অকালপ্রয়াত লেখক খান মোহাম্মদ ফারাবীর শিশুতোষ গল্পের সংকলন এই বইটি। বইয়ে মুদ্রিত গল্পগুলো ১৯৬৪ সাল থেকে ১৯৬৬ সালের মধ্যে লেখা—যে সময় লেখকের বয়স ১২-১৪ বছর। সংকলিত গল্পের প্রায় সবগুলোই ষাটের দশকের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।
বইয়ের ভূমিকায় লেখক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন কবি হাবীবুর রহমান, ‘কচিকাঁচা’-র তৎকালীন সম্পাদক রোকনুজ্জামান খান এবং ‘সবুজ পাতা’-র সম্পাদক শাহেদ আলীর কাছে।
খান মোহাম্মদ ফারাবী ১৯৫২ সালের ২৮ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি মেধাবী ছাত্র ছিলেন। পড়াশোনা করেছেন ঢাকার সেন্ট গ্রেগরী স্কুলে এবং এরপর ঢাকা কলেজে। আইএ পাশ করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে অনার্সের ছাত্র হিসেবে ভর্তি হন। দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময়, ১৯৭৪ সালের ১৫ মে তাঁর অকালমৃত্যু ঘটে।
ফারাবী ছোটবেলায় বই পড়তে শুরু করলে বাকি সব ভুলে যেতেন। রূপকথার বই ছিল তাঁর খুব প্রিয়। অতি অল্প বয়সেই তিনি বাঙালি শিশুসাহিত্যিকদের বিখ্যাত বইগুলো পড়ে ফেলেন এবং স্কুলজীবনে বেশ কিছু শিশুতোষ গল্প লেখেন। এসব গল্প লেখার পাশাপাশি তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও নাট্যকার।
প্রধান চরিত্রে হাইস্কুল পড়ুয়া ব্যাকবেঞ্চার ফোকলা। তবে প্রথম ছয়টা গল্পের লাইমলাটে আছে ফোকলাদের পাড়ায় নতুন এসে ওদের লিডার বনে যাওয়া কামাল ভাই। কামাল ভাই মহাপাঁজি হলেও লিডারের মতো লিডার বটে! কামাল ভাইয়ের কথা বলতে গেলে টেনিদার কথা অনিবার্যভাবে মনে আসবেই। তবে আমার কাছে কামাল ভাইয়ের ক্যারিশ্মা টেনিদাকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো। তবে এর বাইরে যে ছয়টা গল্প আছে তার মান পড়তির দিকে। প্রথম অর্ধেক গল্পের জন্য পাঁচ তারা; বাকি অর্ধেক তিন তারা।
বইটা ১৯৭০ সাল্কে প্রকাশিত । আমার ধারণা যে লেখক যদি ১৯৭৪ সালে অকালে মারা না যেতেন তাহলে হয়ত আমরা আরো ভালো ভালো গল্প পেতাম তার কাছ থেকে । তখনকার সময় অনুযায়ী গল্প গুলো বেশ আধুনিক। আর কয়েকটা ছিল বেশীই মজার। বাকিগুলো চলে আর কি ।
খান মোহাম্মদ ফারাবীর লেখা "মামার বিয়ের বরযাত্রী" বইটি আমার ছোটবেলার বিশাল একটা অংশ জুড়ে ছিল। এখনো আছে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে বের হওয়া এই বইটি ২০০৬ সালে আমার আম্মু বাবা আমার বড় বোনকে কিনে দে। তখন আমার বয়স মাত্র ২ বছর। . পরবর্তীতে আমি যখন মোটামুটি বই পড়া শুরু করেছিলাম তখন আমাকে আমার বোন বইটি পড়তে দেয়। এবং তার পর পরই এই বইটি আমার প্রিয় বইয়ের তালিকায় ঢুকে যায়। . মামার বিয়ের বরযাত্রী বইটিতে ছোট ছোট অনেক গুলো গল্প আছে।টেনিদার খানিকটা ছোঁয়া পাওয়া যায় এই বইটিতে।টেনিদার বদলে আছেন কামাল ভাই।আর আছে ঝন্টু,খুরশিদ,নুরুল,সিরাজ। . এলাকার বড় ভাই হলো কামাল ভাই। সে গাছ থেকে লেবু চুরি করে এবং ঝন্টু, খুরশীদ, সিরাজ ও নূরুলকে বোকা বানায়। এই কামাল ভাইয়ের করা বিভিন্ন কান্ডকারখানা এই গল্পগুলোতে উঠে এসেছে। সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হচ্ছে লেখক এই গল্পগুলো লিখেছেন যখন তিনি মাত্র অষ্টম শ্রেনীর ছাত্র। . খান মোহাম্মদ ফারাবী অনেক অল্প বয়সে মারা গিয়েছেন। কিন্তু এটুকু বলতে পারি যে বেঁচে থাকলে হয়তো উনার লেখা আরো চমৎকার কিছু বই আমরা পেতাম। . টেনিদা, ঘনাদা, লেবুমামার সপ্তকাণ্ড,পাগলা দাশু, মামার বিয়ের বরযাত্রী এই বইগুলো পড়লে মনে হয় তখনকার দিনের বন্ধুত্ব অনেক সরল ছিলো,ছিলো না কোনো জটিলতা। যেটা আজকের দিনে যেটা অনেক দুর্লভ। এই বইগুলো পড়লেই মনে হয়," ইশ! যদি ওই সময়ে জন্মাতে পারতাম!"
