ছোট একটা শহরে ঘটে চলেছে একের পর এক 'খুন' ! বেশ কিছু বছর ধরে ধারাবাহিক ভাবে খুন গুলো ঘটলেও, খুনের সুরাহা আজও হয়নি।
যদিও গল্পের অভাব নেই ছোট শহরটায়; তবু, সুযোগ পেলেই গল্পের আসর জমিয়ে বসেন -' আলি চৌধুরী '। একান্তই তার নিজের জীবনের গল্প; আধিভৌতিক - পরাবাস্তব সেই গল্প-গুলো শুনলে খুব সহজেই যেন লৌকিকতা ভুলে যেতে হয়।
'অনিমেষ' -পেশায় ক্রাইম রিপোর্টার। এই মধ্যবয়সেও রাত-বিরাতে বেড়িয়ে পড়তে হয় তাকে, খুনে শহরের বৈচিত্র্যময় খুন-গুলো তাকে শান্তি বা স্বস্তি কিছুই যেন দিতে চায় না!
ময়নাতদন্তে কোন লাশের শরীরেই আঘাতের চিহ্ন থাকে না, কিন্তু নিষ্প্রাণ মৃতের স্থবিরতা যেন চিহ্ন রেখে যায় ভয়াবহ কোন বিষাদের, সম্যক গরল মিশ্রিত যেন সেই বিষাদ!
অন্যদিকে মাঝে মধ্যেই শহর থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় কিছু লোক; জীবিত বা মৃত- কোন অবস্থাতেই এই নিখোঁজ মানুষ গুলোর কোন হদিস আর মেলে না!
মানুষ খুন করছে 'কে' বা 'কারা'? মানুষ নিখোঁজের পেছনের গল্পটাই বা কি?
কলকাঠি কি কোন সংঘের হাতে?
নাকি সব কিছুর জন্যে কেবলমাত্র একটি শীতল মস্তিষ্কই দায়ী?
চৌকস পুলিশ অফিসার 'আরিফ আফসারি'র কাছে উড়ে আসে কিছু বেনামি চিরকুট!
মলু সওদাগর আর শমসের উদ্দীনের ঘটনা দুটো আমাকে হুকড করে ফেলছিল একদম শুরুতেই। অকাল্ট থ্রিলারের একটা স্বাদ পাচ্ছিলাম। কিন্তু পুলিশি তদন্তের অংশটুকু পরিমাণে বেশি হয়ে গেছে। শেষমেশ ক্রাইমের মোটিভও আমাকে হতাশ করেছে। যেকোন ক্রাইমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন অংশ মোটিভ। ওটা খেলো হয়ে গেলে গল্পের মজাটা নষ্ট হয়ে যায়। তাছাড়া যে ঘটনা দুটো আমাকে হুকড করেছিল সেগুলোর সাথে মোটিভ তেমন খাপ খায় না। ব্যাখ্যাও নেই। বিশেষ করে শমসের উদ্দীনের।
লেখকের লেখনী বেশ ভালো লেগেছে, সাবলীল। মেদ খানিকটা কমিয়ে ফেললেই আরো ঝরঝরে লাগতো। পরবর্তী বইয়ের জন্য জানাই শুভকামনা।
আরো একটা থ্রিলার। সিরিয়াল কিলার, চাইল্ডহুড ট্রমা, হ্যালুসিনেশন, একাকীত্ব, কাল্ট রিচুয়াল, শয়তানের পূজা, পুলিশের সাথে ইঁদুর বেড়াল খেলা - এসব নিয়েই কাহিনী। লেখকের প্রথম বই। এখনো তো পথ হাটা বাকি। আশাবাদী: ভবিষ্যতে আরও ভালো লিখবেন।
শুরুটা এত সুন্দর করে শেষটা এইরকম, এ যেন বাংলাদেশের মৌলিক থ্রিলারের একদম কমন কেস। লেখকের লিখনশৈলী সুন্দর, গল্প বলার ভঙ্গি সুন্দর। তবে আমার কাছে বইটা নষ্ট হইছে গল্পের প্লটের মোটিভের অভাবে। মানে যে কারণে যে জিনিস দেখানো হইছে, সেইটা অবাস্তব মনে হইছে। সেই সাথে এমন কিছু চ্যাপ্টার বা সিন ছিল যেগুলোর এই বইতে কোনো সংযোগই নাই, যে কারণে ১৬৮ পেজের বইও মেদবহুল মনে হইছে। সব মিলায়ে জমে নাই। ২.৫ রেটিং না দিতে পারায় ৩ দিলাম।
নি:স্পন্দ ইকারাস লেখক: Asif Tauj প্রচ্ছদ: নসীব পঞ্চম জিহাদী প্রকাশক: Book Street
বুকস্ট্রিট এর অন্যান্য বই এর মাঝে এই বই টা নেওয়ার ইচ্ছা ছিল। কাহিনি সংক্ষেপ পড়ে ভালো লেগেছিল আর প্রচ্ছদ টাও ছিল বেশ ভালো। লেখক এর ডেব্যু থ্রিলার বই। তাই ইচ্ছা ছিল এটা প্রথমেই কালেক্ট করে পড়ব। এখন বই নিয়ে কথা বলা যাক।
কোনো এক শহরে ঘটতে থাকে একের পর এক খু*ন। কোনো সময় লা*শ পাওয়া যায় আবার কোনো সময় পাওয়া যায় না। পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এর নাকানিচুবানি অবস্থা। অফিসার আরিফ আফসার ভেবে পান না কি করবেন।
