তূর্যের জীবন জুড়ে ছিল তার ঠাম্মার রূপকথার গল্প। সোনার কাঠি, রূপোর কাঠির ছোঁওয়ায় ঘুমন্ত রাজকন্যাকে জাগিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন। মেঘলার ইচ্ছে ছিল দৈত্যপুরীর পাঁচিল টপকে তেপান্তরে পাড়ি জমানোর। ইচ্ছেডানা মেলে স্বাধীনভাবে আকাশে ওড়ার। এদের সঙ্গে ছিল ঝমঝমে বৃষ্টির মারমুখো একটা রাত। ফোনে এসে ছিল লাস্ট ডেলিভারির নোটিফিকেশন। পেছনের হারিয়ে যাওয়া পথে ছিল ফাদার হেমব্রমের কোয়ার্টার। ধূসর নিস্পৃহ একটা শহর। হাওয়ায় ক্ষমতার গন্ধ শোঁকা লোভী কয়েকজন পুলিশ অফিসার। ছাদের চিলেকোঠায় ছিল কবেকার মরে যাওয়া টুবলুর একটা পুরনো ভি সি আর। স্যাঁতসেঁতে দেওয়ালের পোষ্টারে তাকানো ঝুলমাখা ব্রুসলি। আর এইসবের সঙ্গে হাতের মুঠোর মধ্যে জমাট বদ্ধ হয়েছিল মন কেমন করা এক মহাকাব্যিক প্রেমের আখ্যান। যে প্রেম ক্ষেপনাস্ত্রের চেয়েও ভয়ঙ্কর। যে প্রেমে রাষ্ট্র ভয় পায়। বিধিনিষেধ চাপায়। ঘুমিয়ে পড়ার আগে যে প্রেম সফল হবার বাসনায় পালটে দেয় সবকিছু।
চলচ্চিত্র বিষয়ে অধ্যাপনা, তথ্যচিত্র নির্মাণ, ফিল্ম, টেলিভিশন ধারাবাহিক ও ওয়েব সিরিজের চিত্রনাট্য রচনা এবং তার ফাঁকে ফাঁকে নিজের ব্লগে নানা স্বাদের লেখালেখি-এইসব নিয়েই কল্লোল লাহিড়ী। প্রকাশিত উপন্যাস গোরা নকশাল (২০১৭)। ইন্দুবালা ভাতের হোটেল(২০২০)। নাইনটিন নাইনটি আ লাভ স্টোরি (২০২২)। ঘুমিয়ে পড়ার আগে (২০২৪)। স্মৃতিগদ্য গ্রন্থ বাবার ইয়াশিকা ক্যামেরা (২০২১)। লেখক গোরা নকশাল এবং ইন্দুবালা ভাতের হোটেল উপন্যাস দুটির জন্য দুহাজার একুশ সালে ভূমধ্যসাগর পত্রিকার 'শ্রীমতী সাধনা সেন সম্মান'-এ সম্মানিত।