Jump to ratings and reviews
Rate this book

A Death in the Sánchez Family

Rate this book
5 ½ x 8 ½ (approximately) 119 pages. BACKGROUND/ First Printing stated with the correct number line present '10 9 8 7 6 5 4 3 2 1'. RANDOM HOUSE, NY 1969. The book is about the story of the death of Aunt Guadalupe. What happened at her funeral and the members of the Sanchez family that came as mourners.

119 pages, Hardcover

First published January 1, 1969

Loading...
Loading...

About the author

Oscar Lewis

274 books42 followers
Oscar Lewis was born in New York City in 1914, and grew up on a small farm in upstate New York. He received his PhD in anthropology from Columbia University in 1940, and taught at Brooklyn College and Washington University before helping to found the anthropology department at the University of Illinois, where he was a professor from 1948 until his death. From his first visit to Mexico in 1943, Mexican peasants and city dwellers were among his major interests. In addition to The Children of Sanchez, his other studies of Mexican life include Life in a Mexican Village, Five Families, Pedro Martinez, and A Death in the Sanchez Family. He is also the author of La Vida: A Puerto Rican Family in the Culture of Poverty—San Juan and New York, which won the National Book Award, and Living the Revolution: An Oral History of Contemporary Cuba, with his wife, Ruth Maslow Lewis, and Susan M. Rigdon. Lewis also published widely in both academic journals and popular periodicals such as Harper’s Magazine. Some of his best-known articles were collected in Anthropological Essays (1970). The recipient of many distinguished grants and fellowships, including two Guggenheims, Lewis was a Fellow of the American Academy of Arts and Sciences. He died in 1970.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
40 (43%)
4 stars
30 (32%)
3 stars
17 (18%)
2 stars
4 (4%)
1 star
1 (1%)
Displaying 1 - 14 of 14 reviews
Profile Image for Muhammad .
152 reviews12 followers
August 12, 2018
আমেরিকান নৃতত্ত্ববিদ ও ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয়-আরবানা শ্যাম্পেনের নৃতত্ত্ববিভাগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক অস্কার লুইজের অনবদ্য কাজ ‘দ্যা চিল্ড্রেন অফ সানচেজ’। ষাটের দশকে লেখা এই ডকু-ফিকশনটি আজ ধ্রুপদী সাহিত্যের মর্যাদাপ্রাপ্ত। মেক্সিকোর এক গরীবস্য গরীব সানচেজ পরিবারের ওপর নৃতাত্ত্বিক গবেষণা করে লুইজ বইটি প্রকাশ করেন ১৯৬১ সালে। এ বইয়েরই অন্যতম একটি চরিত্র গুয়াদালুপে’র মৃত্যু নিয়ে পরবর্তীতে বছর আষ্টেক পরে লেখেন ‘আ ডেথ ইন দ্যা সানচেজ ফ্যামিলি’। সানচেজ পরিবারের ওপর লেখা বই দুটো রাতারাতি তাঁকে উত্তর-দক্ষিণ, উভয় আমেরিকাতেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। তবে অস্কার লুইজের বই নিয়ে আলোচনা করবার আগে তাঁর গবেষণার বিষয় ও প্রকৃতি নিয়ে ক’টা কথা না বললেই নয়!

নৃতত্ত্বের অ্যাকাডেমিক পর্যায়ে অস্কার লুইজ বিখ্যাত তাঁর ‘কালচার অফ পভার্টি’ তত্ত্বের জন্য। লুইসের এ তত্ত্বমতে দরিদ্র পরিবারগুলোতে দারিদ্র্য একধরণের সংস্কৃতির মতো চর্চিত হয়! এই সংস্কৃতির পুণরাবৃত্তি চক্রাকারে দরিদ্র পরিবারগুলোতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলতে থাকে, এমনকি যদিবা এই পরিবারগুলোর কোন সদস্যের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটে, তবুও। লুইজের বিশ্লেষণ বলছে দারিদ্র্যের কারণে হতদরিদ্র পরিবারগুলো হীনমন্যতায় ভোগে, এবং সেখান থেকে জন্ম নেয় আক্রমণাত্নক মনোভাব, প্রবল যৌন-বৈষম্য ও নিয়তিবাদ। এই বিষয়গুলোর প্রভাবে এই হতভাগ্য মানুষদের জীবনের লক্ষ্যও ভীষণ ছোট হয়ে পড়ে। শিক্ষিত হয়ে নিজের সমাজ বা পরিবারের অবস্থার উন্নতি ঘটাবার চেষ্টা, ইচ্ছে বা মানসিকতা কোনটাই আর তাদের মাঝে কাজ করেনা। যে দরিদ্র পিতামাতারা নিজেরা অর্থকষ্টের দায়ে আধপেটা খেয়ে অপুষ্টিতে ভুগে পড়াশোনায় অন্যান্যদের চেয়ে পিছিয়ে পড়ে, এবং স্বল্প সে শিক্ষা দিয়ে কোনমতে বেঁচে থাকার মতো একটা কাজও যোগাড় করে নিতে পারেনা, তাদের কাছে শিক্ষা বিষয়টি স্রেফ ফাঁকা বুলি এবং গরীবের ঘোড়ারোগ রূপে প্রতীয়মান হয়। সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে কোন লাভ নেই এই ধারণাটি তাদের মনে দৃঢ়ভাবে গেঁড়ে বসে। এই সন্তানেরা নিজেরা যখন বাবা-মা হয়, তারা তাদের সন্তানদের সেই একই পরিণতির দিকে একইভাবে ঠেলে দেয় যে অন্ধকূপে তারা নিজেরাও বন্দী। লুইজ যদিও তাঁর বেশীরভাগ গবেষণা চালিয়েছেন মেক্সিকো কিংবা পুয়ের্তো রিকো’র মতো হিস্প্যানিক প্রধান অঞ্চলে, তবে তাঁর দাবী, ছোটলোক-বড়লোক বিভাজন যেহেতু পৃথিবীর সর্বত্রই সমানভাবে বিরাজমান, দরিদ্র পরিবারগুলোর উপর্যুক্ত হীনমন্যতাসুলভ আচরণগুলোও দেশ-কাল-জাতি-সময়ভেদে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অটুট থাকে।

