Jump to ratings and reviews
Rate this book

সবার জন্য শিক্ষা #১

ইশকুল খুইলাছে

Rate this book
আমি বড় হয়েছি রামপুরায়, একটা একান্নবর্তী পরিবারে।যাবতীয় কাজ ও অকাজের সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিলেন ওয়াসি ভাই; আমার বড় চাচার ছেলে। প্রথম জীবনে আমাদের স্বপ্ন ছিলো দেশসেরা সন্ত্রাসী হবার। কুখ্যাত কালা ফারুক (ছদ্মনাম) ভাই আমাদের এক সন্ধ্যায় বলেছিলেন, ষোলো বছরের শিক্ষাজীবন তাকে দিয়েছে বেকারত্ব, বাবা-মায়ের চিকিৎসা না করাতে পারা এবং প্রেমিকা হারানোর বেদনা৷ আর মাত্র ছয় বছরের সন্ত্রাস জীবনে তিনি পেয়েছেন সম্মান, গাড়ি, বাড়ি, অর্থ, সম্পদ এবং একাধিক প্রেমিকা। কাজেই এখনই সময় শিক্ষাজীবন ছেড়ে সন্ত্রাসজীবন বেছে নেওয়ার।

ব্রেইনওয়াশে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা নতুন করে 'এইম ইন লাইফ' ঠিক করি। ভাবি, কোমরে ওয়ালথার পিপিকে গুজে ভবিষ্যতে অত্র এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব আমরাই কায়েম করবো। এদিকে আবার আছে প্রচন্ড বই পড়ার নেশা, কবিতা লেখার অনুপ্রেরণা এবং রকস্টার হবার আকাঙ্ক্ষা!

ঘটনাগুলো ম্যাজিকাল নব্বই দশকের। যে সময়ে মাসে একটা করে চিঠি লিখলেও কারও সাথে দূরত্ব কমতো না। শুক্রবার মানে ছিলো পরিবারের সবাই একসাথে টিভির সামনে বসে বাংলা সিনেমা দেখার আনন্দময় দিন। তখন রং নম্বরে টেলিফোন চলে গিয়ে প্রেম হতো। অপরিচিত কেউ হুটহাট ফোন করে ছয়-সাত বিল্ডিং পরের প্রতিবেশীকে চাইলে তাকে দৌড়ে গিয়ে ডেকে আনতে কেউ ক্লান্তি বোধ করতো না।

ইচ্ছে ছিলো নিজের কৈশোর এবং নব্বই দশকের শেষভাগে ডুব দেওয়ার। আপনারও যদি এক বিষন্ন বিকেলে এমন ইচ্ছে জাগে, তবে আমন্ত্রণ রইলো 'ইশকুল খুইলাছে'- এর পাতায়।

138 pages, Hardcover

First published February 7, 2025

103 people want to read

About the author

Nosib Ponchom Zehadi

9 books189 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
7 (11%)
4 stars
32 (50%)
3 stars
18 (28%)
2 stars
4 (6%)
1 star
2 (3%)
Displaying 1 - 26 of 26 reviews
Profile Image for Harun Ahmed.
1,662 reviews422 followers
May 21, 2025
সার্থক coming of age story হওয়ার সমস্ত উপকরণ গল্পে থাকলেও খুব একটা পছন্দ হলো না। কাহিনির রম্য ভাব কিছু জায়গায় জোরপূর্বক ধরে রাখা হয়েছে। নব্বই দশক বলতে যা যা বুঝি তার সবই জিহাদী উপস্থিত করেছেন। বেড়ে ওঠার সময়কার নিষিদ্ধ চিন্তাভাবনা বা কথা প্রকাশেও তিনি অসংকোচ কিন্তু সবটা মিলিয়ে কেমন যেন অপূর্ণতা রয়ে গেলো।শেষদিকে এসে তাড়াহুড়ো করার চিরন্তন জিহাদীয় স্বভাব তো আছেই।
Profile Image for সালমান হক.
Author 66 books1,967 followers
March 20, 2025
৩.৫ তারা৷ স্কুল কলেজে থাকতে আপনার পরিবারের গুরুজনেরা যে ধরণের বই পড়তে নিষেধ করতো, ঠিক সেই ধরণের বই-ই হচ্ছে ইশকুল খুইলাছে। নসিব ভাইয়ের সব লেখার মধ্যেই রম্য ভাবটা বেশ ভালো পরিমাণে বিদ্যমান। ইশকুল খুইলাছে তাই আগাগোড়া রম্যোপন্যাস হবে এই এক্সপেক্টেশন নিয়ে পড়তে গিয়েই হোঁচট খেয়েছি৷ হ্যাঁ, পুরো উপন্যাস জুড়েই মুখে হাসি ছিল, কিন্তু নসিবীয় ব্যাপার-স্যাপার মিস করেছি৷ ক্লাইম্যাক্সটাও জমলো না। পরিচিত মুখদের ক্যামিও বেশ ভালো লেগেছে।
Profile Image for শুভাগত দীপ.
276 reviews43 followers
March 26, 2025
স্কুলপড়ুয়া দুই কিশোর নসিব আর ওয়াসি। সম্পর্কে তারা চাচাতো ভাই। ওয়াসি বয়সে নসিবের চেয়ে বছর দেড়েকের বড়। এই দুইজনের সম্পর্ক বন্ধুর মতো। আর কিশোরকালে ওদের দুজনেরই স্বপ্ন ছিলো বড় হয়ে ওরা একদিন অনেক বড় সন্ত্রাসী হবে। আর ওদের ভেতরে এই স্বপ্নের বীজ বুনেছিলেন ওই সময়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী কালা ফারুক।


যেহেতু নসিব আর ওয়াসি সন্ত্রাসী হতে চায়, তাই তারা সেই লক্ষ্যে কাজও শুরু করে। ওদের সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবে থাকে দিপু, স্বনন ও কৌশিক। এদের মাঝে স্বননের খালুর আবার মাঝেমাঝেই নানারকম সমস্যা দেখা দেয়। এসব কারণে মূল মিশনগুলোতে সে থাকে গায়েব। 


ওদের জীবনে আসেন এক কামেল পুরুষ ওস্তাদ পান্থ শাহ চন্দ্রপুরী। নকল কামেল না, একদম আসল। এক বাচ্চা মেয়ের চিকিৎসার জন্য নসিব, ওয়াসি আর ওদের বন্ধুদেরকে একটা বেবিট্যাক্সি চুরি করার বুদ্ধি দেন তিনি। কিন্তু একটা বাচ্চা মেয়ের চিকিৎসার সাথে বেবিট্যাক্সি চুরির সম্পর্ক কি?


এদিকে নসিব আর ওয়াসিদের বাড়ির সবাই একটু অদ্ভুত রকম মানু্ষ। নসিবের বাবা দশ বছর ধরে একটা বই লিখছেন যেটার নাম 'কুত্তার বাচ্চা'। বড় চাচা, মানে ওয়াসির বাবার অনেক রাগ। কিন্তু ভেতর ভেতর মানুষটা অনেক নরম। আর ছোট চাচা? তিনি হুট করে কাউকে না জানিয়ে বিয়ে করে ফেলেছেন। এবার কি হবে?


