What do you think?


সর্বেসর্বা
আপনার কখনো মনে হয়েছে, অনেক বড় একটা গল্পের ক্ষুদ্র চরিত্র আপনি?
এই যে আপনি নিস্তেজ এক যুবক—কী এক রোগে ভুগছেন কেউ বলতে পারছে না, ছোটখাটো বেসরকারি চাকরির ঘানি টানছেন, একঘেয়ে জীবন।
এই আপনিই কিছু বোঝার আগেই জড়িয়ে পড়লেন এক গোপন সংঘের সাথে-যেখানে ড্যাশিং এক যুবক শোনাচ্ছে অদ্ভুত ছায়াজগতের গল্প। চুম্বকের মতো আকর্ষণীয় এক সুন্দরী দেখিয়ে দিচ্ছে, কীভাবে আপনাকে দিনে-রাতে অনুসরণ করছে রহস্যময় কিছু লোক, যাদের অস্তিত্ব আপনি টেরও পাননি।
খ্যাপাটে সাইকায়াট্রিস্ট বলছে, অসুখের উৎস খুঁজতে গেলে বদলে যাবে আপনার পুরো দুনিয়াই।
উদ্ভট কন্সপিরেসি থিওরিস্ট হয়ে যাচ্ছে আপনার প্রাণের বন্ধু, কাঁধে হাত রেখে বোঝাচ্ছে, আপনি যা দেখছেন তার কিছুই সত্য নয়।
ঠিক তখুনি আপনি বুঝতে পারলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এবার আপনার মতো নগণ্য পার্শ্বচরিত্রকে মুখোমুখি হতে হবে পৃথিবীর প্রধান চরিত্রের।
এবং লড়তে হবে মরণপণ এক লড়াই।
সর্বেসর্বা : নাবিল মুহতাসিমের বৃহত্তম উপন্যাস।
এই যে আপনি নিস্তেজ এক যুবক—কী এক রোগে ভুগছেন কেউ বলতে পারছে না, ছোটখাটো বেসরকারি চাকরির ঘানি টানছেন, একঘেয়ে জীবন।
এই আপনিই কিছু বোঝার আগেই জড়িয়ে পড়লেন এক গোপন সংঘের সাথে-যেখানে ড্যাশিং এক যুবক শোনাচ্ছে অদ্ভুত ছায়াজগতের গল্প। চুম্বকের মতো আকর্ষণীয় এক সুন্দরী দেখিয়ে দিচ্ছে, কীভাবে আপনাকে দিনে-রাতে অনুসরণ করছে রহস্যময় কিছু লোক, যাদের অস্তিত্ব আপনি টেরও পাননি।
খ্যাপাটে সাইকায়াট্রিস্ট বলছে, অসুখের উৎস খুঁজতে গেলে বদলে যাবে আপনার পুরো দুনিয়াই।
উদ্ভট কন্সপিরেসি থিওরিস্ট হয়ে যাচ্ছে আপনার প্রাণের বন্ধু, কাঁধে হাত রেখে বোঝাচ্ছে, আপনি যা দেখছেন তার কিছুই সত্য নয়।
ঠিক তখুনি আপনি বুঝতে পারলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এবার আপনার মতো নগণ্য পার্শ্বচরিত্রকে মুখোমুখি হতে হবে পৃথিবীর প্রধান চরিত্রের।
এবং লড়তে হবে মরণপণ এক লড়াই।
সর্বেসর্বা : নাবিল মুহতাসিমের বৃহত্তম উপন্যাস।
- GenresThriller
320 pages, Hardcover
Published February 10, 2025
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 30 of 38 reviews
March 4, 2025
এই মেলায় যে বইগুলো নিয়ে সবথেকে বেশি রোমাঞ্চিত ছিলাম সেগুলোর মধ্যে সর্বেসর্বা অন্যতম। এবারও হতাশ করেননি প্রিয় লেখক নাবিল মুহতাসিম। বরঞ্চ পড়তে গিয়ে উপভোগই করেছি। প্লট নিয়ে বেশি আলাপে যাবো না। সেটা পাঠকরা পড়েই বুঝে নেবেন। কথা বলি লেখনশৈলী নিয়ে। লেখকের লেখার ধরণ বরাবরের মতোই আলাদা। তবে এবার আরেকটু ভিন্ন লাগলো ডিটেইলিংয়ের কারণে। ডিটেইলিং নিখুঁত হওয়ার জন্য মগজের ওপর বেশি চাপ দিতে হয়নি, মনে হচ্ছিল যেন চোখের সামনে সব ঘটছে। অনেকটা স্টিফেন কিংয়ের বইগুলোর মত।
এই বইয়ের কাহিনীর স্তর বেশ কয়েকটা। কাহিনীর মধ্যে একবার ঢুকে গেলে ছেড়ে ওঠার উপায় নেই। একই সাথে সাইকোলজিক্যাল, স্পাই, একশন ও কিছুটা সায়েন্স ফ্যান্টাসির মিশ্রণ ঘটেছে গল্পে। রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য শেষপর্যন্ত দক্ষ হাতে অপেক্ষায় রেখেছেন লেখক।
শেষে বেশ ভালো একটা টুইস্ট আছে।
রহস্য-রোমাঞ্চ পাঠকরা বইটা পড়বেন, ভালো সময় কাটবে।
এই বইয়ের কাহিনীর স্তর বেশ কয়েকটা। কাহিনীর মধ্যে একবার ঢুকে গেলে ছেড়ে ওঠার উপায় নেই। একই সাথে সাইকোলজিক্যাল, স্পাই, একশন ও কিছুটা সায়েন্স ফ্যান্টাসির মিশ্রণ ঘটেছে গল্পে। রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য শেষপর্যন্ত দক্ষ হাতে অপেক্ষায় রেখেছেন লেখক।
শেষে বেশ ভালো একটা টুইস্ট আছে।
রহস্য-রোমাঞ্চ পাঠকরা বইটা পড়বেন, ভালো সময় কাটবে।
March 23, 2025
#Book_Mortem 227
সর্বেসর্বা
জামি নামের এক সাধারণ চাকুরি করা যুবকের সামনে হঠাৎ করেই ঘটে গেল একটা নৃশংস ঘটনা। কিন্তু সে অবাক হয়ে আবিষ্কার করল এই ঘটনা কোনো নিউজ মিডিয়ায় আসেনি। এদিকে সেদিনই তার সাথে পরিচয় হলো দিব্য নামের এক ছেলের সাথে। তার সাথে গিয়ে দেখা পেল এমন কিছু মানুষের যাদের উপর সরকার থেকে কড়া নজরদারি করা হচ্ছে৷ দ্রুতই বুঝে গেল নিজেও সেই নজরদারির আওতায় আছে। কিন্তু কেন আপাত সাধাসিধা জীবনযাপন করা এই মানুষগুলোকে বেছে নেয়া হলো নজরদারির জন্য?
মনে করুন আপনাকে একটা চমৎকার রাস্তার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়েছে। এবং বলা হয়েছে এই রাস্তা ধরেই আপনাকে হেঁটে যেতে হবে। চারপাশে সুন্দর বাহারি রঙের গাছপালা, দারুণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। আপনি হেঁটে চললেন। হাঁটতে হাঁটতে এক পর্যায়ে ক্লান্ত হয়ে গেলেন, হলেন তৃষ্ণার্ত ও ক্ষুধার্ত। কিন্তু আপনার পথ ফুরোচ্ছে না। তবুও এগিয়ে যাচ্ছেন পথের শেষে ভালো কিছু পাবার আশায়। কিন্তু না, শেষটায় গিয়ে আবিষ্কার করলেন খানাখন্দে পরিণত হওয়া সেই পথের শেষে আপনাকে বিস্বাদ এবং বাসি এক জাতীয় খাবার দেয়া হয়েছে। এত লম্বা পথের পর এখন বমি হবে জেনেও সেই খাবার আপনাকে গিলতেই হচ্ছে বাধ্য হয়ে।
মোটামুটি এটাই হলো সর্বেসর্বা বইয়ের সাথে আমার অভিজ্ঞতা। ভালো একটা প্লট, ভালো লিখনশৈলীর পাশাপাশি চমৎকারভাবে শুরু হওয়া গল্পের টানে একের পর এক পাতা উলটে গিয়েছি। কিন্তু প্রায় ১০০ পাতা পড়ার পর খটকা তৈরি হলো। কি রে ভাই!! কাহিনি দেখি আগাচ্ছে না। সেই একই ধরণের ঘটনাবলী। জামি নামের মানুষটার দৈনন্দিন রুটিন একটানা গিলিয়ে যাচ্ছেন লেখক। তার অদ্ভুত রোগ, সংঘের মিটিং, তাকে ফলো করা, প্রায় একই রকমের দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভাঙ্গা, দিব্যর সাথে হাঁটতে গিয়ে কথা হারিয়ে ফেলা বা রাস্তা বদলে যাওয়া; এগুলাই বারবার পড়তেছি আর পড়তেছি৷ মনে হচ্ছে যেন আমি একটা ল্যুপের মধ্যে আটকে গিয়েছি।
এর পাশাপাশি আছে দেশের রাজনৈতিক ঝামেলার কিছু অংশ। স্বৈরাচার এক শাসককে এনেছেন লেখক। কর্মপদ্ধতি দেখলে অনায়াসে শেখ হাসিনার কথা মাথায় চলে আসবে। তবে এক পর্যায়ে গিয়ে লেখক দেখিয়েছেন এসব কর্মকাণ্ড প্রধানমন্ত্রীর নয়, বরং তার আশেপাশের লোকদের। ওই হাসিনার আমলে আমরা যেমনটা শুনতাম আর কি! তাহাজ্জুদ পড়া বেচারি কিছুই জানে না, সে ফেরেশতা তূল্য!! অনেকটা ওইরকম।
তো এ সবকিছুর পাশাপাশি শুরু হলো মৌ নামের এক মেয়ের সাথে পিরিত। মেয়ের স্বামী থাকলেও তারা ওপেন রিলেশনশিপে আছে। মানে জামাই বউ যখন যার সাথে খুশি শুইতে যাইতে পারবে আর কি! তবে জামাইয়ের ব্যাপারে কিছু না দেখালেও, এখানে মৌ-কে দেখা যায় জামির সাথে শুতে যেতে। এই শোয়ার পিছনে যদিও একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন লেখক। তবে বাংলা ছবির মতো ফুলের টোকাটুকি দিয়ে এই শোয়ার দৃশ্য এড়িয়ে যাননি। বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন। আফসোস, এতটা ডিটেইলসে যদি বইয়ের শেষটা তিনি পাঠককে বুঝিয়ে দিতে পারতেন!!
শেষের দিকে এসে অবশ্য ঝিমুনি কাটিয়ে গল্পটা হালকা গতি পায়। এন্ডিং-এ একটা টুইস্ট আছে, টুইস্টের প্রশংসা করতে হয়। তবে এন্ডিং-এ কোনো ব্যাখ্যা নাই। তারা ব্রেইনওয়াশ আর মাইন্ড কন্ট্রোলের প্রোগ্রাম চালু করেছিল, শুধু এইটুকু বলা হইছে। প্রোগ্রামের খুঁটিনাটি তেমন ব্যাখ্যা করা হয় নাই৷ সায়েন্টিফিক ব্যাপার স্যাপার না হোক, এট লিস্ট কিছু পরীক্ষা নীরিক্ষার কথা এক্সপ্লেইন করলেও হতো। পেপার পড়িয়ে আর টিভি দেখিয়েই সাবজেক্টের মাইন্ড কন্ট্রোল করার ক্ষমতা নিয়ে নিয়েছে৷ কিন্তু এই পেপার আর টিভির মাঝে কি রহস্য ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছিল তা বলা হয় না।
আবার এইখানে এমন এক বিজ্ঞানী আছে যার মাঝে একাধারে মার্ভেলের এক্স-ম্যান সিরিজের প্রফেসর এক্স, ম্যাগনিটো, জগরনাট, নাইটক্রলার আর মিস্টিকের ক্ষমতা আছে!! সমস্যা হইলো এইসব ক্ষমতা সে ক্যাম্নে পাইলো তার কোনো ব্যাখ্যা এই বইয়ে নাই৷ যদিও শেষে গিয়ে বলা হয়েছে এগুলা সম্ভবত সব জামির মাথার মধ্যে ঘটেছে। তবে বইয়ের আরো কিছু অংশ কিংবা শেষ একশন দৃশ্যটা এই ব্যাখ্যার সাথে সাংঘর্ষিক। শেষের একশন দৃশ্যটা এত্ত ফালতু যে বলার মতো না। সুপারহিরোদের মতো এখান থেকে ওখানে উড়ে চলে যাচ্ছে, হাড্ডি গুড্ডি ভাইঙ্গা যাইতেছে। অথচ তবুও আবার উঠে মারামারি করতেছে!! মানে গাঁজাখুরিরও একটা লিমিট আছে তো ভাই!
ব্যক্তিগত রেটিং: ০১/১০ (কিছু বই হয় দূর্দান্ত, আর কিছু বই হয় বাজে। এইটা দূর্দান্ত রকমের বাজে বই। মানে এই রকম বাজে বই কোনো নতুন লেখকের পক্ষেও লেখা সম্ভব না। একশ থেকে দেড়শ পেইজের গল্পকে টেনে ৩২০ পেইজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে বইয়ের একটা বাক্য আমার বেশ পছন্দ হয়েছে, আমরা সবাই নিজ নিজ গল্পের নায়ক। লেখকও সম্ভবত সেরকমটাই ভাবেন। তাই এহেন 'সাহিত্যকর্ম' লিখেও তিনি অন্যকে বেজন্মা বলার মতো মানসিক শক্তি খুঁজে পান)
⛺ লেখক: নাবিল মুহতাসিম
⛺ প্রকাশনী: চিরকুট প্রকাশনী
⛺ প্রচ্ছদ: আরাফাত করিম
⛺ পৃষ্টা সংখ্যা: ৩২০
⛺ মূদ্রিত মূল্য: ৫০০ টাকা
সর্বেসর্বা
জামি নামের এক সাধারণ চাকুরি করা যুবকের সামনে হঠাৎ করেই ঘটে গেল একটা নৃশংস ঘটনা। কিন্তু সে অবাক হয়ে আবিষ্কার করল এই ঘটনা কোনো নিউজ মিডিয়ায় আসেনি। এদিকে সেদিনই তার সাথে পরিচয় হলো দিব্য নামের এক ছেলের সাথে। তার সাথে গিয়ে দেখা পেল এমন কিছু মানুষের যাদের উপর সরকার থেকে কড়া নজরদারি করা হচ্ছে৷ দ্রুতই বুঝে গেল নিজেও সেই নজরদারির আওতায় আছে। কিন্তু কেন আপাত সাধাসিধা জীবনযাপন করা এই মানুষগুলোকে বেছে নেয়া হলো নজরদারির জন্য?
