and his friend Jojo. Since 1974, Sunil Gangopadhyay wrote over 35 novels of this wildly popular series.
Death: Sunil Gangopadhyay died at 2:05 AM on 23 October 2012 at his South Kolkata residence, following a heart attack. He was suffering from prostate cancer for some time and went to Mumbai for treatment. Gangopadhyay's body was cremated on 25 October at Keoratola crematorium, Kolkata.
Awards & Honours: He was honored with Ananda Award (1972, 1979) and Sahitya Academy Award (1984).
বইটা প্রথম পড়ি একুশ বছর আগে। তখন অনেক কিছুই চোখে লাগেনি। হঠাৎ কী মনে করে আবার পড়লাম, অনেক কিছুই চোখে লাগলো।
প্রতিষ্ঠিত লেখকের কিশোরপাঠ্য গল্প, বিশেষত পত্রিকার বিশেষ সংখ্যায় (শারদীয়া, ঈদ, বর্ষপূর্তি) যেগুলো ছাপা হয়, সেগুলো প্রায়শ গড় মানের হয়; আর লেখক যদি ইতোমধ্যে তুমুল নাম কামিয়ে ফেলেন, একাধিক ফরমায়েশ মেটাতে গিয়ে কিছু গল্প গড় মানও ছুঁতে পারে না। "জলদস্যু"র অবস্থা সেরকমই। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বের্নিয়ে-র বই সম্বল করে দক্ষিণবঙ্গে পোর্তুগিস উৎপাত উপজীব্য করে গল্প ফেঁদেছেন, সেখানে মনের মাধুরী মিশিয়ে নানা খুচরো গল্পকণাও ঝেড়েছেন। যেমন, বোম্বাই থেকে কিছু ফিরিঙ্গি বাংলায় পালিয়ে আসে, তাই তাদের নাকি বোম্বেটে বলা হয়। কথাটা ভুল, বোম্বেটে এসেছে পোর্তুগিস বোম্বারদেইরো থেকে, যার অর্থ গোলন্দাজ; বাংলায় জলদস্যু অর্থে বোম্বেটে শব্দটা রটে। এসব ছোটখাটো ভুল বড়জোর ভ্রুকুঞ্চন উসকায়, কিন্তু গল্প ক্রমশ এগোনোর পর দেখি, পোর্তুগিস জলদস্যু কাপ্তানের মুখে ইংরেজি ধমক, "হল্ট!" শুধু তা-ই নয়, তার জাহাজের নাম ইংরেজিতে "সী হক", তার মাল্লারাও ইংরেজিতে একে অন্যকে হুঁশিয়ার করে, জাহাজি বুলিতে যেসব পরিভাষা অপরিহার্য সেগুলোও ইংরেজি, এমনকি তাদের জাহাজে যে কড়া আসবিক পানীয়, সেটার নামও ইংরেজি (বের্নিয়ে লিখে গেছেন বুলেপঞ্জ (ধারণা করা হয় সেটা বৌল অফ পাঞ্চ-এর ঘেঁটে যাওয়া রূপ), যদিও সেটা ইংরেজ আর ডাচ নাবিকদের গলা ভেজানোর জিনিস, কিন্তু এক বইয়ের পাঠক সুনীল গল্পে সেই কুড়িয়ে-পাওয়া-একমাত্র ক্ষুরে পোর্তুগিসদের মাথাও কামিয়ে দিয়েছেন)। এই ইংরেজের টিনের চশমা দিয়ে দুনিয়া দেখার বদভ্যাস কি গল্পকারদের মানায়? যদি তুলনা করি, ১৯৬৯ সালে প্রেমেন্দ্র মিত্র লিখে গেছেন তাঁর অবিস্মরণীয় "সূর্য কাঁদলে সোনা", সেখানেও হিস্পানি কনকিস্তাদোর ধমক দিয়ে ঘনরাম দাসকে থামতে বলে; কিন্তু প্রেমেন্দ্র তাঁর প্রস্তুতিতে কোনো ঢিল দেননি, তাই সে হুকুম আসে খাস হিস্পানিতে, "পারে!" (Pare! = থামুন)। সুনীল পোর্তুগিস জানবেন, সে দুরাশা আমার নেই, কিন্তু পোর্তুগিস কাপ্তানের মুখে ইংরেজি ধমক (তা-ও এমন এক সময়ে, যখন ইংরেজের দাপট এ তল্লাটে নেই বললেই চলে) বসানোর কী দরকার, বিশেষ করে গনজ়ালেস টিবাওয়ের সব সংলাপ যখন বাংলাতেই তিনি বসাচ্ছেন? গল্পের এ জায়গায় এসে সযত্নরচন আর দায়সারা কলমপেষার পার্থক্য স্পষ্ট হয়। গল্পকারদের কাছে পাঠক যত্ন ছাড়া আর বেশি কিছু তো চান না, তাই না?
