Jump to ratings and reviews
Rate this book

শার্লকস্রষ্টা এবং বিষের কাঁটা

Rate this book
|| ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে জোড়া রহস্যের তদন্তকথা ||

একদিকে এডওয়ার্ডিয়ান ব্রিটেন, অন্যদিকে ঔপনিবেশিক শাসনের শেষলগ্নে থাকা ভারতবর্ষ। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, বাস্তব চরিত্র আর চাঞ্চল্যকর রহস্যের মেলবন্ধনে দুটি চমকপ্রদ সত্য কাহিনী নিয়ে হাজির এই বই। প্রথম ভাগে রয়েছে শার্লকস্রষ্টা স্যার আর্থার কোনান ডয়েলের এক দুঃসাহসী রহস্যভেদের গল্প, যেখানে ব্রিটেনের বর্ণবিদ্বেষী প্রশাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তিনি এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুবককে ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে তৎপর হয়েছেন। আসল সিরিয়াল কিলারকে সনাক্ত করতে বাস্তবের শার্লক রূপে স্বয়ং তদন্তে নেমেছেন৷ দ্বিতীয় কাহিনীতে উঠে এসেছে এক জমিদার পরিবারের অন্তর্দ্বন্দ্বের রক্তরাঙা ইতিহাস৷ সম্ভাব্য প্রথম জৈব অস্ত্রের ব্যবহার বিশ্ব জুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করতে চলেছে, ঘুম কেড়ে নিয়েছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দাবিভাগের। অতীতের মহামারীর আতঙ্ক আবার গ্রাস করছে কলকাতাকে৷

বাস্তবের তদন্তকথা কীভাবে সত্যিকারের গোয়েন্দা উপন্যাস হয়ে উঠতে পারে, তা জানতে হলে চলুন পৌঁছে যাই বিংশ শতাব্দীর সূচনালগ্নে।


|| শার্লকস্রষ্টা এবং ওয়ার্লি রিপারের রহস্য ||

বিংশ শতাব্দীর সূচনালগ্ন৷ ইংল্যন্ডের গ্রেট ওয়ার্লি গ্রামে হঠাৎ শুরু হল এক নারকীয় হত্যালীলা৷ নিশুতি রাতের অন্ধকারে একের পর এক ঘোড়ার পেট চিরে রেখে দেয় কেউ৷ এদিকে গ্রামের প্রাচীন চার্চ সংলগ্ন ভিকারেজে ব্রিটেনের প্রথম ভারতীয় ধর্মযাজকের পরিবারের উদ্দেশে আসতে শুরু করে হুমকি চিঠি৷ সত্যান্বেষণে নামলেন শার্লকস্রষ্টা স্বয়ং স্যার আর্থার কোনান ডয়েল৷ তিনি কি পারবেন আসল 'ওয়ার্লি রিপার'-কে খুঁজে বের করতে?


|| চর্মভেদী বিষের কাঁটা ||

১৯৩৩ সাল৷ ইস্ট ইন্ডিয়া রেলওয়ের ব্যস্ততম হাওড়া স্টেশনে খদ্দরের ময়লা চাদর জড়ানো লোকটার দৃষ্টি স্থির৷ চাদরের আড়ালে ধরে থাকা জিনিসটা যেভাবে হোক বিঁধিয়ে দিতে হবে সামনের ব্যক্তির শরীরে৷ বিত্তবান জমিদার পরিবারে দুই ভাইয়ের দ্বৈরথে ছেদ টানতে নিখুঁতভাবে পরিকল্পিত মার্ডার অচিরেই আলোড়ন ফেলবে গোটা বিশ্বজুড়ে৷ কলোনিয়াল কলকাতা আর বোম্বাইয়ে ফিরে আসবে অতীতের ভয়ঙ্কর এক জীবানুর আতঙ্ক৷ কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা কি পারবেন সম্ভাব্য প্রথম জৈব অস্ত্রের সেই জটিল রহস্যের সমাধান করতে?

416 pages, Hardcover

Published January 1, 2025

10 people want to read

About the author

Arijit Ganguly

3 books31 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
5 (100%)
4 stars
0 (0%)
3 stars
0 (0%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 4 of 4 reviews
Profile Image for Agnibha Kundu.
Author 1 book2 followers
March 23, 2025
শার্লকস্রষ্টা এবং বিষের কাঁটা
অরিজিৎ গাঙ্গুলি
অন্তরীপ পাবলিকেশন
৪৯৫ টাকা
(৪১০ পৃষ্ঠা হর্ডবাউন্ড)
______________________________________

দুর্দান্ত একটা বই! এতটাই আকর্ষণীয় ডকুফিকশন যে অফিসপথের লম্বা ট্রেনজার্নিতে গোগ্রাসে গিলে খতম করে তবেই স্বস্তি পেয়েছি! লেখকের গল্প বলার ভাষা ঝরঝরে না হলে ছয় বা সাড়ে ছয় ঘণ্টার মধ্যে এত বড় বই শেষ করতে পারা অসম্ভব।

