ইভান দশম শ্রেণির ছাত্র। বন্ধুদের সঙ্গে খেলা আর আড্ডায় সময় কাটে ওর। অবসরে বই পড়ে, গিটার শেখে। যত্ন নেয় এলাকার সব কুকুর-বিড়ালের। একদিন স্কুলের প্রথম পিরিয়ডে এমন একটা ঘটনা ঘটল যে ইভানের পৃথিবী ওলট-পালট হয়ে গেল। ইভান বুঝতে পারল কেউ একজন ফাঁসাতে চাচ্ছে ওকে। কিন্তু কে? কেন শুধু শুধু বিপদে ফেলতে চাইবে ইভানকে? আর এই নতুন মেয়েটাই-বা কে? এই ঘটনার সঙ্গে ওর কি কোনো সম্পর্ক আছে? না থাকলে মেয়েটা অকারণে মিথ্যে বলবে কেন?
লিখছেন ছোটবেলা থেকে; ‘আমাদের দেশ বাংলাদেশ’ ধরনের হাতের লেখা লিখতে লিখতে তাঁর লেখালেখি শুরু। তখন কলম-পেনসিলে লিখতেন এক হাতে। প্রযুক্তির উৎকর্ষ সুযোগ করে দিয়েছে দুই হাতে কি-বোর্ড চালানোর; তাই তিনি এখন লেখেন দুই হাতে। একসময় গল্প, কমিকস আর আইডিয়া লিখে প্রথম আলো র ফান ম্যাগাজিন রস+আলোর পাতা ভরাতেন; এখন প্রথম আলো র ‘একটু থামুন’ পাতায় প্রতিদিন প্রকাশিত হচ্ছে তাঁর লেখা কমিকস ‘বাসার ভাই’। মাসিক কিশোর আলোতেও শোভা পায় তাঁর লেখা গল্প, ফিচার ও কমিকস। সবচেয়ে বেশি লিখছেন অবশ্য পরীক্ষার খাতায়; বিভিন্ন পরীক্ষায় সফলভাবে ব্যর্থতার স্বাক্ষর রেখে এখন লিখছেন গল্প-উপন্যাস। ২০২০ সালে বেরিয়েছে তাঁর প্রথম বই ‘ডিগবাজি’। এর পরের বছরই প্রথম উপন্যাস ‘কী একটা অবস্থা’। আদনান মুকিত ‘কিশোর আলো’র সহযোগী সম্পাদক।
কাহিনিতে তেমন নতুনত্ব না থাকলেও পড়তে ভালো লেগেছে। আদনান মুকিতের গদ্য সবসময়ই ঝরঝরে ও সাবলীল,টানা পড়ে ফেলা যায়। টিনেজ কিশোর কিশোরীদের জন্য লেখা, লেখক তার লক্ষ্যভুক্ত পাঠকদের মনস্তত্ত্ব গভীরভাবে ধরার চেষ্টা না করলেও তাদের ভাষা ও জীবনযাপন পদ্ধতি যথাযথভাবে তুলে ধরেছেন।শেষ অংশটা ইঙ্গিত দিচ্ছে সিকুয়েলের।
" আংকেল,দ্য নিউ এডভেঞ্চার অব ফার্মের মুরগি বইটা হবে?আমি এটা কিনতেই মেলায় এসছি। " খুবই আশ্চর্য হয়ে পাশে তাকালাম,দেখি আমার হাঁটুর বয়সী ছোটো বাচ্চা-কাচ্চা।(টার্গেট অডিয়েন্স তো এই শিশু-কিশোররাই,আমি-ই বরং উজবুকের মতো এখনো এদের বই নিজের জন্য কিনি!) আশ্চর্য হলাম,কারন ইদানীংকালে আর ভাবতেও পারিনা এরা ফোনের/টিভির পর্দা থেকে চোখ সরিয়ে বইয়ের পাতায় চোখ রাখে। কিন্তু মজার নামের কারনেই হোক,এনিমে ধাঁচের প্রচ্ছদের জন্যেই হোক,বা কিশোর আলোর জন্যেই হোক,ছোটোরা এ বইয়ের প্রতি আগ্রহী হয়েছে।আমার মনে হয়,এখানেই লেখকের সার্থকতা।লেখককে অভিনন্দন।
এবার আসি গল্পের আলাপে। বইয়ের নামে ফার্মের মুরগি থাকলেও,ক্লাস টেনে পড়ুয়া ইভানকে কোনোভাবেই ফার্মের মুরগি বলা যাবে না।ইভান মাঝে মাঝে স্কুল পালায়,পশুপাখি রেস্কিউ করে,বৃষ্টির মধ্যে ফুটবল খেলে,স্কুল সিনিয়রদের সাথে গ্যাঞ্জাম এ জড়ায়,আবার ইভানের স্কুলব্যাগে ছুরি ও পাওয়া যায়!! এই ছুরি থেকেই ছোড়াটি কিভাবে এক খুনের রহস্যে জড়িয়ে পড়ে সেই এডভেঞ্চারের গল্প নিয়েই বইটি। সত্যি কথা বলতে, প্রথম ১০০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পড়ার পড়ে মনে হলো লেখা গতি পেলো,এরপর তরতরিয়ে পড়ে ফেলেছি।এর আগ পর্যন্ত বেশ ধীমে তালেই ফার্মের মুরগি চলেছে। শেষ পর্যন্ত পড়ে বেশ ভালো লাগলো। তবে শেষ হইয়াও হইলো না শেষ।মনে হচ্ছে সামনে এই সিরিজের আরো বই আসতে চলেছে।অপেক্ষায় রইলাম। আর হ্যাঁ,এই গল্পের মধ্যেই লেখক দস্যি ক'জন,মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি,শার্লক হোমস ইত্যাদি ভালো ভালো বইয়ের উল্লেখ করেছেন। আশা করাই যায়,আমাদের ছোটো ছোটো পাঠক ফার্মের মুরগিসকল এই রিকোমেন্ডেশগুলো পড়ে দেখতে ইচ্ছা প্রকাশ করবে।