ভারতের পশ্চিম সীমান্তে কালবৈশাখীর করাল মেঘের মতো নাদির শাহের আবির্ভাব ঘটেছে। আর দু-তিনদিনের মধ্যেই ঝড় হয়ে সে আছড়ে পড়বে দিল্লির বুকে। দিল্লির শাসক মুহম্মদ শাহ রঙ্গিলার সেদিকে বিশেষ নজর নেই। কিন্তু হুকুমতের দায় শুধুমাত্র বাদশাহ আলমের নয়, নেপথ্যে থাকা হাকিম-আমলারাও দেশের প্রতি দায়বদ্ধ।
রঙ্গিলার উজিররা অবশ্য সবাই সুযোগসন্ধানী। তারা নাদিরের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে নারাজ। নিয়মরক্ষা গোছের কথা বলে দিল যে, নাদিরের দিল্লি আক্রমণকে যদি আরও দশ দিন পিছিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে একটা বন্দোবস্ত করা যাবে।
হিন্দুস্তানকে রক্ষা করার মরণপণ চেষ্টায় এগিয়ে এলেন এক নির্ভীক, বৃদ্ধ জাসুস। সঙ্গে আছে তাঁর তিন সুযোগ্য শিষ্য। প্রত্যেকের বুকে অদম্য সাহস, মস্তিষ্ক ক্ষুরধার। গুরুর অভিজ্ঞতার সঙ্গে শিষ্যদের তারুণ্যের মিশেলে তৈরি হল হিমালয় সমান প্রাচীর। পারবে কি তারা নাদিরকে অন্তত দশটা দিনের জন্য থামাতে?...
অভীক মুখোপাধ্যায়ের নতুন রোমহর্ষক ঐতিহাসিক উপন্যাস 'নাদির শাহ থেমে গেলেন'।
অতিনাটকীয়তা আমার ভীষণ বিরক্তিকর লাগে। যা এই বইয়ের একটা অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। গল্পের গাঁথুনি বলেও একটা জিনিস আছে যেটা আমি এই বইতে পাইনি। সত্যি বলতে বাংলা সিনেমার স্ক্রিপ্টও এর থেকে বেশি উপাদেয় হয়।
ইতিহাস মানে নতুন তথ্য , কত অজানাকে জানা, অনেক তথ্য নিয়ে নাড়াচাড়া। কিন্তু ওই যে ইতিহাস মানেই ভয়ঙ্কর বিষয় কথাটা মাথায় আসে । গল্পের আকারে গুছিয়ে বললে তা মনে রাখতেও সুবিধা আর পড়তেও । পড়ার গতিও বাড়ে । সদ্য প্রকাশিত হওয়া লেখকের নতুন বই "নাদির শাহ থেমে গেলেন"। লেখকের লেখা আগে পড়িনি, এটি প্রথম বই। মোগল সাম্রাজ্যের যুদ্ধ ইতিহাস আমরা সবাই কম বেশি পড়েছি। কিন্তু এই যুদ্ধের সময় গুপ্তচরদের কাজ কি, তারা কে সেটা নিয়ে জনগণের মধ্যে আগ্রহের শেষ হয়নি । মোগলকালীন সংঘটিত গুপ্তচরবৃত্তির উত্থাপন করেছিলেন আকবর বাদশাহ। গুপ্তচরদের দলের প্রধান ছাড়া তাদের মুখ কেউ কোনোদিন দেখেনি । ভারতের পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেছেন নাদির শাহ দিল্লি আক্রমণ করার জন্য কিন্তু দিল্লির রাজার সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। ভারতকে রক্ষা করার জন্য বৃদ্ধ গুপ্তচর গুলহাসান এগিয়ে এলেন , সাথে তার অমূল্য রতন তিন গুপ্তচর। এদিকে গুলহাসানের স্ত্রী মৃত্যু শয্যায় শায়িত। তাই তিনি ভরসা করেছেন এই কাজে তার প্রধান তিন শাকরেদদের। তারা তিনজনই বেরিয়ে পড়ে নাদির শাহ ককে থামানোর জন্য। তারা কি আদৌ পারবে নাদির শাহকে অন্তত দশটা দিনের জন্য থামাতে?
পাঠ প্রতিক্রিয়া:- শুরু করার পর অনেক নতুন তথ্য জানলাম কিন্তু কোথাও গিয়ে সেই ছন্দ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। আর আমার মতো পাঠকের জন্য অনেক শব্দ অচেনা , যেগুলো বারবার সার্চ করে দেখতে হয়েছে , পড়ার ছন্দ তাল কেটেছে।আমার মনে হয়েছে হয়তো আর একটু সহজ ভাষায় লিখলে পড়ার ছন্দ এগোতে পারতো । সবার পড়ার অনুরোধ রইল।