খান ফ্যামিলি’র কথা মনে আছে তো? আরেহ! ওই যে পাগলা কিসিমের এক পরিবার; যেখানে শাকের সাহেব আপাদমস্তক নেশাপানির প্রতি পাগল, সালমা পাগল রান্নাবান্নার ব্যাপারে আর সুমাইয়া পাগল মেকআপ নিয়ে। একমাত্র সাকিব ছেলেটা যাও-বা সুস্থ মস্তিষ্কের ছিল, সেও বিয়েশাদি করে বউপাগল হয়েছে। ভিন্ন স্বভাব চরিত্রের এই মানুষগুলোতে মিল কেবল একটি জায়গায়- সকলেই ডগ লাভার; কুকুরপ্রেমী।
গোপনসূত্রে জানা গেছে, দিনকে দিন বেড়েই চলেছে তাদের পাগলামি। বিশেষ করে সাকিব-শান্তির হানিমুনকে ঘিরে যেই উন্মাদনার সৃষ্টি হয়েছে, তা নজিরবিহীন। এর সঙ্গে আবার যুক্ত হয়েছে এক অজানা রহস্য। ফলে হাসি তামাশার ঘটনাগুলো কখনো কখনো মোচড় খেয়ে টানটান উত্তেজনায় রূপ নেবে। গল্প-কাহিনি সম্পর্কে বিস্তারিত স্পয়লার পেতে চাইলে ফ্ল্যাপ ছেড়ে সোজা উপন্যাসে ঢুকে পড়ুন।
প্রিয় পাঠক, খান ফ্যামিলি ইজ ব্যাক। হাসি আনন্দের এই রোলারকোস্টারে আপনাকে আবারও স্বাগতম।
জামসেদুর রহমান সজীব এর জন্ম রাজবাড়ী জেলাশহরে। ছোটবেলা থেকেই জাতীয় পত্রিকায় লেখালেখি করেন। রাজবাড়ীতে ‘আড়ম্বর’ শিশু সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। বর্তমানে সাহিত্যের ছোটকাগজ ‘মুদ্রণশিল্প’ সম্পাদনার দায়িত্বে রয়েছেন। চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেও সফল এ তরুণ সংগঠক। বেশ কয়েকটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত ‘শিশু চলচ্চিত্র উৎসব বাংলাদেশ ২০১৭’তে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে তার নির্মিত ‘বাড়ি ফেরা’ চলচ্চিত্রটি।
খুব ছোট্ট একটি সূত্র অনুসরণ করেন জীবনে। নিজে হাসিখুশি থাকতে হবে, আশপাশের সকলকেও হাসিখুশি রাখতে হবে। একারণেই বেছে নিয়েছেন লেখালেখি। নিয়মিত রম্য লিখছেন। পাঠকের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন হাসি-আনন্দ।
আবারও খান ফ্যামিলি, আবারও কিছু পাগলামি। শান্তির সাথে সাকিবের বিয়ে হয়েছে কিছুদিন আগে। তবে ঘটা করে কোনো বিয়ে নয়। জেলখানার মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এই বিয়ে। আপনারা যারা “খান ফ্যামিলি” পড়েছেন, তাদের হয়তো শেষটা মনে আছে। আর সেই কারণে বেশ কিছুদিন থানায় বন্দি থাকতে হয়।
আজকেও খান পরিবারের বাড়িতে বিয়ের পরিবেশ। তবে এবার সাকিবের এক বন্ধুর বিয়ে। যেখানে অতিথি হিসেবে কেবল পোষা প্রাণীরাই আমন্ত্রিত। যেকোনো আয়োজনে মানুষদের দাওয়াত দেওয়ার রেওয়াজ থাকে, কিন্তু কুকুর-বিড়ালদের কথা কয়জন চিন্তা করে?
গল্পের শুরু এখান থেকেই। সাকিবের কুকুর-বিড়ালের প্রতি ভালোবাসা পুরোপুরি নিখাঁদ। সেই সাথে তার পরিবারও এই ভালোবাসায় নিজেকে শামিল করেছে। শাকের খান, সালমা খান, সুমাইয়া খান, সাকিব খানের সাথে নতুন করে এই পরিবারে জুড়েছে শান্তি। যে আসলেই শান্তভাবে সবকিছু সামলে রাখে। পরিবারের একমাত্র স্বাভাবিক মানুষ হিসেবেই ধরা যায়।
সিরিজের প্রথম বই পড়ে থাকলে পরিবারের মানুষগুলো সম্পর্কে আইডিয়া আপনাদের ঠিকই হয়েছে। এই যেমন শাকের খান প্রচুর গাঁজা পাগল মানুষ। গাঁজায় দম দিয়ে সে বেঁচে থাকে। সালমা খান নিত্য-নতুন রান্নার উপাদান খুঁজতে মশগুল। ভিন্ন সব রান্নায় পরিবারের সকলের পেটের ব্যামো না বাঁধালে তার শান্তি হয় না। তাই সবাই আতঙ্কে থাকে। সেই সাথে তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নেশা, ছোটো ছোটো ভিডিয়ো-রিলস বানানোর শখ তো আছেই।
অন্যদিকে সুমাইয়া খান ম্যাট্রিক পরীক্ষায় ফেল করলেই জীবনে তার সবটুকু মনোযোগ মুখে আটা-ময়দা মাখাতেই। মেকাপে কেউ যে এতটা সময় ব্যয় করতে পারে, সেটা তাকে না দেখলে বোঝা যেত না!
তবে এদের মধ্যে সাকিব একটু স্বাভাবিক হলেও পরিবারের চাপে তাকেও পাগল হতে হয়। অন্যদিকে শান্তি মেয়েটা যেন এক হাতে সবকিছু সামাল দেয়। শ্বশুরের গাঁজার চাহিদা মেটায়, শাশুড়ির রান্নার পাগলামিকে শান্ত রাখে। স্বামীর দেখভাল করে। ভালোমন্দের দিকে ভালোই নজর তার। কে বলবে এই মেয়েটা ল পড়ছে!
