আমি বড় হয়েছি রামপুরায়, একটা একান্নবর্তী পরিবারে। যাবতীয় কাজ ও অকাজের সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিল নসিব; আমার মেঝ চাচার ছেলে। স্কুল জীবনের একটি বিশেষ ঘটনার পর আমি কানে ধরে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, সন্ত্রাসীদের ছায়াও মাড়াব না। ন্যায়ের পথে চলব, শুদ্ধ জীবন-যাপন করব।
কলেজে ভর্তি হবার পর আমাদের পাখা গজিয়ে গেলো৷ ক্লাস পালানোর অযুহাতে সায়েন্স ক্লাব, তারপর সত্যি সত্যি একটা বড়সড় সায়েন্স ফেয়ার আয়োজন করতে গিয়ে আমার অবস্থা খারাপ। এদিকে আমার সর্বক্ষণের সঙ্গী ডায়লগ জিসান এবং শুইরা বয়তান একের পর এক ঝামেলা পাকাতে ব্যস্ত! এরই মাঝে অডিশনের সময় কলেজের এক বড় ভাইয়ের সাথে গ্যাঞ্জাম করে নিখোঁজ হয়ে গেলো বলদা নাযিফ। লোকমুখে শোনা যাচ্ছে খুন-খারাপিও হয়ে যেতে পারে। তার ওপর নসিব প্রতিষ্ঠিত বাণিজ্যশিল্পী হবার চেষ্টায় ব্যস্ত! ভালো কথা, এককালে নারীবিদ্বেষী মনোভাব থাকা সত্বেও খ্যাতির নেশা এবং রকস্টার হবার আকাঙ্খার পাশাপাশি ইদানীং আমরা প্রেমের প্রতি কিঞ্চিৎ দুর্বল হয়ে পড়েছি।
ঘটনাগুলো ম্যাজিকাল নব্বই দশকের ঠিক পরপর, শূন্য দশকের প্রাক্কালে। যে সময়ে মাসে একটা করে চিঠি লিখলেও কারও সাথে দূরত্ব কমতো না। শুক্রবার মানে ছিলো পরিবারের সবাই একসাথে টিভির সামনে বসে বাংলা সিনেমা দেখার আনন্দময় দিন। তখন রং নম্বরে টেলিফোন চলে গিয়ে প্রেম হতো। অপরিচিত কেউ হুটহাট ফোন করে ছয়-সাত বিল্ডিং পরের প্রতিবেশীকে চাইলে তাকে দৌড়ে গিয়ে ডেকে আনতে কেউ ক্লান্তি বোধ করতো না।
ইচ্ছে ছিলো নিজের কৈশোরের শেষভাগে ডুব দিয়ে একটা ইয়াং এডাল্ট ফিকশন লেখার। আপনারও যদি এক বিষন্ন বিকেলে এমন ইচ্ছে জাগে, তবে আমন্ত্রণ রইলো 'কলেজ খুইলাছে'- এর পাতায়।
এটা কিন্তু একটা ফাটাফাটি উপন্যাস হইসে!!যারা ফার্মের মুরগীদের এডভেঞ্চার পড়ে জেন-যি দের ভীড়ে আমার মত জল ছাড়া মাছ,পাতা ছাড়া গাছ এর মত দিশেহারা বোধ করছেন,নিজেদের খুঁজে পেতে কলেজ খুইলাছে পড়ে দেখবেন।মিলেনিয়ালস মিলেংগেহি✊।
লেখক ওয়াসি আহমেদ বহু ধরনের লেখা লেখেন।আমার ব্যক্তিগতভাবে প্রিয় তাঁর হাস্যরসাত্মক/স্যাটায়ার ঘরানার লেখাগুলো যেখানে তিনি তাঁর Gangs of WASEEpur(নিজের ভাই-ব্রাদার-ইয়ার-বন্ধু) নিয়ে হাজির হন।আর সেই লেখায় যদি থাকে ৯০ দশকের নানা ট্রেন্ড এবং নস্টালজিয়ার হাতছানি,কলেজ জীবনের স্মৃতিকথা-সে লেখা আর নিছক লেখা থাকে কই?এ হয়ে যায় পরম বন্ধু,পরম আপন।
উপন্যাসটি শুরু হয় সম্ভবত ইশকুল খুইলাছে যেখান থেকে শেষ হয় সেখান থেকেই(ইশকুলে না পড়েই কলেজে ঢুকে পড়সি,তবে ইশকুলেও পড়ে দেখতে হবে।) গল্পের কথক আমাদের লেখক,ওয়াসি,যে কিনা পড়ে খানউক কলেজে।ওদিকে তার ভাই নসিব পড়ে কিলোমিটারস্টোন কলেজে। খানউক,কিলোমিটারস্টোন এর মতো এমন মজার মজার সব শব্দ-জব্দের punপ্যানানি পুরো উপন্যাস জুড়েই আছে।আর আছে বিচিত্র সব চরিত্র।বহুদিন পর এমন চরিত্র-নির্ভর উপন্যাস পড়লাম।ডিজে জিসান,শুইরা বয়তান,পিচ্চি হান্নান,গাড়া পাপন ইত্যাদি ইত্যাদি বিচিত্র-স্বতন্ত্র ক্যারেক্টার এবং তাদের মজার সব কাণ্ডকারখানায় ভরপুর ওয়াসির কলেজ-জীবন।এরমাঝে তার কাঁধে এসে পড়লো সায়েন্স ফেয়ার আয়োজনের দায়িত্ব।এই সায়েন্স ফেয়ার নামানোর দিন পর্যন্ত নানা ঘটনা,দুর্ঘটনা,মাইর-পিট,প্রেম-বিচ্ছেদ,বন্ধুত্ব- শত্রুতা,ধুম-ধাড়াক্কার মধ্যে কিভাবে কিভাবে যে বইয়ের পাতা ফুরিয়ে গেলো টের-ই পেলাম না। আমি নিশ্চিত,এই বই আমি পরেও বহুবার পড়বো,ঠিক যেভাবে সুযোগ পেলেই স্মৃতির দুয়ার ঠকঠকিয়ে স্কুল-কলেজে ঘুরে আসি। লেখকের নিজস্ব স্মৃতির ঝাঁপি খুলে,বাস্তব-কল্পনার এমন চমৎকার মেলবন্ধন করে বইখানা লেখার জন্য অনেক ধন্যবাদ। এখন শুধু "জাকের রোড কল্যাণ সমিতি" এর জন্য অপেক্ষা।
সর্বশেষে একটাই কথা- মানুষ মাত্র-ই একা। মানুষকে বিশ্বাস করা পাপ। এটাই বাস্তব..হাহাহাহা।
পুনশ্চ: শুইরার আসল নামের ক্লিফহ্যাংগারটা রাখা ঠিক হয় নাই।ডিজে জিসান এর ভাষায় - না জানার এই কঠিন পাথর বুকে চেপে,ঘুমোতেও পারবোনা।
৪.৫ তারা৷ দুর্দান্ত লাগলো কলেজ খুইলাছে। মিথ্যে বলবো না, ইশকুল কলেজের মধ্যে ইশকুল নিয়েই প্রত্যাশা ছিল বেশি, কিন্তু কলেজ ফাটিয়ে দিয়েছে৷ আত্মজীবনীর ধাঁচে বর্ণিত এই কিশোর রম্যোপন্যাসে লেখক যে স্কুল, কলেজ এবং এলাকার বর্ণনা করেছেন, তা শতভাগ আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সাথে মিলে গেছে বলেই হয়তো ভালো লাগার পরিমাণটা কিঞ্চিত বেশি৷ সবচেয়ে উপভোগ্য চরিত্র ছিল অবশ্যই নসিব। শুধু তার কার্যকলাপ পড়ার জন্যেই একটানা পাতা উল্টে গেছি। পাগলামো ছিল বেশ ভালো পরিমাণে। রেকমেন্ডেশ। ইশকুল না পড়েও পড়া যাবে।
