আপনার কখনো মনে হয়েছে, অনেক বড় একটা গল্পের ক্ষুদ্র চরিত্র আপনি? এই যে আপনি নিস্তেজ এক যুবক—কী এক রোগে ভুগছেন কেউ বলতে পারছে না, ছোটখাটো বেসরকারি চাকরির ঘানি টানছেন, একঘেয়ে জীবন। এই আপনিই কিছু বোঝার আগেই জড়িয়ে পড়লেন এক গোপন সংঘের সাথে-যেখানে ড্যাশিং এক যুবক শোনাচ্ছে অদ্ভুত ছায়াজগতের গল্প। চুম্বকের মতো আকর্ষণীয় এক সুন্দরী দেখিয়ে দিচ্ছে, কীভাবে আপনাকে দিনে-রাতে অনুসরণ করছে রহস্যময় কিছু লোক, যাদের অস্তিত্ব আপনি টেরও পাননি। খ্যাপাটে সাইকায়াট্রিস্ট বলছে, অসুখের উৎস খুঁজতে গেলে বদলে যাবে আপনার পুরো দুনিয়াই। উদ্ভট কন্সপিরেসি থিওরিস্ট হয়ে যাচ্ছে আপনার প্রাণের বন্ধু, কাঁধে হাত রেখে বোঝাচ্ছে, আপনি যা দেখছেন তার কিছুই সত্য নয়। ঠিক তখুনি আপনি বুঝতে পারলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এবার আপনার মতো নগণ্য পার্শ্বচরিত্রকে মুখোমুখি হতে হবে পৃথিবীর প্রধান চরিত্রের। এবং লড়তে হবে মরণপণ এক লড়াই। সর্বেসর্বা : নাবিল মুহতাসিমের বৃহত্তম উপন্যাস।
এই মেলায় যে বইগুলো নিয়ে সবথেকে বেশি রোমাঞ্চিত ছিলাম সেগুলোর মধ্যে সর্বেসর্বা অন্যতম। এবারও হতাশ করেননি প্রিয় লেখক নাবিল মুহতাসিম। বরঞ্চ পড়তে গিয়ে উপভোগই করেছি। প্লট নিয়ে বেশি আলাপে যাবো না। সেটা পাঠকরা পড়েই বুঝে নেবেন। কথা বলি লেখনশৈলী নিয়ে। লেখকের লেখার ধরণ বরাবরের মতোই আলাদা। তবে এবার আরেকটু ভিন্ন লাগলো ডিটেইলিংয়ের কারণে। ডিটেইলিং নিখুঁত হওয়ার জন্য মগজের ওপর বেশি চাপ দিতে হয়নি, মনে হচ্ছিল যেন চোখের সামনে সব ঘটছে। অনেকটা স্টিফেন কিংয়ের বইগুলোর মত। এই বইয়ের কাহিনীর স্তর বেশ কয়েকটা। কাহিনীর মধ্যে একবার ঢুকে গেলে ছেড়ে ওঠার উপায় নেই। একই সাথে সাইকোলজিক্যাল, স্পাই, একশন ও কিছুটা সায়েন্স ফ্যান্টাসির মিশ্রণ ঘটেছে গল্পে। রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য শেষপর্যন্ত দক্ষ হাতে অপেক্ষায় রেখেছেন লেখক। শেষে বেশ ভালো একটা টুইস্ট আছে। রহস্য-রোমাঞ্চ পাঠকরা বইটা পড়বেন, ভালো সময় কাটবে।
জামি নামের এক সাধারণ চাকুরি করা যুবকের সামনে হঠাৎ করেই ঘটে গেল একটা নৃশংস ঘটনা। কিন্তু সে অবাক হয়ে আবিষ্কার করল এই ঘটনা কোনো নিউজ মিডিয়ায় আসেনি। এদিকে সেদিনই তার সাথে পরিচয় হলো দিব্য নামের এক ছেলের সাথে। তার সাথে গিয়ে দেখা পেল এমন কিছু মানুষের যাদের উপর সরকার থেকে কড়া নজরদারি করা হচ্ছে৷ দ্রুতই বুঝে গেল নিজেও সেই নজরদারির আওতায় আছে। কিন্তু কেন আপাত সাধাসিধা জীবনযাপন করা এই মানুষগুলোকে বেছে নেয়া হলো নজরদারির জন্য?
