১৯৯২ সালের ৩১ অক্টোবর। গ্যালিলিওর মৃত্যুর ৩৫০ বছর পর চার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নিল যে, গ্যালিলিওর প্রতি সেসময় যে আচরণ করা হয়েছিল তা মোটেই ঠিক ছিল না।
কি সেই অপরাধ ছিল তাঁর যার জন্য তাঁকে অপরাধের বোঝা মাথায় নিয়ে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছিল? তিনি বলেছিলেন, পৃথিবীই ঘুরে সূর্য চারদিকে।
ফারাবী, রকমারি এবং অভিজিৎ রায়ের ত্রিমুখী দন্ধে পৃথিবী নয় সূর্য ঘোরে বইটা সবার সামনে চলে আসলো। বেশ কৌতূহল উদ্দীপক বই। অনেকদিন ধরে চিন্তা করছিলাম, রকমারি থেকেই অর্ডার করে পড়ে ফেলব। কিন্তু হচ্ছিল না। সৌভাগ্যবশত জি ই সি 'র ফুটপাথে বইটা পেয়ে গেলাম। আর আমাকে পায় কে!!
লেখক ধর্মগ্রন্থ এবং সেইসাথে বিজ্ঞানের সাহায্যে একেবারে প্রমাণ করে দিয়েছেন, প্রচলিত ধারণা ভূল। (হায় হায় এতকাল কি জানলাম, শ্রদ্ধেয় শিক্ষকরা কি শিখালো!)
তিনি মূলত তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে রেখেছেন।
সূর্য ঘোরে। পৃথিবী স্থির। সৌরজগতের কেন্দ্র পৃথিবী।
ধর্মগ্রন্থের ব্যাখ্যায় আমার কোন মাথাব্যাথা নেই। এতকাল বিজ্ঞান পড়েও আমি ছিলাম অজ্ঞ। কিন্তু উপমহাদেশের বিখ্যাত বিজ্ঞানী, জ্ঞানতাপস, জ্ঞানের আলোয় আলোকিত মহামতি মুহম্মাদ নুরুল ইসলাম আমার চক্ষু খুলিয়া দিয়াছেন, এতোদিনের অজ্ঞতা দূর করিয়াছেন।
তাঁর প্রমাণগুলো যদি আমি উল্লেখ না করি, তবে একরকম পাপই হয়ে যাবে। নিজের অর্জিত জ্ঞান বিতরণ করেও সুখ।
প্রমাণ ১ - সূর্য বায়বীয় পদার্থে গঠিত। অতএব এর ভর গণনার মধ্যেই আনা যায় না। তাহলে এটা কি করে ভারী পৃথিবীকে নিজের চারপাশে ঘুরাতে পারে। এটাতো নিউটনের মহাকাশ সূত্রের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
প্রমাণ ২ - পৃথিবী একটা বিশাল চুম্বক। কিন্তু সূর্য তা নয়। তাহলে কিভাবে একে অপরকে আকর্ষণ করতে পারে। অতএব সূর্য এই বিশাল চুম্বককে কিছুতেই নিজের চারপাশে ঘুরাতে পারে না।
প্রমাণ ৩ - পৃথিবী যদি স্থিরই না থাকতো তাহলে কিভাবে ধ্রুবতারা একই স্থানে দেখা যায়?
প্রমাণ ৪ - পৃথিবী স্থির না হলে পৃথিবীতে যেরূপ বায়ুপ্রবাহ দেখা যায় তা সম্ভব হতো না।
প্রমাণ ৫ - সরাসরি উদাহরণে চলে আসি। মনে করি, খুলনা থেকে একটি বিমান ১০/১৫ মেইল সোজা উপরে উঠে গেল। সেখানে এক ঘন্টা গতি নিয়ন্ত্রণ করে রাখলে এর মধ্যে পৃথিবী ১ হাজার মাইল পূর্ব দিকে চলে যাবে। এক ঘন্টা পর বিমানটি সোজাসুজি নামলে খুলনার উপর না পড়ে লাহোরের উপর পড়তো। কিন্তু দুর্ভাগ্য তা হয় না।
প্রমাণ ৬ - সমান ক্ষমতার দুটি বন্দুক হতে পূর্ব ও পশ্চিম দিকে গুলি নিক্ষেপ করলে দেখা যায় তারা উভয়দিকে সমান দূরত্ব অতিক্রম করে। কিন্তু পৃথিবী ঘুরলে (পশ্চিম থেকে পূর্ব) তো পশ্চিমে নিক্ষিপ্ত গুলিটি পূর্ব দিকে নিক্ষিপ্ত গুলি অপেক্ষা বেশি দূরত্ব অতিক্রম করত।
প্রমাণ ৭ - পৃথিবী যদি ঘুরতই তাহলে সমুদ্রের সব পানি মহাশূন্যে নিক্ষিপ্ত হতো।
প্রমাণ ৮ - কি করে চাঁদ ২২৮৫ মাইল গতিতে ৬৮৫০০ গতিবেগের পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে? এটা কি পাগলের প্রলাপ নয়?