একবার বছরের শুরুর দিনে অফিসে এক্সেল শিট দেখতে দেখতে মাথা ব্যাথা হয়ে যাওয়ার ফাঁকে ব্যাচমেট কলিগকে বলেছিলাম "দেখো আমাদের স্কুল পাশ করার ১০ বছর হয়ে গেলো"। এরপর সে আর সারাদিন আমার সাথে কথা বলেনি। আবার দুই বছরের বাবুটাকে কোলে নিয়ে বসে থাকা আমার বান্ধবী যেদিন বলল, "দেখ আমাদের পরিচয়ের ১৫ বছর পার হলো, শুনেছি ৭ বছর বন্ধুত্ব টিকে থাকলে সেটা আজীবন টিকে যায়" দুইজনেরই চোখ ভিজে উঠেছিলো কিছুটা৷ কলেজ ইউনিফর্মটা শেষবারের মতো খুলে রেখে যেই এডাল্ট লাইফের পা দিয়েছিলাম দৈনন্দিন তার নানাবিধ ব্যস্ততা আর নিরাশার মাঝে ফেসবুক মেমরি এবং নিজেদের স্মৃতি প্রায়ই ফেলে আসা দুরন্ত দিনগুলোকে মনে করিয়ে দেয়, আর সেই নস্টালজিয়াকে কেন্দ্র করেই লেখা এই দুটো বই।
লেখকদের নিজেদের নব্বইয়ের দশকের দুরন্ত কৈশোরের সাথে লাগামহীন কল্পনার ঘোড়া ছুটিয়ে উরাধুরা অথচ নষ্টালজিক উপন্যাস 'ইশকুল খুইলাছে' ও 'কলেজ খুইলাছে'। দুই জনরার মেলবন্ধন বেশ চমৎকার, একটানে পড়ে ফেলার মতো সহজ লেখা আর হাস্যরসে পরিপূর্ণ গল্প, তবে বেশ কয়েকদিন লাগিয়েই পড়লাম এক্সপেরিয়েন্সটা ধরে রাখার জন্য। বই দুটো একই সিরিজের হলেও একটার সাথে আরেকটার কাহিনীর তেমন কোন সংযোগ নেই, চরিত্রগুলো ছাড়া। স্ট্যান্ডএলোন হিসাবে যেকোনো বই আলাদাভাবে বা আগে-পরে পড়া যাবে।
'কলেজ খুইলাছে' মূলত কলেজে সায়েন্স ফেয়ার আয়োজনকে ঘিরে। নিজে স্কুলে থাকতে জ্বর বাধিয়ে প্রতিযোগী হিসাবে সায়েন্স ফেয়ারটা মিস করলেও কলেজে উঠে ক্লাবের এক্সিকিউটিভ হিসাবে আয়োজনের আনন্দ (এবং যন্ত্রণা) পুরোপুরি উশুল করে নিয়েছিলাম৷ এই বইটা আমাকে ঠিক সেই দিনগুলোতে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলো। স্পন্সর যোগাড়ের টেনশন, শিক্ষকদের হাতেপায়ে ধরে আর ক্লাসের সবাইকে হুমকিধামকি দিয়ে বা কোকাকোলার লোভ দেখিয়ে ম্যাগাজিনের জন্য লেখা আদায়, খাবার অর্ডার করার নাম করে মেন্যু টেস্টিং, এতসব আয়োজনের ফাঁকে কোনভাবে নিজেদের একটা প্রজেক্ট ডিসপ্লেতে দেওয়া, এবং অতি অবশ্যই ক্লাবের কাজের নাম করে ক্লাস ফাঁকি - সবই ফেরত নিয়ে যাচ্ছিলো এক যুগ আগের নিজের কলেজের দিনগুলোতে। সাথে ছিলো কলেজে ভর্তি হওয়ার পর পাখা গজিয়ে যাওয়া, উথালপাতাল প্রেমের অনুভূতি, নিজেদের মর্যাদা রক্ষার্থে পাশের কলেজের সাথে হুদাই বাঁধিয়ে দেওয়া গ্যান্জাম। চাপাবাজ বন্ধু, ক্লাসমেট হিসাবে প্রিন্সিপালের শ্যালকের মামির ভাতিজা, দুঃসম্পর্কের চাচার কলেরার এক্সকিউজ দিয়ে দরকারের সময় অনুপস্থিত বন্ধু বোধহয় সবারই থাকে, এখানেও ছিলো। নারী পাঠক হয়ে ছেলেদের ইয়াং বয়সের গালাগালি আর নিজেদের মধ্যের কথোপকথন পড়তে কিছুটা অস্বস্তিকর লাগলেও গলায় চেন ঝুলিয়ে রাতের আঁধারে ফাপরবাজি দেখে বেশিরভাগ সময়েই বইয়ের চরিত্র ওয়াসি আহমেদের মতো ডায়লগ দিতে ইচ্ছা করেছে, 'শালা অ্যামেচার'।
প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে বাসা থেকে হাটতে হাটতে ভার্সিটির উদ্দ্যেশে যেতে গিয়ে জীবনের স্কুল কলেজের সেই সময়গুলোর কথা মনে পরে যখন অকৃত্রিম সময় পার করে এসেছি। ভার্সিটির জীবনে হয়ত হাজারো চাপের মাঝে সামান্য স্বস্তি আছে, তবে মাঝেমাঝে কৈশোরে কাটানো সময়গুলো হানা দিয়ে ডাকে। তখন বলাই বাহুল্য, হয়ত সেই সময় গুলোর গুরুত্ব তখন না টের পেলেও এখন পেয়েছি। কলেজ খুইলাছে বইটি পড়তে গিয়ে কোথায় যেনো নিজের কলেজ জীবনের বিজনেস ফেস্ট নামানোর দিনগুলোতে হারিয়ে যাচ্ছিলাম। স্পন্সরের জন্য দৌড় হোক, কিংবা হিসাবের গরমিলের, অথবা রাত নয়টা দশটা পর্যন্ত কলেজে থেকে নিজের উপস্থাপনার স্ক্রিপ্ট দাড় করানো এরপর সেই ডায়াসে দাঁড়িয়ে কাপা কাপা হাত পায়ে মাইকে নার্ভাসে ভরপুর একটি অনুষ্ঠান সঞ্চালনা, পুরো ব্যাপারটা আজো পুঙখানুপূঙখ ভাবে আমার স্মৃতিতে রয়ে গেছে, যা হয়ত বলে বোঝানো সম্ভব নাহ। তবে এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিযোগিতামূলক দৌড়ের মধ্যে যখন একটু বিরতি আসে তখন নিজের ডেমিয়ান জীবনের কথা মনে পরে। সেই প্যার���ময় পড়াশোনা কুইজের চাপে থেকেও কিভাবে বিজনেস ক্লাবের মেম্বার থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট থেকে স্টেজ এংকর