মনে করুন আপনাকে একটা চমৎকার রাস্তার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়েছে। এবং বলা হয়েছে এই রাস্তা ধরেই আপনাকে হেঁটে যেতে হবে। চারপাশে সুন্দর বাহারি রঙের গাছপালা, দারুণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। আপনি হেঁটে চললেন। হাঁটতে হাঁটতে এক পর্যায়ে ক্লান্ত হয়ে গেলেন, হলেন তৃষ্ণার্ত ও ক্ষুধার্ত। কিন্তু আপনার পথ ফুরোচ্ছে না। তবুও এগিয়ে যাচ্ছেন পথের শেষে ভালো কিছু পাবার আশায়। কিন্তু না, শেষটায় গিয়ে আবিষ্কার করলেন খানাখন্দে পরিণত হওয়া সেই পথের শেষে আপনাকে বিস্বাদ এবং বাসি এক জাতীয় খাবার দেয়া হয়েছে। এত লম্বা পথের পর এখন বমি হবে জেনেও সেই খাবার আপনাকে গিলতেই হচ্ছে বাধ্য হয়ে।
মোটামুটি এটাই হলো সর্বেসর্বা বইয়ের সাথে আমার অভিজ্ঞতা। ভালো একটা প্লট, ভালো লিখনশৈলীর পাশাপাশি চমৎকারভাবে শুরু হওয়া গল্পের টানে একের পর এক পাতা উলটে গিয়েছি। কিন্তু প্রায় ১০০ পাতা পড়ার পর খটকা তৈরি হলো। কি রে ভাই!! কাহিনি দেখি আগাচ্ছে না। সেই একই ধরণের ঘটনাবলী। জামি নামের মানুষটার দৈনন্দিন রুটিন একটানা গিলিয়ে যাচ্ছেন লেখক। তার অদ্ভুত রোগ, সংঘের মিটিং, তাকে ফলো করা, প্রায় একই রকমের দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভাঙ্গা, দিব্যর সাথে হাঁটতে গিয়ে কথা হারিয়ে ফেলা বা রাস্তা বদলে যাওয়া; এগুলাই বারবার পড়তেছি আর পড়তেছি৷ মনে হচ্ছে যেন আমি একটা ল্যুপের মধ্যে আটকে গিয়েছি।
এর পাশাপাশি আছে দেশের রাজনৈতিক ঝামেলার কিছু অংশ। স্বৈরাচার এক শাসককে এনেছেন লেখক। কর্মপদ্ধতি দেখলে অনায়াসে শেখ হাসিনার কথা মাথায় চলে আসবে। তবে এক পর্যায়ে গিয়ে লেখক দেখিয়েছেন এসব কর্মকাণ্ড প্রধানমন্ত্রীর নয়, বরং তার আশেপাশের লোকদের। ওই হাসিনার আমলে আমরা যেমনটা শুনতাম আর কি! তাহাজ্জুদ পড়া বেচারি কিছুই জানে না, সে ফেরেশতা তূল্য!! অনেকটা ওইরকম।
তো এ সবকিছুর পাশাপাশি শুরু হলো মৌ নামের এক মেয়ের সাথে পিরিত। মেয়ের স্বামী থাকলেও তারা ওপেন রিলেশনশিপে আছে। মানে জামাই বউ যখন যার সাথে খুশি শুইতে যাইতে পারবে আর কি! তবে জামাইয়ের ব্যাপারে কিছু না দেখালেও, এখানে মৌ-কে দেখা যায় জামির সাথে শুতে যেতে। এই শোয়ার পিছনে যদিও একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন লেখক। তবে বাংলা ছবির মতো ফুলের টোকাটুকি দিয়ে এই শোয়ার দৃশ্য এড়িয়ে যাননি। বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন। আফসোস, এতটা ডিটেইলসে যদি বইয়ের শেষটা তিনি পাঠককে বুঝিয়ে দিতে পারতেন!!
শেষের দিকে এসে অবশ্য ঝিমুনি কাটিয়ে গল্পটা হালকা গতি পায়। এন্ডিং-এ একটা টুইস্ট আছে, টুইস্টের প্রশংসা করতে হয়। তবে এন্ডিং-এ কোনো ব্যাখ্যা নাই। তারা ব্রেইনওয়াশ আর মাইন্ড কন্ট্রোলের প্রোগ্রাম চালু করেছিল, শুধু এইটুকু বলা হইছে। প্রোগ্রামের খুঁটিনাটি তেমন ব্যাখ্যা করা হয় নাই৷ সায়েন্টিফিক ব্যাপার স্যাপার না হোক, এট লিস্ট কিছু পরীক্ষা নীরিক্ষার কথা এক্সপ্লেইন করলেও হতো। পেপার পড়িয়ে আর টিভি দেখিয়েই সাবজেক্টের মাইন্ড কন্ট্রোল করার ক্ষমতা নিয়ে নিয়েছে৷ কিন্তু এই পেপার আর টিভির মাঝে কি রহস্য ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছিল তা বলা হয় না।
আবার এইখানে এমন এক বিজ্ঞানী আছে যার মাঝে একাধারে মার্ভেলের এক্স-ম্যান সিরিজের প্রফেসর এক্স, ম্যাগনিটো, জগরনাট, নাইটক্রলার আর মিস্টিকের ক্ষমতা আছে!! সমস্যা হইলো এইসব ক্ষমতা সে ক্যাম্নে পাইলো তার কোনো ব্যাখ্যা এই বইয়ে নাই৷ যদিও শেষে গিয়ে বলা হয়েছে এগুলা সম্ভবত সব জামির মাথার মধ্যে ঘটেছে। তবে বইয়ের আরো কিছু অংশ কিংবা শেষ একশন দৃশ্যটা এই ব্যাখ্যার সাথে সাংঘর্ষিক। শেষের একশন দৃশ্যটা এত্ত ফালতু যে বলার মতো না। সুপারহিরোদের মতো এখান থেকে ওখানে উড়ে চলে যাচ্ছে, হাড্ডি গুড্ডি ভাইঙ্গা যাইতেছে। অথচ তবুও আবার উঠে মারামারি করতেছে!! মানে গাঁজাখুরিরও একটা লিমিট আছে তো ভাই!
