Jump to ratings and reviews
Rate this book

অরণ্যের অধিকার

Rate this book
বীরসা মুন্ডা ও তাঁর অভ্যুত্থানের গল্প।

216 pages, Hardcover

First published April 14, 1977

17 people are currently reading
329 people want to read

About the author

Mahasweta Devi

195 books317 followers
Mahasweta Devi was an Indian social activist and writer. She was born in 1926 in Dhaka, to literary parents in a Hindu Brahmin family. Her father Manish Ghatak was a well-known poet and novelist of the Kallol era, who used the pseudonym Jubanashwa. Mahasweta's mother Dharitri Devi was also a writer and a social worker.

She joined the Rabindranath Tagore-founded Vishvabharati University in Santiniketan and completed a B.A. (Hons) in English, and then finished an M.A. in English at Calcutta University as well. She later married renowned playwright Bijon Bhattacharya who was one of the founding fathers of the IPTA movement. In 1948, she gave birth to Nabarun Bhattacharya, currently one of Bengal's and India's leading novelist whose works are noted for their intellectual vigour and philosophical flavour. She got divorced from Bijon Bhattacharya in 1959.

In 1964, she began teaching at Bijoygarh College (an affiliated college of the University of Calcutta system). During those days, Bijoygarh College was an institution for working class women students. During that period she also worked as a journalist and as a creative writer. Recently, she is more famous for her work related to the study of the Lodhas and Shabars, the tribal communities of West Bengal, women and dalits. She is also an activist who is dedicated to the struggles of tribal people in Bihar, Madhya Pradesh and Chhattisgarh. In her elaborate Bengali fiction, she often depicts the brutal oppression of tribal peoples and the untouchables by potent, authoritarian upper-caste landlords, lenders, and venal government officials.

Major awards:
1979: Sahitya Akademi Award (Bengali): – Aranyer Adhikar (novel)
1986: Padma Shri[2]
1996: Jnanpith Award - the highest literary award from the Bharatiya Jnanpith
1997: Ramon Magsaysay Award - Journalism, Literature, and the Creative Communication Arts
1999: Honoris causa - Indira Gandhi National Open University (IGNOU)
2006: Padma Vibhushan - the second highest civilian award from the Government of India
2010:Yashwantrao Chavan National Award
2011: Bangabibhushan - the highest civilian award from the Government of West Bengal
2012: Hall of Fame Lifetime Achievement Sahityabramha - the first Lifetime Achievement award in Bengali Literature from 4thScreen-IFJW.

মহাশ্বেতা দেবী একটি মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন । তাঁর পিতা মনীশ ঘটক ছিলেন কল্লোল যুগের প্রখ্যাত সাহিত্যিক এবং তাঁর কাকা ছিলেন বিখ্যাত চিত্রপরিচালক ঋত্বিক ঘটক। মা ধরিত্রী দেবীও ছিলেন সাহিত্যিক ও সমাজসেবী। মহাশ্বেতা দেবী বিখ্যাত নাট্যকার বিজন ভট্টাচার্যের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের একমাত্র পুত্র, প্রয়াত নবারুণ ভট্টাচার্য স্মরণীয় কবিতার পঙ্‌ক্তি ‘এ মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ নয়’ এবং হারবার্ট উপন্যাস লিখে বাংলা সাহিত্যে স্থায়ী স্বাক্ষর রেখে গেছেন।

তাঁর শৈশব ও কৈশোরে স্কুলের পড়াশোনা ঢাকায়। দেশভাগের পর চলে আসেন কলকাতায়। এরপর শা‌ন্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে অনার্স এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন।

১৯৬৪ খ্রীষ্টাব্দে তিনি বিজয়গড় কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন । এই সময়েই তিনি একজন সাংবাদিক এবং লেখিকা হিসাবে কাজ করেন। পরবর্তীকালে তিনি বিখ্যাত হন মূলত পশ্চিমবাংলার উপজাতি এবং নারীদের ওপর তাঁর কাজের জন্য । তিনি বিভিন্ন লেখার মাধ্যমে বিভিন্ন উপজাতি এবং মেয়েদের উপর শোষণ এবং বঞ্চনার কথা তুলে ধরেছেন। সাম্প্রতিক কালে মহাশ্বেতা দেবী পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিল্পনীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন । সরকার কর্তৃক বিপুল পরিমাণে কৃষিজমি অধিগ্রহণ এবং স্বল্পমূল্যে তা শিল্পপতিদের কাছে বিতরণের নীতির তিনি কড়া সমালোচক । এছাড়া তিনি শান্তিনিকেতনে প্রোমোটারি ব্যবসার বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ করেছেন ।

তাঁর লেখা শতাধিক বইয়ের মধ্যে হাজার চুরাশির মা অন্যতম। তাঁকে পদ্মবিভূষণ (ভারত সরকারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নাগরিক পুরস্কার,২০০৬), রামন ম্যাগসেসে পুরস্কার (১৯৯৭), জ্ঞানপীঠ পুরস্কার (সাহিত্য একাডেমির সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান), সার্ক সাহিত্য পুরস্কার (২০০৭) প্রভৃতি পদকে ভূষিত করা হয়।

২০১৬ সালের ২৮ জুলাই, বৃহস্পতিবার বেলা ৩টা ১৬ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।


जन्म : 1926, ढाका।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
60 (43%)
4 stars
56 (40%)
3 stars
17 (12%)
2 stars
3 (2%)
1 star
2 (1%)
Displaying 1 - 21 of 21 reviews
Profile Image for Shadin Pranto.
1,479 reviews561 followers
October 6, 2022
বিরসা মুন্ডার নেতৃত্বে ঐতিহাসিক মুন্ডা বিদ্রোহকে একেবারে জীবন্ত করে তুলেছেন মহাশ্বেতা দেবী।