নব্বইয়ের দশক। রামপুরার একটা পরিবার। সেই পরিবারের দুই ছেলে। চমৎকার কিছু সময়, অসাধারণ কিছু গল্প। এই নিয়েই 'ইশকুল খুইলাছে'। 


নসিব পঞ্চম জিহাদীর 'ইশকুল খুইলাছে'-কে আসলে আমি কোন ঘরানায় ফেলবো তা নিয়ে আমি নিজেই কনফিউজড। আত্মজীবনীর ঢঙে লেখা এই উপন্যাসটা মূলত আমার কাছে রম্য বলেই মনে হয়েছে। এর আগে লেখকের হরর ঘরানার কিছু বই পড়েছি। সেই হিসেবে 'ইশকুল খুইলাছে' পড়ার অভিজ্ঞতাটা আমার কাছে একদম নতুন। তিনি যেন আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন সেই নাইন্টিজে। যখন আমরাও স্কুল পালিয়ে ভিডিও গেম খেলতে যেতাম, বড় ক্লাসের ছেলেদের সাথে গ্যাঞ্জাম করতাম। যে সময় বয়েজ স্কুলে পড়ার সুবাদে আমাদের বুকেও মেয়েদের জন্য হাহাকার জাগতো। নস্টালজিয়ায় ভরপুর ছিলো বইটা। 


নসিব পঞ্চম জিহাদীর হিউমার আমি পছন্দ করি। 'ইশকুল খুইলাছে' পড়তে গিয়ে যে কতোবার হা হা করে হেসে উঠেছি, ইয়ত্তা নেই। বইটার কিছু অংশ এখনও, এই রিভিউটা লেখার সময় মনে পড়লেও মিটিমিটি হাসছি। এমনটা অনেকদিন হয়নি। লেখক বোধহয় অলস প্রকৃতির। বইটাকে তিনি কেন আরো কিছুটা বড় করলেন না, সেটাই ভাবছি। যারা নাইন্টিজ কিডস, তাদের জন্য অবশ্যপাঠ্য 'ইশকুল খুইলাছে'।


'ইশকুল খুইলাছে'-এর পরের পার্ট 'কলেজ খুইলাছে'। এটা লিখেছেন আরেক সুলেখক ওয়াসি আহমেদ। ওটাও শীঘ্রই পড়ে ফেলবো। 


বইটার প্রচ্ছদ ভালো লেগেছে। গ্রন্থরাজ্যের প্রোডাকশনও চমৎকার। কিন্তু বক্সসেটের বক্সের মানটা ভালো লাগলো না।


ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪.৫/৫


বইঃ ইশকুল খুইলাছে (সবার জন্য শিক্ষা # ১)

লেখকঃ নসিব পঞ্চম জিহাদী 

প্রকাশকঃ গ্রন্থরাজ্য 

প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

ঘরানাঃ রম্য উপন্যাস

প্রচ্ছদঃ নসিব পঞ্চম জিহাদী 

পৃষ্ঠাঃ ১৪২

মুদ্রিত মূল্যঃ ৩৫০ টাকা

ফরম্যাটঃ হার্ডকভার 


(২৬ মার্চ, ২০২৫; নাটোর)
Profile Image for Fahmida Rini.
67 reviews34 followers
April 8, 2025
খুব সম্প্রতি পড়া হলো নসিব পঞ্চম জিহাদী রচিত বই 'ইশকুল খুইলাছে'। জন্মদিনে বান্ধবীর দেয়া বিলম্বিত উপহারস্বরূপ পাওয়া এ বই।
এ বই কেনার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে নাম, বই এবং লেখক উভয়েরই।
মেলাকালীন সময়ে এ বইয়ের ব্যাপক বিজ্ঞাপন আমার সামনে এসেছে, সেসকল বুকশপের বিজ্ঞাপনও দায়ী আমায় বই কেনানোর ক্ষেত্রে।
সেই সুবাদে জানতে পেরেছি বইটির দ্বিতীয় আরেকটি পর্ব?খণ্ড আছে 'কলেজ খুইলাছে' নামে। তবে সেই পর্বের লেখক আলাদা।
দ্বিতীয় খণ্ডের লেখক 'ওয়াসি আহমেদ' এর লেখার সাথে কিছুটা পরিচয় আগে থেকে থাকলে নসিব পঞ্চম জিহাদীর লেখা এই প্রথম পড়া হলো।

প্রথমে ধারণা ছিলো (ফ্ল্যাপ পড়ে) বেশ ইন্টারেস্টিং কিছু হবে বইটি, যেখানে লেখক তার কৈশোরের গল্প বলবে। পুরো বই নিজের স্কুলজীবনের ঘটনা বলার ধাচেই লিখে গেছেন লেখক, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন দ্বিতীয় খণ্ডের লেখকের নামের একটি চরিত্র 'ওয়াসী ভাই'।
পুরো বই পড়ে এই বিশ্বাস রাখা কঠিন যে এইসব বাস্তব ঘটনা।
বাস্তব কিংবা গল্প, যেভাবেই দেখা যাক না কেনো বেশ কিছু অংশ অতিরঞ্জিত লেগেছে। কিশোরদের ঘটনা হিসেবে গালাগালসহ আরও কিছু শব্দ গল্পে প্রবেশ করেছে যার অনেকটাই আমার ব্যক্তিগতভাবে অপ্রাসঙ্গিক এবং কিছুটা বিরক্তিকর লেগেছে।

লেখার ধরন বেশ সাবলীল ও সরল হওয়ায় অনায়াসেই পড়ে যাওয়া যায়। এদিকটা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে যতোটা সুখপাঠ্য হবে আশা করে বইখানির অর্ডার করা ততোটা হয়েছে সেকথা বলতে পারছি না।