মনে করুন আপনাকে একটা চমৎকার রাস্তার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়েছে। এবং বলা হয়েছে এই রাস্তা ধরেই আপনাকে হেঁটে যেতে হবে। চারপাশে সুন্দর বাহারি রঙের গাছপালা, দারুণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। আপনি হেঁটে চললেন। হাঁটতে হাঁটতে এক পর্যায়ে ক্লান্ত হয়ে গেলেন, হলেন তৃষ্ণার্ত ও ক্ষুধার্ত। কিন্তু আপনার পথ ফুরোচ্ছে না। তবুও এগিয়ে যাচ্ছেন পথের শেষে ভালো কিছু পাবার আশায়। কিন্তু না, শেষটায় গিয়ে আবিষ্কার করলেন খানাখন্দে পরিণত হওয়া সেই পথের শেষে আপনাকে বিস্বাদ এবং বাসি এক জাতীয় খাবার দেয়া হয়েছে। এত লম্বা পথের পর এখন বমি হবে জেনেও সেই খাবার আপনাকে গিলতেই হচ্ছে বাধ্য হয়ে।
মোটামুটি এটাই হলো সর্বেসর্বা বইয়ের সাথে আমার অভিজ্ঞতা। ভালো একটা প্লট, ভালো লিখনশৈলীর পাশাপাশি চমৎকারভাবে শুরু হওয়া গল্পের টানে একের পর এক পাতা উলটে গিয়েছি। কিন্তু প্রায় ১০০ পাতা পড়ার পর খটকা তৈরি হলো। কি রে ভাই!! কাহিনি দেখি আগাচ্ছে না। সেই একই ধরণের ঘটনাবলী। জামি নামের মানুষটার দৈনন্দিন রুটিন একটানা গিলিয়ে যাচ্ছেন লেখক। তার অদ্ভুত রোগ, সংঘের মিটিং, তাকে ফলো করা, প্রায় একই রকমের দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভাঙ্গা, দিব্যর সাথে হাঁটতে গিয়ে কথা হারিয়ে ফেলা বা রাস্তা বদলে যাওয়া; এগুলাই বারবার পড়তেছি আর পড়তেছি৷ মনে হচ্ছে যেন আমি একটা ল্যুপের মধ্যে আটকে গিয়েছি।
এর পাশাপাশি আছে দেশের রাজনৈতিক ঝামেলার কিছু অংশ। স্বৈরাচার এক শাসককে এনেছেন লেখক। কর্মপদ্ধতি দেখলে অনায়াসে শেখ হাসিনার কথা মাথায় চলে আসবে। তবে এক পর্যায়ে গিয়ে লেখক দেখিয়েছেন এসব কর্মকাণ্ড প্রধানমন্ত্রীর নয়, বরং তার আশেপাশের লোকদের। ওই হাসিনার আমলে আমরা যেমনটা শুনতাম আর কি! তাহাজ্জুদ পড়া বেচারি কিছুই জানে না, সে ফেরেশতা তূল্য!! অনেকটা ওইরকম।
তো এ সবকিছুর পাশাপাশি শুরু হলো মৌ নামের এক মেয়ের সাথে পিরিত। মেয়ের স্বামী থাকলেও তারা ওপেন রিলেশনশিপে আছে। মানে জামাই বউ যখন যার সাথে খুশি শুইতে যাইতে পারবে আর কি! তবে জামাইয়ের ব্যাপারে কিছু না দেখালেও, এখানে মৌ-কে দেখা যায় জামির সাথে শুতে যেতে। এই শোয়ার পিছনে যদিও একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন লেখক। তবে বাংলা ছবির মতো ফুলের টোকাটুকি দিয়ে এই শোয়ার দৃশ্য এড়িয়ে যাননি। বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন। আফসোস, এতটা ডিটেইলসে যদি বইয়ের শেষটা তিনি পাঠককে বুঝিয়ে দিতে পারতেন!!
শেষের দিকে এসে অবশ্য ঝিমুনি কাটিয়ে গল্পটা হালকা গতি পায়। এন্ডিং-এ একটা টুইস্ট আছে, টুইস্টের প্রশংসা করতে হয়। তবে এন্ডিং-এ কোনো ব্যাখ্যা নাই। তারা ব্রেইনওয়াশ আর মাইন্ড কন্ট্রোলের প্রোগ্রাম চালু করেছিল, শুধু এইটুকু বলা হইছে। প্রোগ্রামের খুঁটিনাটি তেমন ব্যাখ্যা করা হয় নাই৷ সায়েন্টিফিক ব্যাপার স্যাপার না হোক, এট লিস্ট কিছু পরীক্ষা নীরিক্ষার কথা এক্সপ্লেইন করলেও হতো। পেপার পড়িয়ে আর টিভি দেখিয়েই সাবজেক্টের মাইন্ড কন্ট্রোল করার ক্ষমতা নিয়ে নিয়েছে৷ কিন্তু এই পেপার আর টিভির মাঝে কি রহস্য ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছিল তা বলা হয় না।
আবার এইখানে এমন এক বিজ্ঞানী আছে যার মাঝে একাধারে মার্ভেলের এক্স-ম্যান সিরিজের প্রফেসর এক্স, ম্যাগনিটো, জগরনাট, নাইটক্রলার আর মিস্টিকের ক্ষমতা আছে!! সমস্যা হইলো এইসব ক্ষমতা সে ক্যাম্নে পাইলো তার কোনো ব্যাখ্যা এই বইয়ে নাই৷ যদিও শেষে গিয়ে বলা হয়েছে এগুলা সম্ভবত সব জামির মাথার মধ্যে ঘটেছে। তবে বইয়ের আরো কিছু অংশ কিংবা শেষ একশন দৃশ্যটা এই ব্যাখ্যার সাথে সাংঘর্ষিক। শেষের একশন দৃশ্যটা এত্ত ফালতু যে বলার মতো না। সুপারহিরোদের মতো এখান থেকে ওখানে উড়ে চলে যাচ্ছে, হাড্ডি গুড্ডি ভাইঙ্গা যাইতেছে। অথচ তবুও আবার উঠে মারামারি করতেছে!! মানে গাঁজাখুরিরও একটা লিমিট আছে তো ভাই!
ব্যক্তিগত রেটিং: ০১/১০ (কিছু বই হয় দূর্দান্ত, আর কিছু বই হয় বাজে। এইটা দূর্দান্ত রকমের বাজে বই। মানে এই রকম বাজে বই কোনো নতুন লেখকের পক্ষেও লেখা সম্ভব না। একশ থেকে দেড়শ পেইজের গল্পকে টেনে ৩২০ পেইজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে বইয়ের একটা বাক্য আমার বেশ পছন্দ হয়েছে, আমরা সবাই নিজ নিজ গল্পের নায়ক। লেখকও সম্ভবত সেরকমটাই ভাবেন। তাই এহেন 'সাহিত্যকর্ম' লিখেও তিনি অন্যকে বেজন্মা বলার মতো মানসিক শক্তি খুঁজে পান)
⛺ লেখক: নাবিল মুহতাসিম
⛺ প্রকাশনী: চিরকুট প্রকাশনী
⛺ প্রচ্ছদ: আরাফাত করিম
⛺ পৃষ্টা সংখ্যা: ৩২০
⛺ মূদ্রিত মূল্য: ৫০০ টাকা
March 5, 2025
৩.৫/৫
আমাদের প্রজন্মের খুব পরিচিত একটা ধারণা - ক্ষমতার অপব্যবহার করে কিছু রাষ্ট্রনায়ক কিভাবে তার নাগরিকদের ব্রেইনওয়াস - আইওয়াস করে, এই বিষয়টাকে একটু মডিফাই করে এই উপন্যাসের প্লট নির্মাণ করেছেন লেখক। এবং তিনশোর বেশি পৃষ্ঠার বইতে মোটামুটি শেষ পঞ্চাশ পাতার আগ পর্যন্ত "পরে কি হবে?" প্রশ্নটা ধরে রাখতে পেরেছেন পাঠকের মনে।
ফার্স্ট পার্সন ন্যারেটিভে বিবৃত কাহিনীতে বক্তা একটা সংঘের সদস্য হয়, যেখানে সবাই রাষ্ট্রীয় নজরদারির শিকার। এরপর ঘটনাক্রমে সংঘের দুইজনের অপমৃত্যু হলে বেঁচে থাকার তাগিদে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেয় সরকারপ্রধানের পতন ঘটানোর। এই রাষ্ট্রীয় নজরদারির ফলে অস্তিত্বের সংকট তৈরি হয় সংঘের সদস্যদের। আস্তে আস্তে তারা জানতে পারে, সরকার প্রধান কিভাবে অমানবিক প্রজেক্টের মাধ্যমে মানুষের চেতনাকে নিয়ন্ত্রণ করার পরীক্ষা করে। আর এরই ধারাবাহিকতায় গল্পের কথক আবিষ্কার করে আত্মপরিচয়।
৪ দিতাম, কিন্তু কেনো যেনো অর্ধেকের পর সন্দেহ করেছিলাম কাহিনী কেমন হতে চলেছে, এবং ধারণার কাছাকাছি গিয়েছে। তবে বর্ণনাশৈলী আর কাহিনীনির্মাণে নাবিল মুহতাসিমের সহজাত মুন্সিয়ানার পরিচয় পাওয়া যাবে।
(লেখক গল্পের শেষে উল্লেখ করেছেন, এই ঘটনার চিন্তা তার তিন বছরের পুরোনো এবং বাস্তব কোনো ঘটনার সাথে এর কোনো সামঞ্জস্য সম্পূর্ণ কাকতালীয়)
আমাদের প্রজন্মের খুব পরিচিত একটা ধারণা - ক্ষমতার অপব্যবহার করে কিছু রাষ্ট্রনায়ক কিভাবে তার নাগরিকদের ব্রেইনওয়াস - আইওয়াস করে, এই বিষয়টাকে একটু মডিফাই করে এই উপন্যাসের প্লট নির্মাণ করেছেন লেখক। এবং তিনশোর বেশি পৃষ্ঠার বইতে মোটামুটি শেষ পঞ্চাশ পাতার আগ পর্যন্ত "পরে কি হবে?" প্রশ্নটা ধরে রাখতে পেরেছেন পাঠকের মনে।
ফার্স্ট পার্সন ন্যারেটিভে বিবৃত কাহিনীতে বক্তা একটা সংঘের সদস্য হয়, যেখানে সবাই রাষ্ট্রীয় নজরদারির শিকার। এরপর ঘটনাক্রমে সংঘের দুইজনের অপমৃত্যু হলে বেঁচে থাকার তাগিদে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেয় সরকারপ্রধানের পতন ঘটানোর। এই রাষ্ট্রীয় নজরদারির ফলে অস্তিত্বের সংকট তৈরি হয় সংঘের সদস্যদের। আস্তে আস্তে তারা জানতে পারে, সরকার প্রধান কিভাবে অমানবিক প্রজেক্টের মাধ্যমে মানুষের চেতনাকে নিয়ন্ত্রণ করার পরীক্ষা করে। আর এরই ধারাবাহিকতায় গল্পের কথক আবিষ্কার করে আত্মপরিচয়।
৪ দিতাম, কিন্তু কেনো যেনো অর্ধেকের পর সন্দেহ করেছিলাম কাহিনী কেমন হতে চলেছে, এবং ধারণার কাছাকাছি গিয়েছে। তবে বর্ণনাশৈলী আর কাহিনীনির্মাণে নাবিল মুহতাসিমের সহজাত মুন্সিয়ানার পরিচয় পাওয়া যাবে।
(লেখক গল্পের শেষে উল্লেখ করেছেন, এই ঘটনার চিন্তা তার তিন বছরের পুরোনো এবং বাস্তব কোনো ঘটনার সাথে এর কোনো সামঞ্জস্য সম্পূর্ণ কাকতালীয়)
March 15, 2025
২৮ বছর বয়সি এক সাধারণ যুবক। নাম তাঁর জামি। নিতান্ত একঘেয়ে এক বেসরকারি চাকরি এবং শরীরে বিভিন্ন রোগ-শোক বহন করে চলা এই ব্যক্তি কোন উপন্যাসের পার্শ্বচরিত্রের বেশি কিছু কি হতে পারে?
জামির জীবন পাল্টে যায় ঘটনাচক্রে এক নারকীয় ঘটনার চাক্ষুষ সাক্ষী হয়ে যাওয়ার পর। তাঁর বোরিং জীবনে হাজির হতে থাকে ড্যাশিং সব চরিত্র। পলায়নপর মনোবৃত্তির এ যুবকের সাথে দেখা হয় দিব্যর মতো রাফ এন্ড টাফ এক ইন্ট্যারেস্টিং ক্যারেক্টারের সাথে। রীতিমতো বাধ্য হয় জামি সংঘে যোগদান করতে।
সংঘ। অদ্ভুত এই কাল্টে আছে ষড়যন্ত্র-তাত্ত্বিক, আছে ট্যাক বিশেষজ্ঞ, আছে মোহনীয় এক গথ সুন্দরী, আরো আছেন বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় সমালোচক একজন ভাইরাল বুদ্ধিজীবী। স্বৈরাচারি প্রধানমন্ত্রি গাজি সোবহানুল হকের গুপ্তচরেরা পিছে লেগেছেন এদের সবার। বর্তমান বিশ্বে নিজের প্রাইভেসি যেখানে অন্তর্জালের কারণে রক্ষা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে, সোবহানুলের ক্ষ্যাপা বিজ্ঞানীদের কল্যানে সেখানে এসব চরিত্র গ্যাংস্টকিং এর শিকার হয়ে পরেছেন।
সরকারের সর্বদিক থেকে আসা সাড়াশি সার্ভেইলেন্সের অক্টোপাশসদৃশ হাত থেকে রক্ষা পেতে সংঘের সামনে বিপ্লব করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। তবে এ বিপ্লব সফল করতে এতগুলি পার্শ্বচরিত্রের মুখোমুখি হতে হবে উপন্যাসের প্রধান চরিত্রের সাথে। তিনিই সর্বেসর্বা।
নাবিল মুহতাসিমের থ্রিলার আমার বরাবরের মতোই খুব পছন্দের। এক ধরণের অ্যাসেন্ডিং টোনকে সাথে নিয়ে, গতিশীল গল্পকথনে পাঠককে যেভাবে লেখক তাঁর উপন্যাসে গ্রিপ করে রাখতে পারেন তা প্রশংসার দাবী রাখে।
এ পর্যন্ত লেখকের সব থ্রিলারেই ঘটনা দেশ থেকে গড়িয়ে বিদেশের ক্যানভাসে বিকশিত হয়েছে বেশি। এই প্রথম নাবিলের কোন উপন্যাস ( যা এখন পর্যন্ত তাঁর লিখা কলেবরে বৃহত্তম ) পুরোটাই ঢাকার পটভূমিতে এগিয়েছে। নভেলজুড়ে নাবিল যেভাবে থ্রিল জমাট করেছেন, প্রতিটি চরিত্রকে যেরূপ রহস্যময় করে গড়ে তুলে একদম শেষের দিকে পাঠককে পৌছে যেতে একরকম বাধ্য করেছেন তা ভালো লেগেছে।
