রকিব হাসান বাংলাদেশের একজন গোয়েন্দা কাহিনী লেখক। তিনি সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত তিন গোয়েন্দা নামক গোয়েন্দা কাহিনীর স্রষ্টা। তিনি মূলত মূল নামে লেখালেখি করলেও জাফর চৌধুরী ছদ্মনামেও সেবা প্রকাশনীর রোমহর্ষক সিরিজ লিখে থাকেন। থ্রিলার এবং গোয়েন্দা গল্প লেখার পূর্বে তিনি অন্যান্য কাজে যুক্ত ছিলেন। তিনি রহস্যপত্রিকার একজন সহকারী সম্পাদক ছিলেন।রকিব হাসান শুধুমাত্র তিন গোয়েন্দারই ১৬০টি বই লিখেছেন। এছাড়া কমপক্ষে ৩০টি বই অনুবাদ করেছেন। তিনি টারজান সিরিজ এবং পুরো আরব্য রজনী অনুবাদ করেছেন। তাঁর প্রথম অনুবাদ গ্রন্থ ড্রাকুলা। রকিব হাসান লিখেছেন নাটকও। তিনি "হিমঘরে হানিমুন" নামে একটি নাটক রচনা করেন, যা টিভিতে সম্প্রচারিত হয়।
৩০ বছর পর রিভাইস দিলাম। আগেরবারের স্মৃতি কিছুই মনে নেই। তাই নতুন বই পড়ার মত অভিজ্ঞতা হলো। কাহিনি তুলনামূলকভাবে বেশ ধীরগতির। প্রায় পুরো বই জুড়েই এক জায়গায় ঘুরপাক খাচ্ছিল সবকিছু, এগোচ্ছিল না। তবে ক্লাইমেক্সে গিয়ে পর পর কয়েকটা চমৎকার টুইস্ট দিয়ে সব পুষিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই চার তারা।
বাতিল মাল কিনতে গিয়ে মাঝপথে খাদে আটকে গেলো রাশেদ চাচার ট্রাক। কাছেই এক কটেজে টেলিফোন করতে গেলে কটেজের মালিক কাকতাড়ুয়া ভেবে আক্রমণ করে বসলো কিশোরকে। সময়মতো বোরিস পৌঁছে যাওয়ায় বেঁচে গেলো কিশোর। কিন্তু কটেজ মালিকের কথাটা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারলো না। তাকে কাকতাড়ুয়া ভেবে বসলেন কেনো! বিকেলে তিন গোয়েন্দা আবার ফিরে এলো তদন্ত করতে। বেড়ার ওপর দাঁড়িয়ে আছে কাকতাড়ুয়াটা। ত্রিকোণ চোখ। মুখে শয়তানি হাসি। কাকতাড়ুয়া হাঁটবে কীভাবে! বারবার মিস এলিজা ওয়াগনারকেই দেখা দিবে কেনো যেখানে তিনি কাকতাড়ুয়া ভয় পান। কে তাকে ভয় দেখাতে চাচ্ছে। তিন গোয়েন্দার সাথে একের পর এক পরিচয় হলো ডক্টর রেন, মিসেস রোজারিও,নিউম্যান দম্পতি, মিস্টার স্টেবিনসনের সাথে। প্রত্যেকে জানে মিস এলিজার কাকতাড়ুয়া ভীতির কথা। তাদের মধ্যে কেউ যখন এই কাজ করেছে বলে ধারণা করছে কিশোর তখনই তাদের সাথে রহস্যময় এক লোকের দেখা হলো। ওয়াগনারদের বাড়িতে চুপি চুপি নজর রাখছিলো সে। কিন্তু তিন গোয়েন্দাকে দেখেই পালিয়ে যায় লোকটি। তাহলে কী বাইরের কেউ জড়িত? এদিকে এলিজাকে সরালে বাড়ির সবারই ক্ষতি। সবাই তার বাসায় কাজ করে, সবাইকে কাজ থেকে তাড়িয়ে দেয়া হবে। তারপরও বারবার এলিজাকেই ভয় দেখানো হচ্ছে। মোটিভ টা কী ঠিক ধরতে পারছে না কিশোর।
এবার লেখনী নিয়ে কিছু বলা যাক। রকিব হাসান স্যারের অন্যান্য বইয়ের মতো অসাধারণ একটি বই। সবচেয়ে ভালো লেগেছে এই বইয়ে তিন গোয়েন্দার কাজে একটু চেঞ্জ এসেছে। আগে সবসময় রবিন লাইব্রেরী ঘেটে তথ্য নিয়ে আসতো। কিন্তু রবিন সবসময় হাতের কাছে নাও থাকতে পারে এবং তিন গোয়েন্দাকে নির্দিষ্ট কাজে আটকে না থেকে সবার সবরকম কাজ করতে হবে এমনটা বলেছিলো কিশোর। এবার রবিনের পরিবর্তে মুসা লাইব্রেরী থেকে নোট নিচ্ছিলো। এছাড়াও তিনজন আলাদা আলাদা যায়গায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এই যায়গাটুকু পারসোনালি আমার খুব ভালো লেগেছে।
তবে গল্পটা অনেক স্লো ছিলো। প্রথম দুই একটা অধ্যায় একটু কৌতূহলী করে রাখে যে কেনো কিশোরকে কাকতাড়ুয়া ভেবেছিলেন ড.রেন। সেই বিষয়টা খোলাসা হওয়ার পর থেকে একদম শেষ পর্যন্ত ঘটনাপ্রবাহ অনেক ধীর গতিতে চলছিলো। ইভেন কাকতাড়ুয়ার কনসেপ্টটা অনেক অপরিণত মনে হয়েছে। তবে শেষের দিকে গিয়ে হঠাৎ করে যেনো স্লোয়ার ডেলিভারি থেকে ফার্স্ট ডেলিভারিতে শিফট হয়। একের পর এক আনপ্রেডিক্টেবল তথ্য দিয়ে সবাইকে চমকে দিচ্ছিলো কিশোর। শার্লক হোমসের মতোই ডিডাকশন করে অপরাধীদের ধরিয়ে দিলো। শেষের কয়েকটা টুইস্টের জন্যই তিন গোয়েন্দার অন্যতম গল্পগুলোর মাঝে স্থান করে নিবে 'নিশাচর' গল্পটি।