ব্যক্তিগত রেটিং: ০১/১০ (কিছু বই হয় দূর্দান্ত, আর কিছু বই হয় বাজে। এইটা দূর্দান্ত রকমের বাজে বই। মানে এই রকম বাজে বই কোনো নতুন লেখকের পক্ষেও লেখা সম্ভব না। একশ থেকে দেড়শ পেইজের গল্পকে টেনে ৩২০ পেইজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে বইয়ের একটা বাক্য আমার বেশ পছন্দ হয়েছে, আমরা সবাই নিজ নিজ গল্পের নায়ক। লেখকও সম্ভবত সেরকমটাই ভাবেন। তাই এহেন 'সাহিত্যকর্ম' লিখেও তিনি অন্যকে বেজন্মা বলার মতো মানসিক শক্তি খুঁজে পান)
আমাদের প্রজন্মের খুব পরিচিত একটা ধারণা - ক্ষমতার অপব্যবহার করে কিছু রাষ্ট্রনায়ক কিভাবে তার নাগরিকদের ব্রেইনওয়াস - আইওয়াস করে, এই বিষয়টাকে একটু মডিফাই করে এই উপন্যাসের প্লট নির্মাণ করেছেন লেখক। এবং তিনশোর বেশি পৃষ্ঠার বইতে মোটামুটি শেষ পঞ্চাশ পাতার আগ পর্যন্ত "পরে কি হবে?" প্রশ্নটা ধরে রাখতে পেরেছেন পাঠকের মনে।
ফার্স্ট পার্সন ন্যারেটিভে বিবৃত কাহিনীতে বক্তা একটা সংঘের সদস্য হয়, যেখানে সবাই রাষ্ট্রীয় নজরদারির শিকার। এরপর ঘটনাক্রমে সংঘের দুইজনের অপমৃত্যু হলে বেঁচে থাকার তাগিদে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেয় সরকারপ্রধানের পতন ঘটানোর। এই রাষ্ট্রীয় নজরদারির ফলে অস্তিত্বের সংকট তৈরি হয় সংঘের সদস্যদের। আস্তে আস্তে তারা জানতে পারে, সরকার প্রধান কিভাবে অমানবিক প্রজেক্টের মাধ্যমে মানুষের চেতনাকে নিয়ন্ত্রণ করার পরীক্ষা করে। আর এরই ধারাবাহিকতায় গল্পের কথক আবিষ্কার করে আত্মপরিচয়।
৪ দিতাম, কিন্তু কেনো যেনো অর্ধেকের পর সন্দেহ করেছিলাম কাহিনী কেমন হতে চলেছে, এবং ধারণার কাছাকাছি গিয়েছে। তবে বর্ণনাশৈলী আর কাহিনীনির্মাণে নাবিল মুহতাসিমের সহজাত মুন্সিয়ানার পরিচয় পাওয়া যাবে।
(লেখক ��ল্পের শেষে উল্লেখ করেছেন, এই ঘটনার চিন্তা তার তিন বছরের পুরোনো এবং বাস্তব কোনো ঘটনার সাথে এর কোনো সামঞ্জস্য সম্পূর্ণ কাকতালীয়)
২৮ বছর বয়সি এক সাধারণ যুবক। নাম তাঁর জামি। নিতান্ত একঘেয়ে এক বেসরকারি চাকরি এবং শরীরে বিভিন্ন রোগ-শোক বহন করে চলা এই ব্যক্তি কোন উপন্যাসের পার্শ্বচরিত্রের বেশি কিছু কি হতে পারে?
