গল্পগুলোয় লেখার (কিংবা গল্প বলার) ধরণ যতটা সুন্দর, গল্পে কাহিনীর গাঁথুনি ততটা মজবুত ছিল না। জলজ্যান্ত ভূতের উপস্থিতি থাকলেও তাতে ভয়ের অনুভূতি খুব একটা উপস্থিত হতে পারেনি। এছাড়া বেশিরভাগ গল্পের আকারও বেশ বড়সড়, কিন্তু বড় আকারের গল্প হলেও তাতে পরতে পরতে ভয়ের আনাগোনা খুব একটা ছিল না। তবে সুন্দর গল্প বলার ধরনের জন্য এগুলোকেও উপেক্ষা করাই যেত, যদি কি না গল্পগুলোর সার্থক পরিণতি থাকত। "শেষ হৈয়াও হৈলোনা শেষ" ছোটগল্পের একটা বৈশিষ্ট্য হলেও, এখানে অনেক গল্পের "শেষ ই যে হৈলোনা"! একদম হুট করেই শেষ। আরে ভূতের তো একটা গতি করতে হবে, নাকি, অথবা ভূতে পাওয়া মানুষদের? বেশ বড়সড় গল্প হবার পরেও এমন পরিণতিহীন সমাপ্তিটাই বেশি দৃষ্টিকটু লেগেছে। কিন্তু তারপরেও একটা গল্প শেষ করে আরেকটা গল্পে তরতর করে এগিয়ে যাওয়া গেছে শুধুমাত্র লেখার সুন্দর ধরণটার জন্য। খুব বেশি ভয়ের আশা না নিয়ে, হালকা ভয় ভয় একটা ভাব, কিংবা নিদেন শুধুমাত্র অলৌকিক গল্প পড়ার আশা নিয়ে পড়তে শুরু করলে সময়টা খারাপ কাটবে না।
ও, আর হ্যাঁ, গল্পের সাথে সাথে একটা উপন্যাস (নাকি উপন্যাসিকা) ও আছে। আগে সব গল্পগুলো শেষ করে তারপর উপন্যাসটা পড়েছি। সেটাও ভালোই, অন্তত এতে সমাপ্তি আছে। আর ভয়? না ভয় ততটা নেই। অন্য গল্পগুলো পড়ে বুঝে নিয়েছিলাম কতটুকু আশা করা যায়, সেজন্য বেশ ভালোই লেগেছে।