জামির উত্তম পুরুষ ন্যারেটিভে লেখক যে পরিমাণ বিভ্রান্তির উপাদান উপন্যাসজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দিয়েছেন তাতে পাঠকের ইচ্ছে করবে অতি দ্রুত দৃষ্টিকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়ার এলিমেন্টগুলির একটা ক্লিয়ার-কাট শেষ দেখতে।
অবশ্য প্রচুর থ্রিলার পড়া পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু হিন্টস লেখকের দিক থেকে দেয়া হয়েছে 'সর্বেসর্বা'য়। তবে শুধুমাত্র প্রতিভাবান লেখক নাবিল মুহতাসিমের স্টোরিটেলিং উপভোগ করার জন্যও উপন্যাসটি পড়া যায়। আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করা যায় কিছু পার্শ্বচরিত্রের সাথে সর্বেসর্বার শেষ যুদ্ধের দামামা ধ্বনি শুনার।
বই রিভিউ
নাম : সর্বেসর্বা
লেখক : নাবিল মুহতাসিম
প্রথম প্রকাশ : অমর একুশে বইমেলা ২০২৫
প্রকাশক : চিরকুট প্রকাশনী
প্রচ্ছদ : আরাফাত করিম
জনরা : থ্রিলার
রিভিউয়ার : ওয়াসিম হাসান মাহমুদ।
জামির জীবন পাল্টে যায় ঘটনাচক্রে এক নারকীয় ঘটনার চাক্ষুষ সাক্ষী হয়ে যাওয়ার পর। তাঁর বোরিং জীবনে হাজির হতে থাকে ড্যাশিং সব চরিত্র। পলায়নপর মনোবৃত্তির এ যুবকের সাথে দেখা হয় দিব্যর মতো রাফ এন্ড টাফ এক ইন্ট্যারেস্টিং ক্যারেক্টারের সাথে। রীতিমতো বাধ্য হয় জামি সংঘে যোগদান করতে।
সংঘ। অদ্ভুত এই কাল্টে আছে ষড়যন্ত্র-তাত্ত্বিক, আছে ট্যাক বিশেষজ্ঞ, আছে মোহনীয় এক গথ সুন্দরী, আরো আছেন বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় সমালোচক একজন ভাইরাল বুদ্ধিজীবী। স্বৈরাচারি প্রধানমন্ত্রি গাজি সোবহানুল হকের গুপ্তচরেরা পিছে লেগেছেন এদের সবার। বর্তমান বিশ্বে নিজের প্রাইভেসি যেখানে অন্তর্জালের কারণে রক্ষা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে, সোবহানুলের ক্ষ্যাপা বিজ্ঞানীদের কল্যানে সেখানে এসব চরিত্র গ্যাংস্টকিং এর শিকার হয়ে পরেছেন।
সরকারের সর্বদিক থেকে আসা সাড়াশি সার্ভেইলেন্সের অক্টোপাশসদৃশ হাত থেকে রক্ষা পেতে সংঘের সামনে বিপ্লব করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। তবে এ বিপ্লব সফল করতে এতগুলি পার্শ্বচরিত্রের মুখোমুখি হতে হবে উপন্যাসের প্রধান চরিত্রের সাথে। তিনিই সর্বেসর্বা।
নাবিল মুহতাসিমের থ্রিলার আমার বরাবরের মতোই খুব পছন্দের। এক ধরণের অ্যাসেন্ডিং টোনকে সাথে নিয়ে, গতিশীল গল্পকথনে পাঠককে যেভাবে লেখক তাঁর উপন্যাসে গ্রিপ করে রাখতে পারেন তা প্রশংসার দাবী রাখে।
এ পর্যন্ত লেখকের সব থ্রিলারেই ঘটনা দেশ থেকে গড়িয়ে বিদেশের ক্যানভাসে বিকশিত হয়েছে বেশি। এই প্রথম নাবিলের কোন উপন্যাস ( যা এখন পর্যন্ত তাঁর লিখা কলেবরে বৃহত্তম ) পুরোটাই ঢাকার পটভূমিতে এগিয়েছে। নভেলজুড়ে নাবিল যেভাবে থ্রিল জমাট করেছেন, প্রতিটি চরিত্রকে যেরূপ রহস্যময় করে গড়ে তুলে একদম শেষের দিকে পাঠককে পৌছে যেতে একরকম বাধ্য করেছেন তা ভালো লেগেছে।
জামির উত্তম পুরুষ ন্যারেটিভে লেখক যে পরিমাণ বিভ্রান্তির উপাদান উপন্যাসজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দিয়েছেন তাতে পাঠকের ইচ্ছে করবে অতি দ্রুত দৃষ্টিকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়ার এলিমেন্টগুলির একটা ক্লিয়ার-কাট শেষ দেখতে।
অবশ্য প্রচুর থ্রিলার পড়া পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু হিন্টস লেখকের দিক থেকে দেয়া হয়েছে 'সর্বেসর্বা'য়। তবে শুধুমাত্র প্রতিভাবান লেখক নাবিল মুহতাসিমের স্টোরিটেলিং উপভোগ করার জন্যও উপন্যাসটি পড়া যায়। আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করা যায় কিছু পার্শ্বচরিত্রের সাথে সর্বেসর্বার শেষ যুদ্ধের দামামা ধ্বনি শুনার।
বই রিভিউ
নাম : সর্বেসর্বা
লেখক : নাবিল মুহতাসিম
প্রথম প্রকাশ : অমর একুশে বইমেলা ২০২৫
প্রকাশক : চিরকুট প্রকাশনী
প্রচ্ছদ : আরাফাত করিম
জনরা : থ্রিলার
রিভিউয়ার : ওয়াসিম হাসান মাহমুদ।
April 4, 2025
বেশ অনেকগুলো নেগেটিভ রিভিউ দেখেই পড়ার জন্য হাতে তুলে নিয়েছিলাম ‘সর্বেসর্বা’বইটি। রিভিউ দেখে মনে করেছিলাম যে আসলেই লস প্রজেক্ট হলো নাকি বইটা নেওয়া। কিন্তু বইটা পড়ার সময় বেশ উপভোগই করেছি।
শুরু দিকে বইটা বেশ ভালো লাগছিল মাঝে মনে হচ্ছিল যেন লেখক খাপছাড়া কিছু ঘটনা লিখে গেছেন কিন্তু বইয়ের দেড়শ পৃষ্ঠার পর থেকে লেখক সব কিছু জোড়া দিয়েছেন। তখন খাপছাড়া জিনিসগুলোও পরিষ্কার হলো। কন্সপিরেসি থ্রিলার হিসেবে বেশ ভালোই লেগেছে গল্পের প্লট প্লাস এক্সিকিউশন। কিছু ঘটনার ক্ষেত্রে ব্যাখ্যা পেলে আরও ভালো হতো।
আমি আসলে নিজের বইটা পড়ে কেমন লেগেছে তাই লেখার চেষ্টা করেছি অল্পকথায়। সবার যে আমার সাথে একমত হতে হবে এমনও না। কিন্তু মনে হলো বইটার রিভিউ দেখে অল্প হলেও কিছু বলা উচিত।
যারা বইটা সংগ্রহ করেছেন পড়ে দেখতে পারেন। বইয়ের পজেটিভ,নেগেটিভ রিভিউও পড়বেন সাথে বইও।
শুরু দিকে বইটা বেশ ভালো লাগছিল মাঝে মনে হচ্ছিল যেন লেখক খাপছাড়া কিছু ঘটনা লিখে গেছেন কিন্তু বইয়ের দেড়শ পৃষ্ঠার পর থেকে লেখক সব কিছু জোড়া দিয়েছেন। তখন খাপছাড়া জিনিসগুলোও পরিষ্কার হলো। কন্সপিরেসি থ্রিলার হিসেবে বেশ ভালোই লেগেছে গল্পের প্লট প্লাস এক্সিকিউশন। কিছু ঘটনার ক্ষেত্রে ব্যাখ্যা পেলে আরও ভালো হতো।
আমি আসলে নিজের বইটা পড়ে কেমন লেগেছে তাই লেখার চেষ্টা করেছি অল্পকথায়। সবার যে আমার সাথে একমত হতে হবে এমনও না। কিন্তু মনে হলো বইটার রিভিউ দেখে অল্প হলেও কিছু বলা উচিত।
যারা বইটা সংগ্রহ করেছেন পড়ে দেখতে পারেন। বইয়ের পজেটিভ,নেগেটিভ রিভিউও পড়বেন সাথে বইও।
January 3, 2026
২০২৬ এ পড়া প্রথম বই।লেখকের সাথেও এই প্রথম পরিচয়।
যে বয়সে অতি উৎসাহ নিয়ে সায়েন্স ফিকশন পড়তাম, ছোটখাটো সব বিষয়েই অভিভূত হতাম—ঐ সময়ে এই বইটা পড়লে নিঃসন্দেহে বলতাম মারাত্মক বই।এখন আর এমন কাল্পনিক বিষয় এতটা জমেনা।
তারউপর ৩০০ পেজের বেশি আছে বইটাতে।শেষের দিকে খুবই বিরক্ত লেগেছে শেষ করতে।
যে বয়সে অতি উৎসাহ নিয়ে সায়েন্স ফিকশন পড়তাম, ছোটখাটো সব বিষয়েই অভিভূত হতাম—ঐ সময়ে এই বইটা পড়লে নিঃসন্দেহে বলতাম মারাত্মক বই।এখন আর এমন কাল্পনিক বিষয় এতটা জমেনা।
তারউপর ৩০০ পেজের বেশি আছে বইটাতে।শেষের দিকে খুবই বিরক্ত লেগেছে শেষ করতে।
May 7, 2026
সারাক্ষণ চাপা একটা মাথাব্যথা আর শরীর খারাপের অসুস্থ অনুভুতি নিয়ে দিন কাটাচ্ছে জামি। ২৮ বছরের এই তরুণ চাকরি করে একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। খুবই একঘেয়ে রুটিনে বাঁধা জীবন তার। দীর্ঘদিন ধরে বয়ে নিয়ে চলা অজানা অসুস্থতা আর এই রুটিন নিয়ে কোনরকমে দিন কেটে যাচ্ছিলো জামি'র। কিন্তু হঠাৎ এক বিকেলে এলোমেলো হয়ে গেলো সবকিছু। বিশেষ সেই বিকেলে নিজের পুরান ঢাকার বাসা থেকে বেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে জামি পৌঁছে গিয়েছিলো প্রেসক্লাবের সামনে। আর সেখানেই সে মুখোমুখি হলো এমন এক নারকীয় ঘটনার যেটা তার সমগ্র চিন্তাজগতকে একরকম দুমড়ে-মুচড়ে দিলো।
প্রেসক্লাবের সামনের ওই ঘটনার পর জামি'র জীবনে আসে দিব্য নামের এক রহস্যময় তরুণ। খুবই ড্যাশিং আর হ্যান্ডসাম দেখতে এই ছেলেটা জামিকে নিয়ে যায় এক অদ্ভুত গ্রুপ সেশনে। সেখানে জামি পরিচিত হয় প্রোফেসর কাদির, আসহাব, মৌসুমি আর নিক সহ আরো কিছু মানুষের সাথে। সদ্য পরিচিত হওয়া দিব্য আর এই চক্রের বাকিরা জামিকে শোনায় এক অদ্ভুত গল্প। যে গল্পে তাদের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে সরকারি কোন এক গোপন সংস্থা। জামি'র এই সার্বক্ষণিক মাথাব্যথা আর শরীর খারাপের অনুভূতিও নাকি এরই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। নিজেদেরকে 'সংঘ'-এর সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয়া এই মানুষগুলোর সাথে কেন যেন জামি দারুণ একাত্মতা বোধ করে।
প্রায় ১১ বছর ধরে দেশের রাষ্ট্রক্ষমতার মসনদে বসে আছেন প্রধানমন্ত্রী গাজী সোবহানুল হক। ইদানীং তাঁর স্বৈরাচারী মনোভাব আর বিরোধীদলের প্রতি তাঁর দমননীতির কারণে অসন্তুষ্ট হয়ে উঠতে শুরু করেছে দেশের মানুষ। গোপনে নাকি জনগণের মাইন্ড কন্ট্রোল করার কোন এক প্রোজেক্টও চালাচ্ছে গাজী সোবহানুল হকের সরকার। এসবের সাথে সংঘের সদস্যদের সমস্যার সম্পর্ক কি? নাকি পুরো ব্যাপারটাই এই গোপন এক্সপেরিমেন্টের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত? জামি'র সংঘের সেশনের যাওয়ার মাত্রা যেমন বাড়তে লাগলো তেমনই মৌসুমি ওকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো আসলেই কে বা কারা সবসময় নজর রেখে চলেছে ওদের ওপর। জামি'র সাইক্রিয়াটিস্ট ডা. লিসানুল হকও মনে করে এসবের আরো গভীরে ঢোকা দরকার জামি'র।
জামি'র দুঃস্বপ্নে এসে হানা দেয়া জোড়া ভ্রু'র অর্ধ টাক মাথার মানুষটা কে? মাঝেমাঝেই তার মনে হয়, শরীরটা ওর কিন্তু চালাচ্ছে অন্য কেউ। সরকারের এই কড়া নজরদারি থেকে বাঁচতে দিব্য'র করা মাস্টারপ্ল্যানটা আসলে কি? আর সেটা কি আসলেই কাজ করবে? এক লহমায় যেন এক সাধারণ তরুণ থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ কোন ব্যক্তিতে পরিণত হলো জামি। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ কেউ আড়ালে বসে সবকিছু দেখছে। সে তার নিজের গল্পের প্রধান চরিত্র। আর তাকে ঘিরেই ঘটে চলেছে জগতের সবকিছু। নিজের কাহিনির সর্বেসর্বা সে। কন্সপিরেসি থিওরি, উদ্ভট সব দৃশ্যকল্প আর মাইন্ড কন্ট্রোলের মতো অবিশ্বাস্য সব ব্যাপার সংঘের সদস্যদের মাথার ওপর কালো মেঘের মতো ঘন হয়ে আসছে।
কে সত্যি বলছে আর কে মিথ্যা বলছে একটা সময় সেটাই বড় কনফিউশন হয়ে দাঁড়ালো জামি'র কাছে। আর এসবের সাথে গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো সার্বক্ষণিক অসুস্থতা তো আছেই। জামি কি পারবে সর্বেসর্বার বানানো এই কঠিন জাল ছিড়ে বের হতে?
