মিজোরামের দুর্ভিক্ষ নিয়ে গবেষণা করছেন বিজ্ঞানী নীলাঞ্জন চক্রবর্তী। হঠাৎ তিনি আইজলের হোটেল থেকে নিরুদ্দেশ। মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধে কলকাতা থেকে উড়ে গেলেন গোয়েন্দা সুনীল সেন। ওখানে পৌঁছে জানলেন, নীলাঞ্জন যে হোটেলে থাকতেন সেটির বাসিন্দা আরও চারজন। প্রতিদ্বন্দ্বী এক বিজ্ঞানী, এনজিও-র ছলাকলাপটিয়সী সুন্দরী মহিলা, রাজনৈতিক দলের এক নেতা এবং নিখোঁজ বিজ্ঞানীর বস। নীলাঞ্জন সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়ে সুনীল বুঝতে পারলেন যে পেশাগত এবং ব্যক্তিগত শত্রুতা, অর্থের বিনিময়ে যৌনতা, মাদক পাচার এবং ভারত বিরোধী রাজনৈতিক কার্যকলাপের মতো বিভিন্ন বিষয় জড়িয়ে আছে এই নিরুদ্দেশের সঙ্গে। বিজ্ঞানীর পুনরাবির্ভাবের আগেই আইজলে সদ্য আগত আরেক মহিলা খুন হয়ে গেলেন! কে ইনি?
গোয়েন্দা সুনীল সেন কি বিজ্ঞানীর নিরুদ্দেশের কারণ খুঁজবেন? নাকি হত্যা রহস্যের সমাধান করবেন? নাকি দুটি ঘটনাই পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত?...রুদ্ধশ্বাস গোয়েন্দা উপন্যাস।
ইন্দ্রনীল সান্যালের জন্ম হাওড়ার বালিতে, ১৯৬৬ সালে। নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজ থেকে এম বি বি এস। প্যাথলজিতে এম ডি, পিজি হাসপাতাল থেকে।সরকারি চাকরির সূত্রে কাজ করেছেন সুন্দরবনের প্রত্যন্ত প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে মহাকরণের ডিসপেনসারিতে, লালবাজার সেন্ট্রাল লকআপ থেকে গঙ্গাসাগর মেলার হেল্থ ক্যাম্পে।বর্তমানে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত।প্রথম প্রকাশিত গল্প ২০০৪ সালে ‘উনিশকুড়ি’ পত্রিকায়।শখ: বই পড়া, ফেসবুকে ফার্মভিল এবং হ্যাপি অ্যাকোয়ারিয়াম খেলা, সুদোকু সমাধান।
ভালোই কিন্ত জমলো না। প্রথমত, অগাধ ভুল, বাক্যগঠন এবং চরিত্রায়ণের ক্ষেত্রে। দ্বিতীয়ত, একটা বাসি প্লটকে ঘুরিয়ে লম্বা করার প্রচেষ্টা হয়েছে বলে মনে হলো এবং সবশেষে একটা প্রায় দুশো পাতার উপন্যাসে দুজন গোয়েন্দা লাগে কেন? আবার দুজন গোয়েন্দাদের ইন্ডিভিজুয়ালি কারুর মধ্যেই সেই জোরদার ব্যাপারটা নেই। তার চেয়ে দেবীর চরিত্র অনেক বেশি আকর্ষনীয়। তিতিরের চরিত্রটা থাকলে বেশি ভালো লাগতো। আর মিজোরামের ইতিহাস, রাজনীতি, সামাজিক সমস্যা সবকিছুই ঠিক আছে, কিন্ত এসব ছাড়াও এই প্লটে খেলা যেতো।
ইন্দ্রনীল সান্যাল মানেই আমার কাছে থ্রিলারের অন্য নাম—বিশেষ করে উনার মেডিক্যাল থ্রিলারগুলো! কিন্তু ইঁদুরকল কোনও মেডিক্যাল থ্রিলার নয় । এটি একেবারে অন্যরকম—একটি গোয়েন্দা কাহিনি, যার ব্যাকড্রপ ভারতের seven sister এর রাজ্য মিজোরাম ও তার দুর্ভিক্ষ!