লুইজ তাঁর কালচার অফ পভার্টি তত্ত্ব জনসম্মুখে উপস্থাপন করবার পর তাঁর পক্ষে-বিপক্ষে বিপুল আলোচনা শুরু হয়ে যায়। খোদ মেক্সিকোতে তাঁর তত্ত্বের সমালোচনাটা বেশী হয়, বলা বাহুল্য। মেক্সিকোর যে সুন্দর, স্বাভাবিক, স্বচ্ছল ইমেজ পৃথিবীবাসীর সামনে ছিলো, লুইজ আচমকা সেই ইমেজটিকে বেআব্রু করে দিলেন। বেরিয়ে এলো থলের বিড়াল। বিলেত-আমেরিকাতেও এ তত্ত্ব নিয়ে কম আলোচনা-সমালোচনা হয় নি। ১৯৬৫ সালে আমেরিকার শ্রমবিভাগের জন্য ড্যানিয়েল ময়নিহান ‘দি নিগ্রো ফ্যামিলিঃ দি কেইস ফর ন্যাশনাল অ্যাকশন’ শীর্ষক একটি রিপোর্ট লেখেন যেখানে তিনি লুইজের তত্ত্বের প্রয়োগ ঘটান। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসন তখন ‘ওয়ার অন পভার্টি’ ঘোষণা করেছেন। ময়নিহানের রিপোর্টে উঠে এসেছে আফ্রিকান-আমেরিকানদের মাঝে দারিদ্র্যের সংস্কৃতি চর্চিত হবার কথা, তাদের সমাজে এ চক্রের আরো বিপুল গতিতে ঘুরপাক খাবার কথা। বস্তুতই, ’৬৫ সালের সে রিপোর্টের পর অর্ধশতকের বেশী সময় পেরিয়ে গেলেও আজও আমেরিকান সমাজে সাদা-কালোর বিভাজন ও এ দুই সমাজের আর্থসামাজিক কাঠামোর পার্থক্য পর্যবেক্ষণ করতে বসলে তা চোখে লঙ্কা পড়বার মতোই যন্ত্রণা দেয়, বেরিয়ে আসে অনেক ঢেকে রাখা অপ্রিয় সত্য। ক্ষেত্রবিশেষে এই আফ্রিকান-আমেরিকানদের কাণ্ডকীর্তি দেখলে মনে হয় এই মানুষেরা মনে মনে ঠিক করেই নিয়েছে, ঈশ্বর মানুষ বানাবার সময় একধরনের কালার কোড ব্যবহার করেছেন, প্রকৌশলীরা তাঁদের গবেষণাগারে কালার কোড দেখে দেখে যেমন সার্কিট বানান (কমলা বর্নের রেজিস্টার অর্থ ... ওহম, লাল বর্ণের রেজিস্টার অর্থ ... ওহম... ইত্যাদি)। আমাদের মনের গভীর অন্ধকারেও হয়তো এখন কাজ করে বুদ্ধিদীপ্ত, ভাবুক, মানবিক এবং সৃষ্টিশীল মানুষেদের গায়ের রঙ হবে সাদা। তালিকার দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থানটি বাদামী চামড়ার হিস্প্যানিক কিংবা উপমহাদেশীয় মানুষদের দখলে যাবে নাকি হলুদ চামড়ার চীনে-জাপানীদের দখলে যাবে সেটি নিয়ে তর্ক হতে পারে, কিন্তু প্রথম এবং শেষ স্থানটি যথাক্রমে সাদা এবং কালো মানুষদের জন্য সর্বকালে সর্ববেলায় সংরক্ষিত। গণিতের ভাষায়,

সাদা > বাদামী > কালো

সামাজিক অবস্থার দায়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মানুষদের নিজেদের অমন ছোট করে দেখবার প্রবণতার কথা লুইজের গবেষণায় বারবার এসেছে, প্রচ্ছন্নভাবে বিভিন্ন ইঙ্গিতের মাধ্যমে এসেছে আলোচ্য বইটিতেও। লুইজ প্রথম আলোচনায় আসেন ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো’র নৃতত্ত্বের অধ্যাপক রবার্ট রেডফিল্ডের বিখ্যাত একটি গবেষণাকর্মের সমালোচনা করে। রেডফিল্ড ১৯৩০ সালে মেক্সিকোর তেপোজতলানের কৃষক সমাজের ওপর নৃতাত্ত্বিক গবেষণা করে বলেছিলেন সেখানের অধিবাসীদের ভেতর ভীষণ ঐক্য, তারা একসাথে হয়ে সব সমস্যার মোকাবেলা করে, একে অপরের সাহায্যে এগিয়ে আসে... ইত্যাদি। লুইজের গবেষণা বলছে তেপোজতলানের কৃষক সমাজ আসলে অত্যন্ত সংঘাতময়, জমি এবং ক্ষমতার দখল নিয়ে সেখানে খুনাখুনি-খেয়োখেয়ি লেগেই আছে! সে সময়ের বেশীরভাগ নৃতাত্ত্বিক কাজেই দেখানো হতো কোন একটি নির্দিষ্ট গ্রাম, গোত্র বা সংস্কৃতির অংশ যে মানুষেরা, তাদের নিজেদের ভেতর সম্পদের বণ্টন নিয়ে কোন শ্রেণীবৈষম্য নেই, ধনী-গরীবের মাঝে কোন কলহ নেই। যা কিছু বিবাদ আদৌ আছে সেটি দ্বিতীয় কোন গ্রাম, গোত্র বা সংস্কৃতির মানুষের সাথে। একই গোত্রের মানুষের ভেতরও যে ক্ষমতার দখল নিয়ে কামড়াকামড়ি চলে, চলে আসছে, সে কথা বেমালুম চেপে যাবার বেশ একটা চল তখন ছিলো। লুইজ রূপকথার গল্প না শুনিয়ে মুখের ওপর সত্যটা ছুঁড়ে মেরেছেন। মিথ্যের অন্ধকারে লুইজ আলো ফেলবার পর বহু কৃষিকাজ-নির্ভর গ্রামের বয়ানে উঠে এসেছে ক্ষমতার দখল নিয়ে অন্তর্কলহের চিরাচরিত সেই চিত্র।

