হর্ষ দত্তর জন্ম ১৯৫৫, কলকাতায়। পড়াশোনা করেছেন বঙ্গবাসী কলেজ-স্কুল, রহড়া রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়, প্রেসিডেন্সি কলেজ, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। অধ্যাপনা বৃত্তির সঙ্গে নিযুক্ত থাকবেন- এই লক্ষ্যে সাধ্যমতো পরীক্ষায় ভাল ফলাফলের চেষ্টা করেছেন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে প্রথম শ্রেণির এম.এ এবং এম.ফিল।অধ্যাপনার সুযোগ পেলেও, আশির দশকে রাজনীতি-অধ্যুষিত শিক্ষা ব্যবস্থার প্রবল প্রকোপে, এই পথে যেতে পারেননি। গ্রহণ করেছিলেন সাংবাদিকতার বৃত্তি।রামকৃষ্ণ-ভাবান্দোলনের সঙ্গে যুক্ত আছেন আবাল্য। অস্ট্রেলিয়া, চিন, আমেরিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, হংকং ইত্যাদি দেশে সাহিত্যসংক্রান্ত আমন্ত্রণে ও প্রাতিষ্ঠানিক কাজে পরিভ্রমণ করেছেন।লেখক হিসেবে স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন একাধিক পুরস্কার। যেমন সমরেশ বসু সাহিত্য পুরস্কার, বিচয়ন সাহিত্য পুরস্কার, নিবেদিতা পুরস্কার, দ্বিজেন্দ্রলাল স্মৃতি পুরস্কার, আনন্দ-স্নোসেম পুরস্কার, তারাপদ বসু পুরস্কার ও উত্সব সম্মান।
‘আছে অন্তরে’ উপন্যাসটি মানুষের মনের গভীর মনস্তত্ত্ব, সম্পর্কের জটিলতা এবং জীবনের লুকানো অনুভূতির এক অনবদ্য দলিল। সমকালীন নাগরিক জীবনের টানাপোড়েন, মধ্যবিত্ত মানসিকতা এবং সম্পর্কের ওঠানামা খুব সূক্ষ্মভাবে এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। চরিত্রের বাহ্যিক সংকটের চেয়ে তাদের আত্মিক সংকট ও নৈতিক দ্বন্দ্বকে লেখক বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন।
এই উপন্যাসের চরিত্রগুলো আমাদের চারপাশের রক্তমাংসের মানুষের মতোই বাস্তবসম্মত। কোনো চরিত্রই নিখুঁত নয়, প্রত্যেকেই নিজস্ব ভুলত্রুটি ও আবেগ নিয়ে বেঁচে থাকে। অহেতুক মেলোড্রামা বা নাটকীয়তা বর্জন করে লেখক অত্যন্ত শান্ত ও সাবলীল ভাষায় মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা তৈরি করেছেন। কাহিনীর শেষ পাঠককে সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে একটি সুন্দর উপলব্ধির সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়।
কাহিনীর গতি কিছুটা মন্থর, তাই যারা টানটান উত্তেজনার থ্রিলার পছন্দ করেন, তাদের এটি কিছুটা ধীরগতির মনে হতে পারে। যাঁরা মানুষের মনস্তত্ত্ব, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং জীবনমুখী সমকালীন বাংলা উপন্যাস পড়তে ভালোবাসেন, আশা করি তাঁদের এই উপন্যাস ভালো লাগবে।
এই উপন্যাস হর্ষ দত্তের দ্বিতীয় উপন্যাস সম্ভবত। ১৯৯০ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাস সেই সময়ে দাঁড়িয়ে সময় থেকে এগিয়ে ছিল। ভেবে দেখলে মা–মেয়ের মনস্তত্ত্ব এই উপন্যাসের এক জটিল বিষয়। তবে সহজ, সরল আর সাবলীল ভাষায় রচিত এই উপন্যাসের একটা দিক হচ্ছে আমরা চাইলেই আমাদের অতীত মুখে ফেলতে পারি না। অতীত ভুলে সব কিছু নতুন করে শুরু করতে চাইলেই অতীত বার বার তার কুৎসিত রূপ নিয়ে আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়।