লেখক আরো একটি প্রশ্ন (আসলে অনেক, কিন্তু জানতে হলে পড়তে হবে বই) বিজ্ঞানীদের দিকে ছুঁড়ে দিয়েছেন। দূরত্ব, আকার, ভারত্ব, আকর্ষণ শক্তির কারণে যদি পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরে তাহলে কেন, ইউরেনাস, নেপচুন সূর্য থেকে কোটি কোটি মাইল দূরে থাকা স্বত্বেও এবং তাদের নিকটে বৃহদাকার বৃহস্পতি গ্রহ থাকা সত্বে তার চারদিকে ঘুরে না?
এছাড়া লেখক, আহ্নিক, বার্ষিক গতি, ঋতু পরিবর্তন, স্যাটেলাইটের পৃথিবীর চারদিকে ঘূর্ণন, চাঁদের সৃষ্টি, গ্যালিলিওর প্রমাণের ফাঁক দেখিয়ে নিশ্চিত করেছেন, সূর্যই ঘোরে পৃথিবীর চারদিকে।
আমরা সাহিত্যে নোবেল পেয়েছি, পেয়েছি শান্তিতে। কিন্তু পায়নি বিজ্ঞানে। এই জ্ঞানী লেখক যদি তাঁর প্রমাণসমূহ কোন জার্নালে/পেপারে পাবলিশ করতেন তাহলে নিশ্চয়ই সারা পৃথিবীতে আলোড়ন সৃষ্টি হত এবং নোবেল কমিটি বাধ্য হতো তাঁকে নোবেল দিতে।
যাই হোক, আগে আমি লাইনের বাইরে ছিলাম। এই সুমহান লেখকের তারচেয়ে মহান বইটি পড়ে এখন আমি লাইনে চলে আসলাম।
১) কোরআনের বিভিন্ন আয়াতের উদাহরণ দিয়ে লেখক প্রথমে প্রমাণ করে দিলেন পৃথিবী স্থির। যারা এসব বিশ্বাস করবে না তাদের জন্য অবশ্যই কঠোর শাস্তি অপেক্ষা করছে। ২) তারপর বাইবেল, জেন্দাবেস্তা এবং বেদ থেকেও প্রচুর কোটেশন দিয়ে দেখালেন পৃথিবী আসলেই স্থির। এ থেকে প্রমাণ হয় নাস্তেক ছাড়া সবাই জানে পৃথিবী স্থির। ৩) যেখানে কিনা জোরে বাস চললেই তাতে বসে থাকা মুশকিল, সেখানে ঘণ্টায় হাজার মাইল বেগে ঘূর্ণায়মান পৃথিবীতে মানুষ বসবাস করছে সেটা চিন্তা করাটা হাস্যকর! ৪) বিখ্যাত বিজ্ঞানী আইনস্টাইন পর্যন্ত বলেছেন "পৃথিবী ঘুরে এর কোন বাস্তব প্রমাণ নাই!" কেবলমাত্র নাস্তিক বিজ্ঞানী গ্যালিলিও দাবী করেছেন পৃথিবী ঘুরে। ৫) পৃথিবী একটি কঠিন পদার্থ, যার অনেক ওজন। সূর্য একটি অগ্নি গোলক, আমরা সবাই জানি আগুনের কোন ওজন নাই। ওজনহীন একটা জিনিষ ভারি জিনিষকে ঘোরাবে এটা হাস্যকর। ৬) নাস্তিক ভাইদের প্রতি অনুরোধ, বিমান থেকে দুরবিন দিয়ে পৃথিবীর দিকে তাকাতে। আপনারা হতাশ হয়ে দেখবেন পৃথিবী থেমে আছে। ৭) এতোসব প্রমাণের পরও যারা বিশ্বাস করে পৃথিবী ঘুরে তারা ধর্ম বিরোধী, বিজ্ঞান বিরোধী, এবং বিবেকজ্ঞান বিরোধী।
বাহ্ বাহ্ চমৎকার, লেখক প্রমান করে দিয়েছেন গ্যালিলিও ভুল। গ্যালিলিওর প্রশংসা মিলটন করবে কারন তার তো প্যারাডাইস লস্ট হয়ে গেছে। কিন্তু যারা প্যারাডাইসে যাবে তাদের জন্য অবশ্য পাঠ্য