পর্তুগালের রাজার খুব প্রিয় একজন নৌসেনাপতি হলেন এস্তাভো দ্য গামা। রাজদরবারে ঘনঘন ডাক পড়ছে এস্তাভোর এক গুরুত্বপূর্ণ অভিযানের ব্যাপারে। অভিযানটি বেশ গোপনীয়। তবে গোপনীয় সে সমুদ্র অভিযান কোনো যুদ্ধের অভিযানের যাওয়ার জন্য নয়, মসলা ব্যাবসার সাথে জড়িয়ে আছে সেই অভিযান। ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিল না এস্তাভোর, হঠাৎ মারা গেলেন তিনি। এরপর গামা পরিবারে নেমে এল আরো দুর্ভাগ্য, বড় ছেলে পাওলো দ্য গামা খুনের দায়ে অভিযুক্ত হয়ে জেল খাটছে। বাকি রইল মেজো ছেলে ভাস্কো দ্য গামা। হঠাৎ একদিন রাজদরবারে ডাক পড়ল ভাস্কোর, গোপনীয় সে সমুদ্র অভিযানের জন্য তাকেই মনোনীত করেছেন স্বয়ং রাজা। অভাবনীয় প্রস্তাব, কিন্তু রয়েছে অগণিত বিপদও। পৃথিবীর কোনো নাবিক আগে যেখানে যেতে সমর্থ হয়নি, এবার তাঁকে সেখানে যেতে হবে। একেবারেই অজানা অচেনা দেশ পেরিয়ে, হাজার মাইল পাড়ি দিতে হবে। পিতা গত হওয়ার পর বড় ভাই খুনের দায়ে জেলে এমন অবস্থায় রাজার আদেশ অমান্য করার ফল হবে আরো ভয়াবহ। নির্দিষ্ট দিনে তিনটি জাহাজ নিয়ে রওনা হয়ে গেল ভাস্কো সত্যিকারের কাহিনির উপর ভিত্তি করে রচিত এই উপন্যাসটি আপনাদের নিয়ে যাবে আটলান্টিক এবং ভারত মহাসাগরের অতল বিক্ষুদ্ধ সাগরে।
টাইম ট্র্যাভেল করে পর্তুগিজ ভাস্কো দা গামার ভারত আবিষ্কার চোখের সামনে দেখতে চাইলে বইটি অবশ্য পঠিতব্য।
সময় সূচিকা থেকে শুরু করে চরিত্র চিত্রণ, ছবির পর ছবি ভেসে চলেছে যেন। চলছেন পাঠকও। শতাব্দী আর প্রযুক্তির বাধা ভুলে, গামা ভাই দের নৌবহরে পাঠক উঠে যাবেন অনায়াসে। ইচ্ছে করবে স্কার্ভির সামান্য পথ্য, লেবু, নাবিকদের চিৎকার করে জানিয়ে দিতে। দীর্ঘ ৯০ দিনের অনবরত নোনা জলের যাত্রায় পাঠকেরও অন্তর হয়ে পরবে তৃষ্ণার্ত। ছোট্ট একটা ডাঙা দেখতে পাবার আনন্দ কিংবা মুরিশদের দেশ আবিষ্কার, নিজেই যেন হয়ে যাবেন গামার বহরের এন্তন!