বইয়ে দুটো উপন্যাস। প্রথমটা শার্লকস্রষ্টা ও ওয়ার্লি রিপারের রহস্য। দ্বিতীয়টা চর্মভেদী বিষের কাঁটা। দুটো উপন্যাসের ভিত্তি দুইটি সত্য অপরাধের ঘটনা। গল্পের থ্রিলের তাগিদে কিছু সংলাপ সংযোজন এবং ঘটনার ননলিনিয়ার বর্ণনার ধরন বাদ দিলে ঘটনার দিনকাল, চরিত্র এবং কেস প্রসিডিংস সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত বলে লেখক নিজের কৈফিয়তে জানিয়েছেন।

প্রথম উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জর্জ ইদালজি। জর্জের বাবা গ্রেট ওয়ার্লি গ্রামের চার্চের ধর্মযাজক হলেও তারা এককালে ছিল গুজরাটের পার্সি সম্প্রদায়ভুক্ত। বিংশ শতকের শুরুতে তখন ইংল্যান্ড জাতিবিদ্বেষের জাজ্জ্বল্যমান পটভূমি। জর্জের পরিবারের হাড়-মাস সেই জাতিবিদ্বেষের আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়ার সত্য কাহিনী পরপর লিখে পাঠককে অস্থির করে তুলেছেন লেখক। এহেন জীবনযুদ্ধে ভয়ংকররকম কোণঠাসা হয়ে পড়া জর্জের পাশে হঠাৎ দেবদূতের মত উপস্থিত হলেন স্যার আর্থার কোনান ডয়েল। তাঁর ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টে নড়েচড়ে বসলো ইংল্যান্ডের তৎকালীন সোজা শিরদাঁড়ার মানুষজন। সে দেশের সরকারের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা প্রতিবাদ কতটা দানা বাঁধলো এবং ঘটনাটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বুঝতে হলে উপন্যাসটি মাস্ট রিড!

দ্বিতীয় উপন্যাসে দানা বেঁধেছে পাকুড়ের পান্ডে জমিদারবাড়ির সম্পত্তি নিয়ে টানাপোড়েনের ঠান্ডা-গরম যুদ্ধের আবহ। হিমশীতল মানসিকতায় ব্রিটিশভারতে বায়োলজিক্যাল ওয়েপন ব্যবহার করে ভিড়ে ঠাসা হাওড়া স্টেশনে রোমহর্ষক খুনের ছক নিয়ে সত্যি ঘটনা গায়ে কাঁটা ধরাবে শিওর! গল্পের সুতো পাকুড়, কলকাতা হয়ে সুদূর বম্বে পর্যন্ত জট পাকিয়েছে। বাঙালি সাব ইন্সপেক্টর শরৎচন্দ্র মিত্রের মুন্সিয়ানা এবং সমানে সমানে টক্কর দেওয়া ক্রিমিনালবাহিনীর কার্যকলাপ গল্পের থ্রিল বাড়িয়েছে প্রতি পরতে। লেখক দারুণভাবে সাজিয়েছেন ঘটনাগুলো।

স্ট্যান্ডার্ড প্রোডাকশনসহ ৪১০ পাতার হার্ডবাউন্ড বই মাত্র ৪৯৫ টাকায় পাওয়া বর্তমান বাজারে (অন্তত আমার নজরে) ফাটাফাটি ডিল। বইয়ের প্রুফ রিডিং প্রশংসনীয়। প্রচ্ছদ, হরফসজ্জা, বইয়ের ভেতরের ছবি-ছাবা ঠিকঠাক। লেখকের অন্যান্য লেখা সম্বন্ধে কমেন্টবক্সে আরও জানবার আগ্রহ রইলো।
22 reviews
March 23, 2025
দুই ভিন্ন সময়ের দুই বিখ্যাত ক্রিমিনাল কেসকে গল্পের আকারে তুলে ধরা হয়েছে এই বইতে . ইতিহাস আশ্রিত এই দুটি উপন্যাসে রহস্য সমাধানের সঙ্গে সঙ্গে ফুটে উঠেছে তৎকালীন সমাজব্যবস্থা আর জীবনযাত্রার প্রতিরূপ.
দুটি গল্পই একবার শুরু করলে আর ছাড়া যায়না, এরপরে কি হবে সেই কৌতূহলে পরের পর পাতা উল্টে যেত হয়. দুটোই বেশ ভালো লাগলেও আমার বেশি পছন্দের দ্বিতীয় গল্পটি.
Profile Image for Bratik Bandyopadhyay.
22 reviews
January 11, 2026
#বইতরণী

অরিজিৎ গাঙ্গুলির 'শার্লকস্রষ্টা এবং বিষের কাঁটা' নামক বইটি ২০২৪ সালে অন্তরীপ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত।
বইটি আপাতদৃষ্টিতে রহস্যকাহিনির সংকলন, কিন্তু পড়লে বোঝা যায় যে আসলে ঐতিহাসিক সত্যতা, বাস্তব চরিত্র এবং চাঞ্চল্যপূর্ণ গোয়েন্দা-তত্ত্বের এক চমৎকার মেলবন্ধন। শিরোনামটি নিজেই এক রহস্যের সূত্র , 'শার্লকস্রষ্টা' বলতে স্যার আর্থার কোনান ডয়েলকে বোঝানো হয়েছে, যিনি বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় কাল্পনিক গোয়েন্দা শার্লক হোমসের স্রষ্টা, এবং 'বিষের কাঁটা' হলো সেই রহস্যের একটি ধারালো প্রান্ত, যা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের অন্ধকার কোণগুলোকে উন্মোচিত করে। এই বইটি দুটি স্বতন্ত্র কিন্তু পরস্পর-সংযুক্ত কাহিনির সমন্বয়ে গঠিত, যা পাঠককে এডওয়ার্ডিয়ান ব্রিটেনের ধোঁয়াটে রাস্তা থেকে ঔপনিবেশিক ভারতের উপনিবেশীয় শেষলগ্নের মহামারির আতঙ্ক পর্যন্ত নিয়ে যায়।

