Jump to ratings and reviews
Rate this book

দুর্জয় #4

শিউলি ফুলের ভাত

Rate this book
I won’t cry for you
I won’t crucify the things you do
I won’t cry you, see (see)
when you’re gone, I’ll still be bloody mary...
গানটা শুনতে শুনতেই শাহানার গলা, হাত পা, পেট আলাদা করে ফেলা হয়। একটুও বিচলিত হয় না মানুষটা, হাত কাঁপে না একবারও। কোনো মায়া নেই, মমতা নেই। খুনের সময় জগতের কোনো কিছুর ধার ধারে না সে, মৃত্যুই তার কাছে শেষ কথা।

352 pages, Hardcover

First published February 7, 2025

7 people are currently reading
136 people want to read

About the author

A Bengali Storyteller!

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
23 (31%)
4 stars
27 (37%)
3 stars
14 (19%)
2 stars
5 (6%)
1 star
3 (4%)
Displaying 1 - 30 of 32 reviews
Profile Image for DEHAN.
277 reviews81 followers
August 1, 2025
আজকাল একটা ব্যাপার লক্ষ্য করেছেন? লেখক রা কেন যেন নারীদের সাইকো কিলার বানানোর প্রতি বেশি ঝুঁকেছেন। আমি বেশ কয়েকটা বই পড়লাম সাম্প্রতিক লেখকদের ; যেখানে নারী চরিত্রকে সাইকো হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এটা কি নতুন কোন ট্রেন্ড?
নারী জাতির অগ্রগতি বোঝানোর জন্য?
বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন কি লেখকদের উপরেও একটা গুরুতর প্রভাব ফেলেছে?
বেশিরভাগ সময় শুধু পুরুষদের ই সাইকো বানানো হয় সেদিক দিয়ে নারীরা অবহেলিত থাকে, তাই এই পদক্ষেপ?
নাকি লাবণ্য ,বিলাসীদের অন্তরে মমতার বদলে জিঘাংসা আর হাতে সুঁই সুতোর বদলে অস্ত্র তুলে দেওয়াটা পরিস্থিতির ই চাহিদা?
আচ্ছা এমন কি হতে পারে দিন দিন নারীরা আগের মতো কোমল না থেকে ভায়োলেন্ট হয়ে যাচ্ছে? পুরুষরা এই গূঢ় ব্যাপারটা সামাজিক জীবনে কিংবা ব্যক্তিগত জীবনে হজম করতে পারছে না তাই অন্যভাবে সমাজ কে সচেতন করার এটা একটা চেষ্টা?
হতেই পারে। শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার একজন পুরুষের জীবনে প্রথম শুরু হয় মাতৃশাসনের দ্বারা। কখনো খুন্তি,কখনো ঝাড়ু,কখনো পিঠ চুলকানোর লাঠি,কখনো চিরুনি, কখনো কখনো তো ডাউলের চামচ ও....এরপর জীবনে প্রেমিকা আসেন মানসিক অত্যাচার করতে। তারপর স্ত্রী আসেন দুটোই চর্চা করতে। আগে কেমন ছিলো জানি নে। তবে এখন তো এসব ই হচ্ছে। হাজার বছর ধরে উপন্যাস পড়ার সময় আবুলের বউ শাসনের ব্যাপারটা দেখে মনে বেশ জোর পেয়েছিলাম। কিন্তু যুগটা দুরুম দারুম করে পালটে গেল। মানুষগুলোও তাই।দি টেবিলস হ্যাভ টার্ন্ড। কে জানে হয়তো নারীদের সহ্যক্ষমতা সীমানা অতিক্রম করেছে। দুর্গা নেহি তো কালী হি সাহি...তবে নারীরা আগে যে ভিলেনরূপী ছিলো না তা নয়। ছিলো। কিউট টাইপ ভিলেন ছিলো। ধরেন ছ্যাকা দেওয়া,বিয়ে করার কথা বলে টাকা হাতানো,বান্ধবীকে সহ্য করতে না পেরে তার ক্ষতিসাধনের চেষ্টা,প্রতিদিন উত্যক্ত করা ছেলেটার উপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে সে যেন ট্রাকে চাপা পড়ে এরকম দোয়া করে মাজারে মুরগি মানত ব্লা ব্লা ব্লা। কিন্তু এখন ব্যাপারটা আর কিউটনেস পর্যায়ে নাই। পাশের ফ্লাটের মামুন সাহেবের ভার্সিটি পড়ুয়া মেয়ে যতই মুচকি হেসে ইশারা দিক আমি তো তার প্রেমে পড়তে বাধ্য নই ,তাই না? এজন্যে সে নিশ্চয় রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় বারান্দা থেকে ফুলের টব নিচে ফেলে দিয়ে আমাকে ভয় দেখাতে পারে না। সেটা অন্যায় এবং জুলুম। আমার নিজস্ব একটা পছন্দ থাকতেই পারে। আমার স্বপ্নে রাজলক্ষ্মী আসে,এলিজাবেথ আসে, কখনো কখনো তিলু বিলু নিলু ও আসে। প্রসন্ন গোয়ালিনী কিংবা জুবেরীর মতো নারীরা ও জায়গায় আমন্ত্রিত নয়।
যাই হোক গল্পে আসি। লেখক মোটামুটি একটা ভয়ংকর সাইকো নারী চরিত্র সৃষ্টি করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। গল্পের নায়িকা মানুষ খুন করে এমনভাবে তার বাসার ফ্রিজে মগজের স্যুপ, রক্তের পুডিং, হৃৎপিণ্ড ভুনা রেখে দেয় যেন বাংলার ঘরে ঘরে নারীরা প্রাচীনকাল থেকে এভাবেই জিনিসগুলা রান্না করে রেখে আসতেছে ; বাসায় যেই আসুক তাকেই সেটা দিয়ে আপ্যায়ন করা হবে এই আশাতে। পুরো উপন্যাস জুড়ে ছিলো প্রচন্ড রক্তারক্তি কান্ড যা কেন জানি লেখকের বারবার মেনশনজনিত কারণে পানিপানি কান্ড লাগে। এখান থেকেই জানলাম মানুষের মাংস নাকি খুবই সুস্বাদু এবং নরম। আর কাঁচা মাংস খাওয়ার স্বাদ ই আলাদা। যেটা কখনো চাইলেও টেস্ট করতে পারবো না সেটা নিয়ে এরকম জিভে জল আনা ব্যাখ্যা দেওয়াটা আমার কাছে অত্যন্ত মর্মান্তিক লেগেছে।এছাড়াও গল্পে ‘’সাইকো সিরিয়াল মহিলা কিলার’’ ধরার জন্য পুলিশের পরিশ্রম ছিলো দেখার মতো। বিশেষ করে খিলগাঁও এলাকার লোকজনদের লাগানো সিসিটিভির ফুটেজ দেখানোর জন্য তাদের যে পরিমান ত্যক্ত বিরক্ত করা হয়েছে তা নিঃসন্দেহে অমানবিক এবং দুঃখজনক ।
এখন প্রশ্ন হলো এতোকিছু করেও কি শেষতক খুনী কে ধরা গেলো?
ও আরেকটা প্রশ্ন ।পুরুষ সিরিয়াল কিলার যারা আছে তারা তো অতো সুদর্শন হয় না তাহলে মহিলা সিরিয়াল কিলার গুলো এত সুদর্শনা কেন হবে? যাদের গাঁয়ের রঙ ময়লা কিংবা শ্যামবর্ণ সেসব মেয়েদের কি সাইকো হতে ইচ্ছে করে না? তাদেরও তো শখ আহ্লাদ থাকতে পারে তাই না? এই গাত্রবর্ণ বৈষম্য টাও খুব চোখে লেগেছে। বঙ্গদেশে হৃৎপিণ্ডের গতি বৃদ্ধিকারক রূপের অধিকারিণীর সংখ্যা অতি নগণ্য । সুতরাং সংখ্যাগুরু দের এভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে দেখাটা ঠিক হচ্ছে কি?
Profile Image for Tridev Devnath.
120 reviews2 followers
August 10, 2025
নাহ্ মন ভরেনি।
শুরুতেই বুঝে যাবেন জনপ্রিয় আরেক থ্রিলার থেকে মেইন চরিত্রের আইডিয়া নেওয়া হয়েছে। অনর্থক বইয়ের কলেবর বাড়ানোর চেষ্টা ছিল। বোরিং ছিল বলব না, থ্রিল রাইডের ছোঁয়া পেয়েছি জায়গায় জায়গায়। চরিত্রগুলোর ব্যাক স্টোরি, ট্রমা বিবরণ গুলো বেশ ভালই লেগেছে।কিন্ত সব ই কেমন জানি খাপছাড়া লেগেছে শেষ দিকে এসে, প্লট হোল থেকে গেছে। এন্ডিং এর তো কিছু ই বুঝলাম না , জোড়াতালি মার্কা।
আমার মনে হচ্ছে এটার কোন সিকুয়েল আসবে,সেখানে বাকি জট খোলা হবে

২.৫/৫
Profile Image for Akash Rahman.
47 reviews7 followers
May 28, 2025
বিগত বছরগুলোর মত রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে তরুণীদের লা শ আর মিলছেনা। কিন্তু ঢাকার ইট-কাঠ-পাথরের জঙ্গলে যা ঘটছে, রীতিমত শরীরে কাঁটা দেবার মত। ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে নিখোঁজ হচ্ছে শিশুরা। বয়সের তারতম্য থাকলেও তাদের সবার ব্যাকগ্রাউন্ড কাছাকাছি, তারা পথশিশু কিংবা নিতান্তই দরিদ্র ঘরের সন্তান। যে দেশে শিক্ষিত, প্রতিষ্ঠিত মানুষদেরই জীবনের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ, সেদেশে ছিন্নমূল শিশুদের খোঁজ কে করবে? কিন্তু করল একজন (প্রকৃতপক্ষে কয়েকজন)। পিবিআইয়ের স্পেশাল ব্রাঞ্চের গোয়েন্দা দুর্জয় শাকিল মাঠে নামল বিষয়টার সুরাহা করতে। বিগত তিন কিস্তির মতই এবারও সে জড়িয়ে গেল বিশাল এক ইঁদুর-বিড়াল খেলায়। কিন্তু শেষটায় কী হয়? দুর্জয় শাকিল কী শিশু নিখোঁজের রহস্য ভেদ করতে পেরেছিল?


