বইটাতে অনেক জটিল বিষয় লেখক গল্পের আকারে খুব সহজ ভাষায় বর্ণনা করেছেন। এ বইয়ে একেবারেই শুরু থেকেরা হয়েছে। বিগব্যাং থেকে বর্তমান সময়ের মহাবিশ্বের অবস্থা, আমাদের চারপাশের পরিবেশ এসব বিষয়ে বিশদ
আলোচনা করা হয়েছে। কিভাবে একটা ক্ষুদ্র বিন্দু থেকে মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হয়ে আজকের এই অবস্থায় এসেছে এবং তার এন্ট্রপি কিভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, মহাবিশ্বের বক্রতা কিভাবে নির্ণয় করা হয়েছে, আমাদের চারপাশের ডার্ক এনার্জির অস্তিত্ব যে আছে তা কিভাবে বোঝা যায় তা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বইটিতে। এছাড়া রয়েছে মহাজাগতিক অণুতরঙ্গ পটভূমি বিকিরন সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ। লেখক জটিল মহাজাগতিক বিষয়গুলো গল্পের ছলে খুব সুন্দর উদাহরন দিয়ে সহজভাবে সাধারনের বোধগম্য করেছেন। আমি বইটা পড়ে মহাকাশ সম্পর্কে অনেক নতুন নতুন তথ্য জানতে পেরেছি। মহাজাগতিক অণুতরঙ্গ পটভূমি বিকিরণের মাধ্যমে আমরা কিভাবে শিশু মহাবিশ্ব সম্পর্কে জানতে পারি তা পড়ে আসলেই অবাক হতে হয়েছে। এছাড়া কোয়াসার পর্যবেক্ষণ করে কিভাবে ১০ বিলিয়ন বছর আগের মহাবিশ্ব সম্পর্কে ধারনা করা যায় তাও জানা যাবে বইটা পড়লে। অবশ্য বইয়ের কিছু বিষয় আমার মাথার উপর দিয়েই চলে গেছে। তবুও এই জটিল বিষয়টা সম্পর্কে জানতে পেরেছি এই বইয়ের কল্যাণেই। বইয়ের প্রায় ৯০% বিষয়ই আমি বুঝতে পেরেছি। সর্বোপরি বইয়ে লেখকের বর্ণনা ভঙ্গি ছিল খুবই সহজ ও সরল।
বিশেষ করে বইয়ে ব্যাবহার করা ছবিগুলো ছিল খুবই দৃষ্টিনন্দন। এই ছবিগুলোর কল্যাণেই আরো সহজভাবে ব্যাপারটা বোঝা গেছে। কসমোলজির উপর এই বইটা আসলেই অসাধারন। বইটা নিশ্চিত ভাবেই পাঠকের জ্ঞান পিপাসা যেমন মিটাবে তেমনিভাবে এই বিষয়ে বাড়াবে পাঠকের আগ্রহ।