Sanjib Chattopadhyay (Bengali: সঞ্জীব চট্ট্যোপাধ্যায়) (born February 28, 1936 in Kolkata) is a Bengali novelist and writer of short stories. His style is characterised by use of short satirical sentences mixed with very lively language.
Childhood and education: Sanjib Chattopadhyay spent his childhood in the hilly terrain of Chota Nagpur Plateau under the care of his father after his mother died when he was five. They relocated to Calcutta and he was admitted to Victoria Institution school which he joined at grade seven. He later went to Scottish Church College, Calcutta where he studied chemistry.
Work: The subjects of his fiction are mostly families living in Calcutta city. Within the confines of these homes, he challenges the moral values of the fast-changing middle class of the city. Chattopadhyay frequently uses old men as his protagonists. These aged characters create the spiritual and philosophical edge found in his novels Lotakambal (The Blanket and Quilt) and Shakha Prasakha (Branches). His most famous novella Swetpatharer tebil (The Ivory Table) is an example of his characteristic style of story-telling which mixes tension, dilemma, curiosity, pity, humor, and satire. He has written fiction for children and continues to write for magazines and newspapers. Chattopdhyay current writing is related to Ramkrishna Paramhansa, Sarada Devi and Swami Vivekananda. Some of his major works apart from the above mentioned are: পরমপদকমলে (At His Divine Feet) ক্যান্সার (Cancer) দুটি চেয়ার (Two Chairs) রসেবশে রাখিস মা রসেবশে বেশ আছি রসেবশে তুমি আর আমি (You And I) একে একে (One By One) কলিকাতা আছে কলিকাতাতেই (Calcutta Is In Calcutta) Apart from that his notable juvenile literature includes রুকু-সুকু, বড়মামা-মেজমামা series which are fun-filled and analyse various philosophical aspects of life through the eyes of children.
Awards: Chattopadhyay is the recipient of the Ananda Puraskar in 1981 and the Sahitya Academy Award for his book শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন in 2018.
সরস, অনাবিল, নির্ভেজাল ভালো লাগা। এ যেন এক রূপকথার গল্প। তবে এ গল্পে রাক্ষস-খোক্ষস নেই, রাজা-রানী রাজপুত্তুর নেই, নেই কোনো রণাঙ্গন বা দৈত্য নিধন পালা। তবে এ গল্পে ম্যাজিক আছে। আছে সদাহাস্যময় সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের শিশুসুলভ সত্ত্বার চিরনবীন বহিঃপ্রকাশ। আর আছে এক ছিপি, নিষ্পাপ রসবোধ। টনিকের ন্যায় যেটা খেয়ে রুকু-সুকুর মতন পাঠকদেরও শুধিয়ে উঠতে হয়,
"কেমন করে ছোটই থাকা যায়, আমরা আর বড় হতে চাই না।"
তাই ভাবি, বই এর মানুষগুলো এত সুন্দর ও ভালো হয় কেন? সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের বই পড়লে মনে হয় যেন এক প্যারালাল ইউনিভার্সে ঢুঁকে পড়েছি, যেখানে রুকু-সুকু, বাবা-মা, দাদু, রেবেকা, দুখিয়ার মত ভালো মানুষগুলো আছে। ইশশ! আমিও যদি সেই জগতের একজন মানুষ হতে পারতাম!
"আমাদের আর বড় হয়ে দরকার নেই,বড় হলেই মানুষ বুড়ো হয়ে যায়,বুড়ো হলেই জীবনটা যেন কেমন হয়ে যায়.মা থাকে না,বাবা থাকে না, কেউ থাকে না.হঠাৎ একদিন মরে যায়,আয় আমরা যেমন আছি তেমনই থাকি"
বড় হওয়াটাকে বন্ধ করে ছোট থাকাটাকে কে কি কোনো ভাবেই আটকে রাখা যায় না?!
