সুকুমারী ভট্টাচার্যের আসল সুকুমারী দত্ত। তার জন্ম ১২ জুলাই ১৯২১ সালে ব্রিটিশ ভারতের মেদিনীপুরে। হিন্দু সমাজের অযৌক্তিক আচার ব্যবহারে বীতশ্রদ্ধ হয়ে কলকাতায় এসে খৃষ্টধর্মে দীক্ষিত হন তিনি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপককে ঈশান স্কলারশিপ দেওয়া হত। মেধাবী ছাত্রী সুকুমারী সকল বিষয়ে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েও সেই বৃত্তি পাননি। কারণ তিনি ছিলেন খৃষ্টান। দাতা ঈশান চন্দ্র ঘোষের লিখিত নির্দেশ ছিল বর্ণহিন্দু ছাড়া আর কাউকে এই স্কলারশিপ দেওয়া যাবে না। পরিবর্তে জুবিলি পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ নিয়ে ১৯৪২ সালে বিএ পাশ। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃতে এমএ-তে ভর্তি হয়েও বাঙালী খৃষ্টান হওয়ার কারণে বাধার সম্মুখীন হন। শেষ পর্যন্ত ইংরাজি নিয়ে এমএ পাশ করেন। কর্ম জীবনে তিনি ছিলেন প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্য-ইতিহাস-সংস্কৃতির বিদগ্ধ গবেষক ও প্রখ্যাত অধ্যাপক। সারা জীবনে বাংলা ও ইংরাজী ভাষায় সমান দক্ষতায় তিরিশটিরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তবে তার নিজের লেখা সবচেয়ে প্রিয় গ্রন্থ ছিল ফেটালিজম ইন এনশিয়েন্ট ইন্ডিয়া। মাইকেল মধুসূদন দত্তের এই সুযোগ্য উত্তরসূরী অধ্যাপনার ক্ষেত্রেও প্রভূত সাফল্য অর্জন করেন। সুকুমারী দেবীর তত্ত্বাবধানে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগে একটি ছাত্র কল্যাণ তহবিল গড়ে ওঠে। দুস্থ ছাত্রদের কল্যাণে এই তহবিল আজও বর্তমান। এই তহবিলের সুবিধা নেবার পর কেউ কেউ পরবর্তী পর্যায়ে অর্থ ফেরত দিতে পেরেছে কেউ পারেনি। তার ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে প্রাচীন মহাকাব্য গবেষক নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী, লেখক নবনীতা দেবসেন,অভিজিৎ ঘোষ উল্লেখযোগ্য। ইতিহাসবিদ রোমিলা থাপারের মতে, “সুকুমারীর কাজ প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাসচর্চার ক্ষেত্রে মাইলফলক হয়ে আছে।” নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৯২ বছর বয়সে ২০১৪ সালের ২৪ মে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।
did not know a lot of things regarding women in ancient India... well... we progressed a lot...but .. men did not..most of them still think of us as commodities or 'livestocks'.. Let there be men who are not threatened and insecured to treat women as equals..let there be women who won't wait to be treated as equals to step ahead by men. :)