সামুদ্রিক জাহাজ 'জংবাহাদুর'। নামে জাহাজ বাস্তবে সে একটা স্বাধীন দেশের মতো। একটা দেশের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা আছে তার ভেতর। পাঁচশর অধিক যাত্রী নিয়ে সে ছুটছে আটলান্টিক অভিমুখে। কিন্তু যাত্রার কিছুদিনের মধ্যেই সামুদ্রিক ঝড়ের মুখে সে পথ হারাল। পথ হারানোর পর নিরাপত্তা রক্ষীদের নিয়ে জাহাজের ক্ষমতা দখল করে নিল জনৈক 'বস' ও তার ডান হাত 'কর্নেল'। এই ঘটনায় তরুণ লেখক প্রীতম ঘুম, রাজনীতিবিদ আব্রাহাম লতিফ, বস্তির ক্যাডার টগর ও দার্শনিক ইমানুয়েল কবির নিজ নিজ অবস্থান অনুযায়ী এলিট 'বস' ও 'কর্নেলের' বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলল। পাশাপাশি টিকটক সেলিব্রিটি 'এরিনের' পোষা বিড়াল মিউন তার দুইশ তেরোটা বিড়ালের বিপ্লবী বাহিনী নিয়ে মানুষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করল। এলিট বনাম সাধারণ যাত্রী, মানুষ বনাম বিড়ালের এই দ্বৈতযুদ্ধে কে জিতবে কেউ জানে না। অজানা এক আশঙ্কায় সবাই অপেক্ষা করতে লাগল চূড়ান্ত যুদ্ধের সেই অনিশ্চিত পরিণতির জন্য।
পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রতিনিয়ত বাড়ছে — এ আমরা সবাই জানি। এর ফলে কী হতে পারে? মেরু অঞ্চলে জমে থাকা বরফ একটু একটু করে গলতে শুরু করবে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে। নিচু জমি প্লাবিত হবে।
এই নিচু জমিতে যারা বাস করে তাদের কী হবে? ডুবে যাওয়া অঞ্চলে তো আর থেকে যায় না। তখন বাঁচার তাগিদে ভিন্ন কোনো ভূখণ্ডে ঠিকানা খুঁজতে হবে।
কেমন হবে যদি এমন এক বিশাল জাহাজের আবিষ্কার হয়? যে জাহাজ নিজেই একটা শহর। যেখানে সকল সুযোগ সুবিধা থাকবে। ডুবে যাওয়া শহর কিংবা দেশের প্রতিটি মানুষ সেখানে থাকতে পারবে। তাদের সরকার হোক বা প্রশাসন, তারা সেই জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একইভাবে পরিচালনা করবে রাষ্ট্র, সমাজ কিংবা দেশ। এমন কিছু করা আদৌ কি সম্ভব?
“জংবাহাদুর” নিছক কোনো গল্প নয়। এটি বিশালাকার একটি জাহাজ। যাকে একটি শহর কিংবা দেশ বললেও ভুল হবে না। যেই কোম্পানি এমন এক জাহাজ তৈরি করেছে, তারা অসংখ্য মানুষকে এই জাহাজে ভ্রমণের সুযোগ দিয়েছে। নামে আনন্দভ্রমণ হলেও, এটি মূলত একটি পরীক্ষামূলক ভ্রমণ। বিশাল কর্মযজ্ঞের আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা তো অস্বাভাবিক কিছু নয়। আর এতে গিনিপিগ হয় কেবল মানুষরাই।
জংবাহাদুরের এই যাত্রায় সবধরনের মানুষ আছে। ধনী ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, চিত্রনায়িকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কলামিস্ট, ক্রিকেটার, গায়ক, নায়ক, লেখক, কবি, কথাসাহিত্যিক, সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, মোটিভেশনাল স্পিকারদের মিলনমেলা এই জংবাহাদুর। তাছাড়া একটি শহরে যা যা থাকা প্রয়োজন সব আছে। আছে অফুরান খাবার। কোনো কিছুর কমতি নেই।
