৩.৫/৫
বিচিত্র বা মুক্তগদ্যের বই এটি। প্রতিটা লেখাই হ্রস্ব কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ। শৈশব, মায়ের শাড়ি, প্রভাতফেরি,ময়ূর, র্যাব, যমজকলা, মেয়েদের ধুম্রপান, মন্ত্রী মহোদয়ের ওয়াইফ, কমলালেবু, কনডম, মায়াবড়ি,স্নান, প্রথম সিগারেট খাওয়া, টাকা ধার দেওয়া, গোবর কুড়ানো - এমন বিবিধ ও বিচিত্র বিষয়ে স্মৃতিচারণ বা নিজের কোনো অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন লেখক। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজের আবেগ বা উপলব্ধি দিয়ে পাঠককে নাড়া দিতে সক্ষম তিনি। ছোটবেলায় "স্টার কেন খাই, পয়লা নম্বর তৃপ্তি পাই" বিজ্ঞাপন দেখে বাবার সিগারেট চুরি করে খাওয়া বা যমজকলা খেয়ে পেটে যমজ বাচ্চা হবে ভেবে লেখকের কান্নার ঘটনা হাসির উদ্রেক করে। আবার মায়ের শাড়ি বা তার বলা কোনো কথা মন বিষণ্ণ করে।
শেষ করা যাক বইয়ে বর্ণিত এক ঘটনা দিয়ে-
"১৯৮৭ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত জীবনের বাইশটা বছর একাডেমিক পড়াশোনার পেছনে নাশ করে একদিন আধা-বেকার অবস্থায় ইদের ছুটিতে বাড়ি গিয়ে হাই- ইশকুলের সামনের রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আমার বন্ধু রফিকের সঙ্গে দেখা হল। সে প্রাইমারিতেই পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিল। সে আমাকে রীতিমতো জড়িয়ে ধরল। তার আড়তে নিয়ে বসাল। এবং কথায় কথায় তার জন্যে একটা ম্যানেজার খুঁজতে বলল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, 'লেখাপড়া কী পাশ লাগবে?'
রফিক বলল, 'তুই কী পাশ দিছস?'
বললাম, 'এমএ পাশ'।
সে খুব উৎফুল্ল হয়ে বলল, 'বন্ধু, এমএ পাশ হলেই হবে। এইখানে তো আর ডক্টর ডিগ্রির দরকার নাই'।
খানিকটা বেদনাহত হলেও আমি বেশ মজা পেলাম শুনে। বাড়িতে এসে মাকে বললাম। শুনে তার মুখটা মলিন হয়ে গেল। আমি তার মনটা আরো খারাপ করবার জন্যে বললাম, 'মা, আমি ভাবতেছি রফিকের আড়তের ম্যানেজার হয়ে যাব'।
মা কিছু বলল না।"