আছে এক ভাতের হোটেল। তবে, তা স্রেফ নামেই। বাংলা সাহিত্যের আর পাঁচটা ভাতের হোটেলের মতো এই হোটেল নয়। এই হোটেল যত না অদ্ভুত, তার চেয়ে বেশি অদ্ভুত খোদ হোটেলের মালিক আওলাদ মিয়া। তিনি কে? এক পৃথুলদেহী ভাতের হোটেল ব্যবসায়ী, যাঁর মুখে কাঁচা-পাকা চাপদাড়ি আছে। যিনি কিনা বছরের একটা দিন সম্পূর্ণ অচেনা লোকদের নিয়ে গল্পের আড্ডা বসান। জীবনের অদ্ভুত, অব্যাখ্যাত ও অস্বাভাবিক গল্পটি শোনানোর জন্য আওলাদ আবদার করেন। আদতে লোকের কাছে কোন জমজমাট গল্পের সন্ধান করছেন আওলাদ মিয়া? বইয়ের পাতায় এর উত্তর আছে।
গল্পের খোঁজে আওলাদ মিয়া ভাতের হোটেলে আটকে পড়া মানুষের আড্ডা বসান, নামেন আজব অভিযানে, হানা দেন বড়োলোকের ড্রয়িং রুমে কিংবা নিজেই বনে যান গল্পের মুখ্যচরিত্র। অতিপ্রাকৃত, অলৌকিক, আধিভৌতিক উপাখ্যানগুলোতে বার বার ফিরে এসেছে বাঙালির ভুলে যাওয়া ইতিহাস। গল্পগুলো নেহাত থ্রিলার সাহিত্যের বাইরে পাঠকের মনে ভাবনার নতুন খোরাক জোগালে এই আয়োজন সার্থক হয়ে উঠবে। অ্যাডভেঞ্চার, উত্তেজনা ও রহস্যের বারুদে ঠাসা অদ্ভুতুড়ে ভাতের হোটেলের মজলিশি গল্পের আসরে পাঠককে স্বাগতম।
নিয়াজ মেহেদীর জন্ম রংপুরের বেনীপুর গ্রামে, ২৯ আগস্ট ১৯৮৯ সালে। মা-বাবার জ্যেষ্ঠ সন্তান নিয়াজের হাতেখড়ি পত্রিকার ছোটদের পাতায় লিখে। একসময় লেখালিখি ভুলে গিয়েছিলেন। প্রত্যাবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান তাঁর অনুজ নাবিল মুহতাসিম ও অগ্রজ লেখক মশিউল আলমের। ২০১৮ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম উপন্যাস আওলাদ মিয়ার ভাতের হোটেল বিপুলভাবে সমাদৃত। এরপর লিখেছেন উপন্যাস আড্ডা দেওয়া নিষেধ ও ধাঁধার থেকেও জটিল। ছোটগল্পের দুটি বই বিস্ময়ের রাত ও মর্কট মঞ্জিল। তাঁর ছোটগল্প প্রকাশিত হয়েছে প্রথম আলো, রহস্য পত্রিকা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, বণিক বার্তা ও কিশোর আলোর পাতায়।
"We are all characters of a film which is running till the end of this world and the best part is oneday we are all forgotten"
সদ্য পড়ে শেষ করলাম লেখক নিরাজ মেহেদীর লেখা বুক ফার্ম থেকে প্রকাশিত "অদ্ভুতুড়ে ভাতের হোটেল" , পূর্বে প্রকাশনা সংস্থার নির্ধারিত একটি ফেসবুক পোস্টে সেরা কমেন্টধারী হওয়ার সুবাদে, নির্বাচিত বিজয়ী হিসেবে এই বই হাতে আসার পর বেশ কিছুদিন সময় নিয়ে বইটি পড়তে হয়েছে , বর্তমান পরিস্থিতির প্রভাব (সেটা না হয় লিখলাম না) সবার মতোই আমার মধ্যেও পড়েছে তবে তার জন্যে কোনো লেখাকে খারাপ ভালো বিচার করার ক্ষেত্রে অবিবেচকের মত হঠকারী প্রতিক্রিয়ার শিকার হতে দেওয়াটা সমীচীন যেন মনে না হয় তাই এই ধীরে সুস্থে পড়া।
💥 বইটির পরিচয় - পলাশবাড়ী ছোট্ট শহর , আর সেই শহরেই রয়েছে একটি ভাতের হোটেল । আর পাঁচটা ভাতের হোটেলের মতো হলেও এই হোটেলের মালিক কিন্তু একটি অদ্ভূৎ চরিত্র ।।নাম - আওলাদ মিয়া কে তিনি ? কেন তিনি অদ্ভুত তা বই পড়লেই জানা যাবে। বাংলা সাহিত্যে গল্প বলিয়ে চরিত্রের অভাব নেই ,কিন্তু গল্প শুনিয়ের ক্ষেত্রে কিন্তু খুব বেশি দাবিদার নেই।। সেই ক্ষেত্রে আওলাদ মিয়া কিন্তু "one of the perticular peculiar" ক্যান্ডিডেট ।।