দুটি যুগের জোড়া রহস্য : বইয়ের প্রথম ভাগ, স্যার আর্থার কোনান ডয়েলের জীবনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। এডওয়ার্ডিয়ান যুগের ব্রিটেন, যখন সাম্রাজ্যবাদী মহানত্বের ছায়ায় বর্ণবাদ এবং সামাজিক অসমতা চরমে পৌঁছেছিল, তখন একটি ভয়াবহ সিরিয়াল কিলিংয়ের ঘটনা ঘটে। এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুবককে ভুলভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে এই খুনের জন্য, এবং ব্রিটিশ প্রশাসনের বর্ণবিদ্বেষী নিয়মাবলী তার পক্ষে কোনো ন্যায়বিচারের সুযোগ রাখেনি। এখানেই প্রবেশ করেন শার্লক হোমসের স্রষ্টা। তাঁর চোখে এটি শুধুমাত্র খুনের ঘটনা নয়, বরং সাম্রাজ্যবাদের অন্ধকার মুখ – উপনিবেশীয় শোষণ, জাতিগত বৈষম্য এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। গল্পটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয়, যেখানে কোনান ডয়েলের বৈজ্ঞানিক মনোভাব এবং বেশ কিছুটা হোমসীয় অনুমানের ছোঁয়া মিশে যায়, এবং শেষে একটি চমকপ্রদ টুইস্ট সবকিছুকে উল্টে দেয়। এই অংশটি কেবলমাত্র একটি ক্রাইম থ্রিলার নয়, বরং ঐতিহাসিক সত্যতার উপর ভিত্তি করে একটি ন্যায়ের লড়াইয়ের কাহিনি।

দ্বিতীয় ভাগ, ভারতীয় উপমহাদেশে স্থানান্তরিত হয়, বিশেষ করে কলকাতায়, যা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের শেষদিনগুলোতে অবস্থিত। এখানে এক প্রভাবশালী জমিদার পরিবারের অন্তর্গত দ্বন্দ্ব এবং রক্তপাতের ইতিহাস উঠে আসে। এক অদ্ভুত মহামারির মতো ঘটনা ঘটে, যা শুধুমাত্র একটি রোগ নয়, বরং সম্ভাব্য প্রথম জৈব অস্ত্রের (biological weapon) ব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়! কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের কর্মীরা অতীতের প্লেগ মহামারির আতঙ্কে জর্জরিত হয়ে পড়েন, এবং পরিবারের অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রগুলো বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। গল্পটি এখানে শার্লকীয় লজিকের ছোঁয়া নিয়ে এগোয়, কিন্তু ভারতীয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটের সাথে মিশে একটি অনন্য স্বাদ তৈরি করে। দুটি কাহিনির মধ্যে সূক্ষ্ম সংযোগ রয়েছে – উভয়ই সাম্রাজ্যবাদের অন্ধকার ছায়া এবং মানবতার সংকটকে তুলে ধরে, যা পাঠককে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত আটকে রাখে।

এই বইয়ের অন্যতম শক্তি তার চরিত্রগুলির গঠন। প্রথম কাহিনির কেন্দ্রবিন্দু স্যার আর্থার কোনান ডয়েল – যিনি কেবল একজন লেখক নন, বরং একজন দুঃসাহসী তদন্তকারী। লেখক তাঁকে শার্লক হোমসের মতোই তীক্ষ্ণবুদ্ধি, কিন্তু আরও মানবিকভাবে চিত্রিত করেছেন। কোনান ডয়েলের চোখে আমরা দেখি একজন ব্যক্তির সংগ্রাম, তাঁর সাহিত্যিক সাফল্যের পিছনে লুকিয়ে থাকা সামাজিক অসমতার প্রতি তাঁর ক্রোধ এবং একজন অপরিচিত ভারতীয় যুবকের প্রতি সহানুভূতি।
এক অজানা ভারতীয় অভিবাসী যুবক এই গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র , যিনি সাম্রাজ্যবাদের শিকার হয়ে উঠেছেন, কিন্তু তাঁর অদম্য ইচ্ছাশক্তি, হার না মানা মনোভাব পাঠকের মনে একটি প্রতিবাদী আলোড়ন তৈরি করে।

