প্রায় ২৩০০ বছর আগের ভারতবর্ষ। এক ব্রাহ্মণ শিক্ষক প্রতিজ্ঞা করলেন, তিনি ধ্বংস করবেন ‘আর্যাবর্ত’র সবচেয়ে শক্তিশালী নন্দ সাম্রাজ্যকে। সেই আচার্য চাণক্যর কাহিনি ইতিহাসের পাতায় লেখা রয়েছে। কিন্তু কেন নিজের মনে নন্দর প্রতি তীব্র দ্বেষ পোষণ করেছিলেন চাণক্য? কী পরিণতি হয়েছিল সেই নারীর যিনি চাণক্যর প্রেমে পড়েছিলেন? কেন আলেকজান্ডার মহান, আর্যাবর্ত জয়ের স্বপ্ন অসম্পূর্ণ রেখেই ফিরে গিয়েছিলেন? ষড়যন্ত্র, নাকি, হৃদয় পরিবর্তন? কীভাবে চাণক্য নির্বাচন করেছিলেন চন্দ্রগুপ্তকে ভবিষ্যতের সম্রাট হিসেবে? কীভাবে পরিচালিত হত সেই যুগের গুপ্তচর চক্র? অমাত্য রাক্ষস ও চাণক্যর বুদ্ধির দ্বৈরথে জয়ী হয়েছিলেন কে? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর আছে এই বইয়ের পাতায়।
‘চাণক্য সিরিজ’-এর স্পিনঅফ হিসেবে সব কিছু শুরুর কাহিনি বলবে এই সংকলন। ইতিহাসের কিছু চরিত্রকে নিয়ে কল্পনার মিশেলে সৃষ্ট চারটি উপন্যাসিকা, যা আসলে একই যোগসূত্রে বাঁধা স্বয়ংসম্পূর্ণ ঐতিহাসিক থ্রিলার উপন্যাস। এই কাহিনি প্রাচীন ভারতের। যেখানে আছে ষড়যন্ত্র, যুদ্ধ, গুপ্তচর, প্রেম, প্রত্যাখ্যান, রাজনীতি, বিশ্বাসঘাতকতা।
Dr. Abhigyan Ganguly holds a PhD degree in Nano-Electronics, while taking time out of his busy schedule to write a little and read a lot more. His first solo book "Hatyashastra" was published in 2022, which is a historical/detective fiction in Bengali and was an instant hit among Bengali readers.
সিরিজের প্রথম দুটো বইয়ের মতো টানটান উত্তেজনা এই বইতে নেই। চাণক্য আর চন্দ্রগুপ্তের পেছনের কিছু গল্প তুলে আনা হয়েছে মাত্র। শুধুমাত্র কাত্যায়ণ কে সাময়িক বিভ্রান্তিতে রাখার জন্য সুভাষিণীকে পটল তোলানো আমার বড্ড খারাপ লেগেছে। বেটা চাণক্য এতো বুদ্ধিমান অথচ ভালো একটা জম্পেশ উপায় প্রেমিকার জন্য বের করতে পারল না😢। লজ্জা!
সে যাকগে। লেখকের সাবলীল লেখা পড়ে একটা আরাম আছে। যারা এই সিরিজকে পছন্দ করেন তারা একবার পড়ে নিতে পারেন। ভালোই লাগবে।
I truly hope the author continues this series, he is outstanding at his craft. I’m so glad someone is writing a story like this. I would confidently place this series alongside Harry Potter. As much as I love HP, I love this series just as deeply.
What sets this book apart is that the characters don’t just feel real, they are actual historical figures, real people from history. Their humanity, friendships and struggles are portrayed with depth, emotion, and thrilling intensity. Set in our own subcontinent, the story feels even more powerful and personal. A truly memorable and meaningful read.