**বইয়ের দু'টো খণ্ডেরই প্রচ্ছদ চমৎকার লেগেছে আমার কাছে, প্রচ্ছদকারী (লেখক নিজেই) নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবীদার**
Profile Image for musarboijatra  .
283 reviews356 followers
May 4, 2025
স্কুলজীবনে যা কিছু হতে চেয়েছিলাম, সবই হয়ে উঠেছে 'ইশকুল খুইলাছে'। না, সন্ত্রাসী হওয়ার শখ ছিল না, কিন্তু কিছু একটার জন্য সবাই একটু সম্মানের চোখে আলাদা করে দেখবে, এই-ই ছিল চাওয়া। মহল্লার ছেলেপেলে নিজেদের 'ফাঁপর' জাহির করতে মাস্তানি করা, বিশাল হুলস্থুল ফেলে দিতে চাওয়া, এই সবই অর্জন করেছে উপন্যাসটা। কৈশোরের 'ওয়াইল্ডেস্ট ড্রিমস'-এর প্রতিচ্ছবি ভেবে নিশ্চিন্ত হবো ভেবেছি যখন, শেষ পাতায় লেখক আবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, "এই বইয়ে যা কিছু অবাস্তব মনে হবে, আসলে সেসবই ঘটেছিল, সাধারণ ঘটনাগুলো বরং কল্পনা"। তা পড়ে আবার ধন্দে পড়ে যেতে হয়। একই কথা এর যুগল কলেজ খুইলা��ে'র বেলায়ও বলা হয়েছে, এবং তা বাস্তব। যা হোক, 'কিশোর গল্প' শোনাতে গেলে লেখকরা নেহাত বাচ্চা ভাবেন পাঠক/চরিত্রদের। আমাদের যাপিত কৈশোরের প্রতি যেটা সুবিচার করে না। এইদিক থেকে ইশকুল-কলেজ যুগল জাস্টিস করেছে একশভাগ।
বইটা পড়ার সময় বুকটা হু হু করে উঠেছে নব্বইয়ের মহল্লা-কালচারের জন্য, পারিবারিক বন্ধনের জন্য। নসীব আর ওয়াসি এক বিল্ডিংয়ে থাকে, দুই কাজিন (যে শৈশব আসলে লেখকদ্বয়ের জীবনে ঘটেনি), চাইলেই এক ফ্ল্যাট থেকে আরেক ফ্ল্যাট ছুটাছুটি করছে চাচাতো ভাইবোনেরা, ছুটিরদিনে পরিবারের সবাই বসে ধারাবাহিক দেখছে, মাঝাসাঝে ভিসিআর ভাড়া এনে মুভি নাইট হচ্ছে, একটা ছোট চাচা আছে যে ভাতিজাদের ফেভারিট, বড়দের মুরুব্বিয়ানা আর পারিবারিক অনুশাসনের তাল মিলিয়ে ছোটদের নিজের রাস্তা বের করে নেওয়া... দারুণ লেগেছে জাকের রোডের বাড়িটা।
আগাগোড়া কিছু আজগুবি বুজরুকি এবং গল্পের গরু মগডালে উঠায়ে দেওয়া—এইসবই ইশকুল খুইলাছে'র প্রাণ। খটকা লাগলেই মজা নষ্ট। আগাগোড়া নস্টালজিয়ার আবরণ।

P.S : ইশকুল খুইলাছে বইটাকে তার যুগল 'কলেজ খুইলাছে'র সাথে তুলনা না দিয়ে পারা গেল না।
দুইটার টোন আর ট্রিটমেন্ট খুব সিমিলার, যদিও দুইটা আলাদা লেখকের... তবে 'কলেজ' যতটা রয়েসয়ে নিজের গল্পটা বলেছে, ইশকুল সে ধৈর্যটা দেখাতে পারতো। কিছু জায়গায় ঘটনাপ্রবাহ একটু রাশড মনে হয়েছে। অবশ্য আগে 'কলেজ খুইলাছে' পড়েছি বলে আমার এটা মনে হতে পারে।
Profile Image for Heisenberg.
151 reviews8 followers
March 12, 2025
হরর লেখায় পারদর্শী নসিব সাহেব হাস্যরসাত্মক লেখার ব্যাপারে তার মুন্সিয়ানা দেখান নি,কারন তিনি মুন্সী বংশের না, তাই কপিরাইটে আটকে যাবে একটা ভয় ছিলো। কিন্তু ইশকুল খুইলাছে তে তিনি দেখিয়ে দিলেন এই ব্যাপারে তার হস্ত একদম সিদ্ধ...
দারুন লেগেছে।
Profile Image for তান জীম.
Author 4 books279 followers
April 6, 2025
ঈদের ছুটি যে বই দিয়ে শুরু করেছিলাম সেটা হচ্ছে এটা। নসিব পঞ্চম জিহাদী আমার অনেক পছন্দের একজন রাইটার। লিখনশৈলী এ পছন্দের পেছনে মূল কারণ। প্লটও ভালো তবে তার বেশিরভাগ বইয়ের এন্ডিংই আমার মনমতো হয় না। তবে এ বইটার এন্ডিং ভালো। ৯০ দশকের পোলাপানের জীবন এ বইয়ের মূল উপজীব্য। এ দশক নিয়ে লিখলেই লেখকগণ অতিরিক্ত রোমান্টিকতায় ভেসে যান। এ বই সেরকম অতিরিক্ত কিছু দেখায় নাই। সবমিলিয়ে ভালো লাগছে এ বই।
Profile Image for Tasnim Taj Abontee.
19 reviews
March 5, 2025
২৫% পড়া পর্যন্ত কনফিউজড ছিলাম এটা memoir না fiction, ৫০% পড়ার পর শিওর হলাম একদম বানানো memoir, ১০০% শেষ করার পর দেখি লেখক দাবি করেছে বেশিরভাগ চরিত্র আর ঘটনাই বাস্তব, যতটুকু আমদানী করা হয়েছে তা কাহিনীর প্রয়োজনে সামান্য। যদি আসলেই বাস্তব হয়ে থাকে, তাহলে all I can say is "এহহহহহহ?!"কিন্তু আমার তাও ধারণা বানানো, কনফিউজ করার উদ্দেশ্যেই এভাবে বলেছেন। যাই হোক, বানানো না সত্যি তা নিয়ে পাঠক হিসেবে আমার এত মাথা না ঘামালেও চলবে।

এটা তার লেখা আমার প্রথম পড়া বই। তিনি থ্রিলার লিখেন বলেই জানি। এটা একটু ভিন্নধর্মী কিছু করেছেন। মজাই লেগেছে। সহজাত হিউমারটা টের পাওয়া যায়। এন্ডিংটা একটু রাশড, পরের বই 'কলেজ খুইলাছে' কে জায়গা দাওয়ার জন্যই মেইবি। আমার ধারণা কিছু ভাষার কারণে বড় বা গম্ভীর মানুষদের বইটা ভালো লাগবেনা। কাদের ভালো লাগবে তাও বুঝতে পারছিনা, আমার লেগেছে।
Profile Image for Farzana Reefat  Raha.
39 reviews14 followers
May 16, 2025
বাংলা ভাষার নতুন লেখকদের নিয়ে আমি একটু বিরক্ত। তাই অনেকদিন ধরে আঁতেল হবো না, লিখবো না লিখবো না করেও আজকে ভাবলাম লিখেই ফেলি! কি আর হবে! কিছু ফ্যান ফলোয়ার এসে আমাকে বেরসিক ডাকবেন।

একবার জাভেদ আখতার কে এক সাংবাদিক জিজ্ঞেস করে, ওটিটি প্লাটফর্মের কন্টেন্টের গালির অতিমাত্রার প্রয়োগের ব্যাপারে তাঁর অভিমত কি। তিনি বললেন, কন্টেন্টে গালি হচ্ছে খাবারে মেশানো অতিরিক্ত ঝালের মত। বাংলা, বিহারের খাবার খুব ঝাল হয়। কারণ, ওখানের মানুষ দরিদ্র বলে খাবারকে সুস্বাদু করার অন্যান্য উপকরণ জোটাতে পারে না। তাই খাবারের ব্লেন্ড ভাব যেন বোঝা না যায় তাই অতিরিক্ত ঝাল দিয়ে সেটা ঢাকতে চেষ্টা করে। কন্টেন্টে গালি হল সেই ঝাল - যখন কন্টেন্টে এলিমেন্ট থাকে না তখন সস্তা হিউমার বা গালি ব্যবহার করে কন্টেন্টের নিম্নমান ঢাকার চেষ্টা করা হয়।