দ্বিতীয় কাহিনিতে জমিদার পরিবারের সদস্যরা বিশেষ করে পরিবারের পিতৃপুরুষ এবং তাঁর উত্তরাধিকারীরা একটি জটিল জাল তৈরি করেন। এখানে কোনো সাদা-কালো ভিলেন নেই, কিন্তু প্রতিটি চরিত্রের মধ্যে সাম্রাজ্যবাদের শোষণ এবং ব্যক্তিগত লোভের ছায়া লক্ষণীয় । কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা অফিসার এক উজ্জ্বল চরিত্র, যিনি ঔপনিবেশিক শাসনের চাপে কাজ করেও নিজের নৈতিকতাকে অটুট রাখেন। লেখকের কলমে এই চরিত্রগুলি জীবন্ত হয়ে উঠেছে, কিছুটা শার্লক হোমসের গল্পের মতোই, যেখানে চরিত্রগুলো কেবল প্লটের পুতুল নয়, বরং সমাজের আয়না।

'শার্লকস্রষ্টা এবং বিষের কাঁটা' কেবল রহস্য নয়, একটি সমাজ-সচেতন উপন্যাস। প্রধান থিমগুলোর মধ্যে রয়েছে বর্ণবাদ এবং উপনিবেশবাদের অন্ধকার। প্রথম কাহিনিতে কোনান ডয়েলের মাধ্যমে আমরা দেখি কীভাবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের 'সভ্যতা'র আড়ালে জাতিগত বৈষম্য লুকিয়ে ছিল, যা আজকের বিশ্বেও ভীষণভাবেই প্রাসঙ্গিক। দ্বিতীয় কাহিনিতে জৈব অস্ত্র এবং মহামারির বিষয়টি বিংশ শতাব্দীর সূচনার ঐতিহাসিক ঘটনা (যেমন প্লেগ) কে নিয়ে এসেছে, এবং তা কোভিড-যুগের ভয়াবহ স্মৃতি জাগিয়ে তোলে । ন্যায়বিচারের লড়াই, পরিবারের অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং বিজ্ঞানের অপব্যবহার – এই থিমগুলো বইটিকে একটি সময়াতীত কাহিনিতে পরিণত করেছে।

বইটিতে অযথা ইনফো ডাম্প নেই, কিন্তু যেখানে প্রয়োজন ডিটেইলিং খুব সুন্দর ভাবে দেওয়া আছে, সাথে সাদা কালো ছবিগুলি বইটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। নিষ্ঠা এবং পরিশ্রমের ছাপ স্পষ্ট। বাংলা ভাষার মাধুর্য এবং ইংরেজি শব্দের মিশ্রণ একটি আকর্ষণীয় হাইব্রিড স্বাদ তৈরি করেছে । গল্পের গতি দ্রুত, কিন্তু থামার জায়গাগুলোতে পাঠককে চিন্তা করার সুযোগ দেয়। এই জায়গায় কোনান ডয়েলের প্রভাব লক্ষণীয়, কিন্তু সেখানে লেখক নিজস্ব ছোঁয়া যোগ করেছেন – ভারতীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সাম্রাজ্যবাদের কাহিনি বলা। তাঁর শৈলী শার্লক হোমসের মতোই সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ, যেখানে ঐতিহাসিক বিষয়গুলো (যেমন এডওয়ার্ডিয়ান লন্ডনের ছোঁয়া এবং কলকাতার উপনিবেশীয় রাস্তা) গল্পকে জীবন্ত করে তুলেছে ।
বাংলা গোয়েন্দা সাহিত্যে একটি নতুন মাত্রার সংযোজন ঘটিয়েছে , যা শুধুমাত্র ফেলুদা বা ব্যোমকেশের মতো স্থানীয় চরিত্র নয়, বরং বিশ্বজনীন আইকনকে ভারতীয় প্রেক্ষাপটে নিয়ে এসেছে।

'শার্লকস্রষ্টা এবং বিষের কাঁটা' – ঐতিহাসিক অন্ধকারের মধ্য দিয়ে ন্যায়ের আলোর দিকে এক যাত্রা । যদি আপনি শার্লক হোমসের ভক্ত হন, তাহলে এই বইটি আপনাকে তাঁর স্রষ্টার জীবনের এক অজানা অধ্যায়ের সন্ধান দেবে। আর যদি ঐতিহাসিক থ্রিলার পছন্দ করেন, তাহলে এর জৈব অস্ত্রের রহস্য আপনাকে একটানা পড়তে বাধ্য করবে।
Profile Image for Preetam Chatterjee.
7,295 reviews399 followers
July 4, 2025
শার্লকস্রষ্টা এবং বিষের কাঁটা: ইতিহাস ও রহস্যের যৌথ ল্যান্সেট

“The world is full of obvious things which nobody by any chance ever observes.” — The Hound of the Baskervilles

এই উক্তিটির মধ্যেই লুকিয়ে আছে গোটা বইটির চেতনা, তার শিরায় শিরায় প্রবাহিত রহস্যরক্তের ছন্দ। আরিজিৎ গাঙ্গুলির শার্লকস্রষ্টা এবং বিষের কাঁটা পাঠককে নিয়ে যায় সেই অদেখা-অদৃশ্য অথচ বাস্তবের গভীরে গাঁথা জগতে—যেখানে ইতিহাসের পাঁজরের ফাঁক দিয়ে অনায়াসে ঢুকে পড়ে দুটি প্রকৃত অপরাধ, রাষ্ট্রের নির্মিত সত্য, আর উপনিবেশের দহনকালীন স্নায়ুযুদ্ধের লুপ্ত স্বরলিপি।

