শুরুর দিকটা দারুণ লেগেছে, তবে বিলেত যাত্রার পর বিবরণ পড়ে আর ততো ভালো লাগে নি। যদিও এটা মূলত ব্রাহ্ম সমাজে নিজের কর্মকান্ড কে নিয়েই লেখা কেননা, শিবনাথ শাস্ত্রী নিজের জীবন নিবেদন করেছিলেন ব্রাহ্ম সমাজের উন্নয়ন সাধনে। সেকালের অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি যেমন বিদ্যাসাগর, দ্বারকানাথ, কেশবচন্দ্র সেন এদের সাথে শিবনাথ শাস্ত্রীর ঘনিষ্ঠ পরিচয় ছিলো। রামকৃষ্ণের কথাও এসেছে। ব্রাহ্ম সমাজ ভাঙ্গার কারণটাও উঠে এসেছে এখানে। ব্রাহ্ম সমাজ যে সেকালের শিক্ষিতজনের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলো, হিন্দু সমাজের বিদ্যমান কুসংস্কার দূর হয়েছিলো মূলত ব্রাহ্ম সমাজের আন্দোলনে সেটা এই বই পড়লে বেশ বোঝা যায়। শিক্ষা বিস্তার, জাতপাতের বিরুদ্ধে সচেতনতা, বিধবা বিবাহ এসব সমাজ সংস্কারে ব্রাহ্ম সমাজই অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলো, ইংরেজ শাসক গোষ্ঠীও এদের অনুকূলে ছিলেন বলেই বোঝা যায়। সময়ের স্রোতে ব্রাহ্ম সমাজ হয়তো এখন অস্তিত্ত্বহীন, তবে একদিকে তারা যেমন শিক্ষিত গোষ্ঠীর মধ্যে খৃষ্টান মিশনারীদের আগ্রাসন রুখতে পেরেছিলো তেমনি হিন্দু সমাজের কুসংস্কার দূর করতে ও সমাজ উন্নয়নে তারা রেখে গেছেন বিশাল ভূমিকা। শিবনাথ শ্রাস্ত্রী ছিলেন ব্রাহ্ম সমাজের আধুনিক অংশের অন্যতম প্রধান প্রচারক, নেতা এবং কর্মী। তার মতো আত্মনিবেদিত কর্মী হয়তো খুব কমই ছিলেন। প্রায় দেড়শো বছর আগের এই অনেক আধুনিক মনের মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধা না জেগে উপায় নেই।