পাঠপ্রতিক্রিয়া শুরুর আগে পাঠকদের উদ্দেশ্যে থাকবে একটুখানি ইতিহাসের পাঠ। বিষয়বস্তু, ‘ব্লাডি মেরি’।

১৫৫৩-১৫৫৮ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের রাজমুকুট কার মাথায় ছিল জানেন? একজন নারীর মাথায়। তার নাম মেরি টিউডর। যাকে বলা হয় ব্রিটিশ সাম্রাজ্য শাসনকারী প্রথম রানী। মেরি টিউডরের সাথে জড়িয়ে ছিল বেশ কিছু ব্যাখ্যাতীত ঘটনা; মেরির বাবা ছিলেন সম্রাট অষ্টম হেনরি, যিনি মেরিকে অবৈধ সন্তান আখ্যা দিয়ে তাকে রাজপরিচয় থেকে বঞ্চিত করেন। কিন্তু অদ্ভুতভাবে, মেরি ব্যতীত রাজা অষ্টম হেনরির একটি সন্তানও দীর্ঘকাল জীবিত থাকেনি। হেনরির একমাত্র পুত্রসন্তান, রাজা ষষ্ঠ এডওয়ার্ড, মাত্র ৯ বছর বয়সে ব্রিটেনের সিংহাসনে বসলেও ১৫ বছর বয়সেই ইহকাল ত্যাগ করেন। ফলে, রাজবংশের একজনও জীবিত সদস্য না থাকায় বাধ্য হয়েই মেরির রাজপরিচয় ফিরিয়ে আনা হয় এবং তার হাতেই তুলে দেওয়া হয় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র ক্ষমতা।


রাজপ্রাসাদে মেরিকে নিয়ে নানারকম গালগল্প প্রচলিত ছিল। ক্ষমতায় বসে মেরি টিউডর কুইন মেরি দ্য ফার্স্ট নামধারণ করেন এবং যেন ওসব গালগল্পকে বাস্তবে প্রমাণ করার জন্যই প্রজাদের উপর শুরু করেন মাত্রাতিরিক্ত অত্যাচার। মেরি ছিলেন ক্যাথলিক খ্রিস্টান, তিনি ক্ষমতায় বসেই নির্দেশ দেন ব্রিটেনের প্রতিটি কোণা থেকে প্রসেস্ট্যান্ট খ্রিস্টানদের ধরে আনার জন্য। তারপর তিনি তাদেরকে শূ লে চড়াতেন অথবা পু ড়ি য়ে মা র তে ন এবং সেসব দৃশ্য তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করতেন। ৪ বছরের শাসনামলে প্রায় ৩০০জন প্রটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টানকে আগুনে পুড়িয়ে মৃ ত্যু দ ন্ড দেওয়া হয় এবং মেরি প্রতিটি ঘটনার সময়েই উপস্থিত ছিলেন।


মেরি ছিলেন নিঃসন্তান। ফলে এক পর্যায়ে তার মাথায় ঢুকে যায় চিরযৌবনের কাল্পনিক বাসনা। সিংহাসনের ক্ষমতা ব্যবহার করে তিনি দূর-দূরান্ত থেকে অপ্রাপ্তবয়স্কা, কুমারী মেয়েদের  ধরে আনতেন। প্রাসাদের অন্তপুরে তাদের নৃ শং স ভা বে হ ত্যা করে তাদের তা জা র ক্ত ঢেলে গোসলও করতেন। জীবনের শেষ কিছু বছর তিনি প্রাসাদের ভূ-গর্ভস্থ, গুপ্ত প্রকোষ্ঠের ভেতর ভয়ানক সব স্যা টা নি ক রিচুয়াল পালন করতেন বলেও শোনা যায়, চেষ্টা করতেন কালো জাদু করারও। যদিও তা ঐতিহাসিকভাবে শতভাগ প্রমাণিত না। সেই মেরিকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে ইউরোপিয়ান ফোকটেল, ‘ব্লাডি মেরি’।


পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ স্বনামধন্য থ্রিলার লেখক এবং সাহিত্যের একাধিক জনরায় দক্ষতার স্বাক্ষর রাখা বইপাড়ার জনপ্রিয় মুখ মনোয়ারুল ইসলাম সাহেবের ‘শিউলি ফুলের ভাত’ বইটির দর্পণ ফুঁড়ে যেন বের হয়ে এসেছে ব্লাডি মেরির চেয়েও সাইকোপ্যাথিক একজন খু নী। কুটিলতার দিক থেকে সে যেন প্রায় মুসকান জুবেরি। আর তার ক্রাইমের থিম এবং মোটিফও পূর্ববর্তী ভিলেনদের থেকে আলাদা। সত্যি বলতে, দুর্জয় শাকিলের চার কিস্তির মধ্যে সবচেয়ে মারাত্নক আর ভীতিকর ভিলেনের দেখা মিলেছে এই পর্বে।


লেখক সাহেবের বিগত বইগুলোরও দু'টো প্লাস পয়েন্ট ছিল বাস্তবধর্মী চরিত্র চিত্রণ এবং সাবলীল লেখনী। থ্রিলার গল্পের গতানুগতিক টুইস্টের পরিবর্তে এই শক্তিশালী চরিত্রগুলোই মনোয়ারুল ইসলামের বইয়ের মূল আকর্ষণ। উনার লেখনীর আরেকটা খুব বড় বৈশিষ্ট্য হল সাইকোলজিক্যাল অ্যাসপেক্ট। এরেস্ট ওয়ারেন্টের দুই কূলের কারবার নিয়েই লেখক মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন তাঁর প্রতিটি বইতে। তবে শিউলি ফুলের ভাত বইতে তাঁর সাইকোলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট আগের সব বইকে ছাড়িয়েছে। অপরাধ যে করে আর অপরাধীকে যারা ধরে; দুই দলের মানসিক অবস্থা, একটা মোটিফকে ঘীরে দু’দলের দু'রকম মাইন্ডসেট, খু নী র ছুটে চলার বাসনা এবং ইকুয়ালি পুলিশের তাকে তাড়িয়ে বেড়ানোর জেদ, এই মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো এবারের বইতে অসম্ভব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। সাইকোলজি এবং রিভার্স সাইকোলজির অদৃশ্য খেলা জমে উঠেছে বইয়ের পাতায় পাতায়। সাথে বারবার পাঠকদের কাছে রাখা হয়েছে সেই পুরাতন প্রশ্ন, মানুষ অপরাধ কেন করে? খু ন কেন করে?

অতঃপর কবি মঞ্চে উঠিলেন বইতে রেখে যাওয়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন লেখক এ বইতেও রেখে গেছেন, অপরাধপ্রবণতা কী জিনগত হতে পারে? খু নী র সন্তানও কী খু নী হয়?


পরিশেষে বলব, দুর্জয় শাকিলের ৫ম কিস্তি আসন্ন এবং লেখক বেশ স্ট্রংলি সে আভাস দিয়েছেন। শিউলি ফুলের ভাত যেভাবে শেষ হয়েছে, তাতে অনুমেয় যে, পঞ্চম কিস্তিতে পরিস্থিতি ভীষন জমজমাট হয়ে উঠবে এবং দুর্জয় শাকিলকে সম্ভবত তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে দেখা যাবে।

পার্সোনাল রেটিং ৪.৫/৫
Profile Image for Rehnuma.
449 reviews21 followers
Read
February 17, 2025
❛চারদিকে হাহাকার সব হাভাত
অভাব শুধু এক থালা ভাত!❜

সাদা মেঘের মতো এক থালা গরম ভাতের সাথে মাংস ভুনা, একটু কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ আর সাথে ডিম ভাজি হলে খেয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলা যায়। আহ কি সুস্বাদু!
❛ভাত দে❜ সিনেমার কথা মনে আছে? অল্প একটু ভাতের জন্য কী কষ্ট, ত্যাগ আর হাহাকার ছিল! ভাতের কষ্ট বড়ো কষ্ট। দু’বেলা দু’মুঠো ভাতের জন্য মানুষের ছুটে চলা, কত সংগ্রাম!

মেহেরজান, অপূর্ব এক রমণী। দেখলে বয়স বোঝা যায় না। বিশাল বাড়িতে তার সঙ্গী দুটো সারমেয় আর দারোয়ান আবেদ আলী। রাতের বেলা গাড়ি নিয়ে ঘুরতে বের হয় সে। সাথে বক্স ভর্তি করে খাবার। রাস্তায় ঠাঁই করে নেয়া অসহায় মানুষগুলোর মুখে মাঝেমাঝে সে খাবার তুলে দেয়। কেউ যদি ভাত চায় তবে মেহেরজান না করতে পারে না। গাড়ির দরজায় টোকা দিয়ে শিশুরা যদি বলে,
❛ভাত খামু❜, তবে মেহেরজানের কী জানি হয়ে যায়! না করতে পারে না। বাড়ি নিয়ে এসে খাওয়ায় যত্ন করে। এটাই তার নেশা। এরপর?

নয় বছর আগের এক বিভৎস হ ত্যাকাণ্ড। স্বামী আর অন্ধ স্ত্রীর জোড়া খু ন। পুরো শরীর ঠিক আছে কিন্তু মাথা দুটো একেবারে ভর্তা। পিবিআই দক্ষিণের এসআই শাকিল আবার এই পুরোনো কেসের খাতা খুলে। এবার ধরতে পারে খু নের আসামিকে। নাম সেলিম। কিন্তু এই চেহারা সুরতের লোক কীভাবে এই কর্ম করলো সে এক বিস্ময়। যাই হোক, বান্দা এক জিনিস। শাকিল সহ তার দলকে ধরা পড়ার পরেও অদ্ভুতভাবে ঘোল খাইয়ে রাখছে। ঘোল খেয়ে হলেও শাকিল শুনবে সেলিমের খু ন করার পিছনের ঘটনা।
মুতাওয়ার মনে প্রাণে কবি। কবি হওয়ার জন্যে সেই কোন কালে ঘর ছেড়েছিল। ভেবেছিল কবিতাই তার জীবন। কবি হয়েই সে জীবনের কয়টা দিন পার করে দিবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। কবি হলেও আশানুরূপ সাড়া ফেলতে পারেনি তার ছন্দ। লোকে আজকাল কবিতা গিলে না। প্রকাশক বললেন উপন্যাস ফাঁদতে। কিন্তু র ক্তে যার কবিতার নাচন, সে কী করে কল্পিত জীবনের গল্প লিখবে?

