খুশবন্ত সিংয়ের লেখনী তাঁর শত্রু ও মিত্র- দুই-ই সৃষ্টি করেছিল। তাঁর লেখার মূল বৈশিষ্ট্য, তিনি কারো মুখের দিকে তাকিয়ে লেখেননি। তাঁর লেখার ক্ষেত্রও ছিল ব্যাপক। রাজনীতির চুলচেরা বিশ্লেষণ থেকে চটুল বিষয় নিয়ে তিনি লিখেছেন সমান দক্ষতায়। পাকিস্তানের ওপর কোনো কিছু লিখতে খুশবন্ত সিং বরাবর তাঁর আবেগকে প্রাধান্য দিয়েছেন। যে ভূখণ্ডটি এখন পাকিস্তান, সেখানে তাঁর জন্ম এবং সারাজীবন তিনি শেকড় উপড়ানোর যন্ত্রণা অনুভব করেছেন। তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে বিশ্বাস করতেন যে দুটি দেশকে কখনো সীমান্ত, যুদ্ধ ও রাজনৈতিক চক্রান্তের মাধ্যমে বিভক্ত করা যায় না। উভয় দেশের সংকট-মুহূর্তে তিনি পাঠককে স্মরণ করিয়ে দিতে চেষ্টা করেছেন যে দুই দেশের জনগণের মধ্যে এখনো বিপুল ভালোবাসা, শুভেচ্ছা ও সহমর্মিতা বিদ্যমান। খুশবন্ত সিংয়ের লেখার এই সংকলন 'ম্যালিসিয়াস গসিপ' শুধু পাকিস্তানের ওপর তাঁর লেখা নিবন্ধের সংগ্রহ নয়। আরো বিচিত্র স্বাদের নিবন্ধ স্থান পেয়েছে এতে। খুশবন্ত সিংয়ের লেখা সমসাময়িকতার ঊর্ধ্বে। তাঁর যেকোনো লেখা স্থান ও কালের ঊর্ধ্বে উপভোগ্য।
কিছু কিছু লেখা আসলেই ভালো লেগেছে। শিরোনাম ধরে বলে দিতে পারবো কোন লেখাগুলো ভালো লেগেছে বেশ। কারো কাছ থেকে নিয়ে পড়ে, পরে সংগ্রহে রাখা যায় কিনা (?) ভাবলেই ভালো হবে বোধহয়।
যারা মুলত প্রবন্ধ আকারে ভ্রমণ বা জীবনাভিজ্ঞতা শুনতে চান তারা পড়লেই ভালো। আমার জন্য ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ ( হোক ক্রিকেট বা রাজনীতি) বা উভয় দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ইতিহাস বা পরিস্থিতি বরাবরই টানে।
পাকিস্তানি ককটেল, পাকিস্তান: টক ও মিষ্টি, পাকিস্তান: স্বপ্ন ও বাস্তবতা, ভারত আবিস্কার, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, অদিতি কেন বিয়ে করেনি, রাজীব গান্ধী, ভি পি সিং এবং অনেকের মুখ। এসব লেখাগুলো পুরো ওয়াও লেগেছে, তারমানে বাকিগুলো খারাপ লেগেছে এমন ও নয়। প্রতিটি লেখায় লেখকের হিউমর হাসিয়েছে কম বা বেশি।
আর লেখকের 'ট্রেন টু পাকিস্তান' পড়া থাকায় এটা পড়ার জন্য বেশি উদগ্রীব ছিলাম বলা চলে।
সে সুবাদেই এই বই সংগ্রহ করেছিলাম, সাথে ছিলো অনুবাদক মঞ্জু স্যারের অটোগ্রাফের আত্ন প্রলোভন। দিনশেষে যুক্ত হয়েছিলো এক অভিজ্ঞ ভাইয়ের সাজেশন। সব মিলিয়ে বইটি কিনে হতাশ হইনি। হেসেছি, শিখেছি , আত্মমগ্ন হয়েছি কয়েকবার। ভালো লেগেছে, দিনশেষে এটাই বলার আছে।