বিয়ের পর সাকিব কাজে মন দিয়েছে। একটা হোটেলের দায়িত্বে আছে। বন্ধুর বিয়ের পর তার মনে শখ জেগেছে বউকে নিয়ে হানিমুনে যাবে। কিন্তু তার পরিবার তাকে একা যেতে দিবে কেন? পুরো পরিবার তার সাথে যাবে।
এর আগে একটা ঘটনা ঘটে। শান্তির বান্ধবী নতুন একটি দোকান দিয়েছে। সেখান থেকে জিনিসপত্র কিনলে একটা কুপন, আর সেই কুপন জিতলে কক্সবাজার ট্যুর। সেই কুপনও জিতে গিয়েছে তারা! ফলে এবার চলো কক্সবাজার। সেখানেও পাগলামি হোক।
“খান ফ্যামিলি ইজ ব্যাক” খান ফ্যামিলি সিরিজের দ্বিতীয় বই বেশ মজাদার লেগেছে। হাসি তামাশা বইটা কখন যে শেষ হয়ে গেল বুঝতে পারিনি। সিরিজের প্রথম বইয়ের তুলনায় দ্বিতীয় বই বেশ পরিণত মনে হলো। প্রথম বইতে কিছু সমস্যা ছিল। হাসি-ঠাট্টাগুলো কিছুটা আরোপিত মনে হয়েছিল। মনে হয়েছিল লেখক জোর করে হাসানোর চেষ্টা করেছেন।
এই বইতে সেই সমস্যা ছিল না। বেশ ন্যাচারাল লেগেছে বিষয়গুলো। সিরিয়াস ও ভারী ভারী বইয়ের মাঝখানে এ জাতীয় এক দুইটা বই পড়তে পারলে মনটা খুশি খুশি হয়ে ওঠে।
এই বইয়ের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নতুন চরিত্রের আবির্ভাব হয়েছে। পুরোনো চরিত্রগুলোকে আরো পোক্ত করেছেন লেখক। বিশেষ করে এই গল্পের পুরোটা জুড়ে ছিল শান্তি। শান্তি চরিত্রটাকে বেশ উপভোগ্য ও মায়াবী মনে হয়েছে। তবে সবকিছুতে শান্তিকে সুপার ওম্যান বানিয়ে তোলা একটু অতিরঞ্জিত লেগেছে।
লেখক তার বইয়ের চরিত্রগুলোর নাম আশেপাশের মানুষগুলোর থেকে ধার করেন। এই বিষয়টা ভালো লেগেছে। তার ফলশ্রুতিতে আমিও ছোট্ট একটা চরিত্র পেয়েছি। যদিও আমার সাথে যে কান্ড করেছেন, এইটা আমি মনে রেখে দিলাম। হুহ!
বইতে যে শুধু হাসি-তামাশা ছিল এমন না, এর মাঝে লেখক সমাজের এক অংশ তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। যেখানে মানুষের পোষা প্রাণীদের জায়গা হয় না। অবলা প্রাণীদের হোটেল-রেস্টুরেন্ট, বাস বা অন্য অনেক জায়গায় প্রবেশের এখতিয়ার নেই। কিন্তু যে মানুষটা এসব প্রাণীদের ভালোবাসে তাদের পক্ষে এগুলো মেনে নেওয়া কষ্টকর। পোষা কুকুর-বিড়ালদের দূর দূর করে তাড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। এতে তাদের মালিক মনক্ষুন্ন হয়। অমানবিকও বটে। তবে আমি এটাও মনে করি, তারা যেমন ভালোবাসা ডিজার্ভ করে একই সাথে অতিরিক্ত আদিখ্যেতা দেখানোটাও অনুচিত। সবকিছুরই একটা ভারসাম্য রক্ষা করে চলতে হয়
বইতে ভালোবাসাময় কিছু ঘটনার অবতারণা লেখক ঘটিয়েছেন। শাকের খান ও সালমা খানের খুনসুঁটি, দুই বৃদ্ধ-বৃদ্ধার ভালোবাসা মনে ধরেছে। তবে সাকিব ও শান্তিকে যেভাবে ভালোবাসার জুটি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, এক কথায় দারুণ। গল্পের গতিতে এখানে লেখক লাগাম ধরতে পেরেছিলেন। তাদের ভালোবাসার মুহূর্তগুলো প্রাণবন্ত ছিল। সুমাইয়ার প্রতি রাসেলের অনুভূতিও বেশ ভালোভাবেই প্রাধান্য পেয়েছে।
বিয়ে করার শখ প্রতিটি মানুষের থাকে। বিয়ে যেন দিল্লিকা লাড্ডু, খেলেও পস্তাতে হয়, না খেলেও পস্তাতে হয়। সাকিবের বন্ধুর বিয়ের শখ ছিল। তবে সেই শখ কতটা তার আর কতটা সাকিবের পরিবারের, সেটা প্রশ্ন সাপেক্ষ। সে বিয়ের পর শখগুলো চান্দের দেশে উড়ে যায়। কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হলে শখ হয়ে যায় শোক। তবে রিফাত ও নূপুর নামের দুই চরিত্রকে আরেকটু ঘষামাজা করা যেত। তাদের দিয়ে ঘটনাক্রম দুর্দান্তভাবে উপস্থাপন করার সকল সুযোগ থাকার পরও কেন লেখক এড়িয়ে গেলেন, জানি না।