একদা আর্যাবর্তে লেখক : অভিজ্ঞান গাঙ্গুলি প্রকাশনা : বুক ফার্ম প্রথম প্রকাশ : ডিসেম্বর ২০২৪ প্রচ্ছদ : সপ্তদীপ দে সরকার অলংকরণ : গৌতম সরকার জনরা : ঐতিহাসিক
চাণক্য নিয়ে এই লেখকের লেখা ‘হত্যাশাস্ত্র’ ও ‘শরশাস্ত্র’ বই দুটি ইতিমধ্যেই বেশ প্রসিদ্ধ হয়েছে পাঠকসমাজে, যেখানে চাণক্যকে গোয়েন্দা হিসেবে দেখানো হয়েছে কিন্তু ‘একদা আর্যাবর্ত’ বইয়ের পটভূমি অনেকটাই ভিন্ন। এখানে বিষ্ণুগুপ্তের চাণক্য থেকে কৌটিল্য হওয়ার, চন্দ্রগুপ্তের সম্রাট হওয়ার, শঙ্কুমণির আচার্য শকুনি হওয়ার ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তাই এই বইটি ‘হত্যাশাস্ত্র’ বা ‘শরশাস্ত্র’ - এর spin-off হলেও এই গল্পগুলো স্বতন্ত্র ও স্বয়ংসম্পুর্ণ হয়ে উঠেছে। এই বইটিতে চারটি বড়ো গল্প আছে, চারটি অধ্যায়ও বলা চলে এদের, কারণ পুরো বইটা জুড়ে একটিই গল্প হয়ে উঠেছে, এক অখন্ড উপন্যাস।
ইতি বিষ্ণুপ্রিয়া — চাণক্য, শঙ্কুমণি ও কাত্যায়ণের তক্ষশীলায় শিক্ষাগ্রহণ ও পরবর্তীতে নিজেদের রাস্তা নির্বাচন এই গল্পে আলোচিত হয়েছে। বিষ্ণুগুপ্ত চাণক্যের মগধে ফেলে আসা অতীত জীবন ও বিষ্ণুপ্রিয়া এবং ভদ্রভট্টের ভগিনী সুভাষিনীর প্রেম ও বিচ্ছেদ। চাণক্যের প্রতিশোধ নেওয়ার কারণ, তাতে পারিপার্শ্বিক ঘাত-প্রতিঘাত , তার প্রস্তুতিপর্ব এই গল্পে বর্ণনা করা হয়েছে।
দৈবাস্ত্র — প্রতিশোধ পুরণের লক্ষ্যে যে ছয়জন শিষ্যকে আচার্য্য চাণক্য জোগাড় করেছিলেন তাদের মধ্যে ভবিষ্যতের নেতা তথা রাজা কে হবেন ও তার চেয়েও বড়ো কথা কেন হবেন তার ইতিবৃত্ত ধারণ করে আছে এই গল্পটি। প্রখ্যাত শিবের তরবারী চন্দ্রহাসের খোঁজে ছয় শিষ্যের যাত্রা, পথে বিপদ ও তার সমবেতভাবে মোকাবিলার মাধ্যমে এই গল্পটি নির্মিত হয়েছে। কি হলো শেষ পর্যন্ত, শরশাস্ত্রের সেনাপতি সিংহরণই বা কে জানতে হলে এই পর্বটি পড়তে হবে।
ইন্দ্রজিৎ — আলেকজান্ডার (অলকশেন্দ্র)-এর ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্তর্গত একজন সেনা শশিবর্মা। যে ক্রমশ তার বুদ্ধি, বীরত্ব ও সহমর্মিতা দেখিয়ে কিভাবে আলেকজান্ডারের পুরো ভারতীয় সেনাকেই নিজের পক্ষে করে নেয় তার বিবরণ লিপিবদ্ধ করা আছে এই গল্পে। শশিবর্মা প্রকৃত পক্ষেই ইন্দ্রজিৎ, ইন্দ্রের মতো প্রভাবশালী অলকশেন্দ্রকে বিনা যুদ্ধে জয় করার জন্যই নয় শুধু বরং মেঘনাদের মতোই আড়াল থেকে আঘাত করার জন্যও বটে। শশিবর্মার প্রকৃত পরিচয়, Alexander-Dandamis সাক্ষাৎ, গ্রীক শিবিরে ক্রমাগত বিদ্রোহের নেপথ্যের কারণ ও তার সদ্ব্যবহার সম্পর্কে জানতে গেলে এই গল্পটি পড়তেই হবে।
অচ্যুতম্ রাক্ষসম্ — চাণক্য শিষ্য চন্দ্রগুপ্ত পাটলিপুত্র দখল করেছেন। পূর্বতন নন্দ সম্রাট ধননন্দের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার আদেশ দিলেন চন্দ্রগুপ্ত। কিন্তু চাণক্য ফিরিয়ে নিতে বললেন সেই আদেশ। কেন? কোন রহস্য লুকিয়ে আছে অতীতের গর্ভে? কিভাবে বন্ধু শত্রুতে রূপান্তরিত হয়ে যায়? কৌটিল্য - রাক্ষস যুদ্ধে সর্বদা কৌটিল্যই জিততে পেরেছিল?