"ইশকুল খুইলাছে" পড়তে গিয়ে এই বিষয়টা বারবার মনে হয়েছে। ঠিক একই ব্যাপার লক্ষ্য করেছিলাম এই বইয়েরই শুরুতে এই লেখকের ভূয়সী প্রশংসা করা আরেকজন রিসেন্ট পপুলার লেখক তানজীম রহমানের "বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি" পড়তে গিয়ে।

আমি গালিগালাজ অপছন্দ করা মানুষ। বিশেষ করে বাংলা ভাষা এবং সাহিত্যের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে খুব গর্ব বোধ করে থাকি সবসময়ই। হতে পারে আমি বর্তমানের "পশ" মানুষদের মত "পশ" আর "ট্রেন্ডি" নই তাই - পুরনো ধাঁচের "খ্যাত" আর "আঁতেল"। তাই বই পড়তে গিয়ে গালি দেখলেই আমার অসহ্য লাগে। আর এই যে ক্যুল ট্রেন্ডি ড্যুড হতে গিয়ে গল্পে অযথা গালি ব্যবহারের রিসেন্ট ট্রেন্ড শুরু করেছেন সময়ের কিছু পপুলার লেখক এটা দেখলে আরো রাগ আর হতাশ লাগে।

এবার আসি এই বইয়ে। উপরে যে বললাম কন্টেন্ট পুউর হলে সেটা ঢাকতে গালি আর সস্তা হিউমার ব্যবহার করা হয় - এটাই দুঃখ! এই বইয়ে এই গালি আর সস্তা হিউমার এড করার কোনো দরকারই ছিল না লেখকের - এগুলো না করেও তাঁর গল্প বেশ রঙিন, চটপটে, হাস্যরসে ভরপুর রিচ কন্টেন্টই হত।

শিল্পী সাহিত্যিকদের একটা দায়বদ্ধতা থাকে তাঁদের ক্রাফ্টের প্রতি। হ্যাঁ, তর্কের খাঁতিরে কেউ এসে বলতেই পারেন হুমায়ূন আহমেদের মত, আমি কখনো বলেছি নাকি আমার সাহিত্য শিক্ষনীয় হবে? আমি লিখি কাহিনী আমার মত করে - এখান থেকে কারো শিক্ষা গ্রহণের কিছু নাই।

ব্যাপারটা শিক্ষা গ্রহণের না - ব্যাপারটা "নান্দনিকতার"। এই পুরো গল্পটা আরো মজাদার হত যদি লেখক যে জায়গায় গালি আর চিপ হিউমার ইউজ করেছেন(যদি তিনি বা তাঁর ফ্যান্ডম গল্পের খাঁতিরএ করাও বলেন) সেগুলো যদি আরেকটু চিন্তা করে সুন্দর ভাষায়, সুন্দর ভাবে, সুন্দর পরিশীলিত ব্যন্জনে উপস্থাপন করতেন।

এই আঁতলামি সত্ত্বাকে সুইচ অফ করে বললে বেশ মজা পেয়েছি বইটা পড়ে। পড়তে পড়তে শব্দ করে হেসেও দিয়েছি কয়েকবার!

I do recommend it even if you are sensitive towards slangs just like me.

4✨
.
.
.
সিলেট, বাংলাদেশ | মে ১৬, ২০২৫
Profile Image for Ishraque Aornob.
Author 29 books403 followers
April 29, 2025
দুজন কিশোর (যাদের জীবনের লক্ষ্য সন্ত্রাসী হওয়া) তার পরিবার ও এদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে লেখা বইটা। লেখক নসিব পঞ্চম জিহাদীর গল্প বলার ধরন আমার সবসময়ই ভালো লাগে। এই বইয়েও ব্যতিক্রম হয়নি। স্মুথলি গল্প বলে যাওয়া সেইসাথে সহজাত হিউমার, সবমিলিয়ে বেশ ভালো লাগলো। অনেকেরই ভালো লাগবে কারণ কিশোর চরিত্র দুটোর সাথে রিলেট করতে পারার কারণে। আমরা সবাইই কৈশোরে ডেয়ারিং ছিলাম; কেউ বাস্তবে, কেউ কল্পনায়।
কলেজ খুইলাছে পড়ে দেখতে হবে।
Profile Image for Aadrita.
276 reviews228 followers
March 1, 2025
একবার বছরের শুরুর দিনে অফিসে এক্সেল শিট দেখতে দেখতে মাথা ব্যাথা হয়ে যাওয়ার ফাঁকে ব্যাচমেট কলিগকে বলেছিলাম "দেখো আমাদের স্কুল পাশ করার ১০ বছর হয়ে গেলো"। এরপর সে আর সারাদিন আমার সাথে কথা বলেনি। আবার দুই বছরের বাবুটাকে কোলে নিয়ে বসে থাকা আমার বান্ধবী যেদিন বলল, "দেখ আমাদের পরিচয়ের ১৫ বছর পার হলো, ��ুনেছি ৭ বছর বন্ধুত্ব টিকে থাকলে সেটা আজীবন টিকে যায়" দুইজনেরই চোখ ভিজে উঠেছিলো কিছুটা৷ কলেজ ইউনিফর্মটা শেষবারের মতো খুলে রেখে যেই এডাল্ট লাইফের পা দিয়েছিলাম দৈনন্দিন তার নানাবিধ ব্যস্ততা আর নিরাশার মাঝে ফেসবুক মেমরি এবং নিজেদের স্মৃতি প্রায়ই ফেলে আসা দুরন্ত দিনগুলোকে মনে করিয়ে দেয়, আর সেই নস্টালজিয়াকে কেন্দ্র করেই লেখা এই দুটো বই।

লেখকদের নিজেদের নব্বইয়ের দশকের দুরন্ত কৈশোরের সাথে লাগামহীন কল্পনার ঘোড়া ছুটিয়ে উরাধুরা অথচ নষ্টালজিক উপন্যাস 'ইশকুল খুইলাছে' ও 'কলেজ খুইলাছে'। দুই জনরার মেলবন্ধন বেশ চমৎকার, একটানে পড়ে ফেলার মতো সহজ লেখা আর হাস্যরসে পরিপূর্ণ গল্প, তবে বেশ কয়েকদিন লাগিয়েই পড়লাম এক্সপেরিয়েন্সটা ধরে রাখার জন্য। বই দুটো একই সিরিজের হলেও একটার সাথে আরেকটার কাহিনীর তেমন কোন সংযোগ নেই, চরিত্রগুলো ছাড়া। স্ট্যান্ডএলোন হিসাবে যেকোনো বই আলাদাভাবে বা আগে-পরে পড়া যাবে।