সেই সাথে তীব্র আক্রোশ, প্রতিশোধ, প্রেমে ব্যর্থতার গল্পও এখানে এসেছে। এই বিষয় নিয়ে একটু দ্বিধা আছে। লেখক এখানে তাড়াহুড়ো করেছেন। ব্যাকস্টোরি আরো স্পষ্ট ও আকর্ষণীয়ভাবে ফুটিয়ে তোলা যেত। তাহলে শেষের ঘটনার সাথে অতীতের যে সংযোগ লেখক আবছাভাবে দেখিয়েছেন, সেটা আরো উপভোগ্য হতে পারত।
শেষটা দারুণ। তবে এখানে লেখক নতুন এক গল্পের ইঙ্গিত দিয়েছেন। যেখানে আবারো খান ফ্যামিলি আসবে। আবারও নতুন গ্যাঞ্জাম, পাগলামি। নতুন নতুন নতুন চরিত্র ডালপালা ছড়িয়ে মহীরুহ হয়ে সাকিব আর শান্তির মাথা নষ্ট করবে। সেই ঘটনাগুলো পড়ার জন্য মুখিয়ে আছি।
প্রচ্ছদটা বেশ দারুন লেগেছে। পুরো পাগলাটে পরিবার এখানে ফুটে উঠেছে। বইয়ের সম্পাদনা ভালো ছিল। বানান ভুল তেমন চোখে পড়েনি। প্রকাশনী এই দিক দিয়ে বেশ ভালো কাজ দেখিয়েছে। প্রোডাকশন কোয়ালিটি টপনচ।
পরিশেষে, গল্পটা এখানেই শেষ হতে পারত। কিন্তু একটি গল্পের শেষ হয়, সেখান থেকেই নতুন গল্পের উপাখ্যান। খান পরিবার কখনও শান্তিতে থাকতে পারবে না। শান্তি থাকার পরও ঘোর অশান্তি। যেখানেই যাবে সেখানেই গ্যাঞ্জাম। কোনো না কোনো ঝামেলা। টোস্ট-বিস্কুট যেমন হারিয়ে গেল! তাদের খুঁজে বের করার কাহিনিও বড়ই বিচিত্র। এই বিচিত্র, পাগলাটে পরিবারের ঘটনা পড়তে পড়তে নিজেকেই পাগল মনে হয়।
▪️বই : খান ফ্যামিলি ইজ ব্যাক ▪️লেখক : জামসেদুর রহমান সজীব ▪️প্রকাশনী : বেনজিন প্রকাশন ▪️ব্যক্তিগত রেটিং : ৪/৫
যখন আপনি বইটা পড়া শুরু করবেন রুমের দরজা , জানালা বন্ধ করে নিয়েন ,,অথবা একাকী পড়তে বসবেন।
আসলে প্রথম পার্টের চেয়ে দ্বিতীয় পার্ট টা আমার কাছে বেশি ভালো লেগেছে ,,, ভাগ্যিস পরনে লুঙ্গি ছিলো না ,,, নইলে হাসতে হাসতে খুলে,,,,,,, সিরিয়াস টাইপ লেখা পড়ে যদি ক্লান্তি চলে আসে জামসেদ ভাইয়ের খান ফ্যামিলি ইজ ব্যাক নিয়ে বসে যান।
প্রথম পর্ব যেখানে শেষ হয়েছিল, এবারকার পর্ব শুরু তার ঠিক মাস তিনেক পর৷ সাকিব এখন বিবাহিত। খান ফ্যামিলিতে ঘটনার ঘনঘটার কমতি নেই৷ তাদের কাণ্ডকীর্তি বরাবরের মতোনই হাস্যরসাত্মক। সমাজের অসঙ্গতি, কুকুর-বিড়াল তথা পশুপাখির প্রতি ভালোবাসা, পরিবারের প্রতি অগাধ মায়া-মমতা এই উপন্যাসের অন্যতম রশদ৷ যা পড়ে আরাম, ভাবনাচিন্তার খোরাক তৈরি করে৷ আগের বইটি থেকে এবারকার বইটি অনেক বেশি পরিণত, মজার, শালীন এবং আশাজাগানিয়া। শেষ করার পর মনে হচ্ছে, তৃতীয় পর্বতে আরও অনেককিছু পেতে যাচ্ছি। দেখা যাক, খান ফ্যামিলিতে আরও কী কী ঘটে৷
সাকিব ভাই চলে এসেছেন নিজের উদ্ভট পরিবার নিয়ে, যেখানে বোন ঘুম থেকে উঠে মুখ ধোয়ার আগে মেকআপ করে এবং ভাবে, আদৌ মুখ ধুবেন কি না। মা সকল রকমের ফুল দিয়ে বিভিন্ন ধরনের চা বানিয়ে পেট খারাপ করার উপায় খুঁজে বেড়ান, আর বাবা নিজের নেশার জন্য হইচই করেন। এই পরিবারকে আগলে রাখতে গিয়ে স্ত্রী শান্তির অবস্থা মাঝে মাঝে বেশ নাজুক হয়ে পড়ে।
প্রায় তিন বছরের মাথায়, জামসেদুর রহমান সজীব নিয়ে এসেছেন রম্য উপন্যাস খান ফ্যামিলি–এর সিক্যুয়েল খান ফ্যামিলি ইজ ব্যাক।
খান ফ্যামিলি যদিও একটি হাস্যরসাত্মক উপন্যাস, তবু এতে অবলা প্রাণীদের প্রতি ভালোবাসার বার্তা রয়েছে, রয়েছে সাম্প্রতিক বিষয়গুলোর স্যাটায়ার। পারিবারিক বন্ধন আর খুনসুটির মাঝে হাসির ব্যাপারটা আনা কঠিন, কিন্তু এখানে তা মোটেও জোড়াতালি মনে হয়নি। রাতের বেলা পড়তাম না, কারণ বন্ধ দরজার ওপাশ থেকে মা-বাবা যদি আমার হো হো করে হাসার শব্দ শুনে বসেন, তাহলে আমাকে পাগল ভেবে বসতে পারেন। তাই দিনের বেলা রোদের মধ্যে বসে প্রাণখুলে হেসেছি।
