সেলিম হোসেন টিপু আজিমপুরে থাকতেন, পেশায় ইঞ্জিনিয়ার (সিভিল)। বিশেষ করে পুরনো ঢাকার পটভূমি নিয়ে লিখেছেন ক্রাইম থ্রিলার। আপনাদের নিশ্চই মনে আছে গুন্ডা সালাউদ্দিন জাকির নাম? থাকার কথা। সেবা থেকে তার খুব কম বই বের হয়েছে, তবে যে কয়টি বেরিয়েছিল তার প্রত্যেকটি ছিল সুপার হিট। স্বর্গসৌরভ (জুলাই, ১৯৮৫), গুন্ডা (জুন, ১৯৮৭), শোধ নেবে? (১৯৮৭), মৃত্যুশিল্পী (মার্চ, ২০০৩)। সেবা-র 'রহস্য পত্রিকা'-র প্রথম সংখ্যাতেই তার প্রথম গল্প প্রকাশিত হয়, নাম ছিল 'বিয়ে'। এছাড়াও 'রহস্য পত্রিকায় 'মারাত্মক বাঁদরামি' ও ‘শেষের কবিটিা’ প্রকাশিত হয়েছিল।
সেবা প্রকাশনী থ্রিলার ও কল্পবিজ্ঞান জনরাঁয় অসাধারণ কিন্তু স্বল্পচল কিছু ছোটোগল্পের অনুবাদ পাঠকের হাতে সংকলন আকারে তুলে দিয়েছে। "স্বর্গসৌরভ" সেগুলোর মাঝে অন্যতম। সেলিম হোসেন টিপুর ভাবানুবাদে গল্পগুলো দেশী পটভূমি আর আঞ্চলিক সংলাপে চমৎকার উপভোগ্য হয়ে উঠেছে। ছেলেবেলায় হাতে পেয়েছিলাম বইটা, তারপর আরো অনেকবার পড়েছি। "মারাত্মক বাঁদরামি" আর "আগামীকাল" পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলাম। "ছায়ারা" আর "ভুল বিন্যাস"ও চমৎকার।
সেলিম হোসেন টিপু এখন কোথায় আছেন বা কী করছেন জানি না, কিন্তু এই দুই জনরাঁর ছোটোগল্প অনুবাদে আবারও এগিয়ে এলে বাংলাভাষী কিশোর-তরুণ পাঠকদের উপকারই করবেন তিনি।
গল্পগুলোতে যেভাবে দেশীয় পোষাক পরানো হয়েছে তা এককথায় দৃষ্টিনন্দন। বোঝাই যায়, একেকটা অনুবাদের পেছনে প্রচুর সময় দেয়া হয়েছে। হয়তোবা গল্পগুলোর প্রেক্ষাপট আজ থেকে প্রায় তিন-চার দশক আগের, কিন্তু আজকের সময়কার যেকোনো গল্পসংকলনকে চোখ রাঙাতে পারবে এ বই।