প্রিয় কন্যা অবন্তীকে নিয়ে শান্তিনিকেতন দেখে ফিরে এসে সেদিন রাত্রে কমলাকান্ত চট্টোপাধ্যায় মারা গেলেন। এই স্কুল শিক্ষক ভদ্রলােক সংসারের জন্য কিছুই রেখে যাননি। মা ও নাবালক দুটি ভাই এবং সংসারের চাপে অবন্তীকে চাকরি নিতে হল। এই বাধ্যতার ঘেরাটোপ থেকে অবন্তী আর বেরােতে পারল না। অথচ তার বাবার স্কুলের সহকর্মী স্বর্ণেন্দুকে সে ভালবেসেছিল। বাবা চেয়েছিলেন অবন্তী ও স্বর্ণেন্দু ঘর বাঁধুক। কিন্তু মা দারিদ্র্যপীড়িত। সংসারের ছবিটা বারংবার দেখিয়ে অবন্তীকে বিয়ে করতে দিল না। স্বর্ণেন্দুও ওর জীবন থেকে হারিয়ে গেল। কখনও পেয়িংগেস্ট, কখনও সরকারি হস্টেলে থাকতে থাকতে, একটা চাকরি থেকে অন্য চাকরি করতে করতে অবন্তীর জীবন চলে গেল ‘কুড়ি কুড়ি বছরের পার’ । স্বর্ণেন্দুর সঙ্গে তার আর একবার দেখা হয়েছিল। কিন্তু কোথায় ? তারই কথা এই মর্মস্পর্শী উপন্যাসে।
Samaresh Majumdar (Bangla: সমরেশ মজুমদার) was a well-known Bengali writer. He spent his childhood years in the tea gardens of Duars, Jalpaiguri, West Bengal, India. He was a student of the Jalpaiguri Zilla School, Jalpaiguri. He completed his bachelors in Bengali from Scottish Church College, Kolkata. His first story appeared in "Desh" in 1967. "Dour" was his first novel, which was published in "Desh" in 1976. Author of novels, short stories and travelogues, Samaresh received the Indian government's coveted Sahitya Akademi award for the second book of the Animesh series, 'Kalbela".
সমরেশ মজুমদার-এর জন্ম ১০ মার্চ ১৯৪৪। শৈশব কেটেছে ডুয়ার্সের চা-বাগানে। জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের ছাত্র। কলকাতায় আসেন ১৯৬০-এ। শিক্ষা: স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স, পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম.এ। প্রথমে গ্রুপ থিয়েটার করতেন। তারপর নাটক লিখতে গিয়ে গল্প লেখা। প্রথম গল্প ‘দেশ’ পত্রিকায়, ১৯৬৭ সালে। প্রথম উপন্যাস ‘দৌড়’, ১৯৭৫-এ ‘দেশ’ পত্রিকায়। গ্রন্থ: দৌড়, এই আমি রেণু, উত্তরাধিকার, বন্দীনিবাস, বড় পাপ হে, উজান গঙ্গা, বাসভূমি, লক্ষ্মীর পাঁচালি, উনিশ বিশ, সওয়ার, কালবেলা, কালপুরুষ এবং আরও অনেক। সম্মান: ১৯৮২ সালের আনন্দ পুরস্কার তাঁর যোগ্যতার স্বীকৃতি। এ ছাড়া ‘দৌড়’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার হিসাবে বি এফ জে এ, দিশারী এবং চলচ্চিত্র প্রসার সমিতির পুরস্কার। ১৯৮৪ সালে ‘কালবেলা’ উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার।