নব্বইয়ের দশকের প্রেক্ষাপটে স্কুলের শেষপ্রান্তে পৌঁছে যাওয়া দুই কিশোরের অ্যাডভেঞ্চারাস জার্নি 'ইশকুল খুইলাছে'। রামপুরায় একান্নবর্তী পরিবারে বড় হওয়া দুই চাচাতো ভাই - স্কুলের পরীক্ষায় পাশ করার চিন্তা, বই পড়ার নেশা, রকস্টার হওয়ার আকাঙ্ক্ষার ও যাবতীয় অকাজের পাশাপাশি স্বপ্ন দেখে দেশসেরা সন্ত্রাসী হওয়ার। কোমরে ওয়ালথার পিপিকে গুঁজে ভবিষ্যতে অত্র এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার মনোবাসনার পেছনে আছে এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী কালা ফারুকের জীবনগাথা - ষোলো বছরের শিক্ষাজীবন যাকে দিয়েছে বেকারত্ব, বাবা-মায়ের চিকিৎসা না করাতে পারা ও প্রেমিকা হারানোর বেদনা অথচ ছয় বছরের সন্ত্রাস জীবনে তিনি পেয়েছেন সম্মান, গাড়ি, বাড়ি, অর্থ, সম্পদ এবং একাধিক প্রেমিকা। সন্ত্রাসের পথে দুই কিশোরের যাত্রাটা যেমন রোমাঞ্চকর আর আনপ্রেডিক্টেবল, পাশাপাশি তাদের দৈনন্দিন পারিবারিক জীবন ততটাই সাদামাটা আর হাস্যরসাত্মক। ঠিক নব্বইয়ের দশকে শৈশব-কৈশোর পার না করলেও বাসার সবার সাথে বসে টিভিতে সিনেমা দেখা, বয়সে সামান্য বড় মামা-চাচাদের কাছে বায়না করা, বিটিভিতে এক্স-ফাইলস দেখার ইমোশনগুলো ধরতে পেরেছি ঠিকই৷ আজগুবি ও ভয়ংকর সন্ত্রাসজীবন আর কমেডিক পারিবারিক জীবনের মধ্যে সমাজের কিছু কুৎসিত দিক - শিক্ষকদের কোচিং বানিজ্য, উড়ে এসে জুড়ে বসা পীরসাহেবের সাধারণ মানুষের আবেগ নিয়ে বানিজ্য বেশ ভালোভাবে তুলে ধরেছেন লেখক। নারী পাঠক হয়ে ছেলেদের ইয়াং বয়সের গালাগালি আর নিজেদের মধ্যের কথোপকথন পড়তে কিছুটা অস্বস্তিকর লাগলেও গলায় চেন ঝুলিয়ে রাতের আঁধারে ফাপরবাজি দেখে বেশিরভাগ সময়েই বইয়ের চরিত্র ওয়াসি আহমেদের মতো ডায়লগ দিতে ইচ্ছা করেছে, 'শালা অ্যামেচার'।
Profile Image for Rehnuma.
447 reviews21 followers
Read
October 23, 2025
যুগ যতোই এগিয়ে যাচ্ছে ততোই যেন অতীত আকড়ে ধরছে। একসময় বড়োরা যখন পুরোনো দিনের বাংলা সিনেমার গান শুনতো তখন বেশ বিরক্ত হতাম।
❛ধুর কী আদিম যুগের জিনিস শুনো!❜ - এমন প্রতিক্রিয়া দেখাতাম। কিন্তু সময়ের ফেরে এখন আদি যুগের গান থেকে শুরু করে সবই ভালো লাগে। মনে হয় ওখানেই যেন শান্তি ছিল, কোমলতা ছিল। আমারও এখন নিজেকে মনে হয় আধুনিক যুগে আটকা পড়া এক প্রাচীন সত্তা আমি!

আর নব্বই দশকের সময়গুলো যেন হালের জেন-জিদের কাছেও আরাধ্য। এমন একটা সময় যেখানে প্রযুক্তির ছোঁয়া আসতে শুরু করেছে আর ল্যান্ডফোনের দিনগুলো রাঙিয়ে রেখেছিল মানুষকে। বিটিভিতে নাটক দেখার জন্য সবাই একত্র হতো। সে সময় শুনেছিলাম সংশপ্তক নাটকে টিভিতে প্রচার হতো। সেটা দেখার জন্য নাকি সবাই এতই আগ্রহী থাকতো যে ঐ সময়ে রাস্তা শুনশান থাকতো! এমন দিনগুলো কেন চলে যায়?


❛ইশকুল খুইলাছে রে মওলা ইশকুল খুইলাছে!❜


নসিব আর ওয়াসি চাচাতো ভাই। বয়সে দেড় বছরের বড়ো ওয়াসি। তবে তাদের দুজনের সম্পর্ক বন্ধুর মতো। দুজনের স্কুলে পড়ে। নসিবের বাবাকে সবাই একটু পা গল গোছের ভাবে। যিনি কিনা বছরের পর বছর ধরে একটা বই লিখে যাচ্ছেন, কিন্তু লেখা শেষ হওয়ার নামই নিচ্ছে না! বইয়ের নাম শুনলে যে কেউ চোখ বড়ো করে তাকাবে। তাকাবে না-ই বা কেন? কেউ নিজের লেখা পাণ্ডুলিপির নাম ❛কু ত্তার বাচ্চা❜ রাখে?

বাবার বদৌলতে নসিবকেও লোকে একটু এরি প্রকৃতির ভাবে। সে কিছু করতে চাইলেই পরিবারের লোকেরা বলে, ❛তুই ঠিক আছিস তো?❜

যাই হোক, কৈশোরের জোয়ারে নসিব আর ওয়াসি ভেসে যাচ্ছিল। ওয়াসি ছাত্র হিসেবে ভালো হলেও, নসিবের করুণ দশা। কোনোমতে পাশ করতে পারলেও পরিবার হাঁফ ছেড়ে বাঁচে।

নব্বই দশকের বাকি পরিবারের মতো তাদের পরিবারেও নিয়ম কানুন আছে। বড়ো চাচা অর্থাৎ ওয়াসির বাবা কড়া প্রকৃতির লোক, তবে ভেতরে বেশ নরম। নসিবের বাবার কথা তো বললাম। ছোটো চাচা পলাশ আমুদে। লোক ভালো। দুই চাচাতো ভাই তাকে বেজায় ভালোবাসে। সম্প্রতি তিনি বিয়ে করেছেন। একদম সুন্দর একান্নবর্তী পরিবারের উদাহরণ তারা।

ওয়াসি আর নসিবের বন্ধু স্বনন, কৌশিক, দিপু। যা করে একত্রেই করে। আস্তানায় মোস্তফা খেলা, তিন গোয়েন্দা, মাসুদ রানা পড়া সবেতেই আছে। ওয়াসি একটু বড়ো বিধায় সে বইয়ের চিপায় নিউজপ্রিন্টের অদ্ভুত বইও পড়ে। এই বয়সটা একটু ভাব দেখানোর আর ভাইয়ের ক্ষমতায় চলার ছটফটানি থাকে। তাদেরও ছিল।

ক্ষমতার উৎস কালা ফারুক ভাই। আস্তানায় গিয়ে একটু আড্ডা, সিগারেট ফুঁকে ধোঁয়া ছড়ানো কাজগুলো তারা করে। ফারুক ভাই থেকেই তাদের জীবনের নতুন লক্ষ্য হয় ফার্স্ট ক্লাস তথা শীর্ষ সন্ত্রাসী হওয়ার!