কাহিনির প্রেক্ষাপট উনিশ শতকের শেষভাগ আর বিশ শতকের শুরুর সময়কাল। ছোটনাগপুরের মুন্ডারা দীর্ঘকাল ধরে শোষণের শিকার হয়ে আসছে। তারা অরণ্যাচারী, তারা অরণ্যের আদি আর অকৃত্রিম সন্তান। কিন্তু অত্যাচারী দিকুরা (মহাজন,জোতদার, জমিদার) আর ইংরেজ সরকার বারবার মুন্ডাদের অরণ্যে তাদের বাসস্থান থেকে উচ্ছেদ করছে, তাদের ক্রীতদাসের মতো খাটিয়ে তৈরি করছে সম্পদের পাহাড়। কিন্তু গরিব মুন্ডারা খেতেও পাচ্ছে না,নেই তাদের বাসস্থান।

এই নির্যাতিত, নিপীড়িত মুন্ডাদের নিজ অধিকার আর বাসভূমি ফিরিয়ে দেবার স্বপ্ন দেখায় তাদের "ভগবানতুল্য" বিরসা মুন্ডা। স্বপ্নদ্রষ্টা পঁচিশ বছরের যুবক বিরসার নেতৃত্বে অরণ্যমাতাকে তার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আর নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে লিপ্ত হয়ে মুন্ডারা, যাদের প্রতিপক্ষ দিকু,অত্যাচারী ইংরেজ সরকার। বিরসা মুন্ডার নেতৃত্বে পায় কী মুন্ডারা তাদের স্বপ্নভূমিকে ?

অসাধারণ বই এবং লেখনী। মনে হচ্ছিল চোখের সামনে সব দেখছি।

পুরোপুরি ৫ তারকা।
Profile Image for Harun Ahmed.
1,667 reviews430 followers
October 7, 2022
"উলগুলানের শেষ নাই,ভগবানের মৃত্যু নাই।"
Profile Image for Akash Saha.
156 reviews27 followers
May 21, 2023
অরণ্য আজও অধিকার ফিরে পায় নি।

পরে হয়ত রিভিউ লিখব। মনকে ছুয়ে দিলো বইটি।
Profile Image for Emtiaj.
237 reviews86 followers
July 29, 2016
পৃথিবীর সব আদিবাসীদেরই কি একই গল্প? নিজেদের মত করে বেঁচে থাকা মানুষগুলোর উপর সভ্যতার নামে নেমে আসে দুর্যোগ!
বীরসা মুন্ডা তাঁর মানুষগুলোদের জাগিয়ে তুলেছিল, তাদের ভগবান হয়েছিল, তাদেরকে গর্ব করতে শিখিয়েছিল, মুন্ডা হয়ে জন্মানোর মধ্যে অসম্মানবোধের কিছু নেই।
স্বাভাবিকভাবেই সরকার এই বিদ্রোহকে মেনে নিতে পারেনি। মেরেছিল মানুষগুলোকে গুলি চালিয়ে, বিনা বিচারে জেলে আটকে রেখে মেরেছিল।
বীরসা মুন্ডা বেঁচে থাকুক মানুষের হৃদয়ে।

খুব ভালো লাগার উপন্যাস হয়ে উঠেনি এটা আমার কাছে। মাঝে মাঝে মনে হয়েছে, পত্রিকা পড়ছি।
Profile Image for Abhishek Saha Joy.
191 reviews57 followers
January 9, 2022
"এই বন যে আমার মাগো আমি তারই ছেলে
অবাধ চলন বলন আমার তারই কোলে
এই বন যতদূর ঠিক তত দূর আমার বাড়ি
এই মাটিতে পোতা আছে আমার নাড়ি
সেই নাড়ি ধরে কারা যেন টান দিয়েছে
তাই রুখতে পীরেন স্নাল জান দিয়েছে।"

মাদল ব্যান্ডের গাওয়া 'পীরেন স্নাল' গানের এই অংশটুকু 'অরণ্যের অধিকার' বইয়ের সারাংশ।শুধু পীরেন স্নাল এখানে হয়ে গেসে বীরসা মুন্ডা।

'অরণ্যের অধিকার' মানে বন-জঙ্গলের উপর অধিকার।সেই অধিকার কাদের?যারা অরণ্যের সন্তান তাদের।সেই সন্তান কারা?সেই সন্তান হলো আমাদের আদিবাসীরা।তারাই অরণ্যের আদিম সন্তান।অরণ্য তাদের মাতা।আধুনিক প্রযুক্তির সওয়ারি হয়ে আমরা প্রযুক্তির সন্তানেরা আঘাত করি সেই আদিম অরণ্যকে।মুন্ডাদের ভাষায় সেই আমরা হলাম 'দিকু' মানে বহিরাগত।সেই দিকুদের হাত থেকে অরণ্যমাতাকে মুক্ত করার জন্য মুন্ডারা সংগ্রাম করে।সে সংগ্রামের প্রয়োজনে জন্ম নেয় বীরসা মুন্ডা।মুন্ডারা যাকে বলে বীরসা ভগবান!