মৌজমাস্তিতে দিন কেটে যায়। কিন্তু সবদিন তো আর সমান যায় না। যতই উন্নত সুযোগ সুবিধা দেওয়া হোক না কেন, দিন শেষে একটি ভাসমান জাহাজ বন্দিত্বকে মনে করিয়ে দেয়। একঘেয়ে হয়ে ওঠে জীবন। এভাবেই একদিন জানা যায় জংবাহাদুর পথ হারিয়েছে। আশঙ্কা, উৎকণ্ঠায় ভয়াবহ দিনের বোধহয় তখনই শুরু। যার চূড়ান্ত পরিণতি দরবেশের লাশ পাওয়ার মধ্য দিয়েই শুরু হয়।
দরবেশ এই জাহাজের মালিক। হুট করেই একদিন নিরুদ্দেশ হয়ে গেল। সমুদ্রের মাঝে জাহাজ থেকে একজন কীভাবে নিরুদ্দেশ হতে পারে এটা বোধগম্য হয় না। সেই দরবেশের লাশ যখন পাওয়া যায়, চেইন অব কমান্ড ভেঙে কবে স্বাভাবিক।
জাহাজ জুড়ে শুরু হয় অরাজকতা। কোথাকার কোন বস নিজেকে প্রেসিডেন্ট দাবি করে দখল নেয় জাহাজের। উত্তেজিত জনতাকে দমিয়ে রাখতে শক্ত হাতে দমনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কেমন এ প্রস্তুতি, তা হয়তো বলে দিতে হয় না।
মানুষ আর কত সহ্য করবে? যতবার নিপীড়ন, অন্যায়ের বীজ এই পৃথিবীতে বপিত হয়েছে, ততবার কেউ কেউ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। প্রতিবাদ করে কেউ কেউ দুঃসাহস দেখিয়েছে। বিশাল শহরের মতো এই জংবাহাদুর যখন দখলদারদের অত্যাচারে অতিষ্ট, আবারও কেউ বিদ্রোহ করলেও করতে পারে। অসম্ভব কিছু নয়।
মিউন নামের বিড়ালটা দেখতে কুচকুচে কালো। গলার দিকে সাদা দাগ তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। বিড়ালদের যেভাবে মানুষের লালন করে, সেটা কি ওরা মেনে নেয়? না-কি তাদের মধ্যেও অধিকার আদায়ের ইচ্ছে জাগে? রক্তে জাগে বিপ্লবী চেতনা? জাহাজের আড়ালে আবডালে থাকা দুইশ বিড়ালকে একসাথে জড়ো করেছে মিউন। এই সুযোগ সবসময় পাওয়া যাবে না। তাই নিজেদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে নামার এইতো সময়।
এক বিচিত্র পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে আছে জংবাহাদুর। কে কমপক্ষ বোঝা যাচ্ছে না। বিদ্রোহ, বিপ্লব, প্রতিবাদ, প্রতিরোধ সব যেন মিলেমিশে এক হয়ে যাচ্ছে। মানুষের সাথে মিশে যাচ্ছে বিড়ালশ্রেণীর চেতনা। আর যখন সব এক হবে? বিস্ফোরণ হলেও কি দোষে দেওয়া যায়?
◾পাঠ প্রতিক্রিয়া :
কামরুল হাসান রাহাতের “জংবাহাদুর” বইটা আমার কাছে কিছুটা স্যাটায়ার ধর্মী বই বলে মনে হয়েছে। যার পরতে পরতে ছিল আমাদের চেনাজানা সমাজের প্রতিচ্ছবি। যেখানে বিভেদ প্রথম কথা।
যে জংবাহাদুর জাহাজের কথা বলা হয়েছে, তাকে মূলত তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে। উচ্চশ্রেণীর সবসময় উপরে রাখা হয়। তারা সকল সুযোগ সুবিধা পায়। তাদের সংখ্যা খুব বেশি না আবার খুব কমও না। তাদের এই সুযোগ সুবিধার চাপে পিষ্ট হয়ে ওঠে মধ্যবিত্ত শ্রেণী।
সমাজে এই শ্রেণীর পরিমাণ অত্যধিক। উচ্চশ্রেণী যেমন না চাইতেই সব পায়। আর নিম্নবিত্ত শ্রেণী নিজেদের অধিকার আদায় করতে মারামারি করে। কিন্তু মধ্যবিত্ত শ্রেণী যেমন সব চাইতেও পায় না, মারামারি করেও কিছু আদায় করতে পারে না। চক্ষুলজ্জা বলে একটা বিষয় থাকে।
জংবাহাদুর জাহাজের যখন চেইন অব কমান্ড ভেঙে গেল, তখন একদম সুবিধাবাদী লোক তাদের ক্ষমতা নিয়ে হাজির হলো। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললেই অত্যাচার। খুঁজে বের করা। তারপর অন্তিম শাস্তি। মানুষের মনে ভয় ধরিয়ে দিতে আর কী লাগে?