প্রবল পাঠকপ্রিয় 'বাজিকর ট্রিলজি'-এর লেখক নাবিল মুহতাসিমের 'সর্বেসর্বা' মূলত একটা কন্সপিরেসি থ্রিলার। ২০২৫-এর বইমেলায় বইটা প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই এটা নিয়ে প্রচুর আলোচনা-সমালোচনা চোখে পড়েছে। গুডরিডসেও বইটার রেটিং আর রিভিউয়ে নেগেটিভের পাল্লাটাই বেশি ভারি। 'সর্বেসর্বা' আমি সেই সময় সংগ্রহ করলেও অপেক্ষায় ছিলাম এসব আলোচনা-সমালোচনা স্তিমিত হয়ে আসার। কারণ সেটাই আমার কাছে বইটা পড়ার পারফেক্ট সময় বলে মনে হয়েছিলো। তাই সংগ্রহে থাকা সত্ত্বেও 'সর্বেসর্বা' প্রকাশের প্রায় এক বছর পর আমি বইটা পড়লাম। আর সারপ্রাইজিংলি বইটা আমার কাছে মোটামুটি ভালোই লেগেছে। বিভিন্ন নেগেটিভ রিভিউয়ের ভিড়ে 'সর্বেসর্বা'-এর প্রতি আমার এক্সপেকটেশন এতোটাই কমে এসেছিলো যে আমি নিশ্চিত ছিলাম না বইটা আমার ভালো লাগবে কি-না। কিন্তু এটা পড়া শেষ করার পর আমার একটা কথাই মনে হয়েছে। 'সর্বেসর্বা' এতোটাও হেট্রেড ডিজার্ভ করে না।
নাবিল মুহতাসিম বরাবরই গল্প বলার ওস্তাদ। তাঁর নিজস্ব একটা বর্ণনাভঙ্গি আছে যেটা পাঠককে ধরে রাখে। গল্প বলাটাকে তিনি নিজেও বেশ উপভোগ করেন বলেই এমনটা সম্ভব। তাঁর এই গুণের প্রমাণ পেয়েছিলাম 'বাজিকর ট্রিলজি' পড়ার সময়। 'সর্বেসর্বা'-ও এর ব্যতিক্রম না। কাহিনির শুরুটা জামি নামের চরিত্রের অদ্ভুত অসুস্থতা আর একঘেয়ে জীবনযাপন দিয়ে। 'সর্বেসর্বা'-এর শুরুর দিকের কয়েকটা অধ্যায় আমার কাছে খানিকটা বোরিং লাগলেও ধীরে ধীরে সেই ভাবটা কেটে গেছে। কাহিনির যতো গভীরে প্রবেশ করেছি ততোই ভালো লাগার মাত্রা বেড়েছে। আসহাবের উদ্ভট কন্সপিরেসি থিওরি, মাইন্ড কন্ট্রোলের মতো অস্বস্তিকর ব্যাপারস্যাপার, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা আর সংঘের সদস্যদের কর্মকাণ্ড মিলিয়ে বেশ থ্রিলিং হয়ে উঠেছে 'সর্বেসর্বা'-এর মূল কাহিনি।
'সর্বেসর্বা'-তে বেশ কিছু প্লটহোল ছিলো। বিশেষ করে ম্যাস মাইন্ড কন্ট্রোলের কন্সেপ্টটা আমার কাছে পরিস্কার হয়নি। শুধুমাত্র একজন মানুষের অঙ্গুলিহেলনে চারপাশের জীব ও জড় জগত কিভাবে তোলপাড় হয়ে যাচ্ছে সেই ব্যাপারটাও আমার কাছে অনেকটা অব্যাখ্যাত মনে হয়েছে। এই সিকোয়েন্সগুলো পড়ার সময় মনে হচ্ছিলো মার্ভেল কমিক্সের কোন সিকোয়েন্স চোখের সামনে ঘটতে দেখছি। বিশেষ করে মার্ভেল কমিক্সের বিখ্যাত ক্যারেক্টার এক্স মেন-এর ম্যাগনিটোর কথা বেশি মনে পড়েছে এই জায়গাগুলোতে। আবার সরকারের ট্র্যাকিং সিস্টেমটাও কিছু জায়গায় হাস্যকর লেগেছে। সংঘের সদস্যরা নিজেদের সেলফোন অন রেখে সেশনে বসছে, অথচ তাদেরকে ট্র্যাক করার জন্য সরকারকে আরো অ্যাডভান্সড টেকনোলজির সাহায্য নিতে হচ্ছে, এই ব্যাপারটাও ত্রুটিপূর্ণ লেগেছে আমার কাছে।
'সর্বেসর্বা' বইটা যখন প্রায় অর্ধেক পর্যন্ত পড়ে ফেলেছি প্রায় তখনই আমি এটার মূল অ্যান্টাগনিস্টের পরিচয়ের ব্যাপারে আন্দাজ করে ফেলেছিলাম। আমার এই আন্দাজটা শেষে গিয়ে মিলেও গেছে অবশ্য। যাই হোক, বইটার মূল প্লট আমার কাছে ইন্টারেস্টিং মনে হয়েছে। একটা কন্সপিরেসি থ্রিলারের প্লট হিসেবে 'সর্বেসর্বা'-এর প্লট যথেষ্ট শক্তিশালী ছিলো। আর প্লটহোলগুলোর ব্যাপারে বাদ দিলে নাবিল মুহতাসিম তাঁর এই প্লটটা মোটামুটি ভালোভাবেই এক্সিকিউট করতে পেরেছেন। তাঁর চমৎকার গল্প বলার ধরণের কারণে সেকেন্ড হাফের পর থেকে বইটা বেশ উপভোগ্য হয়ে উঠেছিলো। অ্যাকশন সিকোয়েন্সগুলোর মাঝে কিছুটা সিনেম্যাটিক ভাইব থাকলেও পড়তে খারাপ লাগেনি। তবুও কিছু জায়গা পড়ে মনে মনে হয়েছে ফিজিক্সের গলা চেপে ধরেছেন তিনি, বিশেষ করে প্রবল শক্তিশালী এক চরিত্রের ইশারায় চারপাশের সবকিছু উল্টেপাল্টে দেয়ার জায়গাগুলোতে।
সর্বশেষ যে অসঙ্গতিটা নিয়ে আমি কথা বলতে চাই সেটা হলো একটা বিরাট ঘটনা মিডিয়ার চোখের সামনে থেকে একেবারে ভ্যানিশ করে দেয়া। এটা যেকোন রাষ্ট্রযন্ত্রের পক্ষে সম্ভব। তবে 'সর্বেসর্বা'-তে যেভাবে দেখানো হয়েছে, এতোটা পরিস্কারভাবে কোন ট্র্যাক না রেখে কোন ঘটনা মিডিয়ার এই উৎকর্ষের যুগে তাদের চোখে সামনে থেকে ভ্যানিশ করে ফেলা সম্ভব না। অবশ্য ফিকশন তো ফিকশনই, তাই না? 'সর্বেসর্বা' লেখক নাবিল মুহতাসিমের ওয়ান অভ দ্য বেস্ট বা বেস্ট কাজের কোনটাই না। তবে এটাকে একদম পাতে তোলার অযোগ্য বলেও মনে হয়নি আমার কাছে। আমার এই পাঠকজীবনে আমি এর চাইতেও ঢের দুর্বল প্লট এক্সিকিউশন সমৃদ্ধ উপন্যাস পড়েছি। 'সর্বেসর্বা' সেগুলোর কাতারে পড়ে না।
'সর্বেসর্বা'-তে বেশ কয়েক জায়গায় নাবিল মুহতাসিম তাঁর 'বাজিকর ট্রিলজি'-এর রেফারেন্স দিয়েছেন। ব্যাপারটা ভালো লেগেছে। এই উপন্যাসের শেষটাও বেশ ভালো লেগেছে আমার। একটা বই (সেটা যেকোন বই হতে পারে) সবার কাছে ভালো লাগবে না। সেটা স্বাভাবিকও না। এই রিভিউটা যারা এতোক্ষণ পড়লেন তাদের অনেকের কাছেই হয়তো 'সর্বেসর্বা' ভালো লাগেনি। তাদের সেই ভালো না লাগার অনুভূতির প্রতি আমার রেসপেক্ট আছে। বইটা আমার কাছে মোটামুটি ভালো লেগেছে। আমার এই অনুভূতির প্রতিও আমি সেই মিউচুয়াল রেসপেক্টটা আশা করি। এই রিভিউয়ে উল্লেখ করা ব্যাপারগুলো একান্তই আমার নিজস্ব অভিমত। এসবের সাথে কেউ একমত হতে না পারলেও আমাকে কমেন্টে বা ইনবক্সে আক্রমনাত্মক কিছু লিখবেন না৷ সেক্ষেত্রে আমাকেও শিষ্টাচার ভুলে যেতে হবে কিছুক্ষণের জন্য। সেটা বোধহয় ভালো হবে না। একটা বই কারো খারাপ লাগলে যেমন পাঠক হিসেবে তার সেই অনুভূতি প্রকাশ করার অধিকার আছে, সেই একই বই কারো ভালো লাগলেও সেটা সে নির্দ্বিধায় প্রকাশ করতে পারে। পরমত সহিষ্ণুতা এসব ক্ষেত্রে বেশ জরুরি। ওই যে বললাম, মিউচুয়াল রেসপেক্ট। ব্যাপারটা এমনই।
নাবিল মুহতাসিমের সম্প্রতি প্রকাশিত বই 'অনাহূত' পড়ার ক্ষেত্রে বেশি দেরি করবো না। শীঘ্রই পড়ে ফেলবো। 'সর্বেসর্বা'-তে আরাফাত করিমের করা প্রচ্ছদটা ভালো লেগেছে। বইটার প্রোডাকশনও ছিলো চমৎকার। যারা বইটা পড়েননি, পড়বেন কি পড়বেন না সেটা আপনার একান্ত নিজস্ব সিদ্ধান্ত। আমার রিভিউয়ের প্রতি ভরসা রাখতে পারলে আর নিজের মনে টানলে পড়ে দেখতে পারেন।
ব্যক্তিগত রেটিং: ৩.৭৫/৫
বই: সর্বেসর্বা
লেখক: নাবিল মুহতাসিম
প্রকাশক: চিরকুট প্রকাশনী
প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
ঘরানা: কন্সপিরেসি থ্রিলার
প্রচ্ছদ: আরাফাত করিম
পৃষ্ঠা: ৩২০
মুদ্রিত মূল্য: ৫২০ টাকা
ফরম্যাট: হার্ডকভার
(০৭ মে, ২০২৬, দুপুর ১ টা ৩৩ মিনিট; নাটোর)
প্রেসক্লাবের সামনের ওই ঘটনার পর জামি'র জীবনে আসে দিব্য নামের এক রহস্যময় তরুণ। খুবই ড্যাশিং আর হ্যান্ডসাম দেখতে এই ছেলেটা জামিকে নিয়ে যায় এক অদ্ভুত গ্রুপ সেশনে। সেখানে জামি পরিচিত হয় প্রোফেসর কাদির, আসহাব, মৌসুমি আর নিক সহ আরো কিছু মানুষের সাথে। সদ্য পরিচিত হওয়া দিব্য আর এই চক্রের বাকিরা জামিকে শোনায় এক অদ্ভুত গল্প। যে গল্পে তাদের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে সরকারি কোন এক গোপন সংস্থা। জামি'র এই সার্বক্ষণিক মাথাব্যথা আর শরীর খারাপের অনুভূতিও নাকি এরই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। নিজেদেরকে 'সংঘ'-এর সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয়া এই মানুষগুলোর সাথে কেন যেন জামি দারুণ একাত্মতা বোধ করে।
প্রায় ১১ বছর ধরে দেশের রাষ্ট্রক্ষমতার মসনদে বসে আছেন প্রধানমন্ত্রী গাজী সোবহানুল হক। ইদানীং তাঁর স্বৈরাচারী মনোভাব আর বিরোধীদলের প্রতি তাঁর দমননীতির কারণে অসন্তুষ্ট হয়ে উঠতে শুরু করেছে দেশের মানুষ। গোপনে নাকি জনগণের মাইন্ড কন্ট্রোল করার কোন এক প্রোজেক্টও চালাচ্ছে গাজী সোবহানুল হকের সরকার। এসবের সাথে সংঘের সদস্যদের সমস্যার সম্পর্ক কি? নাকি পুরো ব্যাপারটাই এই গোপন এক্সপেরিমেন্টের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত? জামি'র সংঘের সেশনের যাওয়ার মাত্রা যেমন বাড়তে লাগলো তেমনই মৌসুমি ওকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো আসলেই কে বা কারা সবসময় নজর রেখে চলেছে ওদের ওপর। জামি'র সাইক্রিয়াটিস্ট ডা. লিসানুল হকও মনে করে এসবের আরো গভীরে ঢোকা দরকার জামি'র।
জামি'র দুঃস্বপ্নে এসে হানা দেয়া জোড়া ভ্রু'র অর্ধ টাক মাথার মানুষটা কে? মাঝেমাঝেই তার মনে হয়, শরীরটা ওর কিন্তু চালাচ্ছে অন্য কেউ। সরকারের এই কড়া নজরদারি থেকে বাঁচতে দিব্য'র করা মাস্টারপ্ল্যানটা আসলে কি? আর সেটা কি আসলেই কাজ করবে? এক লহমায় যেন এক সাধারণ তরুণ থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ কোন ব্যক্তিতে পরিণত হলো জামি। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ কেউ আড়ালে বসে সবকিছু দেখছে। সে তার নিজের গল্পের প্রধান চরিত্র। আর তাকে ঘিরেই ঘটে চলেছে জগতের সবকিছু। নিজের কাহিনির সর্বেসর্বা সে। কন্সপিরেসি থিওরি, উদ্ভট সব দৃশ্যকল্প আর মাইন্ড কন্ট্রোলের মতো অবিশ্বাস্য সব ব্যাপার সংঘের সদস্যদের মাথার ওপর কালো মেঘের মতো ঘন হয়ে আসছে।
কে সত্যি বলছে আর কে মিথ্যা বলছে একটা সময় সেটাই বড় কনফিউশন হয়ে দাঁড়ালো জামি'র কাছে। আর এসবের সাথে গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো সার্বক্ষণিক অসুস্থতা তো আছেই। জামি কি পারবে সর্বেসর্বার বানানো এই কঠিন জাল ছিড়ে বের হতে?
প্রবল পাঠকপ্রিয় 'বাজিকর ট্রিলজি'-এর লেখক নাবিল মুহতাসিমের 'সর্বেসর্বা' মূলত একটা কন্সপিরেসি থ্রিলার। ২০২৫-এর বইমেলায় বইটা প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই এটা নিয়ে প্রচুর আলোচনা-সমালোচনা চোখে পড়েছে। গুডরিডসেও বইটার রেটিং আর রিভিউয়ে নেগেটিভের পাল্লাটাই বেশি ভারি। 'সর্বেসর্বা' আমি সেই সময় সংগ্রহ করলেও অপেক্ষায় ছিলাম এসব আলোচনা-সমালোচনা স্তিমিত হয়ে আসার। কারণ সেটাই আমার কাছে বইটা পড়ার পারফেক্ট সময় বলে মনে হয়েছিলো। তাই সংগ্রহে থাকা সত্ত্বেও 'সর্বেসর্বা' প্রকাশের প্রায় এক বছর পর আমি বইটা পড়লাম। আর সারপ্রাইজিংলি বইটা আমার কাছে মোটামুটি ভালোই লেগেছে। বিভিন্ন নেগেটিভ রিভিউয়ের ভিড়ে 'সর্বেসর্বা'-এর প্রতি আমার এক্সপেকটেশন এতোটাই কমে এসেছিলো যে আমি নিশ্চিত ছিলাম না বইটা আমার ভালো লাগবে কি-না। কিন্তু এটা পড়া শেষ করার পর আমার একটা কথাই মনে হয়েছে। 'সর্বেসর্বা' এতোটাও হেট্রেড ডিজার্ভ করে না।
নাবিল মুহতাসিম বরাবরই গল্প বলার ওস্তাদ। তাঁর নিজস্ব একটা বর্ণনাভঙ্গি আছে যেটা পাঠককে ধরে রাখে। গল্প বলাটাকে তিনি নিজেও বেশ উপভোগ করেন বলেই এমনটা সম্ভব। তাঁর এই গুণের প্রমাণ পেয়েছিলাম 'বাজিকর ট্রিলজি' পড়ার সময়। 'সর্বেসর্বা'-ও এর ব্যতিক্রম না। কাহিনির শুরুটা জামি নামের চরিত্রের অদ্ভুত অসুস্থতা আর একঘেয়ে জীবনযাপন দিয়ে। 'সর্বেসর্বা'-এর শুরুর দিকের কয়েকটা অধ্যায় আমার কাছে খানিকটা বোরিং লাগলেও ধীরে ধীরে সেই ভাবটা কেটে গেছে। কাহিনির যতো গভীরে প্রবেশ করেছি ততোই ভালো লাগার মাত্রা বেড়েছে। আসহাবের উদ্ভট কন্সপিরেসি থিওরি, মাইন্ড কন্ট্রোলের মতো অস্বস্তিকর ব্যাপারস্যাপার, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা আর সংঘের সদস্যদের কর্মকাণ্ড মিলিয়ে বেশ থ্রিলিং হয়ে উঠেছে 'সর্বেসর্বা'-এর মূল কাহিনি।
'সর্বেসর্বা'-তে বেশ কিছু প্লটহোল ছিলো। বিশেষ করে ম্যাস মাইন্ড কন্ট্রোলের কন্সেপ্টটা আমার কাছে পরিস্কার হয়নি। শুধুমাত্র একজন মানুষের অঙ্গুলিহেলনে চারপাশের জীব ও জড় জগত কিভাবে তোলপাড় হয়ে যাচ্ছে সেই ব্যাপারটাও আমার কাছে অনেকটা অব্যাখ্যাত মনে হয়েছে। এই সিকোয়েন্সগুলো পড়ার সময় মনে হচ্ছিলো মার্ভেল কমিক্সের কোন সিকোয়েন্স চোখের সামনে ঘটতে দেখছি। বিশেষ করে মার্ভেল কমিক্সের বিখ্যাত ক্যারেক্টার এক্স মেন-এর ম্যাগনিটোর কথা বেশি মনে পড়েছে এই জায়গাগুলোতে। আবার সরকারের ট্র্যাকিং সিস্টেমটাও কিছু জায়গায় হাস্যকর লেগেছে। সংঘের সদস্যরা নিজেদের সেলফোন অন রেখে সেশনে বসছে, অথচ তাদেরকে ট্র্যাক করার জন্য সরকারকে আরো অ্যাডভান্সড টেকনোলজির সাহায্য নিতে হচ্ছে, এই ব্যাপারটাও ত্রুটিপূর্ণ লেগেছে আমার কাছে।