থেকে লাইফটাইম মেম্বার, যে জীবন আমি বারবার ফেরত চাইবো। ফেরত চাইবো সেই ক্রিম রঙের ইউনিফর্মকে। বইয়ের আলাপের মাঝে অতিমাত্রায় স্মৃতিকাতর হবার জন্য দুঃখপ্রকাশ করছি না। কেননা ওয়াসী আহমেদ এর কলেজ খুইলাছে বইটি কোনো গতানুগতিক ধারার উপন্যাস নয় যেখানে হয়ত কোন গূঢ় তত্ত্বের আলাপ হয় কিংবা কোনো হৃদয় বিদারক সম্পর্ক ছেদের গল্পে আপনার আমার হৃদয় এবং চোখ দুটোই ভরে উঠবে (তবে আমি ভাবি যদি ওয়াসী ভাই আসলেও কোনো রোমান্টিক উপন্যাস লেখেন তাহলে সেটার গল্প কেমন হবে? তার নাম কি হবে বদ্মজা? নাকি টঙের মোড়ে গোল্ডলিফ ঠোটে তোমায় দেখেছি?) কলেজ খুইলাছে হচ্ছে নব্বইয়ের দশক (আশা করি ভুল নই) সময়কার কিশোরদের জীবনের এক খন্ডচিত্র, যা খানিকটা স্মৃতিচারন মূলক, কিছুটা কাল্পনিক আর বাকিটা ইয়ে তে ভরপুর। (ইয়ে র মানে নাই ই বললাম) মূলত ২৮৫ পেজের কাল্পনিক ননসেন্স ও মনে হতে পারে, আবার মনে হতে পারে এমন এক স্মৃতিচারনমূলক গল্পই হয়ত খুজে ফিরছিলেন পাঠক। (এবার আসলেই সিরিয়াস আলোচোনা) কলেজ খুইলাছে মূলত স্ট্যাটায়ারধর্মী কলেজ জীবনের গল্প যেখানে ওয়াসী নামক চরিত্র কলেজ জীবনের গতানুগতিক ধারা থেকে বের হয়ে ভিন্ন কিছু করতে গিয়ে মূখোমুখি হয় নানা বিচিত্র ঘটনার। এবং এ সকল ঘটনার সাথী নসিব ভাই। পাঠক হিসেবে স্যাটায়ারধর্মী লেখার পাঠক আমি নই, কোনো কারনে কমেডি ধাচের লেখার প্রতি সেরকম আকর্ষণ জন্মায়নি। তবে কলেজ খুইলাছে বইটি পড়ার পর হয়ত হাস্যরসাত্মক লেখনির উপর কিছুটা আগ্রহ জন্মিয়েছে। গল্পটির বিচিত্র ঘটনাবলির সাথে অনেকটাই রিলেট করতে পেরেছি। এমনকি গল্পটিকে সকল এস্পেক্ট দিয়ে উপভোগ করতে পেরেছি। অনেকদিন ভারী বই পড়ার পর এরকম হালকা রিড আমার বেশ ভালো লেগেছে। চরিত্রায়ন এবং গল্পের ফ্লো নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। এতদিন পর কোনো এক বই এত স্বল্প সময়ে শেষ দিয়েছি এবং উপভোগ করেছি। কলেজ খুইলাছে কিশোরজীবনের নিষিদ্ধ আকর্ষন এবং জীবনের প্রাপ্তবয়ষ্কের পর্যায়ে পৌছানোর মূহুর্তের দোলাচলে চলা জীবনের পেন্ডুলামের মত দুলতে থাকা দোদ্যুল্যমান গল্প যেখানে আছে বন্ধুত্ব, ক্ষোভ, ঘৃণা, জীবনযাপনের গতিময়তা সহ অনেক কিছুই। যা ওয়াসী ভাইয়ের কল্পনার আচড়ে উঠে এসেছে অচিরেই। আর ওয়াসী ভাই, আমরা কিন্তু আপনাকে আন্ডারএস্টিমেন্ট করছিনা :') বইয়ের নাম: কলেজ খুইলাছে লেখক: Wasee Ahmed প্রকাশনী: গ্রন্থ রাজ্য প্রকাশকাল: বইমেলা ২০২৫
সাড়ে ৪ তারা বেসিক্যালি তবে গুডরিডসে ভাঙতি তারা দেয়া যায় না বলে ৫ তারা দিলাম (কম দিবো ক্যান? বেশিই দেই)।
ইশকুল খুইলাছে আর কলেজ খুইলাছে বই দুটার মাঝে আমার কাছে বেশি ভালো লাগছে এটাই। ৯০ দশকে জন্ম নেয়া ঢাকার কলেজপড়ুয়া পোলাপানের জীবন এ বইতে যেমন দেখানো হইছে আমি সেইটার সাথে একমত। ৯০ দশকে জন্ম নেয়া আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই একটা কইরা 'শুইরা বয়তান' আছে। আছে বাকি চরিত্রগুলাও। তবে ঢাকার আশেপাশের পোলাপান বা এই দশকের আগে পরে জন্ম নেয়া পোলাপান কতটুকু রিলেট করতে পারবে আমি শিওর না। একটা জায়গায় শুধু ভেজাল মনে হইছে, সেইটা হইলো এই বইতে 'বড় চাচা'র প্রসঙ্গে। ওয়াসির বাপই তো ভাইয়ের মধ্যে বড়, তার পরের জন মাসুদ সাহেব যার পোলা নসিব, আর এরপরেও দুই চাচা রুবেল চাচা আর পলাশ চাচা। তাইলে ওয়াসির POV তে বড় চাচা কে? এইটা বুঝি নাই।
খানদানি উন্নয়ন কর্পোরেশন মডেল কলেজ। সংক্ষেপে খানউক। দেশের প্রথমসারির কলেজগুলোর একটা। স্কুল জীবন শেষ করে এখানেই ভর্তি হয়েছে ওয়াসি। সবচেয়ে কাছের বন্ধু শুইরা বয়তান ও ডায়লগ জসিম ওরফে ডিজেকে নিয়ে নানা কর্মকাণ্ড করে বেড়ায় সে। ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষা যখন সমাগত, তখন সিদ্ধান্ত এলো কলেজে একটা সায়েন্স ফেয়ার হবে। আর সায়েন্স ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ওয়াসির কাঁধে এসে পড়লো এর ভার।
ওয়াসির চাচাতো ভাই নসিব পড়ে কিলোমিটারস্টোন কলেজে। বহুকাল ধরেই খানউক আর কিলোমিটারস্টোনের ছাত্রদের মধ্যে চলে আসা শত্রুতা অবশ্য এই দুই ভাইয়ের সম্পর্কে কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি। নসিব নিজেকে ঘোষণা করেছে বাণিজ্যশিল্পী হিসেবে। ক্যারমের পাউডারের বিজনেস করে প্রায় আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার অবস্থা তার৷ ব্যবসার সূত্রে তার ওঠাবসা কুখ্যাত পিচ্চি হান্নানের সাথে। ভাবা যায়!
