দ্বিপদী, ম্যাক্সিম, শের শায়েরি; কেবল সাহিত্যেরই না বরং মানুষের মনোগত আনন্দ-বেদনা প্রকাশের শক্তিশালী মাধ্যম। খুব অল্প কথা দিয়ে যা প্রকাশ করা হয়, বিস্তারিত ব্যখ্যা দিয়েও তা অনেক সময় করা সম্ভব হয় না।
'ফিরাক'-এ উর্দু ভাষার সেরা কবি মীর্জা গালিব, তাঁর পূর্ববর্তী মীর তকী মীর এবং খুসরোর শের রয়েছে। সেই সঙ্গে আছে কবির দাসের দোঁহা। শের এবং দোঁহা ভাষাগত দিক হতে আলাদা। কিন্তু কবিরকে গালিব, মীরদের সঙ্গে রাখা হয়েছে মরমী বক্তব্যের জন্য। এই সংকলনে উক্ত কবিদের মরমী অর্থ ধারণকারী দ্বিপদীগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। মানুষ, মানবতা, ঈশ্বর নিয়ে কথা বলেছেন এরা সকলে। এখানে সংকলিত প্রায় প্রতিটি শের শায়েরিতে কোনো না কোনো গূঢ় বক্তব্য রয়েছে।
বাংলা অনুবাদে বাংলার লালিত্য যথাসম্ভব ধরে রেখে মূলের কাছাকাছি থাকা হয়েছে। কিন্তু গালিব, মীর, খুসরো, কবিরদের দ্বিপদী এতো গভীর অর্থ বহন করে, যা কিছুটা ব্যাখ্যা না করলে অনেক ক্ষেত্রে বোঝা কঠিন। তাই লেখকের বোঝাপড়া থেকে যোগ করা হয়েছে নাতিদীর্ঘ ব্যাখ্যা ও কিছু শব্দার্থও।