🔖এই বইয়ে কনকশাস্ত্রের ইন্দ্রজিৎ, অর্থাৎ চাণক্যের প্রথম শিষ্যের ইতিবৃত্ত পড়তে পাবো ভাবলেও তা পেলাম না। 🔖শকুনির নিয়ে প্রথম গল্পে বেশ কিছু তথ্য পেলেও পরে রহস্যই রয়ে গেলো। বিশেষত আলেকজান্ডার পরবর্তী ভারতে শকুনির কীর্তিকলাপ নিয়ে একটু বর্ণনা আশা করেছিলাম। এই বইয়ের লড়াইটা শুধুমাত্র মগধের বিরুদ্ধে দেখিয়ে বড্ড একমুখী হয়ে গেল। 🔖চারটি গল্পে ভেঙে দেওয়ায় গল্পের ভেতরের টাইমলাইন একটু জটিল হয়ে গেছে। চন্দ্রগুপ্ত সহ বাকি পাঁচজনের গুরুগৃহ ত্যাগের পর থেকে মগধ জয় পর্যন্ত অংশের বেশ অনেকটা মিসিং। একটিই উপন্যাস হলে আরো শক্তপোক্ত ও ভালো একটা বই পড়তে পেতাম। 🔖রাক্ষস - কৌটিল্যের দ্বন্দ্ব আরেকটু ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলা যেত। শকুনির সাথে কৌটিল্যের এরচেয়ে ভালো ও জটিল দ্বন্দ্ব দেখার আশা করছি ভবিষ্যতে।
তবে সার্বিক বিচারে অত্যন্ত ভালো ও সংগ্রহে রাখার মতো বই।
চাণক্য সিরিজ আমার নিজের একটি খুব পছন্দের সিরিজ, আগের দুটো পার্ট পড়েছি আর নিজের মুগ্ধতা বর্ণনাও করেছি।। ২০২৫ বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছিল চাণক্য সিরিজ এর একটি স্পিন অফ একদা আর্যাবর্তে।। বইটিতে মোট ৪ টি বড় গল্প আছে, যা আপনাকে হত্যাশাস্ত্র পূর্ববর্তী ঘটনার বর্ণনা দেবে।। তাই এই বইটি ‘হত্যাশাস্ত্র’ বা ‘শরশাস্ত্র’ - এর spin-off হলেও এই গল্পগুলো স্বতন্ত্র ও স্বয়ংসম্পুর্ণ হয়ে উঠেছে।। এই বইটিতে চারটি বড়ো গল্প আছে, চারটি অধ্যায়ও বলা চলে এদের, কারণ পুরো বইটা জুড়ে একটিই গল্প হয়ে উঠেছে, এক অখন্ড উপন্যাস।।
ইতি বিষ্ণুপ্রিয়া — তক্ষশীলায় শিক্ষাগ্রহণ করছেন একইসাথে চাণক্য, শঙ্কুমণি ও কাত্যায়ণ।। শিক্ষাগ্রহণ শেষে তিনজনের আলাদা আলাদা জীবন নির্বাচন, তক্ষশীলা প্রধান ভদ্রভট্টের ভগিনী সুভাষিনীর সঙ্গে প্রেম ও বিচ্ছেদ, এবং নন্দ সাম্রাজ্যের রাজসভায় অপমানিত হন চাণক্য।। চাণক্যের প্রতিশোধ নেওয়ার কারণ এবং তার প্রস্তুতিপর্ব এই গল্পে বর্ণনা করা হয়েছে এই গল্পে।।
দৈবাস্ত্র — আচার্য্য চাণক্য এর ছয়জন শিষ্যের মধ্যে নেতা নির্বাচন করতে হবে, যাকে সবাই নিজের আগামী নেতা তথা রাজা হিসেবে মেনে নেবেন।। সেই উদ্দেশ্যেই প্রখ্যাত শিবের তরবারী চন্দ্রহাসের খোঁজে ছয় শিষ্যের যাত্রা, পথে বিপদ ও তার সমবেতভাবে মোকাবিলার মাধ্যমে এই গল্পটি নির্মিত হয়েছে।।
ইন্দ্রজিৎ — আলেকজান্ডার (অলকশেন্দ্র)-এর ভারতীয় সেনাবাহিনীর মধ্যে চন্দ্রগুপ্ত কিভাবে প্রবেশ করলো? তাদের যুদ্ধের কৌশল রপ্ত করে তাদের মধ্যে কি করে সমস্যা তৈরী করে, আলেকজান্ডার এর স্বপ্ন ভঙ্গ করে সেটাই উপজীব্য।।