এ এক পাঠ-অভিযান, যেখানে দলিলের ধুলো ঝেড়ে ওঠে থ্রিলারের মেঘ, আর তথ্যের ভেতর থেকে জেগে ওঠে কাহিনির মাংস ও রক্ত। ডকুফিকশনের ছদ্মবেশে এই গ্রন্থ ইতিহাসের লুকিয়ে থাকা পচন ধরানো ফাটলগুলোকে অনুসন্ধান করে, চিহ্নিত করে ক্ষমতার নিঃশব্দ পাশবতা, এবং সেইসব 'obvious' অথচ অবলোকনহীন ঘটনার গায়ে আলো ফেলতে ফেলতে পাঠককে বলেই বসে— “Watson, the game is afoot.”

এখানে রহস্য কেবল অপরাধের নয়—এখানে রহস্য রাষ্ট্রযন্ত্রের, জাতিগত বিদ্বেষের, শাসনব্যবস্থার মুখোশের, এবং এমনকি ন্যায়বিচারের ধারণারও। বইটি সেই সমস্ত 'truths stranger than fiction'-কে তুলে ধরে, যা কেবল ঐতিহাসিক দলিলের পাতায় আটকে থাকলে জীবন পেত না—যা শুধুমাত্র সাহিত্যের শরণেই পাঠকের হৃদয় ছুঁতে পারে।

আরিজিৎ গাঙ্গুলির ভাষা, নির্মাণকৌশল, তথ্যনির্ভরতা এবং কাল্পনিক কাঠামোর মধ্যেকার সূক্ষ্ম ভারসাম্য এতটাই নিখুঁত যে পাঠক কখন যেন ইতিহাস পড়তে পড়তেই একটানা পাতা উল্টে যেতে থাকেন, নিঃশ্বাস ফেলতে ভুলে যান, মনে হয় চোখের সামনে ঘটে যাচ্ছে সব কিছু—জীবন্ত, জ্বলন্ত, জিরোইন।

এই বই পড়া মানে গোয়েন্দা গল্পের ছলে জাতীয় এবং ঔপনিবেশিক ইতিহাসের গভীরে পা ফেলে দেওয়া, এক নির্মম অতীতের দরজা খুলে দেখা—যার কড়চায় লেখা আছে, “When you have eliminated the impossible, whatever remains, however improbable, must be the truth.” — The Sign of the Four

এবং এই গ্রন্থে সেই 'improbable' সত্যটিই মাথা তুলে দাঁড়ায়—অত্যাশ্চর্যভাবে, নির্মোহভাবে, স্পষ্টভাবে।

**অধ্যায় ১: শার্লকস্রষ্টা এবং ওয়ার্লি রিপারের রহস্য

"I consider that a man's brain originally is like a little empty attic." — A Study in Scarlet

এই অধ্যায়ে পাঠক ডুব দেন শুধুমাত্র একটি অপরাধ-রহস্যে নয়, বরং এক আদর্শগত লড়াইয়ে—যেখানে কলমের ধার বন্দুকের গুলির চেয়েও ক্ষুরধার। শার্লকের ছায়া-নির্মাতা স্যার আর্থার কোনান ডয়েল এখানে আর নিছক সাহিত্যিক নন, তিনি পরিণত হন এক বাস্তব অনুসন্ধানীর ভূমিকায়—এক ‘humanist sleuth’-এ, যিনি তৎকালীন ব্রিটিশ সমাজের বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে একার হাতে লড়াই করেন।

ঘটনা ১৯০৩ সালের, ইংল্যান্ডের গ্রেট ওয়ার্লি গ্রামের বুক চিরে ঘটে চলেছে এক পশুহত্যার জঘন্য সিকোয়েন্স—অজ্ঞাত আততায়ীর ছুরির কোপে একের পর এক ঘোড়ার মৃত্যু। একই সঙ্গে গ্রামের চার্চের ভারতীয় বংশোদ্ভূত পার্সি ধর্মযাজকের ছেলে, আইনজীবী জর্জ এদালজি-কে লক্ষ্য করে আসছে একের পর এক অজ্ঞাতনামা হুমকি চিঠি। পুলিশ–তথা পুরো প্রশাসন যেন মুখিয়ে, একজন “অন্য” জাতিগোষ্ঠীর নাগরিককে কিভাবে সবচেয়ে অমানবিকভাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায়।

"It is a capital mistake to theorize before one has data." — A Scandal in Bohemia

কিন্তু এখানেই প্রবেশ ডয়েলের। সদ্য স্ত্রীর মৃত্যুশোক বুকে চেপে, লেখক নিজেই এগিয়ে আসেন এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে। নিজের তৈরি চরিত্রের মতোই ঠান্ডা মাথার অ্যানালাইসিস, দলিলপত্র খতিয়ে দেখা, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার—সব মিলিয়ে ডয়েল একজন পূর্ণাঙ্গ তদন্তকারী হয়ে ওঠেন। আর তাঁর ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্ট সরকারের এতটাই চাপে ফেলে দেয় যে শেষমেশ জর্জের মুক্তি নিশ্চিত হয়, এবং এই মামলা ইংল্যান্ডে ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেম রিফর্ম-এর এক নান্দনিক প্রস্তাবনায় রূপ নেয়।