বাপ-মা ছেড়ে প্রেমের টানে কুদ্দুসকে নিয়ে ভেগেছিল আমেনা। সুখের সন্ধানে পেতেছিল সংসার। কিন্তু জামাইটা জুতের না। ভালবাসে তাকে, নেই কোনো মেয়ের দোষ। কিন্তু আছে এক নেশা। কত থানা পুলিশ হলো কিন্তু এই নেশা কমে না।

ফ্লাইওভারের নিচে একদল টোকাই থাকে। দ স্যিপনা, টুকটাক কাজ আর চেয়ে খেয়েই যাদের জীবন চলছে। এদের প্রতি মুতাওয়ারের ভীষণ মায়া। হয়তো তাদের মধ্যে নিজের অসহায়তা খুঁজে পায় সে। এদের মধ্যে হাফসা নামের একটি মেয়ে দিন দুয়েক ধরে নিখোঁজ। কোথায় গেল?
সৎমায়ের সাথে রাগ করে শাহানা ঘর ছেড়েছে। পিতা আজিজ মিয়া হন্যে হয়ে খুঁজছে মেয়েকে। হদিস নেই। যেন মেয়েটা হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। তাকে খুঁজতে সরব হয়েছে গোলাম গনি।
শহরে গত কয়েক বছরে নিখোঁজ হয়েছে বেশকিছু শিশু। যাদের প্রায় সকলের বয়সই ১৪ এর আশেপাশে। কমবেশি হতে পারে। এদের সকলেই পথশিশু, যাদের পরিচয় নেই, সহায় সম্বল নেই। হারিয়ে গেলে খোঁজ করার, অপেক্ষা করার কেউ নেই। এদের মধ্যে কয়জন ফিরে এলেও সংখ্যাটা কম। কোথায় হারিয়ে গেল শিশুগুলো?
সে অতীত মনে করে দুঃখ পায়। বিধাতা যেন তার জীবনে সুখ দিলো না। সুখের নাগাল পেতে না পেতেই কেমন করে অশান্তির বাতাস ঝাঁপটা দিয়ে সব তছনছ করে দেয়। অসম্ভব দুঃখ গ্রাস করে তাকে। এরপর কী যে হলো। নেশা উঠলো, শোণিতের নেশা!
গান শুনতে শুনতে কিংবা কবিতা মনে করতে করতে সে ভিক্টিমের দেহ থেকে চামড়া আলাদা করে, মাংস কাটে, র ক্ত মেখে বসে থাকে। কী যে শান্তি লাগে তখন! বাঁচার আহাজারি, হাড় কোপানোর শব্দে যেন শরীরে শিহরণ বয়ে যায় তার। সে তো কষ্ট দিচ্ছে না। বরং কষ্টের জীবন থেকে মুক্তি দিচ্ছে!
এরপর সে রান্না করে। কেউ কখনো খেয়ে খারাপ বলেনি। শুধুমাত্র যে রাফসান চৌধুরীই রান্না ভালো করে এমন না! রান্নাটা ভালো সেও করে। মানুষকে খাইয়ে, খেতে দেখে তৃপ্তি পায়। যেন এক প্লেট শিউলি ফুলের ভাত খাচ্ছে সামনে বসা মানুষটি! এর থেকে সুন্দর দৃশ্য আর হতে পারে?

শাহানা নিখোঁজ হওয়ার আগে শাহবাগ থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে গোলাপ আর শিউলি ফুল কিনেছিল। কোথায় গেল সে?

নিখোঁজ হওয়া বাচ্চাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে জানতে পিবিআই অফিসার দুর্জয় শাকিল যোগ দিয়েছে গোলাম গনির সাথে। কিছু ফুটেজ আছে, যাচাই বাছাই চলছে। এরই মাঝে নিখোঁজ হয় আরেকটি ফুটফুটে মেয়ে। কিছু হওয়ার আগেই কি তাকে পাওয়া যাবে?


পাঠ প্রতিক্রিয়া:

❝শিউ���ি ফুলের ভাত❞ মনোয়ারুল ইসলামের সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ধাঁচের উপন্যাস।
লেখকের ক্রমিক খু নি ধাঁচের লেখা পড়েছি আগে। সাথে মানুষের মনস্তত্ত্বের মিশেলে পূর্ব থ্রিলারগুলো সাজিয়েছেন তিনি। এই উপন্যাসটিও সাইকোলজিক্যাল ধারার। এখন পর্যন্ত লেখকের লেখা দীর্ঘ উপন্যাস এটি।
শুরুটা আমার কাছে একটু ধীর গতির লেগেছে। গল্প, চরিত্র সাজাতে একটু সময় নিয়েছেন লেখক। অতীত, বর্তমানের ঘটনা গল্পের মাঝে এসেছে। কাহিনির বিন্যাসে একেক সময় প্রাধান্য পেয়েছে অতীত। এক ঘটনা থেকে আরেক ঘটনায় মুভ হয়েছে দ্রুত। তবে সেখানে সামঞ্জস্য ছিল, ভালো লেগেছে ব্যাপারটা।
এবারের খু নি বা আসামির ঘটনা এসেছে ভিন্ন ভাবে। একজন ধরা পড়েছে। সে নানাভাবে তদন্ত কর্মকর্তাদের যাতনা দিয়ে যাচ্ছে।
আর আরেকজন?
সে একেবারে ফাটিয়ে দিচ্ছে! তার বর্ণনা পড়ে মায়া হয়েছে, কখনো কোমল লেগেছে। আবার তার কর্ম একেবারে ভয়াবহ আকার দেখিয়েছে। খু নের এই বিভৎসতাকে দারুণ বলব, না-কি ভয়ানক বলব? কোমল মুড থেকে সাইকো মুডের টার্ন ছিল অসাধারণ।
এবারের হ ন্তারক শুধু র ক্তের হোলি খেলে না। একেবারে রান্না করে সুস্বাদু করে। ভুনা মাংস, পুডিং, স্যুপ ওরে মা গো! মুখরোচক খাবার তৈরি করে ফেলে আশরাফুল মাখলুকাত দিয়ে।
উপন্যাসে জায়গায় জায়গায় থ্রিল ছিল না। টুইস্ট টার্নও একেবারে পাতায় পাতায় নেই। কিন্তু পড়তে বেশ লেগেছে। বিভৎসতার বর্ণনা দিয়েছেন লেখক নিখুঁতভাবে। চোর পুলিশের খেলা সেভাবে ছিল না। আমাদের খু নি এসব নিয়ে কোনো ভয়ই পায়নি। কারণ তার সিস্টেম আলাদা।
তবে আমি পড়ার আগে একটু চিন্তায় ছিলাম খু নোখু নি সহ্য করতে পারবো নাকি! তবে আমার কাছে তেমন বিভৎস লাগেনি (কেয়া পাতা আমিও পা গল হয়ে যাচ্ছি নাকি!)।

উপন্যাসের সবথেকে ভালো লেগেছে সমাজের অসামঞ্জস্য বিষয়গুলোকে লেখক তুলে ধরেছেন। সমাজে অবহেলিত, অসহায় মানুষগুলোর জীবনের কথা, তাদের জন্য সমাজের তেমন কিছুই আসে যায় না। বিশেষ করে পথশিশুদের অনিশ্চিত বয়ে চলা জীবনের বর্ণনা লেখক দিয়েছেন দারুণভাবে। ঘটনাগুলোর স্থান আমার চেনা পরিচিত খুব, তাই দৃশ্যগুলো কল্পনা করতে অসুবিধা হয়নি।
ছোটবেলার ঘটনা মানুষের জীবনে কী রকম প্রভাব ফেলে আর সেই প্রভাব যে একটা সাধারণ মানুষকে অস্বাভাবিক, অসুস্থ করে তুলতে পারে এই বিষয়টা মোটাদাগে দেখিয়েছেন। একটা সুন্দর জীবনের জন্য একটা সুন্দর পরিবার, স্বাভাবিক পরিবার দরকার।
মানুষ সুখের আশায় চাতকপাখির মতো অপেক্ষা করে। কিন্তু বাস্তবতার গ্রাসে সে অপেক্ষা ধুলিস্যাৎ হয়ে যায়। আর সেই অভিজ্ঞতা তাকে কখনো সাইকো করে তুলে।
ঘটনা অনেক জায়গায় মোড় নিয়েছে। তবে কিছু জায়গায় আমার একটু কনফিউসড লেগেছে। যেমন আরিফ কী করে সন্দেহ করল, ব্যাপারটা সেটা বুঝতে পারিনি।
এর আগের থ্রিলার গুলোতে লেখক হুদাই কুকুর মে রে ফেলতেন। এবার তাদের প্রতি সদয় হয়েছেন।
মানুষের মনের অদ্ভুত খেয়াল, আশা, জিঘাংসা মানুষকে যে কোন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে সেটা নাগাল পাওয়া মুশকিল!