জামির জীবন পাল্টে যায় ঘটনাচক্রে এক নারকীয় ঘটনার চাক্ষুষ সাক্ষী হয়ে যাওয়ার পর। তাঁর বোরিং জীবনে হাজির হতে থাকে ড্যাশিং সব চরিত্র। পলায়নপর মনোবৃত্তির এ যুবকের সাথে দেখা হয় দিব্যর মতো রাফ এন্ড টাফ এক ইন্ট্যারেস্টিং ক্যারেক্টারের সাথে। রীতিমতো বাধ্য হয় জামি সংঘে যোগদান করতে।
সংঘ। অদ্ভুত এই কাল্টে আছে ষড়যন্ত্র-তাত্ত্বিক, আছে ট্যাক বিশেষজ্ঞ, আছে মোহনীয় এক গথ সুন্দরী, আরো আছেন বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় সমালোচক একজন ভাইরাল বুদ্ধিজীবী। স্বৈরাচারি প্রধানমন্ত্রি গাজি সোবহানুল হকের গুপ্তচরেরা পিছে লেগেছেন এদের সবার। বর্তমান বিশ্বে নিজের প্রাইভেসি যেখানে অন্তর্জালের কারণে রক্ষা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে, সোবহানুলের ক্ষ্যাপা বিজ্ঞানীদের কল্যানে সেখানে এসব চরিত্র গ্যাংস্টকিং এর শিকার হয়ে পরেছেন।
সরকারের সর্বদিক থেকে আসা সাড়াশি সার্ভেইলেন্সের অক্টোপাশসদৃশ হাত থেকে রক্ষা পেতে সংঘের সামনে বিপ্লব করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। তবে এ বিপ্লব সফল করতে এতগুলি পার্শ্বচরিত্রের মুখোমুখি হতে হবে উপন্যাসের প্রধান চরিত্রের সাথে। তিনিই সর্বেসর্বা।
নাবিল মুহতাসিমের থ্রিলার আমার বরাবরের মতোই খুব পছন্দের। এক ধরণের অ্যাসেন্ডিং টোনকে সাথে নিয়ে, গতিশীল গল্পকথনে পাঠককে যেভাবে লেখক তাঁর উপন্যাসে গ্রিপ করে রাখতে পারেন তা প্রশংসার দাবী রাখে।
এ পর্যন্ত লেখকের সব থ্রিলারেই ঘটনা দেশ থেকে গড়িয়ে বিদেশের ক্যানভাসে বিকশিত হয়েছে বেশি। এই প্রথম নাবিলের কোন উপন্যাস ( যা এখন পর্যন্ত তাঁর লিখা কলেবরে বৃহত্তম ) পুরোটাই ঢাকার পটভূমিতে এগিয়েছে। নভেলজুড়ে নাবিল যেভাবে থ্রিল জমাট করেছেন, প্রতিটি চরিত্রকে যেরূপ রহস্যময় করে গড়ে তুলে একদম শেষের দিকে পাঠককে পৌছে যেতে একরকম বাধ্য করেছেন তা ভালো লেগেছে।
জামির উত্তম পুরুষ ন্যারেটিভে লেখক যে পরিমাণ বিভ্রান্তির উপাদান উপন্যাসজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দিয়েছেন তাতে পাঠকের ইচ্ছে করবে অতি দ্রুত দৃষ্টিকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়ার এলিমেন্টগুলির একটা ক্লিয়ার-কাট শেষ দেখতে।
অবশ্য প্রচুর থ্রিলার পড়া পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু হিন্টস লেখকের দিক থেকে দেয়া হয়েছে 'সর্বেসর্বা'য়। তবে শুধুমাত্র প্রতিভাবান লেখক নাবিল মুহতাসিমের স্টোরিটেলিং উপভোগ করার জন্যও উপন্যাসটি পড়া যায়। আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করা যায় কিছু পার্শ্বচরিত্রের সাথে সর্বেসর্বার শেষ যুদ্ধের দামামা ধ্বনি শুনার।
বই রিভিউ
নাম : সর্বেসর্বা লেখক : নাবিল মুহতাসিম প্রথম প্রকাশ : অমর একুশে বইমেলা ২০২৫ প্রকাশক : চিরকুট প্রকাশনী প্রচ্ছদ : আরাফাত করিম জনরা : থ্রিলার রিভিউয়ার : ওয়াসিম হাসান মাহমুদ।
বেশ অনেকগুলো নেগেটিভ রিভিউ দেখেই পড়ার জন্য হাতে তুলে নিয়েছিলাম ‘সর্বেসর্বা’বইটি। রিভিউ দেখে মনে করেছিলাম যে আসলেই লস প্রজেক্ট হলো নাকি বইটা নেওয়া। কিন্তু বইটা পড়ার সময় বেশ উপভোগই করেছি।
