সাব্বির জাদিদ গল্প লেখেন সময়ের ওপর দাঁড়িয়ে। তার হাতে কলম হয়ে ওঠে ক্রুশকাঁটা। ক্রুশকাঁটা দিয়ে তিনি বুনন করেন সময়। নকশা তোলেন মনন রেখায়। তাতে ফুটে ওঠে সময়ের ছবি। সাব্বিরের আগের গল্পগ্রন্থগুলোতে এমনটাই দেখেছি। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান গল্পবই ‘একটি গোলাপের জন্য’। রূপকথার মতো চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ও এর ক্ষরণ নিয়ে এই বই। জুলাই-আগস্টের নৃশংসতা ও দেশের জন্য মানুষের আত্মত্যাগকে সাব্বির জাদিদ তুলে এনেছেন গল্পের সুষমায়।
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে লেখা ১০ টি গল্পের সংকলন এই বই। মর্মস্পর্শী গল্পগুলো রক্তাক্ত দিনগুলোর স্মৃতি তাজা থাকতে থাকতেই লিখেছেন। এইসব দিনের ক্ষতগুলো যখন মলিন হতে থাকবে, তখন আমাদের স্মৃতিকে উস্কে দিতে কাজে লাগবে গল্পগুলি।
জুলাই নিয়ে লেখা দশটা গল্পের একটা সংকলন। বেশিরভাগ গল্পই তেমন ভালো লাগলো না। সবগুলো গল্পই আগে জাতীয় দৈনিক ও সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত, সেখান থেকে আলাদা আলাদা সময়ে একেকটা পড়লে হয়তো ভালো লাগতো, কিন্তু সবগুলো একসাথে পড়তে গিয়ে বোরিং লাগছিলো। অতিরিক্ত নাটুকেপনায় ভরা মনে হয়েছে।
জুলাই বিপ্লব নামে পরিচিত ছাত্র জনতার আন্দোলন হচ্ছে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক গণঅভ্যুত্থান যা অগণিত প্রাণ বিসর্জন দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটিয়েছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে লেখা একটি গোলাপের জন্য। লাল জুলাইয়ের গল্প।
শহীদের শরীর পচে না। ওরা জীবিত!
বইটিতে ছোট ছোট ১০ টি গল্প রয়েছে। প্রতিটি গল্প আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছে র'ক্তা'ক্ত জুলাইয়ের কথা। কিছু গল্প ছিল যা একবারে মন ছুঁয়ে গেছে। যেমন রিসকা কাহিনী গল্পটিতে শহীদদের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। নিহত গোলাপ গল্পে দেখানো হয়েছে ফ্যাসিবাদের জন্য একজন শহীদকে ঘরে ফিরতে দেওয়া হলো না। অভিমান গল্পের গভীরতা আপনাকে ভাবাবে, আটকে রাখতে বাধ্য করবে। একটি গোলাপের জন্য এই গল্পের নাম অনুসারে বইয়ের নাম রাখা হয়েছে। এই গল্পে সন্তানের প্রতি মায়ের গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। দেশ আবার স্বাধীন হয়েছে, সবকিছু স্বাভাবিক হলেও একজন মা তার ছেলে হারানোর শোক ভুলতে পারে না, হয়তো পারবেও না কখনো। আগুনের চিতা গল্পটিতে নিয়তির নির্মম পরিহাসের গল্প দেখানো হয়েছে। নূরে ছোটবেলা থেকে যেটাকে সবচেয়ে বেশি ভয় পেত সেটার মাধ্যমেই তার শেষ পরিণতি হয়েছে। একজন বাবাকে তার সন্তানের জানাজার উদ্দেশ্য কিছু কথা বলার জন্য সামনে দাড় করানো হয়েছে। নিয়তির নির্মম পরিহাস না হলে কি এরকম টা হয়! একটি সিন্দুক, দুইটি ফেরাউন গল্প দুটির আইডিয়া ছিল অসাধারণ। এই গুলো সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। বাকিগুলো ছিমছাম তবে সুন্দর ছিল।
সাব্বির জাদিদ এর লেখা সম্পর্কে জানতে পেরেছি বড় আপুর রিভিউ এর মাধ্যমে। তার পর থেকে ভেবে রেখেছি তার বই সংগ্রহ করে পড়বো। সময় সুযোগ বুঝে দুটি বই সংগ্রহ করে নিলাম। লেখকের লেখার ধরন অসাধারণ, চরিত্র বিশ্লেষণ চমৎকার।