চরিত্র:

মেহেরজান!
আমার দারুণ লেগেছে। তার সবকিছুই ভালো লেগেছে। লেখক আগের বইয়ের টানা অভিযোগ এবার ঘুচিয়েছেন। আর এটাই সবথেকে ভালো লেগেছে। মেহেরজানের অতীত, বর্তমান সবকিছু নির্দিষ্ট সময় নিয়ে পরতে পরতে সাজিয়েছেন। শেষের আগে দিয়ে ভালোই ধাক্কা লেগেছে। উপন্যাসের নামের সাথে মিলটা ভালো হয়েছে।
দুর্জয় শাকিল আগের থেকে এখানে পরিপক্ক হয়েছে। তার তদন্ত প্রক্রিয়া ভালো লেগেছে। তবে তাকে আমি আরো তুখোড় আশা করি।
সেলিম চরিত্রটা পিকুলিয়ার লেগেছে। এর সাথে অতীতের সংযোগ ভালো ছিল।
আবেদ আলীকেও লেখক ভালো স্পেস দিয়েছেন। কাহিনির খাতিরে এদের সকলের অতীত এবং বর্তমানের সুতো মিলিয়েছেন বেশ ভালো ভাবে।
উপন্যাসের শেষে দিকে এসে ❛দুনিয়া গোল❜ এটা আবার প্রমাণিত হয়েছে। শেষে সব কিছুর সুতা একদিকে এসেছে।

প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন:

বইটার প্রচ্ছদ ভালোই লেগেছে। নামলিপিটা পুরোনো দিনের একটা ভাইব দেয়।
অন্যধারার সম্পাদনায় আরো মনোযোগী হওয়া উচিত। মুদ্রণ প্রমাদ, বানান ভুল, ই/য় এর কিছুক্ষেত্রে সমস্যা, শব্দের সমস্যা লক্ষণীয় মাত্রায় ছিল। এদিকে আরো যত্নশীল হওয়া উচিত।

❛একটু শিউলি ফুলের ভাতের উপর যদি র ক্তের ফোঁটা টপাটপ টপাটপ পড়তে থাকে সে ভাতের স্বাদ কি বাড়ে?❜


Profile Image for Noyon.
53 reviews8 followers
February 21, 2025
দুর্দান্ত একটা বই।শেষ করে মনে হলো শুরু হইছে কেবল.....
Profile Image for Parvez Alam.
307 reviews12 followers
May 27, 2025
৩৫১ পৃষ্ঠার একটা বই, কিন্তু গতি পেয়েছে ২৫০ পৃষ্ঠা পার হওয়ার পর থেকে। থ্রিলার উপন্যাস হিসেবে হতাশ হয়েছি।

বইটিতে অতিমাত্রায় বর্ণনা করা হয়েছে, যা থ্রিলার ধারার সঙ্গে বেমানান লেগেছে। কিছু কিছু বর্ণনা আবার কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই এসেছে। যেমন, সাফুরাদের কাহিনীর তেমন কোনো মূল্য দেখা যায় না—অহেতুক অনেক বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

আরেকটা ব্যাপার হলো সেলিম। দুর্জয় শাকিল শুরু থেকেই এই সেলিমকে নিয়েই ব্যস্ত। যদি বইটা সেলিমকেন্দ্রিক হতো, তাহলে তেমন করেই থাকা যেত। কিন্তু হঠাৎ করেই শিউলি ওরফে মেহেরজান চরিত্রটিকে প্রধান চরিত্র হিসেবে আনা হয়েছে। মেহেরজান যখন গল্পে এসেছে, তখন হুট করেই কিছু সময় পরে আবার উধাও হয়ে গেছে। অনেক পরে আবার তাকে দেখা গেছে।

আরেকটা চরিত্র ‘কবি’—এই চরিত্রটাও ছোট, কিন্তু তাকে নিয়ে অনেকখানি বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, যা অপ্রয়োজনীয় মনে হয়েছে।

যাক কি আর করা, ভালো লাগেনি গল্পটা। শেষ করতে কষ্ট হয়েছে।
২০২৫ সালে কোনো বাংলা মৌলিক থ্রিলার পড়ে এখনো ভালো লাগেনি।
Profile Image for Hrid.
5 reviews2 followers
March 26, 2025
এর আগে বাংলায় মৌলিক থ্রিলারে এইরকম নেগেটিভ চরিত্র লেখা হয়েছে কিনা আমার জানানেই। মেহেরজান চরিত্রটা প্রতিটা পাতায় পাতায় দূর্দান্ত এবং ভয়াবহ ভাবে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। মেহেরজান ছারাও বাকি চরিত্র গুলোকে খুব সুন্দর ভাবে লেখা হয়েছে। সমাজে পথও শিশুদের দিকটাও গল্পে খুব সুন্দর ভাবে ফুটে উঠেছে।
অপ্রয়োজনীয় কোনো বর্ণনা নেই। লেখক গল্পের প্রয়োজনে যতটুকু বর্ণনার দরকার ছিলো যতটুকু ফ্ল্যাশব্যাকের দরকার ছিলো ঠিক ততটুকুই লিখেছেন। আমার কাছে বইটা প্রথম থেকেই বেশ গ্রিপিং লেগেছে।

আমি লেখকের এর আগে দুইটা বই পড়েছি। তবে এই বইটাতে লেখকের লেখনি আগের বইগুলোর থেকে অনেক বেশি পরিপক্ব আর সাবলীল। খুব বেশি টুইস্ট না রেখেও এত টানটান ভাবে এই পরিসরে একটা থ্রিলার লেখা চারটে খানে কথা নয়, লেখক দারুণ কাজ করেছেন।

তবে এন্ডিংটা এভাবে হবে আমি ভাবতেই পারিনি। এটাই এই বইটার একমাত্র অতৃপ্তির জায়গা। কারণ এখন সামনে কি হবে সেটা জানার জন্য অনেকটা সময় অপেক্ষায় থাকতে হবে। বোঝা যাচ্ছে লেখক এটার দ্বিতীয় কিস্তি আনতে যাচ্ছে। সবশেষে বলতে হয় লেখক পাঠকদেরকে দূর্দান্ত একটা থ্রিলার উপহার দিয়েছেন। লেখকের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।
Profile Image for Subrna Akter.
60 reviews
March 18, 2025
আমি ভাত খামু। সাদা ভাত আর গরুর মাং'স।

খুব সুন্দর একটি আবদার।‌ মেহেরজান জানে ক্ষুধার জ্বালা কেমন! তাই তো যখন কোন বাচ্চা ছেলেমেয়েরা তার কাছে ভাত খেতে চায় সে নিজের বাসায় নিয়ে গিয়ে নিজের হাতে রান্��া করে খাওয়ায়। ক্ষুধার্ত মানুষের ভাত খাওয়ার দৃশ্য উপভোগ করে মেহেরজান। শুধু তাই না প্রায় রাতেই নিজের হাতে তার স্পেশাল আইটেম রান্না করে রাতের আঁধারে রেখে আসে ছিন্নমূল, টোকাইদের পাশে।

উপরের অংশটুকু পড়ে যে কেউ মনে করবে মেহেরজান একজন সুন্দর মনের মানুষ। আমিও প্রথমে তাই ভেবেছিলাম। কয়েক পৃষ্ঠা পড়ে নিজের ভুল বুঝতে পারি।

মনোয়ারুল ইসলাম ভাইয়ার লেখা প্রথম বার পড়ার সুযোগ পেলাম। ভাইয়ার লেখা অসম্ভব সুন্দর। গল্পের প্লট, চরিত্রায়ন সুন্দর ছিল। একটা চরিত্রের সাথে আরেকটা চরিত্রের যোগসূত্র স্থাপন করেছেন খুব সুন্দর ভাবে। বইয়ের মধ্যে অনেক গুলো চরিত্র ছিল। তবে কোন চরিত্রকে অযৌক্তিক মনে হয় নি। গল্পের স্বার্থে ব্যবহার করেছেন যতটুকু প্রয়োজন হয়েছে ঠিক ততটুকুই।

প্রথমে একটু ধীর গতিতে চললেও ভালোই লেগেছে। বইটিতে টুইস্টে ভরপুর ছিল না, ছিল না অ্যাকশন, চোর পুলিশের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, তবে যেটা ছিল সেটা আপনাকে আটকে রাখতে বাধ্য করবে। তাছাড়া বইটি পড়া শেষে জানা যাবে একজন সহজ সরল মানুষের সিরিয়াল কি'লা'র হওয়ার গল্প। মেহেরজানের স্পেশাল রেসিপি তো আছেই।

পিবিআই অফিসার দূর্জয় শাকিলের কথা অনেক শুনে ছিলাম। তবে যেমনটি আশা করে ছিলাম তেমনটি পাই নি। আরেকটু স্ট্রং চরিত্র হলে জমে ক্ষীর হয়ে যেত।

বইয়ের বইয়ের নাম আর প্রচ্ছদ দুইটাই সুন্দর হয়েছে। বইটিতে কয়েকটি জায়গায় বানান ভুল নজরে পরেছে। পড়ার সময় বিরক্ত লেগেছে। এই দিকটায় খেয়াল রাখা দরকার ছিল।

বই : শিউলি ফুলের ভাত
লেখক : মনোয়ারুল ইসলাম
43 reviews
September 18, 2025
প্রায় ভোর হতে চললো। বইটা শেষ দিয়েই ঘুমাবো প্ল্যান ছিলো। করলাম শেষ।

অনেকদিন পর টানা বই পড়ার নেশা জাগলো ঠিক যেমন মেহেরজানের রক্তের নেশা! খুব চমৎকার লেগেছে গল্পটা। যদিও খুব ক্লিশে প্লট। তবুও, লেখকের প্রশংসা প্রাপ্য। প্রায় প্রতিটি চরিত্র সময় নিয়ে স্টাব্লিশ করেছেন। ব্যাকগ্রাউন্ড দিয়েছেন চরিত্রগুলোর ভালোভাবে। তবে শেষের দিকে একটা ক্লিফহ্যাঙ্গার রেখে দিলেন। তারমানে কি এর দ্বিতীয় পর্ব আসবে?
1 review2 followers
March 6, 2025
Rating: 4.5/5
শেষটা এমন কেন? বিন্তিকে কে খুন করলো? শহরে কি মেহেরজানের মতো আরো কোনো রক্তপিপাসু আছে?
Profile Image for Muna Khan.
86 reviews1 follower
August 30, 2025
3.5
📖 শিউলি ফুলের ভাত
মনোয়ারুল ইসলাম ✍🏻

এন্ডিং এ এইটা কি হলো! বিন্তিকে কে মারলো?! তাহলে কি মেহেরজান ছাড়াও আরো একজন রক্ত পিপাসু রয়েছে ঢাকা শহরে, যে এমন নিরীহ ছোট বাচ্চাদের কুপিয়ে হত্যা করে শান্তি পায়।?

এটা ছিল আমার পড়া লেখকের প্রথম বই। থ্রিলার গল্প হিসেবে বইটাতে অনেক চরিত্রকেই একটু বেশিই বিশ্লেষণ করা হয়েছে বলে আমার মনে হয়। গল্পের শুরুতেই সেলিমকে অনেক বেশি প্রাধান্য দেয়া হয় কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেলিমের সাথে আমি কোন কানেকশন পেলাম না গল্পের তেমন একটা! আসলে পুরো গল্পের শেষটা অসমাপ্তই লাগছে আমার কাছে।
হয়তো বইটার সিক্যুয়েল আসবে আমার মনে হয়।

দুর্জয় শাকিল যে কিনা সামনে থেকে এই পথশিশু হারিয়ে যাওয়ার কেসটা লিড করছেন। হয়তো পরবর্তী বইয়ে জানতে পারবো বীন্তির খুনি কে?
Profile Image for Sakib A. Jami.
337 reviews38 followers
April 18, 2025
শিউলি ফুলের ভাত — নামটা শোনার পর প্রশ্ন এসে যায়, শিউলি ফুলের আবার ভাত হয়? কীভাবে?

