এই সেই রুদ্রপ্রয়াগ যেখানে বহুবছর আগে পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর নরখাদক চিতাবাঘ শিকার করেছিলেন বিশ্ববিখ্যাত শিকারি জিম করবেট। রুদ্রপ্রয়াগে গিয়ে হঠাৎ পটাইরা শুনতে পেল সেখানে নাকি আবির্ভাব ঘটেছে একটি বাঘ ও এক ছায়ামানুষের। তারপর ? ...
শুভ্রদা ও পটাইয়ের সঙ্গে পরিচয় হল এক বাঙালি ভদ্রলোক আদিত্য সিংহর। তার সঙ্গে এক অন্ধ সাধুর ডেরায় হাজির হয় পটাইরা। সাধুর কাছে আছে এক দুর্মূল্য রুদ্রনাথের মূর্তি। তার চুনির চোখ। পরদিনই পাওয়া গেল সাধুর ক্ষতবিক্ষত দেহ। রুদ্রনাথের মূর্তি উধাও। গা ছমছমে রুহস্যঘন উপন্যাস রুদ্রনাথের চুনির চোখ।
ভ্রমণের মজা, অ্যাডভেঞ্চার আর রহস্য মিলেমিশে একাকার।
দিব্যি লাগলো। উপাদেয় কিশোর উপন্যাসের সব রসদ এতে ঠেসে মজুদ। পড়তে পড়তে একবারও মনে হলো না, কেন পড়ছি? বা এর চেয়ে বুদ্ধিদীপ্ত লেখা বাজারে আরও অনেক পাওয়া যাবে। বুনোট লেখনীর জোরে, হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত আর অ্যাডভেঞ্চার শব্দ দুটো যেন হালে একে অপরের সমার্থক।
বাংলা সাহিত্যের অপরিসীম দাদাদের সমুদ্রে নাম লিখিয়ে এই গল্পের নায়ক, শুভ্রদা। ধীর, অনুসন্ধিৎসু এবং ডাকাবুকো, শুভ্র মজুমদার এক চাকরিতে বেশি দিন টিকে থাকতে পারে না। অগাধ পড়াশোনা, এবং পকেটে পুরোনো লাইসেন্সের পিস্তল। এহেন শুভ্রদার সাথে এবারে রদ্রপ্রয়াগ ভ্রমণে স্কুলপড়ুয়া তরুন শ্যালক, পল্লব ওরফে পটাই। স্থানমাহাত্য পেরিয়ে, ঘোরার মাঝেই তাদের পিছু নেয় পুঞ্জিভূত রহস্য।
উপন্যাসটি ভালো লাগার আর এক কারন, এই সুলভে রুদ্রপ্রয়াগ ভ্রমন। গল্প পড়ে ঘুরতে যাওয়ার জন্যেই যে বাঙালির অভিযানের এতো উপাখ্যান। কর্বেট সাহেবের চারণভূমি, অলকানন্দা ও মন্দাকিনীর স্রোতস্বিনী প্রয়াগ, কোটেশ্বরের গুহা মন্দির - এমন সকল জায়গা আদপে ঘুরে নেওয়ার আগে, একবার এই উপন্যাসটা পড়ে ফেললেই পারেন। হলফ করে বলছি, মন্দ লাগবে না।
আমরা যারা জিম করবেট-এর লেখায় (বা আরও সঠিকভাবে মহাশ্বেতা দেবীর অনুবাদে) কুমায়ুন বা গাড়োয়ালের রোমাঞ্চকর পটভূমির পরিচয় পেয়েছি, এবং সত্যজিত রায়ের "যতো কাণ্ড কেদারনাথে" পড়তে গিয়েও সেই অনুভূতিটা খুঁজে পেতে চেয়েছি, তাদের পক্ষে আজকের উত্তরাখণ্ড ভ্রমণ মানে এক বিরাট স্বপ্নভঙ্গ| প্রোবেশন চলাকালীন মুসৌরি থেকে এদিকে-ওদিকে যেতে গিয়ে এটাই মনে হয়েছিলো যে মানুষের লালসা প্রকৃতিকে যেভাবে লুট করেছে তাতে এই পটভূমিতে