শুরু দিকে বইটা বেশ ভালো লাগছিল মাঝে মনে হচ্ছিল যেন লেখক খাপছাড়া কিছু ঘটনা লিখে গেছেন কিন্তু বইয়ের দেড়শ পৃষ্ঠার পর থেকে লেখক সব কিছু জোড়া দিয়েছেন। তখন খাপছাড়া জিনিসগুলোও পরিষ্কার হলো। কন্সপিরেসি থ্রিলার হিসেবে বেশ ভালোই লেগেছে গল্পের প্লট প্লাস এক্সিকিউশন। কিছু ঘটনার ক্ষেত্রে ব্যাখ্যা পেলে আরও ভালো হতো।
আমি আসলে নিজের বইটা পড়ে কেমন লেগেছে তাই লেখার চেষ্টা করেছি অল্পকথায়। সবার যে আমার সাথে একমত হতে হবে এমনও না। কিন্তু মনে হলো বইটার রিভিউ দেখে অল্প হলেও কিছু বলা উচিত।
যারা বইটা সংগ্রহ করেছেন পড়ে দেখতে পারেন। বইয়ের পজেটিভ,নেগেটিভ রিভিউও পড়বেন সাথে বইও।
প্লট টা আকর্ষনিয় ছিল।কিন্ত এক্সিকিউশন টা ছিল পুওর।গল্পের মধ্যে থ্রিলার এলিমেন্ট যদি আরেকটু বেশি থাকত বা সাসপেন্স টা যদি লেখক পুরো গল্প জুড়ে বজায় রাখত অথবা এত বৃহৎ কলেবরের না হয়ে আরেকটু ছোট কলেবরের হতো তাহলে ৫ তারা না হলেও চার তারা দেওয়ার মতো বই হতো।বইটি মাঝে অতিরিক্ত স্লো হয়ে গেছিল এর ফলে খেই হারিয়ে ফেলেছিলাম। তবে একটা কথাই বলতে হত লেখক নাবিলের বইতে জায়গায় জায়গায় "ইস্টার এফ" ব্যবহার করা টা সত্যি মজাদার ছিল।
কাহিনীর বিনির্মাণ এবং স্টোরিটেলিংয়ের মুন্সিয়ানার জন্য প্রতি বইমেলায় অন্তত একজন লেখকের বইয়ের অপেক্ষায় থাকি- নাবিল মুহতাসিম।
লেখকের প্লট কিংবা অ্যাকশন সিনগুলো নিয়ে পাঠকের মতভেদ দেখা যায়৷ তবে একবাক্যে সবাই মেনে নেন যে- লেখক সামনে বসে গল্প শোনাচ্ছেন- বইগুলো পড়ে এরকম একটা ফিলিং হয়।
খুবই পরিচিত একটা কন্সপিরেসি থিওরি বইটার প্লট। কিছু ইন্টারেস্টিং চরিত্র, সাথে লেখকের বাজিকর ইউনিভার্স থেকে নিয়ে আসা কিছু ঘটনা; সবমিলিয়ে বেশ ভালোই। তবে এই বইটায় লেখকের সহজাত ফাস্টপেসিং স্টোরিটেলিং অনুপস্থিত মনে হলো। অবশ্য এটার যথাযথ একটা কারণ আছে- লেখকের অন্যান্য বইয়ের তুলনায় এখানে ডিটেইলিং তুলনামূলকভাবে কমপ্লিট।
শেষ দিকটায় বুঝতে একটু অসুবিধা হলেও শেষ পর্যন্ত কাহিনি বোঝা গেছে।
⭕ প্লট: কর্পোরেট চাকুরিজীবী জামি দুই বছর থেকে কিছু অসুস্থতায় ভুগছে। প্রচন্ড মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাব, দুর্বলতা এসব আরকি। কিন্তু এর কোনো সমাধান সে খুজে পায়নি। হঠাৎ একদিন প্রেসক্লাবের সামনে একটা সমাবেশ থেকে বের হয়ে কিছু লোকজনকে তিনজন পুলিশকে কোপাতে দেখে জামি। ভয়ে দৌড়ে পালাতে গিয়ে দেখা হয় দিব্য নামের আরেক চরিত্রের সাথে। দিব্যর মাধম্যে সে এমন এক সংঘের সাথে পরিচিত হয় যাদের কম বেশি জামির মত অসুস্থতা বা ভিন্নধর্মী কিছু সমস্যা রয়েছে। জামি অবাক হয় যখন সে জানতে পারে সেই সাথে তারা সবাই রয়েছে সরকারি নজরদারিতে। কিন্তু কেন?? সে আরো অবাক হয় পুলিশ কোপানোর এতবড় ঘটনা কোনো নিউজে আসে নি, সোশাল মিডিয়ায় নেই, কেউ কিচ্ছু জানে না। অথচ সব ঘটেছে তার চোখের সামনে। তাহলে কি তারই হ্যালুসিনেশন হচ্ছে?? এর উত্তর পাওয়ার জন্য জামি যায় এক সাইকিয়াট্রিস্ট এর কাছে। জামিরই কি কোনো মানসিক সমস্যা?? নাকি তার আশেপাশের পরিবেশে সত্যিই অদ্ভুত কিছু ঘটছে?? নাকি সব তার স্বপ্ন?