সেই প্রাচীনকাল থেকেই মুন্ডারা পিছিয়ে পড়া জাতি।তাদের নেই লিখিত ভাষা।আদালতেও তারা শোষিত সবসময়ই।জমিদার তাদের দাস হিসেবে কিনে নেয়।খাদ্যের বিনিময়ে মিশনারীরা তাদের খ্রিস্টান বানায়।সবসময়ই তারা শোষিত।বাঙালি জমিদার,ইংরেজ মিশনারী সবাই একত্র হয়ে তাদের শোষণ করে।এমন নয় যে তারা এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করেনা।কিন্তু কোন আন্দোলন সংগ্রামই তাদের হৃদয়ে কম্পন জাগায় না।সেই কম্পন,সেই মুন্ডারী তাদের হৃদয়ে যে জাগায় তার নাম বীরসা।

বীরসা তাদের আদিম শেকড় চিনতে শেখায়,তাদের আসল শত্রুকে চিনতে শেখায়,তাদের লড়াইয়ের মন্ত্রণা শেখায়,তাদের বুক ফুলিয়ে লড়তে শেখায়।বীরসা মুন্ডাদের ভগবান,সে হিন্দু বা খ্রিস্টান ভগবান নয়,সে মুন্ডা ভগবান।যে আবার তাদের মুন্ডারাজ ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন দেখায়।

স্বাভাবিকভাবেই বীরসা হেরে যায় আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রসজ্জিত ব্রিটিশ রাজের কাছে।কিন্তু হেরে যায়না বীরসার আদর্শ।মহাশ্বেতা দেবী খুব সুনিপুণভাবে তুলে এনেছেন মুন্ডাদের বিদ্রোহের ইতিহাস।বিদ্রোহের পটভূমি,মুন্ডাদের জীবনসংগ্রাম।তুলে এনেছেন একদম খাঁটি মুন্ডারী ভাষায়।অনেক শব্দ বুঝার জন্যে আপনাকে প্রায়ই গুগল ঘাটতে হবে তাও সব শব্দের অর্থ খুঁজে পাওয়া যায়না।কিন্তু একারণেই বইটি অনন্য।একদম র ইমোশন যাকে বলে মহাশ্বেতা দেবী ঠিক সেটাকেই বইয়ের পাতায় লিপিবদ্ধ করেছেন।

আমাদের অনেককেই দেখা যায় আদিবাসীদের হেয় চোখে দেখতে।এমনকি রাষ্ট্র পর্যন্ত তাদের নিজস্বতা কেড়ে নিতে চায়।আমাদের যেমন বাংলা ভাষা প্রিয়,বাংলা সংস্কৃতি প্রিয় ঠিক তেমনি তাদেরও নিজস্ব ভাষা সংস্কৃতি তাদের কাছে মায়ের মতো।আমাদের উচিত তাদের নিজস্বতাটুকুকে নষ্ট হতে না দিয়ে তাদের স্বাধীনভাবে বাঁচতে দেয়া।বইটি পড়ে এই বোধটুকু সবার জাগ্রত হোক এই কামনা রইল!
31 reviews
April 17, 2023
উলগুলানের শেষ নাই, ভগমানের মরণ নাই!
Profile Image for Md Shariful Islam.
258 reviews84 followers
November 9, 2020
আদিবাসী বলতে বোঝায় যারা কোনো ভূমিতে আগে থেকেই বাস করে। তো কাদের আগে থেকে? উত্তরটা হলো ‘মূলস্রোতের’ আগে থেকে। পৃথিবী যেহেতু বিজয়ীদের ইতিহাস-ই লেখে, তাইতো আমরা সবসময় এই ‘মূলস্রোতের' ইতিহাস-ই শুনি, আদিবাসীদের কথা আমাদের কানে পৌঁছায় না। আমরা অনার্য না, আর্যদের কথা শুনি; রেড ইন্ডিয়ান না, আমেরিকানদের ইতিহাস শুনি। তো পৃথিবীর ইতিহাসে এই ‘মূলস্রোত' ও আদিবাসীদের দ্বন্দ্ব চিরন্তন, আদিবাসীদের হটিয়েই না থাকার জায়গা পায় মূলস্রোতের লোকেরা। কিন্তু আদিবাসীরা কি বিনা বাঁধায় ছেড়ে দেয় নিজেদের অধিকার? কক্ষনও না, তাইতো যুগ যুগ ধরে আদিবাসীরা সংগ্রাম করে যাচ্ছে ‘মূলস্রোতের’ সাথে। এমন-ই এক দ্বন্দ্বের আখ্যান এই উপন্যাসটি যেখানে ছোটনাগপুরের মুন্ডারা বিদ্রোহ করে ইংরেজ শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।

গল্পটা তো বললাম-ই। ছোটনাগপুরের মুন্ডারা যখন খেয়ে-না খেয়ে অরণ্য মায়ের আশ্রয়ে বাস করছিল তখনই দিকুরা ( মুন্ডা ব্যতীত যেকোনো বহিরাগত) প্রবেশ করে সেখানে। এত��িনের আর্থসামাজিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটে। নিজভূমে পরবাসী হয় তারা, নিজের জমিতে শ্রমিক খাটতে বাধ্য হয় তারা, নিজেদের ধর্ম পরিবর্তন করতে হয় তাদের, এমনকি তাদের অরণ্য মা পর্যন্ত লাঞ্চিত হয় দিকুদের হাতে। কিন্তু মানুষ কতদিন সহ্য করতে পারে? তাইতো সময়ের প্রয়োজনে জন্ম হয় বিরসা মুন্ডার। মুন্ডা পরিচয়ে সবাইকে গর্ব করতে শেখায় সে, বাঁচার চেয়ে মরাকে ভালো মনে করতে শেখায় সে। ফলাফল শাসকগোষ্ঠীর বিরাগভাজন হওয়া। গ্রেফতার, নির্যাতন আর বিচারের নামে প্রহসন।

যে ভাষায় শোষণের কোনো প্রতিশব্দ নেই, সেই ভাষার মুন্ডারাই একসময় হয়ে পড়ে সবচেয়ে নির্যাতিত আর শোষিত। ঘাটোর সাথে একটু লবণ, নিজের জমির ফসল নিজের করে পাওয়া, বেগার খাটতে বাধ্য না হওয়া আর স্থিতিশীল অরণ্যজীবন – শুধু এটুকু দাবি করাতেই তাদের উপর নেমে আসে ভয়াবহ নির্যাতন। ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী সমস্ত প্রশাসন আর বিচারের নামে প্রহসন নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে তাদের উপর। কেননা মুন্ডাদের এসব দেওযা মানে জমিদারদের অখুশি করা আর তাদের অখুশি করা যে শাসন কাজকে বিঘ্নিত করবে!