লুইজের কালচার অফ পভার্টি তত্ত্বে প্রচ্ছন্নভাবে এই ইঙ্গিতটি আছে যে, দরিদ্রদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি না হবার পেছনে তারা নিজেরাই দায়ী; ব্রিটেন-আমেরিকায় এই দৃষ্টিভঙ্গির বেশ সমালোচনা হয়। দরিদ্রদের ঘাড়েই দোষ না চাপিয়ে সে সমাজের রাজনৈতিক অবস্থা, অর্থনৈতিক সংকোচন-প্রসারণ ইত্যাদি বিষয়কে আমলে নেবার ব্যাপারে তাঁরা মত দেন। লুইজের মন্তব্য ছিলো ধনী-গরীবের ভেদাভেদ-ই যেখানে মুখ্য, টিকে থাকার নির্মম প্রতিযোগীতায় যখন সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত, অমন বিভাজন সৃষ্টিকারী ভীষণ রকম পুঁজিবাদী সমাজের সাথে তাল মেলাতে না পেরেই নিজেদের আলাদা পরিচয়, আলাদা সংস্কৃতি তৈরী করে দরিদ্ররা; এ সংস্কৃতির চর্চা তাদের খাপ খাওয়াতে না পারার হতাশা থেকে উদ্ভূত স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া মাত্র। এ সংস্কৃতির যে বৈশিষ্ট্যগুলো তিনি তালিকাবদ্ধ করেন, সেই যৌনবৈষম্য, প্রবল নিয়তিবাদ, বেপরোয়া মনোভাব, ছোট ও স্বল্পমেয়াদী লক্ষ্যের প্রতি অধিক আকর্ষণ ইত্যাদি বিষয়গুলোর উৎপত্তি সমাজের সেই ধনী-গরীব ��িভাজন থেকেই এসেছে বলে লুইজ মনে করতেন। মাত্র ৫৬ বছর বয়েসে ওপারে চলে যান বলে তাঁর সমালোচকদের উপযুক্ত জবাব দিয়ে যেতে পারেননি তিনি।

‘আ ডেথ ইন দ্যা সানচেজ ফ্যামিলি’-বইটি মূলত দারিদ্র্য কিভাবে দরিদ্র মানুষদের জীবন থেকে মৃত্যু অবধি তাড়িয়ে বেড়ায় তার আখ্যান। ‘দারিদ্র্যের কষাঘাত’-কথাটি আজ বহু বহু ব্যবহারে জীর্ণ; দারিদ্র্যের স্বরূপটি আদৌ কতখানি ফুটে ওঠে এই শব্দদ্বয়ের প্রয়োগে তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ থাকতে পারে, তবে ভীষণ দরিদ্র এক পরিবেশে জন্ম নেয়া তার চেয়েও ঢের ঢের দরিদ্র গুয়াদালুপের ওপর জীবনভর যা চলে গেল, তাকে চাবুকের আঘাত ছাড়া আর কি-ই বা বলা যায়? এ বইয়ের শুরুতে ভূমিকায় অস্কার লুইজ ড্যানিশ ঔপন্যাসিক মার্টিন অ্যান্ডারসেন নেক্সো’র জীবনের একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। কোপেনহেগেনের এক বস্তিতে বাস করা তিন বছর বয়েসী নেক্সো তাঁর ভাই মারা যাবার পর মাকে জিজ্ঞেশ করেছিলেন ভাই এখন তাঁর স্বর্গের দেবদূত হয়ে গিয়েছে কিনা। নেক্সোর মায়ের জবাব ছিলো স্বর্গে গরীবদের প্রবেশাধিকার মোটেই নেই, মাটির নিচের কবরে কোনমতে সেঁধোতে পারলে তাতেই খুশী থাকা উচিৎ। নেক্সোর মায়ের দীর্ঘশ্বাস মেশানো বাঁকা হাসিতে বলা এ কথাটি গুয়াদালুপের জীবনের গল্পেরই সারাংশ। বাস ভাড়া দিতে হবে বলে হাসপাতালে না গিয়ে গিয়ে অসুখ জমিয়ে একসময় ব্যথাক্রান্ত, কপর্দকশূণ্য, ক্ষুধার্ত গুয়াদালুপে বৃদ্ধ বয়েসে এসে মারা যান, কিন্তু সেখানেই গুয়াদালুপের ভোগান্তির শেষ হয় না। লাশ কিভাবে সৎকার হবে ভীষণ জটিল সে অর্থনৈতিক প্রশ্নটির গোলকধাঁধায় গুয়াদালুপের লাশ ঘুরপাক খেতে থাকে। তবে সেসব পরের কথা, আগে গুয়াদালুপের জীবনের একটি চিত্র দেখে আসা যাক…