🔍 গল্পটা কেমন?
‘এজেন্সি’ নামে একটি প্রাইভেট গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান সুনীল আর তাঁর সঙ্গী শাজাহান, মিজোরামে এক নিখোঁজ বিজ্ঞানীর খোঁজে যান। কিন্তু সেই নিখোঁজ রহস্যের মাঝেই ঘটে একটি খুন! এরপর একে একে খুলতে থাকে রহস্যের গিঁট।
🧠 ভালো লাগার দিকগুলো:
✅ মিজোরামের দুর্ভিক্ষ এর প্রেক্ষাপট, দুর্ভিক্ষ নিয়ে গবেষণার বিষয় এবং মিজোরাম এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিশ্লেষণ বেশ ভালো লাগে । ✅দুর্ভিক্ষের সঙ্গে ইঁদুরের সম্পর্ক—একেবারে নতুন তথ্য আমার কাছে। ✅ লেখকের লেখনী অসাধারণ, সিন গুলো এতো সুন্দর ভাবে বর্ণিত যে চোখের সামনে ভেসে ওঠে। ✅ প্রচ্ছদটি এক কথায় দুর্দান্ত! একনজরেই মন কাড়ে।
👎যা একটু কম জমল:
⚠️থ্রিলার হিসাবে এটি আমার বেশ দুর্বল উপন্যাস লেগেছে । হয়েতো এটি লেখকের প্রথম দিকের উপন্যাস বলে । ⚠️মোটিভ of মার্ডার অনেকটাই weak লেগেছে, এটা সলভ করার জন্য প্রাইভেট ডিটেকটিভ এজেন্সি এর দরকার ছিলো আদৌ? ⚠️ গল্পের অর্ধেক পর্যন্ত খুব বেশি কিছু ঘটে না—আসল মোড় আসে গল্পে ১০ নম্বর চ্যাপ্টার (১৫ চ্যাপ্টার এর বই) এ, যার শেষের দিকে খুন টা হয়। ⚠️ বেশিরভাগ চরিত্রই একটু ফ্ল্যাট মনে হয়েছে। তবে তিতির চরিত্রটা ছোট হলেও নজর কাড়ে।
📉 শেষ কথা: বইটি একেবারেই খারাপ লাগেনি, আবার মনে হচ্ছে থ্রিলার এর যে তেষ্টা সেটা মেটেনি। বরং প্লটটা নতুন, অন্যরকম প্রেক্ষাপট উপভোগ করতে চাইলে একবার ট্রাই করা যেতেই পারে। কিন্তু, যদি তুমি high-pitch, gripping thriller খুঁজো, তাহলে একটু ধৈর্য নিয়ে পড়তে হবে।
সবার প্রথমে যেটা বলব আমি সেটা হচ্ছে বইটির কনসেপ্ট আজকালকার অনেক বাজার চলতি থ্রিলারের থেকে অন্যরকম, মিজরামের খুব সুন্দর ভাবে প্রাকৃতিক বিবরণ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন লেখক, এবং মিজোরামের মাওতম সম্পর্কে খুব সুন্দর বিশ্লেষণ বইটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। কতগুলি নিরীহ ইদুর পুরো একটি রাজ্যকে কিভাবে ক্ষতি করছে সেটা এই বইটি পড়লে বোঝা যাবে। এবং আর যদি বলতেই হচ্ছে লেখক এখানে গোয়েন্দা দুটিকে মানুষ হিসেবেই রেখে দেন অনেক লেখিকার মতন মহামানব বানানোর চেষ্টা করেননি,এক কথায় বেশ ভালো একটি উপন্যাস, আমার ভীষণ পছন্দ হয়েছে।