প্রধান চরিত্র বিরসা মুন্ডা, পুরো বই জুড়েই যে আলোড়িত করে। সেই ছোট্ট বয়স থেকেই যে নিজেদের জাতির দুরবস্থার কথা ভাবে, যে অরণ্যের কান্নার শব্দ শুনতে পায়, ইংরেজদের চাপিয়ে দেওয়া আধুনিকতা নয় বরং নিজেতের মডেলেন আধুনিকতা চায় সেই বিরসা মুন্ডা বা ভগবান। যে নিজের জাতির কথা বলে তাদের কাছে ভগবান বলে স্বীকৃত হয়, লোকেরা পোকার আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়ার ন্যায় তার নামে মৃত্যুর জন্য তৈরি হয়। সে জানত সে কি করছে বা তার পরিণাম কি হতে পারে কিন্তু সে পিছু হটে নি। সে জানত তাকে বেশিদিন বাঁচতে দেওয়া হবে না কিন্তু মৃত্যুর আগে দুইটা কাজ সে করতে পেরেছে। মুন্ডাদের সে আত্মপরিচয়ে গর্বিত করেছে আর চোখ বুজে শোষণ মেনে নেওয়ার চাইতে যে মৃত্যু ভালো সেই মন্ত্রে দীক্ষিত করতে পেরেছে। তাইতো রাঁচির জেলেও সে হার মানে নি, ‘আগুন তো জ্বালিয়ে গেলাম’ ভেবে প্রশান্তিতে মরেছে। ‘ উলগুলানের ( মহাবিদ্রোহ) শেষ নাই, ভগবানের মৃত্যু নাই' স্লোগানটা সে জনমনে প্রতিষ্ঠিত করে গিয়েছে।

বিরসা ছাড়া আরও কয়েকটা চরিত্রের কথা বলতেই হয়। প্রথমেই আসবে ‘ ভগবান খোঁজা' ধানী। বারবার সে স্বজাতির জন্য যুদ্ধ করেছে, তাইতো উনিশ শতকের শেষদিকে পরিস্থিতি যখন দ্রুত খারাপ হচ্ছিল তখন সেই প্রথমে মুন্ডাদের মধ্যে সেই নেতা বা ভগবান খুঁজতে থাকে যে মুন্ডাদের ঐক্যবদ্ধ করবে, তাদের দিয়ে যুদ্ধ করাবে। পুরো বই জুড়ে সে এই খোঁজা অব্যাহত রেখেছে, যুদ্ধ চালিয়েছে, নির্যাতন সহ্য করেছে। ‘হাফ মুন্ডা’ জেকবের কথা না বললেই নয়। আজীবন সে মুন্ডাদের ন্যায়বিচার পাইয়ে দেওয়ার জন্য লড়েছে,,স্বজাতি থেকে বিতাড়িত হয়েছে কিন্তু হাল ছাড়ে নি। অমূল্যকেই বা বাদ দিই কিভাবে, বাচার তাগিদে সে ‘দিকু’ হয়ে গেলেও বরাবর সে সাহায্য করে গিয়েছে বিরসাদের। আর বিরসার মা করমি তো সারাজীবন দুঃখ-ই করল। সে চাইতো ‘স্বাভাবিক’ সন্তান কিন্তু বিরসা যে ‘ভগবান’ হয়ে গেল, আজীবন এর যুগপৎ দুঃখ আর সুখ বয়ে বেড়িয়েছে সে।

আশ্চর্যজনক একটা কথা হলো আমি এর আগে মুন্ডা বিদ্রোহ বা বিরসা মুন্ডা সম্পর্কে কিছুই জানতাম না! অথচ এই বিপ্লবীর কথা আমাদের সবার জানার কথা ছিল, আমাদের পাঠ্যপুস্তকে তাঁর জায়গা হওয়ার কথা ছিল। এখানেই আমার কাছ থেকে ধন্যবাদ পাবেন লেখিকা, একজন বিপ্লবীর সাথে পরিচিত করিয়ে দেওয়ার জন্য।

বইটা যখন সকালে পড়ছিলাম তখনই ফেসবুকের মাধ্যমে শুনতে পেলাম পার্বত্য অঞ্চলে এক হোটেল নির্মাণকে কেন্দ্র করে বেশ হৈচৈ হচ্ছে। বাঙালি ‘মূলস্রোতের’ বিনোদনের জন্য সেখানে পাঁচ তারকা হোটেল নির্মিত হচ্ছে আদিবাসী ম্রো-দের বিতাড়িত করে। তখনই ভাবনাটা মনে আসছিল, ঐ ম্রো-দের কাছে বাঙালি হিসেবে আমিও তো একজন ‘দিকু’ ছাড়া আর কিছু নই যে চোখ বুজে দেখে যাচ্ছি অন্য বাঙালিদের উন্নয়নের নামে, পর্যটনের নামে তাদের ঘরছাড়া করার খেলা! এখন যদি ওদের থেকে একজন বিরসা বের হয়ে আসে তখন আমি কি করব তাহলে? হয়তো অমূল্য হয়ে যাব! এটুকুই!
Profile Image for Vikalp Trivedi.
132 reviews116 followers
March 22, 2019
My first, and unfortunately also the last, introduction to Birsa Munda was when I was in eighth standard. We had a small biographical chapter based in him in our Hindi curriculum. In this small three-four page long chapter we studied about his birth, his struggle against the Britishers, and in the end his death. The chapter almost had two to three paragraphs dedicated to every event in Birsa's life. After eighth we studied History for two more years, and in tenth standard we had the national uprising against​ the British rule as the main topic. To be honest till that time I almost forgot that once we had a chapter about someone called as Birsa Munda. And to be honest again my History book didn't bother to mention any of the struggles of Mundas and the Tribal uprising at all. There are many incidents in the Indian history which are often omitted from the educational curriculum for reasons unknown, I don't know what they​ think when they select curriculum for the students, and we students are also trained to mug up whatever comes up, give exams, pass it to get promoted to next class and forget about what we studied in the previous class. This is how it worked, still works and I don't see any chance of flicker of change in this system.