অচ্যুতম্ রাক্ষসম্ — চাণক্য শিষ্য চন্দ্রগুপ্ত পাটলিপুত্র দখল করেছেন।। পূর্বতন নন্দ সম্রাট ধননন্দের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার আদেশ দিলেন চন্দ্রগুপ্ত।। কিন্তু চাণক্য ফিরিয়ে নিতে বললেন সেই আদেশ। কেন? কোন রহস্য লুকিয়ে আছে অতীতের গর্ভে? কিভাবে বন্ধু শত্রুতে রূপান্তরিত হয়ে যায়? কৌটিল্য - রাক্ষস যুদ্ধে সর্বদা কৌটিল্যই জিততে পেরেছিল?
পাঠ প���রতিক্রিয়া -
যারা ভালো গল্প আর ইতিহাসের ছোঁয়া চান, তাদের জন্য এই বই।। এই বইয়ের চারটি গল্প একই সূত্রে বাঁধা হলেও চারটি গল্পে ভেঙে দেওয়ায় গল্পের ভেতরের টাইমলাইন একটু জটিল হয়ে গেছে।। ইতিহাস ভিত্তিক কাহিনী, রাজনীতি এর কৌটিল্যের মত বুদ্ধিমান চরিত্রের জন্য লেখককে ধন্যবাদ।। চাণক্য সিরিজের প্রথম বইগুলোর তুলনায় এই বইটি অনেকটাই শিশুসুলভ মনে হয়েছে, তাতে লেখকের লেখনী অথবা কাহিনী কোথাও খর্ব হয়নি।। তবে সার্বিক বিচারে অত্যন্ত ভালো ও সংগ্রহে রাখার মতো বই।।
This books contains 4 interrelated back stories of Hatya Shastra Series. The stories are about Chanakya and his chosen disciple Chandragupta Maurya, before the establishment of the Maurya Empire... It questions some popular history of that period... The writing is top notch and fast paced
লেখক শ্রী অভিজ্ঞান গাঙ্গুলীর লেখা পূর্ববর্তী হত্যশস্ত্র থেকে আগেই আমরা মহামতি কৌটিল্য চাণক্যের অসাধারণ observation power, বিশ্লেষণী ক্ষমতা এবং শরশস্ত্র থেকে তার কূটনৈতিক বুদ্ধি আর সাম - দাম - দণ্ড - ভেদ নীতির অসাধারণ প্রয়োগের পরিচয় পেয়েছি। কিন্তু তা সম্পূর্ণ রূপেই চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য সিংহাসন আরোহণের পরবর্তী ঘটনা ।। "একদা আর্যাবর্ত" পাঠক দের নিয়ে গেছে অখণ্ড ভারত সৃষ্টির সেই গোড়ার কথায়, যেখান থেকে উঠে এসেছে শুধু চাণক্য বা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের ইতিহাস নয়, অখণ্ড ভারত গড়ে তোলার প্রত্যেক কারিগর ও তাদের সামনে উপস্থিত হওয়া বাধা বিপত্তির কাহিনী।। এক দুর্ধর্ষ লড়াই, অভিযান, থ্রিলার কাহিনী।। তবে তার সাথে romance ই বা বাদ যায় কেন! অর্থশাস্ত্র এর প্রণেতা, অখণ্ড ভারতের কারিগর চাণক্যের জীবনে ও প্রেম এসেছিল কখনও, একসময় স্বপ্ন দেখেছিলেন সাধারণ গার্হস্থ্য জীবনের।। এছাড়াও উঠে এসেছে একজন সাধারণ বালক থেকে অখণ্ড ভারতের প্রথম সম্রাট হওয়ার গল্পঃ।। তার জীবনেও আসে অসংখ্য চ্যালেঞ্জ। কখনও রাবণের দিব্যস্ত্র চন্দ্রহাস পাওয়ার অভিযান এবং তার মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা প্রদর্শন, কখনও বিশ্বজয়ী সম্রাট সিকান্দারের মোকাবিলা, কখনও বা মগধের অত্যাচারী শাসক ধানানন্দের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও যুদ্ধ।। Publisher:-@bookfarm7 মূল্য:- ৩৪৯ টাকা
