Achintya Kumar Sengupta (19 September, 1903 – January 9, 1976) was a Bengali poet, novelist and editor. After Tagore and Sharat Chandra, he was one of the writers of the modern era in Bengali literature. In 1921, his first poem was published in Probashi patrika under the pseudonym ‘Niharika Debi’. Then he got special achievement in novels and short stories writing. ‘Bede (1928) was first written novel of his and it is known as a prominent novel in modern Bengali literature for its organic, composition stance and formatting issues. There is reflected modernity a very strong way through his writings. Main Content of his compositions were the lives of ordinary working people. He wrote more than seventy books and his notable books are- novels: Kakjyosna, Protham Prem, Bibaher Cheye Boro, Prachir O Pantor, Protham Kadamphul, poetry books: Amabasya, Amra, Priya O Prithibi, Nil Akash, Uttarayan, Biography: Param Purush Sri Sri Ramkrishna, Bireshwar Bibekananda, Story book: Tutaphuta, Kat-Khar Kerosin, Chashabhusha, Ekratry etc.
বই: পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ লেখক: অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত প্রকাশক: মিত্র ও ঘোষ ফরম্যাট: হার্ডকভার পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭০৭ ওজন: ৯০০ গ্রাম ডাইমেনশন: ২৪ x ১৫ x ২ সে.মি মূল্য: ৭৪০ টাকা
ভগবান যখন অবতরণ করেন তখন তিনি ভক্তশ্রেষ্ঠ রূপে প্রতিভাত হন। ভক্তেরা তাঁর কাছ থেকে ভক্তি লাভের, ঈশ্বর লাভের পথরেখাটি খুঁজে পায়।
যদিও শ্রীরামকৃষ্ণ ভক্তদের কাছে একটি স্পষ্ট বক্তব্য রেখেছিলেন। বলেছিলেন, 'গুরু, কর্তা আর বাবা' —এই তিনটি শব্দ তাঁর একান্ত অপছন্দের। তিনি 'রেণুর রেণু, দাসের দাস’— কিন্তু তিনিই বিদ্যুৎঝলকের মতো নিজের ঈশ্বরত্বও প্রকাশ করেছেন বহুবার।
পরমপুরুষ রূপে শ্রীরামকৃষ্ণকে তুলে ধরেছেন কথাশিল্পী অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত। উপন্যাসটির নামই হল 'পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ'।
চার খণ্ডে বিভক্ত এই উপন্যাসে শ্রীরামকৃষ্ণ অবতার। গদাধর রূপেও তাঁর অবতারত্ব স্বীকৃত। আবার যখন তিনি পরমহংস, সকল ভক্তের আশ্রয়দাতা, তখন তিনি পরমপুরুষ।
চার খণ্ডে বিভক্ত এই গ্রন্থটি জীবনীমূলক গ্রন্থ হলেও প্রথম দুই খণ্ডে মহামানবের কথা বিধৃত হয়েছে। গদাধর পর্বে তাঁর ব্যক্তিজীবনের উত্তরণ পরিলক্ষিত। আবার সাধনপর্বে দক্ষিণেশ্বরে তিনি রামকৃষ্ণে উত্তীর্ণ হয়েছেন। পরবর্তী পর্যায়ে তিনি পরমপুরুষ।
লেখক প্রথম খণ্ডের ভূমিকায় স্বীকারোক্তি করেছেন:
“ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণরূপে মর্তধামে লীলা করতে এসেছিলেন। সে লীলা-কাহিনী অনেক ভক্ত ও সাধক লিপিবদ্ধ করেছেন। আমি অযোগ্য আমি অকিঞ্চন আমি কামকাঞ্চনকীট।
ভগবানের সেই নরলীলা বর্ণনা করতে পারি আমার সে ক্ষমতা নেই, পবিত্রতাও নেই। তবে দস্যু রত্নাকরেরও রাম নাম নেবার অধিকার ছিল -- মরা-মরা বলতে-বলতে সেও একদিন পৌঁছেছিল রাম নামে। আর, ভগবান কৃপা কালে মূকও বাচাল হয়, পঙ্গুও যায় গিরিলঙ্ঘনে।
তাই ভগবানের কৃপাবলম্বন করেই আমি অগ্রসর হয়েছি। আমার তত্ত্ব নেই শাস্ত্র, তন্ত্র-মন্ত্র কিছু নেই, আছে কিঞ্চিৎ সাহিত্য। এই সাহিত্যের উপচারেই অর্চনা করতে চেয়েছি ভগবানকে। "
সুতরাং লেখকের জবানীতেই প্রকাশিত, লেখকের দৃষ্টি অবতারের দিকে। অবতারত্বকে স্বীকার করেছেন ঠিকই, কিন্তু অবতারত্ব প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে সাহিত্যের উপাদান অগ্রাহ্য করেননি লেখক।
এখানেই অচিন্ত্যকুমারের দক্ষতা।
এই দৃশ্য সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে প্রথম খণ্ডে গদাধরের জীবন কাহিনীতে। চতুর্দশ অধ্যায়ে আছে ভবতারিণী মায়ের জন্য গদাধরের আকুতি ---"মাকে দেখতে যদি কখনো একটু দেরি হয়, আথাল-পাথাল করে গদাধর। আছাড় খেয়ে পড়ে যায়। কোথায় পড়ল, আগুনে না জলে, তার জ্ঞান নেই। দম আটকে আটকে আসে, কাটা ছাগলের মত ছটফট করে। সমস্ত গা ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায়, ভ্রুক্ষেপ করে না। মাটিতে মুখ ঘষতে ঘষতে কাঁদে আর চেঁচায়; মা, মা গো। পথ-চলতি লোক বলে, 'আহা শূলব্যথা উঠেছে বুঝি --"
সুতরাং কথাসাহিত্যের প্রয়োজনে যা যা উপাদান প্রয়োজন লেখক সবই তা পূরণ করেছেন তাঁর রচনায়। তাই শ্রীরামকৃষ্ণ সার্থক রক্তমাংসের হয়েও হয়ে উঠেছেন পরমপুরুষ।
মানবজীবন ছাড়িয়ে সার্থক উত্তরণ মানুষকে পরমে পৌঁছে দেয়। এই পরম আর কেউ নন, ভগবানের অন্য দিক। তবে সরাসরি দেবত্ব আরোপিত না করে মানবের মাঝে পরম করে নেওয়াটা অনেক বেশি ইহলৌকিক, জাগতিক।
তাই রামকৃষ্ণের প্রতিষ্ঠা মানবের মাঝে পরমপুরুষ হয়েই। বস্তুত এই গ্রন্থ তাই নিছক 'মঙ্গলগান' নয়, পরমপুরুষের জীবনের আধারে মানব জীবনের বেঁচে থাকার রসদ ভাণ্ডার।
কল্লোল যুগে সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষের মানসিক দোদুল্যমানতা ছিল অত্যধিক। বিশেষত বিশ্বযুদ্ধোত্তর পরিবেশে দীর্ঘকালীন সংঘর্ষময় জীবন থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিল মানুষ। যে কারণে মানসিক প্রশান্তির আবেদন সমাজে ঝংকৃত হয়ে উঠেছিল।
উনিশ শতকের শেষ দিকে যে মানুষটি ধর্মীয় জগতে বিচরণ করেও মানবধর্মের জয়গানের সঙ্গে সাধারণ জীবন যাপনে প্রশান্তি ও মুক্তিলাভের উপায়টুকু বলে দিয়েছিলেন সরল গ্রাম্য ভাষায়, সেই মানুষটির জীবন ও বাণী তাই সহজেই আদর্শ হয়ে ওঠে।