খারাপ ছিল বলব না, তবে নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের টেনিদা পড়া না থাকলে হয়তোবা আরো বেশি উপভোগ করতাম এই গল্পগ্রন্থটি। প্রথমদিকের সবগুলো গল্পের চরিত্রই আমার কাছে টেনিদার গল্পগুলো থেকে অনুপ্রাণিত মনে হয়েছে। শেষ কয়েকটি গল্পে ভিন্নতা আনার চেষ্টা করলেও কাঁচা হাতের প্রভাব বিদ্যমান। কৃত্রিমতার ছোঁয়া কাটিয়ে উঠতে পারেননি বেশ কয়েকটি গল্পে। উল্লেখ্য যে লেখক যখন গল্প গুলো লিখেন তখন তিনি ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অতি অল্প বয়সে ভালো কিছু লিখার চেষ্টা করা ক্ষণজন্মা এই মেধাবী লেখক হয়তোবা পরবর্তীতে ভালো কিছু দিতেন কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত তা আর হয়ে উঠেনি।
IT IS A BOOK OF A 12-12 YEAR OLD BOY. ALL THESE STORIES WERE TAKEN FROM NEWSPAPERS . THESE STORIES WERE OF MUCH FUN. THE WRITER HAD SUCH A GOOD SENSE OF HUMOR. PLAY THE ALMIGHTY BLESS HIM WITH PEACE.
প্রায় সবাই এই বইটি পড়ে থাকবেন বা নামটি শুনে থাকতে পারেন। কারণ এই বইটি সেকায়েপ থেকে যেই সব বই দের তার একটি। আমি সেখান থেকে এনেই পড়েছি। বইটা সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নেই। এই বইটির রিভিউ এক শব্দে দেয়া যেতে পারে। সেই একটি শব্দ হলো "টেনিদা"। হুম ঠিকই পড়েছেন নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় এর সেই বিখ্যাত টেনিদা সিরিজের গল্পের মিল পাওয়া যায় এই বইতে। টেনিদার জায়গায় এখানে শুধু কামাল ভাই। বাকি সব এক যদিও নাম গুলো অন্য। টেনিদার গল্পের মতো স্বাদ ঠিক রেখে বইটা লেখা হয়েছে কিন্তু লেখক একটা গল্পও চুরি করেনি টেনিদা থেকে। নিজেই গল্পের জন্ম দিয়েছেন। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো লেখক এই বই এর ১২ টি গল্পই লিখেছিলেন ৮ম শ্রেণীতে পড়ার সময়। কি করে সম্ভব! এত অল্প বয়সেই যদি এত সুন্দর এবং সেই সময়কার তুলনায় এত আধুনিক গল্প লিখে থাকেন তাহলে আজ বেঁচে থাকলে কি করতে পারতেন! আফসোস ২২ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আজ তিনি বেঁচে থাকলে বাংলা সাহিত্যকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যেতে পারতেন। রিভিউ লিখতে যাচ্ছিনা। আপনার পড়ে দেখতে পারেন ভালো লাগতে পারে।
📚 মামার বিয়ের বরযাত্রী ▪️ লেখক: খান মোহাম্মদ ফারাবী ▪️ জনরা: কমেডি,ছোটগল্প ▪️ পারসোনাল রেটিং:৬/১০
🔹 বইটা প্রথম সাজেস্ট ছিলো কিশোর আলোতে। এরপর কদিন আগে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির গাড়িতে দেখে লুফে নিলাম। বইয়ে প্রায় ১০ টার মতো ছোটগল্প রয়েছে। কিন্তু সবগুলোই রিলেটেড। কিশোর জনরা হিসেবে মোটামুটি ভালো ছিলো। কমেডি পাঞ্চগুলো ভালো ছিলো। অযথা হাসানোর চেষ্টা করা হয় নি।