সে প্রশ্নটা তোলা থাক। আগে গল্পটা নিয়ে বলি। একটা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারে পাঠকের আগ্রহ থাকে শেষ পর্যন্ত কে অপরাধী, জানা। কিন্তু “শিউলি ফুলের ভাত” উপন্যাসে লেখক আগেই অপরাধী উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। কে অপরাধী পাঠক আগেই জানতে পারে। কীভাবে অপরাধ হয়, সে-ও জানা যায়। তাহলে আগ্রহটা কোথায়? এর যবনিকাপাত কীভাবে হবে?

উপন্যাসটা একজন নারীর। মেহেরজান। সেলিমের গল্পও বলা যায়। যে দুটো খুন করে নয় বছর আড়ালে ছিল। দুটি গল্পই পাশাপাশি চলেছে। একটার সাথে আরেকটার আদতে মিল নেই। না, মিল আছে একটা। দুজনের জীবনেই ছোটবেলার এক প্রভাব আছে। মানুষের মনস্তত্ত্বে জীবনযাত্রার প্রভাব অনেক বেশি গুরুত্বপুর্ণ হয়ে ওঠে। অপরাধ প্রবণতা এ জীবনযাত্রার কারণেই নির্ধারিত হয়।

এই উপন্যাসের সবচেয়ে ভালো দিক ছিল, লেখক প্রতিটি চরিত্র গঠনে বেশ সময় দিয়েছে। চরিত্রগুলোকে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। টুকরো কিছু ঘটনায় অনেক চরিত্র এসেছে, আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে অযথাই। এখানে লেখক দারুণ কাজ করেছেন। অযথা চরিত্রগুলোকে এক সময় গুরুত্বপুর্ণ চরিত্র হিসেবেই মনে হয়েছে। অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সুতো বেঁধেছেন।

আমেনা, তার স্বামী, কবি মুতাওয়ার আহমেদ, দারোয়ান হারুন, একদল টোকাই — প্রতিটি চরিত্রকে যেভাবে লেখক সময় দিয়ে গড়েছেন তাদের কোনো না কোনো ভূমিকা ছিল। কেউ অযথা, অপ্রয়োজনীয় ছিল না।

একই সাথে লেখক সমাজের অনেক অন্ধকারাচ্ছন্ন দিক তুলে ধরেছেন। একজনের অপরাধী হওয়ার পেছনে মনস্তত্ত্ব যেমন এখানে উঠে এসেছে, তেমন করে এই সমাজে গুরুত্বহীন কিছু মানুষের কথা বলেছেন। সমাজ তাদের টোকাই বলে। অবহেলায় যাদের দিন কেটে যায়। পেটের দায়ে ভিক্ষা করে, অন্যের কাছে হাত পেতে ক্ষুধা মেটায়। রাস্তায় ফুল, পত্রিকা বেচে। এদের কারো পরিবার থাকলেও অধিকাংশের কেউ থাকে না। এরা হারিয়ে গেলে সমাজের কী দায় খুঁজে বের করার? প্রশাসনও সময় নষ্ট করতে চায় না।

তাই শাহানারা হারিয়ে গেলে একটু আধটু খোঁজার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু যখন ঘটনাগুলো ঘনঘন ঘটে, তখনই সংশয় বাসা বাঁধে।

আরেকটা বিষয় ভালো লেগেছে, দূর্জয় শাকিলকে এখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যেহেতু লেখক সিরিজ লিখছেন, একটু একটু করে চরিত্রগুলোকে পূর্ণতা দেওয়া, তাদের স্টোরিগুলো তুলো ধরা বেশ আকর্ষণীয়। এই কেসে পিবিআইকে পুরোদমে যুক্ত করা, নতুন সদস্যদের গুরুত্ব দেওয়া ভালো লেগেছে। ধীরে ধীরে এই প্রক্রিয়া বাড়ালে আরো ভালো লাগবে। অন্য থানার অফিসারদের সাথে পিবিআই অফিসারদের একসাথে কেস সমাধানের চেষ্টা বইটির বাড়তি আকর্ষণ ছিল।

এখানে কোনো পুলিশ অফিসারকে অতিমানবীয় হিসেবে দেখানো হয়নি। সবাই স্বাভাবিক মানুষ। তাদের ভুল হয়, কঠিন পরিস্থিতিতে খেই হারিয়ে ফেলে। দূর্জয় শাকিল প্রধান চরিত্র হলেও বীভৎস ঘটনা তাকেও টলে যেতে বাধ্য করে।

মনোয়ারুল ইসলামের আগের সব লেখা পড়ার সুবাদে বলতে পারি, লেখকের লেখা আরও পরিণত হয়েছে। বর্ণনাশৈলী ভালো লেগেছে। বিশেষ করে প্রকৃতি, পরিস্থিতি, ঘটনাক্রমের বর্ণনা লেখক বেশ দক্ষতার সাথে দিয়েছেন। লেখকের লেখা এমনিতেই সাবলীল। ভাষাশৈলীও দারুণ। তবে যে বিষয়ে আমার বারবার অভিযোগ, নারী অবয়বের অপ্রয়োজনীয় বর্ণনা লেখক যেভাবে দেন। সবকিছুর পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দিতে হয় না। পড়তে অস্বস্তি হয়। না বলেও অনেক কিছু বুঝিয়ে দেওয়া যায়। পাঠক পরিস্থিতি, পরিবেশ সবকিছুই তার পাঠের মাধ্যমে বুঝে নিবে। বিশেষ করে এমন বর্ণনার ক্ষেত্রে, এতেই ভালো হয় বলে মনে হয়।

লেখক যেহেতু আগেই অপরাধী কে বলে দিয়েছেন, সেহেতু এই গল্পের প্রধান আকর্ষন ছিল — এর পরিণতি কী হয় তা জানা। খুব যে বেশি থ্রিল ছিল, এমন না। থ্রিলারের চেয়ে মানুষের জীবনের গল্প এখানে প্রাধান্য পেয়েছে। মানুষের মনস্তত্ত্ব কীভাবে গড়ে ওঠে; মেহেরজান, সেলিম বা আবেদ আলীর মতো মানুষ কেন স্বাভাবিক জীবনের থেকে বাহিরে; এখানেই লেখক গুরুত্ব দিয়েছেন। সমাজ মানুষকে বদলে দেয়। পরিবারের অবহেলা-অত্যাচার, সমাজের অবজ্ঞা, অনৈতিক কার্যকলাপ এর জ��্য অনেকাংশে দায়ী।

লেখক যেভাবে শেষটা মিলিয়েছেন, নতুন কিছুর পূর্বাভাস। সিক্যুয়ালের ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন তিনি। আমাদের জীবন একটা চলমান প্রক্রিয়ায়। খুব বেশি চমক, থ্রিলের আশ্রয় না নিয়ে সেই চলমান জীবনের গল্পগুলো লেখক জীবন্ত করে তুলেছেন। এই চলতে ফিরতেই অপরাধ হয়, ভুল হয়, ভুলের মাশুল দিতে হয়। কিন্তু সবকিছুর কি ‘দ্য এন্ড’ হয়?

লেখকের লেখায় আগেও কি/কী এর ভুল ব্যবহার লক্ষ্�� করেছি। এখানেও ছিল। ই/য় এর ভুলও ছিল কিছু জায়গায়। বানান ভুল, ছাপার ভুলগুলো আরেকটু কমিয়ে আনা যেত। প্রচ্ছদ বেশ পছন্দের। বইয়ের নামকরণ কি যৌক্তিক হলো? সেটা অনুভব করে নিতে হবে।

মানুষের মায়া-মমতার আড়ালেই হিংস্রতা লুকিয়ে থাকে। ভালো মানুষের মুখোশে তার দেখা পাওয়া যায় না। মানুষ যখন আবেগে-আহ্লাদে কথা বলে, এর পেছনে কারণ থাকে। হয়তো পেছন থেকে ছুরি মারার পূর্ব প্রস্তুতি। কে জানে?

▪️বই : শিউলি ফুলের ভাত
▪️লেখক : মনোয়ারুল ইসলাম
▪️প্রকাশনী : অন্যধারা
▪️প্রকাশ সাল : ফেব্রুয়ারি ২০২৫
▪️ব্যক্তিগত রেটিং : ৪.৫/৫
4 reviews
March 1, 2025
বই: শিউলি ফুলের ভাত
লেখক: মনোয়ারুল ইসলাম
প্রকাশনী: অন্যধারা
জনরা : সাইকোলজিক্যাল থৃলার


বইয়ের নামটা যেমন অদ্ভুত, গল্পটা এরচেয়েও বেশি অদ্ভুত।
বইয়ের কেন্দ্রীয় চরিত্র মেহেরজান, তাকে ঘিরেই সমস্ত রহস্য।
তিনি র/ক্ত পছন্দ করেন, তাও আবার মানুষের তাজা র/ক্ত।
বলা চলে তিনি একজন সিরিয়াল কি//লার। তবে তথাকথিত সিরিয়াল কি//লারদের মতন নয়।
রয়েছেন আবেদ আলী, যিনি পছন্দ করেন মানুষের মাং//স খেতে। মালকিনের অনুগত একজন কর্মচারী।
বরাবরের মতই সাব ইন্সপেক্টর দুর্জয় শাকিল আর আসিফ আলীর কেমিস্ট্রি ছিল সুন্দর। সেলিম নামের এক খু//নীর গল্পও আছে এই বইয়ে। সেলিমকে নিয়ে দুর্জয় শাকিলের হয়রানির অংশগুলো বেশ মজার।

শিশু চরিত্র আছে সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে পথশিশু।
তাদের জীবনের গল্প উঠে এসেছে সাবলীল ভাষায়।
এই সমাজেই তারা বেড়ে উঠে, অন্যায় অবিচারে বড় হতে হত নিজেরাও বিপথে চলে যায়। তাদের জন্য আমাদের কি কিছুই করার নেই?
গল্পের ধাচটা ভিন্ন। বেশি কিছু লিখলে স্পয়লায় হয়ে যাবে তাই লিখছি না।
মানুষের শৈশব যে তার মানসিকতা তৈরিতে কতটা ভূমিকা রাখে, তা এই গল্পে সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। একজন স্বাভাবিক মানুষও যে কখনও কখনও কতটা হিংস্র হয়ে উঠতে পারে সে ব্যখ্যা এখানে আছে।
প্রতিটি চরিত্র পরিপূর্ণ, প্রতিটি ঘটনা পরিপূর্ণ। প্রতিটি চরিত্র খুব সুন্দরভাবে সম্পৃক্ত একে অন্যের সাথে। ঘটনা থেকে ঘটনায় টার্ন নেয়াও খুবই স্মুথ!