I discovered 'Jungle Ke Davedar' while searching for Mahashweta Devi's '1084ve Ki Maan', I went through the synopsis of this and found that it was based on Birsa Munda. Something blew dust from memory and I recalled that eighth standard chapter. The book being written by Mahashweta Devi I picked it up. The book from the first page itself covers up plight of the people living in the forest, they are already crushed by the high class and the loan sharks and now it's the Britishers who came to claim what was theirs for ages - forests. These are not people who need forests just for commercial use of as of hiding. These are the people who have coexisted with the forest. But the times are changing and they are transforming into dark ones and conditions of these people is getting worse with each and every passing day. The book perfectly captures this tension and this also serves as a good built up to the character of Birsa.

The atmosphere building of the book, especially in the first few chapters when Birsa is going to be hanged and after his hanging the reaction of his prison mates, were really intense, believeable and gut wrenching at the same time. The other quality of the book is that it doesn't shy away from the myths surrounding Birsa and doesn't try to give explicitly practical reasons to Birsa's claim being a God. It shows that claim very subtly and why Birsa claims so is shown through the actions of Birsa not by any prolonged or even short conversation between​ any of the characters. The other thing I realised while reading this book is that the nature of struggle of Birsa was not against the Britishers or the high class, but it was against the system which fails to make it's on people empowered and fails to give what is rightfully theirs.

Though the book was a good one the translation was very very bad. It has happened to me most of the times that the book which I want to read is in some other language and the only translation available is in Hindi, when I pick up the book the book turns out to be good but the translation disappoints a lot. The translation was essenceless and it seemed like many of the parts were directly translated without bothering about their impact on the novel. For instance when there was a big turmoil was going on in Birsa's mind and he claims to be a God is one of the most impactful incedences of the novel, when I read it I found that how pivotal and grand it would have been in the original language but here the translator fails to create the same impact of the original. The other issue was the language, sometimes the characters speak in a good Hindi and all of a sudden they start to speak in a different kind of language, this on and off goes throughout the book. Translation fails to match the greatness of the original novel.

3.5 Stars.
Profile Image for Kinshuk Majumder.
205 reviews8 followers
November 25, 2024
"অরণ্যের অধিকার" - মহাশ্বেতা দেবী
করুণা প্রকাশনী

মহাশ্বেতা দেবীর সাহিত্য একাডেমি প্রাপ্ত উপন্যাস 'অরণ্যের অধিকার' উপন্যাসে উঠে এসেছে মুন্ডা সম্প্রদায়ের বিরসা কিভাবে হয়ে উঠেছিল সমগ্র মুন্ডা সমাজের ভগবান বা 'ধরতি-আবা'। বিরসা মুন্ডার নেতৃত্বে, ব্রিটিশ সরকার ও জমিদারী প্রথার বিরুদ্ধে মুন্ডা সম্প্রদায়ের যে সংগঠিত বিদ্রোহ উনিশ শতকে সংঘটিত হয়েছিল তা বর্ণিত হয়েছে এই উপন্যাসে।

সুগনা আর করমি মুন্ডার মধ্যম পুত্র বিরসা।বৃহস্পতিবার জন্ম তাই তার নাম হয় 'বিরসা'। কেন মুন্ডাদের 'ঘাটো' খেতে লবন জোটে না এবং মুন্ডারা ভাত না পেয়ে 'ঘাটো' খায়, এই প্রশ্ন তাড়া করে বেড়ায় বিরসাকে। যে অরণ্য মুন্ডাদের একাধারে মাতৃকা ও জীবিকা, সেই অরণ্যের অধিকার হারিয়ে তারা নিজভূমে পরবাসী। জমিদার ও সরকারের অত্যাচারে মুন্ডারা হারিয়ে ফেলে তাদের বেঁচে থাকার অধিকার আর, এখান থেকেই শুরু হয় বিরসার 'উলগুলান'।