লেখা পড়ে আর ভালো লাগবে না| কিন্তু তার অনেক পরে, আনন্দমেলায় ধারাবাহিক প্রকাশের সময় এই রোমাঞ্চকর উপন্যাসটি শুধু তার অনবদ্য গল্পের টানে নয়, আমাকে এটা দেখিয়েও অবাক করে দিয়েছিলো যে সত্যিকারের ভালো গল্পকারের হাতে এই ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া নৈসর্গেও কেমন করে এডভেঞ্চার জমিয়ে তোলা যায়| যদি লেখাটি পড়ে থাকেন, তাহলে অন্যদের পড়ান| যদি না পড়ে থাকেন, তবে এই ত্রুটি অবিলম্বে সংশোধন করুন|
শুভ্র পটাইয়ের জোড়ি আমাকে ফেলুদা তোপসের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিল।জমজমাট রহস্য কাহিনী।রুদ্রপ্ৰয়াগ জায়গার বেশ বিবরণ আছে। আমার তো ভালো লেগেছে।
গল্পের পটভূমি রুদ্রপ্রয়াগ।জিম করবেটের গল্পে এই জায়গার উল্লেখ আছে।শুভ্রদা(শুভ্র মজুমদার) ও পটাই(পল্লব রায়) এখানে বেড়াতে আসে, দাদা ভাইএর মতো সম্পর্ক হলেও তারা আসলে শালা জামাইবাবু ।এখানে এসে পরিচয় হয় এক বাঙালি ভদ্রলোকের ( আদিত্য সিংহ) সঙ্গে।তিনিই পটাইদের এক গুহার সন্ধান দেন, সেখানে থাকে এক অন্ধ সাধুবাবা। তাঁর কাছে আছে রুদ্রনাথ যার চোখদুটো চুনির।আর তা চুরির জন্য খুন হয় সাধুবাবা।শুভ্রদার গোয়েন্দা সুলভ মন তদন্ত করতে শুরু করে। অন্যদিকে এই অঞ্চলে অনেক বছর আগে করবেট সাহেব শিকার করেছিলেন মানুষ খেকো বাঘ।কিছু মানুষের বিশ্বাস প্রতি রাতে করবেট সাহেবের ভূত ও সেই বাঘ এখনও ঘুরে বেড়ায়। সত্যিই কি কর বেট সাহেব ও সেই বাঘের প্রেত ছায়া ঘুরে বেড়ায় এখনও? আর শুভ্রদা কি পারবে খুনিকে খুঁজে বার করতে ?
কিশোরদের অ্যাডভেঞ্চারে বেরোতে হলে একটা দাদা ধরতেই হয়। কখনও নিজের কখনও খুড়তুতো বা মাসতুতো কেউ বা কমবয়সী কাকাকেই দাদা বানিয়ে নিয়েছে, কেউ দিদির দেওর এমনকি জামাইবাবুকেও আজকাল দাদা বলার দিব্য চল হয়েছে। সেই পটাইয়ের জামাইবাবুই শুভ্রদা।
নামেই বোঝা যায় উত্তরাখণ্ডের পটভূমিতে গল্প ফেঁদেছেন লেখক। কিশোর বয়সীদের নিঃশ্বাস বন্ধ করে পড়ে ফেলার মতো একটা বই। হ্যাঁ এইরকম লেখা বাংলায় অনেক আছে, তাও পড়তে খারাপ লাগবে না, এটাই লেখকের হাতের গুণ।
আনন্দমেলা পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হওয়ার পর পত্র ভারতী থেকে বই হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল। এখন অ্যাডভেন৪ নামের সংকলনে গ্রন্থিত হয়েছে।
পটাই আর শুভ্রদা নিশ্চয়ই বড় হয়ে গেছে তাই আর আজকাল নতুন কোনো অভিযানে বেরোয় না!