অনিমেষ সমাদ্দার পেশায় একজন ক্রা*ই*ম রিপোর্টার। রাত-বিরাতে বেড়িয়ে পড়ে শহরের কালো অধ্যায় গুলোকে তুলে ধরতে। এই শহর তাকে ঘুমোতে দেয় না।
আলি চৌধুরি গল্প বলতে চায়। তার অতীত জীবনের গল্প।
মোটামুটি লেগেছে বই টা। বেশি ভালোও বলতে পারছি না আবার খারাপও বলতে পারছি না। যদিও একবসায় শেষ করেছি। লেখক গল্প জমাতে চেষ্টা করেছেন। ভালো লেগেছে এটা। কোনো একটা বই প্রধান একটা দিক হলো স্টোরি টেলিং। চেষ্টা করেছেনে ভালো আউটপুট দেওয়ার। আরেকটু ডিটেইলিং আশা করেছিলাম। মন্দ হতো না।
ক্যারেক্টারাইজেশন আরো বেটার হতে পারত। ক্যারেক্টর কিন্তু হাতে গোনা কয়েকজন ই। লাইফ স্টাইল, ব্যাকস্টোরি এগুলো আরো ভালোভাবে তুলে ধরা দরকার ছিল।
ইনভেস্টিগেটিভ প্রসেস গুলোর ডিটেইলস আরো বেশি হওয়া উচিত ছিল। বই এর গুরুত্বপূর্ণ একটা দিক এটা। পড়ে আরো ভালো লাগত। ডিটেইলিং আমার পছন্দের একটা জিনিস। বই এ এটার একটু মিসিং ছিল।
গুপ্ত সংঘের একটা বিষয় আছে বই এ। এটা নিয়ে আপাতত কিছু বলতে চাই না। স্পয়লায়ের একটা ব্যাপার স্যাপার আছে।
এক্সিকিউশন ভালো লেগেছে। বাট ওই যে বললাম ব্যাকস্টোরি, ক্যারেক্টারাইজেশন এর একটু মিসিং আছে। নাহলে ভালো একটা ইম্প্যাক্ট দিত বই টা।
লেখক এর অনেক সম্ভাবনা আছে। এসব দিক নিয়ে উনি কাজ করলে আরো বেটার আউটপুট দিতে পারবেন বলে মনে হয় আমার। লেখক এর জন্য রইল শুভকামনা। আর আমার এই রিভিউ তে কোনো দু:খ পেয়ে থাকলে সেটা ক্ষমার চোখে দেখবেন।
বই এর প্রোডাকশন ছিল দারুণ। যদিও বুকস্ট্রিট এর প্রোডাকশন নিয়ে কিছু বলার থাকে না। প্রচ্ছদও ছিল ভালো। বাইন্ডিং ও ছিল ভালো। খুলে পড়া যাচ্ছিল ভালোভাবে।
ভালো লেগেছে। বিশেষ করে ৭ আর ৮ নং অধ্যায়ের জন্য এই বইটির কথা মনে থাকবে। শেষের দিকে কাহিনী একটু টেনে লম্বা করা হয়েছে এছাড়া আর কোনো কিছুই খারাপ লাগে নাই।
যেই নেগেটিভ রিভিউ গুলো এখানে দেখলাম সেগুলো যতদূর সম্ভব দেয়া হয়েছে বইয়ে হিন্দু চরিত্রের উপস্থিতি আর হিন্দু ধর্মের কিছু উপকরণ ব্যবহারের জন্য। সাথে দুটো সংস্কৃত শ্লোকের ব্যবহার তারা বোধহয় আর নিতে পারে নাই। এটা তাদের সমস্যা, তাদের নিচ আর বদ্ধ মানসিকতার পরিচয়। এছাড়া এই বইটা নিন্দনীয় আর কিছু পাই নাই। সব মিলিয়ে ৪/৫ ।
লেখক মনে হয় ব্লকে ছিল বলে ঠিক মত এক্সিকিউট করতে পারে নাই। ব্লকের ফাঁকে ফাঁকে লিখছে মনে হয়।
ছোট শহরের গল্প- কিন্তু টাউন ভাইবের চেয়ে বেশি ছিল সিটি ভাইব। থানার ওসি মানে কিন্তু আসলে কিছুই না- এখানে ডিবি পুলিশের ভাইব চলে আসছে। ঘটনার বর্ণ্না বেশ কিছুটা খাপছাড়া। প্রথম বই- অল দ্য বেস্ট। লেখার মান ভালোই। অন্তত অনামিকা চুপ বইটা পড়ার পরে এটা ধরছি- এজন্য এই বইটা এক হাজারগুণ ভালো লাগছে। নইলে পৌনে তিন দিতাম।
সময়ের অপচয় ছাড়া কিছু লাগেনি। প্রথম ৪০-৫০ পেজ ভালো। এরপর গল্পে আসা এক্সেসরিজ গুলো খুবই বিরক্তিকর। এভারেজ রাইটিং স্কিল। এন্ডিং এ এত কাহিনীর উদ্দেশ্যের কোনো মিল নাই। মনে হয় লেখক লিখতে গিয়ে হারায় ফেলছেন, কি লিখতেছিলেন আর কোন উদ্দেশ্যে লিখতেছিলেন
শুরুটা বেশ ভালো লেগেছিল। কিন্তু মাঝে বইটায় এমন কিছু ঘটনা এসেছে যার সাথে মূল কাহিনীর সূত্র মেলানোই কষ্ট। আর শেষটা যেন হঠাৎ করেই হয়ে গেলো। শুরুটার জন্য যে এক্সপেকটেশন ছিল শেষে তা পূরণ হলো না আসলে।