বিরসা মুন্ডা মানে কিন্তু শুধুই অধিকারের লড়াই নয়। বিরসা মুন্ডা একটা নেতৃত্ব, একটা স্বপ্ন, একটা বিদ্রোহ যা মুন্ডাদের নিজ অধিকারে বেঁচে থাকার কথা বলে।এই কঠিন পৃথিবীতে আদিবাসীর অধিকার রক্ষার ঐকান্তিক বিদ্রোহের নাম বিরসা মুন্ডা। বিরসা, মুণ্ডাদের মুক্তি দিতে চেয়েছেন বিভিন্ন ধর্মীয় কুসংস্কার এবং দেশীয় ও ব্রিটিশ শাসনের হাত থেকে। মিশনারি থেকে পাওয়া বিজ্ঞান বিষয়ক জ্ঞান বিরসাকে অনেককিছু বুঝতে শিখিয়েছিল। অরণ্যকে সে মা জ্ঞান করে এক নতুন সংগ্রাম শুরু করে। তার কাছে দীক্ষা নিয়ে মুণ্ডারা হয়েছিল ‘বিরসাইত’। ফলায় মাখানো কুচিলা বিষযুক্ত তীর, টাঙি, বর্শা হাতে নিয়ে মুণ্ডারা বিদ্রোহ করে বসে ব্রিটিশরাজ ও দিকুদের বিরুদ্ধে। বিদ্রোহ দমনে ব্রিটিশরা ‘অপারেশন সেলরাকাব’ চালায় মুণ্ডাদের ওপর। শোষকের বন্দুকের গুলির মুখে দাঁড়িয়েও মুণ্ডারা সাহস হারায়নি। মুণ্ডাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। গ্রেপ্তার এড়াতে বিরসা পালিয়ে বেড়ায় অরণ্যে। কিন্তু ৩ ফেব্রুয়ারি সে ধরা পড়ে। ৫০০ টাকার লোভে তারই স্বজাতির লোভী কয়েকজন ধরিয়ে দেয় বিরসাকে। জেলে আনা হয় ৪৮২ জন মুণ্ডাকে, শাস্তি হয় ৯৮ জনের। জেলে মারা যায় বিরসা বাদে আরও ১৪ জন।

উপন্যাসটির কাহিনি শুরু হয়েছে বিরসা মুণ্ডার মৃত্যু বর্ণনার মধ্য দিয়ে। কিন্তু বিরসা মৃত্যুর মধ্য দিয়ে গোটা মুণ্ডা উপজাতিকে যেভাবে জাগিয়ে গিয়েছেন তাতে করে মুণ্ডারা শিখে গিয়েছিল তাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। মুণ্ডারা এদেশের মাটির সন্তান। কিন্তু মাটির অধিকার তাঁরা পায়নি। তাঁদেরকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে সভ্যতার একেবারে প্রান্তে, যেখানে বনভূমি ছাড়া আর কিছুই নেই। তারপর মুণ্ডারা যখন এই বনভূমিকে বসবাসের ও চাষের উপযোগী করে তুলছিল ঠিক তখনই তাঁদের অধিকার হারাতে হয়েছে।