'সর্বেসর্বা' বইটা যখন প্রায় অর্ধেক পর্যন্ত পড়ে ফেলেছি প্রায় তখনই আমি এটার মূল অ্যান্টাগনিস্টের পরিচয়ের ব্যাপারে আন্দাজ করে ফেলেছিলাম। আমার এই আন্দাজটা শেষে গিয়ে মিলেও গেছে অবশ্য। যাই হোক, বইটার মূল প্লট আমার কাছে ইন্টারেস্টিং মনে হয়েছে। একটা কন্সপিরেসি থ্রিলারের প্লট হিসেবে 'সর্বেসর্বা'-এর প্লট যথেষ্ট শক্তিশালী ছিলো। আর প্লটহোলগুলোর ব্যাপারে বাদ দিলে নাবিল মুহতাসিম তাঁর এই প্লটটা মোটামুটি ভালোভাবেই এক্সিকিউট করতে পেরেছেন। তাঁর চমৎকার গল্প বলার ধরণের কারণে সেকেন্ড হাফের পর থেকে বইটা বেশ উপভোগ্য হয়ে উঠেছিলো। অ্যাকশন সিকোয়েন্সগুলোর মাঝে কিছুটা সিনেম্যাটিক ভাইব থাকলেও পড়তে খারাপ লাগেনি। তবুও কিছু জায়গা পড়ে মনে মনে হয়েছে ফিজিক্সের গলা চেপে ধরেছেন তিনি, বিশেষ করে প্রবল শক্তিশালী এক চরিত্রের ইশারায় চারপাশের সবকিছু উল্টেপাল্টে দেয়ার জায়গাগুলোতে।
সর্বশেষ যে অসঙ্গতিটা নিয়ে আমি কথা বলতে চাই সেটা হলো একটা বিরাট ঘটনা মিডিয়ার চোখের সামনে থেকে একেবারে ভ্যানিশ করে দেয়া। এটা যেকোন রাষ্ট্রযন্ত্রের পক্ষে সম্ভব। তবে 'সর্বেসর্বা'-তে যেভাবে দেখানো হয়েছে, এতোটা পরিস্কারভাবে কোন ট্র্যাক না রেখে কোন ঘটনা মিডিয়ার এই উৎকর্ষের যুগে তাদের চোখে সামনে থেকে ভ্যানিশ করে ফেলা সম্ভব না। অবশ্য ফিকশন তো ফিকশনই, তাই না? 'সর্বেসর্বা' লেখক নাবিল মুহতাসিমের ওয়ান অভ দ্য বেস্ট বা বেস্ট কাজের কোনটাই না। তবে এটাকে একদম পাতে তোলার অযোগ্য বলেও মনে হয়নি আমার কাছে। আমার এই পাঠকজীবনে আমি এর চাইতেও ঢের দুর্বল প্লট এক্সিকিউশন সমৃদ্ধ উপন্যাস পড়েছি। 'সর্বেসর্বা' সেগুলোর কাতারে পড়ে না।
'সর্বেসর্বা'-তে বেশ কয়েক জায়গায় নাবিল মুহতাসিম তাঁর 'বাজিকর ট্রিলজি'-এর রেফারেন্স দিয়েছেন। ব্যাপারটা ভালো লেগেছে। এই উপন্যাসের শেষটাও বেশ ভালো লেগেছে আমার। একটা বই (সেটা যেকোন বই হতে পারে) সবার কাছে ভালো লাগবে না। সেটা স্বাভাবিকও না। এই রিভিউটা যারা এতোক্ষণ পড়লেন তাদের অনেকের কাছেই হয়তো 'সর্বেসর্বা' ভালো লাগেনি। তাদের সেই ভালো না লাগার অনুভূতির প্রতি আমার রেসপেক্ট আছে। বইটা আমার কাছে মোটামুটি ভালো লেগেছে। আমার এই অনুভূতির প্রতিও আমি সেই মিউচুয়াল রেসপেক্টটা আশা করি। এই রিভিউয়ে উল্লেখ করা ব্যাপারগুলো একান্তই আমার নিজস্ব অভিমত। এসবের সাথে কেউ একমত হতে না পারলেও আমাকে কমেন্টে বা ইনবক্সে আক্রমনাত্মক কিছু লিখবেন না৷ সেক্ষেত্রে আমাকেও শিষ্টাচার ভুলে যেতে হবে কিছুক্ষণের জন্য। সেটা বোধহয় ভালো হবে না। একটা বই কারো খারাপ লাগলে যেমন পাঠক হিসেবে তার সেই অনুভূতি প্রকাশ করার অধিকার আছে, সেই একই বই কারো ভালো লাগলেও সেটা সে নির্দ্বিধায় প্রকাশ করতে পারে। পরমত সহিষ্ণুতা এসব ক্ষেত্রে বেশ জরুরি। ওই যে বললাম, মিউচুয়াল রেসপেক্ট। ব্যাপারটা এমনই।
নাবিল মুহতাসিমের সম্প্রতি প্রকাশিত বই 'অনাহূত' পড়ার ক্ষেত্রে বেশি দেরি করবো না। শীঘ্রই পড়ে ফেলবো। 'সর্বেসর্বা'-তে আরাফাত করিমের করা প্রচ্ছদটা ভালো লেগেছে। বইটার প্রোডাকশনও ছিলো চমৎকার। যারা বইটা পড়েননি, পড়বেন কি পড়বেন না সেটা আপনার একান্ত নিজস্ব সিদ্ধান্ত। আমার রিভিউয়ের প্রতি ভরসা রাখতে পারলে আর নিজের মনে টানলে পড়ে দেখতে পারেন।
ব্যক্তিগত রেটিং: ৩.৭৫/৫
বই: সর্বেসর্বা
লেখক: নাবিল মুহতাসিম
প্রকাশক: চিরকুট প্রকাশনী
প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
ঘরানা: কন্সপিরেসি থ্রিলার
প্রচ্ছদ: আরাফাত করিম
পৃষ্ঠা: ৩২০
মুদ্রিত মূল্য: ৫২০ টাকা
ফরম্যাট: হার্ডকভার
(০৭ মে, ২০২৬, দুপুর ১ টা ৩৩ মিনিট; নাটোর)
September 5, 2025
কাহিনীর বিনির্মাণ এবং স্টোরিটেলিংয়ের মুন্সিয়ানার জন্য প্রতি বইমেলায় অন্তত একজন লেখকের বইয়ের অপেক্ষায় থাকি- নাবিল মুহতাসিম।
লেখকের প্লট কিংবা অ্যাকশন সিনগুলো নিয়ে পাঠকের মতভেদ দেখা যায়৷ তবে একবাক্যে সবাই মেনে নেন যে- লেখক সামনে বসে গল্প শোনাচ্ছেন- বইগুলো পড়ে এরকম একটা ফিলিং হয়।
খুবই পরিচিত একটা কন্সপিরেসি থিওরি বইটার প্লট। কিছু ইন্টারেস্টিং চরিত্র, সাথে লেখকের বাজিকর ইউনিভার্স থেকে নিয়ে আসা কিছু ঘটনা; সবমিলিয়ে বেশ ভালোই। তবে এই বইটায় লেখকের সহজাত ফাস্টপেসিং স্টোরিটেলিং অনুপস্থিত মনে হলো। অবশ্য এটার যথাযথ একটা কারণ আছে- লেখকের অন্যান্য বইয়ের তুলনায় এখানে ডিটেইলিং তুলনামূলকভাবে কমপ্লিট।
শেষ দিকটায় বুঝতে একটু অসুবিধা হলেও শেষ পর্যন্ত কাহিনি বোঝা গেছে।
রেকমেন্ডেড।
লেখকের প্লট কিংবা অ্যাকশন সিনগুলো নিয়ে পাঠকের মতভেদ দেখা যায়৷ তবে একবাক্যে সবাই মেনে নেন যে- লেখক সামনে বসে গল্প শোনাচ্ছেন- বইগুলো পড়ে এরকম একটা ফিলিং হয়।
খুবই পরিচিত একটা কন্সপিরেসি থিওরি বইটার প্লট। কিছু ইন্টারেস্টিং চরিত্র, সাথে লেখকের বাজিকর ইউনিভার্স থেকে নিয়ে আসা কিছু ঘটনা; সবমিলিয়ে বেশ ভালোই। তবে এই বইটায় লেখকের সহজাত ফাস্টপেসিং স্টোরিটেলিং অনুপস্থিত মনে হলো। অবশ্য এটার যথাযথ একটা কারণ আছে- লেখকের অন্যান্য বইয়ের তুলনায় এখানে ডিটেইলিং তুলনামূলকভাবে কমপ্লিট।
শেষ দিকটায় বুঝতে একটু অসুবিধা হলেও শেষ পর্যন্ত কাহিনি বোঝা গেছে।
রেকমেন্ডেড।
April 6, 2025
আরেকটু সংক্ষিপ্ত পরিসরে বোধহয় শেষ করা যেত।
June 28, 2025
শেষের দিকে এসে কিছুটা গতি পাইছে।
সত্যি বললে প্রথম ১৮৪ পেইজ জাস্ট ২০-৩০ পেইজের লেখা এত দূর টানা হয়ছে।
গল্প টা এতটাও ভাল্লাগেনাই।
বিলো এভারেজ!!
রেটিং: ২/১০
সত্যি বললে প্রথম ১৮৪ পেইজ জাস্ট ২০-৩০ পেইজের লেখা এত দূর টানা হয়ছে।
গল্প টা এতটাও ভাল্লাগেনাই।
বিলো এভারেজ!!
রেটিং: ২/১০
June 26, 2026
প্লট খুব একটা ভালো লাগে নাই। পড়তে খুব বেগ পেতে হয়েছে। কাহিনী টেনে অতিরিক্ত লম্বা করা হয়েছে।
March 23, 2025
প্লট টা আকর্ষনিয় ছিল।কিন্ত এক্সিকিউশন টা ছিল পুওর।গল্পের মধ্যে থ্রিলার এলিমেন্ট যদি আরেকটু বেশি থাকত বা সাসপেন্স টা যদি লেখক পুরো গল্প জুড়ে বজায় রাখত অথবা এত বৃহৎ কলেবরের না হয়ে আরেকটু ছোট কলেবরের হতো তাহলে ৫ তারা না হলেও চার তারা দেওয়ার মতো বই হতো।বইটি মাঝে অতিরিক্ত স্লো হয়ে গেছিল এর ফলে খেই হারিয়ে ফেলেছিলাম।
তবে একটা কথাই বলতে হত লেখক নাবিলের বইতে জায়গায় জায়গায় "ইস্টার এফ" ব্যবহার করা টা সত্যি মজাদার ছিল।
তবে একটা কথাই বলতে হত লেখক নাবিলের বইতে জায়গায় জায়গায় "ইস্টার এফ" ব্যবহার করা টা সত্যি মজাদার ছিল।
February 23, 2026
কর্পোরেট চাকুরিজীবী জামি দুই বছর থেকে কিছু অসুস্থতায় ভুগছে। প্রচন্ড মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাব, দুর্বলতা এসব আরকি। কিন্তু এর কোনো সমাধান সে খুজে পায়নি। হঠাৎ একদিন প্রেসক্লাবের সামনে একটা সমাবেশ থেকে বের হয়ে কিছু লোকজনকে তিনজন পুলিশকে কোপাতে দেখে জামি। ভয়ে দৌড়ে পালাতে গিয়ে দেখা হয় দিব্য নামের আরেক চরিত্রের সাথে। দিব্যর মাধম্যে সে এমন এক সংঘের সাথে পরিচিত হয় যাদের কম বেশি জামির মত অসুস্থতা বা ভিন্নধর্মী কিছু সমস্যা রয়েছে। জামি অবাক হয় যখন সে জানতে পারে সেই সাথে তারা সবাই রয়েছে সরকারি নজরদারিতে। কিন্তু কেন?
সে আরো অবাক হয় পুলিশ কোপানোর এতবড় ঘটনা কোনো নিউজে আসে নি, সোশাল মিডিয়ায় নেই, কেউ কিচ্ছু জানে না। অথচ সব ঘটেছে তার চোখের সামনে। তাহলে কি তারই হ্যালুসিনেশন হচ্ছে?
এর উত্তর পাওয়ার জন্য জামি যায় এক সাইকিয়াট্রিস্ট এর কাছে। জামিরই কি কোনো মানসিক সমস্যা? নাকি তার আশেপাশের পরিবেশে সত্যিই অদ্ভুত কিছু ঘটছে? নাকি সব তার স্বপ্ন?
ব্যক্তিগত রেটিং- ৬.৫/১০
(যারা 3am সিরিজটা পড়েছে তাদের খুব একটা ভালো লাগবে না হয়তো, কারণ 3am এর স্লিপ অ্যামপ্লিফিকেশন আর সর্বেসর্বার রেম স্লিপ অনেকটাই একরকম)
সে আরো অবাক হয় পুলিশ কোপানোর এতবড় ঘটনা কোনো নিউজে আসে নি, সোশাল মিডিয়ায় নেই, কেউ কিচ্ছু জানে না। অথচ সব ঘটেছে তার চোখের সামনে। তাহলে কি তারই হ্যালুসিনেশন হচ্ছে?
এর উত্তর পাওয়ার জন্য জামি যায় এক সাইকিয়াট্রিস্ট এর কাছে। জামিরই কি কোনো মানসিক সমস্যা? নাকি তার আশেপাশের পরিবেশে সত্যিই অদ্ভুত কিছু ঘটছে? নাকি সব তার স্বপ্ন?
ব্যক্তিগত রেটিং- ৬.৫/১০
(যারা 3am সিরিজটা পড়েছে তাদের খুব একটা ভালো লাগবে না হয়তো, কারণ 3am এর স্লিপ অ্যামপ্লিফিকেশন আর সর্বেসর্বার রেম স্লিপ অনেকটাই একরকম)
June 20, 2025
A boring piece of shit
May 14, 2025
অনেকদিন পর ঠিক করলাম—এবার বইমেলা থেকে নতুন লেখকদের বই পড়ব। ছোট্ট একটা তালিকা বানিয়ে, বই কিনে পড়ার শুরুটা করলাম *সর্বেসবা* দিয়ে। বহুদিনের পুরোনো অভ্যাসকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে বইটা পড়েছি সময় নিয়ে, ধীরে।
নাবিল মুহতাশিমের এটাই আমার প্রথম পাঠ। প্রথমেই যেটা চোখে পড়ে, তা হলো তাঁর লেখার স্বাচ্ছন্দ্য। ভাষা সাবলীল, প্রাঞ্জল—এক নিশ্বাসে পড়া যায়। এই লেখা বিশেষ করে উপযোগী তাদের জন্য, যারা বহুদিন পর বইয়ে ডুব দিতে চাইছেন।
তবে কাহিনির গঠনে কিছু মিশ্র অনুভূতি কাজ করেছে। প্লট নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয়, কিন্তু গতি যেন বারবার ছন্দ হারিয়েছে। অনেকটা জায়গাজুড়ে লেখক যেন সাবলীলতা বজায় রাখতে গিয়ে কাহিনির গভীরতাকে কিছুটা বিস্তৃত করেছেন, এমনকি বাড়িয়েও দিয়েছেন। ফলে উপসংহারে এসে কিছুটা তাড়াহুড়ো লেগেছে—যেখানে পাঠকের তৃপ্তির চূড়ান্ত বিস্তার হওয়ার কথা, সেখানে একটু যেন অপূর্ণতা রয়ে গেছে।
তবুও, পুরো বইতে একটা ঘোর লেগে থাকে—যেটা লেখকের সক্ষমতার পরিচয়। থ্রিলারপ্রেমী পাঠক হিসেবে প্লটের মোড় ঘোরানো মুহূর্তগুলো আমার ভালো লেগেছে, একটু মিষ্টি, একটু হালকা, ঠিক যেমন একটি নতুন লেখকের কাছ থেকে আশা করা যায়।
সব মিলিয়ে, নাবিল মুহতাশিমকে পাঠ্যতালিকায় রাখার মতো এক নতুন নাম। তাঁর আরও কাজ দেখার আগ্রহ রইল।
নাবিল মুহতাশিমের এটাই আমার প্রথম পাঠ। প্রথমেই যেটা চোখে পড়ে, তা হলো তাঁর লেখার স্বাচ্ছন্দ্য। ভাষা সাবলীল, প্রাঞ্জল—এক নিশ্বাসে পড়া যায়। এই লেখা বিশেষ করে উপযোগী তাদের জন্য, যারা বহুদিন পর বইয়ে ডুব দিতে চাইছেন।
তবে কাহিনির গঠনে কিছু মিশ্র অনুভূতি কাজ করেছে। প্লট নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয়, কিন্তু গতি যেন বারবার ছন্দ হারিয়েছে। অনেকটা জায়গাজুড়ে লেখক যেন সাবলীলতা বজায় রাখতে গিয়ে কাহিনির গভীরতাকে কিছুটা বিস্তৃত করেছেন, এমনকি বাড়িয়েও দিয়েছেন। ফলে উপসংহারে এসে কিছুটা তাড়াহুড়ো লেগেছে—যেখানে পাঠকের তৃপ্তির চূড়ান্ত বিস্তার হওয়ার কথা, সেখানে একটু যেন অপূর্ণতা রয়ে গেছে।
তবুও, পুরো বইতে একটা ঘোর লেগে থাকে—যেটা লেখকের সক্ষমতার পরিচয়। থ্রিলারপ্রেমী পাঠক হিসেবে প্লটের মোড় ঘোরানো মুহূর্তগুলো আমার ভালো লেগেছে, একটু মিষ্টি, একটু হালকা, ঠিক যেমন একটি নতুন লেখকের কাছ থেকে আশা করা যায়।
সব মিলিয়ে, নাবিল মুহতাশিমকে পাঠ্যতালিকায় রাখার মতো এক নতুন নাম। তাঁর আরও কাজ দেখার আগ্রহ রইল।
April 21, 2025
ভালোই অতিবাস্তব মনে হইছিল, সাইক্যাডেলিক টাইপ। কিন্তু লেখনি, শেষের এক্সিকিউশন ওতো ভালো লাগে নাই। আসহাব সাহেব দারুণ ক্যারেক্টার, শেষের দিকে একটু ফুটিয়েছিল কিন্তু আরেকটু হাইলাইট পাইলে ভালো হইতো
March 21, 2025
i didn’t expect this to turn into a thriller!