এবার সাকিবদের সঙ্গে এসেছে আরও অনেক নতুন চরিত্র, যার মধ্যে ছিলাম আমি! হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন—রিফাত, মানে আমার নামে এক চরিত্র রয়েছে, যে সাকিবের ছোটবেলার বন্ধু। তার কোনো গুণ নেই, তবুও সে বেগুনের মতো ভাজা হয়ে বিয়ে করে সোজা হানিমুনে যেতে চায় সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে! আর বন্ধুবর সাকিব ভাবলেন, তিনিও তার শান্ত স্ত্রী শান্তি খন্দকারকে নিয়ে কক্সবাজারে হানিমুনে যাবেন। যেই ভাবা, সেই কাজ! কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিলেন, তারাও যাবেন সঙ্গে।
ফলে পারিবারিক হানিমুনে গিয়ে কী সব ঘটনা ঘটে, তা নিয়েই এই অসাধারণ রম্য উপন্যাস।
বইটি আপনাকে হাসাবে, প্রাণীদের প্রতি সদয় হতে উদ্বুদ্ধ করবে, আর পরিবারে কীভাবে খুনসুটির মধ্যেও আনন্দ খুঁজে নেওয়া যায়, তা শিখিয়ে দেবে। সিক্যুয়েল হিসেবে বইটি আগের বইকে ছাড়িয়ে গেছে। সাথে বেড়েছে পরিধিও। বিরতি নেওয়াটা লেখকের জন্য ভালো সিদ্ধান্ত ছিল, কারণ গতবার যে কিছুটা আড়ষ্টতা ছিল, তা এবার একেবারেই নেই। তবে কিছু কিছু স্থানে বর্তমান সময়ে জনপ্রিয় কিছু মিম ও কৌতুক ব্যবহৃত হয়েছে, যা খুব একটা হাসির খোরাক জোগায়নি।
গল্পের শেষে রয়েছে একটি মজার টুইস্ট, যা মজার লেগেছে অনেক। সব মিলিয়ে বইটি আমি দারুণ উপভোগ করেছি! আমাদের দেশে রম্য সাহিত্য খুব বেশি নেই, তার ওপর মানুষ হাসানো সত্যিই কঠিন কাজ। কিন্তু সজীব ভাই সেই কঠিন কাজটি অনায়াসে করে দেখিয়েছেন। আশা করি, তার কাছ থেকে ভবিষ্যতে আরও অনেক দারুণ রম্য উপন্যাস পাব।
আইসা গেছি আমি। এইবার হইবে নতুন গল্প। মাইক টেস্টিং ওয়ান টু থ্রি। এইবার দয়া করে মা*রধোর করবেন না এলাকাবাসী!
"গলি গলি ঘুরি, মাইকে দেই ঘোষণা, আসেন একটা গল্প বলি। একটি বিশেষ ঘোষণা! একটি বিশেষ ঘোষণা!"
প্রিয় এলাকাবাসী, প্রিয় এলাকাবাসী আমারে কী আপনাদের মনে আছে? আগেরবার আমার মাইক ভে*ঙে আমার মাথা ফা*টিয়ে দিয়েছিল এলাকার বদ পুলাপাইন। এইবার কিন্তু এমন করতে পারবেন না। আমি আসছি আপনেগো বিনোদন দিতে। আর এইবারের গল্প ভালো লাগবে আপনাদের বুঝলেন। লেখক লেখায় ইমপুভ করছে অনেক। তাইলে শুরু করি কী বলেন এলাকাবাসী?
হ্যালো! হ্যালো! মাইক টেস্টিং ওয়ান, টু, থ্রি, ফোর শিউলির বাপ গরু চো র! ইয়ে মানে মিসটেক মিসটেক! প্রিয় এলাকাবাসী আইজকা যে গল্পডা মাইকে বলমু আপনাদের সেটা সেই "খান ফ্যামিলি" তাদের গল্প। আআআআআআ! পাঁচ তলা থেকে ফুলের টবটা কে ছুঁড়ে মারলো! আরে মিয়া আগে শুনবেন তো গল্পটা। তারপর নাহয় মাইরেন। ওই রিকশা মামা চালু দেন।
হ্যাঁ তো প্রিয় এলাকাবাসী সেই যে কুত্তা বাড়ি থুক্কু খান বাড়ি তারা আবার ফিরত এসেছে। এইবার এসেছে শান্তিসহ। আরে এই শান্তি সেই শান্তি না। বড় ছেলের বউ শান্তি খন্দকার। মনে আছে এদের বিয়ের হিসটোরি? সেই যে কুত্তা নিয়ে ঝামেলা। সাকিবকে ধরে নিয়ে গেল জে লে। শান্তি মেয়েটাও পারে বটে, থা নার মধ্যে বিয়ে করে বসে আছে। তো চলেন বাকিডা শুরু করি। ওই চা ওয়ালা মামা একটা চা দেন বেশি দুধ দিয়ে। চা খেয়ে শুরু করি।
"বিয়ে করলে ছেলে পর হয়ে যায় মায়ের দুঃখ বোঝে না।"
হ্যালো! হ্যালো মাইক টেস্টিং এলাকাবাসী এই ডায়লগ চেনা চেনা লাগছে? না চিনলেও সমস্যা নেই আমি আছি তো চেনাতে। নাহ এই ডায়লগ দিয়ে ওনাকে চেনাতে পারবো না। বরং আসেন গোলাপ ফুলের চা, গাঁদা ফুলের পাকোড়া খাই। ওই কে পানি মারলো রে! আরে চেতেন কেন বিখ্যাত রন্ধনশিল্পীদের যিনি ধরেন ব্লেন্ডারে মিশিয়ে জুস করে খেয়ে নিতে পারেন সেই বিখ্যাত সালমা খানের কথা বলছি।