মানুষ যখন ভালোবাসে, তখন সে শুধু একজন মানুষকে নয়, একটা ভবিষ্যতকে ভালোবাসে। কিন্তু সেই ভবিষ্যত যখন বারবার বর্তমানের দায়ের কাছে হেরে যায়, তখন প্রেম আর প্রতিশ্রুতি একসময় মেঘের মতো ভেসে যায়, জ্যোৎস্নায় মিলিয়ে যাওয়া বর্ষার মেঘের মতো। এই নির্মম সত্যকেই সমরেশ মজুমদার তাঁর "জ্যোৎস্নায় বর্ষার মেঘ" উপন্যাসে গভীর মানবিক রূপ দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন।
কাহিনীর কেন্দ্রে রয়েছে অবন্তী চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমানের এক মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষিত, স্বাধীনচেতা মেয়ে। তার জীবন বাইরে থেকে খুবই সাদামাটা- একটি সরকারি চাকরি, প্রতিদিনের ক্লান্তিকর যাতায়াত, আর কলকাতার পেয়িং গেস্টের ঘরেই কাটতে থাকা দিনগুলি। কিন্তু অবন্তীর মনের ভেতরে ধিকিধিকি জ্বলতে থাকে এক অপূর্ণ ভালোবাসার আগুন- স্বর্ণেন্দু সেনগুপ্তের প্রতি, যাকে সে হৃদয় দিয়ে ভালোবেসেছে, কিন্তু কখনও সম্পূর্ণভাবে পেতে পারেনি।
অবন্তীর বাবা কমলাকান্ত চট্টোপাধ্যায় ছিলেন একজন আদর্শবাদী স্কুলশিক্ষক। টাকা-পয়সা তিনি জমাননি কিন্তু মেয়ের মনে গেঁথে দিয়ে গেছেন সাহিত্যপ্রীতি, নৈতিকতা, আর মানুষকে সম্মান করার শিক্ষা। রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ, শান্তিনিকেতনের আলো-বাতাস এই সবকিছু অবন্তী পেয়েছে বাবার হাত ধরে।
প্রিয় মেয়েকে শান্তিনিকেতন দেখিয়ে বাড়ি ফেরার সেই রাতেই কমলাকান্ত মারা যান। এই মৃত্যু অবন্তীর জীবনে শুধু শোক নয়- এক বিশাল ভাঙনের শুরু। মা, দুই নাবালক ভাই হেমন্ত ও বসন্ত, আর শূন্য সংসারের দায় এসে চাপে তার কাঁধে।
স্বর্ণেন্দু সেনগুপ্ত ছিল বাবার স্কুলেরই সহকর্মী- শিক্ষিত, চিন্তাশীল, সাহিত্যমনস্ক এক মানুষ। বাবার জীবদ্দশায়ই স্বর্ণেন্দুর সঙ্গে অবন্তীর পরিচয়, এবং দুজনের মধ্যে সাহিত্য-আলোচনা, তর্ক, বোঝাপড়া থেকে গড়ে ওঠে এক গভীর প্রেম। বাবা নিজেই চেয়েছিলেন এই দুজন ঘর বাঁধুক।
কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর পরিস্থিতি বদলে যায়। অবন্তীর মা- দারিদ্র্যপীড়িত, ভয়ে কঠিন হয়ে যাওয়া এক নারী- মেয়ের বিয়েতে বাধা দেন। তাঁর যুক্তি সরল কিন্তু নির্মম। মেয়ে বিয়ে করলে সংসারের রোজগার কমবে, ভাইদের ভবিষ্যত নষ্ট হবে। প্রেম যে বাস্তবতার কাছে কতটা অসহায়, এইখানে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