যখন সকল ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, তখন ভাঁড়ার ঘরে টান পড়ে। পেটে খাবার না থাকলে কিছুই হয় না। সাধারণ আম জনতা খাওয়ার চিন্তায় ব্যাকুল হয়ে। কোনমতে দিনমজুরের মতো আহার করতে পারলেও যারা ভিআইপি, উচ্চশ্রেণীর মানুষ; তারা কিন্তু আয়েশেই দিন কাটায়। তাদের এসব নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। শোষণের গল্প বোধহয় এভাবেই লেখা হয়। তাছাড়া বসে বসে খেলে রাজার ভান্ডারও ফুরিয়ে যায়। সাধারণ মানুষের তো আরো আগে ফুরোয়। কিন্তু কোনো এক বিচিত্র কারণে ভিআইপিদের ভান্ডার আগের মতোই থাকে।
বইতে রূপক অর্থে যেন এই চিত্রই তুলে ধরা। আরও তুলে ধরা হয়েছে যোগ্যতা না থাকার পরও ক্ষমতায় অযোগ্যদের বসানো হয়। এছাড়া নিজেদের অধিকার আদায়ের অধিকার সবার আছে। হোক সে বিড়াল, বা মানুষ।
মানুষের একটা সহ্যের সীমা আছে। সেই সীমা অতিক্রম করলে মানুষ বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। নির্ঝঞ্জাট, সাধারণ মানুষ যখন প্রতিবাদী হয়ে ওঠে, তখন জুলুম করা শাসক মুখ থুবড়ে পড়ে।
কী, গল্প পরিচিত মনে হচ্ছে না? আমাদের পরিচিত গল্পই যেন লেখক স্যাটায়ারের সাহায্যে উপস্থাপন করেছেন। ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে মাধ্যমে সবকিছু ফুটিয়ে তুলেছেন। যেন আমরা দেখছি আমাদের। একটি ভাসমান শহর যেন আমাদের সমাজকেই চোখের সামনে তুলে ধরেছে।
লেখকের লেখার ধরন ভালো লেগেছে। তবে বর্ণনার মাঝে হুটহাট আঞ্চলিক টান অন্যরকম লাগছিল। সংলাপের মধ্যে থাকলে সমস্যা হয় না, কিন্তু বর্ণনায় থাকা ঠিক ভালো লাগেনি। হয়তো স্যাটায়ারধর্মী লেখা বলেই লেখক এভাবে লিখেছেন। কিছু অংশে লেখক অপ্রয়োজনীয় ১৮+ এনেছেন। যার আসলে প্রয়োজন ছিল না। বিশেষ করে দরবেশের মৃত্যুর পর তার পরিস্থিতি।ও যেভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এখানে দরবেশের মৃত্যুর মীমাংসাও করা হয়নি।
আমার মনে হয়েছে লেখক হুট করেই সমাপ্তি টেনেছেন। এরপর কী হবে সেটা জানার এক কৌতূহল কাজ করছে। এমন সমাপ্তি আসলে খারাপ হয় না। কৌতূহল থেকে মাথার মধ্যে এক ধরনের রেশ থেকে যায়। অবশ্য মোটামুটি ভালোই লেগেছে বইটা। লেখক তার লেখার মধ্য দিয়ে কীসের ইঙ্গিত দিয়েছেন, সেটা খুব সহজেই অনুধাবন করা যায়।
◾চরিত্র :
চরিত্রগুলো বেশ ইন্টারেস্টিং লেগেছে। বিচিত্র সব চরিত্র। সবাই নিজ নিজ কাজে পারদর্শী। তাদের মনোভাব, ভাবনা, মানসিকতা লেখক খুবই দক্ষতার সাথে ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রীতম, এরিন বা রাজনীতিবিদ লতিফ কিংবা টগরের মতো চরিত্রগুলো বইটিকে গুরুত্বপুর্ণ করে তুলেছে।
বস বা কর্ণেলের মতন চরিত্র খুব অল্প সময়ের জন্য থাকলেও এর প্রভাব ছিল ভালোমতোই। সবমিলিয়ে চরিত্রগুলোকে ফুটিয়ে তুলতে লেখক কার্পন্য করেননি। কেউ বেশি সময় পেয়েছেন কেউ কম। কিন্তু মূল চরিত্রের প্রত্���েকেই গুরুত্বপুর্ণ ছিল।