মেক্সিকোর গুয়ানাহুয়াতোতে ১৯০০ সালে জন্মগ্রহণ করা গুয়াদালুপেরা ছিলেন সবশুদ্ধ ১৮ ভাই বোন, এদের মাঝে ৭ জনই কেবল জন্মের পর পয়লা বছরের ফাঁড়া কাটিয়ে বেঁচে উঠতে পারে। গুয়াদালুপের ভীষণ দরিদ্র ও অশিক্ষিত বাবা-মা’র ছিলো মিষ্টি বেচার ব্যাবসা। ভোর ৩টায় বিছানা ছেড়ে উঠেই ছুট লাগাতে হতো নতুন রুটি কেনার জন্য। দুপুর নাগাদ বেচা-বিক্রী শেষ করে খেয়ে দেয়ে সামান্য একটু জিরিয়ে নিয়েই আবার বিকেল সাড়ে চারটের দিকে বেরিয়ে পড়তে হতো, ফিরতে ফিরতে কখনো কখনো রাত দুটো! ভীষণ কড়াকড়ির মাঝে বেড়ে ওঠা গুয়াদালুপের ছিলোনা বাইরে খেলতে যাবার অনুমতি। কোনদিন হয়নি ছোট্ট গুয়াদালুপের আকাশে ঘুড়ি ওড়ানো কিংবা পরিবারের সবার একসাথে মিলে সিনেমা দেখতে যাওয়া কিংবা পুতুল-বাটি নিয়ে খেলা করা; খ্রীষ্টধর্মে প্রবল বিশ্বাস রাখা গুয়াদালুপের বাবা-মা’র ধারনা ছিলো পুতুল খেলা অমঙ্গলকর। জায়গায় জায়গায় রং-বেরঙের তালি মারা শতচ্ছিন্ন হাতে গোনা এক-দু’টি কাপড়ে গোটা শৈশবটা পার করতে হয়েছে গুয়াদালুপেকে। পরিণত বয়েসে বৃদ্ধাবস্থায় মারা যাবার সময়ও তাঁর কাপড়ের সংখ্যা ছেলেবেলার চেয়ে বাড়েনি খুব একটা। কোনদিন স্কুলের গণ্ডিতে পা ফেলা হয়নি গুয়াদালুপের; বাড়ির কাজে হাত লাগাতে হয়েছে শিশুকাল থেকেই। চার বছর বয়েসে থাকতেই বাবার জামাকাপড় ধোয়া দিয়ে শুরু, এরপর খাবার তৈরি, ছোট ভাই-বোনদের সামলে রাখা এসব তো ছিলোই। লুইজের কাছে সাক্ষাৎকারে গুয়াদালুপে বলেছেন ছোটবেলায় টেবিলে খাবার সাজাতে গিয়ে প্লেট ভেঙ্গে ফেললে শাস্তিস্বরূপ গুয়াদালুপের মা ভাঙ্গা সেই কাঁচের টুকরোগুলো দিয়েই গুয়াদালুপের হাতের এখানে ওখানে কেটে দিতো।

গুয়াদালুপের বয়েস যখন ১৩, ফিদেন্সিও নামের ৩২ বছর বয়েসী এক প্রতিবেশী তাঁকে ধর্ষণ করে। ফিদেন্সিও অবশ্য তাঁর দিকে হাত বাড়িয়েছিলো আরো বছর চার আগেই, যখন গুয়াদালুপের বয়স ৯। ব্যবসার কাজে একদিন বাবা-মা বাইরে থাকলে ফিদেন্সিও সে সুযোগে ঘরে ঢুকে চাকু ঠেকিয়ে গুয়াদালুপেকে উঠিয়ে নিয়ে এক গুহায় রেখে ধর্ষণ করে ক্রমাগত। প্রবল রক্তপাতে দুর্বল গুয়াদালুপেকে ১৫ দিন বিছানায় থাকতে হয়। তাঁর বাবা এ ঘটনা জেনে গেলে সে অবস্থাতেই তাঁকে কষে চাবুকপেটা করে, আরো দুটো সপ্তাহ বিছানায় কাটে। যে নারীর কুমারীত্ব নাশ হয়েছে সে নারীর কোন মূল্য গুয়াদালুপের বাবার কাছে ছিলোনা। জোর করে বাবা সেই ফিদেন্সিওর সাথেই গুয়াদালুপের বিয়ে দেয়। শ্বশুরবাড়ীতে হাঁড়ভাঙা পরিশ্রম, শ্বাশুড়ির গঞ্জনা, অত্যাচার এসব তো ছিলোই, উপরি হিসেবে ছিলো প্রতিনিয়ত ফিদেন্সিওর মারধোর। একদম শেষ মুহুর্তের আগে ছাড়া গুয়াদালুপে বোঝেওনি শরীরের ভেতর আরেকটি মানুষ চলে এসেছে। সদ্য কৈশোরে পা ফেলা ছোট্ট গুয়াদালুপের ধারণা ছিলো তার পেটের ভেতর কোন একটি প্রাণী ঢুকে গেছে, খুব শিগগীরই তার মৃত্যু ঘটতে যাচ্ছে। ১৪ বছর বয়েসে ছেলে লুইসের মা হয় গুয়াদালুপে। ইতোমধ্যে মেক্সিকোর গৃহযুদ্ধে ফিদেন্সিও মারা গেছে। শ্বাশুড়ী তাকে বাড়ীর রাস্তা ধরতে বলে দেয়। গুয়াদালুপের দেবর, ফিদেন্সিওর ভাই, পেশায় ড্রাইভার, কিন্তু গুয়াদালুপেকে গুয়ানাহুয়াতোতে নিয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। বালিকা মা গুয়াদালুপেকে অতঃপর বুকে সদ্যজাত সন্তানকে জড়িয়ে ডাকাতসঙ্কুল ভয়ানক দূর্গম এক রাস্তা পায়ে হেঁটে পাড়ি দিতে হয়। পথে খাদ্যাভাবে এবং প্রাকৃতিক দূর্যোগে প্রায় প্রাণ হারাবার উপক্রমই হয়েছিলো। এক ট্রাক ড্রাইভার সাহায্য না করলে বন্যার পানিতে ভেসেই যেতো তারা। যে সন্তানকে নিয়ে একা একা অমন বিপদজনক রাস্তা পাড়ি দিয়েছিলেন গুয়াদালুপে, সেই লুইসই পরবর্তীতে মা’র চরম অবাধ্য পুত্রে পরিণত হয়। দাদীর সাথে থাকবার সুবাদে মা’র ব্যাপারে ক্রমাগত বিষোদগার শুনে শুনে কান ভারী করে ফেলা লুইস একসময় গুয়াদালুপের মুখের ওপর দরজা লাগিয়ে দেয়া শুরু করে। মদের প্রতি দুর্বার আকর্ষণ খুব কম বয়েসেই লুইসের প্রাণ কেড়ে নেয়। ফিদেন্সিওর পর গুয়াদালুপের আরো বেশ কয়েকবার বিয়ে হয়। দ্বিতীয় স্বামী ইগান্সিওর সাথে একটি ছেলেও হয়, সালভাদর। এই সালভাদরও ২৪ বছর বয়েসে মদ্যপ অবস্থায় প্রেমঘটিত সংঘাতে প্রাণ হারায়।