খান ফ্যামিলির গৃহকত্রী সালমা খান বিয়ে দিয়ে ছেলের বউ এনেও ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নতুন নতুন রান্নার রেসিপি আবিষ্কার করে চলেছেন। এবং বরাবরের মতো এবারও সেগুলো খেতে হয় বাসার সবাইকে। তবে এক্ষেত্রে লক্ষ্মী বউমা শান্তি খুব সাপোর্ট দেয়। মেয়েটা অবলীলায় শাশুড়ির বানানো ওইসব কুখাদ্য নিজেরটা তো খায় সাথে সাকিবের ভাগের অংশও খেয়ে নেয়। সালমা খান সোশাল মিডিয়ায় বেশ অ্যাক্টিভ। অবশ্য স্বামী শাকের খানকে নিয়ম করে রোজ বউয়ের রিলস দেখে লাভ, কেয়ার রিয়াক্ট দিতে হয়।
"আমায় নিয়ে কানাকানি রটে কথা রকমারি লোকে বলে বলেরে আমি মেকআপ সুন্দরী মেকআপ সুন্দরী মেকআপ সুন্দরী মেকআপ সুন্দরী আমি নাকি মেকআপ সুন্দরী মেকআপ সুন্দরী"
আরে চাচা মিয়া আপনি আবার আসছেন নাচতে! ধুরো মাইকের সামনে থেকে সরেন। প্রিয় এলাকাবাসী! এইবার বলি সুন্দরীর কথা। আপনারা ভাত না খেয়ে যেমন বাঁচতে পারেন না ঠিক সেরকমই খান ফ্যামিলির একমাত্র মেয়ে সুমাইয়া মেকআপ না করে বাঁচতে পারবে না। তার জীবনের একটাই কথা খাওদাও মেকআপ করো। পড়ালেখা ওইসব আবার কী জিনিস! অবশ্য এসএসসিতে ফেলের বিশ্বরেকর্ড গড়তে চলা মেয়েটিকে সালমা খান হুমকি দিয়েছেন এইবার পাশ না করলে সোজা রিকশাওয়ালা ধরে বিয়ে।
মেকআপের জন্য সুমাইয়ার পছন্দের জায়গা সাকিবের রুমের বাথরুম। ওখানের আয়না নাকি বেশ আলাদা। সাজ ভালো হয়। তিন চার ঘন্টা বাথরুম দখল করে আরামসে মেকআপ করে সে। অবশ্য ইদানিং প্রাক্তন স্যারকে খুব মনে পড়ে। স্যারের প্রেমিকা ম রে গেছে তো এবার একটা সুযোগ তো নেয়া��� যায়। বেচারি দুঃখ ভুলতে মেকআপের ডোজ বাড়িয়ে দেয় কী না কে জানে!
আআআআআ! আমার মাথাডা ফাইট্টা গেল রে! দুষ্টু পুলাপাইন যা ভাগ এহান দে! ইসস কী বড় ইটের টুকরা মারছে দেখছেন নি! যাই হোক কী জানি বলছিলাম ওহ্! তিনি পান খান নন, তিনি সুপারি খান নন তিনি ওয়ান অ্যান্ড ওনলি গাঁ*জা খান থুক্কু শাকের খান। আগে তার পোটলা সাপ্লাই দিতো ছেলে সাকিব এবার প্রমোশন পেয়ে বউমা শান্তি নিয়ে আসে এসব! অবশ্য এই সালমা খানের অকর্মন্য স্বামী একটা বিষয়ে খুব সতর্ক থাকেন বউ যাতে রেগে না যায়। তাহলে ওই অখাদ্য খেয়ে আয়ু কমাতে হবে।
এখনো বউয়ের আপন ভাই শালার সাথে মিলে ব্যবসার প্লান করে চলেছেন। অবশ্য এবার ব্যবসায় কিছুটা থিতু হয়েছেন। কাপড়ের দোকান দিয়েছেন নিউমার্কেট আর ভাতের হোটেল নীলক্ষেত। খান ফ্যামিলির এই কর্তা ব্যক্তিটি আর যাই হোক জীবনে নে*শাপানি বোধহয় আর ছাড়তে পারবেন না। কসম তো কম কাটেননি বউয়ের কাছে।
"মোরা আর জনমে হংস-মিথুন ছিলাম.., ছিলাম নদীর চরে, যুগলরূপে এসেছি গো আবার মাটির ঘরে"
প্রিয় এলাকাবাসী! হ্যালো! হ্যালো! মাইক চলছে না কেন! ওই রিকশাওয়ালা মামা দাঁড়াও পুলাইপাইন মাইকের তার কেটে দিছে! (আধা ঘন্টা পর) হ্যালো! হ্যালো! মাইক টেস্টিং এলাকাবাসী এইবার কপোত কপোতীর পালা। সদ্য বিবাহিত শান্তি ও সাকিব। চার মাস বিয়ের বয়স আর সাকিব যেন একটু একটু করে শান্তিকে আরো ভালো করে চিনেছে। এই মেয়ের আছে নানান ধরনের প্রতিভা। সালমা খানের অখাদ্য খাবার সাইডে রেখে বাকিরা লুকিয়ে শান্তির রান্না দিয়ে কাজ চালিয়ে নেয়। শান্তি আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে নাকি কোর্টে প্রাকটিস করেছে। সাকিবকে ছাড়িয়ে এনেছে নিজের বাবার সাথে মিলে। আবার এই মেয়ে রান্নায় নাকি জাতীয় পর্যায়ে সার্টিফিকেটধারী। সাকিব বউয়ের প্রতিভায় মুগ্ধ প্রতিবার। মাঝে মাঝে তার মনে হয় এই মেয়ের অসাধ্য নেই কোনো কাজ।
শান্তি বউ হিসেবে খুবই লক্ষ্মী। স্বামীকে ভীষণ ভালোবাসে। আগেও বাসতো তবে তখন তো আর স্বামী পরিচয় ছিলো না। শান্তির ভালোবাসা বোধহয় আস্তে আস্তে সাকিবকে বউপাগলা বানাচ্ছে।
