মানুষ জন্মগতভাবে সত্যান্বেষী। সত্যকে খুঁজে পাওয়ার অন্বেষণে যে-উত্তেজনা, আর অন্বেষণ করে সত্যকে খুঁজে না-পাওয়ার যে-যাতনা— দুটোই মানবমনের কাছে আরাধ্য। কিন্তু গোড়াতেই মানুষ যখন মিথ্যাকে চিহ্নিত করতে অক্ষম হয়ে পড়ে, তখন সে সত্য অন্বেষণের জার্নি থেকে অবসর গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। মোটা দাগে মানুষ এটাই করে। তবে জগতে রিয়ালিটির মূল কাঠামোটা এমনভাবে তৈরি হয়েছে যে, এখানে কিছু সংখ্যক মানুষকে সত্য অন্বেষণের দণ্ড নিয়েই চলতে হয় জীবনভর। এই দণ্ডকে সহনীয় করার জন্য দণ্ডিত সেই মানবেরা বের করে নিয়েছে নানান উপায়, নানান অস্ত্র। তারা মিথ্যাকে দূরীকরণের অস্ত্র হিসেবে নির্মাণ করেছে আরও অভিনব সব মিথ্যা। অনেকটা কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার মতোই। মানবের তৈরি সেরকম এক অভিনব মিথ্যা হল সিনেমা। আর তাই এই মিথ্যা গুরুতরভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে মানবের দর্শনে, যা প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে এই বইয়েও।
কবি, লেখক, অনুবাদক ও দার্শনিক। জন্ম ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশের রংপুরে। পিত্রালয় কুমিল্লায়। ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। আগ্রহ সাহিত্য, সিনেমা, মনস্তত্ত্ব ও অস্তিত্ববাদী দর্শনে।