চিন্ময় গুহ সাহিত্যের বিদগ্ধ আলোচক। তাঁর সাহিত্য আলোচনা কিংবা সাহিত্যের মধ্য দিয়ে জীবনের রঙ ছুঁয়ে যাবার প্রচেষ্টা বেশ কোমল,স্নিগ্ধ। উনি পণ্ডিত মানুষ কিন্তু পাণ্ডিত্য জাহির করবার আলাদা প্রয়াস নেই।সাহিত্যে উনার বিজ্ঞতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে রচনায় উঠে আসে রসগ্রাহীতার সাথে।
উক্ত প্রবন্ধ-গ্রন্থ চারটি ভাগে সাজানো। প্রথম পর্বে আছে ফরাসি সাহিত্যে মানুষের অন্বেষণ নিয়ে মনোজ্ঞ আলোচনা,সেইসাথে ফরাসি সাহিত্যের নানান আশ্চর্য অনুষঙ্গের কথা।বুদ্ধদেবের বোদলেয়ার অনুবাদে নানান বিভ্রান্তি কিংবা বোদলেয়ার প্রীতির অত্যাধিক আধিক্যে খোদ বোদলেয়ারের রচনা ই পাল্টে দিবার মতো অবাক করা ঘটনা মনে বিস্ময় জাগায় ।চিন্ময় গুহের ফরাসি সাহিত্যের আলোচনায় নিজেকে ব্রাত্য মনে হয়,পারলে এখনই ফরাসি শিখে ফরাসি সাহিত্যের সমৃদ্ধ জমিতে নিজের পা রাখার সাধ হয়। ফরাসি সাহিত্যের অসীম আকাশের নিচে গাঢ় শঙ্খের খোঁজে তিনি ঘুরে বেড়ান।নির্মাণের মায়াজাল ছিঁড়ে তুলে আনতে চান কবিতার স্থাপত্য-কংকাল।
দ্বিতীয় পর্বে রবীন্দ্র -জীবনানন্দ নিয়ে ভিন্ন কথা বলেছেন কিছু রচনায় তা ও বেশ।
আমার এই বইয়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য রচনা কিংবা সবচেয়ে বেশি বিপন্ন বোধ করেছি যে প্রবন্ধ পাঠ করে তা হচ্ছে তৃতীয় পর্বের এদগার পো ও কবিতার ভাষা পড়ে। পো অদ্ভুত এক মানুষ ছিলেন।পো'র রচনার মতোই পো'র জীবন কিংবা কবিতার নিয়তি ছিলো দুর্বোধ্য রহস্যময় কুয়শায় ভরা।পো'র কবিতার বিচিত্র যাত্রা ছিলো পো'র মতোই নিয়তি তাড়িত।
সবশেষে বলতে হয় যে চিন্ময় গুহের রচনা সাহিত্যের সাথে নতুন করে যুক্ত করে পাঠককে। তাঁর বৈদগ্ধতার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে না পারলে ও তিনি এত চমৎকার সুবোধ্য করে লিখেন যে আমার মতো অনভিজ্ঞ পড়ুয়ার কোন সমস্যা হয়না। সাহিত্যের সাথে জীবনের গভীর সংযোগ আবিষ্কার করার জন্য আমাদের বারবার চিন্ময় গুহের রচনার কাছে ফিরতে হবেই।
৩.৫/৫*