গল্প পুরোটা শেষ করে টের পেলাম, সুনীল পোর্তুগিস-মগ থ্যালাসোক্রেসির বিপরীতে বিশু ঠাকুরের বামুনোক্রেসিকে প্রতিষ্ঠা করেছেন আগাগোড়া। বিশুর এমনই ব্রহ্মতেজ, না খেয়ে না পিয়ে লাথি ঘুষি গুলি হজম করে কড়িবরগা থেকে উল্টো হয়ে ঝুলেও সে দমে না, সায়রব্যামো তাকে কাবু করে না; কিন্তু গ্রামের আর যারা "নিচু জাতের" লোক, তারা সব হার্মাদের এক ধমক খেয়েই কাবু হয়ে পড়ে, এমনকি লড়াকু নিতাইও। আশু দাসত্বের মুখে একা বিশু বামুন প্রতিবাদে জ্বলে ওঠে, নিচু জাতের লোকজন চুপচাপ মেনে নেয়। বের্নিয়ে-র বইয়ের পাশাপাশি সুনীল গাঙ্গুলি যদি সতীশচন্দ্র মিত্রের "যশোহর খুলনার ইতিহাস" দু'খণ্ড পড়তেন, তিনি হয়তো জানতেন, হার্মাদ-মগের স্পর্শ লাগলেও কী করে তখনকার কুলীন ব্রাহ্মণরা মানুষকে একঘরে করতো।
তিনখানা তারা কড়মড়িয়ে চিবিয়ে খেয়ে দুই তারা দাগানোর পণ করেছিলাম, হার-না-মানা কুড়ানির জন্যে আরেকটা তারা জুড়ে দিলাম। আমার চোখে সুনীলের কৃতিত্ব ঐ একটি চরিত্রেই।
শিশ্বেশ্বর পন্ডিত, একজন তরুণ ব্রাহ্মণ। বাবা মারা যাওয়ার পর গায়ের মন্দিরে পূজো করে তার দিন কাটে। এর সেখানে এসে জুটেছে বোবা মেয়ে,সবাই তার নাম দিয়েছে "কুড়ানি"। শান্ত নিরিবিলি গায়ে ঠাকুরের দিন বেশ কাটছিল।
হঠাৎ একদিন কুড়ানি কামড়ালো গোখরো সাপে,এর মধ্যেই গায়ে দিল হার্মাদ নামে জলদস্যুর দল। গায়ের অনেক লোকের সাথে ধরে নিয়ে গেল,ব্রাহ্মণ বিশ্বেশ্বর আর অসুস্থ কুড়ানিকে! গ্রামবাসী সমেত বিশু পন্ডিত কে তোলা হল জাহাজে,সেই জাহাজের কাপ্তান ছিল দস্যু নেতা গঞ্জেলেস। তার ভয়ে সবাই থরহরি কম্পমান। এই দস্যুদল গ্রামবাসীকে বিক্রি করে দিবে ক্রীতদাস হিসেবে। বিশ্বেশ্বর পন্ডিত ব্রাহ্মণ তিনি কোন ভাবেই ক্রীতদাস হতে রাজি নন,প্রয়োজনে প্রাণ দিবে। একদিন বাঙালি যুবকের আত্মসম্মান রক্ষার সংগ্রাম, অন্য দিকে বিখ্যাত দস্যু গঞ্জেলেসের অত্যাচার। কী হবে পরিনতি...