অবন্তী কেন্দ্রীয় সরকারের দপ্তরে চাকরি পায় এবং কলকাতায় আসে। বর্ধমান থেকে প্রতিদিন যাতায়াত করা তার জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ট্রেন-বাসের ভিড়, নারী হিসেবে রাস্তার হয়রানি, আর শহরের অচেনা জীবন- সবকিছু তাকে নতুনভাবে গড়ে এবং ভাঙে।
স্বর্ণেন্দু প্রথম প্রথম তাকে পথ চেনায়, স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছে দেয়, পেয়িং গেস্টের বন্দোবস্ত করতে সাহায্য করে। এই সামান্য যত্নেই বোঝা যায়, তাদের প্রেম শুধু আবেগের নয়- গভীর পারস্পরিক শ্রদ্ধারও। কিন্তু প্রতিটি সাহায্যের পাশাপাশি তারা দুজনেই জানে, এই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটা অন্ধকার ঝুলে আছে।
তালতলার পেয়িং গেস্ট বাড়িতে অবন্তী দেখা পায় অনেক রকমের নারীজীবনের। কেউ বিবাহবিচ্ছিন্ন, কেউ একা একা টিকে থাকার চেষ্টা করছে, কেউ স্বাধীন, কেউ নিঃসঙ্গ। এই পরিবেশে সে বুঝতে পারে, চাকরি মানে শুধু আয় নয়- এটা একজন নারীর আত্মনির্ভরতা ও মর্যাদার প্রতীক।
অফিসের সহকর্মীরা, ক্যান্টিনের রোজকার মুখগুলো, শ্রাবণীর মতো বন্ধুত্বপ্রবণ সহকর্মী- সবাই মিলে তার শহরজীবনকে কিছুটা উষ্ণ করে। কিন্তু রাতের নিঃসঙ্গতায় সে ঠিকই বুঝে নেয়, শহর তাকে জায়গা দিলেও ঘর দেয়নি।
একদিন অফিসে বসে অবন্তী ফোনে খবর পায়- মা মারা গেছেন, হার্ট অ্যাটাক। সে বর্ধমানে ছোটে। কিন্তু তার কান্না আসে না। শোক যেন পাথর হয়ে বুকে জমে থাকে। হোস্টেলের ঘরে জানালা দিয়ে পাশের রাধাচূড়া গাছে কাকের বাচ্চাদের খাওয়ানোর দৃশ্য দেখে হঠাৎ কান্নার বাঁধ ভাঙে- মাতৃত্বের এই সরল ছবিটাই তার ভেতরের সব শোক উপচে দেয়।
শ্মশানে পৌঁছে সে দেখে মায়ের চিতা জ্বলছে। বড় ভাই হেমন্ত কাঁদছে, ছোট ভাই বসন্ত মাতাল হয়ে চিৎকার করছে- "আমি মায়ের জন্য কিছুই করিনি।" এই দৃশ্যে পরিবারের ভেতরের যত দায়, অপরাধবোধ, আর অসহায়ত্ব একসঙ্গে বেরিয়ে আসে। বড় বউ রত্নার কটু কথা, ছোট বউ কাবেরীর নীরব কষ্ট- সব মিলিয়ে একটা পরিবারের ভেতরের বাস্তব চেহারাটা নগ্নভাবে সামনে আসে।
বসন্তের স্ত্রী কাবেরী উপন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্বচরিত্র। সে লাজুক, অল্পভাষী, অনেকটা নিজেকে গুটিয়ে রাখা একটি মেয়ে। সংসারের চাপে তার গয়না পর্যন্ত বিক্রি করার উপক্রম হয়। অবন্তী এই কষ্ট টের পায় এবং নিঃশব্দে সাহায্যের হাত বাড়ায়।
কাবেরীর গল্পে বোঝা যায়, পরিবারের ভেতরেও নারীর কষ্ট কতটা অদৃশ্য থাকে। অবন্তী নিজে যেমন বাইরের সমাজের সামনে লড়েছে, কাবেরী লড়েছে ঘরের ভেতরে- দুটো লড়াই আলাদা, কিন্তু সমান কঠিন।