সম্প্রতি পড়ে শেষ করলাম লেখক অভিজ্ঞান গাঙ্গুলীর লেখা চানক্য সিরিজের তৃতীয় বই একদা আর্যাবর্তে। এই তৃতীয় বইটিও একদম হতাশ করেনি। এখানে রয়েছে প্রাচীন ভারতের কথা । এক সাধারণ বালকের সম্রাট হওয়ার কথা । সাথে উপস্থিত লড়াই, ষড়যন্ত্র, বিশ্বাসঘাতকতা । সর্বপড়ি প্রেম, আর্চায চানক্যের জীবনে। এই সব কিছুর সমন্বয় একদা আর্যাবর্তে উপন্যাসটি এক কথায় অসাধারণ।
চাণক্য সিরিজের তৃতীয় বইটিও হতাশ করেনি। খুবই ভালো লেগেছে এবং অপেক্ষায় রইলাম চতুর্থ বইয়ের জন্য। এটা আগের দুটো পর্বের মত সাসপেন্স বা ক্রাইম থ্রিলার না হলেও সমান ভাবেই উপভোগ করার মতো বই। ♥️
২ দিনের মধ্যে পড়ে শেষ করলাম এই অসাধারণ বইটি।চানক্য সিরিজের স্পিনঅফ হল এই বইটি। মোট চারটি গল্পের মাধ্যমে চানক্য ও চন্দ্রগুপ্তের উত্থানের বিষয়টি এখানে তুলে ধরছেন লেখক। চানক্য সিরিজ পড়ে থাকলে এই বইটি অবশ্য পাঠ্য। •) ইতি বিষ্ণুপ্রিয়া :- এতে চানক্যের গোড়ার কথা এবং সুভাষিনী এর সঙ্গে তার প্রেমিক দিকটি তুলে ধরছেন লেখক। •) দৈবাস্ত্র :- এখানে চানক্যের সাথে কীভাবে চন্দ্রগুপ্তের দেখা হয় থেকে তার প্রশিক্ষণ এবং কীভাবে তিনি তাঁর ছয় শিষ্যের মধ্যে থেকে চন্দ্রগুপ্তকে ভবিষ্যত মগধের সম্রাট হিসেবে বেছে নিলেন তার ব্যাখ্যা রয়েছে। •) ইন্দ্রজিৎ :- এই কাহিনীতে কেন ও কীভাবে চন্দ্রগুপ্ত আলেকজান্ডারের সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে তাদের যুদ্ধ কৌশল রপ্ত করেন তার উল্লেখ আছে। •) অচ্যুতম্ রাক্ষসম্ :- এই কাহিনীতে অমাত্য কাত্যায়ন বা "রাক্ষস" কীভাবে চানক্যের পথের একমাত্র কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এবং চানক্যে কীভাবে পরাজিত করেছিলেন তার ব্যাখ্যা রয়েছে। সবশেষে ধন্যবাদ জানাই লেখক @abhigyan_insta কে এত সুন্দর বই লেখার জন্য। Book :- একদা আর্যাবতে Publisher :- Book Farm Author :- অভিজ্ঞান গাঙ্গুলি My Ratings :- 5/5