◾বানান, সম্পাদনা ও অন্যান্য :
আদর্শ প্রকাশনীর প্রোডাকশন কোয়ালিটি আমাকে মুগ্ধ করেছে। অনুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে খুঁজলেও বোধহয় বানান ভুল বা ছাপার ভুল পাওয়া যাবে না। সম্পাদনা পুরোপুরি টপ নচ।
প্রচ্ছদটাও প্রতীকী। যেন গল্পকে ধরে রেখেছে প্রচ্ছদের মধ্য দিয়ে। বাঁধাইও বেশ মসৃণ। সবকিছুই দুর্দান্ত।
◾পরিশেষে, এই গল্প যেন আমাদের দেখে আসা নিখাঁদ এক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। কখনও জেগে উঠে শাসক। শোষণের বেড়াজালে পিষে মারতে মারতে উলটো মার খেতে শুরু করে। রক্তে উঠে বিদ্রোহের নাচন। সফল হলে কী হবে কেউ জানে না। বিফল হলে কচুকাটা হতে হবে অচিরেই। তবুও শঙ্কা নিয়ে মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে। এছাড়া যে কোনো উপায় থাকে না…
◾বই : জংবাহাদুর ◾লেখক : কামরুল ইসলাম রাহাত ◾প্রকাশনী : আদর্শ ◾পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১১৯ ◾মুদ্রিত মূল্য : ৩৪০ ◾ব্যক্তিগত রেটিং : ৪/৫
“মানুষ প্রতিনিয়ত স্বপ্ন দেখে নতুন কিছুর। এবং সেই স্বপ্নে থাকে তার বাস…. ”
সাইরেনে ভোওওও শব্দ তুলে ‘জংবাহাদুর’ নামের জাহাজটি আজ প্রথম সমুদ্র যাত্রা করলো। বলা হয় এই জাহাজটি পৃথিবীর মধ্যে সবথেকে আধুনিক এবং সর্ববৃহৎ। কি নেই এই জাহাজটিতে! সকল ধরনের এবং যাবতীয় সব কিছুই মিলবে এই জাহাজে। এই জাহাজের যাত্রীরা ইতিহাসের সাক্ষী হতে পেরে অনেক আনন্দিত। তাদের অনেকেই এই জাহাজ ভ্রমন নিয়ে অনেক পরিকল্পনা করে রেখেছে। সেসব পরিকল্পনা তারা বাস্তবায়িত করতে চায় তাদের ব্যাক্তি জীবনে। এই জাহাজে কেউ লক্ষ টাকা দিয়ে টিকেট কিনেছে, কেউ লটারির মাধ্যমে সুযোগ পেয়েছে। আবার কেউ সুযোগ পেয়েছে কোটার মাধ্যমে, আর কাউকে কাউকে মালিক কর্তৃপক্ষ নিজেই সুযোগ করে দিয়েছে। জাহাজে সমাজের উঁচু থেকে নিচু এবং লেখক, দার্শনিক থেকে সোশ্যাল সেলিব্রিটি সবাই সুযোগ পেয়েছে। সব থেকে বড় আর্কষন ছিলো জাহাজ মালিক নিজেই এই জাহাজে ভ্রমন করছেন। লোকে তাকে ‘দরবেশ’ নামে ডাকে।
সাধারণ লোকের যখন এসব চিন্তা, তখন জাহাজ কতৃপক্ষের এই জাহাজ নিয়ে কি পরিকল্পনা, অথবা তারা কেনো এত বড় জাহাজ তৈরি করলো? আমরা জানতে পারি মালিক পক্ষ এই জাহাজ তৈরি করেছে পরীক্ষামূলক ভাবে। পৃথিবীর পরিবেশ দিন দিন খারাপ হচ্ছে। কখন কোন দেশ টুপ করে ডুবে যায় তার নাই ঠিক। তখন সমাজের এলিট শ্রেণীর মানুষের কী হবে। তাদের দাবি, এটা কোনো ট্যুর না, এটা হচ্ছে পরিক্ষা।
আগেই বলেছি জাহাজে বাস্তবিক জীবনের প্রয়োজনীয় যা কিছু আছে তার সবই মজুত আছে। আমরা দেখি এই জাহাজে তিনটা শ্রেনী তৈরি করা হয়। একদম প্রথমটাতে ভিআইপি, দ্বিতীয় শ্রেনীতে মধ্যবিত্ত, তৃতীয় শ্রেনীতে নিন্মশ্রেনীর মানুষরা থাকবে। এই তিন শ্রেণীর জীবনের মানের উপর ভিত্তি করে জাহাজেও সেই অনুপাতে তাদের সাথে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু কেনো?