এরমধ্যেই ঘটিয়ে ফেলে বিরাট কিছু কান্ড। স্কুলের নি র্যাতনকারী শিক্ষককে শায়েস্তা করে তারা। এই ঘটনায় যেন নিজেদের বুক ফুলে কয়েক ইঞ্চি বেড়ে যায়।

এরপর দৃশ্যপটে হাজির হয় ওস্তাদ পান্থ শাহ চন্দ্রপুরী। একদম আসল কামেল। তাদের বড়ো ভাই গোছের শাহেদকে মেট্রিকে পাশ করানোর জন্য নসিব, ওয়াসি সহ তার বন্ধুরা অদ্ভুত এক মিশনে নেমে যায়। যার ফলাফল হয় অভাবনীয়।

তবে এসব কাজে শুরুতে বেশ আগ্রহ থাকলেও স্বনন ঘটনার দিন নানাভাবে খালুর অসুখের অজুহাত দিয়ে সটকে যায়।

এভাবেই তাদের দিনগুলো চলে। বাসা থেকে মিথ্যে বলে অন্য কাজে বের হওয়া, সন্ধ্যার আগে বাসায় ফিরার তাগাদা, টেলিফোন করতে লুকোচুরি, কিশোরী দেখে বুক ধুকপুক করা, বিপদে পড়া আবার সঠিক নেতৃত্বে সেই বিপদ উতরে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এভাবেই তারা পার করে স্কুল জীবন। এক গন্ডি পেরিয়ে আরেক গন্ডিতে পা রাখে। জীবন এভাবেই বদলাতে থাকে।



পাঠ প্রতিক্রিয়া:

❝ইশকুল খুইলাছে❞ নসিব পঞ্চম জিহাদীর লেখা রম্য (!) উপন্যাস।

একে রম্য বলাই শ্রেয় মনে হয়। পারিবারিক একটা গল্প। যার মাঝে হাসিঠাট্টা ছিল বেশ।

বইটার সবথেকে আকর্ষণীয় দিক হলো সময়। গল্পের পটভূমি ফেলে আসা ঝা চকচকে নব্বইয়ের দশকের দিন। যে সময়টা ছিল সোনালী এক স্বপ্নের মতো। হারিয়ে আসার পর হয়তো এই সময়টাকে আমরা প্রচন্ড অনুভব করি।

কিছু বই আছে পড়ার খাতিরে পড়া যায়। আবার কিছু বই আছে পড়তে গেলে এক ধরনের নস্টালজিয়া কাজ করে। এই বইটা ঠিক তেমন।

দুই চাচাতো ভাইয়ের কৈশোরের ঘটনার সাথে লেখক আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন সেই সময়ে। যে সময়কে আমরা যক্ষের মতো মনে লালন করি।

আপনি বা আমি কে শুক্রবারের সিনেমা দেখিনি বলেন তো?

আমার মনে আছে ❛মনের মাঝে তুমি❜ সিনেমাটা ডিভিডিতে দেখার জন্য আমরা কাজিনরা কতো ঝক্কির মধ্যে পড়েছিলাম। সিডির দোকান থেকে যে কয়টা আন�� হচ্ছে এই সিনেমার সবগুলো নষ্ট, কাজ করে না। শেষে রামপুরা থেকে দ্বিগুণ ভাড়ায় এনে সিনেমাটা দেখেছিলাম। গেমের দোকানে ভাইয়ারা মোস্তফা খেলতো। আর আমাদের একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দশকে আমরা খেলতাম কম্পিউটারে ❛হাউজ অফ দ্য ডে ড❜। টিভিতে রিপ্লিস বিলিভ ইট অর নট, ছায়াছন্দ দেখতাম।

উঠতি পোলাপানের সেই সময়ের দুষ্টামি, গ্যাং নিয়ে একটু শো অফ আর বন্ধুত্বের দারুণ এক গল্প বলেছেন লেখক। পরিবারের সম্পর্কগুলো তখন কি বেশি মধুর ছিল?

একত্রে থাকা, ছুটির দিনে হই-হুল্লোড়, সবাই একত্র হলেই মা-চাচিদের রান্না, পোলাওয়ের সুবাস, আর আসরে গল্প-গান মাতিয়ে রাখার সময়গুলো পড়তে গিয়ে নিজের ছোটোবেলা যেন চোখে ভাসছিল।

লেখক হাসির খোরাক আনে এমন অনেক উপাদান রেখেছেন গল্পে। কিছু জায়গায় তো দম ফাটিয়ে হাসি পেয়েছে।
সেই সময় (এখনো) পোলাপান একত্র হলে তাদের মুখের অদ্ভুত ভাষা, একদম বদলে যাওয়া আচরণগুলো একদম বাস্তব ছিল। আমরা তো উল্টা ভাষায়, কথার আগে এ কিংবা ট যোগ করে বিজাতীয় ভাষায় কথা বলতাম।

গল্পে বেশ ভালো রকমের গা লাগা লির প্রয়োগ আছে। লেখায় এমন ভাষা সবসময় আমার পছন্দ না। তবে কেন জানি গল্পের নস্টালজিয়ায় সেটাও উপভোগ্য লেগেছে। বিশেষ করে ইংরেজি গা ইল দিয়ে তৃপ্তি না পেয়ে বাংলায় গা ইল দেয়াকে যে ভদ্র এবং মার্জিত অনুভূতি দিয়েছেন সেটা দারুণ ছিল।

ওয়াসি, নসিবের সম্পর্ক দেখে আর তাদের বন্ধুদের বিপদে থাকার ঘটনাগুলো বেশ ছিল। শত দুষ্টামির মাঝেও একজনের জন্য অন্যজনের যে অনুভূতি ছিল সেটা ভালো লেগেছে।

বেশি তিড়িং বিড়িং করলে একটু হোঁচট খেতে হয়। তাদেরকেও খেতে হয়েছিল। আর এখানেই ছোটো চাচা চরিত্রটা আমাকে মুগ্ধ করেছে। গুরুজনের কথা যে মূল্য রাখে লেখক তার এক ঝলকও দেখিয়েছেন।

এলাকা গুলো একেবারেই আমার পরিচিত ছিল বিধায় রিলেট করতে পেরেছি। এই জায়গাগুলোতে বেড়ে উঠেছি আমি। এমনকি লেখকের কিছু বর্ণনায় আমার বাসার পাশের কথাও উল্লেখ ছিল। ডাবল নস্টালজিয়া!