খানউকের সায়েন্স ফেয়ার সফল করতে ওয়াসি, শুইরা আর ডিজের সাথে এগিয়ে এলো প্রীতম, বাপ্পা, রিন্টু, মৌরি, তাসনিয়া আর ফৌজিয়ারা। জুনিয়রদের মধ্যে এলো মাহফুজ। এমনকি প্রোজেক্টের কাজে সাহায্য করলো নসিব আর পিচ্চি হান্নানও। একটা বিশাল ভলান্টিয়ার দল গঠন করা হলো। এর মাঝে ওয়াসির জীবনে এলো প্রথম প্রেমের অনুভূতি। এলো গ্যাঞ্জাম। এলো প্রথমবার অনুভব করা কিছু কষ্টও।
বারবার ছাত্রদের নাম ভুলে যাওয়া ভাইস প্রিন্সিপাল মোজাম্মেল স্যার, কেমিস্ট্রির ফেরদৌসি ম্যা'ম, বলদা নাযিফ, সাকিব গ্রুপ, বাইকের ড্রাইভার শওকত ভাই, পিচ্চি হান্নান, ফিল্টারবিহীন গোল্ড লিফ সহ আরো অনেকের আনাগোনা চলতে থাকলো পুরো কাহিনি জুড়ে৷ কলেজের সায়েন্স ফেয়ারকে কেন্দ্র করে তারা আবর্তিত হতে থাকলো চমৎকারভাবে।
নসিব পঞ্চম জিহাদীর 'ইশকুল খুইলাছে' শেষ করে সামান্য বিরতি দিয়ে পড়লাম ওয়াসি আহমেদের 'কলেজ খুইলাছে'৷ নব্বইয়ের দশকের শেষদিকের সময়টা আবারও চোখের সামনে ফুটে উঠলো যেন। সেই নতুন নতুন আসা ফিচার ফোনের যুগটা, ডিজুস সিমের ফ্রি টকটাইম অফার, পরিচয় গোপন করে পছন্দের মানুষের সাথে এসএমএস চালাচালি যেন আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে গেলো নিজেরই কলেজ জীবনে। পুরোপুরি নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলাম 'কলেজ খুইলাছে' পড়তে গিয়ে।
আত্মজীবনীর ঢঙে লেখা এই উপন্যাসের চরিত্রগুলোকে একদম জীবন্ত মনে হয়েছে। ওয়াসি আর নসিবের কর্মকাণ্ডে বারবার হেসে উঠেছি। এছাড়া অন্যান্য চরিত্রগুলো যতোবার সামনে এসেছে ঠোঁটে হাসির রেখা ফুটে উঠেছে আমার। ভালো লেগেছে বন্ধুত্বের ছোট ছোট টক, ঝাল আর মিষ্টি গল্পগুলো। জীবনের প্রথম প্রেমের অনুভূতি, না পাওয়ার কষ্ট, প্ল্যান না করে হুটহাট কিছু করে বসা - এসবই যেন নিজের কাছে চেনা, খুব কাছ থেকে দেখা।
ওয়াসি আহমেদের লেখার সাথে আমি পরিচিত অনেকদিন থেকে। তাঁর 'জাকের রোড কল্যাণ সমিতি' নিয়ে উৎসুক ছিলাম সবসময়। সেই বইটা না পেলেও 'কলেজ খুইলাছে' পেয়ে ভালো লাগলো। আশা করি 'জাকের রোড কল্যাণ সমিতি' বইটাও শীঘ্রই পড়ার সুযোগ পাবো। যদি লেখক আরো আলসেমি না করেন তো।
বুকে ভারী কোন পাথর চেপে বসার অনুভূতি নিয়ে কোন পাঠক যদি 'ইশকুল খুইলাছে' বা 'কলেজ খুইলাছে' হাতে তুলে নেন, দেখবেন বুকের বোঝাটা হালকা হতে শুরু করেছে। পরীক্ষা প্রার্থনীয়।
I am not a regular reader but after a very long time, I managed some time for myself to read this book and every single page took me to the lane of nostalgia. Every character reminded me of my college friends or classmates with whom I have not been in touch for over 10 years. Thanks to the writer for taking me to a time when life was busy but surrounded by friends and family. I have a friend just like the Wasee character. I would say there's 90% similarity and I can proudly say that he's my only achievement from those two years of college life. One or two conversations with him in a year seems like 'being in touch', however, there was a time when meeting in the college five days a week wasn't enough. I'm extremely thankful to the writer for writing a piece like this, which I can guarantee, will take all the readers to the past - a simple, busy, confusing and eventful life filled with loads of emotions.
সোস্যাল মিডিয়ায় মাঝে মাঝেই এরকম একটা লেখা দেখা যায়, "তারপর একদিন কলেজ সেরে ইউনিফর্মটা খুলে রেখেছিলাম, ওটাই ছিল শেষবার।" এই কথাটা বিভিন্ন জেনারেশনের কাছে বিভিন্ন আবেগ নিয়ে ধরা দিলেও মোটামুটিভাবে কোর ফান্ডামেন্টাল টা সবারই এক; নস্টালজিয়া। 'কলেজ খুইলাছে' নি:সন্দেহে এই নস্টালজিয়ায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে। শিক্ষাজীবন শেষে কর্মব্যাস্ততার মাঝে ডুবে থাকতে থাকতে আমরা প্রায় ভুলেই যাই নিত্য নতুন দুরন্তপনা আর উঠতি আবেগের দোলাচলে পার করে আসা কৈশোর থেকে তারুণ্য। ঘটনাপ্রবাহ যাই হোক, গল্পের আবহ আপনাকে কলেজ ক্যাম্পাসের ফেলে আসা দিনগুলোতে নিয়ে যেতে বাধ্য। চরিত্রগুলো খুব একটা অপরিচিত বা অলীক মনে হবার সম্ভাবনা নেই। এরাই ঘুরে ফিরে বার বার বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন নামে আপনার, আমার, আমাদের চারপাশে ছিল, আছে, থাকবে। লেখকের সাবলীল বাচনভঙ্গিতে ফুটে ওঠা রম্য-আত্মকাহিনীমূলক ঘরানার এই উপন্যাসে রয়েছে নব্বই দশকের চিরাচরিত স্বাদ, বুদ্ধিদীপ্ত সংলাপ, পারিবারিক শাসন-বন্ধনের মিষ্টতা, উঠতি বয়সের প্রেম, রেষারেষি, এড্রেনালিন রাশ, বন্ধু, আড্ডা, গান, এক কথায় অসাধারন এক অভিজ্ঞতা। লেখকের প্রতি, আপনার লেখা পড়া হয় বছরখানেক ধরে, প্রতিবার নতুন কিছু উপহার দেবার আপনার এই ধারা অব্যাহত থাকুক। Godspeed!