স্বর্ণেন্দু অবন্তীকে বারবার বলে- একসঙ্গে শুরু করা যাক, পথ খুঁজে নেওয়া যাবে। কিন্তু অবন্তী জানে, ভাইরা এখনও নিজের পায়ে দাঁড়ায়নি, পরিবারের দায় এখনও শেষ হয়নি। সে হিসাব করে দেখে, স্বর্ণেন্দুকে বিয়ে করলে সে সুখী হবে হয়তো- কিন্তু মায়ের সংসার, ভাইদের ভবিষ্যৎ ভেঙে পড়বে।
শেষপর্যন্ত সে স্বর্ণেন্দুকে বলে- এই সম্পর্ক আর রাখা সম্ভব নয়। এটা কোনো অভিমানের কথা নয়, রাগের কথা নয়- এটা এক নারীর চরম আত্মত্যাগের সিদ্ধান্ত। স্বর্ণেন্দু স্তব্ধ হয়ে যায়। অবন্তীও ভেঙে পড়ে ভেতরে ভেতরে, কিন্তু মুখে দৃঢ় থাকে।
অবন্তী একা থাকে। চাকরি, রোজকার যাতায়াত, হোস্টেলের নিঃসঙ্গ ঘর- এই নিয়েই তার জীবন। স্বর্ণেন্দু চলে গেছে, মা নেই, ভাইদের সংসার আলাদা, আর বাবার দেওয়া স্বপ্নের জগৎটা ধীরে ধীরে স্মৃতি হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু অবন্তী ভেঙে পড়া মানুষ নয়- সে টিকে আছে, নিজের বোধ, বিবেক, আর আত্মসম্মান নিয়ে।
আসলে মধ্যবিত্ত বাঙালি নারীর জীবনে ভালোবাসা ও কর্তব্য কখনও একসঙ্গে পূর্ণ হয় না। অবন্তী প্রেম বেছে নিলে পরিবার ভাঙত। পরিবার বেছে নিয়ে প্রেম হারাল- উভয় পথেই ক্ষতি, উভয় পথেই একাকীত্ব।
অবন্তীর গল্প কেবল একজন মেয়ের গল্প নয়- এ সেই প্রতিটি নারীর গল্প, যে সারাজীবন অন্যের সুখ নিশ্চিত করতে গিয়ে নিজের সুখ পিছিয়ে দেয়, এবং পিছিয়ে দিতে দিতে একদিন আবিষ্কার করে যে সেই সুখের জায়গাটা আর নেই।
দায়িত্ব মানুষকে মহৎ করে, কিন্তু অনেক সময় সেই মহত্ত্বের মূল্য চোকাতে হয় নিজের জীবন দিয়ে। উপন্যাসের শিরোনামই এই সত্যকে বহন করে- জ্যোৎস্নায় বর্ষার মেঘ; যে মেঘ একমুহূর্তের জন্য আলোকিত হয়ে ওঠে, তারপর মিলিয়ে যায় বিনা বৃষ্টিতে। অবন্তীর জীবনও তেমনই- উজ্জ্বল, গভীর, কিন্তু শেষপর্যন্ত অপ্রাপ্ত।
📘 জ্যোৎস্নায় বর্ষার মেঘ লেখক : সমরেশ মজুমদার আনন্দ পাবলিকেশন প্রথম সংস্করণ জানুয়ারি ১৯৯৯ কলকাতা _
কমলাকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের মেয়ে অবন্তী এবং দুই ছেলে হেমন্ত ও বসন্ত। তিনি স্কুলে ইংরেজি পড়ান। মেয়ে অবন্তী বিএ পড়ছে। ছোট সংসার যা বেতন পান তা দিয়েই সংসার চলছে। কমলাকান্ত ইংরেজি পড়ালেও বাংলা সাহিত্য তার নখদর্পনে। সেই সাথে অবন্তীও সাহিত্য এবং জীবনানন্দকে খুব ভালোবাসেন ৷ স্বর্ণেন্দুও স্কুলে পড়ায়, সে সুবাধে কমলাকান্তের বাড়িতে নিয়মিত আসা যাওয়া৷ সেখানেই অবন্তীর সাথে পরিচয় এবং প্রেম।