আর্যাবর্ত আজ অনেকটাই শান্ত। মগধের প্রজারাও ধন্য হয়েছে তাদের ভূমিপুত্রের উত্থানে, জং ধরে যাওয়া নন্দ সাম্রাজ্যকে সুকৌশলে গুঁড়িয়ে দিয়ে সিংহাসনের দখলে আজ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য, পাশে তাঁর চালিকাশক্তি পাঁচ গুরুভ্রাতা যাদের সম্রাটের পাঁচ বাহু বলাও চলে। তবে এদের সকলের খুঁটি বাঁধা একটা মগজে, যে মগজকে আগলে রেখেছে এক মুন্ডিত মস্তক, যার এক প্রান্তে ঝুলতে থাকা গৌরবময় কেশপুঞ্জের প্রতি তৎকালীন মগধ নরেশের বর্বরোচিত আচরণ জন্ম দিয়েছিল এক আগুনের, যে আঁচে পুড়েছে আরো অনেকে, চলেছে ভাঙা গড়ার প্রবল খেলা, আর এসবই শুরু, একদা আর্যাবর্তে।
বর্তমান পাঠক সমাজের মননে কৌতূহল অনেকটা বেশিমাত্রায় জায়গা পায়, যার থেকে তৈরি হয় প্রশ্ন সমূহ। কাজেই এই একই প্রশ্নপত্র লেখা হয়েছে চানক্য সিরিজের পাঠক মনেও, শুরুর হদিস পাওয়ার এক তীব্র বাসনা। এই বই লেখার অবতারণার নেপথ্যে যে লেখকের উত্তর দেওয়ার তাগিদ রয়েছে সেকথা অস্বীকার করার নয়। তাই কিছু উত্তর পেতেই আরো হাতে তুলে নিয়েছিলাম এই বই। ভাগ করে নিলাম পাঠ আলোচনা।
কাহিনীগুলো একক হিসেবে ধরে যেকোনো অর্ডারেই পড়া যাবে তবুও একটা আলাদা অনুভূতির থেকে বঞ্চিত না করার জন্যে ব্যক্তিগত ভাবে সাজেস্ট করবো শুরু থেকে শেষ পরপর যেতে। ফলত আলাদা করে কাহিনীর আলোচনায় গেলাম না, সামগ্রিক ভাবেই রইলো। এই বইয়ে জায়গা পেয়েছে ভারতীয় ইতিহাসের দুই গুরুত্বপূর্ণ উত্তরণ, যার দুই পর্বে যথাক্রমে আছেন এক কুরূপ ব্রাহ্মণ এবং এক কুলহীন বালক। প্রথম উত্তরণের স্বাদ পাওয়া যায় "ইতি বিষ্ণুপ্রিয়া" কাহিনীতে, ধীরে ধীরে পাঠক নিজেকে নিয়ে গিয়ে ফেলবে তক্ষশীলা�� প্রাঙ্গণে। মনস্তত্ত্বকে এই কাহিনীতে যথেষ্ট যত্ন নিয়ে জায়গা দেওয়া হয়েছে, সামনে আনা হয়েছে সুভাষিণী নামের এক বিস্মৃত চরিত্রকে। এই কাহিনীর ফাঁকে একটা মস্ত বড় টাইম জাম্প করা হয়েছে, যাদের পুষিয়ে দেবে পরবর্তী কাহিনীর দল। পাঠককে অনেকটা বেশ এনগেজ করে, নাটকীয়তার পারদকে অনেকটা চড়িয়ে এগোতে থেকেছে "দৈবাস্ত্র", পরতে পরতে ধাক্কাগুলো পাঠককে নাড়িয়ে দেওয়ার জন্যে যথেষ্ট। অলকশেন্দ্র বাহিনীর সমগ্র ভারত আক্রমণ না করেই ফিরে যাওয়ার কথা অনেকবার সামনে এসেছে, তারই এক জীবন্ত উত্তর দিয়েছে "ইন্দ্রজিৎ" এবং সব শেষে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ছুটি নিয়েছে রক্ত, স্নায়ুকে অধিনায়ক করে এই যুদ্ধ ফের ভেঁপু বাজিয়ে নিজের সমাপ্তি ঘোষণা করেছে, সাক্ষী থেকেছে "অচ্যুতম্ রাক্ষসম্"। প্রতিটা লেখায় মিশে আছে ইতিহাস, সঙ্গত কারণে যার অধিকাংশই কল্পনা। কল্পনাকে আগে নির্বাচন করা, ফের তার অনুপাত স্থির করা, এবং সব শেষে লেখায় যোগ করা এক আস্ত শিল্প, আর ঠিক এখানেই অনেকটা সফল হয়েছেন লেখক। লেখাগুলোক অনেকাংশে ফিকশনাল হিস্ট্রি বললে