কিন্তু বিরসারা কি সত্যিই হেরে যায়? কিংবা হারিয়ে যায়? এই প্রশ্নের উত্তর দেবে মহাশ্বেতা দেবীর লেখা এই কালজয়ী উপন্যাস।
2 reviews
September 14, 2023
মহাশ্বেতা দেবীর সাথে আমার পরিচয় 'হাজার চুরাশির মা' উপন্যাস দিয়ে। এরপর আর তাঁর লেখা পড়া হয় নি। অনেক দিন পর ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি থেকে 'অরণ্যের অধিকার' উপন্যাসটা প্রায় মাসখানেক আগে নিই। একটু পড়ি, একটু পড়া বন্ধ রাখি এভাবেই চলছিল। বইটার শুরুতে বেশ ধাক্কা খেয়েছিলাম। বিরসা মারা যায় ৯ই জুন, ১৯০০। এই উপন্যাস শুরু হয় এই দিন সকালে। বৃহস্পতিবার জন্মেছিল বিরসা। উপন্যাসে যে বিরসা ভগবান হয়ে উঠেছিল, যাকে সময় গড়েছিল তাকে নিয়ে তার মা কর্‌মির যে আক্ষেপ, "বিরসা কেন সাধারণ মুণ্ডা হলো না?" সেই আক্ষেপে আমার মনে পড়ে যায় মহীনের ঘোড়াগুলির 'চৈত্রের কাফন' গানটা। এই বইয়ের শেষে দেখা যায় কর্‌মি বিরসার ফিরে আসার অপেক্ষায় পাথর হওয়ার জন্য প্রতীক্ষা করে আছে। অনন্যসাধারণ বিরসাকে তার মা খুঁজে পায় নদী গাছ পাহাড় মাটিতে। আর আমি খুঁজে পাই একটা নাম না-জানা অনুভূতিতে।
ছোট নাগপুরে মুন্ডাদের ওপর যে অত্যাচার হয়, তারই প্রেক্ষিতে মুন্ডাদের বিদ্রোহ এবং সেই বিদ্রোহের নায়ক বিরসাকে নিয়ে লেখা এই উপন্যাস। বিদেশী শাসক এবং দেশী শোষকরা জোঁকের মতো চুষে নিচ্ছিল তাদের রক্ত। এই প্রাচীন মানুষগুলোর স্বপ্ন কেবল ঘাটোর সাথে যথেষ্ট পরিমাণ লবণ এবং এক থালা ভাত। যে মাটি তাদের, যে অরণ্য তাদের সেখানেই তারা হয়েছিল নিপীড়িত। বেঁচে থাকার তাগিদে নিজেদের দেবতা ছেড়ে তারা ভক্ত হয়ে ওঠে যীশুর। তবুও তো তারা মানুষের সম্মান পায় না, মুন্ডা মানেই তাকে 'তুই' করে বলা যায়। নিজেদের সমস্ত যায় মহাজন, জোতদারদের জোচ্চুরিতে। বয়স্ক ধানী মুন্ডা সকলকে বলে ভগবান আসবে এবং বিরসাই যে ভগবান সে ব্যাপারে নিশ্চিত হয় আর সকলের আগে। বিরসাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় 'উলগগুলান', যার বাংলা করলে দাঁড়ায় 'প্রবল আলোড়ন'। সে আলোড়ন এতই প্রবল ছিল বিরসার মৃত্যুর পূর্বে তার ডেথ সারটিফিকেট লেখা হয়ে যায়। শত শত মুন্ডা জেলে পচতে থাকে কারণহীনভাবে। বিচারের নামে চলে প্রহসন। সভ্য জাতির এ হেন নাটকে 'ব্যাসিক হিউম্যান রাইট' চাওয়া ছিল অন্যায়। বিরসা এবং অনেক বিরসাইত মরে যায়, অনেকে শাস্তি পায়, তবুও প্রশ্ন থাকে 'উলগুলান কি থেমে যায়?' যেসব নিপীড়িত মানুষের কাছে জীবনের চেয়ে মৃত্যু বড় তাদের 'উলগুলান' অনন্তের দান, টিকে থাকে অনন্তকাল। এই বই নিয়ে পাঠ-প্রতিক্রিয়া লিখতে গিয়ে আমার মন খারাপ আরও তীব্রতর হচ্ছে, তাই আপাতত এইটুকুই থাক।
Profile Image for Umma Jannat.
43 reviews14 followers
December 13, 2020
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের নিপীড়নের কথা কারও অজানা নয়।দূর্গম,প্রান্তিক জায়গায় তাদের বসবাস।অরণ্য তাদের অন্যতম আবাসভূমি।ভারত উপমহাদেশে আদিবাসী নিপীড়নের অনেক বিদ্রোহ হয়েছে।সাঁওতাল বিদ্রোহ,কোল বিদ্রোহ,হুল,মুলকি লড়াই এদের মধ্যে বহুল সমালোচিত।
অরণ্যের অধিকার বইতে মূলত "মুন্ডা" সম্প্রদায়ের করুণ কাহিনী ব্যক্ত হয়েছে।ভারতের রাঁচি,খুনটি,সিংভূম এলাকায় তাদের বাস ছিলো।তাদের প্রধান খাদ্য ছিলো ঘাটো নামের বস্তু যা চীনা ঘাসের দানা দিয়ে তৈরি হতো।তাছাড়া জঙ্গলের পশুপাখি,কন্দ,ফলমূল ইত্যাদি তাদের খাবার ও অন্যান্য চাহিদা পূরনে যথেষ্ট ছিলো।অরণ্যবেষ্টিত অঞ্চলে তারা নিজেদের পূর্বপুরুষের জীবনধারা অনুসরণ করে যাচ্ছিল।
কিন্তু ব্রিটিশ শাসনামলের পর থেকে সেখানে মিশনারি,চার্চ ও ভারতীয় জনগণ দ্বারা উচ্ছেদকরণ চলছিলো।আইনের মারপ্যাঁচে তাদের কাছ কেড়ে নেয়া হচ্ছিলো অরণ্য,তাদের আবাসভূমি।সেবকপাট্টা নামক দলিলে অশিক্ষিত জনগোষ্ঠীদের টিপছাপ নিয়ে তাদের আজন্ম দাস বানানো হচ্ছিলো।ঘাটোর সাথে লবণ খাওয়াও একধরণের স্বপ্ন হয়ে গিয়েছিলো।ক্যাথলিক,প্রোটেস্ট্যান্ট মিশনিরাতে ধর্মান্তরিত হতো খাদ্যের অভাবে।
তাদের কষ্টের অবসান হতে চলেছিলো "বিরসা মুন্ডা" নামক কিশোরের হাত ধরে।মুন্ডা জাতি তাকে অবতার/ভগবান হিসেবে মেনে নিয়েছিলো।বিরসা ডাক দিয়েছিলো "উলগুলান" বিদ্রোহের।কিন্তু অশিক্ষিত,সুবিধাবঞ্চিত আদিবাসীর পাশে দাঁড়ানোর কেউ ছিলো না,ব্যারিস্টার জেকব শুধু প্রাণপণ লড়েছিলো সর্দার ও মুণ্ডাদের জন্য।আঠারো শতকের আলোচিত এই বিদ্রোহে বিভ্রান্ত হয়ে নড়ে চড়ে বসেছিলো খোদ ব্রিটিশ প্রশাসনও।
মহাশ্বেতা দেবী আদিবাসী অধিকার ও বিদ্রোহ নিয়ে কাজ করেছেন,অরণ্য নীতি নিয়ে,আদিবাসী উচ্ছেদ নিয়েও লড়েছেন।ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বেশকিছু বইও লিখেছেন,অরণ্যের অধিকার তার বহুল আলোচিত এবং তথ্যসমৃদ্ধ একটি বই।দূর্বলের প্রতি সবলের অত্যাচারের আরেকটি মর্মাহত ইতিহাস।

