আমেরিকান মেকানিক্যাল অ্যান্ড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানি থেকে দারুণ এক জিনিস হাতিয়ে নিয়েছে রানিয়া। জিনিসটা হামাসের এজেন্ট জামাল মুয়াম্মারের হাতে তুলে দিতে গিয়ে দেখে, মোসাদ তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে! এরপর সেটা হামাসের আরেক কর্মী সাফিয়ানার হাতে তুলে দেয় রানিয়া। কিন্তু তাকে জীবন দিয়ে চুকাতে হয় এর মূল্য। জিনিসটা এখন সাফিয়ানার হাতে। তারও পিছু নিয়েছে মোসাদ। মরার আগে জিনিসটা কোনো রকমে তুলে দিতে পারল তার হবু স্বামী আলি নামের এক বাংলাদেশির হাতে। আলি কী করবে? চার চারটি খুনের পরোয়ানা ঝুলছে তার মাথার উপর। এফবিআই, সিআইএ এবং মোসাদ একযোগে খুঁজে বেড়াচ্ছে তাকে! সে কি পারবে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে আমেরিকা থেকে পালাতে? এমনই শ্বাসরুদ্ধকর থ্রিলার ফিকশনের রোমাঞ্চ নিয়ে মলাটবদ্ধ—’দ্য টাইগার অব ফিলিস্তিন’। সায়ীদ উসমানের থ্রিলার ফিকশন মানেই উত্তেজনা। তাতে একসাথে ডালপালা মেলেছে আমেরিকা, বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিনের প্রেক্ষাপট!
শুরু থেকে শেষ পুরোটাই ভালো লেগেছে। লেখকের "ইসরাইলের বন্দিনী" পড়ার পর আর কোনো লেখাই পড়ার ইচ্ছা হচ্ছিল না। কিন্ত বই কিনে ফেলে রাখার মত বদঅভ্যাস করতে নারাজ আমি। অনেকটা জোর করেই পড়তে নিয়েছিলাম। বাকিটা গল্পই টেনে নিয়ে চলল। দুইটি বইয়ে লেখার ধরনের ফারাক ব্যপক। বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় যে লেখক একই ব্যক্তি। লেখার স্টাইলের তফাতের পাশাপাশি আমার চোখে ধরা পরেছে কিছু সূক্ষ্ম জিনিসও। এই যেমন ইসরাইলের বন্দিনী বইয়ে হিব্রু ফর্মে "বেনইয়ামিন" আর এই বইয়ে ইংরেজি ফর্মে "বেন্জামিন"; একই শব্দের ভিন্ন উচ্চারণ ভিন্ন ব্যাকড্রপকের প্রতিফলন। এসব প্রমাণ করে লেখকের ভার্সেটালিটি। এই লেখক নাকি গীতিকারও। স্পয়লার এলার্ট!!! সাইদ আতিফ আর সিদরা শুধুমাত্র মুখের কথায় পেড্রুই যে আলি সেটা মেনে নিলো কীভাবে?
প্লট সুন্দর, তাই শেষের দিকে বেশ ভালো লেগেছে। তবে লিখার ভাষাটা বেশ যান্ত্রিক অনেক জায়গায় এবং আশানুরূপ ছিলো না। তবে, ওভারভিউ ভালো ছিলো মাশাআল্লাহ। আলীর দুর্দান্ত সাহসিকতা আর কৌশল। সবমিলিয়ে বেশ ভালো। শুধু লিখাটা আরেকটু সুন্দর হলেও পাঁচ তারকা পেতো।
হ্যাঁ, ফিলিস্তিন একদিন স্বাধীন হবেই ইনশাআল্লাহ। 🇵🇸🇵🇸🇵🇸