💥 বইটিতে মোট পাঁচটি গল্প রয়েছে ১) অদ্ভুতুড়ে ভাতের হোটেল - যা পাঁচটি সম্পূর্ণ ছোট গল্প সংকলনের মত ক্রোনোলজিকাল ।। এবং বইয়ের মূল চরিত্রের সাথে পাঠকের পরিচয় পর্ব বলা যায়। ২) মর্কট মঞ্জিল - এটি একটি স্বতন্ত্র গল্প হলেও , মুখ্য চরিত্রের মত পাঠকরাও এই অদ্ভুত গল্পের সাক্ষী হবেন পড়া চলে কালীন। ৩) মরুয়ার দহ আবিষ্কার - আওলাদ মিয়ার জীবনের একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধর্মী অভিজ্ঞতা ।। যা বই পাঠকদের আওলাদ মিয়া চরিত্রটি সম্পর্কে আরও গভীরে গিয়ে পর্যালোচনা করা সুযোগ দেয়। (কেন সুযোগ শব্দটি লিখলাম সেটা বিস্তারিত পড়ে লিখছি ) ৪) পয়সা টকিজ ও ৫) বাউুরা কর্তার বন্ধু (বড় গল্প)
পাঠ প্রতিক্রিয়া - বাংলাদেশে আওলাদ মিয়ার ভাতের হোটেল নামে প্রথমে আত্মপ্রকাশ করলেও বুক ফার্ম লেখক নিয়াজ মেহেদি সৃষ্ট আওলাদ মিয়ার সব গল্প গুলিকে সংকলনের আকারে "অদ্ভুতুড়ে ভাতের হোটেল নামে" প্রকাশ করার পর ইচ্ছে ছিল বইটি পড়ার , যথারীতি সেই সুযোগ বুক ফার্ম গল্প বইয়ের নামের মতোই অদ্ভুত ভাবেই করে দেয়।।
কিছু কিছু বই থাকে যার শুরুতে ভালো লাগে এবং যথেষ্ট কৌতূহল উদ্দীপক হয়েও কোথাও গিয়ে মনে হয় আরে "ধুর" এত গাল গল্প কিয়ের লাইগ্যা আওরাই তাছি , হুদাই সময় নষ্ট ।। তারপর আবার মনে হয় আরে না না ঠিকই আছে , গল্পের থিম টাই অদ্ভুত যখন গল্প গুলাও তো ঐরকম হওয়ারই কথা।। তারপর যখন বই শেষ করে উঠি তখন মনে না ভালই আছিল অকারণে নাক কান চুলকাইয়া মুখ খানিরে ডিস্টার্ব না করলেই নয়।।
পৃথক ভাবে যদি বলি তাহলে বাউরা কর্তার বন্ধু , মরুয়া দহ আবিষ্কার দুর্দান্ত লেগেছে তারপর যথাক্রমে বাকিরা স্থান পাবে।। মর্কট মঞ্জিলের মত গল্প আগে পড়িনি,এরকম পিকুলিয়ার বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে যে একটা গল্প পড়বো আবার সেটা ভালো ও লাগবে এটা সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ছিল।। লেখকের লেখার আর ভাবনার তারিফ করতে লাগে সেই ক্ষেত্রে।। মাঝে মাঝে মনে হয়েছে কেউ বাস্তবের মাটি দিয়ে রূপকথার আজগুবি গল্প বানিয়েছে ।। মরুয়ার দহ আবিষ্কার গল্পটি অলৌকিকতার আদলে একটি সম্পূর্ণ আলদা সামাজিক গল্পের মত , ঠিক যেমন বাউড়া কর্তার বন্ধু গল্পে বাংলার ইতিহাসে যমুনার খন্ড চিত্র থেকে স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সামাজিক জীবন ও দেশের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে একটি সম্পূর্ণ অন্য আঙ্গিকের গল্প,কি নেই সেই গল্পে যারা পড়বেন পরর্বতী কালে তারা বুঝতে পারবেন , কতটা ভালোভাবে এই গল্পটি লেখা হয়েছে।।।
💥 তবে বইয়ের নাম ও মুখ্য চরিত্রের পরিচয় পর্ব হিসেবে যে ছোট গল্পের আসর বসেছে ,তার মধ্যে দুটি অত্যন্ত দুর্বল লেগেছে।। আরও ভালো কিছু আশা করেছিলাম , কোথাও গিয়ে স্বাদ নষ্ট করে দেওয়ার মত ।। মোটের ওপর এপার বাংলার পাঠকরা যদি তান্ত্রিক , ক্রাইম , মেডিকেল ,সামাজিক রাজনৈতিক থ্রিলার পড়ে পড়ে মুখের স্বাদ বিষাদ করে ফেলেছেন বলে মনে হয় তবে একবার পড়ে দেখতেই পারেন।।