শেষ করার পর মনে হচ্ছে আরো সময় নিয়ে, আরো ধীরে ধীরে পড়া উচিত ছিলো । একদম নস্টালজিক হয়ে গেছিলাম। প্রত্যেকটা ক্যারেক্টার যেন আমার পরিচিত। দারুন এক টাইম মেশিনে করে ফিরে গেছিলাম সেই অতীতে।আফসোস হচ্ছে কেন শেষ করলাম।।।
পুনশ্চ: কিছু অসামঞ্জস্যতা নজরে আসলো নসিব সাহেব আর ওয়াসি সাহেবের বইয়ে। ইচ্ছাকৃত নাকি অল্টারনেট ওয়ার্ল্ডের গল্প 😁😁😁
সিদ্ধেশ্বরী গালর্স কলেজের বার্ষিক বিজ্ঞান মেলায় পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে প্রথম পুরষ্কার পেয়েছে, ❛বেস্ট ওয়ে অফ কালেকটিং পিওর রেইন ওয়াটার❜।
তিনজন ছাত্রী খুশিতে চিৎকার করে উঠলো। সাথে হাততালির ফোয়ারা বয়ে গেল।
কী ভাবছেন কীসের কী পুরষ্কার ঘোষণা করতে এসেছি? নাহ, একটু নিজের কলেজ জীবন স্মৃতিচারণ করছি। কলেজের প্রথম বর্ষের শেষের দিকে আয়োজন হয়েছিল বিজ্ঞান মেলার। কীভাবে করে দুটো (দুই বিভাগে) প্রজেক্ট দিয়ে অংশ নিয়ে ফেলেছিলাম। এরপর অবিশ্বাস্যভাবে পদার্থবিজ্ঞানে দেয়া প্রজেক্টটা প্রথম পুরষ্কার পেয়ে গেল। এরপর সেটা নিয়ে নটরডেম কলেজেও প্রদর্শনী হলো। আসছি সে কথায় পরে।
এখন আসছি ওয়াসি আর নসিব নামের দুই চাচাতো ভাইয়ের কথায়। ইতোমধ্যেই দুইজন স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে পা রেখেছে রঙিন চশমা পরা কলেজের দিনগুলোতে।
খানদানি উন্নয়ন কর্পোরেশন মডেল কলেজ তথা খানউকে ভর্তি হয়েছে বড়ো ভাই ওয়াসি। আর নসিব ভর্তি হয়েছে কিলোমিটারস্টোন কলেজে। জনশ্রুতি আছে এই দুই কলেজের সম্পর্ক একেবারে দা-কুমড়া। কিন্তু এই রেষারেষি দুই ভাইয়ের সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।
যাই হোক কুলের বন্ধু ফেলে এই কলেজে ভর্তি হয়ে ওয়াসি বেশ একাই দিন কাটাচ্ছিলো। তবে টুকটাক বন্ধু জুটেছিল। এই যেমন শুইড়া বয়তান (তার আসল নাম সবাই ভুলে গেছে), ডিজে (ডায়লগ জিসান), প্রীতম, সহ আরো কয়জন।
ওয়াসি কলেজে নিজেদের ভাবমূর্তি একটু প্রতিষ্ঠা করতে চালু করলো বিজ্ঞান ক্লাব (বেশ ভারিক্কি একটা নাম আছে তার)। আর সেই থেকেই ঘটনার সূত্রপাত।
কলেজ থেকে বিজ্ঞান মেলা আয়োজনের ভার পড়ে তার উপর। ক্লাবের জেনারেল সেক্রেটারি সে। কীভাবে কী করবে হুশ হওয়ার আগেই সামনে প্রথম বর্ষের ফাইনাল, ক্লাবের অন্যতম সদস্য সাক্ষর অসুস্থ। আকাশ ভেঙে পড়ল।
এদিকে নসিব বাণিজ্যশিল্পী হওয়ার পথে। ক্যারম বোর্ডের (আমরা ছোটো কালে ক্রাম বোর্ড কইতাম!) পাউডারের ব্যবসা করবে। সে লক্ষ্যে একদম তোড়জোড় এগোচ্ছে সে। এমনকি নিজের ব্যবসায়িক কার্ড পর্যন্ত করে ফেলেছে।
দুই ভাই নিজেদের মতো করে কলেজ সামলাচ্ছে। এদিকে ওয়াসি তো জীবনে প্রথম ভালোবাসার দোরগোড়ায় এসে গেছে। তাসনিয়াকে দেখলেই কেমন ধুকপুক ধুকপুক করে। কিন্তু কাহিনি বহু বাকি!
মেলার কাজ এগিয়ে নিতেই শুরু হয়ে গেল ভয়ালান্টিয়ার বাছাইয়ের কাজ। সে আরেক ধুন্ধুমার অবস্থা! তাসনিয়া, মৌরি, ফৌজি, রিন্টু, নাযিফ বল দা, শুইরা, ডিজে, প্রীতম, বাপ্পা, জুনিয়র মাহফুজ সহ সবাই প্রাণপণ খাটছে। দুষ্টুমি করে খোলা ক্লাবের কাজ যে এভাবে আগাবে কেউ স্বপ্নেও ভাবেনি।
কিন্তু হৃদয়ের গোলমেল আর নিজের পাল বাকনামিতে ওয়াসি বেশ কিছু ঝামেলায় জড়িয়ে যায়। যদিও স্কুল থাকতে যে ঝামেলা হয়েছিল তারপর ভেবেছিল এসব ঝামেলায় সে জড়াবে না। কিন্তু র ক্ত গরমকালের এই দুষ। না বুঝেই ঝামেলায় জড়িয়ে যায়। এদিকে নসিব বেশ ঠান্ডা। বুদ্ধি দিয়ে কাজ করে। এমনকি ভাইয়ের জন্য বিজ্ঞান প্রজেক্ট পর্যন্ত জোগাড় করে দিয়েছে। সে আবার মিশে পিচ্চি হান্নান নামক এক অদ্ভুত লোকের সাথে। যার আবার অদ্ভুত হিরিক।
❛নিউট্রন বো মা বোঝ, মানুষ বোঝ না!❜
এভাবেই সময় গড়িয়ে যাচ্ছিলো। নিজের নির্বুদ্ধিতায় ওয়াসি অসুস্থ হয়ে মেলার কাজের অনেক দারুণ অংশ গুলোই মিস করে। কিন্তু রাত জেগে বন্ধুদের সাথে প্রজেক্ট তৈরি, নাযিফকে নাকানি চুবানি খাওয়ানো, রিন্টুকে নিয়ে গান আর কলেজ বাসে বাপ্পার ড্যান্স এই ব্যাপারগুলো চলছিল দারুণভাবে। সেই সাথে এগোচ্ছিল কলেজ ম্যাগাজিনের কাজ।
এরমাঝেই মন ভেঙে যায় ওয়াসির। আর এখানেই বন্ধুত্বের আর ভ্রাতৃত্ববোধের অদ্ভুত নিদর্শন মেলে।
নানা চড়াই উতরাইয়ের পর ঘনিয়ে আসে আসন্ন বিজ্ঞান মেলা। সুন্দর সব প্রজেক্ট আর দারুণ ডেকোরেশন যেন কলেজের রূপ পাল্টে দেয়। মেলার আগের রাতের হৈহৈ রব, আনন্দ সব হয়। আর সবাইকে অবাক করে বল দা নাযিফ আর তার দল মিলে চোখ ধাঁধানো এক প্রজেক্ট নিয়ে আসে। সবার মাথায় হাত তখন! মাথায় হাত দিতে হয় যখন ঝা চকচকে কলেজ ম্যাগাজিনের শেষের কয়েক পাতার বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে! এসব কাজ করা সম্ভব একমাত্র নসিবের পক্ষেই!
এদিকে নসিব এমন সব কান্ডকারখানা করবে যে অবাক হতেই হবে। কমার্সের পোলাপানের মাথায় এমন বুদ্ধি কইত্তে আসে ভাবতে হবে!
শেষের দিকে কিছু যবনিকাপাত হয়। কিছু আছে মন ছুঁয়ে যাবে, কিছু ঘটনায় মনে হবে রাগ হচ্ছে। আবার তৃপ্তি লাগবে। কেমন হয়েছিল বিজ্ঞান মেলা? বিজ্ঞান মেলায় বিজয়ী কারা হয়েছিল? শুইরার আসল নাম কি জানা গেছিল?
নব্বইয়ের দশকের সোনালী দিনগুলো তাদের কেটে যাচ্ছে। ফেলে আসছে তারা এক রঙিন অতীত।
বলা যায় একটা সিরিজের তৃতীয় বই এটি। যার প্রথম বই এখনো প্রকাশই হয় নি! হ্যাঁ তাই। বইয়ের শেষে লেখক আশা দিয়েছেন এই সিরিজের প্রথম বইটি আনবেন। তবে মহাকাল জানে সেটা কবে!