হয়তো আমার সারাজীবনের আক্ষেপ থাকবে এই বইটা শৈশবে পড়িনি বলে। কেউ একজন বলেছিলেন একটা বই শৈশবে, যৌবনে আর বার্ধক্যে একবার করে পড়তে হয়। তাহলেই প্রকৃত রসাস্বাদন করা যায় মনে হয়। আমি যখন পড়লাম বাইরে তখন গ্রীষ্মের ফুটিফাটা রোদ, বাতাসে মৃত্যু ভাইরাসের হানা। এই কয়েক বছর মৃত্যু যেভাবে নাড়া দিচ্ছে বোধকরি আগে কখনো বুঝিনি। একমাত্র মৃত্যুই পারে বোধহয় মানুষকে একধাক্কায় বড়ো করে দিতে। যেমন রুকু - সুকু বড়ো হয়ে গেল না চাইতেই; পাহাড়ের কোনো গ্রামে সূর্য ওঠা আর অস্ত যাওয়া দেখতে দেখতে। রুকু - সুকু বড়ো হতে একদম চায়নি। তারা জানতো বড়ো হয়ে গেলেই বুড়ো হতে হয়। আর ফেলে আসতে হয় ভালোবাসার মানুষকে, বাড়িকে, শৈশবের পোষ্য গুলিকে। আমরা বড়ো হলেই আমাদের মনটা ছোটো হয়ে যায়। তখন পাখির ডিম দেখতে ইচ্ছে করেনা, ফড়িঙের লেজে সুতো বেঁধে ওড়াতে ইচ্ছে করেনা। এরকম বড়ো হতে কে চায় যেখানে বড়রাই চলে যায় একে একে? বইটা শেষ হলে মনে হয় আবার শুরু করি। যখন সন্ধ্যে হলে সত্যিকারের অন্ধকার হত এমন দিনে ফিরে যাই আবার। মেঘ যখন সত্যি সত্যিই নেমে আসতো জানালার পাশে..
নস্টালজিয়াকে রেটিং দেওয়া যায়? আকাশ ভরা তারাও তো কম পড়বে!
এই বইটা ছোটবেলায় পড়লে হয়ত আরেকটু সুন্দর করে ছেলেবেলাটা কাটাতে পারতাম। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে মা-বাবা, ভাই-বোনসহ মিষ্টি একটা জীবন কাটাতে না পারার আফসোস আগে ছিল। এখন আর নেই।
জানি যে জীবনে সব পাওয়া যায়না। তবু শৈশবের সেই সোনামাখা নির্ভার দিনগুলি আর আসবেনা ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেলি। জীবনটাকে আমার আজকাল ফাঁদ মনে হয়। বড় হয়ে গেছি বলে এখন শুধু দেখি এখানে নানারকম সমস্যা। একটাদিন অলস বসে থাকার উপায় নেই। টাকা উপার্জন চাই। সব্বাইকে খুশি রাখা চাই। ক্যারিয়ার চাই। দুটো দিন নির্ভার থাকার জো নেই। মন চাইলেই ঘুরতে বেড়িয়ে পড়া যায়না।
রুকু-সুকুদের মতন একটা জীবনের সাধ করিনা আর। কারণ সে জীবনটাও যে চিরস্থায়ী না। একটু বড় হলেই হাজারো সমস্যা ডানা মেলে আমাদেরকে কাবু করতে থাকবে। এরপর একদিন হুট করে সব ফেলে চলে যাওয়া। কেমন হতাশাবাদী হয়ে যাচ্ছি আজকাল।
এমন স্বচ্ছ সুন্দর স্নিগ্ধ নরম আদরমাখা গল্প বাচ্চাদের দিন আরেকটু রাঙাবে এই প্রত্যাশা। আমার ভাগ্নে-ভাগ্নীদের পড়তে দিতে হবে।
পুরোনো দিনের কথা মনে পড়ে? ছোটবেলা, গল্পের বই, আরামকেদারা, একা বা ভাই-বোন, বাবা বাইরের কাজ সামলায়, মা ঘরের সমস্ত দায়িত্ব পালন করে।
হঠাৎ করে হাজির দাদু, বৃদ্ধ বয়সে। মেয়ের কাছে আসে জীবনের বাকি সময় কাটাতে। দুই ভাই রুকু আর সুকু খুব খুশি দাদুকে পেয়ে। দাদুর পিছন পিছন চলে আসে দাদুর আর্মি বন্ধু। রুকু-সুকুর কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত লোকটি কিছুক্ষণের মধ্যেই বন্ধু হয়ে ওঠে, তাদের বাবা-মাও স্বাগত জানায় এনাকে, আজকাল যা ভাবা যায় না।
“ফাদার, কেমন করে ছোটই থাকা যায়, আমার আর বড় হতে চাই না।” “হোয়াই, কেন তোমরা বড় হতে চাও না?” “বড় হলেই মানুষের দুঃখ হয়, অসুখ হয়, মারা যায়, হারিয়ে যায়।”
কি মিষ্টি একটা বই! সুনীলের বইতে পড়া সেই ডালটনগঞ্জ.. সেই পাহাড়ের কোল ঘেঁষে আদুরে এক বাড়ি.. মায়ের হাসি,বাবার আদর আর ছোট্ট দুটো দেবশিশু.. পাতায় পাতায় মায়া ছড়ানো বই 🧡