সুনীল সব সময় আমার জন্য সুখপাঠ্য। কিশোর সিরিজের কোন লেখা পড়ার সময় আমি সব ভুল শুদ্ধের বাইরে গিয়ে শুধু গল্পটা পড়ি। এতে আনন্দ কোটি গুন বেড়ে যায়।
'আমাদের এই বাংলার পাশেই আর একটা ছিল ডাকাতের দেশ। সে দেশের নাম আরাকান। এই আরাকান নামে কোনো দেশ এখন আর নেই, এখন সেটা বার্মার সঙ্গে মিশে গেছে। তখন চট্টগ্রাম জেলার পাশেই ছিল এই আরাকান রাজ্য, সেখানকার লোকদের বলা হত মগ। লুটপাট, ডাকাতি ও হিংস্রতার জন্য এরাও ছিল খুব কুখ্যাত। এখনো কোনো জায়গায় ন্যায়বিচার না থাকলে লোকে বলে, 'মগের মুল্লুক নাকি?''
আমাদের যাদের আগে থেকেই রবিনসন ক্রুসো পড়া আছে, কিংবা 'ভাল্লুক পোড়া'( বিয়ার গ্রিলস)র প্রতিকুল পরিবেশে বেঁচে থাকার উপায় দেখতে দেখতে চোখ পচে গেছে - তাদের জন্য এই বইয়ের বিশু ঠাকুরের আচরণ অতি এবং অতিমাত্রায় বলদামি টাইপ মনে হবে। বোধহয় আরো কয়েক বছর আগে পড়লে মুগ্ধতা নিয়ে তাকিয়ে থাকতে পারতাম। যাইহোক, আমরা বাঙালিরা নিতান্তই সব বাচ্চাদের বই-ই ওই বয়সটা পার করে আসার পরে পড়ে, সময়মত পড়ে থাকলে কেমন বোধ হতো তা বোঝার ব্যর্থ চেষ্টা করতে থাকি।
A good and smooth read. I don't care about historical accuracy, or context as whole. It kept me interested and entertained. So, that's good enough for me.
দিল্লির মসনদে আওরঙ্গজেব, তিনি নানা বিদ্রোহ দমন আর অভিযানে ব্যস্ত। সমগ্র চট্টগ্রামের জলপথের রাজা হিসেবে আছেন কুখ্যাত পর্তুগিজ জলদস্যু হার্মাদ সিবাস্টিয়ান গঞ্জালেস টিবাও।গঞ্জালেসের নিষ্ঠুরতার মিত্র আরাকানরাজ ওরফে মগেরমুল্লুক রাজ আর গঞ্জালেসের ভ্রাতা ডিয়াগো।
ইতিহাসের মালমসলার এই উপন্যাসের মূল চরিত্র যুবক পুরোত বিশ্বেশ্বর ঠাকুর। এই বিশু ঠাকুরের গ্রামে হামলা চা���ায় গঞ্জালেস। হার্মাদরা সবাইকে ধরে নিয়ে দাস হিসেবে বিক্রি করতে। মন্দির পুরোত বিশু ঠাকুর স্বভাবে আবার ক্ষত্রিয়। তার মন্দিরের কাজে সাহায্যকারী কিশোরী কুড়ানিকে সাপে কাটায়, তাকে রেখে পালাতে পারেনি বিশু ঠাকুর। সেও হার্মাদদের হাতে আটক হয়। বিশু ঠাকুর বারবার পালাতে চেষ্টা করে।
এদিকে, হার্মাদ নিধনে আওরঙ্গজেব তার সুদক্ষ সেনাপতি শায়েস্তা খানকে পাঠান বাংলায়।বাংলায় এসে শায়েস্তা খা তার বিশ্বস্ত সেনানী তকী খাকে পাঠান দস্যু নিধনে। ডাঙার বাঘ তকী খা, জলে গঞ্জালেসের ভাই ডিয়াগোর হাতে বেড়াল হয়ে নিহত হন দলসমেত।