অ্যালকোহলের অভিশাপ গুয়াদালুপের গোটা পরিবারকেই তাড়া করে বেড়িয়েছে। একজন বাদে ভাইদের মধ্যে বাকী সবাইই অল্প বয়েসেই মারা গেছে মদের বিষক্রিয়ায়। গুয়াদালুপের বোন লেনোরও ২৮ বছর বয়েসে পঞ্চম সন্তান জন্ম দেবার সময় মারা যায়; সেখানেও অ্যালকোহলের বড় ভূমিকা রয়েছে। দারিদ্র্যের হতাশা থেকে পালিয়ে বেড়াতে এই অ্যালকোহলই ছিলো এদের ভরসার বড় (এবং হয়তো একমাত্র) জায়গা। জীবনের লক্ষ্য একদিকে যেমন ক্রমাগত ছোট হয়ে এসেছে, সেই সাথে তাল মিলিয়ে বেড়েছে নেশায় চুর হয়ে পড়ে থাকার তীব্র তাড়নাটা। দারিদ্র্যের সংস্কৃতির যাঁতাকলে এভাবেই তিলে তিলে মরেছে গুয়াদালুপের চারপাশের মানুষেরা।

অস্কার লুইজ যখন মেক্সিকো সিটির হতদরিদ্র প্রান্তিক মানুষদের জীবন-যাপন নিয়ে গবেষণা করেন, বৃদ্ধা বয়সের গুয়াদালুপেরা তখন গায়ে গা লাগানো নোংরা খুপরি ঘরে সাজানো এক বস্তিতে থাকতেন, ল্যাটিন আমেরিকায় যাকে বলা হয় ভেসিন্দাদ। লুইজ ও তাঁর দলের অন্তর্ভেদী গবেষণায় সে বস্তি জীবনের খুঁটিনাটি-ইংরেজীতে যাকে বলে minutest details-দারুণভাবে উঠে এসেছে। গবেষণার সময়ে ভেসিন্দাদের অধিবাসীরা সব মিলিয়ে ১২ রকম পেশায় নিয়োজিত ছিলো; বেশীরভাগ পরিবারগুলোই একসাথে দুই, তিন বা চার রকম কাজ করতো। মেয়েদের জন্য সবচেয়ে পছন্দনীয় কাজ ছিলো দোকানদারী করা, আর সবচেয়ে অনাকর্ষণীয় কাজটি ছিলো কাপড় ধোয়া, যেটি গুয়াদালুপে করতেন। ভেসিন্দাদের ১৪টি ইউনিটের ১৩টিতেই ছিলো মাত্র একটি করে ঘর। ১৫ ফুট লম্বা ও ১০ ফুট চওড়া সে ঘরগুলোর বাসিন্দার সংখ্যা ছিলো গড়ে ৬ জন। এছাড়াও, অমন ���রে ৯ জন করে থাকবার নজিরও আছে! ভেসিন্দাদ বস্তিবাসীর মাথাপিছু আয় মাসে ৩.৬০ ডলার থেকে ২৬.২৪ ডলারের মাঝে ঘোরাফেরা করতো। গুয়াদালুপের আয় ছিলো গোটা বস্তিবাসীর মাঝে সবচেয়ে নিচের দিকে, স্বামী-স্ত্রী মিলে মাত্র ৫.২০ ডলার। গুয়াদালুপের তৃতীয় স্বামী গ্যাসপার যখন ভেসিন্দাদে ওঠে, এই ৫.২০ ডলারও অমাবস্যার চাঁদের মতোই দুর্লভ হয়ে ওঠে। গুয়াদালুপের স্থাবর-অস্থাবর জাগতিক সম্পত্তির সম্মিলিত মূল্য ছিলো ১২১.১৩ ডলার, যা ভেসিন্দাদের সবচেয়ে ধনী অধিবাসীর চেয়ে সোয়া আট গুণ কম। গোটা মেক্সিকো সিটিতে ভেসিন্দাদবাসীর সব মিলিয়ে ১২৪৫ জন আত্নীয় স্বজন ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলো, এর ৩০ শতাংশ ভেসিন্দাদের একই এলাকা বা কলোনিয়ার মাঝে থাকতো, বাকী ৭০ শতাংশ থাকতো বাইরের অঞ্চলগুলোতে। আত্নীয়তা এখানে যতটা না সম্পর্কের ভিত্তিতে হতো তার চেয়ে বেশ অনেকটাই হতো কাছাকাছি আর্থ-সামাজিক অবস্থানের প্রেক্ষিতে। যাদেরই আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটেছে তারাই ভেসিন্দাদের পাট চুকিয়ে অন্য কোথাও চলে গিয়েছে।