সেদিক থেকে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ বাংলার ঘরে ঘরে প্রতিষ্ঠা পান তেত্রিশ কোটি দেবতার পাশেই। বরং ১৪০ বছর পূর্বেই যে মানুষটি ইহলোকে বিরাজমান ছিলেন, সেই প্রত্যক্ষ দেখা পুরুষের ভাবকে মনন ও অধ্যয়ন করে আপন জীবনে প্রয়োগ করা সহজ হয়ে ওঠে। তাই তিনি মধ্যবিত্ত জনমানসের আদর্শ মানুষ হিসেবে গৃহীত হলেন।
গৃহী হয়েও সংসারের পঙ্কিলতা, আবর্জনা থেকে মুক্তি পেতে একমাত্র টোটকা যা সহজেই পালন করা সম্ভব- সেই শ্রীরামকৃষ্ণ বাণী লেলিহান শিখার মতো ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছিল। তখন তিনি আর মানব বা মহামানব নন, পরমপুরুষরূপে বিরাজমান হলেন বাংলার ঠাকুরঘরে।
গ্রন্থের চতুর্থ খণ্ডের ভূমিকায় অচিন্তকুমার ঈশ্বরের সঙ্গে পরমপুরুষ বা মানবতার সম্পর্কটি আলোচনা করেছেন।
বিজ্ঞানের যুগে 'যুক্তিবাদী মানসিকতার ঈশ্বর' বলে কিছু না থাকলেও ঈশ্বর আসলে যে মানব, কিংবা মানবতাবাদই যে ঈশ্বরতা তা লেখক বুঝিয়ে দিয়েছেন। ভূমিকায় আছে - "তুমি কি সুন্দর, আর, আমি তোমাকে ভালোবাসি। মাত্র এইটুকু তো বিষয়। তা নিয়েই জগৎসংসার তোলপাড়। তা নিয়েই যত সাহিত্য কাব্য ধর্ম আর দর্শন। এত কথা বলা হল তবু কিছুই বলা হল না ।...
ঈশ্বরেরই ইচ্ছা বিজ্ঞানের জয় হোক। যেন শেষ পর্যন্ত মানুষ বলতে পারে ঈশ্বরই মহত্তম বিজ্ঞান ... ঈশ্বর আমাদের ফাউ, সমস্ত বাঁধাধরান্দের উপরি পাওনা। কোনো বুদ্ধিমান ব্যপ্তিই কি তার উপরি পাওনা ছাড়ে ।... ঈশ্বরকে ডাকলে কি হয়।
মাথায় শিং বেরোয় না লেজ গজায়? কিছু হয় না। বুকটা মাঠ হতো যায়। অনুভূতির ক্ষেত্র বিস্তীর্ণ হয়। নিখিলের প্রতি অপার প্রেমে অপার করুণায় প্রসারিত হতে পারি। যাকে বলো মানবতাবাদ তাই ঈশ্বরত্ব সুতরাং যুক্তিবাদের আলোকে ঈশ্বর না মানলেও কিছু যায় আসে না। কারণ নবজাগরণের আলোকে মানবতাবাদই প্রধান।
সেই মানবতাবাদের মূল চরিত্র ভালবাসা। আর ভালবাসার মূর্ত প্রতীক শ্রীরামকৃষ্ণ।
তাই মানবতাবাদের চরম শিখরে যখন তিনি পৌঁছে যান, তখন তিনি অন্য সাধারণের কাছে পথপ্রদর্শক রূপে বিবেচিত হন। তাঁর জীবন ও বাণী অন্যের কাছে আদর্শ হয়ে ওঠে।
তখন আর তিনি মহামানব থাকেন না-পরমপুরুষ হয়ে ওঠেন।
পরিশেষে: একটা বড় মুশকিলে পড়েছিলাম আলোচনাটি লিখতে গিয়ে।
আমার এক অগ্রজ এই বইটির রিভ্যু করতে গিয়ে লিখেছেন, "একটি অত্যন্ত বড় মনের এবং বড় হৃদয়ের মানবপ্রেমীকে কলিযুগে জন্ম নেওয়া অবতার হিসেবে দেখাতে লেখক এতোই উদ্যোগী ছিলেন যে পুরো ব্যাপারটাই গোলমেলে হয়ে গেছে (শ্রীরামকৃষ্ণ-র ভাষা ধার করে বলাই যায় যে এই গোলমালে ‘মাল’-টুকু চলে গেছে ওনাকে নিয়ে ব্যবসা-করা লোকেদের হাতে, আমাদের হাতে রয়ে গেছে ‘গোল’-টাই)| যদি আপনি আমার মা’র মতো করে মর্তে লীলা করতে আসা ভগবানের গল্প-কথা পড়তে চান, তাহলে এই বইটি পড়লে মনে শান্তি ও আরাম দুইই পাবেন| আর যদি আমার মতো খুঁতখুঁতে লোক হন, তাহলে খুঁজুন “হেথা নয়, অন্য কোনখানে”.."