তবে শেষে গিয়ে মনে হলো আরেকটু বাড়ানো যেত কাহিনি। তাড়াহুড়ো ছিল। শেষটা কেমন যেন চিনচিনে একটা দুঃখ দিয়েছে। আবার ভালোও লেগেছে।
আমরা দিনশেষে ভালো থাকতে চাই। কিন্তু প্রকৃতির ইচ্ছা সবসময় আমাদের চাওয়ার সাথে মেলে না।

নব্বই দশক গিয়েছে দুই যুগের বেশি হয়েছে। কিন্তু ঐ যুগটা চুম্বকের মতো টানে। চিঠি, ল্যান্ডফোন, দোকানে গেমস আর টিভিতে অনুষ্ঠান দেখা, পরিবারের সবাই সিনেমা দেখা এই দিনগুলো কোটি টাকা দিয়েও আর ফেরত আনা যাবে না। আমরা সবাই এখন চলেছি যন্ত্রের মতো। যন্ত্রের অনুভূতি অনেক কম।

বিঃদ্রঃ খিদমাহ্ হাসপাতালের কথা উল্লেখ ছিল। আমার জানামতে ৯০ দশকে খিদমাহ্ হাসপাতাল ছিল না। ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটার একটা ঘটনা আছে। প্রথমে এই বিল্ডিংটা কমিউনিটি সেন্টার ছিল। এক বিয়ের অনুষ্ঠানে কনে এবং বর (খেয়াল নেই সঠিক) দুইজনকেই গু লি করে হ ত্যা করা হয় কোনো কারণে। এরপর থেকে সেটা বন্ধ করে হাসপাতাল দেয়া হয়।



প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন:


প্রচ্ছদ ভালো লেগেছে। তার থেকেও বেশি ভালো লেগেছে পুস্তানি।
সম্পাদনার অভাব ছিল কিছু। কেন/কেনো ব্যবহার ঠিক ছিল না।



❛আমাদের যে দিন গেছে তা কি একেবারেই গেছে?❜
Profile Image for Saima  Taher  Shovon.
525 reviews193 followers
March 2, 2025
বই পড়ে পড়ে হেসে কুটিকুটি হতে যদি চাও তবে পড়ে ফেলো!
Profile Image for Nobonita Roy.
15 reviews1 follower
April 3, 2025
শেষ কয়েকটা (নতুন) পড়া বই একেবারে সিরিয়াস, ডার্ক—একটু বেশিই ভারী হয়ে যাচ্ছিল। ঈদের ছুটিতে এমন কিছু পড়তে চাইলাম যেটা হালকা, উষ্ণ। যেটা পড়তে পড়তে মনে হবে, জানালা দিয়ে রোদ পড়ছে, বাতাসে একটু অলসতা, আর আমি একটা দুপুরে শুয়ে আছি—হয়তো ৯৯ বা ২০০০ সালের কোনো একদিন।

আমি মাঝেমধ্যেই নস্টালজিয়ায় ভুগি, সবকিছু নিয়েই। কিন্তু সবচেয়ে বেশি সেই carefree, happy সময়টা নিয়ে—যখন জীবনের সবচেয়ে বড় টেনশন ছিল, পরীক্ষার রেজাল্ট কেমন হবে, বন্ধুর সাথে ঝগড়া কিভাবে ঠিক হবে, আর আমি শেষমেশ সায়েন্স নেব, নাকি কমার্স! এই বইটা পড়ে ঠিক সেই সময়ের ফিলটা ফিরে এল। অবশ্যই, বইয়ের অভিজ্ঞতাগুলো পুরোপুরি মিলে যায়নি, কিন্তু বড় ছবিতে দেখতে গেলে—সে সময়ের পরিবেশ, রাস্তাঘাট, জীবনযাত্রা—সবকিছুই যেন নস্টালজিয়ার একটা ধাক্কা দিয়ে গেল।

আর যেটা বাড়তি ভালো লেগেছে—গল্পের একটা ক্লাইম্যাক্স ছিল। লেখকের বক্তব্য শুনে বইটা পড়ার আগে ভেবেছিলাম এটা হয়তো একটা সুন্দর, এলোমেলো স্মৃতিচারণ হবে। কিন্তু না, শেষে এসে দেখি গল্পের একটা bittersweet পরিণতি আছে। ছুটির জন্য একদম পারফেক্ট।

লেখা সুন্দর, পড়তে একদম বাধাহীনভাবে এগোয়। লেখকের জনরা ফিকশন বইগুলোর কথা জানতাম, কিন্তু ওটা পড়ার আগে এটা পড়েই প্রথম অভিজ্ঞতা হলো, আর সেই অভিজ্ঞতা সুন্দর, মিষ্টি।
Profile Image for Ratika Khandoker.
303 reviews33 followers
August 19, 2025
স্বননের খালু যে আরো কী কী রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত- I am still counting.
Profile Image for Ratul Ahmed.
43 reviews
March 18, 2025
শেষবার হুমায়ূন আহমেদ এর ' বহুব্রীহি ' পড়ে এতটা হেসেছিলাম। লেখকের টপ নচ হিউমারের ঝলক তার থ্রিলার বইগুলাতেও টুকটাক পেয়েছিলাম। এবার যেনো সুযোগ পেয়ে সব উজাড় করে দিয়েছেন। কৈশোরের নস্টালজিয়ায় ডুব দিয়ে মন ভালো করে দেওয়ার জন্য পারফেক্ট একটা বই। মনের মতো বই!
Profile Image for Humaira Tabassum  Ellin.
21 reviews7 followers
March 26, 2025
যতটা এক্সপেকটেশন নিয়ে বইটা পড়তে বসেছিলাম,ঠিক ততটা ভালো লাগলো না। সব মিলিয়ে হতাশ
Profile Image for ZANNAT ESHA.
8 reviews4 followers
June 4, 2025
খুব সম্ভবত এটা নাম দেখে বই কেনার ফল 🙂
একেবারেই ভালো লাগে নাই। যতটা আগ্রহ নিয়ে কিনেছিলাম ঠিক ততটাই অনাগ্রহ নিয়ে শেষ করলাম। শুরু করেছি তাই শেষ করতে হবে সেজন্য শেষ করা।
অন্তত এন্ডিং ভালো আশা করেছিলাম। সেই এক্সপেকটেশানেও পানি।
Profile Image for Pranta Dastider.
Author 18 books328 followers
June 10, 2025
ইশকুল খুইলাছে বইতে ইশকুলের প্রভাব কম থাকায় এক তারা খসালাম। বাকি সব ভালোই। কিছু কিছু জায়গায় সঠিক রসিকতার প্রয়োগ আর তার ধারাবাহিকতা রক্ষার ব্যাপারটা বেশ ভালো হয়েছে। আর গল্পের সুতো শেষটায় বেশ সুন্দর একটা জায়গায় ছাড়া হয়েছে।