ধর্মে বা অতিপ্রাকৃতে অন্ধ বিশ্বাস এবং নারীপ্রধান সমাজ কাঠামো-দারিদ্র্যের সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে এই দুটিকে লুইজ সনাক্ত করেছেন। ভেসিন্দাদের যে দারিদ্র্যের ছবি আমরা পাই লুইজের গবেষণায়, তাতে ঈশ্বর কিংবা দৈবিক কোন শক্তিতে বিশ্বাস না রেখে উপায় কি? কে আর যেচে পড়ে এদের উদ্ধারে আসবে? অতিপ্রাকৃতে অতি বিশ্বাসের এই ব্যাপারটি তাই ঘুরে ফিরে পৃথিবীর সকল দরিদ্র পরিবেশে একইভাবে প্রভাব বিস্তার করে; আমাদের দেশে চাঁদের বুকে সাইদীর ছবি দেখার ঘটনাটির ব্যখ্যা সম্ভবত এখানেই মেলে। এছাড়াও ধর্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে এখানে প্রতিনিয়তই রাজনীতির জঘন্য সব চাল চালা হয় যার ফলে আমরা বারবার দিক হারাই আমরা আগে বাঙালি নাকি আগে মুসলমান এই প্রশ্নে। মেক্সিকোর অন্যতম ধর্মীয় বা আধ্যাত্নিক আচার হলো ডে অফ দি ডেড এর উদযাপন; মেক্সিকানরা বিশ্বাস করে নভেম্বরের প্রথম দুই দিন মৃত মানুষের আত্নারা তাদের পরিবারের সাথে দেখা করতে মর্ত্যে নেমে আসে। মজার ব্যাপার হলো দারিদ্র্যের শেষ সীমায় বাস করা ভেসিন্দাদের অধিবাসীদের ৯১ শতাংশই মৃতদের আত্নার এই নিজেদের পরিবারের সাথে পুণর্মিলনের গল্পে বিশ্বাস করে, অপর দিকে, ভেসিন্দাদের চেয়ে তুলনামূলক ভালো আর্থিক অবস্থানে থাকা কাসা গ্রান্দের অধিবাসীদের মাত্র ৩৪ শতাংশের বিশ্বাস ছিলো ডে অফ দি ডেড-এ। ঈশ্বর বলে সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ এবং সবচেয়ে দয়াশীল কোন ব্যাক্তি-যিনি প্রচলিত ধারণামতে দয়াপরবশ হয়ে দৈবিক কোন উপায়ে এক ফুঁয়ে সব সমস্যার সমাধান করে দেন-আদৌ তাঁর কোন অস্তিত্ব না থেকে থাকলে সেদিনের সে মেক্সিকো বা আজকের দিনের এ ক্ষয়াটে বাঙলাদেশ কতটা দুঃস্বপ্নময়, কতটা দম বন্ধ করা ও সমাধানহীণ, সেটি কল্পনা করা যায়?

দারিদ্র্যের সংস্কৃতির সাথে নারীপ্রধান সমাজের সম্পর্কের ব্যাপারেও কিছুটা চোখ ফেরানো যাক। এ ধরণের হতাশায় ভোগা প্রান্তিক পর্যায়ের দরিদ্র সমাজের পুরুষেরা মূলত নেশাপানি, বেশ্যাবাড়ী এসবেই আয়ের সব টাকা ফুঁকে দেয়। এ ব্যাপারটিকে মাথায় রেখেই গ্রামীন ব্যাংক কুটির শিল্পের জন্য শুধুমাত্র নারীদের ঋন দেয়, তাঁদের স্বামীদের সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে। আমাদের দেশের দেউলিয়া হয়ে যাওয়া রাজনৈতিক কাঠামোর দিকে দেখলে নারীপ্রধান একটি চিত্রই চোখে পড়ে। সরকার প্রধান, বিরোধী দল প্রধান, সংসদের স্পিকার প্রমুখ সকলেই নারী, এবং এটি নিয়ে নারীর ক্ষমতায়নের অনেক বড় বড় বুলির জোরপূর্বক অরগ্যাজমও ঘটানো হয় হরেদরে। তবে তাতে নারীর উন্নয়ন আদৌ কতটুকু হয়েছে এই পোড়ার দেশে তা বিজ্ঞজনেরা সকলেই জানেন। নিতান্ত দলকানা না হলে চলন্ত বাসে নারী ধর্ষণ, চার মাসের শিশু কন্যা ধর্ষণ, বাবা-চাচা-মামা-ফুপা-খালু-দুলাভাই ব্যাতিরেকে সবার কর্তৃক সবার ধর্ষণ চোখে পড়বারই কথা। অস্কার লুইজের আত্না সম্ভবত প্রতি বছর নভেম্বরে ডে অফ দি ডেড-এ পৃথিবীর সব গরীব অঞ্চলে নেমে এসে এসে অট্টহাসি হাসেন।