February 28, 2025
One of the most excellent book of this "Boimela"
Worth every penny❤️
Worth every penny❤️
March 26, 2025
⭕ প্লট:
কর্পোরেট চাকুরিজীবী জামি দুই বছর থেকে কিছু অসুস্থতায় ভুগছে। প্রচন্ড মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাব, দুর্বলতা এসব আরকি। কিন্তু এর কোনো সমাধান সে খুজে পায়নি। হঠাৎ একদিন প্রেসক্লাবের সামনে একটা সমাবেশ থেকে বের হয়ে কিছু লোকজনকে তিনজন পুলিশকে কোপাতে দেখে জামি। ভয়ে দৌড়ে পালাতে গিয়ে দেখা হয় দিব্য নামের আরেক চরিত্রের সাথে। দিব্যর মাধম্যে সে এমন এক সংঘের সাথে পরিচিত হয় যাদের কম বেশি জামির মত অসুস্থতা বা ভিন্নধর্মী কিছু সমস্যা রয়েছে। জামি অবাক হয় যখন সে জানতে পারে সেই সাথে তারা সবাই রয়েছে সরকারি নজরদারিতে। কিন্তু কেন??
সে আরো অবাক হয় পুলিশ কোপানোর এতবড় ঘটনা কোনো নিউজে আসে নি, সোশাল মিডিয়ায় নেই, কেউ কিচ্ছু জানে না। অথচ সব ঘটেছে তার চোখের সামনে। তাহলে কি তারই হ্যালুসিনেশন হচ্ছে??
এর উত্তর পাওয়ার জন্য জামি যায় এক সাইকিয়াট্রিস্ট এর কাছে। জামিরই কি কোনো মানসিক সমস্যা?? নাকি তার আশেপাশের পরিবেশে সত্যিই অদ্ভুত কিছু ঘটছে?? নাকি সব তার স্বপ্ন?
⭕ পাঠ প্রতিক্রিয়া:
সত্যি বলতে গল্পটা আমার তেমন ভালো লাগে নি। কিন্তু একেবারেই খারাপ সেটা বলবো না। মূল গল্পই শুরু হয়েছে ১৫০ তম পৃষ্ঠা থেকে। এর আগের পুরোটাই একজন অসুস্থ কর্পোরেট চাকুরিজীবীর দিনলিপি। খুবই খুবই বোরিং এই প্রথম ১৪৯ পৃষ্ঠা। একটা লোক রিকশায় যেতে যেতে কি কি পর্যবেক্ষণ করছে, কার কানে ব্লুটুথ, কার হাতে কি চা, কে পানের পিক কোথায় ফেললো এই টাইপের অপ্রয়োজনীয় কথায় ভর্তি।
এরপরে আসি মূল গল্পে। একজন স্বৈরাচারী সরকারপ্রধানের ক্ষমতা ও তাকে শাসন থেকে সরানোর চেষ্টা করা হয়েছে এখানে। দিব্য চরিত্রটাকে প্রথম দিক থেকেই রহস্যময় করে রাখার চেষ্টা করা হলেও লেখক খুব একটা সফল হয় নি। চরিত্রের ফাক ফোকর খুব সহজেই ধরা যাচ্ছিল। গল্পের টুইস্টটা প্রেডিক্ট করতে পেরেছিলাম কিছুটা, কিন্তু পুরোটা না।
মৌসুমি সবকিছু বোঝার পরেও কেন চুপ ছিল সেটা বোধগম্য না। নরমালি এরকম হলে যে কেউ ব্যপারটা বোঝার চেষ্টা করতো, কিন্তু এখানে সে কিছুই না করে শুধু পর্যবেক্ষণ করেছে।
১৫০ থেকে শেষ পর্যন্ত পড়তে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। গল্পটা মোটামুটি ভালো কিন্তু অযাচিতভাবে টেনে টেনে শুধুই ৩২০ পৃষ্ঠা করা হয়েছে। প্রথম ১৪৯ পৃষ্ঠাকে অনায়াসেই ২/৩ পৃষ্ঠার মধ্যে আনা সম্ভব ছিল। লেখকের লেখকের ধরনী দেখে মনে হয়েছে তিনি খুব সহজেই এটা করতে পারতেন। তবুও কেন অযাচিত ভাবে ১৪৯ পৃষ্ঠা পর্যন্ত টেনে নিয়ে গেছেন তা আমার জানা নেই। আমার মতে এটাকে এত বড় উপন্যাস না করে যদি ৮০-১০০ পৃষ্ঠায় করা যেতো তাহলে খুব সুন্দর একটা উপন্যাস হতো। অথবা একে চাইলে ২০-৩০ পৃষ্ঠার একটা ছোট গল্প হিসেবে প্রকাশ করলেও যথেষ্ট উপভোগ্য হতো। কিন্তু এটা কোনো ভাবেই ৩২০ পৃষ্ঠার থ্রিলার উপন্যাসের মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য না। এটা আমার একান্ত নিজস্ব মতামত।
এছাড়া লেখকের লেখনী খুব চমৎকার। পুরোটা পড়া সম্ভব হয়েছে উনার লেখনীর জোড়েই।
বইয়ের প্রোডাকশন কোয়ালিটি খুবই ভালো।
কারো যদি অফুরন্ত সময় আর অনেক ধৈর্য থাকে তাহলে বলবো এই উপন্যাসটি পড়ার জন্য।
কর্পোরেট চাকুরিজীবী জামি দুই বছর থেকে কিছু অসুস্থতায় ভুগছে। প্রচন্ড মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাব, দুর্বলতা এসব আরকি। কিন্তু এর কোনো সমাধান সে খুজে পায়নি। হঠাৎ একদিন প্রেসক্লাবের সামনে একটা সমাবেশ থেকে বের হয়ে কিছু লোকজনকে তিনজন পুলিশকে কোপাতে দেখে জামি। ভয়ে দৌড়ে পালাতে গিয়ে দেখা হয় দিব্য নামের আরেক চরিত্রের সাথে। দিব্যর মাধম্যে সে এমন এক সংঘের সাথে পরিচিত হয় যাদের কম বেশি জামির মত অসুস্থতা বা ভিন্নধর্মী কিছু সমস্যা রয়েছে। জামি অবাক হয় যখন সে জানতে পারে সেই সাথে তারা সবাই রয়েছে সরকারি নজরদারিতে। কিন্তু কেন??
সে আরো অবাক হয় পুলিশ কোপানোর এতবড় ঘটনা কোনো নিউজে আসে নি, সোশাল মিডিয়ায় নেই, কেউ কিচ্ছু জানে না। অথচ সব ঘটেছে তার চোখের সামনে। তাহলে কি তারই হ্যালুসিনেশন হচ্ছে??
এর উত্তর পাওয়ার জন্য জামি যায় এক সাইকিয়াট্রিস্ট এর কাছে। জামিরই কি কোনো মানসিক সমস্যা?? নাকি তার আশেপাশের পরিবেশে সত্যিই অদ্ভুত কিছু ঘটছে?? নাকি সব তার স্বপ্ন?
⭕ পাঠ প্রতিক্রিয়া:
সত্যি বলতে গল্পটা আমার তেমন ভালো লাগে নি। কিন্তু একেবারেই খারাপ সেটা বলবো না। মূল গল্পই শুরু হয়েছে ১৫০ তম পৃষ্ঠা থেকে। এর আগের পুরোটাই একজন অসুস্থ কর্পোরেট চাকুরিজীবীর দিনলিপি। খুবই খুবই বোরিং এই প্রথম ১৪৯ পৃষ্ঠা। একটা লোক রিকশায় যেতে যেতে কি কি পর্যবেক্ষণ করছে, কার কানে ব্লুটুথ, কার হাতে কি চা, কে পানের পিক কোথায় ফেললো এই টাইপের অপ্রয়োজনীয় কথায় ভর্তি।
এরপরে আসি মূল গল্পে। একজন স্বৈরাচারী সরকারপ্রধানের ক্ষমতা ও তাকে শাসন থেকে সরানোর চেষ্টা করা হয়েছে এখানে। দিব্য চরিত্রটাকে প্রথম দিক থেকেই রহস্যময় করে রাখার চেষ্টা করা হলেও লেখক খুব একটা সফল হয় নি। চরিত্রের ফাক ফোকর খুব সহজেই ধরা যাচ্ছিল। গল্পের টুইস্টটা প্রেডিক্ট করতে পেরেছিলাম কিছুটা, কিন্তু পুরোটা না।
মৌসুমি সবকিছু বোঝার পরেও কেন চুপ ছিল সেটা বোধগম্য না। নরমালি এরকম হলে যে কেউ ব্যপারটা বোঝার চেষ্টা করতো, কিন্তু এখানে সে কিছুই না করে শুধু পর্যবেক্ষণ করেছে।
১৫০ থেকে শেষ পর্যন্ত পড়তে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। গল্পটা মোটামুটি ভালো কিন্তু অযাচিতভাবে টেনে টেনে শুধুই ৩২০ পৃষ্ঠা করা হয়েছে। প্রথম ১৪৯ পৃষ্ঠাকে অনায়াসেই ২/৩ পৃষ্ঠার মধ্যে আনা সম্ভব ছিল। লেখকের লেখকের ধরনী দেখে মনে হয়েছে তিনি খুব সহজেই এটা করতে পারতেন। তবুও কেন অযাচিত ভাবে ১৪৯ পৃষ্ঠা পর্যন্ত টেনে নিয়ে গেছেন তা আমার জানা নেই। আমার মতে এটাকে এত বড় উপন্যাস না করে যদি ৮০-১০০ পৃষ্ঠায় করা যেতো তাহলে খুব সুন্দর একটা উপন্যাস হতো। অথবা একে চাইলে ২০-৩০ পৃষ্ঠার একটা ছোট গল্প হিসেবে প্রকাশ করলেও যথেষ্ট উপভোগ্য হতো। কিন্তু এটা কোনো ভাবেই ৩২০ পৃষ্ঠার থ্রিলার উপন্যাসের মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য না। এটা আমার একান্ত নিজস্ব মতামত।
এছাড়া লেখকের লেখনী খুব চমৎকার। পুরোটা পড়া সম্ভব হয়েছে উনার লেখনীর জোড়েই।
বইয়ের প্রোডাকশন কোয়ালিটি খুবই ভালো।
কারো যদি অফুরন্ত সময় আর অনেক ধৈর্য থাকে তাহলে বলবো এই উপন্যাসটি পড়ার জন্য।
February 6, 2026
"এখানে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যকে দুর্বল করার জন্য চাণক্যকে আটক করা হচ্ছে না। এখানে চন্দ্রগুপ্তর মগজ দখল করে তাকে দিয়ে সবার চোখের সামনে সেলুকাসকে মারা হচ্ছে, যাতে দেশের মানুষ দেখে চন্দ্রগুপ্ত কত বড় শয়তান, কত বড় খুনী। সেলুকাসও মরবে, আবার চন্দ্রগুপ্তও দেশের মানুষের চোখে চিরদিনের মতো অক্ষমণীয় পাপ করা ভিলেন হয়ে যাবে। কোনো ভাবেই, কোনো দেশের সমর্থনেই আর সিংহাসনে বসে থাকতে পারবে না সে। পৃথিবী একটা খারাপ জায়গা বটে, কিন্তু কোনোদিনই ন্যাশনাল টেলিভিশনের সামনে নিজের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মারে নি কোনো রাষ্ট্রনেতা। আফ্রিকার হিংস্র কোনো দেশেও নয়। আর এই মাস্টারপ্ল্যানের পেছনে আছে চাণক্য নিজেই।"
অনেকেই অবাক হতে পারেন এই ভেবে যে এসব আমি কী লিখছি? কেনই বা লিখছি? আসলে এটা আমার লেখা নয়, জনপ্রিয় লেখক নাবিল মুহতাসিমের লেখা। শুধু তাই না, এর মধ্যেই আছে লেখকের ২০২৫ সালে প্রকাশিত "সর্বেসর্বা" উপন্যাসের সম্পূর্ণ কাহিনী!
গতবছর বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই বইটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চোখে পড়ছিলো। মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমাকে বইটির প্রতি আগ্রহী করে তুলেছিলো মূলত সমালোচনাগুলোই!
অনেক ক্ষেত্রেই এরকম হয় যে একজন লেখক তার লেখার মাঝে কিছুটা নতুনত্ব এনেছেন, কিংবা নতুন কিছু তুলে ধরেছেন নিজের বইয়ে যার সাথে সাধারণ পাঠকেরা খুব একটা অভ্যস্ত নন। সেক্ষেত্রে অনেক পাঠকেরাই সেই নতুনত্বকে সহজভাবে গ্রহণ করে উঠতে পারেন না। কোনো কোনো পাঠক তো সেই নতুনত্বকে গ্রহণ করতে না পেরে বইকে বাতিলের খাতায়ই ফেলে দেন!
ঠিক এই কারণেই যখন কোনো বইয়ের অনেক নেগেটিভ রিভিউ দেখি, তখন আমি একটা নতুনত্বের গন্ধ পাই। মনে হয়, লেখক নিশ্চয়ই নতুন কিছু করার চেষ্টা করেছেন! বইটার প্রতি আমার আগ্রহ তখন বেড়ে যায়। মনে হয়, এই বইটাতে নিশ্চয়ই নতুন কিছু পাবো। এই আগ্রহ থেকে পড়তে যাওয়া সব বই থেকেই যে নতুন কিছু পাওয়ার আশা পূর্ণ হয়, তা নয়। তবে বেশিরভাগ বইয়ের ক্ষেত্রেই পূর্ণ হয়...
যাই হোক, পাঠকদের নেগেটিভ রিভিউ দেখে জন্ম নেওয়া সেই আগ্রহ এবং নতুন কিছু পাওয়ার আশা থেকেই মূলত নাবিল মুহতাসিমের "সর্বেসর্বা" বইটা হাতে নেয়া। এবং গতকাল রাতে যখন বইটা পড়ে শেষ করলাম, তখন মনে হলো, অন্যদের রিভিউ দেখে বইটা না পড়ার সিদ্ধান্ত নিলে আসলেই অনেক কিছু মিস করতাম!