"When you have eliminated the impossible, whatever remains, however improbable, must be the truth." — The Sign of the Four

ডয়েল ঠিক এই সূত্রেই এগিয়েছেন—অভিযোগের ঝাঁঝ ছাঁকতে ছাঁকতে খুঁজে বের করেছেন সম্ভাব্য সত্যকে। আর এই সত্য কেবল একজন ব্যক্তির মুক্তি নয়—বরং গোটা জাতি ও শ্রেণি-বৈষম্যতন্ত্রের মুখে এক সুস্পষ্ট চপেটাঘাত।

এই অধ্যায় যেন এক অনবদ্য সংমিশ্রণ—‘The Adventure of the Norwood Builder’-এর মত ক্রিমিনাল ফ্রেমওয়ার্ক, আবার ‘The Bruce-Partington Plans’-এর মতই গভীর রাষ্ট্রনৈরাজ্যের ছায়া। কিন্তু এই কাহিনির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল—এখানে হোমস নেই, অথচ গোটা গল্প জুড়ে তাঁর ভাবধারার ছায়া জেগে থাকে, যেন ডয়েল নিজেই তাঁরই উত্তরসুরি হয়ে উঠেছেন।

“To a great mind, nothing is little.” — A Study in Scarlet

আর এই “little” জর্জের জীবনের ন্যায়ের দাবিই হয়ে ওঠে ডয়েলের কাছ�� এক বিশাল নৈতিক যজ্ঞ। পাঠকের কাছে, এটি কেবল ইতিহাসের পাঠ নয়—এ এক মানবিকতা ও বিবেকের পুনর্জাগরণ।

**অধ্যায় ২: চর্মভেদী বিষের কাঁটা

"There is nothing more deceptive than an obvious fact." — The Boscombe Valley Mystery

যেখানে প্রথম কাহিনি ছিল ব্রিটেনের হৃদয়ে বর্ণবৈষম্য ও ন্যায়বিচারের সংঘর্ষ, দ্বিতীয় কাহিনি সেখানে ভারতবর্ষের উপনিবেশ-অন্তিম বাস্তবতায় ইতিহাস, রাজনীতি, আর এক প্রোটোটাইপ বায়োলজিকাল হানার অলঙ্ঘনীয় জোট। ১৯৩৩ সালের ভারত। মঞ্চে পাকুড়ের জমিদার পরিবার, অর্থ-ক্ষমতার দহন, এবং হাওড়া স্টেশনের বিস্ফারিত জনতার মধ্যে ছদ্মবেশী আততায়ীর হাতে ঘটে যায় এক গা ছমছমে হত্যা।

একটি বস্তু— পর্দার আড়ালে লুকোনো, তীক্ষ্ণ, অতীব রহস্যময়। এর উৎস বিজ্ঞান না কালো যাদু? বিষক্রিয়া না ভাইরাল স্ট্রেন? এটাই যেন প্রশ্ন। এবং এটিই পাঠকের মনে জন্ম দেয় গভীর সাসপেন্স—"Is this murder or message?"

গল্পের নায়ক এইবার শরৎচন্দ্র মিত্র—কলকাতা পুলিশের হোমিসাইড ডিপার্টমেন্টের সাব ইনস্পেক্টর। তিনি হোমস নন, কিন্তু একেবারে ঘরের ছেলে, গোয়েন্দাগিরির ব্রিটিশ মডেল নয়, বরং দেশজ অভিজ্ঞতা, অন্তর্দৃষ্টি, এবং মাটি-ঘেঁষা চাতুর্যের এক দুর্ধর্ষ সমাবেশ। না আছে ডিয়ারস্টকার, না আছে ভায়োলিন, কিন্তু প্রতি অধ্যায়ে গায়ে কাঁটা দেওয়া "elementary" জিনিসপত্রের বিশ্লেষণ আছে।

"You know my methods. Apply them." — The Hound of the Baskervilles

শরৎচন্দ্র সেই 'মেথড'-এর ভারতীয় রূপান্তর। তিনি ট্র্যাক করেন ছায়া, চিনে নেন হস্তাক্ষর, গন্ধ পান ষড়যন্ত্রের, আর তার ফাঁকফোকর দিয়ে খুঁজে বার করেন হত্যার অসাধারণ জটিল কাঠামো। পুরো কেসটিই যেন একটি forensic palimpsest—একটির পর একটি স্তর খোলে, পাঠক যেন scalpels হাতে নিয়ে ছিন্ন করেন তার পরতের পরত।

ঘটনার বিস্তার কলকাতা থেকে বম্বে, আদালতের ট্রায়াল থেকে প্রেস রিপোর্ট, ডাক্তারদের মধ্যে সাড়া জাগানো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়ায় এই সম্ভাব্য প্রথম জীবাণু অস্ত্র—যা পরে গুজব ও জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে কুখ্যাত হত্যাকাণ্ডগুলোর ছায়া হয়ে ফিরে আসে।