এসব দেখে সবাই খুশি। তারপরও সবার মধ্যে তিনজন শুধু জাহাজের ব্যবস্থা দেখে চিন্তা করতে বসে। তাদের মধ্যে একজন দার্শনিক, যিনি পেশায় ব্যার্থ শিক্ষক। একজন ধুরন্দর রাজনীতিবিদ, বর্তমানে তিনি দলের কোনো পদের জন্য নির্বাচন করছিলেন। অন্যজন সাহিত্যক, স্বভাবে একদম নোংরা মানুষ, কবিতা, গল্প এসব লেখেন। তবে চান্স পান না কোথাও । এদের সবারই আছে কোন না কোন অতীত। ইনারা কোটায় চান্স পেয়ে জাহাজে এসেছেন। তবুও তাদের চিন্তায় কিছু গড়বড় ধরা পড়ে।
এভাবেই জাহাজে দিন কাটতে থাকতে বেশ ভালোই। কিন্তু হঠাৎ করে একদিন জাহাজ থেকে মেইন কন্ট্রোল রুমের সাথে যোগাযোগ হারিয়ে যায়। এরইমধ্যে একরাতের প্রবল এক ঝড়ে জাহাজ দিক হারিয়ে ফেলে। পরদিন চোখ মেলে সবাই আবিষ্কার করে জাহাজ চলে এসেছে এক ভয়াবহ বরফ সমুদ্রে।
সবাই এমন দুর্বিষহ পরিবেশে সম্পূর্ণ নগ্নাবস্থায় জাহাজের মালিকের মৃ*তদেহকে দেখতে পান জাহাজের খোলা ডেকে। কেন এবং কে তাকে হ*ত্যা করেন তা বের করতে চলে তদন্ত।
জাহাজের মালিক নাই, জাহাজ তার বন্দরে সাথে যোগাযোগ হারিয়েছে। এমতাবস্থায় এই জাহাজে থাকা সদস্যদের কি হবে? হঠাৎ করে তাদের মধ্যে থেকে রহস্যময় এক চরিত্র, যাকে সবাই ’বস’ বলে সম্বোধন করে। তাকে প্রধান করে তার সহযোগী এক কর্নেলের মাধ্যমে জাহাজে জরুরি অবস্থা জারি করে। কিন্তু কেনো এই জরুরি অবস্থা জারি করা, এবং কেইবা ঠিক রাখবে এই শাসন ব্যবস্থা, সেটা এক বড় রহস্য।
এই দুর্গম অঞ্চল থেকে কিভাবে তারা উদ্ধার পাবে? এই বন্দী অবস্থায় তারা কিভাবে তাদের দিন পার করবেন? এসবই গল্পের জানার বিষয়। সেই সাথে চমৎকার সব ঘটনাও জানা যাবে। এতোসব বিপদের মাঝেও মানুষ তার বিকৃত আশা চরিতার্থ করতে ভুলে না।
“.....কিন্তু সেই মানুষ যখন তার স্বপ্নে ব্যাঘাত পান তখন তিনি আর সাধারণ কিছু থাকেন না। প্রতিটি সুযোগে সদ্য ব্যবহার করতে ছাড়ে না”
—-
বইটা পড়ে আমি যতটুকু বুঝলাম, তা-হলো লেখক হয়তো গল্পটি কোনো স্যাটাইয়ার ধর্মীতে লিখেছেন। কারণ বইটি পড়ে আমি যেনো বর্তমান বাংলাদেশকে দেখলাম এবং জানলাম। তবে আমার ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে জাহাজ মালিকের মৃত্যু রহস্য এবং রহস্যময় চরিত্র ‘বস’ এই দুইটা বিষয় মিলাতে পারলাম না। তারা কি এবং কেন হয়েই থাকলো আমার কাছে। লেখক যেন এই যায়গায় এসে দিক হারিয়ে ফেছেন জাহাজটির মতই। এছাড়া বাদবাকি মোটামুটি ভালোই ছিলো।
—-
অদ্ভুত এক গল্প পড়লাম ‘জংবাহাদুর’। লেখক ‘কামরুল হাসান রাহাত’ এর কোনো বই বা লেখা আমার আগে পড়া হয়নি। তার গল্প বলার ধরন আমার পছন্দ হয়েছে। একদম নিজের মতো করে মানে নিজের ব্যবহারিক ভাষায় তিনি গল্প বলেন। বইটি তিনি ‘আদর্শ প্রকাশনী’ থেকে এবছর(২০২৫)এ প্রকাশ করেছেন। প্রডাকশন বেশ চমৎকার। পাঠক পড়ে আনন্দ পাবেন।