~ কাহিনী আরো আছে ~
প্রিয় এলাকাবাসী! প্রিয় এলাকাবাসী! আসসালামুয়ালাইকুম। এতক্ষণ যা বললাম এর বাইরেও কাহিনী আছে বিশাল। খান ফ্যামিলির সাথে যোগ হয়েছে নতুন নতুন চরিত্র। আছে সাকিবের বন্ধু রিফাত। তার গুন ছাড়া বেগুন একমাত্র বউ নূপুর। যারা ঠাঁই নিয়েছে সাকিবদের বিল্ডিংয়েই। রিফাতের বিয়ে ঘটা করে সাকিবের পরিবারই দিয়েছে।
রিফাত বেচারা বিয়ে করে বউ নিয়ে হানিমুনে যেতে চায় সাভার স্মৃতিসৌধে নতুন স্মৃতি বানাতে। টাকা চাইলো ওই সাকিবের কাছে। তখন সাকিবের মনে পড়লো এই রে! ও আর শান্তি তো হানিমুনে যায়নি। রিফাতকে কিছুদিন অপেক্ষা করতে বলে নিজের হানিমুনের প্লান করছে সাকিব।
ওদিকে শান্তির সাথে দেখা তার ছোটবেলার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী তাজরীর। আর মজার ব্যাপার হলো দুই বান্ধবীর জামাইয়ের নাম একই। তাজরী তার জামাইকে নিয়ে সদ্য খুলেছে তাজকিব ফ্যাশন হাউস। শান্তি বান্ধবীর দোকান থেকে কেনাকাটা করে র্যাফেল ড্র তে পেয়ে গেল কক্সবাজারে যাবার সুযোগ।
তো কেমন হবে শেষমেশ সাকিব আর শান্তির কক্সবাজারে হানিমুন? খান ফ্যামিলির সদস্যদের মতিগতি তো ঠিক নেই কখন কী হয়। তবে এই পরিবারের একটা বিষয় এখনো বিদ্যমান, এরা পোষা প্রাণীদের খুব ভালোবাসে নিজেদের সন্তানতুল্য ওরা সবসময়।
প্রিয় এলাকাবাসী! প্রিয় এলাকাবাসী মাইক টেস্টিং ওয়ান টু থ্রি আআআআআআ আবার! না না এইডা তো দেখি আমার নিজের বউ। আরে আরে মাইক নিয়ে টানাটানি করো না উফফ! না না তোমারে এখন কক্সবাজারে হানিমুনে কীভাবে নিবো! বোঝার চেষ্টা করো বউ! আআআআআ প্রিয় এলাকাবাসী! আমি আপাতত বউয়ের হাতে কিঞ্চিৎ আ*হত। আবার ফিরে আসবো নতুন করে গল্প নিয়ে।
•~ পাঠ প্রতিক্রিয়া ~•
জীবনে এত এত টেনশন, হতাশা কিংবা ব্যর্থতার মাঝেও হাজারো মানুষ যদি জীবনযাপন করতে পারে তো সামান্য কিছু সময় ব্যয় করে মুখে হাসিও রাখা উচিত। আমি মনে করি বই মানে আনন্দের সঙ্গী। সেখানে শিক্ষনীয় বিষয় থাকলে এক্সট্রা বোনাস, না থাকলেও ক্ষতি নেই। আনন্দের জন্য পড়া যেতেই পারে। রম্য জনরায় আপনি সব বইয়ে শিক্ষনীয় বিষয় না খুঁজে "আবোল তাবোল ", "হযবরল" বইগুলোর মতো আনন্দ করে পড়ুন না!
কিন্তু আমি পাঠক হিসেবে "খান ফ্যামিলি" এবং"খান ফ্যামিলি ইজ ব্যাক" বইদুটোকে নাম্বার দেই তাহলে অবশ্যই আমার কাছে এগিয়ে থাকবে দ্বিতীয় বইটি। এবং আমার মনে হয় লেখক আসলে বিরতি নিয়ে একদম ধামাকা এন্ট্রি নিলেন। লেখায় ইম্প্রুভমেন্ট অনেকটাই বেড়েছে। আগেরবার গল্পটায় কিন্তু আড়ষ্টতা রয়ে গেছে যেন একটা দৃশ্য শেষ হবার আগেই আরেক দৃশ্য। এবার লেখক গল্পটা ডালপালা ছড়িয়ে যেন পরিনত বৃক্ষে রূপ দিয়েছেন। আগেরবার বইয়ের অতিরিক্ত স্লাং টাইপের শব্দ যেমন কম তেমনি কমেডি টাইমিং ভালো। বুঝেশুনে হাসির উপাদান দিয়েছেন। ভাষাগত দিক অনেকটাই সামলে নিয়েছেন।
সাকিব শান্তির বিয়ের পর খান ফ্যামিলি আদতে কেমন আছে, কিংবা সাকিব শান্তির মিষ্টি খুনসুটি। সবকিছুর সুন্দর তাল মেলাতে চেষ্টা করেছেন লেখক। লেখা খুবই সাবলীল এবং দ্রুত পড়া যাবে একটানা। পড়তে পড়তে কখন যে শেষ হয়ে যায়! লেখক কমেডি, ইমোশন, সাসপেন্স সবকিছু মিলিয়ে দারুন একটা সমন্বয় ঘটাতে চেয়েছেন যেন।
তবে শেষের দিকে বর্ণনায় কিছু কিছু জায়গায় একটু খেই হারিয়ে গেছে। মনে হচ্ছিল বাক্যটা ঘুরিয়ে আরেকটু অন্যভাবে দেয়া যেত। ওইটুকু আর কী বুঝে নিয়েছি নিজের মতো। দুই এক জায়গায় কথ্য রূপ চলে এসেছে আর দুই একটা ছাপার ভুল। এইগুলো কোনো মারাত্মক ত্রুটি অবশ্যই নয়। আমার কাছে বই মানে আনন্দের সঙ্গী। পয়সা উসুল পারফর্মেন্স আরো একবার গোটা ফ্যামিলির। ভালো লেগেছে, সময়টা আনন্দে কেটেছে এবং সবচেয়ে বড় কথা আমি প্রান খুলে হেসেছি।