শায়েস্তা খান তকী খার মৃত্যুতে দারুণ ক্ষেপে যান। পণ করেন হার্মাদ নিধনের, বিশাল স্থল আর নৌবহর নিয়ে বের হন চট্টগ্রাম আর হার্মাদপল্লী সন্দীপ দখলে। চট্টগ্রাম আর সন্দীপ হাতছাড়া হয় গঞ্জালেসের।
এদিকে, আরাকান রাজের বিদ্রোহী ভাইকে ছলে হত্যা করে গঞ্জালেস আর নিজের ভাই ডিয়াগোকে মরতে পাঠিয়ে দেন সন্দীপে, যেখানে মোঘলরা পৌছে গিয়েছে।
বিশুঠাকুর নাটকীয়ভাবে পালিয়ে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আশ্রয় নেন। সেখানে পান মাধবদাসকে।যে তার পরিবারকে হার্মাদের অত্যাচারে সমুদ্রে ডুবে হারিয়েছে।
গঞ্জালেসের বাহিনীর দস্যুরা জানতে পেরে যায় যে সন্দীপ তাদের হাতছাড়া হয়েছে। অথচ,সবার পরিবার থাকে সন্দীপে, জলদস্যুদের মাঝে বিদ্রোহ দেখা দেয়। একপক্ষ, যেতে চায় সন্দীপে পরিবারকে এবং গঞ্জালেসপক্ষ গোয়ায় পালিয়ে যেতে চায়। এই বিদ্রোহ দমন করে গঞ্জালেস বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়লে পালিয়ে থাকা বিশু ঠাকুর চুপিচাপি জাহাজে এসে বন্দিদের বিপ্লবী করে তোলে। তারপর বাকীটা ইতিহাস......
সেরকম কিছু না। যদি অখন্ড অবসরে করবার মতো হাতে কোনো কাজ না থাকে তবে সুনীলের গদ্যের জাহাজে ঘুরে আসুন হার্মাদ কবলিত বাংলায়, সঙ্গী হোন বিশু ঠাকুর, শায়েস্তা খানের!
বইঃ জলদস্যু লেখকঃ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ধরনঃ কিশোর ক্লাসিক প্রকাশকঃ রেদওয়ানুর রহমান প্রচ্ছদঃ কামরুজ্জামান সাগর প্রথম প্রকাশঃ অক্টোবর ২০০৫ পৃষ্ঠাঃ ৬৪ মুদ্রিত মুল্যঃ ১০০৳
বাবাকে বন্দি আর ভাইকে হত্যা করে আওরঙ্গজেব যখন দিল্লির রাজা হন, বাংলায় তখন চলে জলদস্যুদের নিষ্ঠুরতা। এদিকে সমগ্র চট্টগ্রামের জলপথের রাজা পর্তুগিজ জলদস্যু সিবাস্টিয়ান গঞ্জালেস টিবাও। গঞ্জালেসের নিষ্ঠুরতার মিত্র আরাকানরাজ ওরফে মগেরমুল্লুক রাজ আর গঞ্জালেসের ভ্রাতা ডিয়াগো। ইতিহাস নির্ভর এই উপন্যাসের মুল চরিত্রে এক পুরোহিত যুবক বিশ্বেশ্বর ঠাকুর। এই বিশু ঠাকুরের গ্রামে হামলা চালায় গঞ্জালেস। তখন মন্দিরের কাজে সাহায্যকারী কিশোরী কুড়ানিকে সাপে কাটে, তাকে রেখে পালাতে পারেনি বিশু ঠাকুর। আটক হওয়ার পর বেশ কয়েকবার পালানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় বিশু ঠাকুর। এদিকে দস্যু দমনে আওরঙ্গজেব বাংলায় পাঠান তার সুদক্ষ সেনাপতি শায়েস্তা খানকে। তিনি বাংলায় এসে স্থলভাগের জমিদারদের সহজেই দমন করেন। আর তার ডান হাত বিশ্বস্ত সেনানী তকী খাকে পাঠান গঞ্জালেসকে শায়েস্তা করতে। ডাঙ্গার বাঘ তকী খা জঙ্গলে গিয়ে ডিয়গোর হাতে বিড়াল হয়ে দলসহ নিহত হন। এ ঘটনা