কমলাকান্ত একদিন অবন্তীকে নিয়ে শান্তিনিকেতনে ঘুরতে যায়। এদিন রাতেই কমলাকান্ত মারা গেল৷ ততদিনে অবন্তী বিএ পাশ করেছে। পরিবারের দায়িত্ব বর্তায় তার উপর। কিছুদিনের ভেতরেই সরকারি কর্মচারী হিসেবে চাকরী হল কলকাতায়। বর্ধমান থেকে কলকাতায় রোজ যাতায়াত করা অবন্তীর জন্য কষ্টকর । যাবতীয় সঙ্গ দেয় স্বর্ণেন্দু। কলকাতায় বাসায় রাখল।
এদিকে স্বর্ণেন্দু আর অবন্তী বিয়ে করতে চাইছিল। কিন্তু অবন্তীর মা রাজি হচ্ছি না৷ বিয়ের পর টাকা দেয়া বন্ধ করে দেয় কিনা সে সন্দেহে। মা চাচ্ছিল হেমন্ত আর বসন্ত বড় হোক নিজে কামায় রোজগার করুক৷ প্রায় ১৫ বছরের মত সময় লাগবে৷ অবন্তী পরিবারের জন্য নিজের আর স্বর্ণেন্দু সম্পর্ক ভেঙ্গে দেয়। _ এত স্যাক্রিফাইস করল ভাই এবং মার জন্য৷ বিয়েটাও করেনি৷ কিন্তু কী পেল শেষে অবন্তী? _ অবন্তী, স্যাক্রিফাইস, স্ট্রাগল, দায়িত্ব ; মিলিয়ে জ্যোৎস্নায় বর্ষার মেঘ ☁
যারা মনে করেন বাবা-মা যা করেন সন্তানের মঙ্গলের জন্যই করেন,তাদের অবশ্যই এই বইটা পড়া উচিত। বইটা পড়ে মনে হতে পারে- আসলেই কি নিজের মা কখনও সন্তানের এমন ক্ষতি করতে পারে? তবে খোজ নিলে এমন ঘটনা আপনার আশেপাশেই হয়ত দেখতে পাবেন। উপমহাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে শুধু ফ্যামিলির কথা ভেবে। উপন্যাসটি একজন তরুণীর আত্মত্যাগের গল্প নিয়ে রচিত। পরিবারের জন্য নিজের জীবনটাই নষ্ট করতে হয়েছে তাকে। বাস্তবে উপমহাদেশে এরকম অহরহ দেখা যায়,শুধু মেয়ে না, অনেক ছেলেরও জীবনের মহামূল্য সময় নষ্ট হয়ে যায় বাবা-মায়ের কথা ভাবতে গিয়ে। অবন্তীর মায়ের মত মহিলারা মা হবার যোগ্য না,এইসব মহিলাকে ডাইনি বললেও কম বলা হবে না। লেখক খুবই সুন্দর একটা কাহিনীর মাধ্যমে আমাদের সমাজের অনেক কঠিন সমস্যা তুলে ধরেছেন। লেখার বাচনভঙ্গি ভাল লাগে নি অতটা। সমরেশের অন্য উপন্যাসগুলোর মতই নাটকের সংলাপ ধরণের লেখা। শেষের দিকটা আরেকটু বড় করা উচিত ছিল। সমরেশের একটা বড় সমস্যা হল, চরিত্রগুলো কী চিন্তা করছে,সেগুলো কখনও উনি বর্ণনা করেন না সেভাবে। এজন্য গল্পগুলো শুধু সংলাপনির্ভর হয়ে যায়। একটু গুছিয়ে লিখলে,শেষের দিকটায় একটু চিন্তাভাবনাগুলোকে ভালভাবে প্রকাশ করলে,এটা একটা মাস্টারপিস উপন্যাস হতে পারত।
বর্ধমানের মেয়ে অবন্তীর সঙ্গে ছুটে চলা। ছোটবেলা থেকে অবন্তী বড় হয়েছে সাহিত্যকে আঁকড়ে ধরে। প্রথমে রবীন্দ্রনাথ, তারপর জীবনানন্দ। এসব কিছুই সে চিনেছে বাবার কাছ থেকে। বাবা এলাকার স্কুলে ইংরেজির মাস্টারি করেন, তবুও বাংলা সাহিত্যে তার অগাধ দখল। সাহিত্যকে ভালোবাসা এই মেয়েটি একদিন পড়ল অকূল পাথারে। সেই পাথারে আপনজনেরাও সঙ্গ দেয় না। একে একে জীবনে এলো অনাকাঙ্ক্ষিত মোড়। জীবনের মোড়ে হারিয়ে যেতে থাকে কত কী!