অত্যুক্তি হবেনা। তবে ইতিহাস নিয়ে কোনো ছেলেখেলা এখানে জায়গা পায়নি, নেই কোনো ক্লান্তি। ভাষার অলঙ্করণে আবারও এক নিদারুণ আমেজ গড়ে তোলা হয়েছে অথচ সবটাই শেষে খুব সহজ থেকেছে। ইতিহাস আর তার চরিত্রদের বৈঠকখানায় এনে ফেলা হয়েছে। প্রতিটা কাহিনী কিছু ক্যারেকটার গ্রাফ আঁকার দায়িত্ব নিয়েছে যেখানে জায়গা পায়নি কোনো অতি রঞ্জিত চরিত্রায়ণ আর তাই হয়তো শশাঙ্কর সাথে আমরাও ভাবি যে কৌটিল্য আর রাক্ষস আদৌ কি ভিন্ন? আর এভাবেই চরিত্র অন্বেষণ এই বইয়ের এক প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে থেকে গেছে। আলাদা করে মনে রাখতে হয় কৌটিল্য - রাক্ষস স্নায়ু যুদ্ধের সময়ে লেখকের এক বাক্য চয়ন, "রাক্ষসের মস্তিষ্ক চালনার যান্ত্রিক শব্দ"। খিচুড়ির উপমা মনে গেঁথে যাওয়ার মতোই আর এভাবেই কোনো চরিত্রের ভূমিকাকেই হালকা রাখেননি লেখক। প্রতিটা চরিত্রের একে অপরের সাথে সম্পর্কের সমীকরণ মুগ্ধ করেছে।
এই বই থেকে আমার বিশেষ কোনো অভিযোগ নেই। শুধু কিছু কথা বলে যাই। শুরুতেই আর্যাবর্তের একটা মানচিত্র পাওয়া গেলে ভালো হতো। ভদ্রভট্টের বিবাহের অংশে বাক্য গঠনে ত্রুটি থেকে গেছে যা পড়তে বিশেষ ভালো লাগছেনা। যবন, ইত্যাদি শব্দগুলো ইন্দ্রজিৎ কাহিনীর আগেই এসেছে কাজেই সেখানেই টিকাকরণ থাকলে ভালো হতো। কিছু জায়গায় চন্দ্রগুপ্ত বাদে ছয়জন কিশোরের উল্লেখ আছে কিন্তু আসলে আচার্যের গেরিলা বাহিনীতে চন্দ্রকে নিয়েই মোট ছয়জন। শকুনিকে আরেকটু জায়গা দেওয়া যেতে পারতো। চাণক্যর জাদু বিদ্যার উল্লেখ থাকলেও তার নিদর্শন কিছুটা সামনে এলে পারতো বিশেষ করে অর্থনৈতিক মন্দার প্রসঙ্গে কারণ সকলের কনক শাস্ত্র পড়া নাও থাকতে পারে। এছাড়া অনেক জায়গায় বর্ণস্থাপনের ত্রুটি থেকে গেছে।
বুকফার্মের প্রোডাকশন খুব ভালো, একইরকম আকর্ষণীয় শ্রী গৌতম কর্মকারের অলঙ্করণ যা প্রত্যাশিত। বিশেষ করে প্রচ্ছদ আর গ্লসি জ্যাকেটের প্রশংসা করতেই হয় যা ছুঁয়ে বেশ আরাম লাগে।
কিছু কল্পনা অনেকটা চেনা হয়ে থেকে গেলো, তা সে দেশের অন্য যুগের ইতিহাস হোক অথবা কোনো গ্রাফিক নভেল। বেশ উপভোগ করেছি সেসব। শেষ করার আগে একটা বিখ্যাত চলচ্চিত্রের সংলাপ ধার করে বলে যাই, "বারবার বললে এক গল্প আর এক গল্প থাকেনা, পাল্টে পাল্টে যায়!" আর্যাবর্তের ইতিহাস আজও প্রাসঙ্গিক, প্রাসঙ্গিক এই যুদ্ধনীতি, বর্তমানের জং ধরা এক সাম্রাজ্যের বিনাশ আমরা অনেকেই চাই, কিন্তু সমাজে এক প্রকৃত বিষ্ণুগুপ্তের অভাব, এই আরকি। তাই জীবনের ময়দানে অনেক শিক্ষা দিয়ে যায় এই বই। একক উপন্যাসের দিকে না ঝুঁকে একটা ইতিহাসকে আলাদা খন্ডে ভেঙে, টাইমলাইন নিয়ে অনেকটা খেলে এই পরীক্ষা বেশ আকর্ষণীয় হয়ে রইলো। পাঠ শুভ হলো।