তবে এই উপন্যাস সবার জন্য নয়। দুর্বল হৃদয়ের মানুষদের, বিশেষ করে যাদের রক্তভীতি আছে তাদের এই বই না পড়াই ভালো।
লেখক বরাবরের মতই সমাজের কিছু সমস্যার কথা ফুটিয়ে তুলেছেন। সমাজের একদম নিচু স্তরের,পথের মানুষদের নিয়ে যেভাবে ব্যখ্যা করেছেনে, উচুস্তরের মানুষদেরও সেভাবে ব্যখ্যা করেছেন। সত্যিই এবারের লেখার ধরন অতুলনীয়।
এই উপন্যাসে আমার সবচেয়ে পছন্দ হয়েছে কবি মুতাওয়ারের চরিত্র। তিনি সফল কবি হোক।

শেষটা নিয়ে আমি প্রথমে একটু আশাহত হয়েছি। তারপর আবার ভেবে দেখলাম সব গল্পের শেষ তো একরকম হবে না। থৃলার গল্পের মজা এখানেই, প্রেডিকশান না মিললেই বেশি ভালো লাগে। তাই শেষ হইয়াও হইলো না শেষ টাইপের একটা অনুভূতি আঁকড়ে আছে আমাকে।
এত বড় উপন্যাস, তবু পড়তে একটুও বিরক্ত লাগেনি বরং মনে হচ্ছিলো কখন পুরোটা শেষ করব!? শেষ করার পরও মনে হচ্ছে আরেকটু বড় হতে পারতো না?

প্রচ্ছদ বেশ সুন্দর হয়েছে, বলাই বাহুল্য। বাইন্ডিংও খুব ভালো। তবে টাইপিং মিস্টেক পেয়েছি বেশ কয়েক জায়গায়। অন্যধারার বইতে এর আগে এমন কখনো হয়নি।

লেখকের জন্য শুভকামনা। যারা বইটি পড়েননি, তাদেরকে বলব পড়ে দেখুন।
Profile Image for Sumaya Ferdous Jui.
5 reviews
March 10, 2025
মানুষের জীবনে অভাব থেকে যায়। অভাব বিহীন কোনো জীবন থাকা সম্ভব নয়৷ কারোর থাকে ভালোবাসার অভাব, কারোর অভাব থাকে ভাতের। ক্ষুধা পেটে স্বভাব টিকিয়ে রাখা দায়।

"শিউলি ফুলের ভাত" মনোয়ারুল ইসলামের পরিপক্ক হাতের একটি পরিণত লেখা। শুরুটা খুবই গোছানো, প্লটের দিকে ধীর গতিতে এগিয়েছে। চরিত্র গুলো ফুটিয়ে তুলতে যতটুকু ইনফর্মেশন দরকার ঠিক ততটুকুই বর্ণনা করেছেন লেখক। অনেকের কাছেই হয়ত এটা ধীর গতির মনে হবে।
কিন্তু আমি প্রচন্ড ইঞ্জয় করেই পড়েছি।
তবে শেষের দিকে মনে হলো শেষ কই? না জানি কত দিন আর অপেক্ষা করতে হবে শেষ জানতে।

এটা যদিও ছোট গল্প না, তবুও শেষ হয়েও হইলোনা শেষ।
Profile Image for Bookreviewgirl_xo.
1,186 reviews99 followers
May 15, 2025
Rating : ৩.৭৫/৫

New author. Amazing writing.

I had no idea what I was getting myself into, but woah... It was hard to put the book down once I started reading. But the ending? I need more. And I cannot stress this enough, I need a conclusion 😰 ASAP!

Quotes

🠚 "Some people are so afraid to die that they never begin to live."
- Henry Van Dyke

🠚 "ভালোবাসা ছাড়া আসলেই পৃথিবীটা শূন্য।"
Profile Image for Lutfun Naher.
33 reviews
September 16, 2025
“শিউলি ফুলের ভাত : কোমলতার ছায়ায় লুকানো নৃশংসতার গল্প।”

শিউলি ফুল— ভোরের প্রথম আলো যখন গাছের পাতায় ছড়িয়ে পড়ে, তখন মাটিতে ঝরে পড়ে শত শত ছোট্ট শুভ্র কমল ফুল। তার ভেতরে লুকিয়ে থাকে একধরনের নরম মায়া আর কোমলতায় ভরা সৌন্দর্য। সকালের হালকা বাতাসে দুলে ওঠা শিশিরভেজা শিউলি ফুলের মিষ্টি সুবাস আমাদের নিঃশব্দে আনন্দ দেয়। স্নিগ্ধ সকালের আলোয় সদ্য ঝরে পড়া শিউলি ফুলের যে সৌন্দর্য ফুটে ওঠে, তা মনে আনে অদ্ভুত এক দোলা।

অপরদিকে, একজন অনাহারী ক্ষুধার্ত মানুষের সামনে এক থালা সাদা ভাত যেন শিউলি ফুলের সৌন্দর্যকেও হার মানায়। তার কাছে সেই ভাতের থালাই পৃথিবীর সবচাইতে সুন্দর দৃশ্য। এক থালা ভাত আর সঙ্গে কিছু তরকারি (যদি হয় মাংস তবে তো কথাই নেই)—এর মধ্যে যে কী অমূল্য সৌন্দর্য আছে, তা কেবল অনাহারীরাই জানে। ক্ষুধার্ত মানুষের মনে তখন হয়তো প্রশ্ন জাগে— এই শত শত শুভ্র শিউলি ফুল যদি ভাত হতো, তবে সেগুলো একত্রে কুড়িয়ে নিয়ে অন্তত একবেলা পেটপুরে খাওয়া যেতো। যেমনটা ‘মনোয়ারুল ইসলামের’ লেখা ‘শিউলি ফুলের ভাত’ বইতে পাওয়া যায়। অভাবী পরিবাবের ছোট্ট মেয়ে ‘শিউলি’ তার বাড়ির উঠানেও ছিল বড় একটা শিউলি গাছ, যার নিচে প্রতিদিন ঝরে পড়ে থাকতো শত শত শুভ্র শিউলি ফুল। সে ঐ ঝরে পড়া শিউলি ফুলগুলো কুড়িয়ে নিতো আর মাঝে মাঝে ফুলগুলো দেখে ভাবতো, “ইস্, এই ফুলগুলো সব যদি ভাত হতো। এক প্লেট ভাত। শিউলি ফুলের ভাত। কেমন হতো?”, “মন্দ নিশ্চয় হতো না। প্রতিদিন সে শিউলি ফুলের যে মালা গাঁথে তা এক সময় শুকিয়ে যায়। কিন্তু, ভাত হলে খাওয়া যেত। ক্ষুধা কমত। এই ক্ষুদার জ্বালায় মাটিতে কতদিন গড়াগড়ি করেছে, কিন্তু ভাত! ভাত জুটত না”

বই- শিউলি ফুলের ভাত
লেখক- মনোয়ারুল ইসলাম
প্রকাশনী- অন্যধারা
প্রচ্ছদ- মানব গোলদার
পৃষ্ঠা সংখ্যা- ৩৫২
মুদ্রিত মূল্য- ৫০০।

উপন্যাসের কাহিনীই শুরু হয় সফুরা নামের ছোট্ট মেয়েটার ভাত খেতে চাওয়া দিয়ে কিন্তু তার মা আমেনা তাকে সেই ভাতটাই খেতে দিচ্ছে না। কিন্তু কেন? জানার জন্য গল্পটা পড়ে যেতে হবে।

অন্যদিকে চলে আসে মুতাওয়ার আহমেদ। নিজেকে সে মনেপ্রাণে কবি প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যার জন্য সে বাড়ী থেকে পালিয়ে ঢাকায় চলে আসে। ঢাকায় এসে টাকার অভাব, থাকার জায়গার অভাব, অভুক্ত পেটের যন্ত্রনার সাথে পরিচিত হয়ে যায়। তবুও কবিতা লেখার ভুত তার ঘার থেকে নামেনি। ব্যর্থ জীব���ের বোঝা বয়ে বেড়াতে থাকে। সাথে ঢাকার কিছু পথশিশুদের (বিন্তি, রাইসা, মারুফ, বিল্লাহ, হাফসা) সাথে তার সখ্যতা গড়ে উঠে। তাই হাফসা নামের মেয়েটার নিখোঁজ হওয়ায় সে ভীষণ কষ্ট পায়।

এরপর গল্পে আসে নয় বছর আগের বয়স্ক স্বামী-স্ত্রীকে বিভৎস খুনের কেস। পিবিআই অফিসার শাকিল পুরোনো কেস খুঁড়ে বের করে আসামি সেলিমকে, যে অদ্ভুতভাবে ধরা পড়েও রহস্যে ঢেকে রাখে সবকিছু। অপর দিকে শাহানা সৎমায়ের ���ঙ্গে রাগ করে বাসা থেকে বেরিয়ে ফুল বিক্রি করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়, পিতা আজিজ মিয়া খুঁজে ফেরে কিন্তু তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। সাথে শহরে গত কয়েক বছরে অনেক পথশিশু নিখোঁজ হয়েছে—যাদের খোঁজ নেয়ার কেউ নেই। এইসব হারিয়ে যাওয়া শিশুদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা জানতে মাঠে নামে অফিসার শাকিল। প্রশ্ন জাগে—এবার কি সময়মতো তাকে উদ্ধার করা যাবে?