⭕ পাঠ প্রতিক্রিয়া: সত্যি বলতে গল্পটা আমার তেমন ভালো লাগে নি। কিন্তু একেবারেই খারাপ সেটা বলবো না। মূল গল্পই শুরু হয়েছে ১৫০ তম পৃষ্ঠা থেকে। এর আগের পুরোটাই একজন অসুস্থ কর্পোরেট চাকুরিজীবীর দিনলিপি। খুবই খুবই বোরিং এই প্রথম ১৪৯ পৃষ্ঠা। একটা লোক রিকশায় যেতে যেতে কি কি পর্যবেক্ষণ করছে, কার কানে ব্লুটুথ, কার হাতে কি চা, কে পানের পিক কোথায় ফেললো এই টাইপের অপ্রয়োজনীয় কথায় ভর্তি।
এরপরে আসি মূল গল্পে। একজন স্বৈরাচারী সরকারপ্রধানের ক্ষমতা ও তাকে শাসন থেকে সরানোর চেষ্টা করা হয়েছে এখানে। দিব্য চরিত্রটাকে প্রথম দিক থেকেই রহস্যময় করে রাখার চেষ্টা করা হলেও লেখক খুব একটা সফল হয় নি। চরিত্রের ফাক ফোকর খুব সহজেই ধরা যাচ্ছিল। গল্পের টুইস্টটা প্রেডিক্ট করতে পেরেছিলাম কিছুটা, কিন্তু পুরোটা না। মৌসুমি সবকিছু বোঝার পরেও কেন চুপ ছিল সেটা বোধগম্য না। নরমালি এরকম হলে যে কেউ ব্যপারটা বোঝার চেষ্টা করতো, কিন্তু এখানে সে কিছুই না করে শুধু পর্যবেক্ষণ করেছে।
১৫০ থেকে শেষ পর্যন্ত পড়তে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। গল্পটা মোটামুটি ভালো কিন্তু অযাচিতভাবে টেনে টেনে শুধুই ৩২০ পৃষ্ঠা করা হয়েছে। প্রথম ১৪৯ পৃষ্ঠাকে অনায়াসেই ২/৩ পৃষ্ঠার মধ্যে আনা সম্ভব ছিল। লেখকের লেখকের ধরনী দেখে মনে হয়েছে তিনি খুব সহজেই এটা করতে পারতেন। তবুও কেন অযাচিত ভাবে ১৪৯ পৃষ্ঠা পর্যন্ত টেনে নিয়ে গেছেন তা আমার জানা নেই। আমার মতে এটাকে এত বড় উপন্যাস না করে যদি ৮০-১০০ পৃষ্ঠায় করা যেতো তাহলে খুব সুন্দর একটা উপন্যাস হতো। অথবা একে চাইলে ২০-৩০ পৃষ্ঠার একটা ছোট গল্প হিসেবে প্রকাশ করলেও যথেষ্ট উপভোগ্য হতো। কিন্তু এটা কোনো ভাবেই ৩২০ পৃষ্ঠার থ্রিলার উপন্যাসের মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য না। এটা আমার একান্ত নিজস্ব মতামত।
এছাড়া লেখকের লেখনী খুব চমৎকার। পুরোটা পড়া সম্ভব হয়েছে উনার লেখনীর জোড়েই। বইয়ের প্রোডাকশন কোয়ালিটি খুবই ভালো। কারো যদি অফুরন্ত সময় আর অনেক ধৈর্য থাকে তাহলে বলবো এই উপন্যাসটি পড়ার জন্য।
অনেকদিন পর ঠিক করলাম—এবার বইমেলা থেকে নতুন লেখকদের বই পড়ব। ছোট্ট একটা তালিকা বানিয়ে, বই কিনে পড়ার শুরুটা করলাম *সর্বেসবা* দিয়ে। বহুদিনের পুরোনো অভ্যাসকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে বইটা পড়েছি সময় নিয়ে, ধীরে।
নাবিল মুহতাশিমের এটাই আমার প্রথম পাঠ। প্রথমেই যেটা চোখে পড়ে, তা হলো তাঁর লেখার স্বাচ্ছন্দ্য। ভাষা সাবলীল, প্রাঞ্জল—এক নিশ্বাসে পড়া যায়। এই লেখা বিশেষ করে উপযোগী তাদের জন্য, যারা বহুদিন পর বইয়ে ডুব দিতে চাইছেন।