শায়েস্তা খা ক্ষেপে গিয়ে নিজেই আসেন চট্টগ্রাম আর সন্দীপ দখল করতে। যেখানে থাকে দস্যুদের পরিবার। এদিকে গঞ্জালেস কৌশলে আরাকান রাজার বিদ্রোহী ভাইকে হত্যা করে। এবং নিজ ভাইকে মোগলদের হাতে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য সন্দীপের দিকে পাঠিয়ে দেয়। যেখানে পূর্বেই পৌছে গেছে মোগল সেনাবাহিনীরা। অন্য দিকে বিশু ঠাকুর গঞ্জালেসের হাত থেকে পালিয়ে আশ্রয় নেয় সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। সেখানে গিয়ে দেখা হয় মাধবদাসের সাথে। প্রতিশোধের আগুন নিভাতে ও অন্য বন্দিদের মুক্ত করতে মাধবদাসকে সাথে নিয়ে চুপিচুপি ফিরে আসেন বিশু ঠাকুর.. স্থলভাগের ভয়াবহ মোগল সেনাবাহিনী কি জলের সুদক্ষ দস্যুদের সাথে লড়াই করে পারবে বাংলায় দস্যুদের দমন করতে? অপর দিকে গঞ্জালেসের কাছে কেমন পরিনতি হবে সাহসী পুরোহিত বিশু ঠাকুরের? এসব জানতে আপনাকে পড়তে হবে ঐতিহাসিক চরিত্রের ছায়ায় রচিত জলদস্যু বইটি।
কিশোর কাহিনি সিরিজের মোড়কে সুন্দরভাবে বামুন স্তুতিগান পেশ করার নমুনা এই "জলদস্যু" নামক বইটি। কাহিনির পটভূমিকা মুঘল আমলের বাংলা, যে বাংলায় নানারকমের জলদস্যু লুঠপাট করে বেড়াচ্ছে। ফিরিঙ্গি জলদস্যু নেতা গঞ্জালেসের বিরুদ্ধে এক বাঙালি বামুন যুবক বিশ্বেশ্বরের রুখে দাঁড়ানোর গল্প এটি।
এই অবধি ঠিক ছিল। কিন্তু তারপরেই দেখা গেল বামুন যুবকটিকে সম্বোধন করার জন্য লেখক নিজেই নিজের কথনে "বিশু ঠাকুর", "তাঁর" ইত্যাদি ব্যবহার করছেন। বামুন মানেই যেহেতু সম্মানীয়! তার (চন্দ্রবিন্দু থাকবে না আমার কথনে) টিকি থেকে বেরিয়ে আসা ব্রহ্মতেজে ফিরিঙ্গি জলদস্যু অবধি দুর্বল! কিন্তু বাকি লোকাল মানুষেরা (অন্য জাতের অবশ্যই) তাঁরা (চন্দ্রবিন্দু থাকবে এইবারে) তো জলদস্যুদের সামনে ম্যালেরিয়া আক্রান্ত প্রজা।
গল্পে বর্ণিত ইতিহাসের সামগ্রিক সত্যতা নিয়ে সন্দেহ, জলদস্যুদের স্টিরিওটিপিক্যাল বিবরণ এবং দুষ্টের দমন গোছের অতীব প্রেডিক্টেবল প্লট - সব মিলিয়ে কোনক্রমে তিনটি তারা দেওয়া যেত। কিন্তু লেখকের বাঙালি বামুনকে শাওলিন মঙ্ক (অলংকরণেও তাই মনে হবে) বানিয়ে হিরো বানাবার এই দুষ্টু ফেটিশের জন্য একটি তারা বাদ গেল।
এরই সঙ্গে এটাও বলা চলে যে কিশোর কাহিনি উপভোগের দিন ফুরিয়ে আসছে। ২০২৪ জুড়ে প্রচুর পড়ে ফেলেছি এই সিরিজের কাহিনি। পাঠক হিসেবে সেই ইনোসেন্স আর কাজ করছে না। এতসব কুটক্যাচাল হয়তো টার্গেটেড অডিয়েন্সের মাথায় আসত না, কিন্তু হায় রে বাড়তে থাকা বয়স!