ইশকুলের কাহিনি শেষের পর থেকেই শুরু হয় দুই ভাইয়ের কলেজের ঘটনা। আসে বেশ কিছু নতুন চরিত্র। পুরোনো কয়েকজনের দেখাও মেলে এখানে।
দুটো বই দুইজন লেখক তাদের নিজস্ব লেখার স্টাইলে লিখেছেন। ইশকুল আমার কাছে উপভোগ্য বেশি লেগেছে তবে দ্রুত শেষ করার খামতি ছিল। কলেজ সেই খামতি পূরণ করে দিয়েছে।
এখানেও নব্বই দশকের দারুণ দিনগুলোকে রোমন্থন করেছেন লেখক। এক দারুণ নস্টালজিয়াতে ভুগবে পাঠক।
এই বইটার কাহিনির কেন্দ্রে ছিল খানউক কলেজে হওয়া বিজ্ঞান মেলা। ঠিক এখানেই যেন আমি নিজের কলেজ জীবনের একটা মেলবন্ধন পেয়েছি।
কলেজে থাকতে আমিও বিজ্ঞান মেলায় অংশ নিয়েছিলাম। আর অবাক করা ব্যাপার তাতে প্রথম পুরষ্কার বাগিয়ে নিয়েছিলাম। উপহার পেয়েছিলাম হাসান আজিজুল হকের একটা উপন্যাস। সেই মেলার স্মৃতিগুলো যেন বইতে জীবন্ত হয়ে ধরা দিয়েছিল। গার্লস কলেজে পড়তাম। মেলায় ছেলে মেয়ে উভয় কলেজ থেকেই মানুষ এসেছিল। আমার কোচিংয়ের কিছু বন্ধু, স্কুলের বান্ধবীরাও এসেছিল। সে এক দারুণ সময় ছিল। মেলার আগে পরে প্রচুর পরিশ্রম হয়েছে। নিজেও তখন টিউশন করতাম। সব মিলে ব্যাপক ব্যস্ততা।
আর এর উপহার স্বরূপ মেলায় জিতে যাওয়া ছাড়াও জ্বর ছিল আরেক উপহার। বিধায় নটরডেমে আমি প্রজেক্ট নিয়ে যেতে পারিনি (দলের অন্য সদস্যরা গেছিল)। সেটাও এক অপ্রাপ্তি।
উপন্যাসে ছেলেদের গ্যাংয়ের চিরাচরিত স্টাইল বেশ দারুণভাবেই বর্ণনা হয়েছে। হাসি এসেছে। তাদের কর্মকান্ডে মজা লেগেছে। নিষিদ্ধের প্রতি আকর্ষণ, নিজেকে মাচো ম্যান প্রমাণের স্পৃহা, মেয়েদের সামনে একটু ফুটেজ নেয়া সবকিছু একদম বাস্তবিক ছিল। দুই কলেজের মধ্যে মাই রপিটের ঘটনাগুলো বাস্তবিক।
কিশোর বয়সের প্রেম আর তাকে ঘিরে যে ক্রিঞ্জ সেটা এই উপন্যাসে দারুণ ফুটে উঠেছে। এর সাথে আমার যাতায়াত কম ছিল, তবে সহপাঠীদেরও প্রেম নিয়ে যেসব কাহিনি করতে দেখতাম!
নসিবকে ইশকুল বইতে যেমন দেখেছি তার থেকে ভিন্ন ছিল। তবে তার এখানে বৈশিষ্ট্য আমার বেশি ভালো লেগেছে। ভাইয়ের প্রতি অদৃশ্য দায়িত্ববোধ, নিজের অদ্ভুত কান্ড কারখানা আর সবদিক মিলিয়ে চলার দারুণ এক দক্ষতা ছিল তার মধ্যে।
সব দলই একজন ভালো ছাত্র থাকে। যে মেয়েদের পছন্দ করেনা। ভালো উপদেশ দেয়। অভিভাবকের মতো দায়িত্ব পালন করে। এই উপন্যাসে সে অভিভাবক ছিল প্রীতম। এই চরিত্রটা আমার কী যে ভালো লেগেছে!
মেয়েদের ছেলেরা যেভাবে উপস্থাপন করে এখানেও লেখক সেভাবেই উপস্থাপন করেছেন। ছলনাময়ী, কিছুটা হিংসুক, উপরে মধু দেখানো। আবার মৌরির মতো অদ্ভুত মেয়েদেরও এনেছেন।
মেয়েদের মধ্যে হিংসাবোধ থাকে। আমাদেরও ছিল। কিন্তু কলেজ বা স্কুল জীবনের কাটানো সেই সময়গুলোতে মনে পড়ে যেটুক সেখানে অসাধারণ সব বান্ধবী পেয়েছি। স্কুলের প্রথম শ্রেণী থেকে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে একইসাথে পড়া বান্ধবীর সাথে সম্পর্ক আজও আছে আলহামদুলিল্লাহ।
তেমনি ছেলেরা যেমন চেইন দিয়ে মা রপিট করে, একে ওকে অকথ্য গালি দেয় আবার বিপদে ঝাঁপ দিয়ে পড়ে এরকম সম্পর্ক আমাদেরও ছিল।
কলেজে প্রথম তিনটা বেঞ্চে আমরা কেউ না গেলেও দেখা যেত কেউ বসত না। ফিক্স করা জায়গা! আমি আবার সবসময়ই প্রথম সারিতে বসা মানুষ। তাই বলে তেলেসমাতি কম করিনি!
আর কোন মেয়ে বলবে না যে স্কুলে কিংবা কলেজে সামনের বেঞ্চের মেয়ের ক্রসবেল্ট গিট্টু লাগিয়ে দেয়নি? বেল্টের সাথে থাকা রুমাল লুকিয়ে ফেলেনি?
কলেজে কেউ মোবাইল নিয়ে এসেছে আর সেটা নিয়ে গোপনে হুল্লোড়। বায়োলজি প্র্যাকটিক্যাল করতে তেলাপোকা আনার কথা ছিল। আর মেয়ে মাত্রই তেলাপোকা ডরায়! ওইদিন ক্লাসে ভয় ভয় হাল। এরমধ্যে হলো কী একজনের আনা তেলাপোকা কীভাবে মুক্তি পেয়ে উড়াল দিলো। শেষ! ওরে চিল্লান। এমন হাজারো স্মৃতি আছে। বলে শেষ হবে না। আর কলেজে একটু দাপট কি ছিল না? গ্রুপ ১ এর ছাত্রী ছিলাম!
মা রপিটে অংশ না নিলেও কলেজ পালিয়ে ঘুরতে যাওয়া (আমি যাইনাই আরকি। ক্লাস শেষে বাসা গিয়ে গোসল না করে পর্যন্ত আমার দুনিয়ার কিছুই ভালো লাগতো না।), নতুন হওয়া তোমারে ছাড়া বাঁচমু না ধরনের প্রেম (এও আমার হয়নাই। No one loves meh, and vice versa!), কলেজে একটু সেজে আসা, আউট ড্রেসে কলেজে ঢুকতে পারার মধ্যে যে বুক ফুলানো ভাব ছিল এটা আমরাও অনুভব করতাম। আর ক্লাস শুরুর আগের অ্যাসেম্বলির কথা কী বলবো! আজীবন অ্যাসেম্বলিতে আমি প্রথমে দাঁড়াতাম (উচ্চতা হিসেবে ছোটো থেকে বড়ো লাইন করতো তাই আরকি, সেন্টি ইমুজি)।
বইটা আমার উপভোগ্য লেগেছে। নব্বইয়ের দশক বা একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকের ঘটনাগুলোতে নিজেকে ঝালিয়ে নিতে বইটা সহায়ক। স্মৃতিতে কখনো আবেগতাড়িত হবেন। মনে হবে,
❛ইশ! যদি আবার ফিরে যেতে পারতাম সেই সময়ে!❜
তবে যেহেতু সিরিজ তাই কাহিনির ধারাবাহিকতা রাখার সাথে পারিবারিক ব্যাপারগুলো মিল রাখা দরকার ছিল।
** প্রথম বইতে জেনেছি ওয়াসির বাবাই বড়ো। হিসেবে সেই বড়ো চাচা। তাইলে এই বইতে আরেক বড়ো চাচা কী করে আসলেন? ** এখানে রুবেল নামক আরেক চাচার সাথে পরিচয় হয়। পলাশ চাচাও ছিলেন। কিন্তু আগের বই মোতাবেক তিনি তখন সদ্য বিবাহ করেছেন। তাহলে ওয়াসি এবং নসিব কলেজে উঠতে উঠতে পলাশ চাচার তিন সন্তান কেমনে হয়? তাও ক্লাস সিক্সে পড়া! (কুচ তো গারবার হ্যা দায়া!) ** শেষের দিকে কালা ফারুকের ওখানে যাওয়ার কথা আসে। কিন্তু আগের বই মোতাবেক কালা ফারুক এই ধরণীর বাসিন্দা আর নাই। ** গ্রন্থরাজ্য প্রকাশনীকে এখানে ফিকশন ধরবো? নব্বইয়ের দশকে এই প্রকাশনী ছিল নাকি আমার জানা নেই।
এই ছোটখাটো ব্যাপারগুলো মনোযোগ দেয়া উচিৎ ছিল।
বাদবাকি বই ভালো লেগেছে। বাস্তবিক নামের বিপরীত দেয়া নামগুলো দারুণ ছিল। তেমনি বাটন ফোনের দিনে মেসেজ লেখা, ফ্রি মেসেজ, ফ্রি কলরেট এই ব্যাপারগুলো যেন তরতাজা চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছিলাম।
কলেজ পেরিয়ে দুটো বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে আমরা এখনো ফেলে আসা শৈশবকে আঁকড়ে ধরতে চাই। সে সময় মনে হতো,
❛বড়ো হয়ে গেলেই মজা। একা একা সব করবো।❜ এখন মনে হয় যদি ফিরে পেতাম সেই দিনগুলো! আসলেই নদীর ঐ পারে সর্বসুখ!