Profile Image for Nishabdo Prohar.
4 reviews
April 12, 2021
অরণ্যের অধিকার - মহাশ্বেতা দেবী, করুণা প্রকাশনী, ১২০ রূপি।
লেখিকা মহাশ্বেতা দেবী লেখক কুমার সুরেশের Dust Storm and Hanging Mist বইয়ের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে এই উপন্যাসটি লেখেন। কুমার সুরেশ সিং এর বইটি পরে অক্সফোর্ড পাবলিকেশন্স হতে Birsa Munda and His Movement নামে প্রকাশিত হয়। লেখিকা ‘অরণ্যের অধিকার’ উপন্যাসের জন্য ১৯৭৯ সালে সাহিত্য একাদেমী এওয়ার্ড লাভ করেন। এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিরসা মুন্ডা। উপন্যাসে বিরসা মুন্ডার বেড়ে উঠা, মুন্ডা সংস্কৃতি, মুন্ডাদের জীবন যাপন, বিরসার নেতা হয়ে উঠা এবং ক্রমে মুন্ডাদের ‘ঈশ্বর’ হয়ে ওঠা ও মুন্ডাদের বিদ্রোহে তাঁর নের্তৃত্ব প্রদান সুনিপুনভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বিরসা মুন্ডা একটি ঐতিহাসিক চরিত্র। বিরসা মুন্ডার জন্ম ১৫ নভেম্বর, ১৮৭৫ ভারতের ঝাড়খান্ড রাজ্যের খুন্তি জেলায় (তৎকালীন উলিহাতি, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি)। তিনি বৃহষ্পতিবারে জন্মগ্রহন করেন তাই তাঁর নামকরণ করা হয় বিরসা। বিরসা মুন্ডা আদিবাসী মুন্ডাদের জমির অধিকার নিয়ে যে আন্দোলন করেন তার নাম ‘উলগুলান’ বা বিদ্রোহ যা ঝাড়খন্ডের খুন্তি, তামার, বাসিয়া, রাঁচি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর বিদ্রোহ ছিল তৎকালী ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে। ১৮৯৫ সাল হতে এই আন্দোলন শুরু হয়। ১৮৯৯ সালে ব্রিটিশ শাসক বিরসাকে আটক করে। অতঃপর বিরসা মুন্ডা ৯ জুন, ১৯০০ সালে রাঁচি জেলে মারা যায়। বিরসা মুন্ডার আন্দোলন ‘উলগুলান’ সারা ভারতে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে এক বিস্ময়কর প্রতিক্রিয় সৃষ্টি করে। বিরসা মুন্ডাই একমাত্র আদিবাসী যার ছবি ভারতীয় পার্লামেন্ট মিউজিয়ামে শোভা পায়। বিরসা মুন্ডার নামে ঝাড়খন্ডে এয়ারপোর্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্টেডিয়াম, কারাগার ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়। বিরসা মুন্ডাকে নিয়ে ২০০৪ সালে ‘উলগুলান এক ক্রান্তি’ এবং ২০০৮ সালে ‘গান্ধী সে পেহেলে গান্ধী’ হিন্দি সিনেমা তৈরি হয়।
Profile Image for Animesh Mitra.
349 reviews18 followers
February 17, 2019
A historical novel regarding the great Munda rebellion of 19th century against the British colonial power of India. Mundas were indigenous and tribal people who live in the jungle of several states of India and they are the original owner of the jungle, residing and hunting there for thousands of years. But when the British imperialist and colonialist looters started to deprive them from their rightful ownership of jungle; such as prevented them from hunting, requisitioned and expropriated their land, try to convert them into Christianity forcefully then under the leadership of an educated and charismatic tribal youth Birsa Munda they started the rebellion in 1890's. The rebellion was brutally crushed by the British colonial administration, Birsa Munda was arrested, tortured and died in police custody. Wrong postmortem report was submitted by the British doctor that Birsa Munda died a natural death because of Cholera which is a lie. Actual truth is he died because of torture and police brutality, even there is a possibility of planned murder through poison. Today Birsa Munda is regarded as a great independence hero of India. This novel is a fascinating read and from the perspective of ideology you can call it a Maoist novel or naxalite novel. Must read, if you are interested in the history of the tribal and indigenous people of India (or if you are interested in Marxism-Maoism-Naxalism).
Profile Image for শৌণক.
112 reviews17 followers
October 30, 2020
বুড়ো মানকি চাবুক খেতে খেতে বলল, "জঙ্গল তারে লুকায়ে রেখেছে, তোরা জঙ্গল হতে বড়?"


উলগুলান!!
"উলগুলানের শেষ নাই। ভগবানের মরণ নাই।"

১৮ শতকের শেষদিকে রাঁচি, সিংভূম, পালামৌ এর ওদিকটায় ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে মুন্ডা গোষ্ঠীর চলে আসা ক্ষোভ নতুন রূপ পায়। ভগবান। মহাশ্বেতা দেবীর পড়া ২য় বই আমার। এখানেই বীরসা মুন্ডা ভগবান হয়ে ওঠে, গল্প হয়ে ওঠে সালী, করমি, ধানী মুন্ডা, সুনারার কথকতা। ব্রিটিশ রাজ, দিকু(বাঙালি/ভারতীয়) আর জমিদারদের নিষ্ঠুর লোভের বলি হওয়া মুন্ডাদের জীবনের ছবি আর কেউ সম্ভবত এভাবে দেখাতে পারতনা।

বোলোপে বোলোপে হেগা
মিসি হোন কো
হোইয়ো ডুডুগর হিজু তানা
বোলোপে..
5 reviews
February 24, 2022
স্বভূমিতে স্বাধীকার রক্ষার আন্দোলনের ইতিহাস। অসাধারণ এক সৃষ্টি মহাশ্বেতা দেবীর৷ এক সাধারণ মুণ্ডা কিশোরের 'ধরতি-আবা' হওয়ার গল্প, স্বপ্ন দেখানোর গল্প, অধিকার সম্পর্কে সচেতন করার গল্প, অধিকার রক্ষার গল্প, আগুন জ্বালানোর গল্প, উলগুলানের গল্প...
Profile Image for তিথি.
29 reviews18 followers
Read
October 3, 2023
বইটি অনেক যত্নে লেখা, বিরসার ব্যক্তিত্ব ও মুগ্ধ করার মতো।

তবে এই বই পড়ার সময়ে বিভিন্ন কারণে আমার মন ভালো ছিল না, মনের সাথে যুদ্ধ চলে না, এসময় যুদ্ধ সংগ্রামের বইও পড়তে ভালো লাগে না।

এই বইয়ের রেটিং আমি দেব না, cause it may be biased by my circumstances.
12 reviews3 followers
May 30, 2020
অসাধারণ একটি বই।এতিহাসিক মুন্ডা বিদ্রোহকে লেখিকা খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন
Profile Image for Golam.
3 reviews1 follower
April 21, 2023
“সাহেব সাহেব এক টুপি হ্যায়”
Displaying 1 - 21 of 21 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.