এতোকিছুর মাঝেই গল্পের আর্বিভাব ঘটে আরেকটি রহস্যময় চরিত্র ‘মেহেরজান’। বিশাল এক বাড়ি ও গাড়ির মালিকিন তিনি, মেহেরজান এক সুন্দরী রমণী যার আসল বয়স বোঝা যায় না। বিশাল বাড়িতে তার সঙ্গী মাত্র দুটি কুকুর আর একজন দারোয়ান আবেদ আলী। তার আশে পাশের মানুষজন তাকে কখনো দেখেনি। তবে মাঝে মধ্যেই রাতের অন্ধকারে মেহেরজার তার গাড়ি নিয়ে ঢাকার বিভিন্ন রাজপথে ঘুড়ে বেড়ায়। তার এই গাড়ি নিয়ে ঘুরা-বেড়ানো মধ্যে একটি বিশেষ উদ্দেশ্য থাকে, যা একমাত্র মেহেরজান আর তার আবেদ আলী ছাড়া আর কেউ জানে না। যদি কখনো কোন শিশু তার গাড়ীর দরজায় টোকা দিয়ে বলে—“ভাত খামু”, তখন সে না করতে পারে না। এই আবদারটি শোনার জন্যই সে অনেক সময় অপেক্ষা করে থাকে। মেহেরজান জানে ক্ষুধার জ্বালা কেমন! কিন্তু সে নিজে এখন আর ভাত খায় না। তবে যখনই কোন বাচ্চা ছেলেমেয়ে তার কাছে ভাত খেতে চায় সে তাকে নিজের বাসায় নিয়ে যায় এবং নিজের হাতে রান্না করে খাওয়ায়। সামনে বসে থেকে ক্ষুধার্ত মানুষের ভাত খাওয়ার দৃশ্য উপভোগ করে। কিন্তু খাওয়া শেষ হলেই তার মনের মধ্যে লুকিয়ে থাকা হিংস্র সত্তাটা বেড়িয়ে আসে, যার জন্য সে এতো কিছু করে থাকে। শুধু তাই না প্রায় রাতেই নিজের হাতে তার স্পেশাল আইটেম রান্না করে রাতের আঁধারে রেখে আসে ছিন্নমূল, টোকাইদের পাশে। তার সেই স্পেশাল আইটেমের রেসিপি গুলো তৈরী হয় হারিয়ে যাওয়া সেই শিশুগুলোর শারীরিক বিভিন্ন অংশ দিয়ে।

কিন্তু কেন, মেহেরজান কেন এরকম নিষ্ঠুর হয়ে উঠেছে? কে এই মেহেরজান, কি তার আসল পরিচয়? কি ঘটেছিল তার অতীত জীবনে, যার জন্য সে এরকম নিঃসঙ্গ জীবন কাটাচ্ছে আর কেনই সে বাচ্চাদের এতো তৃপ্তিসহকারে ভাত খায়িছে তাদের আবার নিষ্ঠুর ভাবে হ*ত্যা করছে? কেন সেলিম নয় বছর আগে বয়স্ক স্বামী-স্ত্রীকে নৃসংশভাবে খু’ন করে? আর কি কারণেইবা শহর থেকে বিভিন্ন গরীব, অসহায় পথশিশুগুলো হারিয়ে যাচ্ছে, যাচ্ছে তো যাচ্ছে কোথায় একদম গায়েব হয়ে যাচ্ছে? পিবিআই অফিসার শাকিল কি পারবে এই সব হারিয়ে যাওয়া বাচ্চাদের মূল কারণ উদ্যাঘট করে আসল অপরাধীকে সনাক্ত করতে? তার সম্পর্কে জোনতে হলে “শিউলি ফুলের ভাত” উপন্যাসটা পড়ে শেষ করতে হবে।

বইটিতে আমেনা, তার মেয়ে সফুরা ও তার স্বামী, কবি মুতাওয়ার আহমেদ, একদল টোকাই ও আরো অন্যান্য অনেকের সংমিশ্রনে একাধিক চরিত্র রয়েছে। প্রতিটি চরিত্রই নিজ নিজ ভূমিকায় দৃশ্যমান হয়েছে উপন্যাসটির পাতায় পাতায়। সবার সাথেই সবার কোন না কোন ভাবে জড়িয়ে ছিল। তবে এন্ডিংটা এভাবে হওয়ায় হতাশ লাগলো। এরকম এন্ডিং বরাবরই বিরক্ত লাগে, এতক্ষন যাবৎ বইটা পড়ে শেষে আসলাম কি হলো জানার জন্য আর তাতে বাধা পড়ে গেলো। কিছু প্রশ্নের উত্তর না জানিয়েই বইটা শেষ হয়ে গেলো, এখন সামনে কি হবে সেটা লেখক অন্যকোন দ্বিতীয় পার্টে জানাবে কি-না তা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তা না হলে একসময় বাংলাদেশের অনেক অসমাপ্ত কেসের মত “শিউলি ফুলের ভাত” উপন্যাসটাও অসমাপ্ত থেকেই ক্লোজ হয়ে যাবে।
Profile Image for Meheran Eshan.
6 reviews
June 10, 2025
🔳 ভূমিকা :

খবরের কাগজ উল্টানো হয়? নিয়মিত টেলিভিশনের সংবাদ পর্যবেক্ষণ করেন নিশ্চয়ই? হত্যাকাণ্ডের খবরা-খবর এখন খুব বেশি অনিয়মিত না। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যাযজ্ঞের সংবাদের শিরোনাম এবং বিস্তারিত বর্ণনা বেশ জোড়ালো ভাবেই প্রাধান্য পেতে দেখেছেন খবরের পাতায়। কিন্তু কখনো কি দেখেছেন, "হত্যাযজ্ঞ চালানোর পর, সেই মৃত দেহ রন্ধন অতঃপর ভক্ষণ" সম্পর্কিত সংবাদ?

🔳চরিত্র পর্যালোচনা :

নিষ্ঠুরতা দেখেছেন, অমানবিকতা দেখেছেন, নির্যাতন দেখেছেন। দেখেছেন নৃশংসতা। তবে এই নৃশংসতার শেষ কোথায়? চরম নৃশংসতার দৃষ্টান্ত সম্পর্কে জানতে হলে, আপনাকে পরিচিত হতে হবে, ‘মেহেরজান’ - এর সাথে, ‘আবেদ আলী’র - সাথে, ‘সেলিম’ - এর সাথে।

মেহেরজান - রক্তের নেশায় আসক্ত নৃশংস্তার চরম দৃষ্টান্ত সম্পন্ন একজন চল্লিশ অনূর্ধ্ব মহিলা। পথ শিশুদের প্রতি তিনি অতি হৃদয়বান। নিজের গাড়িতে বসিয়ে প্রাসাদসম বাড়িতে নিয়ে যথেষ্ট উদারতার পরিচয় দিয়ে পথশিশুদের আপ্যায়ন করেন তিনি, তবে আপ্যায়িত কোনো শিশুকে তার বাসা থেকে আর কখনো বের হতে দেখা যায় না। বাড়িতেই রয়েছে তার নিজের তৈরি "কসাই-খানা" যেখানে মানুষ কোপানো হয় এবং তথাকথিত সেই মানুষের মাংসই রান্না করে তিনি শহরের অন্যান্য পথশিশুদের খাওয়াতে পছন্দ করেন।

আবেদ আলী - কখনো মর্গের লাশ-কাটা শ্রমিক, কখনো কসাই কখনো মেহেরজানের ভৃত্য (দারোয়ান)। মনিবের আপ্যায়িত অতিথি কে বেশ যত্নের সাথে টুকরা টুকরা করেন এবং কাঁচা মাংসই নির্দ্বিধায় তৃপ্তির সাথে ভক্ষণ করেন।

সেলিম - জোড়া খুনের আসামী। ঘর পালানো এই কিশোর শহরের যেই বাড়িতে আশ্রয় পেয়ে তার জীবৎকালের সুদীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন, সেই বাড়িররই দম্পতির আয়ু চরম নৃশংসতার সাথে কেড়ে নিয়ে নয় বছর পর্যন্ত নিজেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আড়ালে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন।

মেহেরজান, আবেদ আলী এবং সেলিম কেনো এতো নৃশংস হয়ে উঠেছিল? তাদের অতীত কি? ভবিষ্যৎ-ই বা কি? আর কত মানুষের জীবন তাদের জালে ধরা দিয়ে খোয়া গিয়েছিলো? এই সংখ্যাটা কি অসীম? নাকি ক্রমাগত ঝরে পরতে থাকে এরকম অপরাধী (ভাত খেতে চাওয়াই যাদের অপরাধ) পথশিশুদের প্রাণ? জানতে হলে আপনাকে কথা সাহিত্যিক "মনোয়ারুল ইসলাম" ভাইয়ের "শিউলি ফুলের ভাত" উপন্যাসে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

🔳 পাঠ-প্রতিক্রিয়া :

বইয়ের ভূমিকায় লেখা,
"আপনি কি দুর্বল হৃদয়ের মানুষ? যদি উত্তর হয়, হ্যাঁ ; তবে এই উপন্যাস আপনার জন্য না। কারণ, বইটি পড়ার শুরু থেকে আপনি দুঃস্বপ্ন দেখবেন।

এখানেই আমি আটকাই। হ্যাঁ, আমি দুর্বল হৃদয়ের মানুষ। কিন্তু চরম মাত্রায় রোমাঞ্চকর অনুভূতি অনুভব করার জন্য নিজেকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলাম, যে করেই হোক বইটা আমি পড়ে শেষ করবো, এবং করেছিও তাই। (জরুরী নয় যে, আপনাকেও আমার মতো নিজের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে হবে)। শুরুর দিকে প্রায় অর্ধেকেরও বেশি বই বিরস মুখে পড়েছি। পড়েছি বললে ভুল হবে, পড়া চালিয়ে গিয়েছি। কারণ অনেক চরিত্রের বর্ণনাই আমার কাছে অতিরিক্ত মনে হয়েছে, যা নাতিদীর্ঘ হলে ভালো হতো। কিন্তু ধৈর্য নিয়ে যখন বাকি অর্ধেক ও পড়া চালিয়ে গেলাম, তখন মাথা ঘুরে যেতে থাকলো, রোমাঞ্চকর অনুভূতির মধ্য দিয়ে যেতে থাকলাম। তাল-গোল পাকানো সমস্ত জট খুলে যেতে থাকলো।

তবে শেষাংশে এসে নতুন আরেকটি রহস্য তৈরি করে ইতি টানা হয়েছে উপন্যাসের। (সেই পর্যন্ত পড়ুন...) মুখিয়ে থাকবো এই উপন্যাসের পরবর্তী অংশের জন্য। য���ই অংশে অমীমাংসিত রহস্যের সমাধান প্রত্যাশিত।