প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন:
প্রচ্ছদ ভালো লেগেছে। এখানেও সম্পাদনা বা প্রুফ রিডের ঘাটতি ছিল বেশ।
❛অতীত আঁকড়ে আমরা বর্তমানকে বয়ে নিয়ে চলি ভবিষ্যতের উদ্দেশ্যে। কিন্তু মানসপটে অতীত, ছেলেবেলা যেন আমাদের আষ্টেপৃষ্টে ধরে রাখে!❜
গুটিকতক উপন্যাস বাদে, কিশোর উপন্যাস হিসেবে যে বইগুলো পড়ে আমরা বড় হয়েছি সেগুলো মূলত শিশু উপন্যাস আরকি। মানে, যদিও বইগুলোর প্রধাণ চরিত্ররা সবাই টিনেজার তবে তাদের কাজকর্ম, কথাবার্তা সবই প্রায় নাবালকের মতো। বাইরের ইয়ং অ্যাডাল্ট ফিকশন গুলো অনেক নুয়ান্সড, ডিস্যানিটাইজড হয় যেখানে টিনেজার / তরুণদের সাইকি কিছুটা হলেও ধরার চেষ্টা করা হয়। সেইদিক বিবেচনা করলে, “ইশকুল খুইলাছে” এবং “কলেজ খুইলাছে” অনেকটাই ক্লোজ টু ট্রুথ পারসেপশন দেয় (যদিও অনেক ড্রামাটাইজেশন, এক্সগ্যাগারেশন আছে, তবুও।)
“কলেজ খু���লাছে” শুরু হয় একদম “ইশকুল খুইলাছে” এর পরে পরেই। এই বইয়ের মূল চরিত্র কলেজ পড়ুয়া ওয়াসি (হ্যা, লেখক নিজে। তার কথা মেনে নিলে এটা তার মেমোয়ার ও হতে পারে! এটা অবশ্য দুটি বইয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।) খুবই ওয়েল স্ট্রাকচারড এবং পার্ফেক্টলি ফ্লেশড আউট। সে তার বয়সকে মোটামুটি পার্ফেক্টলি রিপ্রেজেন্ট করে। টিনেজের শেষ দিকের টানপোড়েন, ইমোশন খুবই ভালোভাবে ফুটে উঠেছে। জীবন সম্পর্কে দর্শন গড়ে উঠছে, ম্যাচিউরিটি, দায়িত্ববোধ আসি আসি করছে কিন্তু বালখিল্যতা এখনো সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যায়নি; খুবই সমস্যার সময় আরকী! “ইশকুল খুইলাছে” এর তুলনায় এটা বেশি ডাউন টু আর্থ, ক্লোজ টু রিয়েলিটি হলেও হিউমারটা ইনট্যাক্ট।
দুটো বইই অনেক উপভোগ্য, বিঞ্জ রিডিঙয়ের জন্য পার্ফেক্ট। দুটো বইতেই অনেক ইস্টার এগ আছে, তবে বেশিরভাগ ইস্টার এগই টাইম বাউন্ড। আমাদের সময় যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় আছি তাদের জন্য এগুলো রেলেভ্যান্ট হলেও ১৫-২০ বছর পর কেউ বইগুলো পড়লে রিলেট করতে পারবে বলে মনে হয়না। রিপ্রেজেন্টেটিভ কিছু ইয়াং অ্যাডাল্ট ফিকশন, যদিও কিছুটা হালকা টোনের তবুও পাওয়া তো গেল এখন দেখা যাক ভবিষ্যতে বাংলার হোল্ডেন কলফিল্ড কে পড়ার সুযোগ হয় কিনা!
লাইট রিড, সাধারণ একটি বই "কলেজ খুইলাছে"। অথচ আপনি যদি আমার বয়সেরও হন তাহলে এক নিমেষে চলে যাবেন কলেজ জীবনে। কত স্মৃতি কত নতুনের সাথে সবে পরিচিত হওয়ার ফুরফুরা আনন্দের সেই সময়। স্কুল জীবনের দশ বছরের বিশাল গাথুনি পরিত্যাগ করে নয়া গন্ডিতে পদার্পণের পর থেকে একে একে কত কিছু ঘটতে থাকে। হুট করে একগাদা নতুন বন্ধুদের সাথে পথচলা শুরু করে দিতে হয়, আবার সবাই বন্ধুও হয় না, কেউ কেউ হয় চোখের বিষ, প্রথম নারী সহপাঠিদের সাথে কথা বলার শিহরণ থেকে শুরু করে লদকালদকি প্রেম আরো কতকিছু চলতে থাকে দুইবছরের সময়ে। আমার কলেজ ছিল রাইফেলস পাবলিক কলেজ। আমার এক বন্ধু আব্দুল্লাহ আল মুক্তাদির। রোজার মাসে একবার আব্দুল্লাহ একদিন ক্যানটিনে বসে খাচ্ছিল। তাই দেখে জাদরেল রাগী শরীর চর্চা বিষয়ক কালীদাস স্যার চেয়ার তুলে আব্দুল্লাহকে মারতে নিল, " তুই রোজার মইদ্দে খাস?" আব্দুল্লাহ হাত তুলে দিয়ে অর্ধেক সিংগারা মুখে আর অর্ধেক হাতে নিয়ে বলল, স্যার আমার নাম পার্থ প্রতিম সাহা। 😄 স্যার চেয়ার রেখে চলে গেল। পার্থ প্রতিম সাহা ছিল আমার আরেকটা বন্ধু। এখন হারায়ে গেছে। মাঝে অনেক খুঁজছিলাম কিন্তু পাই নাই। এখন আর খুঁজি না। পার্থ মিতার সাথে কথা বলতে চাইত। কিন্তু কোনোভাবেই সাহস করে উঠতে পারছিল না। মিতার সাথে তখন আমাদের অনেক আড্ডা হয়। আমার কাছে এসে পার্থ বলল, ক্যামনে কথা কস? আমি জানতে চাইলাম, ক্যামনে কথা কস মানে কি? আমিতো পারি না। ক্যান পারোস না? গিয়ে কথা বল, পারবি। ক্যামনে শুরু করুম? আমি বলছিলাম, গিয়ে জিজ্ঞেস করবি মিতা তোমার নাম কি? সত্যি? হ, সত্যি। পার্থ ঠিকই মিতার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করেছিল, মিতা তোমার নাম কি। মিতা সেদিন হাসতে হাসতে দুই গাল লাল করে ফেলেছিল।
এমন আরো কত কত স্মৃতিতে কলেজ খুইলাছে বইটা আমাকে এমনটাই নস্টালজিক করে ফেলেছে। ওয়াসি সুন্দর লিখেছে। একটানা পড়ে শেষ করে ফেলা যায়। ওয়াসিকে ধন্যবাদ।