আরিজিৎ গাঙ্গুলির মুন্সিয়ানা এখানেই—তিনি কেবল লেখেন না, চিত্রনাট্য বানান। প্রতিটি চরিত্র, প্রতিটি নথিপত্র, প্রতিটি রক্তমাখা ইশারা যেন সচল হয়ে ওঠে পাঠকের চোখে। পুরনো হাসপাতালের রিপোর্ট, হাওড়া স্টেশনের ছবি, টাইমস ম্যাগাজিনের স্ক্যান—সব কিছুই যেন "evidence locker" থেকে সরাসরি তুলে আনা। বইটা পড়তে পড়তে পাঠক নিজেই হয়ে ওঠেন শরৎচন্দ্র মিত্রের Watson।

"It is a mistake to confound strangeness with mystery." — A Case of Identity

হ্যাঁ, কাহিনিটি অদ্ভুত, কিন্তু তার অন্তর্লীন গঠন রহস্যের এক অসাধারণ উদাহরণ। বাস্তব চরিত্র আর নথি-ভিত্তিক বর্ণনার সঙ্গে আরিজিৎ যেভাবে কল্পনাকে গেঁথেছেন, তাতে বইটি হয়ে উঠেছে একটি স্মার্ট hybrid—না পুরোপুরি গল্প, না পুরোপুরি ইতিহাস, বরং সেই liminal space যেখানে ফিকশন ও রিয়েলিটি পরস্পরকে ধারণ করে।

এবং এখানেই চর্মভেদী বিষের কাঁটা—শুধু একটা উপন্যাস নয়, বরং শার্লক হোমসের উত্তরাধিকার ভারতে কীভাবে রূপান্তরিত হতে পারে, তার এক নিঃশব্দ অথচ বিস্ফারক দলিল।

সাহিত্যিক শৈলী ও গঠন:

"Mediocrity knows nothing higher than itself; but talent instantly recognizes genius." — The Valley of Fear

আরিজিৎ গাঙ্গুলির লেখনী একাধারে নির্ভরযোগ্য সাংবাদিকতার মতো তথ্যনিষ্ঠ এবং এক নিপুণ গল্পকারের মতো নাটকীয়। এই দুয়ের মাঝে তিনি নির্মাণ করেছেন এক ঘনীভূত পাঠ-অভিজ্ঞতা, যেখানে বাস্তব ঘটনার ভিতরেই রচিত হয় কল্পনার স্বর। কিন্তু এই কল্পনা কখনোই লঘু নয়—বরং তা শার্লকীয় বিশ্লেষণ ও নৈতিক দৃঢ়তার ছায়ায় পূর্ণ।

হোমসীয় অনুসন্ধান-পদ্ধতির প্রয়োগ:

সার আর্থার কোনান ডয়েল যে পদ্ধতিতে হোমসের গোয়েন্দাগিরি নির্মাণ করেছিলেন, তার কেন্দ্রে ছিল তিনটি জিনিস:

১) Deduction (সঙ্গত অনুসিদ্ধান্ত নির্ণয়)

২) Observation (অদেখাকে দেখা)

৩) Elimination of Impossibility (অসম্ভব বর্জন)

আরিজিৎ এই "ত্রয়ী"কেই ব্যবহার করেছেন তাঁর দুটো কাহিনির কাঠামোগত স্তম্ভ হিসেবে।

Deduction: প্রথম গল্পে ডয়েলের নিজস্ব অনুসন্ধানে এই পদ্ধতির প্রয়োগ দেখানো হয়েছে নিখুঁত শার্লকীয় ছাঁদে—তথ্য সংগ্রহ, কেস প্রসিডিংস বিশ্লেষণ, সন্দেহভাজনদের ব্যক্তিগত ইতিহাস বিচার, এবং বর্ণবিদ্বেষের সামাজিক পটভূমি নিরীক্ষা—সবই ডয়েল করেন এক চুল ক্ষু্দ্রতম বস্তুর খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করে।

গাঙ্গুলির বর্ণনা এমনভাবে গঠিত যে পাঠক নিজেই যেন ডয়েলের চোখ দিয়ে দেখতে শেখে—পত্রিকার রিপোর্ট, ঘোড়ার ক্ষতচিহ্ন, হুমকি চিঠির কালি-কলম—সবকিছুর ভিতর থেকে ওঠে আসে একটি সত্য:

"When you have eliminated the impossible, whatever remains, however improbable, must be the truth." — The Sign of the Four

Observation: দ্বিতীয় গল্পে শরৎচন্দ্র মিত্রের মাধ্যমে আমরা পাই এক ভারতীয় পরিপ্রেক্ষিতের হোমস-সংলগ্ন চরিত্র—যিনি পথেঘাটে মানুষের অভ্যাস, পোষাক, হেঁটে যাওয়ার ধরন, এবং প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করে অপরাধের স্তর ভেদ করেন। তাঁর হাতে নেই হোমসের চেনা magnifying glass, কিন্তু তাঁর চোখ এক চলমান crime lab।

তিনি হাঁটুর সমান বাচ্চার বক্তব্য থেকেও টেনে আনেন যুক্তির থ্রেড। তাঁর অনুসন্ধান নিঃশব্দ, ব্যক্তিগত, অথচ ক্ষুরধার। এই "indigenous" গোয়েন্দার এই দৃষ্টিভঙ্গি বইটিকে এক নিজস্বতা দেয়—যেখানে "desi deduction" আর "Baskervillian logic" হাত ধরাধরি করে চলে।