আশার কথা এটুকুই যে, অগ্রজ মানুষটি এই অ্যানালিসিস করেছিলেন বছর আষ্টেক আগে। বিগত দশ বছরে আমার নিজস্ব ধর্মচেতনাও আমূল পাল্টেছে। হয়তো বা ওঁরও।
অনেক ভাবনা চিন্তা করে শেষ অবধি রিভিউ-টা লিখে ফেলারই সিদ্ধান্ত নিলাম| ধর্মপ্রাণ হোক বা বাম-মার্গীয় বুদ্ধিজীবি, এই বিশেষ বইটির সঙ্গে অপরিচিত বাঙালি একান্ত বিরল| আগেও বইটি আমি পড়েছি, কিন্তু এবার এটি পড়তে গিয়ে প্রথমেই যে ব্যাপারটা আমাকে দস্তুরমতো ভোগাতে শুরু করলো তা হলো এর অত্যধিক ভাবালুতা| ষোড়শ শতাব্দীর বাংলায় নবদ্বীপের কাছে জন্ম নিয়ে বাংলা ও বাঙালির ইতিহাসে যুগান্তর ঘটিয়েছিলেন বিশ্বম্ভর মিশ্র| ইতিহাস তাঁকে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু নাম দিয়েও এক অসামান্য মানুষ হিসেবেই স্বীকৃতি দিয়েছে, এবং অবিশ্বাস্য ‘অবতার’ না হয়ে বরং এক মানুষের পক্ষে যা করা প্রায় অসম্ভব, সেই কাজ তিনি করেছিলেন বলে তাঁকে সম্মান দিতে আমার কখনও সমস্যা হয়নি| কিন্তু উনবিংশ শতাব্দীর এক জটিল মুহূর্তে কলকাতার অদূরে জন্ম নেওয়া গদাধর চট্টোপাধ্যায়, এবং তাঁর অনুরাগী (মূলতঃ নরেন্দ্রনাথ দত্ত)-রা, ঠিক একই রকম ভাবে এক দুঃসাধ্য কাজে ব্রতী হওয়া সত্বেও তাঁদের জীবন নিয়ে পড়তে গেলে বিরাট বাধা হয়ে দাঁড়ায় তাঁদের ভক্ত-প্রতীম লেখকদের তরফে তাঁদের ওপরে অলৌকিকত্ব আরোপের চেষ্টা| এই বইতেও ঠিক সেটাই ঘটেছে| একটি অত্যন্ত বড় মনের এবং বড় হৃদয়ের মানবপ্রেমীকে কলিযুগে জন্ম নেওয়া অবতার হিসেবে দেখাতে লেখক এতোই উদ্যোগী ছিলেন যে পুরো ব্যাপারটাই গোলমেলে হয়ে গেছে (শ্রীরামকৃষ্ণ-র ভাষা ধার করে বলাই যায় যে এই গোলমালে ‘মাল’-টুকু চলে গেছে ওনাকে নিয়ে ব্যবসা-করা লোকেদের হাতে, আমাদের হাতে রয়ে গেছে ‘গোল’-টাই)| যদি আপনি আমার মা’র মতো করে মর্তে লীলা করতে আসা ভগবানের গল্প-কথা পড়তে চান, তাহলে এই বইটি পড়লে মনে শান্তি ও আরাম দুইই পাবেন| আর যদি আমার মতো খুঁতখুঁতে লোক হন, তাহলে খুঁজুন “হেথা নয়, অন্য কোনখানে”|