পার্থিব ভুবনে মানুষ কিংবা অন্যসকল প্রাণী বা জীব ব্যতীত অপার্থিব ছায়ার উপস্থিতি টের পাওয়া অকল্পনীয় কিছু নয়, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে এদের অস্তিত্ব আঁচ করা যেতেই পারে। আর বাংলার ত্রিসীমানায় তো এদের সত্তাকে গল্প কিংবা বাস্তবে ভালো করেই উপলব্ধি করা যায়।
ঠিক যেমনটা আমরা দেখতে পাই বাংলার লোককথায় যেখানে আছে চাঁদের বুড়ির অস্তিত্ব যার চরকায় সুতো কাটতে ক্লান্তি নেই আদৌ, আছে পক্ষিরাজ ঘোড়ার অস্তিত্ব যার দু'ডানায় নির্ভর করে রাজপুত্রদের কতো জায়গায় বিচরণ ঘটে, আছে রক্তচোষা ডাইনীর অস্তিত্ব, আছে অতি বুদ্ধিমতী পাখি হীরামনের অস্তিত্ব, আছে ধন কুদ্রার মতো বেঁটে প্রাণের অস্তিত্ব যাকে তুষ্ট করতে সক্ষম হলে সে এনে দিবে কারি কারি ধনসম্পদ, আছে জনপ্রিয় শাঁকচুন্নির অস্তিত্ব যার সংসার করার কতো না সাধ, আবার দুধ-মাছি চুরি করে এমন সত্তার নজিরও পাওয়া যায়। এদের মধ্যে প্রাণনাশকারীদের সংখ্যাও নেহাত কম নয়।
এছাড়া হিন্দু পুরাণে, বাংলার মুসলমান, আদিবাসীদের মাঝেও অতিপ্রাকৃত জগতের নানান সৃষ্টি নিয়ে কানাঘুষা শুনতে পাওয়া যায়। অপার্থিব এই ছায়াগুলোর মনের খবরাখবর রাখাটা বড্ড দুষ্কর। তুষ্ট করলে হয়তো এদের মন বদল হলেও হতে পারে তবে চটে গেলে প্রাণ চলে যাবে সোজা পরপারের দ্বারে। এতে অবশ্য এদের জন্য ভালোই, দলটা যে ভারি হবে।
সোজা ভাষায় এটা সংগ্রহ করে রাখার মতো একটা বই। বিশেষ করে চিত্রলংকরণগুলো এককথায় নজরকাড়া। বাংলার সব অপার্থিব সত্তাগুলোকে একত্র করার দারুণ প্রয়াস এটি যার জন্য এর সাথে জড়িত সকলকে সাধুবাদ জানাই। তবে যে বিষয়টি আমার ভালো লাগেনি তা হলো বইয়ের ৩৫+ পেইজ ফাঁকা, একটা নির্দিষ্ট প্যাটার্ন অনুসরণ করতে গিয়ে বোধ হয় এমনটা হতে পারে কিন্তু দেখতে খুবই দৃষ্টিকটু লেগেছে আমার কাছে। এই ব্যাপারে প্রকাশনী আগামীতে খেয়াল রাখবে বলে আশা করি। আপাতত অতিপ্রাকৃত দ্বিতীয় খন্ডের অপেক্ষায় রইলাম।