তবে কাহিনির গঠনে কিছু মিশ্র অনুভূতি কাজ করেছে। প্লট নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয়, কিন্তু গতি যেন বারবার ছন্দ হারিয়েছে। অনেকটা জায়গাজুড়ে লেখক যেন সাবলীলতা বজায় রাখতে গিয়ে কাহিনির গভীরতাকে কিছুটা বিস্তৃত করেছেন, এমনকি বাড়িয়েও দিয়েছেন। ফলে উপসংহারে এসে কিছুটা তাড়াহুড়ো লেগেছে—যেখানে পাঠকের তৃপ্তির চূড়ান্ত বিস্তার হওয়ার কথা, সেখানে একটু যেন অপূর্ণতা রয়ে গেছে।
তবুও, পুরো বইতে একটা ঘোর লেগে থাকে—যেটা লেখকের সক্ষমতার পরিচয়। থ্রিলারপ্রেমী পাঠক হিসেবে প্লটের মোড় ঘোরানো মুহূর্তগুলো আমার ভালো লেগেছে, একটু মিষ্টি, একটু হালকা, ঠিক যেমন একটি নতুন লেখকের কাছ থেকে আশা করা যায়।
সব মিলিয়ে, নাবিল মুহতাশিমকে পাঠ্যতালিকায় রাখার মতো এক নতুন নাম। তাঁর আরও কাজ দেখার আগ্রহ রইল।
২০ পৃষ্ঠার একটি প্লটকে ৩২০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত টেনে নিলে যা হওয়ার কথা তাইই হয়েছে। বইটির প্রথম ১৫০-২০০ পেজ স্রেফ একজন চাকুরিজীবীর দিনলিপি। যাতে অপ্রয়োজনীয় সব কথাবার্তা।থ্রিলার হিসেবে হাইপ দেওয়া হলেও বিন্দুমাত্র থ্রিল নেই বইয়ে। অ্যাকশন সিনগুলোও হাস্যকর। বইটির মূল গল্প একদল লোকের বাংলাদেশের কাল্পনিক প্রধানমন্ত্রীকে গদিচ্যুত করার চেষ্টা, যা লেখকের ভাষ্যমতে কাকতালীয় ভাবে জুলাই অভ্যুত্থান এর সাথে মিলে গেছে।সিম্পল এই প্লটকে কেন লেখক এত বড় করলেন খোদাই জানেন।এই বই এক বছর আগে প্রকাশিত হলে লেখকের সাহসিকতার জন্য প্রশংসা করা যেতো, বর্তমানে তারও সুযোগ নেই। শেষের টুইস্ট দুইটিও অবাক করে দিতে সক্ষম হয়নি।শ্বাপদসনে,বাজিকর এর মতো বইয়ের লেখকের কাছে এমন বই প্রত্যাশিত নয়।লেখক এক্সপেরিমেন্ট করতেই পারেন,কিন্তু বুকশপগুলো যেভাবে কৃত্রিম হাইপ দিয়ে বইকে মাস্টারপিস বানিয়ে দেয়, সেক্ষেত্রে একজন পাঠক হিসেবে নিজেকে ঠকে যাওয়া মনে হয়।আগামীতে বইমেলার হাইপের কোনো বই নিচ্ছি না,এই শিক্ষাটা অন্তত হলো।তারজন্য এক তারা।
আমি কোনো বই পড়ুয়া নই! এর পূর্বে কোনো রিভিউ লেখিনি। বইনগর থেকে মিস্ট্রি বক্স নিয়েছিলাম, সে জন্যই পড়া নতুবা আমি কখনো গল্প পড়িনা। বই শুধু সংগ্রহই করি কিন্তু পড়িনা। এসব বক বক বাদ দিয়ে আসল কথা আসা যাক -
গল্পটি জামি নামক একজন কর্পোরেট চাকুরীজীবীর। জামির মাথা সর্বদা গিজ গিজ করে। সে হটাৎ একদিন এক ঘটনার সম্মুখীন হয়, সেখান থেকেই গল্পের শুরু হয়। তবে এখানে লেখক একটু বেশি বর্ণনা দিয়েছেন আশপাশের পরিবেশের এর পাশাপাশি প্রথম অর্ধাংশ ধীর গতির। ৬০ পৃষ্ঠার পর থেকে মূল ঘটনা শুরু হয়। কিছু স্পয়লার দিয়ে দিয়েছি। এখন, নিজে পড়ার মাধ্যমে উপভোগ করুন।
সর্বেসর্বা বইটি নাবিল মুহতাসিমের একটি চমকপ্রদ সাহিত্যকর্ম, যা পাঠককে একটি অপ্রত্যাশিত এক গল্পের মধ্যে নি��়ে যায়। প্লট ভালই কিন্তু এক্সিকিউশন এ আরও কাজ করবার সুযোগ ছিল। বইটির কেন্দ্রীয় চরিত্র একজন পার্শ্বচরিত্রের মতো নিজেকে অনুভব করে, যার জীবন হঠাৎ করে একটি কন্সপিরেসি থিওরিস্টের হাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বইটি চিরকুট প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে, যার পৃষ্ঠা সংখ্যা ৩২০। নাবিল মুহতাসিমের লেখার স্টাইল এই বইটিকে একটু ভিন্নরকম অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