বইটা যখন পড়া শুরু করেছিলাম, অল্প অল্প করে এগিয়েছি। তার কারণ গল্পের গাঁথুনিতে গভীরতা পাচ্ছিলাম না। মাঝপথে এসে এর গভীরতা টের পেলাম। তারপর পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা যত উল্টেছি, জীবনবোধ ততই বেড়েছে। শেষ করার পর বইয়ের মলাটের দিকে আবার তাকালাম, এবারে মনে হলো এটিও সমরেশ মজুমদারের আরেকটি অনবদ্য সৃষ্টি। মাত্র ১২৮ পৃষ্ঠায় আমি এর চেয়ে ভালো উপন্যাস কমই পড়েছি।
I briefly learned about the character “Abonti” from "Meyera Jemon Hoy” written by Shamoresh Majumdar. The plot sounded kinda vague, plain & somewhat detached from reality. But as I started reading “Jyotsnay Borshar Megh” every development in the story felt logical & sensible. Not a single event seemed unreasonable or tough to accept. The character construction of Abonti was remarkable. It totally made sense how she could be well educated, cultured and brave yet still struggle with something as ordinary as commuting daily from Burdhaman to Kolkata for work. I could connect so much to her father’s demise and her reaction to that. The character Shiddharto brought a much needed sense of calm and order to the narrative. The way the characters gradually transformed as the story unfolded, only drew me more towards it. Their sorrow, anger, love all of it was well constructed and relatable. Well written family- romantic drama. Worth your time.
রিভিউ:আদরের বড় মেয়ে অবন্তীকে শান্তিনিকেতন থেকে ঘুরিয়ে নিয়ে এসে সে রাতেই হার্ট অ্যাটাকে মারা গেলেন স্কুল শিক্ষক কমলাকান্ত চট্টোপাধ্যায়।সদ্য এম.এ পাশ করা অবন্তী নামলেন জীবনযুদ্ধে।মা আর আদরের দুই ভাইয়ের অন্ন যোগানে পাড়ি দিলেন অচেনা বিরাট কলকাতায়।অচেনা শহর,রাতদুপুরে ডাকাতি প্রভৃতি প্রতিকূলতাকে আলিঙ্গন করে অচেনা জায়গায় মানিয়ে ফেললেন নিজেকে।সমাজের চক্ষুলজ্জায় স্বর্ণেন্দুর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন।এরপর পনের বছর পেরিয়ে গেল।অবন্তী বৃদ্ধাশ্রমে যোগ দিলেন গভর্নেন্স হিসেবে বিনাবেতনে।ঠিক করলেন জীবনের শেষ অব্দি তাদের সঙ্গ দিবেন।এরই মধ্যে দেখা হলো প্রাক্তন প্রেমিক।নাম বদল করলেও চিনতে ভুল করেনি অবন্তী।এ গল্প সংগ্রামের,এ গল্প নতুন করে জেগে উঠার,এ গল্প একমুঠো হতাশার অভিপ্রায়......
This entire review has been hidden because of spoilers.
অবন্তী, স্যাক্রিফাইস, স্ট্রাগল, দায়িত্ব, স্বার্থপরতা - মিলিয়ে জ্যোৎস্নায় বর্ষার মেঘ। কঠিন বাস্তবতা আর অবন্তী-স্বর্ণেন্দুর না পাওয়া ভালোবাসার গল্প।
যারা মনে করেন বাবা-মা যা করেন সন্তানের মঙ্গলের জন্যই করেন, তারা কখনই সন্তানের খারাপ চান না তাদের অবশ্যই এই বইটা পড়া উচিত। পরিবারের জন্য নিজের জীবনটাই নষ্ট করতে হয়েছে অবন্তীকে। বাস্তবে উপমহাদেশে এরকম অহরহ দেখা যায়, শুধু মেয়ে না, অনেক ছেলেরও জীবনের মহামূল্য সময় নষ্ট হয়ে যায় বাবা-মায়ের কথা ভাবতে গিয়ে।