পরিশেষে একটাই কথা বলে শেষ করি ভালো বই পড়ুন, লেখকদের উৎসাহ দিন আরো ভালো লিখতে। "খান ফ্যামিলি" চালিয়ে যাক তাদের পাগলামি। আমরা আরো কয়েকটা সিক্যুয়াল পাই এই সিরিজের সেই প্রত্যাশা রাখলাম।
🏆 বইয়ের নাম: "খান ফ্যামিলি ইজ ব্যাক" 🏆 লেখক: জামশেদুর রহমান সজীব 🏆 প্রকাশনা: বেনজিন 🏆 ব্যক্তিগত রেটিং: ৪.৩/৫
বইঃ খান ফ্যামিলি ইজ ব্যাক জনরাঃ রম্য উপন্যাস লেখকঃ জামসেদুর রহমান সজীব প্রকাশনীঃ বেনজিন প্রকাশন
পড়ে শেষ করলাম সদ্য প্রকাশিত, লেখক- Zamsedur Rahman Sajib ভাইয়ের লেখা"খান ফ্যামিলি ইজ ব্যাক" বইটি। প্রথমেই বলতে চাই বইটি আমার জন্য স্পেশাল।লেখক গেস্ট ক্যারেক্টার হিসেবে একটি চরিত্র হুবুহু আমার নামে রেখেছেন।একজন পাঠক হিসেবে একটা বইয়ের অংশ হতে পারাটা বিরাট আনন্দের বিষয়।😊 তাছাড়া আরও ভালোলাগার বিষয়;আমার এবং আপনাদের পরিচিত আরও দুজন মানুষের চরিত্রও স্হান পেয়েছে বইটিতে।
লেখকের "খান ফ্যামিলি" বইটির পরবর্তী পর্ব এটি। বর্তমান সময়ে রম্য জনরা নিয়ে খুব কম কাজই আমরা দেখতে পাই।আমাদের এই যান্ত্রিক জীবনে স্ট্রেস রিলিফ বা সাময়িক আনন্দ,একটু প্রাণ খুলে হাসার জন্যও মাঝে মাঝে ভিন্ন স্বাদের বই পড়া দরকার।রম্য গল্প বা উপন্যাস শুধু মাত্র বিনোদনের জন্য নয়, এর মাধ্যমে কিছু গুরুত্বপূর্ণ জীবনবোধ এবং শিক্ষাও দেওয়া হয়। রম্য গল্পের মাধ্যমে লে��করা হাস্যরসের আড়ালে গভীর জীবনদর্শন, সামাজিক সমস্যা, মানবিক সম্পর্ক এবং নৈতিক মূল্যবোধের কথা তুলে ধরেন। এই কাজটি মোটেও সহজ নয়;লেখক এখানে যথেষ্ট মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন।
বরারেই মতোই "খান ভিলা'র" কর্তা শাকের খান, সালমা খান, তাদের পুত্র -সাকিব,পুত্রবধু শান্তি, মেয়ে সুমাইয়া সহ শালা শিহাব খান সকলেরই চরিত্রই ছিলো প্রাণবন্ত। কুকুরপ্রেমী এই পরিবারে কুকুর,বিড়ালের উপস্থিতি নিয়ে এবং পরিবারটির সদস্যদের মধ্যে খুনসুটি লেগেই থাকে। তার উপর সালমা খানের অদ্ভূত অদ্ভূত সব রেসিপি, আদরের কন্যা সুমাইয়ার তিন বেলা নাওয়া-খাওয়া বাদ দিয়ে মেক-আপ নিয়ে পড়ে থাকা,সাকিব এবং শান্তির নতুন বিবাহিত জীবন সব মিলিয়ে গল্প দারুণভাবে এগিয়ে গেছে এবং শেষ পর্যন্ত গল্পটা ভালোই উপভোগ করেছি। আশা করি পাঠকদেরও খারাপ লাগবেনা।
প্রিয় উক্তিঃ "মানুষ যত পুরোনো হয়,ততই গাঢ় হয় জীবনবোধ ও ভালোবাসার বন্ধন।"
পুনশ্চঃ রম্য উপন্যাস হলেও বইয়ের শুরুতেই উৎসর্গ পাতার লেখাটা পড়ে একরাশ খারাপ লাগা মনে এসে ভর করে। আমাদের প্রিয় জামসেদুর রহমান সজীব ভাইয়ের শ্রদ্ধেয় পিতা"মরহুম জাকির হোসেন বিশ্বাস" ২০২৪ সালের ১৬ এপ্রিল পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে না ফেরার দেশে চলে যান।আমরা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।আল্লাহ তায়ালা উনাকে জান্নাতবাসী করুন।🤲 সৃষ্টিকর্তা সকলের বাবা-মা কে ভালো রাখুন,যত্নে রাখুন।🤍
সজীব ভাইয়ের প্রায় সব বই-ই পড়েছি কিন্তু উনার প্রথম বই "খান ফ্যামিলি" বইটা সবসময় অন্তত আমার নিকট সেরা হয়ে রবে খান ফ্যামিলি ইজ ব্যাক যদিও অস্থির সময়ে আনন্দ দিয়েছে কিন্তু "খান ফ্যামিলি" বইটাকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি।🌼