বাংলা সাহিত্যের জনরা ফিকশনে এরকম এক্সপেরিমেন্ট করার সাহস কম মানুষেরই হয়। সেক্ষেত্রে সর্বেসর্বা সফল। হয়তো গল্পের গাঁথুনি আরও শক্ত হতে পারতো, কিন্তু প্রথম চেষ্টায় আজীবন সাফল্য আসবে এমন কোন কথা নেই। দিন শেষে সর্বেসর্বা পড়ে মজা পেয়েছি, হয়তো দ্বিতীয়বার আবার পড়বো না। সেকারণে বই এর দামটা চড়া লাগতে পারে। তবে আর্ট ইজ সাবজেক্টিভ। তবে সেটি এতটাও সাবজেক্টিভ নয় যে সকলে হামলে পড়ে রেটিং বোমা মারবে।
নাবিল মুহতাসিম এরকম লেখা আরুও উপহার দেবেন, তবে ভবিষ্যতে আরও পোক্ত হবার আহ্বান রইলো।
সর্বেসর্বা" উপন্যাসটি নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না। রহস্য আর প্লট কোনোটাই টানতে পারেনি। বইটি শেষ করতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়েছে। লেখকের তৈরি করা রহস্যগুলো আমার কাছে তেমন আকর্ষণীয় মনে হয়নি। মৌ, আসহাব, নিকসহ অন্যান্য চরিত্রগুলোও মনে দাগ কাটতে ব্যর্থ হয়েছে। সব মিলিয়ে, বইটি পড়ে আমি ভীষণ হতাশ হয়েছি। ব্যক্তিগতভাবে, এটি আমার পড়া সবচেয়ে বাজে বইগুলোর মধ্যে অন্যতম।
ভাই রে ভাই চিরকুট এই বইয়ের প্রচারণা করছিল এমনে 'নাবিল মুহতাসিমের এ যাবতকালের সবথেকে বড় থ্রিলার'। ট্যাগলাইনটা এমন হতে হত ''নাবিল মুহতাসিমের এ যাবতকালের সবথেকে স্লো এবং দুর্বল থ্রিলার'। ঘুরেফিরে একই কথা এত পেচিয়েছে যে একটা টাইম পড়ে চরম বিরক্ত লেগেছে পড়তে। কোনোমতে শেষ করলে বাঁচি- টাইপ অবস্থা। শেষের টুইস্ট বাদে পজেটিভ কিছু এই বই থেকে পেলাম না। নাবিল মুহতাসিম চরম হতাশ করলেন।
২০২৬ এ পড়া প্রথম বই।লেখকের সাথেও এই প্রথম পরিচয়।
যে বয়সে অতি উৎসাহ নিয়ে সায়েন্স ফিকশন পড়তাম, ছোটখাটো সব বিষয়েই অভিভূত হতাম—ঐ সময়ে এই বইটা পড়লে নিঃসন্দেহে বলতাম মারাত্মক বই।এখন আর এমন কাল্পনিক বিষয় এতটা জমেনা।
তারউপর ৩০০ পেজের বেশি আছে বইটাতে।শেষের দিকে খুবই বিরক্ত লেগেছে শেষ করতে।
একেবারেই সুখপাঠ্য নয়। এই বইটি পড়া মানে আক্ষরিক অর্থেই সময় নষ্ট। যদি নেগেটিভ রেটিং দেয়া সম্ভব হত তবে তাই দিতাম। জিরো রেটিং দেয়াও সম্ভব না। সম্ভব হলে তাই দিতাম। Not recommended.
আপনি৷ একটা ছোটোখাটো চাকরি৷ আর দশটা মানুষের মতো হটাৎ হটাৎ অসুস্থ হওয়া৷ জ্যাম পাড়ি দিয়ে অফিস করলে সে অসুস্থতা স্বাভাবিক ই মনে হবে বটে৷ একটা দূর্ঘটনা৷ সংঘের সাথে পরিচয়৷ সাইকিয়াট্রিস্টের সাথে সাক্ষাৎ৷ জীবনের গতিপথ বদলে যাওয়া৷ সবথেকে বড় কথা— Main character am i or are we all? একটু ঝিমিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত পড়তে পারলে আসল মজা পাইতে পারেন৷ মনের কোণে একটু দুঃখও এসে ভর করতে পারে৷