উপন্যাসটি অবন্তী নামে একজন তরুণীর লড়াই আর আত্মত্যাগের গল্প। অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারেই যে মা, ভাই-দাদার মতো আপনজনেরাই স্বার্থের কারণে বাড়ির ছেলেমেয়েদের বেড়ে উঠতে দেয় না; অথবা তাদের ভালো কিছু করতে দেয় না সেটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পরিবারের জন্য নিজের জীবনটাই বলতে গেলে নষ্ট করতে হয়েছে তাকে। জীবনের মোড়ে হারিয়ে যেতে থাকে কত কী! তাকে কেউ বোঝেনি বা বোঝার চেষ্টা করেনি, সর্বত্রই তাকে স্বার্থান্বেষী সংকীর্ণমনা লোকেদের সম্মুখীন হতে হয়েছে।
🌺রিভিউ: অবন্তি নামের এক আত্মবিশ্বাসী,পরিশ্রমী, নিস্বার্থ নারীর চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন এই উপন্যাসটিতে।অবন্তি ইউনিভার্সিটিতে পড়াকালীন সময়ে স্বর্ণেন্দু নামে এক যুবকের সাথে প্রনয় তৈরি হয়।বিষয়টি অবন্তির বাবাকে জানালে অবন্তির বাবা বলেন গ্রেজুয়েশন কমপ্লিট করার পর অবন্তির পছন্দের পাত্রের সঙ্গে বিয়ে দিবেন।হঠাৎ তার বাবা মারা যায়,সংসারের চালানোর দায়িত্ব চলে আসে অবন্তির ওপর।কলকাতায় চাকরি ঠিক হয় অবন্তির।কলকাতা শহরে আসা-যাওয়া এবং শহরটিকে পুরোপুরি চিনতে সাহায্য করে স্বর্ণেন্দু। বর্ধমান থেকে কলকাতা আসা যাওয়া কষ্টের হলেও অবন্তি তার মা এবং তার ছোটো দুই ভাই এর দিকে তাকিয়ে সব সহ্য করে নেয়।একদিন অবন্তির মা অবন্তিকে কাছে ডেকে তাকে কথা দিতে বললো যে তার দুই ভাইয়ের ইনকাম করার এবেলিটি যতদিন তৈরি না হয় ততদিন যাতে অবন্তি বিয়ে না করে।অবন্তির মাসিক বেতনের যে অংশ সে তার মাকে দেয়,বিয়ের পর স্বাভাবিক নিয়মে তা কমে যাবে এবং এতে সংসার চালাতে কষ্ট হয়ে যাবে।
অবন্তিকে কী রাখে তার মায়ের কথা? আর স্বর্ণেন্দুরই বা কি হয়? জানতে হলে পড়তে হবে উপন্যাসটি😁।
🌺পাঠ প্রতিক্রিয়া: কাহিনীটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ছিলো।আমাদের আশেপাশে অবন্তির মতো এমন অনেক নারী আছে যারা নিঃস্বার্থ হয়ে পরিবারের জন্য অনেক কিছু করছে।লেখক বেশ চমৎকার করে এক নারীর সংগ্রামী জীবন ফুটুয়ে তুলেছেন।এই বইটি নিয়ে আমার মোট পাঁচটি উপন্যাস পড়া হলো লেখক সমরেশ মজুমদারের।আমি অনেক বই পড়ি,কিন্তু সমরেশ মজুমদারের লেখায় যেভাবে ডুব দিয়ে থাকতে পারি অন্য কোনো লেখকের বই সেভাবে পারি না। সব মিলিয়ে আমার কাছে উপন্যাসটি দারুন লেগেছে❤️
এই বইটা আমার খুব প্রিয়। ঠিক জানি না কেন! কিন্তু যতবার পড়ি আমার খুব কষ্ট হয় নায়ক নায়িকার জন্য। সমরেশের অসংখ্য বই পড়েছি আমি, এই বইটা তারমধ্যে সবসময়ই স্পেশাল হয়ে থাকবে।
এক কথায় অসাধারন একটা বই, অবন্তি আর স্বর্ণেন্দুর মধ্য ভালোবাসা জন্মেছিল তাদের যৌবনের প্রথম প্রহরে। তারপেরই অবন্তির জীবনে নেমে আসে ভীষন এক ঝড়। নিষ্ঠুর বাস্তবতায় শেষ হয়ে যায় তার স্বপ্ন। নতুন করে বাঁচতে শিখে অবন্তি। পরিবারের দিকে তাকিয়ে দূরে সরিয়ে দেয় স্বর্ণেন্দুকে। তারপর কুড়ি কুড়ি বছরের পর তাদের আবার দেখা হয়। এ দেখা বিদায়ের। এ দেখা তাদের শেষ দেখা।