পাঁচ বন্ধু— রাকেশ, রোহিত, পিহু, আকাশ, নয়না। কলেজ পাশ করার পরে জীবনের গতিপথে ছিটকে যায় যে যার মতো। একসময় অস্বাভাবিকভাবে খুন হল রাকেশ। তদন্ত শুরু হতেই বেরিয়ে এল অতীতের এক অজানা রহস্য। ছায়া ঘনিয়ে এল বাকি চার বন্ধুর জীবনেও। কে খুন করল বিখ্যাত শিল্পপতি রাকেশকে? কেন? কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের একমাত্র রূপান্তরকামী অফিসার মৃত্তিকা রুদ্র কি পারবে এই রহস্যের সমাধান করতে?
স্বনামধন্য এবং সমাজে নানা ভালো কাজকর্মের জন্য পরিচিত ব্যবসায়ী রাকেশের মৃত্যু হল অপ্রত্যাশীতভাবে। তাঁর স্ত্রী দাবি করলেন, এ স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; বরং এ এক হত্যাকাণ্ড। প্রভাবশালী মহলের চাপে পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করল। দায়িত্ব পেলেন মৃত্তিকা রুদ্র— যাঁকে অপরাধ ও অপরাধীদের পাশাপাশি সমাজের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে লড়ে তবে মৃণ্ময় থেকে রূপান্তরিত হয়ে মৃত্তিকা হতে হয়েছে। তদন্ত শুরুর পর একটু-একটু করে বোঝা গেল, এ কোনো বিচ্ছিন্ন কাণ্ড নয়। অনেকদিন ধরে, বহু যত্নে বিছোনো হয়েছে এক মারাত্মক জাল, যার লক্ষ্য কলেজ-জীবনের পাঁচ বন্ধু। কেন? কোন ভয়ংকর সত্য লুকিয়ে রেখেছে এই পাঁচজনের অতীত? কোন প্রাচীন পাপের দীর্ঘ ছায়া এমনভাবে গ্রাস করছে একের পর এক জীবনকে? আমার মতে এই রহস্য উপন্যাসের তিনটি ইউনিক সেলিং প্রোপোজিশন আছে। সেগুলো হল~ প্রথমত, রহস্যভেদী হিসেবে মৃত্তিকার চরিত্রটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়। নিজের জীবন দিয়ে অনুভব করা অনেক অপমান আর আঘাতকে তিনি নিজের মধ্যে রেখে দিয়েছেন। তাঁর কিছু দুর্বলতা আছে, আবার তারই সঙ্গে আছে প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়ে যাওয়ার ক্ষমতা। তাঁর প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় রইলাম। দ্বিতীয়ত, পোলিস প্রোসিডিওরালের ক্রূর ও নির্মোহ দিকটা ফুটিয়ে না তুলে লেখক বরং অত্যন্ত সহজ ও গতিময় গদ্যে, ছোটো-ছোটো বাক্যে, চরিত্র-চালিত একটি টানটান ন্যারেটিভ পেশ করেছেন। ফলে এই কাহিনি শুরু করলে মাঝপথে ছেড়ে দেওয়ার উপায় থাকে না। তৃতীয়ত, এই উপন্যাসের বীজ হয়ে আছে একটি অত্যন্ত সাম্প্রতিক ঘটনা— যাকে আত্মরতিপ্রবণ বাঙালি রিলস্ আর ফুডভ্লগিঙের মোহে বেমালুম ভুলে গেছে। অথচ যে প্রতিষ্ঠানে এই ঘটনা ঘটেছিল, তার প্রাক্তনী হিসেবে অনেকের মতো আমিও অনুতাপের বিষে জর্জরিত হয়ে আছি ও থাকব আমৃত্যু। লেখককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। বিবেকের কশাঘাত হয়ে তাঁর এই লেখাটি যদি পাঠকদের আবার সেই ঘটনাটির কথা মনে করিয়ে দিতে পারে, তাহলে হয়তো এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো যাবে। বইটিতে অত্যন্ত চমৎকার বেশ কিছু অলংকরণ আছে। মুদ্রণ এমনিতে শুদ্ধ হলেও কিছু বানান, আর কি/কী ব্যবহার নিয়ে কিঞ্চিৎ অরাজকতা দৃষ্টিগোচর হয়েছে। পরবর্তী সংস্করণে সেগুলো শুধরে নিলে ভালো হয়। আশা করি যে বইটি পাঠকদের কাছে জনপ্রিয় হবে এবং লেখককে আরও কাহিনি সৃজনে উৎসাহী করে তুলবে। তাঁর ও প্রকাশকের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।