দিন কেটে যায়, আমরা শিশু থেকে কিশোর তারপর বুড়ো হয়ে যাই। হারানো অতীত তখন বড়ই স্বর্ণালি আর মধুর বোধ হয়। ইচ্ছে করে সেসব দিনে ফিরে যেতে। কলেজ খুইলাছে হয়তো আপনাকে সেসব দিনে নিয়ে যাবে। তবে সরাসরি ঠিক আপনার দিনগুলোতেই যে নিয়ে যাবে এমনও নয়। আপনি দেখবেন কিছু কিছু কিশোরের জীবন, আর তা-ই আপনার কৈশোরের স্মৃতিদের জাগিয়ে দেবে। বইটা পড়তে পড়তে আমি অনেক ভেবে দেখেছি আমার কলেজ জীবন এইসব অভিজ্ঞতার সাপেক্ষে নিতান্তই পানসে ছিল। হাতে গোনা দুই তিনটি বন্ধু বাদ দিলে কলেজ ছাড়ার পর আর কারও সঙ্গেই যোগাযোগও থাকেনি, এমনকি তাদের নাম-চেহারাও ভুলে গেছি। দুটো বছর এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিয়ে হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছিলাম। নিতান্তই বিরাট জাহাজের এক কোনে পড়ে থাকা দায়সারা অভিযাত্রীর মতো ছিল সে সংক্ষিপ্ত যাত্রা। কিন্তু কলেজ খুইলাছে-তে লেখকের বিচিত্র অভিজ্ঞতা পড়ে বিনোদিত হয়েছি। তার বিভিন্ন সংকটে সঙ্কিত হয়েছি। তার দুই একটি বন্ধুকে ধরে পেটাতে ইচ্ছা হয়েছে। আর নসিবের মতো অভিন্নহৃদয় ভাতৃত্ববোধ এর অভাব জীবনে বোধ করেছি।
দেশীয় কিশোর উপন্যাসের বিচারেও এ বই বেশ ভিন্ন। এখানে গালাগালি ও মারামারি আছে। মূল চরিত্রেরা যে কেবল ভালোর সঙ্গেই আছে, এমন নয়। তারা ডাঁট দেখাতে হাত নোংরাও করে। অন্তত একটি রহস্যময় চরিত্রের উপস্থিতি এতে আছে। আর অন্য গল্পের মতো সমস্যা ও সমাধান তো আছেই।
সাবলীল লেখনী ও অনায়াস প্রেক্ষাপটের কারণে বইটা পড়তে একেবারে অল্প সময় লেগেছে। বইটা আরও পাঁচশ পাতা বড় হলেও আমি দ্রুতই পড়ে শেষ করে ফেলতাম সন্দেহ নেই। বরং, বইটা আরও পাঁচশ পাতা বড়ই হলেই ভালো হতো।
ক্যাম্পাস জীবন মানেই একরাশ স্বপ্ন, উচ্ছ্বাস আর ভাঙাগড়ার গল্প। কলেজ খুইলাছে বইটা পড়তে গিয়ে মনে হলো—আমাদের সেই তারুণ্যের দিনগুলো আবার নতুন করে ফিরে এলো। বন্ধুত্ব, প্রেম, ভাঙন, রাজনীতি, সংগ্রাম—সবকিছুর এক অসাধারণ মিশ্রণ এই বই।
লেখক খুব সহজ-সরল ভাষায় গল্প এগিয়ে নিয়ে গেছেন, আবার যেখানে দরকার সেখানে হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া গভীরতা দিয়েছেন। সবচেয়ে ভালো লেগেছে বইটার বাস্তবতা—পড়তে পড়তে মনে হবে, এই চরিত্রগুলো আমাদের চারপাশেই আছে, হয়তো আমরা নিজেরাই।
যারা ক্যাম্পাস জীবন পার করছেন বা করেছেন, তাদের জন্য বইটা পড়া মানেই স্মৃতির দরজা আবার খোলা। আর যারা এখনো কলেজে ভর্তি হতে যাচ্ছে, তাদের জন্য এই বই একটা আগাম ঝলক—কী অপেক্ষা করছে সামনে।
এটার রিভিউ অল্প কথায় লেখা বেশ কঠিন, তবে চেষ্টা করছি। আসলে অল্প সময়ের টাইম লাইনে লেখক বেশ সাবলীলভাবে প্রায় পুরো কৈশোরের শেষ থেকে যৌবনে পদার্পণের অস্থির কিন্তু সুন্দর সময়টাকে তুলে এনেছেন অনুপম শৈলীতে। বেছে নিয়েছেন বর্তমান প্রজন্মের মিথ '৯০ এর দশক'কে। আমিও সেই সময়েরই মানুষ, তাই রিলেট করতে পেরেছি বেশ ভালোভাবেই, সেজন্য আরও বেশী ভালো লেগেছে। এরকম গল্প আরও চাই সামনে... পাঠকের পড়ার যাত্রাটা আনন্দময় হয়ে উঠবে তাতে আরও বেশী...
বইটা এক কথায় অনবদ্য। এই বই আপনাকে নস্টালজিক করে তুলবে যদি আপনার জন্ম ২০০২ এর আগে হয়। এই বই পড়ে আপনি আপনার কলেজ লাইফের স্মৃতি হাতড়ে বেড়াবেন। অনেক লাইন পড়ে সেটাকে নিজের জীবনের সাথে মিলিয়ে নিজের অজান্তেই মুচকি হাসবেন। এক কথায় এটা মারাত্মক একটা সুখপাঠ্য বই। যে বই পড়তে যেয়ে আপনি কখনোই বিরক্ত হবেন না।
ওয়াসি আহমেদ যা দেখাইলেন এই বইয়ে, খুবই জোস। পড়া শুরু করে থামাতে মন চায় নাই, হ্যাঁ মাঝে বাধ্য হয়ে থামা লাগসে, পরীক্ষা পড়ে যাওয়ায়। কিন্তু এরপর শেষ করে মনে হলো একটা বেশ সুন্দর কামিং অফ এইজ ঘরানার উপন্যাস পড়লাম। লেখকের অনেক ধন্যবাদ প্রাপ্য, এই বই লেখার জন্য।
সেরা ভাই সেরা। এমন অসাধারণ লেখা শেষ কবে পড়েছি মনে পড়ে না। কখনও হেসে উঠেছি, কখনও মন খারাপ করেছি, এইভাবে সময় কো�� দিক দিয়ে কেটে গেছে টেরই পাইনি। স্কুল আর কলেজের সময়টাতে ফিরে যাচ্ছিলাম বারবার।
রাজউক কলেজ নিয়ে লেখা বই তাও আবার আমারই এক বন্ধুকে উৎসর্গ করা সেই কারণেই আসলে বইট পড়া। ইস্কুল খুইলাছে সিরিজ এর চেয়ে বেটার হলেও এত চাপাবাজির দরকার কোন বইয়েই ছিলনা। লেখকগণ শুধু স্মৃতিচারণমূলক আত্মজীবনী লিখলেও বইয়ের মান এর চেয়ে ভালো হতে পারত।
শুধুমাত্র নিজের স্কুল-কলেজ এর উপর বেস করে লেখা বলে ১টা স্টার বেশি দিয়ে গেলাম।