"সর্বেসর্বা"-র কাহিনী শুরু হয় জামি নামে একজন কর্পোরেট চাকুরিজীবীকে কেন্দ্র করে, তার এক অদ্ভূত ধরনের অসুস্থতা দিয়ে। তার অসুস্থতার পেছনের কারণ এবং এর সমাধান খুঁজতে গিয়ে সে আবিষ্কার করে যে তার এই অসুস্থতা প্রাকৃতিক নয়, বরং মানবসৃষ্ট। এই অসুস্থতার পেছনে আছে এক ভয়ংকর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র! এবং সে একা নয়, তার মতো আরো অনেকেই এই ষড়যন্ত্রের শিকার! এরপর ক্রমশ বদলে যেতে থাকে তার জীবন, ঘুরতে থাকে কাহিনীর মোড়, আর সামনে আসতে থাকে একের পর এক চমক। এক পর্যায়ে জামি সম্মুখীন হয় এই সবকিছুর নাটের গুরুর, যার মানসিক ক্ষমতা সাধারণ মানুষের পরিচিত জগতের সকল বাস্তবতার উর্ধ্বে! যে কারো মস্তিষ্কের দখল নিতে সক্ষম সে। শুধু কি তাই? Mass Hypnotism-এর মাধ্যমে একসঙ্গে শতাধিক মানুষের মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়াও তার জন্যে মামুলি ব্যাপার! নিজেকে সে বলে সর্বেসর্বা! সে-ই নাকি পৃথিবীর প্রধান চরিত্র, আর বাকি সব পার্শ্বচরিত্র। আর তার সম্মুখীন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জামির সামনে আসে এক চরম সত্য, এবং সেটাই এই কাহিনীর সবথেকে বড় চমক!
নাবিল মুহতাসিমের লেখায় সবচাইতে বেশি প্রশংসার দাবি রাখে যে বিষয়টি, সেটি হচ্ছে তার লেখার স্বকীয়তা। তার গল্প বলার একটা আলাদা ধরণ আছে। "সর্বেসর্বা"-তেও তাই ছিলো।
এই বইয়ের আরেকটা প্রশংসাযোগ্য ব্যাপার হচ্ছে "ফোরশ্যাডো", যেটা কিনা থ্রিলারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। থ্রিলার গল্প বা উপন্যাসের শেষে অপ্রত্যাশিত ট্যুইস্ট থাকাটা বাধ্যতামূলক কিছু নয়, কিন্তু ট্যুইস্ট থাকলে তার ফোরশ্যাডো অবশ্যই গল্পের মাঝখানে থাকতে হবে। প্লট ট্যুইস্ট অবশ্যই আকাশ থেকে পড়বে না। পাঠকের "আরেহ! এটা তো স্বপ্নেও ভাবি নি" মনে হওয়ার চাইতে "আরেহ! এটার ইঙ্গিত তো গল্পের মাঝখানেই ছিলো! কেন যে ধরতে পারলাম না!" মনে হওয়াটা বেশি আনন্দদায়ক। "সর্বেসর্বা"-তে এই বিষয়টা ছিলো। এবং বেশ ভালোভাবেই ছিলো। এমনকি কাহিনীর মাঝখানে যেই বিষয়গুলোর অবতারণা অপ্রয়োজনীয় ঠেকছিলো, কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিরক্তিকরও লাগছিলো, কাহিনীর শেষে গিয়ে টের পাওয়া যায় যে এগুলোর কোনোটাই অপ্রয়োজনীয় ছিলো না! এমনকি শুরুতে আর মাঝখানে অনেক কিছুকে অপ্রাসঙ্গিক এবং অযথা কাহিনী টেনে লম্বা করার চেষ্টা বলে মনে হলেও শেষটায় গিয়ে বোঝা যায় যে কোনো কিছুই আদতে অপ্রাসঙ্গিক ছিলো না। মোটকথা, গল্পের মাঝে এলোমেলো ভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পরস্পর বিচ্ছিন্ন অসংখ্য সুতোকে লেখক গল্পের শেষে বেশ দক্ষতার সাথে সুন্দরভাবে গুছিয়ে এনে একটার সঙ্গে আরেকটাকে বেশ যৌক্তিক ভাবে মিলিয়েছেন।
এই উপন্যাসে লেখক অনেকগুলো বার্তা দিয়েছেন। তার মধ্যে একটি হচ্ছে- বাস্তব জগতের খলনায়কেরা আশি-নব্বই দশকের বাণিজ্যিক ঘরানার বাংলা সিনেমার ডিপজল, জাম্বু, ডন, মিজু আহমেদ, কিংবা মিশা সওদাগরের মতো হয় না, যারা শুরু থেকেই জানান দিয়ে যাবে যে তারা খলনায়ক। বরং বাস্তবের খলনায়কেরা নায়ক সেজেই আসে। তারা নিজেদের একসময়ের অসহায়ত্ব, সেই অসহায়ত্বের চরম পর্যায়ে গিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো, এবং বিদ্রোহী হয়ে ওঠার মিথ্যা কিন্তু মুখরোচক গল্প শুনিয়ে সবাইকে মোহিত করে তাদের চোখে নায়কের জায়গা দখল করে নেয়ার চেষ্টা করে। আর চেষ্টা সত্যিকারের নায়ককে সবার সামনে খলনায়ক প্রতিপন্ন করার।
বইটির প্রথমার্ধ কিছুটা ধীরগতিসম্পন্ন হলেও এরপর কাহিনী যত এগিয়েছে, ততই গতিশীল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শেষের কয়েকটা অধ্যায় তো যাকে বলে রীতিমতো "রোলার কোস্টার রাইড" ছিলো!
তবে বইটিতে লেখক কিছু কিছু জায়গায় সামান্য একটি ঘটনার বর্ণনায়ও অনেক বেশি বাক্য ব্যয় করেছেন, যা কিনা গল্পের গতি কমিয়ে দিচ্ছিলো। এই বিষয়টি কিছুটা বিরক্তিরই উদ্রেক করেছে বলতে গেলে। অনেক সময় এরকম হয় যে একটা বিষয় দুই-চার লাইনের ব্যাখ্যাতেই বোধগম্য হয়ে গেছে, তাও একজন সেই বিষয়টা ব্যাখ্যা করেই যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে যেরকম বিরক্তি কাজ করে, এক্ষেত্রেও বিরক্তিটা ঠিক সেরকমই।
তবে এই বিরক্তির দায় লেখকের নয়, বরং সম্পাদকের। কারণ একজন লেখক তার জায়গা থেকে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে লিখে যেতে থাকেন, তার মাথায় গল্পটা ছাড়া আর কিছু কাজ করে না তখন। সম্পাদকের দায়িত্ব হচ্ছে পাঠকের জায়গা থেকে পাণ্ডুলিপি পর্যবেক্ষণ করে লেখককে পরামর্শ দেয়া যে কোথায় বর্ণনা বাড়াতে হবে, আর কোথায় বর্ণনা কমাতে হবে।
চিরকুট প্রকাশনীর প্রোডাকশন বরাবরই ভালো হয়, এই বইটির ক্ষেত্রেও তাই। প্রচ্ছদ থেকে শুরু করে বাধাই পর্যন্ত সবই দারুণ। তবে বইটিতে প্রুফ রিডিং এবং সম্পাদনার ঘাটতি ছিলো চোখে পড়ার মতো! প্রকাশনীকে অনুরোধ করবো এদিকটায় আরেকটু যত্নশীল হতে...
যাই হোক, দারুণ সময় কাটলো নাবিল মুহতাসিমের "সর্বেসর্বা"-র সঙ্গে। বেশ উপভোগ্য একটি উপন্যাস ছিলো। লেখককে সাধুবাদ জানাই থ্রিলারের গতানুগতিক ধারায় না গিয়ে ভিন্ন ধারায় এরকম একটা এক্সপেরিমেন্ট করার সাহস দেখানোর জন্য। এরকম সাহস খুব কম লেখকেরই হয়।
আসলে পাঠকেরা কীসে অভ্যস্ত আর কীসে অভ্যস্ত না, তারা গ্রহণ করবে কি করবে না, তারা কী চায়- এসব চিন্তার উর্ধ্বে যেতে পারলেই লেখকদের পক্ষে পাঠকদেরকে নতুন কিছু দেয়া সম্ভব হয়। এবং নাবিল মুহতাসিম সেটা বেশ ভালোমতোই পেরেছেন... 👍🏾
ব্যক্তিগত রেটিং: ৮.৫/১০
অনেকেই অবাক হতে পারেন এই ভেবে যে এসব আমি কী লিখছি? কেনই বা লিখছি? আসলে এটা আমার লেখা নয়, জনপ্রিয় লেখক নাবিল মুহতাসিমের লেখা। শুধু তাই না, এর মধ্যেই আছে লেখকের ২০২৫ সালে প্রকাশিত "সর্বেসর্বা" উপন্যাসের সম্পূর্ণ কাহিনী!
গতবছর বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই বইটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চোখে পড়ছিলো। মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমাকে বইটির প্রতি আগ্রহী করে তুলেছিলো মূলত সমালোচনাগুলোই!
অনেক ক্ষেত্রেই এরকম হয় যে একজন লেখক তার লেখার মাঝে কিছুটা নতুনত্ব এনেছেন, কিংবা নতুন কিছু তুলে ধরেছেন নিজের বইয়ে যার সাথে সাধারণ পাঠকেরা খুব একটা অভ্যস্ত নন। সেক্ষেত্রে অনেক পাঠকেরাই সেই নতুনত্বকে সহজভাবে গ্রহণ করে উঠতে পারেন না। কোনো কোনো পাঠক তো সেই নতুনত্বকে গ্রহণ করতে না পেরে বইকে বাতিলের খাতায়ই ফেলে দেন!
ঠিক এই কারণেই যখন কোনো বইয়ের অনেক নেগেটিভ রিভিউ দেখি, তখন আমি একটা নতুনত্বের গন্ধ পাই। মনে হয়, লেখক নিশ্চয়ই নতুন কিছু করার চেষ্টা করেছেন! বইটার প্রতি আমার আগ্রহ তখন বেড়ে যায়। মনে হয়, এই বইটাতে নিশ্চয়ই নতুন কিছু পাবো। এই আগ্রহ থেকে পড়তে যাওয়া সব বই থেকেই যে নতুন কিছু পাওয়ার আশা পূর্ণ হয়, তা নয়। তবে বেশিরভাগ বইয়ের ক্ষেত্রেই পূর্ণ হয়...
যাই হোক, পাঠকদের নেগেটিভ রিভিউ দেখে জন্ম নেওয়া সেই আগ্রহ এবং নতুন কিছু পাওয়ার আশা থেকেই মূলত নাবিল মুহতাসিমের "সর্বেসর্বা" বইটা হাতে নেয়া। এবং গতকাল রাতে যখন বইটা পড়ে শেষ করলাম, তখন মনে হলো, অন্যদের রিভিউ দেখে বইটা না পড়ার সিদ্ধান্ত নিলে আসলেই অনেক কিছু মিস করতাম!
"সর্বেসর্বা"-র কাহিনী শুরু হয় জামি নামে একজন কর্পোরেট চাকুরিজীবীকে কেন্দ্র করে, তার এক অদ্ভূত ধরনের অসুস্থতা দিয়ে। তার অসুস্থতার পেছনের কারণ এবং এর সমাধান খুঁজতে গিয়ে সে আবিষ্কার করে যে তার এই অসুস্থতা প্রাকৃতিক নয়, বরং মানবসৃষ্ট। এই অসুস্থতার পেছনে আছে এক ভয়ংকর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র! এবং সে একা নয়, তার মতো আরো অনেকেই এই ষড়যন্ত্রের শিকার! এরপর ক্রমশ বদলে যেতে থাকে তার জীবন, ঘুরতে থাকে কাহিনীর মোড়, আর সামনে আসতে থাকে একের পর এক চমক। এক পর্যায়ে জামি সম্মুখীন হয় এই সবকিছুর নাটের গুরুর, যার মানসিক ক্ষমতা সাধারণ মানুষের পরিচিত জগতের সকল বাস্তবতার উর্ধ্বে! যে কারো মস্তিষ্কের দখল নিতে সক্ষম সে। শুধু কি তাই? Mass Hypnotism-এর মাধ্যমে একসঙ্গে শতাধিক মানুষের মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়াও তার জন্যে মামুলি ব্যাপার! নিজেকে সে বলে সর্বেসর্বা! সে-ই নাকি পৃথিবীর প্রধান চরিত্র, আর বাকি সব পার্শ্বচরিত্র। আর তার সম্মুখীন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জামির সামনে আসে এক চরম সত্য, এবং সেটাই এই কাহিনীর সবথেকে বড় চমক!
নাবিল মুহতাসিমের লেখায় সবচাইতে বেশি প্রশংসার দাবি রাখে যে বিষয়টি, সেটি হচ্ছে তার লেখার স্বকীয়তা। তার গল্প বলার একটা আলাদা ধরণ আছে। "সর্বেসর্বা"-তেও তাই ছিলো।
এই বইয়ের আরেকটা প্রশংসাযোগ্য ব্যাপার হচ্ছে "ফোরশ্যাডো", যেটা কিনা থ্রিলারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। থ্রিলার গল্প বা উপন্যাসের শেষে অপ্রত্যাশিত ট্যুইস্ট থাকাটা বাধ্যতামূলক কিছু নয়, কিন্তু ট্যুইস্ট থাকলে তার ফোরশ্যাডো অবশ্যই গল্পের মাঝখানে থাকতে হবে। প্লট ট্যুইস্ট অবশ্যই আকাশ থেকে পড়বে না। পাঠকের "আরেহ! এটা তো স্বপ্নেও ভাবি নি" মনে হওয়ার চাইতে "আরেহ! এটার ইঙ্গিত তো গল্পের মাঝখানেই ছিলো! কেন যে ধরতে পারলাম না!" মনে হওয়াটা বেশি আনন্দদায়ক। "সর্বেসর্বা"-তে এই বিষয়টা ছিলো। এবং বেশ ভালোভাবেই ছিলো। এমনকি কাহিনীর মাঝখানে যেই বিষয়গুলোর অবতারণা অপ্রয়োজনীয় ঠেকছিলো, কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিরক্তিকরও লাগছিলো, কাহিনীর শেষে গিয়ে টের পাওয়া যায় যে এগুলোর কোনোটাই অপ্রয়োজনীয় ছিলো না! এমনকি শুরুতে আর মাঝখানে অনেক কিছুকে অপ্রাসঙ্গিক এবং অযথা কাহিনী টেনে লম্বা করার চেষ্টা বলে মনে হলেও শেষটায় গিয়ে বোঝা যায় যে কোনো কিছুই আদতে অপ্রাসঙ্গিক ছিলো না। মোটকথা, গল্পের মাঝে এলোমেলো ভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পরস্পর বিচ্ছিন্ন অসংখ্য সুতোকে লেখক গল্পের শেষে বেশ দক্ষতার সাথে সুন্দরভাবে গুছিয়ে এনে একটার সঙ্গে আরেকটাকে বেশ যৌক্তিক ভাবে মিলিয়েছেন।
এই উপন্যাসে লেখক অনেকগুলো বার্তা দিয়েছেন। তার মধ্যে একটি হচ্ছে- বাস্তব জগতের খলনায়কেরা আশি-নব্বই দশকের বাণিজ্যিক ঘরানার বাংলা সিনেমার ডিপজল, জাম্বু, ডন, মিজু আহমেদ, কিংবা মিশা সওদাগরের মতো হয় না, যারা শুরু থেকেই জানান দিয়ে যাবে যে তারা খলনায়ক। বরং বাস্তবের খলনায়কেরা নায়ক সেজেই আসে। তারা নিজেদের একসময়ের অসহায়ত্ব, সেই অসহায়ত্বের চরম পর্যায়ে গিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো, এবং বিদ্রোহী হয়ে ওঠার মিথ্যা কিন্তু মুখরোচক গল্প শুনিয়ে সবাইকে মোহিত করে তাদের চোখে নায়কের জায়গা দখল করে নেয়ার চেষ্টা করে। আর চেষ্টা সত্যিকারের নায়ককে সবার সামনে খলনায়ক প্রতিপন্ন করার।
বইটির প্রথমার্ধ কিছুটা ধীরগতিসম্পন্ন হলেও এরপর কাহিনী যত এগিয়েছে, ততই গতিশীল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শেষের কয়েকটা অধ্যায় তো যাকে বলে রীতিমতো "রোলার কোস্টার রাইড" ছিলো!
