জলের কুমিরের মাছ খাওয়া কী এমন দোষের! কিন্তু এতেই কপাল পোড়ে নতুন বৌ আর এক বিধবা মায়ের। এদিকে জলের ধারে বাঁশঝাড়ে লেগেছে শোরগোল; যা কি না দেবী মনসার অধিষ্ঠিত স্থান! এ কেমন স্পর্ধা! তারই ক্রোধের অনলে কি প্রাণ গেল লক্ষ্মীন্দরের? কিন্তু স্ত্রী বেহুলা ছেড়ে যায়নি তার স্বামীকে, সায়রে ভেলা ভাসিয়ে তারা চলে নিরুদ্দেশ যাত্রায়। সেই সায়রধারেই গড়ে ওঠে নতুন এক বসত, চাটগাঁও নাম তার। সেখানেরই আদালতে মামলার সমাধান করেছে এক পাখাওয়ালা! নোনা জলের মোহনায় গড়া সুন্দরবনের বাঘুত চায় প্রতিশোধ নিতে, যেমনটি অসুরাংশ কেতুও চেয়েছিল শিবঠাকুরের কাছে। এখানেই শেষ নয়, উত্তপ্ত উত্তরাঞ্চলে ধ্যানমগ্ন এক ওলি গড়ে তোলেন দাফিউল বালা; যা অক্ষত রয়েছে আজও। অন্যদিকে ধ্বংসপ্রাপ্ত সোনারগাঁও-এর প্রাসাদসম মহল ঘিরে আছে অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায়। আবার এমনই কোনো প্রাসাদের নাচমহলে শোনা যায় নুপুরের ঝংকার কিংবা বুকচাপা আর্তনাদ। যার সুর প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরে এসেছে বঙ্গ দেশি মাইথোলজি-দ্বিতীয় কিস্তিতে। ইতিহাসও কথা বলে, কান পেতে শুনুন...
Born in Chittagong, a beautiful town in bangladesh which has many stories to tell. He is an architect by profession. Loves to write dreams, some dreams no one could imagine.
'মাইথোলজি হলো সেই সব গল্পের ভাণ্ডার, যা মানুষ তার চিন্তা, বিশ্বাস ও সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখার জন্য যুগে যুগে রচনা করেছে—সত্য হোক বা মিথ, সেগুলো আমাদের কল্পনার বাস্তব ইতিহাস' কিংবা 'পুরনো কালের বিশ্বাসযোগ্য গল্প যেগুলো দিয়ে মানুষ প্রকৃতি, সৃষ্টি, ঈশ্বর, জীবন-মরণ, ন্যায়-অন্যায় ইত্যাদি ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করেছিল।'
"কাল-কেউটের ফনায় নাচছে লখিন্দরের স্মৃতি বেহুলা কখনো বিধবা হয় না এটা বাংলার রীতি ভেসে যায় ভেলা এবেলা ওবেলা একই শবদেহ নিয়ে আগেও মরেছি আবার মরবো প্রেমের দিব্যি দিয়ে।"
রাজীব চৌধুরীর “বঙ্গদেশি মাইথোলজি দ্বিতীয় কিস্তি” বাংলা লোককাহিনী এবং পৌরাণিক আখ্যানের এক প্রাণবন্ত সংকলন। যেখানে regionale অজানা কাহিনী থেকে শুরু করে পরিচিত স্থানীয় দেব-দেবী, অদ্ভুত বিশ্বাস, আধ্যাত্মিকতা ও রহস্যে ভরা কাহিনি উপস্থাপন করা হয়েছে।দ্বিতীয় কিস্তিতে মোট ১৫টি গল্প রয়েছে ।
এই কিস্তিতে সংকলিত রয়েছে বিভিন্ন অঞ্চলের লোককাহিনী ও পৌরাণিক আখ্যান, যেমন: 'শাহ্ আমানত (রহ.)'র উপাখ্যান', 'নদের চাঁদ উপাখ্যান', নারিকেল গাছের জন্মকথা', বাঘুত ও দাফিউল বালার মতো অঞ্চল-ভিত্তিক গল্প ।
সোনারগাঁওয়ের প্রেম-মোর্তুল কাহিনী 'সোনাকান্দার কান্নালিপি' থেকে শুরু করে 'মনাসা মুড়া আখ্যান', 'ও বেহুলা' বা 'বনদেবী গো বনদেবী’র মতো পৌরাণিক উপাখ্যানও রয়েছে ।
প্রথম কিস্তির মতো দ্বিতীয় কিস্তিতেও রাজীব চৌধুরী স্থানীয় ভাষার লয়-পাতা ধরে রেখে সহজ ও সাবলীলভাবে গল্পগুলো উপস্থাপন করেছেন।
আক্ষরিক ও পৌরাণিক উপাদানের সুষম মিশ্রণে বাস্তব ইতিহাস ও মিথের সংঘর্ষ রহস্যময়তা ও বিনোদনকর ভাবে তুলে ধরতে সার্থক হয়েছেন।
বাংলা লোককথা ও পৌরাণিক সাহিত্য পছন্দ করে থাকলে এই বইটি পড়ার মত, কারণ এতে রয়েছে আঞ্চলিক ঐতিহ্য ও চমকপ্রদ আখ্যান। আশা করছি লেখক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তৃতীয় কিস্তি নিয়ে আসবেন।
বাংলা অঞ্চলের নানা লোক গল্প নিয়ে আইডিয়া কম থাকার কারণে, এই বইটির বেশিরভাগ গল্পই পড়তে ভালই লাগলো। বেশ মজা লাগলো আসলে। কত লোককথা কত শত বছর ধরে মানুষের মুখে মুখে বয়ে বেড়াচ্ছে। এসব একত্র করে বই তৈরি নিসন্দেহে সুন্দর কাজ। লেখার ধরন সহজ, তবে কিছু গল্প শেষ করার ক্ষেত্রে কেমন তাড়াহুড়ো চোখে পড়লো। লেখকের জন্য শুভ কামনা।
মোটামুটি খারাপ না। কিন্তু তোতামিয়া আর গুনাইয়ের গল্পের শেষটা অসম্পূর্ণ। তাছাড়া বাক্য গঠনে প্রচুর অসামঞ্জস্য দেখা যায়। এছাড়া বাকি গল্পগুলোর গঠন ১ম খন্ডের থেকে অনেকাংশে ভালো।
প্রথম কিস্তি যেমন মুগ্ধতায় আবদ্ধ করেছে, দ্বিতীয় কিস্তিও তেমনি। কোনো রকম দ্বিধা ছাড়াই বলতে পারি,- এই বইটার আরো বেশি প্রচারনা দরকার। এসব গল্প আমরা ছোটবেলায় শুনেছিলাম আমাদের মা-খালাদের কাছে। তখন ছিলো না কোনো মোবাইল বা ইন্টারনেট। রাতের বেলা বিদ্যুৎ চলে গেলেই সবাই বাইরে গোল হয়ে বসে প্রচলিত এই গল্প গুলো শুনতাম। বেহুলার গল্পটা আমরা ছোটবেলায় শুনেছিলাম। আহারে সেই শৈশবের দিনগুলি এই বইয়ের মাধ্যমে চোখের সামনে ভেসে উঠলো। ধন্যবাদ লেখক ও প্রকাশককে ।