ব্যক্তিগতভাবে আমি দারিদ্র্যের সংস্কৃতির ব্যাপকতা শুধুমাত্র দরিদ্র কোন পরিবার বা নির্দিষ্ট কোন গোষ্ঠীর ভেতরই সীমাবদ্ধ নয় বলেই মনে করি। একটি গোটা জাতি কিংবা দেশই দারিদ্র্যের সংস্কৃতির ভুক্তভোগী হতে পারে। পৃথিবীর যত অনুন্নত, দুর্নীতিগ্রস্ত, প্রশ্নবিদ্ধ শিক্ষা ও বিচার ব্যবস্থা-সম্পন্ন, অর্থনৈতিকভাবে ভীষণ পিছিয়ে পড়া দেশ রয়েছে সে দেশগুলোর রাজনৈতিক ময়দানে চোখ রাখলে দেখা যায় কার্যত তা মানসিকভাবে ভীষণ রকম দরিদ্র কিছু মানুষের নোংরা খেয়োখেয়ির সংস্কৃতির চর্চা। বাঙলাদেশ সমেত-প্রায় বাতিলের খাতায় ফেলে দেয়া আগাগোড়া পঁচে যাওয়া এই দেশগুলোর প্রতিটিতেই রাজনীতিবিদেরা তাদের বাপ-ঠাকুর্দা, চৌদ্দপুরুষেরা যেভাবে দুর্নী¬তি করে এসেছে, অন্যায়ভাবে সমালোচককে চুপ করিয়ে দিয়েছে, দেশের উন্নতির জন্য কাজ করার লম্বা ও কঠিন রাস্তাটি বাদ দিয়ে জনগণের ওপর লুটপাট চালিয়ে ছোট রাস্তায় বড়লোক হবার পন্থা বেছে নিয়েছে, ঠিক সে একইভাবে নিজেরা বাপ-ঠাকুর্দার দেখানো পথে হেঁটে এসেছে, আসছে। পারিবারিক শিক্ষার চেয়ে বড় শিক্ষা আর কিছুই নেই। অশিক্ষা-কুশিক্ষায় জর্জরিত শিক্ষাব্যবস্থার দরুণ বাঙলাদেশের বেশীরভাগ মানুষের শিক্ষাটাই নামেমাত্র। সনদ কিনবার গৎবাঁধা পুঁথিগত সে বিদ্যা নৈতিকতা শেখায় না। ফলে এ দেশের সাধারণ পরিবারগুলোও তাদের সন্তানদের নৈতিকতার সে শিক্ষাটা দিতে জানেনা। আমাদের রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, শিক্ষক মায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পর্যন্ত সবাই এমনি এক একটি শিক্ষাবিহীন, নৈতিকতাবিহীন, মানবিকতাবিহীন পরিবার থেকে উঠে আসে, মূর্খের রাজ্যে রাজত্ব করে, যাবার বেলায় নিজেদের সন্তান-সন্ততি, স্বামী, স্ত্রী, ভাস্তে, ভাইঝি এদের বসিয়ে যায় আপন আপন সিংহাসনে। দশকের পর দশক ধরে এখানে অশিক্ষিত, রুচিহীন, দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ অপারগ পশুরা দেশের হাল ধরে, প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি হয়, আর তাদের পশ্চাৎদ্দেশ চেটে চেটে বাকীরা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-উপাচার্য, নির্বাচন কমিশনার। বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাপারটি কতো পবিত্র, রাষ্ট্রযন্ত্র বিষয়টি কত মহান, সে সম্পর্কে ছোট নজরের মনের দিক দিয়ে দেউলিয়া এই প্রাণীগুলোর কোন ধারণা কোনদিনও হবেনা। মূর্খের দলেরা যখন আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাটাকে তিলে তিলে শেষ করে দিয়ে নিজেরা ডজনে ডজনে সম্মাননাসূচক ফালতু ডিগ্রি লাগিয়ে ঘুরে বেড়ায়, ক্রোধান্মত্ত আমি ওদের মতোই ছোটলোক হয়ে পড়ি, আমার হাত-পা, মুখ ভদ্রতার রাশ মানেনা তখন আর। সত্যিকার অর্থেই উন্নতিশীল দেশগুলোর সাথে আমাদের দেশের তুলনার বিচারে বসলে আমি খুব বিব্রত হই। আমার বিব্রত হবার মাপকাঠিটা কেমন সেটা কি উদাহরণ দিয়ে বোঝাতে হবে? ধরুন, আপনার বাড়ীতে একজন অতিথি এলেন কয়েকদিন থাকবেন বলে; আপনি আবিষ্কার করলেন অতিথি যাবার সময় নিজের যৌনকেশ ছেঁটে আপনার বাথরুমের মেঝে, বেসিন, টাব, শ্যাম্পু-সাবানের বোতল সবখানে তা ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেলেন। অতিথির এ আচরণ কি আপনাকে বিব্রত করে? আমাকে করে।

Profile Image for Jose Luis.
269 reviews31 followers
September 28, 2024
portada
Hay un libro del FCE que reúne ambas publicaciones: ISBN 9786071608499 si lo puedes conseguir, que mejor.
Un libro corto de 176 páginas
El libro habla de la muerte de la tía Guadalupe, la hermana de la madre de la familia Sánchez.
Inicia con un breve prefacio del autor para situarnos en el momento que ocurrió el fallecimiento de la tía.
El libro esta dividido en 3 partes: La muerte, El Velorio, El Entierro.
Contada a través de 3 hermanos que se hicieron cargo de la tía: Manuel, Roberto y Consuelo.

Fue una lectura en momentos complicada porque recuerdo mis vivencias cuando fallece un ser querido y tengo algunos momentos en que puedo entender por lo que sucede con los 3 hermanos.
No diría que es una continuación del libro "Los Hijos de Sánchez" pero si un "spin-off" o un capítulo aparte porque la tía fue muy importante para ellos.

Si tienes oportunidad de leerlo, claro que vale la pena. Recomendado.
Profile Image for Christopher Walker.
Author 29 books32 followers
January 28, 2023
If any book can be considered timeless, 'A Death in the Sanchez Family' sadly deserves that honour. It is a study of poverty in the face of death, and through Lewis's keen eye for detail and extensive social research, the story becomes absorbing, even essential.
Profile Image for Michael David.
Author 3 books90 followers
October 3, 2018
I have been raised to love and respect knowledge and education, and am thus quite cynical towards those who do not pursue education for themselves.