তবে বইটিতে লেখক কিছু কিছু জায়গায় সামান্য একটি ঘটনার বর্ণনায়ও অনেক বেশি বাক্য ব্যয় করেছেন, যা কিনা গল্পের গতি কমিয়ে দিচ্ছিলো। এই বিষয়টি কিছুটা বিরক্তিরই উদ্রেক করেছে বলতে গেলে। অনেক সময় এরকম হয় যে একটা বিষয় দুই-চার লাইনের ব্যাখ্যাতেই বোধগম্য হয়ে গেছে, তাও একজন সেই বিষয়টা ব্যাখ্যা করেই যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে যেরকম বিরক্তি কাজ করে, এক্ষেত্রেও বিরক্তিটা ঠিক সেরকমই।
তবে এই বিরক্তির দায় লেখকের নয়, বরং সম্পাদকের। কারণ একজন লেখক তার জায়গা থেকে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে লিখে যেতে থাকেন, তার মাথায় গল্পটা ছাড়া আর কিছু কাজ করে না তখন। সম্পাদকের দায়িত্ব হচ্ছে পাঠকের জায়গা থেকে পাণ্ডুলিপি পর্যবেক্ষণ করে লেখককে পরামর্শ দেয়া যে কোথায় বর্ণনা বাড়াতে হবে, আর কোথায় বর্ণনা কমাতে হবে।
চিরকুট প্রকাশনীর প্রোডাকশন বরাবরই ভালো হয়, এই বইটির ক্ষেত্রেও তাই। প্রচ্ছদ থেকে শুরু করে বাধাই পর্যন্ত সবই দারুণ। তবে বইটিতে প্রুফ রিডিং এবং সম্পাদনার ঘাটতি ছিলো চোখে পড়ার মতো! প্রকাশনীকে অনুরোধ করবো এদিকটায় আরেকটু যত্নশীল হতে...
যাই হোক, দারুণ সময় কাটলো নাবিল মুহতাসিমের "সর্বেসর্বা"-র সঙ্গে। বেশ উপভোগ্য একটি উপন্যাস ছিলো। লেখককে সাধুবাদ জানাই থ্রিলারের গতানুগতিক ধারায় না গিয়ে ভিন্ন ধারায় এরকম একটা এক্সপেরিমেন্ট করার সাহস দেখানোর জন্য। এরকম সাহস খুব কম লেখকেরই হয়।
আসলে পাঠকেরা কীসে অভ্যস্ত আর কীসে অভ্যস্ত না, তারা গ্রহণ করবে কি করবে না, তারা কী চায়- এসব চিন্তার উর্ধ্বে যেতে পারলেই লেখকদের পক্ষে পাঠকদেরকে নতুন কিছু দেয়া সম্ভব হয়। এবং নাবিল মুহতাসিম সেটা বেশ ভালোমতোই পেরেছেন... 👍🏾
ব্যক্তিগত রেটিং: ৮.৫/১০
March 27, 2025
২০ পৃষ্ঠার একটি প্লটকে ৩২০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত টেনে নিলে যা হওয়ার কথা তাইই হয়েছে। বইটির প্রথম ১৫০-২০০ পেজ স্রেফ একজন চাকুরিজীবীর দিনলিপি। যাতে অপ্রয়োজনীয় সব কথাবার্তা।থ্রিলার হিসেবে হাইপ দেওয়া হলেও বিন্দুমাত্র থ্রিল নেই বইয়ে। অ্যাকশন সিনগুলোও হাস্যকর। বইটির মূল গল্প একদল লোকের বাংলাদেশের কাল্পনিক প্রধানমন্ত্রীকে গদিচ্যুত করার চেষ্টা, যা লেখকের ভাষ্যমতে কাকতালীয় ভাবে জুলাই অভ্যুত্থান এর সাথে মিলে গেছে।সিম্পল এই প্লটকে কেন লেখক এত বড় করলেন খোদাই জানেন।এই বই এক বছর আগে প্রকাশিত হলে লেখকের সাহসিকতার জন্য প্রশংসা করা যেতো, বর্তমানে তারও সুযোগ নেই।
শেষের টুইস্ট দুইটিও অবাক করে দিতে সক্ষম হয়নি।শ্বাপদসনে,বাজিকর এর মতো বইয়ের লেখকের কাছে এমন বই প্রত্যাশিত নয়।লেখক এক্সপেরিমেন্ট করতেই পারেন,কিন্তু বুকশপগুলো যেভাবে কৃত্রিম হাইপ দিয়ে বইকে মাস্টারপিস বানিয়ে দেয়, সেক্ষেত্রে একজন পাঠক হিসেবে নিজেকে ঠকে যাওয়া মনে হয়।আগামীতে বইমেলার হাইপের কোনো বই নিচ্ছি না,এই শিক্ষাটা অন্তত হলো।তারজন্য এক তারা।
শেষের টুইস্ট দুইটিও অবাক করে দিতে সক্ষম হয়নি।শ্বাপদসনে,বাজিকর এর মতো বইয়ের লেখকের কাছে এমন বই প্রত্যাশিত নয়।লেখক এক্সপেরিমেন্ট করতেই পারেন,কিন্তু বুকশপগুলো যেভাবে কৃত্রিম হাইপ দিয়ে বইকে মাস্টারপিস বানিয়ে দেয়, সেক্ষেত্রে একজন পাঠক হিসেবে নিজেকে ঠকে যাওয়া মনে হয়।আগামীতে বইমেলার হাইপের কোনো বই নিচ্ছি না,এই শিক্ষাটা অন্তত হলো।তারজন্য এক তারা।
June 16, 2025
আমি কোনো বই পড়ুয়া নই! এর পূর্বে কোনো রিভিউ লেখিনি। বইনগর থেকে মিস্ট্রি বক্স নিয়েছিলাম, সে জন্যই পড়া নতুবা আমি কখনো গল্প পড়িনা। বই শুধু সংগ্রহই করি কিন্তু পড়িনা।
এসব বক বক বাদ দিয়ে আসল কথা আসা যাক -
গল্পটি জামি নামক একজন কর্পোরেট চাকুরীজীবীর। জামির মাথা সর্বদা গিজ গিজ করে। সে হটাৎ একদিন এক ঘটনার সম্মুখীন হয়, সেখান থেকেই গল্পের শুরু হয়। তবে এখানে লেখক একটু বেশি বর্ণনা দিয়েছেন আশপাশের পরিবেশের এর পাশাপাশি প্রথম অর্ধাংশ ধীর গতির। ৬০ পৃষ্ঠার পর থেকে মূল ঘটনা শুরু হয়। কিছু স্পয়লার দিয়ে দিয়েছি। এখন, নিজে পড়ার মাধ্যমে উপভোগ করুন।
ধন্যবাদ।
এসব বক বক বাদ দিয়ে আসল কথা আসা যাক -
গল্পটি জামি নামক একজন কর্পোরেট চাকুরীজীবীর। জামির মাথা সর্বদা গিজ গিজ করে। সে হটাৎ একদিন এক ঘটনার সম্মুখীন হয়, সেখান থেকেই গল্পের শুরু হয়। তবে এখানে লেখক একটু বেশি বর্ণনা দিয়েছেন আশপাশের পরিবেশের এর পাশাপাশি প্রথম অর্ধাংশ ধীর গতির। ৬০ পৃষ্ঠার পর থেকে মূল ঘটনা শুরু হয়। কিছু স্পয়লার দিয়ে দিয়েছি। এখন, নিজে পড়ার মাধ্যমে উপভোগ করুন।
ধন্যবাদ।
March 24, 2025
সর্বেসর্বা বইটি নাবিল মুহতাসিমের একটি চমকপ্রদ সাহিত্যকর্ম, যা পাঠককে একটি অপ্রত্যাশিত এক গল্পের মধ্যে নিয়ে যায়। প্লট ভালই কিন্তু এক্সিকিউশন এ আরও কাজ করবার সুযোগ ছিল। বইটির কেন্দ্রীয় চরিত্র একজন পার্শ্বচরিত্রের মতো নিজেকে অনুভব করে, যার জীবন হঠাৎ করে একটি কন্সপিরেসি থিওরিস্টের হাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বইটি চিরকুট প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে, যার পৃষ্ঠা সংখ্যা ৩২০। নাবিল মুহতাসিমের লেখার স্টাইল এই বইটিকে একটু ভিন্নরকম অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
November 12, 2025
বাংলা সাহিত্যের জনরা ফিকশনে এরকম এক্সপেরিমেন্ট করার সাহস কম মানুষেরই হয়। সেক্ষেত্রে সর্বেসর্বা সফল। হয়তো গল্পের গাঁথুনি আরও শক্ত হতে পারতো, কিন্তু প্রথম চেষ্টায় আজীবন সাফল্য আসবে এমন কোন কথা নেই। দিন শেষে সর্বেসর্বা পড়ে মজা পেয়েছি, হয়তো দ্বিতীয়বার আবার পড়বো না। সেকারণে বই এর দামটা চড়া লাগতে পারে। তবে আর্ট ইজ সাবজেক্টিভ। তবে সেটি এতটাও সাবজেক্টিভ নয় যে সকলে হামলে পড়ে রেটিং বোমা মারবে।
নাবিল মুহতাসিম এরকম লেখা আরুও উপহার দেবেন, তবে ভবিষ্যতে আরও পোক্ত হবার আহ্বান রইলো।
নাবিল মুহতাসিম এরকম লেখা আরুও উপহার দেবেন, তবে ভবিষ্যতে আরও পোক্ত হবার আহ্বান রইলো।
March 8, 2026
সর্বেসর্বা
নাবিল মুহতাসিম
'প্রিয়জনের মৃত্যুর চেয়েও খারাপ যে জিনিসটা, সেটা হচ্ছে, কোনো সূত্র না রেখে প্রিয়জনের হারিয়ে যাওয়া।'
চমৎকার প্লট, টুইস্ট মোটামুটি ছিল। কিন্তু শুধুমাত্র মূল প্লট এর বাহিরে গিয়ে মূল চরিত্র এবং পার্শ্বচরিত্রের অতিরিক্ত কথাবার্তার জন্য বোরিং লাগলো, কিছু সময় পড়তে গিয়ে আর পড়তেও মন চাচ্ছিল না। তবে শেষের দিকে টুইস্টের সময় বইটা পেইজ টার্নার ছিল, কাহিনী একটা দিক পাওয়াতে বইটা শেষ করা গেল।
বইটি প্রকাশিত হয়েছে চিরকুট প্রকাশনী থেকে।
নাবিল মুহতাসিম
'প্রিয়জনের মৃত্যুর চেয়েও খারাপ যে জিনিসটা, সেটা হচ্ছে, কোনো সূত্র না রেখে প্রিয়জনের হারিয়ে যাওয়া।'
চমৎকার প্লট, টুইস্ট মোটামুটি ছিল। কিন্তু শুধুমাত্র মূল প্লট এর বাহিরে গিয়ে মূল চরিত্র এবং পার্শ্বচরিত্রের অতিরিক্ত কথাবার্তার জন্য বোরিং লাগলো, কিছু সময় পড়তে গিয়ে আর পড়তেও মন চাচ্ছিল না। তবে শেষের দিকে টুইস্টের সময় বইটা পেইজ টার্নার ছিল, কাহিনী একটা দিক পাওয়াতে বইটা শেষ করা গেল।
বইটি প্রকাশিত হয়েছে চিরকুট প্রকাশনী থেকে।
July 19, 2026
যেহেতু লেখকের লেখা আর কোনো বই আগে পড়া হয় নি এটাই প্রথম সেজন্য বইটা শুরুর আগে একটু কনফিউজড ছিলাম লেখা কেমন হবে। তারপর গুডরিডসে রিভিউ দেখে এক্সপেকটেশন আরো কমিয়ে যখন পড়তে শুরু করলাম তখন অনেকটাই উপভোগ করেছি বইটি। তবে উপন্যাসের মূল চরিত্র বলুন কিংবা লেখকের নিজের মন্তব্য বলেন বার-বার কাহিনির মধ্যে পাঠকের সাথে সরাসরি কথা বলায় বার-বার কাহিনির ফ্রো হারিয়ে ফেলিতেছিলাম। আশা করি লেখকে সামনে এই দিকটি মাথায় রাখবেন। (এটা কোনো রিভিউ না বইটি সম্পর্কে আমার ছোট একটা মন্তব্য বলতে পারেন)
March 21, 2025
সর্বেসর্বা" উপন্যাসটি নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না। রহস্য আর প্লট কোনোটাই টানতে পারেনি। বইটি শেষ করতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়েছে। লেখকের তৈরি করা রহস্যগুলো আমার কাছে তেমন আকর্ষণীয় মনে হয়নি। মৌ, আসহাব, নিকসহ অন্যান্য চরিত্রগুলোও মনে দাগ কাটতে ব্যর্থ হয়েছে। সব মিলিয়ে, বইটি পড়ে আমি ভীষণ হতাশ হয়েছি। ব্যক্তিগতভাবে, এটি আমার পড়া সবচেয়ে বাজে বইগুলোর মধ্যে অন্যতম।
ব্যক্তিগত রেটিং: ১/১০
ব্যক্তিগত রেটিং: ১/১০
June 17, 2025
ভাই রে ভাই চিরকুট এই বইয়ের প্রচারণা করছিল এমনে 'নাবিল মুহতাসিমের এ যাবতকালের সবথেকে বড় থ্রিলার'।
ট্যাগলাইনটা এমন হতে হত ''নাবিল মুহতাসিমের এ যাবতকালের সবথেকে স্লো এবং দুর্বল থ্রিলার'।
ঘুরেফিরে একই কথা এত পেচিয়েছে যে একটা টাইম পড়ে চরম বিরক্ত লেগেছে পড়তে। কোনোমতে শেষ করলে বাঁচি- টাইপ অবস্থা। শেষের টুইস্ট বাদে পজেটিভ কিছু এই বই থেকে পেলাম না।
নাবিল মুহতাসিম চরম হতাশ করলেন।
ট্যাগলাইনটা এমন হতে হত ''নাবিল মুহতাসিমের এ যাবতকালের সবথেকে স্লো এবং দুর্বল থ্রিলার'।
ঘুরেফিরে একই কথা এত পেচিয়েছে যে একটা টাইম পড়ে চরম বিরক্ত লেগেছে পড়তে। কোনোমতে শেষ করলে বাঁচি- টাইপ অবস্থা। শেষের টুইস্ট বাদে পজেটিভ কিছু এই বই থেকে পেলাম না।
নাবিল মুহতাসিম চরম হতাশ করলেন।
August 13, 2026
First I didn’t like the narrative.. In first few chapters the narrative gave me an ick.. The more the story went on.. The more confused I was becoming.. But the end twist was.. Mind blowing.. I loves the ending part.. The plot twist..
The writer should work on his narratives of books.. Other than that.. The story and whole experience of reading this book was awesome
The writer should work on his narratives of books.. Other than that.. The story and whole experience of reading this book was awesome
March 22, 2025
একেবারেই সুখপাঠ্য নয়। এই বইটি পড়া মানে আক্ষরিক অর্থেই সময় নষ্ট। যদি নেগেটিভ রেটিং দেয়া সম্ভব হত তবে তাই দিতাম। জিরো রেটিং দেয়াও সম্ভব না। সম্ভব হলে তাই দিতাম।
Not recommended.
Not recommended.
Displaying 1 - 30 of 38 reviews



