চাণক্য সিরিজের অন্যতম , এটি হত্যাশাস্ত্র এবং শরশাস্ত্রের প্রিকুয়েল। এটি কোনো উপন্যাস নয় , বরং 4 টি বড় গল্পঃ আছে এই বইটিতে। এখানে চাণক্য এবং চন্দ্রগুপ্তের পূর্বের পরিচয় পাওয়া যায় । অনেকক্ষেত্রেই কল্পনার আশ্রয় নিয়েছেন লেখক , কারণ ইতিহাসের এই অধ্যায়ের অধিকাংশই অজানা , কিন্তু লেখনীর গুণে বইটি অত্যন্ত সুখপাঠ্য।
চাণক্য সিরিজের প্রথম দুই বইয়ের তুলনায়, এই স্পিন অফ (লেখকের মত অনুযায়ী) কম জমাটি। ওয়ান টাইম রিড হিসেবে ঠিক আছে। শেষ গল্পটিই সর্বোত্তম। প্রথম তিনটি খানিক শিশুতোষ। চাণক্য সিরিজের তৃতীয় বইটির জন্য অপেক্ষা রইল বরং। চন্দ্রগুপ্তের কিংবদন্তি অনুযায়ী পরের ভাগ বেশ হার্ড হিটিং হওয়া উচিৎ।
"একদা আর্যাবর্তে" বইটি পড়া যেন এক ঐতিহাসিক যাত্রা, যেখানে পাঠক সময়ের স্রোত পেরিয়ে চলে যান প্রাচীন ভারতবর্ষের কূটনীতি, রাজনীতি এবং গভীর সামাজিক টানাপোড়েনের ভেতর। অভিজ্ঞান গাঙ্গুলীর এই চাণক্য সিরিজের প্রিকুয়েলটি একটি স্বাধীন উপন্যাস হিসেবেও অনায়াসে দাঁড়িয়ে যায়।
গল্পের শুরু থেকেই একটি টান টের পাওয়া যায়। ভাষা খুব সহজ এবং সাবলীল, ফলে ইতিহাসভিত্তিক হলেও কখনোই ভারী বা ক্লান্তিকর মনে হয় না। চরিত্রগুলো জীবন্ত, গভীর এবং বুদ্ধিদীপ্ত। প্রতিটি চরিত্রের মধ্যে রয়েছে বাস্তবতার ছাপ—তারা নিখুঁত নয়, বরং তাদের সিদ্ধান্ত, দ্বন্দ্ব আর কৌশলের মধ্যেই গল্প এগিয়ে যায়।
বিশেষ করে প্রাচীন ভারতের গুরু-শিষ্য সম্পর্ক, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, ও বিদ্যাচর্চার পরিবেশ এত সুন্দরভাবে আঁকা হয়েছে যে, পাঠকের মনে হয় তিনি যেন নিজেই সেই সময়ের একজন অংশ হয়ে উঠেছেন। লেখকের বর্ণনায় ইতিহাস আর কল্পনার মিশেল এতটাই নিখুঁত যে কোথাও আলাদা করে বোঝার প্রয়োজন পড়ে না।
বইটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো লেখকের গল্প বলার ধরণ। কোথাও বাড়াবাড়ি নেই, আবার কোথাও গুরুত্ব হারানোর মতো দুর্বলতাও নেই। প্রতিটি অধ্যায় শেষে কৌতূহল আরও বাড়ে। ইতিহাস আর কল্পনার এমন মিশ্রণ খুব কম লেখায় দেখা যায়। বইটা পড়ার পর শুধু গল্প নয়, সেই সময়টার গন্ধও যেন মনের ভেতর রয়ে যায়।
যারা ভালো গল্প আর ইতিহাসের ছোঁয়া চান, তাদের জন্য এটি একদম পারফেক্ট পছন্দ। ইতিহাসভিত্তিক কাহিনি, চরিত্রনির্ভর গল্প এবং কৌশলী রাজনীতির পটভূমি ভালোবাসেন, তাদের জন্য “একদা আর্যাবর্তে” নিঃসন্দেহে একটি অসাধারণ অভিজ্ঞতা।