It's a bias that is steeped in logic: if one knows nothing, and wants to know nothing, one will stay ignorant all his life. This book, however, provides one with perspective: after all, people can only learn if they have time enough to do it. The Sanchez family has a hand-to-mouth existence, and their lives closely parallel those in the slum areas here in the Philippines. Although a few of them may have wanted to learn at one point in their lives, their culture and the necessity of work in order to feed themselves usually only lead them towards despair and alcoholism.

One saying, in particular, struck me as a medical doctor:

"Well, but they didn't give her a bed, because there wasn't one empty, or who knows what? Look, what happens is that we have no money ... that is why they treat us like that. Because if we did, you can bet your life it would be a different story."


I work at a secondary-level hospital, and there are a lot of people I transfer to the public hospital for the poor. It's all the more tragic for those who have absolutely no money, because they have to wait and hope that the overburdened doctors and staff of that tertiary public institution can accommodate them. Usually, there's little time, as these doctors and staff are busy dealing with moribund patients, but such is life like Guadalupe Sanchez's.

At least, with this knowledge, I can hold back from judging, and start understanding.

Profile Image for Michael Esquivel.
242 reviews16 followers
July 9, 2020
13 years after we first meet the Sanchez family (“The Children of Sanchez”) anthropologist Oscar Lewis documents the events around the death of Aunt Guadalupe, the children’s last surviving member on their deceased mom’s side. Struggling to pay for even the most basic of funerals ($35) the children barely manage to gather enough donations and loans from neighbors and other family members to cover the expenses. As the author states, “For the poor, death is almost as great a hardship as life itself.” This short follow-up is a must-read for anyone who enjoyed “The Children of Sanchez.”
Profile Image for Jeff Keehr.
820 reviews5 followers
August 10, 2020
This was the last book I read by Lewis. I'm not sure why I didn't read more by him. I suppose other authors pushed him out of the way in my mind.
Profile Image for Mojtaba Rafiei-korogan.
Author 3 books3 followers
February 13, 2024
روایت‌های سه عضو خانواده‌ی سانچز عالی‌اند ولی مقدمه‌ی اسکار لوئیس از وضعیت یک خانواده‌ی فقیر و از مفهوم فقر تکون‌دهنده‌ست.
Profile Image for Michael Greer.
278 reviews51 followers
December 13, 2020
I think this may be the best book I've read on the vicissitudes of the Sanchez family. Indispensable for understanding the daily struggle of ordinary Mexican people. Oscar Lewis spent much of his professional life examining, living with, and recording accounts of those who belong, what he came to name, 'the culture of poverty.'
Profile Image for Michael Joe Armijo.
Author 4 books39 followers
November 2, 2010
Read this in one-sitting and realize how 'good you have it'

I found this 127 page paperback in the library of the Great Eastern Hotel in London, England. The title caught my eye.
Yes, it deals with grief after a most desirable family member passes away. This Aunt Lupe has lived a most difficult life in Mexico City. It's a cultural look at poverty and the things people must do to simply survive. It was awakening as a reminder of how easily we forget. If there was an earth-shattering event...most of us (EVEN YOU) could be in a similar predicament. It's hard to fathom it possible but we are lucky to have what we do. If any of you have lost a loved one...the book is helpful in dealing with grief as well. Don't be turned off by the depressive title of the book as Oscar Lewis has contributed a fine piece of literature. It is quite the classic.
Profile Image for Nancy.
589 reviews21 followers
August 13, 2014
This is a (too) short follow-up to his previous book on the Sanchez family. The author tells the story of the death of a woman living at the lowest level of poverty in Mexico City. The death, the wake, and the funeral are described by two nephews and a niece, three of the main voices in the previous book.
Profile Image for Wendy.
252 reviews6 followers
October 23, 2009
so heavy, so so heavy. not really about the writing or the writing style. just really reduced to a true telling of 3 family members experiencing the death of their aunt and the situations concerning her burial. it is extreme poverty in mexico - "culture of poverty."
Profile Image for Jaret.
56 reviews6 followers
March 16, 2014
This book is much shorter than "The Children of Sanchez" but is written in the same style of first person narratives. Really short but good read.
Profile Image for P Pajouhesh.
48 reviews2 followers
September 27, 2018
امتياز دقيق‌تر: 1.5/5
معمولی.
از نظر علمی مشکلش بی‌هدفی‌ئه. «فرزندان سانچز» مردم‌نگاری فرهنگ فقر بود، پدرو مارتينز مردم‌نگاری روستائيان دوران انقلاب مکزيک ولی اين هدف مشخصی نداره جز گزارشی از مرگ در فقير‌ترين بخش جامعه که اونم تنها بخش مفيدش مقدمه و پيوست مصاحبه‌گره، خودِ مصاحبه‌ها چيزی برای عرضه ندارن.
از نظر ادبی مشکلش عدم استقلال از فرزندان سانچز و بسطِ کم و حفره‌های زياد روايی‌ئه. با اين حال خوندنش خوب بود.
يادی هم می‌کنم از نشر تندر و آقای رضايی، ناشرش که سهم بزرگی تو ادبيات معاصر فارسی داره؛ کسی که عبد‌الله کوثری و مهدی سحابی رو وارد ترجمه‌ی ادبيات و حسن عابدينی رو وارد نقد ادبی کرد و راهو نشونشون داد و کارلوس فوئنتس، سلمان رشدی، ايتالو کالوينو و خيليای ديگه رو به اونا و از طريقشون به ما معرفی کرد. فهرست کتاباشون در ۱۳۶۵:

Displaying 1 - 14 of 14 reviews