তাজউদ্দীন আহমদের রাজনৈতিক কাজ ও ভ‚মিকা সম্পর্কে বেশ আলোচনা ইতোমধ্যেই হয়েছে, আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। এই বইয়ে সংক্ষিপ্ত পরিসরে কীভাবে তিনি তাঁর রাজনৈতিক ভ‚মিকার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছেন, কেন তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হলেন, এবং কোন প্রেরণায় দক্ষিণপন্থী না হয়ে তুলনামূলকভাবে বামপন্থী ধারায় রইলেন, এসবের ব্যাখ্যার চেষ্টা আছে। তাজউদ্দীন আহমদকে জানতে ও বুঝতে বইটি সহায়ক হবে। বইটির লেখকের বিশ্লেষণ সর্বত্র তথ্যনির্ভর, কিন্তু তথ্যের দ্বারা ভারাক্রান্ত নয়। মন্তব্য যা আছে তা যুক্তিসমর্থিত। বইটির রচনারীতিতে এমন একটি প্রবহমানতা রয়েছে যা পাঠকের কৌত‚হল ও আগ্রহকে সজীব রাখবে এবং একটানা পড়ে যেতে উৎসাহী করবে। সবটা পড়ে পাঠকের আনন্দ লাভ ঘটবে।
যারা তাজউদ্দীন আহমদ সম্পর্কে জানেন না, তাদের জন্য বইয়ের প্রথম অংশটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাজউদ্দীনের দিনলিপি নিয়ে আলোচনা আগ্রহ জাগায়। দিনলিপিতে ছোট ছোট ভুক্তির মাধ্যমে পাওয়া যায় তরুণ নেতা কীভাবে তার পরিবারের দায়িত্ব নিচ্ছেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতির খোঁজ রাখছেন, আশপাশের নিম্নবিত্ত প্রতিটা মানুষের নাম ধাম ঠিকুজি মনে রাখছেন, নিজ এলাকার উন্নয়নের চেষ্টা করছেন,বিবিধ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করছেন তার এক অনুপুঙ্খ বিশ্লেষণ। এসবই তার ভবিষ্যৎ জীবনের শক্ত বুনিয়াদ গড়ে দিয়েছিলো।
তাজউদ্দীনের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে এত সুন্দর আলোচনা অন্য কোন বইয়ে পাইনি। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মানুষটার লেখার এমনিতে বিশাল ভক্ত আমি। তাজউদ্দীনের ডায়েরি নিয়ে বইয়ের শেষে একটা পর্ব রাখা আছে এতে। উনার ডায়েরী এজন্য পড়া উচিত যে, তাজউদ্দীন আহমদকে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হবার জন্য এবং সেই সঙ্গে তাঁর সময় ও সমাজকে জানবার জন্য। দুটোরই দরকার আছে। ইতিহাসকে চেনা ও বোঝার প্রয়োজন আছে বলে। যারা উনার ডায়েরি পড়তে পারবেন না বা এতগুলি ডায়েরি (৫ খন্ড) পড়ে হয়ে ওঠা সম্ভব না বলে। তাদের জন্য এই ডায়েরির একটা সামারি বই আছে। মুনতাসীর মামুন এর লেখা। ওই ছোট্ট বইটা পড়লেই চলবে। আর সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর এই বইটাতে তো একটা অধ্যায় আছে ডায়েরি নিয়ে।