আখ্যান নির্মাণের দক্ষতা:

বইটি যে শুধু তথ্যসমৃদ্ধ তা নয়—এর narrative architecture পাঠককে immersive করে তোলে। ছোট ছোট অধ্যায়ে বিভক্ত রচনা একধরনের "case file"-এর অভিজ্ঞতা তৈরি করে। প্রতিটি অধ্যায় নিজেই এক investigative vignette, যেটা পড়ে মনে হয় যেন ইনস্পেক্টর নিজেই হাতে ধরে গাইড করছেন তদন্তের পথে। সংলাপ গুলো documentary-styled, কিন্তু theatrical নয়—এই সংযমই বইটিকে ঠেলে দেয় ডকুফিকশনের পরিণত উচ্চতায়।

দৃশ্য-সজ্জা ও বিন্যাস: পাতার গঠন, ছবির বাছাই ও সংযোজন, প্রতিটি archival image বা স্ক্যান কেবল সহায়ক উপাদান নয়—তারা নিজেই narrative-এর অংশ। প্রতিটি ছবিই যেন একটি clue—যা না দেখলে পুরো puzzle সম্পূর্ণ হয় না। এই দৃষ্টিভঙ্গি আবারও Holmes-এর একটা প্রিয় কথাই মনে করিয়ে দেয়: “You see, but you do not observe.” — A Scandal in Bohemia

গাঙ্গুলি পাঠককে বাধ্য করেন observe করতে, শুধু see নয়।

এইরকম সাহিত্যিক নির্মাণই এই বইটিকে আলাদা করে তোলে। এটা শুধু একটি ডকুফিকশন নয়—এটি এক forensic opera, একটি archival thriller, আর সবচেয়ে বড় কথা—একটি homage to the deductive mind.

উপসংহার: রক্তাক্ত ইতিহাসে ছাপ ফেলে যাওয়া দুটি কণ্ঠ

"The past and the present are really one: they are today’s events viewed from a different angle." — His Last Bow

শার্লকস্রষ্টা এবং বিষের কাঁটা কেবল গোয়েন্দা কাহিনি নয়—এটি এক ঐতিহাসিক ল্যান্সেট, যা খণ্ড খণ্ড সত্যের শিরা চিরে দেখায় কেমন ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্য, কেমন ছিল তার অন্তর্গত বর্ণবৈষম্য, ষড়যন্ত্র, এবং সুশাসনের ছদ্মবেশে লুকানো নৃশংসতা।

এই বই একদিকে শ্রদ্ধাঞ্জলি—স্যার ডয়েলের যুক্তিবাদী মানবতাবোধের প্রতি, যিনি বাস্তবেই ছিলেন এক “detective of conscience”; অন্যদিকে এটি এক অনবদ্য প্রতিকৃতি—বাঙালি অফিসার শরৎচন্দ্র মিত্রের মত সেইসব নায়কসম, কিন্তু ইতিহাসবঞ্চিত, বাস্তব গোয়েন্দাদের, যাঁরা ব্রিটিশ পাথরের নিচে থেকেও ছুরি চালাতে জানতেন ন্যায়ের পক্ষে।

“Elementary, my dear Watson?” না। এই বইতে কিছুই এলিমেন্টারি নয়। এখানে প্রতিটি অধ্যায়—একটি পূর্ণাঙ্গ ক্লু। প্রতিটি ছবি—একটি সাইলেন্ট সাক্ষী। এবং প্রতিটি চরিত্র—একটি বিচারের দাবিদার ইতিহাস।

যারা Holmesian deduction-এর ভক্ত, যারা বিশ্বাস করেন "truth is stranger, sharper, and sadder than fiction," এবং যারা চান বাংলা ডকুফিকশন এক নতুন শিখরে উঠুক—এই বই তাঁদের জন্য এক শব্দরূপী magnifying glass।

A standing ovation to Arijit Ganguly—for putting the “detect” back into documentary, and for giving Bengal its very own true crime Sherlockiana. আর ধন্যবাদ অন্তরীপ প্রকাশনকে—এমন একটি সাহসী, গবেষণাসমৃদ্ধ, এবং পাঠ-সুন্দর প্রজেক্���ে ভরসা রাখার জন্য।

শেষে যা বলার থাকে: একাসনে পড়ে ফেলা যায়, কিন্তু পাঠক-চেতনায় এক দীর্ঘ গর্জনের মতো থেকে যায় এর অনুরণন। A canonical, collectible, cerebral classic—Bengali infoliterature-এর রেফারেন্স বই হিসেবে এর স্থান নিশ্চিত।

পুনশ্চ: "I never guess. It is a shocking habit — destructive to the logical faculty." — The Sign of the Four

এই বইয়ের প্রতিটি পৃষ্ঠা যেন ডয়েলের এই শিক্ষাকে অনুসরণ করে। এখানে কোনো অনুমান নেই, আছে তদন্ত। নেই কোনও অতিরঞ্জন, আছে চোখ ধাঁধানো সত্য।

অলমতি বিস্তরেণ।

Displaying 1 - 4 of 4 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.