Slightly unbelievable 😅 I mean after that much torture and hunger, Bishu thakur's physical strength was intact throughout. I'm not saying it's not possible, just hard to digest for me. I love the story nonetheless.
একজন ব্রাহ্মণ পুরোহিত কীভাবে জলদস্যুদের হাতে নির্যাতিত হয়ে প্রতিশোধ নিতে ফিরে আসে, তার গল্প। মোগল সময়কালের ইতিহাসকে উপজীব্য করে লেখা ফিকশন। খুব একটা ভালো লাগেনি।
ছোটবেলায় যখন পড়ি তখনৎএক বসায় শেষ করে ফেলি। বাঙালি পুরোহিতের জলদস্যু জাহাজ জয়! শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রোমাঞ্চের নেশায় আসক্ত করে রেখেছিল। কিশোরপাঠ্য হিসেবে অবশ্যই পাঁচ তারাই দেওয়ার মতো।
সিবাস্টিয়ান গঞ্জালেস টিবাও দুর্ধর্ষ এক ফিরিঙ্গি জলদস্যু। চট্টগ্রাম থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত তার ভয়ে কাঁপে জনগন। তার মায়া দয়া বলতে কিছু নেই। একদিন সিবাস্টিয়ানের দল হামলে পরে বাঙলার এক ছোট গ্রামে। সে গ্রাম থেকে তারা বন্দী করে নিয়ে যায় পালাতে পারেনি এমন সকল সমর্থ পুরুষ কে, সেই সাথে বন্দী করে অকুতোভয় বিশ্বেশ্বর ঠাকুর কেও।
এদিকে দিল্লীর শাসনে তখন আওরঙ্গজেব। সিবাস্টিয়ানের দলকে সামলাতে তিনি বাঙলায় পাঠান তার সেনাপতি সায়েস্তা খা কে। কিন্তু মুঘল সেনাবাহিনী স্থলে ভয়াবহ হলেও পানিতে বলতে গেলে অসহায়। সায়েস্তা খার ডানহাত বলে পরিচিত ত্বকী খা কে পরাজিত করে সিবাস্টিয়ানের ভাই এবং মাড়া যায় ত্বকী খা। ফলে রেগে যায় সায়েস্তা খা। সে এগিয়ে চলে চট্টগ্রাম অভিমুখে, কারন সেখানে আছে ফিরিঙ্গি দস্যুদের পরিবার।
এদিকে বন্দী বিশ্বেশ্বর ঠাকুর পালিয়ে যায় ফিরিঙ্গি জাহাজ থেকে। এখন তার চোখে শুধুই প্রতিশোধের আগুন। তার সাহসের কাছে পরাজিত হতে হয় সিবাস্টিয়ান গঞ্জালেস টিবাও এর মতো দুর্ধর্ষ ফিরিঙ্গি জলদস্যু কে। কিন্তু ইতিহাস সেকথা ভুলে গেছে। সেই অজানা কাহিনী শোনাতে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় লিখেছেন "জলদস্যু" উপন্যাসটি। দারুণ এবং এক বসায় পড়ে ফেলার মতো একটি বই।
Simple story, with the pirates of Sundarban in the background. The story tells about a Brahmin Bishu Thakur and what happen to him and his companions when they were captured by the infamous pirate Gonzales. The premise is a interesting one, as one gets to know about the type of Pirates, namely Mog, Harmad, Bombete etc, and the rule about the Moghuls under Aurangzeb. We also come to know about the different tactics and the geographical locations and life of Sunderbans. The story is light and its an easy read.