🔹 বইয়ের "কামাল" ও "ফোকলা" চরিত্র দুটো দারুণ লাগছে। ফোকলা'র উত্তম পুরুষের ধারাবিবরণী হয়েছে। ধড়িবাজ,ফাঁকিবাজ কামাল চরিত্রটা ভালো ছিলো। এই চরিত্রটার সাথে টেনিদার মিল পাওয়া যায়। কমেডি হিসেবে মোটামুটি ভালো টাইপের একটা বই।
🔹 বইটি প্রকাশিত হয়েছিলো ১৯৭০ সালে। লেখক ১৯৭৪ সালে অকালে মারা যান। ঠিক তখনই তিনি সুন্দর আধুনিক লেখা লিখেছেন।বেঁচে থাকলে হয়তো আরো ভালো লিখতেন। বর্তমানের জোরপূর্বক হাসানোর চেষ্টা নাহ। সম্পূর্ণ অকৃত্রিম একটা ভাইব ছিলো।
খুব অল্প বয়সেই লেখক এ লিখা লিখেছেন , বয়সের তারতম্যের কারণে হয়ত খুব বেশী রম্য এমনটা অনুভব হয় নি , কয়েকটা গল্প বেশ মজার (লিডার,কেমন জব্দ , মঙ্গলগ্রহের মানুষ , গুপ্তধন, নতুন মাস্টার , ছাত্রাণাং অধ্যনয়ং তপঃ ইত্যাদি , মামার বিয়ের বরযাত্রী পড়ার সময় এ গল্পটি আগেই বুঝতে পেরেছি বিধায় আমি আসল মজা পাই নি , তবে গল্পটা বেশ মজার )... এ বই পড়ে মজা পেতে হলে আপনাকে সে প্রাথমিকের শিশুর অনুভুতি নিয়ে পড়তে হবে তাহলে সাবলীলভাবে পড়ে বেশ মজা পাবেন।তিনি থাকলে হয়ত আরো ভালো কিছু সাহিত্যে যুক্ত হত,এত অল্প বয়সে উনি যা লিখেছেন তাতে সন্দেহতীতভাবে উনার অবস্থান সুনিশ্চিত করেছেন।সম্ভবত তখন লেখকের বয়স ১০-১১ বছর ,আমি নিশ্চিত না।
গল্পগুলো ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৬ সালের মধ্যে লেখা।সূচিপত্রের প্রথম সাতটি গল্পের কথক ‘ফোকলা’। যাদের মধ্যমণি কামাল ভাই। ফোকলার বাকি বন্ধুরা হলো ঝন্টু, নুরুল, নোটন। তাদের চায়তে বয়সে বড় কামাল। তারা এবং কামালের মধ্যে যে খুনসুটির সম্পর্ক সেগুলো নিয়েই প্রথম সাতটি গল্প। বাকি পাঁচটি গল্পও ভালো। ছোটদের কাছে ভালো লাগবে। - বই : মামার বিয়ের বরযাত্রী লেখক : খান মোহাম্মদ ফারাবী বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ২০০৩ পৃষ্ঠা ৯৬ মূল্য ২১৫৳ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
বইটা প্রথম পড়া হয়েছিলো ক্লাস সিক্স সেভেনে থাকাকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের কল্যাণে। ওই সময় টেনিদা, ঘনাদা পড়া ছিলো না, তাই বেশ ভালো একটা স্মৃতি ছিলো বইটা সম্পর্কে। সেই স্মৃতি থেকেই আবার পড়তে বসা। পুরো বইটা আদতে টেনিদা, ঘনাদা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা। তবে গল্পগুলো বেশ ভালো। লেখক আরো কিছুদিন বেশি বেঁচে থাকলে হয়তো আরো কিছু ভালো লেখা/গল্প পেতাম।
তখন ক্লাস সেভেনে পড়ি, সেকায়েপ লাইব্রেরীতে বইটা দেখেই পড়তে ইচ্ছে হয়েছিল এবং বইটা পড়ে অনেক অনেক ভালো লেগেছিল সম্ভবত তখন থেকেই বই পড়ার অভ্যাস টা গড়ে উঠেছে
I really loved this book. I was very fortunate that I got the chance to read this book through the ‘Bishwo Shahitto Kendro' reading program, where we were handed books randomly. :D I remember enjoying it through and through, and finishing it in one sitting.