আমাদের দেশে স্যাটায়ার, সিচুয়েশনাল কমেডি, স্ল্যাপস্টিক কমেডি ঘরানার বই খুব বেশি একটা নাই। লেখক সেক্ষেত্রে এই ঘরানায় লেখালেখি করছেন, সেদিকে তাকে সাধুবাদ জানাতেই হচ্ছে। জামশেদুর রহমানের সাথে আমার পরিচয় খান ফ্যামিলি ইজ ব্যাক বইটির মাধ্যমেই। আমি খুবই খুশি যে প্রথম অভিজ্ঞতা হিসেবে খুবই আনন্দময় একটা সময় কেটেছে। প্লাসঃ ১) বইটির বিভিন্ন চরিত্রর মাধ্যমে লেখক পশুপাখিদের প্রতি অপরিসীম প্রেম প্রদর্শন করেছেন। লেখক নিজেও খুব সম্ভবত এমন মনোভাব পোষণ করেন। খুবই ভালো লেগেছে এই দিকটা। ২) পারিবারিক বন্ধন আর খুনসুটির মাধ্যমে হাস্যরস উপস্থাপন করাটা কঠিন বিষয়, তাও আবার বইতে। লেখক এই দিক থেকেও ভালোই সফল ধরা যায়। ৩) শেষ দিকে একটা হালকা টুইস্ট আছে। এটাও ভালো লেগেছে।
মাইনাসঃ ১) ফেসবুকে দেখা বেশ কিছু মিম, জোকসের দেখা মিলেছে এখানে। সে জায়গাগুলোতে তেমন হাসি আসেনি। ২) কিছু জায়গায় মনে হয়েছে জোর করে কমেডি ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
ভালো লাগার চরিত্রঃ বইয়ের মূল চরিত্র সাকিব আর শান্তা হলেও আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে শাকের সাহেবকে। ভদ্রলোকের মাঝে একটা "স্যাভেজ" ভাব আছে। আশা করি খান পরিবারের যাত্রা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, বিনোদন যোগাবে পাঠকদের। শুভকামনা রইলো...
অত্যাধিক একাডেমিক পড়ার চাপের ভিতর দিয়েই বইটা পড়ে শেষ করলাম! খুব মজার! পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় হেসেছি। বইটা যেহেতু রিসেন্ট বের হয়েছে তাই রিসেন্ট ঘটে যাওয়া কিছু মজার ব্যাপারগুলো খুঁজে পাচ্ছিলাম (হাউন আঙ্কেলের ভাতের হোটেল, রিপাবলিক বাংলা'র পাগল রিপোর্টার ইত্যাদি)
বইটা মূলত খান ফ্যামিলি নামক এক উদ্ভট ফ্যামিলির। যেখানে কর্তা শাকের সাহেব গাজা খেয়ে মাতলামি করে বেড়ায়, মা সালমা বিভিন্ন রকমের উদ্ভট রকমের রেসিপি তৈরি করতে থাকে যা সবার খাওয়ার অযোগ্য আর সারাদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় রিলস হাবিজাবি দিয়ে বেড়ায়, বোন সুমাইয়া ঘুম থেকে উঠে খাওয়া বাদ দিয়েও আগে মেক আপ নিয়ে ব্যস্ত থাকে, ছেলে সাকিব যার ঘাড়েই বেশিরভাগ দায়িত্ব থাকে এবং যার সারাদিন কাটে কুকুর-বিড়ালগুলোকে নিয়ে এবং শান্তি নামক সর্বশেষ ক্যারেক্টরটি হচ্ছে সাকিবের বউ, যাকেই কিনা কেবল সবার চেয়ে সুস্থ আর বুদ্ধিমত্তী হিসেবে দেখা গিয়েছে! সব মিলিয়ে ভালোই ছিলো। এত এত পাগলামি ছাগলামির মাঝেও খান ফ্যামিলি কিন্তু অত্যন্ত সুখে আছে। পাশপাশি গল্পে প্রাণীদের প্রতিও দেখা গিয়েছে অগাধ ভালোবাসা!
বেশ কিছুদিন হলো বইটি শেষ করলাম। রিভিউ লেখা হয়ে উঠেনি বিভিন্ন কারণে। লেখকের খান ফ্যামিলি বইটা আমার ভীষণ ভালো লেগেছিল। সে কারণেই তার সিক্যুয়েলটা নেওয়া। প্রথম বইয়ে একেকজনের যা কান্ড ছিল, তারপরেও তাদের সাকিবকে একটু সুস্থ মনে হলো আর কি। কিন্তু খান ফ্যামিলির সদস্য হয়ে কীভাবে কেউ স্বাভাবিক থাকতে পারে? ওহ্ আচ্ছা, এইবার খান ফ্যামিলিতে কিন্তু নতুন আরেকটি সদস্য যুক্ত হলো। ঐ যে শান্তি। শেষপর্যন্ত শান্তি তার সাকিবকে পেল।
রম্য উপন্যাস যেহেতু, হাসির কান্ড তো থাকবেই। কমিক টাইমিং গুলো কিন্তু সেরা ছিল।বর্তমান সময়ের বেশ কিছু ফেমাস ডায়ালগ কিন্তু ছিল। তবে হ্যা, একটা কথা একটু ব বলতেই হয় যে, কিছু কিছু জায়গায় মনে হলো যেন ডায়ালগ ডেলিভারিগুলো একটু জোরপূর্বক ছিল। তাছাড়া বেশ ভালোই লেগেছে। এবারও সালমা খানের বিশেষ বিশেষ রেসিপির সন্ধান পাওয়া গেছে। ১২১ পৃ পর্যন্ত ভেবে গেলাম, সালমা খান এখনও কেন সে-ই বিখ্যাত ডায়ালগটা দিলো না,যেটা পৃথিবীতে সকল স্বামী বিয়ের কোনো এক পর্যায়ে শুনে। অবশেষে ১২২ পৃষ্ঠায় এসে এই আক্ষেপ মিটলো। এটা আবার আমার পছন্দের লাইন। সপ্তাহে ৩-৪ বার তো আমরা শুনি-ই। এটার আরও একটা বই বের হলে মন্দ হবে না।