এই বই পড়তে গেলে আপনাকে একটা জিনিস হলে চলবে না - অ্যামেচার।
Profile Image for Asif Khan Ullash.
145 reviews8 followers
March 9, 2025
গুটিকতক উপন্যাস বাদে, কিশোর উপন্যাস হিসেবে যে বইগুলো পড়ে আমরা বড় হয়েছি সেগুলো মূলত শিশু উপন্যাস আরকি। মানে, যদিও বইগুলোর প্রধাণ চরিত্ররা সবাই টিনেজার তবে তাদের কাজকর্ম, কথাবার্তা সবই প্রায় নাবালকের মতো। বাইরের ইয়ং অ্যাডাল্ট ফিকশন গুলো অনেক নুয়ান্সড, ডিস্যানিটাইজড হয় যেখানে টিনেজার / তরুণদের সাইকি কিছুটা হলেও ধরার চেষ্টা করা হয়। সেইদিক বিবেচনা করলে, “ইশকুল খুইলাছে” এবং “কলেজ খুইলাছে” অনেকটাই ক্লোজ টু ট্রুথ পারসেপশন দেয় (যদিও অনেক ড্রামাটাইজেশন, এক্সগ্যাগারেশন আছে, তবুও।)

“ইশকুল খুইলাছে” বইয়ের মূল চরিত্ররা কমবেশি ১৫-১৭ বছরের ডেমোগ্রাফিকের এবং সময়টা হচ্ছে আর্লি টু থাউজ্যান্ড। চ্যালেঞ্জিং টাইমস আর উত্তেজনার বয়স আরকী! পুরো বইয়েরই মূল ড্��াইভিং ফোর্স হচ্ছে অর্গানিক হিউমার। টিনেজের ইমোশোন আর টানপোড়েন কিছুটা মিসিং। বইটা আরেকটু বড় হতেই পারতো, চরিত্রগুলোকে আরেকটু ছড়ালেও অসুবিধা ছিল না। সবমিলিয়ে খুবই উপভোগ্য বই, পড়ার সময়টুকু ভালো কাটবে, নিশ্চিত।

দুটো বইই অনেক উপভোগ্য, বিঞ্জ রিডিঙয়ের জন্য পার্ফেক্ট। দুটো বইতেই অনেক ইস্টার এগ আছে, তবে বেশিরভাগ ইস্টার এগই টাইম বাউন্ড। আমাদের সময় যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় আছি তাদের জন্য এগুলো রেলেভ্যান্ট হলেও ১৫-২০ বছর পর কেউ বইগুলো পড়লে রিলেট করতে পারবে বলে মনে হয়না। রিপ্রেজেন্টেটিভ কিছু ইয়াং অ্যাডাল্ট ফিকশন, যদিও কিছুটা হালকা টোনের তবুও পাওয়া তো গেল এখন দেখা যাক ভবিষ্যতে বাংলার হোল্ডেন কলফিল্ড কে পড়ার সুযোগ হয় কিনা!
Profile Image for Wasee.
Author 51 books786 followers
February 4, 2025
লেখা শেষ করার পরবর্তী আঠারো ঘণ্টা পর্যন্ত উপন্যাসের পাণ্ডুলিপিকে টাটকা, গরম পাণ্ডুলিপি ধরা হয়। নসিব পঞ্চম জিহাদীর প্রকাশিতব্য উপন্যাস "ইশকুল খুইলাছে" এর টাটকা, গরম পাণ্ডুলিপি মাত্র পড়ে শেষ করলাম। গোগ্রাসে গিলতে গিয়ে জিহবার অগ্রভাগ কিঞ্চিৎ পুড়ে গিয়েছে।

জনরা ফিকশনের লেখক হিসেবে যেই নসিবকে চিনি, সে এই বইয়ে অনুপস্থিত। তবে সেন্স অফ হিউমারের প্রয়োগ এবং সিচুয়েশনাল কমেডি ক্রিয়েট করার যে অস্বাভাবিক জন্মগত ক্ষমতা নিয়ে নসিব জন্মেছে, তার শতভাগ প্রয়োগ এই বইয়ের প্রতিটি পৃষ্ঠায় দৃশ্যমান।

ম্যাজিকাল কোন সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ডে না ঢুকেও যে রিয়েল ওয়ার্ল্ডে একটা ইয়াং এডাল্ট উপন্যাসে এত "তারছেড়া", "ক্রেজি" স্টোরিলাইন বিল্ডআপ করা যেতে পারে, সেই দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য নসিবকে ধন্যবাদ এবং একরাশ হিংসা।

ইদানীং বিভিন্ন বইয়ের রেটিং-এর ক্ষেত্রে ফ্র‍্যাকশন দেখতে পাই। এই হিসাবটা কীভাবে করা হয়, জানি না। তবে কিঞ্চিৎ রাশড এন্ডিং এবং আমাকে বাউণ্ডুলে জাত সন্ত্রাসী হিসেবে উপস্থাপনের অপরাধে ইশকুল খুইলাছে নামের এই পাগলাটে উপন্যাসকে ৪.৪৭ তারা প্রদান করলাম। গাণিতিক হিসেবে ৫ এর ভেতর কতটুকু বাকি রইল, সেটা বিয়োগ করে বের করার চেষ্টা করছি কলেজ খোলার পর!
Profile Image for Shihabul Bashar  Robi.
52 reviews2 followers
May 30, 2025
নসিব পঞ্চম জিহাদী'র লেখার স্টাইলটা আমার বেশ ভালো লাগে। একটানে পড়ে ফেলা যায়।
নব্বইয়ের দশকে ঢাকা'র এদিকে স্কুলজীবনের একটা চিত্র উঠে এসেছে, যেখানে দুরন্তপনার বর্ণনায় লেখক খুব কার্পণ্য করেননি।
তবে শেষটা কেমন যেনো লাগলো। মন্দ বলা যায় না, কিন্তু আরেকটু ভালো হইতেও পারতো।
তবে যাইহোক, তিনি যে শীর্ষ সন্ত্রাসী হওয়ার স্বপ্ন ছেড়ে দিয়ে লেখক হয়েছেন, তাই পাঠক হিসেবে আমাদের ভাগ্য।
Profile Image for Md. Shahedul Islam  Shawn.
186 reviews9 followers
August 10, 2025
সন্ত্রাসী হওয়ার চিন্তা মাথায় না আসলেও, উঠতি বয়সে একসময় ফাপড় ভাজি করা চিন্তা কার মাথায় আসে নাই?
surprisingly enjoyed every bit of it.

"পৃথিবীটা খুব খারাপ একটা জায়গা।
যে স্বপ্নের জন্য আমরা জীবনকে যাপন করি-
শেষ নিঃশ্বাসে এসে,
সে স্বপ্নের আর কোনো অস্তিত্ব থাকে না।"
4 reviews
Read
February 24, 2025
Perfect nostalgia with 90's blending. A perfect picture of adolescence anyone must remember.
Displaying 1 - 26 of 26 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.