◼️ রিভিউয়ার - মেহেরান ঈশান।
◼️ বইয়ের নাম - শিউলি ফুলের ভাত
◼️ লেখক- মনোয়ারুল ইসলাম
◼️ জনরা - থ্রিলার।
◼️ প্রকাশনী - অন্যধারা
◼️ মুদ্রিত মূল্য - ৫০০ ৳
◼️ পৃষ্ঠা সংখ্যা - ৩৫২
◼️ রেটিং - 🥇🥇🥇🥇 (৪/৫)
Profile Image for Anan Raisa.
53 reviews2 followers
March 27, 2025
4.75/5
I'm taking away the .25 stars because of the ending.
I cannot remember the last time I read such a huge bengali novel and finished it within four days. That definitely tells you something.
The pacing was very good and the characterization of each character is was impressively clean and cohesive. Meherjaan is an absolute icon even if she's a psychopath. Her past and present tied so well together towards the end that you are not left disappointed.
I bought this book purely because I found the name interesting and I was in the mood for a thriller. This book is a thriller and so much more. The penmanship is excellent. There is a delicate balance of gore and softness in the words. Every character is well written and round. You feel what they feel and even sympathise with them sometimes, even if they are a cold blooded killer.
I never could have imagined such a beautiful (gory) piece of literature could be created in Bangla language yet here we are!
Reading this was an absolute ride and as much as I am tempted to read more of these characters, I think this was good enough. Too much of them may take away the charm.
I have only read about 25 books so far this year but hands down, this will be within my top three favourites of this year.
Profile Image for Mampy Chowdhury.
76 reviews1 follower
March 27, 2025
শিউলি ফুলের ভাত -নামটা ইউনিক। অনেক লম্বা সময় ধরে এই উপন্যাসটা পড়ছিলাম। একচুয়েলি নামটা দেখে আমার প্রথমে একে অতিপ্রাকৃত ধাঁচের কোনো বই মনে করেছিলাম। তবে এটি সম্পূর্ণ সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ঘরানার বই। পড়তে গিয়ে প্রথমদিকে একটু স্লো মনে হয়েছিল, যেহেতু সব চরিত্রদের ঠিকঠাকভাবে গঠন করতে হয়েছে। অনেক চরিত্র এখানে। আমার একটু প্রথম দিকে কষ্ট হয়েছিল, এতো চরিত্র মাথায় রাখতে,তবে সামনে এগোতে এগোতে সব ভালোই বুঝতে পারছিলাম। অনেকসময় দেখা যায় যে, এতো বেশি চরি থাকে যে, সবাইকে এক সুতোয় গাঁথা যায় না বলা যায়, ঠিকভাবে মেল মেশ হয় না। তবে এখানে প্রতিটি চরিত্রের একটা নিজস্ব কাহিনি আছে এবং কিভাবে একে অপরের সাথে একত্রিত হয় তা ভালোভাবেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যদিও এটি দূর্জয় সিরিজ, তবে এখানে পুরো ঘটনা মেহেরজানকে ঘিরেই হচ্ছিল। সাধারণত থ্রিলারে দেখা যায়, কেউ খুন হয় তারপর তাকে ঘিরে একেরপর এক তদন্ত চলতে থাকে, এরপর টুইস্ট এন্ড টার্ন থাকে। কিন্তু এই উপন্যাসটা একটু ব্যতিক্রম। এখানে শুরু থেকেই জানা থাকে যে একচুয়াল ভিলেন কে? ইনফ্যাক্ট তেমন কোনো টুইস্টও কিন্তু নেই এখানে। তারপরেও মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এই বইয়ের শেষটাকে কি আদৌ শেষ বলা যায়? অভাব মানুষকে কোথায় নিয়ে দাড় করায়? এক মুঠো ভাত চাওয়ার পরিণতি কি এমন নির্মম হতে পারে?
ভালোই একটা সময় কাটলো এই বইয়ের সাথে। এতোদিন অল্প অল্প করে পড়ে আজ একদম টানা শেষ করেছি। টুকটাক বানান ভুল বাদে আর তেমন কোনো অসঙ্গতি চোখে পড়েনি।
Profile Image for Chandan Kumar.
3 reviews
March 27, 2025
'শিউলি ফুলের ভাত' বইটির প্রচ্ছদ আর নাম দুইটি ই চোখে পড়ার মত! কিন্তু থ্রিলার উপন্যাস হিসেবে হতাশ হয়েছি। বইটিতে অতিমাত্রায় বর্ণনা করা হয়েছে যা আমার জন্য থ্রিলার এর ক্ষেত্রে কেমন বেমানান লাগে।
লেখক খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন বর্তমানে বাবা হারা, মা হারা 'টোকাই' দের জীবনচরিত যা খুবই প্রশংসাযোগ্য। কিন্তু থ্রিলার গল্পের যে থ্রিল সেইটুকু বড়ই অভাব বোধ করেছি, বই পড়ার সব সময় ভেবেছি যে এইবার গল্পের টুইস্ট নিবে বা মোর নিবে বা এমন কিছু হবে যা পাঠক কল্পনা করতে পারি নি কিন্তু বইটি শেষ পর্যন্ত যেয়ে হতাশ হয়েছি! অবশ্য শেষ এ একটা বিরাট টুইস্ট দিয়েছেন যার জন্য হয়তোবা আরেকটি কাহিনী উঠে আসতে পারে! কিন্তু এই পুরো বইতে তেমন কোনো থ্রিলার যে একটা ক্লাইম্যাক্স থাকে সেটা বোধ হয়নি! বইটি পড়তে যে বোরিং লেগেছে সেটি নয় এক বসাতেই শেষ করার মতোই ছিল, কিন্তু থ্রিলার উপন্যাস এর যেই আকাঙ্ক্ষা সেটি পূর্ণ হয়নি আমার কাছে।
মেহেজারীন চরিত্র খুব সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। কিন্তু তিনি অনেক অবান্তর চরিত্র সৃষ্টি করেছেন যেটি না করলেও পারতেন।অবশ্য উপন্যাস যেভাবে শেষ করেছেন উনি এর পরের পর্ব বের হওয়ার সম্ভবনা খুব, সেখানে এইসব চরিত্র গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু তিনি এই বইটাতে তেমন কোনো ক্লাইম্যাক্স রেখে যান নি যেটা আমার কাছে থ্রিলার হিসেবে খুবই হতাশার।
1 review
April 2, 2025
Ashadharon ekta uponyas. Bangladesh er notun lekhokder boi serokom pora hoto na. Kintu hothat porte shuru kore r charte parchi na. Atappar kabi, dhushar charitra and now shiuli fuler bhat. Lekhar maan consistently improving and significantly. Charitra gulo khub bhalo legeche, psychological touch and background gulo besh sundor. Lekhok jotno kore sajiyechen. Tantan ekta uponyas. Surute ekta khotka chilo je pulishi todonto eto derite pick up keno korche but sesh kore bujhlam picture avi baki hay….Ro kichu proshno ache asha kori porer part e uttor pabo.

Now the question is kobe asbe 2nd part…. waiting eagerly…@monowarul bhai
Profile Image for Naima Islam⁠✿.
21 reviews3 followers
June 17, 2025
টানা দুইদিন পড়ে শেষ করে ফেললাম বইটা। অনেকদিন পর ভালো লাগলো কোনো একটা থ্রিলার বই। যদিও কিছু কিছু জায়গায় একই বিষয় বারবার লেখা হয়েছে বলেই মনে হয়েছে। কিন্তু লেখা যেভাবে এগিয়ে গেছে সাবলীল ভাবে, পড়তে অনেক আরাম লেগেছে। মেহেরনাজ ক্যারেক্টার ইন্টারেস্টিং, কিন্তু আমার কাছে আবেদ আলীর ক্যারেক্টার আরো বেশি ইন্টারেস্টিং লেগেছে।
এক কথায়, টানা পড়ে ফেলার মতো বই।
8 reviews1 follower
July 11, 2025
শিউলি ফুলের ভাত সত্যি একদম টানটান থ্রিলার বলতে যা বুঝি, তাই। অনেকদিন পর এতবড় একটা বই, কোনো কাহিনী স্লিপ ছাড়াই সব চরিত্র টেনে নিয়ে চমৎকার একটা কাহিনী উপহার দিলেন লেখক। চরিত্রগুলো দারুণ, শুধু শেষটা নিয়ে একটু অনুযোগ থেকে গেলো... মনে হলো, আরও কি গল্প বাকি রয়ে গেলো?

মনোয়ারুল ইসলামের লেখা প্রথম পড়লাম। ভালো লাগলো। লেখকের রচনাশৈলী প্রশংসার যোগ্য, পুরো পয়সা উসুল!!
Profile Image for আমিরাহ.
4 reviews
February 15, 2025
মেহেরজান!
উপন্যাসটা শেষ করার পর আমি শুধু ভেবেছি বাংলা সাহিত্য কী এর আগে এমন ভীতিকর ভিলেনিয়াস চরিত্র দেখেছে!
কিছু কিছু জায়গা লেখক এমন বীভৎসতার গল্প অবলীলায় বলে গেছেন যা পড়ে খাওয়ার রুচি নষ্ট হয়ে গেছে।
টানটান উত্তেজনার একটা ফাটাফাটি থ্রিলার পড়লাম অনেকদিন পর।
Profile Image for Maruf.
21 reviews
February 17, 2025
লেখকের প্রতি একটা অভিযোগ ছিল তিনি শেষটা দ্রুত শেষ করে ফেলেন। মনে হয় তাড়াহুড়া করেন। এই বইটার এন্ডিংটা মন মতো হইছে। কোনো অভিযোগ নাক।
Profile Image for Jihad.
5 reviews
February 23, 2025
মেহেরজান কী আবার আসবে? টান টান উত্তেজনায় বইটা শেষ করলাম। করে মনে হলো এর সেকেন্ডপার্ট আসা উচিত।
4 reviews
January 2, 2026
কাহিনীর কোনো এন্ডিং নেই।
যা মনে আসছে তা লিখে জগা খিচুড়ি করা হয়েছে।
সেইম কাহিনী ১৪০ পৃষ্ঠার মধ্যে লেখা যেতো তারপরও ভালো হতো বলে মনে হয়নি।
Profile Image for Mehedi Hasan.
1 review
February 27, 2025
Outstanding writing. A satisfying novel. It would be great if it were a TV series.
Displaying 1 - 30 of 32 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.