মন্ত্রবলে পিতার মৃত্যুর আভাস পেয়ে তারানাথ গ্রামে ফিরেছে দীর্ঘ অনুপস্থিতির পরে। সে জানে না, আরও এক ভয়ংকর বিপদ ঘনিয়ে আসছে তার পরিবারের ওপরে। লোলুপ অশুভ আত্মারা হরণ করতে চায় তার আত্মপরিচয়, উত্তরাধিকার।
তারানাথ কি পারবে তাদের রুখতে?
তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখনী থেমে যাওয়ার পরে এই বইতে ঘটেছে তারানাথ তান্ত্রিকের প্রত্যাবর্তন।
শুরুটা অবিকল দাদা-বাবার লেখার মতোই। মাঝে প্লট যে ভিন্ন হবে, তা তো জানা কথাই। কারণ যুগ-দশকের সাথে তাল মিলিয়ে উপযুক্ত গল্প না হলে পাঠকের মন ভরবে কেন? এখানেই বাজিমাত করেছেন তথাগত বন্দ্যোপাধ্যায়।
চেনা তারানাথের ডামরতন্ত্রের কেচ্ছা, অশরীরী দেখলেই গাত্রবন্ধনের মন্ত্র আউড়ানো, সাধকদের সাথে থাকা, তাদের কল্যাণে অর্ধমন্ত্র লাভ করা– এসব অনেক কিছুই আমরা জেনে ফেলেছি। কিন্তু চেনা এই গণ্ডির বাইরে গিয়ে এবার তারানাথের নিজ অস্তিত্বের জোরালো প্রমাণ দেওয়া দরকার হয়ে পড়েছিল। ... এক্ষেত্রে গল্পটা আমি রূপক হিসেবে দেখলাম। উত্তরাধিকারসূত্রে তারানাথ চরিত্র যে কেবল তাদেরই, এটা বুঝিয়ে দেওয়া খুবই দরকার ছিল উল্টাপাল্টা তারানাথ গল্প-বানিয়েদের। 'আমিই তারানাথ'– এই কথাটা এত শক্তিশালীভাবে সেটা প্রকাশ করেছে যে প্রশংসাযোগ্য এভাবে বিষয়টা উপস্থাপন করা।
▫️▫️▫️
এবারই প্রথম তারানাথকে না পড়ে কানে শুনলাম.. তাতেই যেন মাথায় বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠছিল দৃশ্যগুলো। গপ্পো মীরের ঠেক-এর পরিবেশনা দারুণ।
তারানাথের প্রত্যাবর্তন তারানাথের লিগ্যাসি বজায় রেখেই দুর্দান্ত হয়েছে। আসলে আমি ভেবেছিলাম বর্তমানে যেরকম তান্ত্রিক হরর চলছে সেরকমই একটা কিছু হবে। ভাবতেই পারিনি তারাদাস বাবুর পুত্র এমন একটা স্যাটায়ার আনবেন! পাঠককের মাথা খাটানোরও সুযোগ আছে যথেষ্ট। এটা নিয়ে বেশি বললে স্পয়লার হয়ে যাবে। কাহিনীর শুরুটা বলা যায়। তারানাথের তখন যুবক বয়স; তিব্বতী এক সাধুর ডেরায় শিখছেন নতুন এক বিদ্যা; স্বপ্নচারণ। স্বপ্নে অন্য এক জগতে তারানাথ অনুভব করলেন তার বাবা আদিনাথ মৃত্যুশয্যায়। মুমূর্ষু পিতা ডাকছেন তারনাথকে। ফিরে চলল তারানাথ তার পৈতৃক গ্রামে। কিন্তু ফিরে এসে বুঝল গ্রামে সবাই নাকি তারানাথকে নাকি অন্ধকারে দেখেছে এর কিছুদিন আগে থেকে! সবাই কি ভুল দেখল? কিছুদিন আগেই শুনেছি মীরের চ্যানেলে; আরও একটা দুটো নতুন গল্প লিখে তারপর বই আকারে আনলে ভালো লাগত আরো। আশা করি পরবর্তী বইমেলার ভিতর আরও গল্প পাব। আশা করছি পিতা ও পিতামহের উত্তরাধিকারের প্রতি যথারীতি সুবিচার করবেন। লেখার ধরণে হুবহু সেই ধাঁচ যা তার ছিল পূর্বপুরুষের কলমে। একেবারে পারফেক্ট প্যাস্টিশ আর কামব্যাক তো রিমার্কেবল!
বাপ দাদার লেখার ধারা বেশ সুন্দর ধরে রাখতে পারলেও আধুনিক গল্পকারের মত গল্পশেষে একটা প্রশ্ন ঝুলিয়ে রাখাটা বেখাপ্পা লাগলো বেশ!!! তারানাথ তান্ত্রিকের একটা নিজস্বতা আছে। সেটা ধরে রাখা প্রয়োজন। সামনে আরো ভালো গল্প দিবেন আশা করি।
তিন পুরুষ ধরে এগিয়ে চলা তারানাথ এখনো অমলিন৷ ভাবগত দিক থেকে কিছুটা ঝিমিয়ে পড়লেও, বিষয়গত কিংবা অন্যান্য পারিপার্শ্বিকতায় তথাগত পূর্বপুরুষদের শাণিত করেছে৷ আদি ও অকৃত্রিম, সবুজ ঘাস আর মাটিতে বৃষ্টির সোঁদা ঘ্রাণমাখা সেই পুরানো স্বাদ৷
১৯৩০ দশকে জন্ম নেয়া তারানাথ বিভূতি-ভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর যেনো মুখ থুবড়ে পরেছিলো। তারপর ৮০র দশক থেকে তারানাথকে টেনে নিয়েছে তার ছেলে তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর আবার থেমে যাওয়া তারানাথকে যেনো নতুন করে পথ চেনাতে ২০২৫ সালে এগিয়ে এসেছেন তথাগত বন্দ্যোপাধ্যায়।
বইটা আজ থেকে আরো বছর খানেক আগে প্রকাশ হলেও আমি হাতে পেয়েছি দিনকয়েক আগে। হিমালয়ের কাছে একটা জঙ্গলে নেপালি সাধুর আখড়ায় স্থান নেওয়া তারানাথের হঠাৎ করেই পিতাঠাকুরের মৃত্যুর আভাস পেতেই যেনো ছুটে চলে এসেছে তার শৈশবের নীড়ে। শুধুই কি পিতৃবিয়োগের বিপদ? না, তাহলে তো তারানাথ এর ভেলকি অসম্পূর্নই থেকে যাবে। তারানাথ তার পিতার মৃত্যু সন্দেহে যতই তার গ্রামের দিকে ফিরছে ততই তার আরো বিপদ ঘনিয়ে আসছে তার পরিবারের উপরে। লোলুপ, অশুভ আত্মারা হরণ করতে চায় তার আত্মপরিচয়, উত্তরাধিকার। তারানাথের তার পিতাঠাকুরের মৃত্যুর সাথে সাথে ঘনিয়ে আসা আরো বিপদ থেকে উদ্ধারের কৌশলই বিশদ বলা হয়েছে ক্রাউন সাইজের এই বইটায়। তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখনী থেমে যাবার পরে এই ছোট্ট বইটাতেই ঘটেছে তারানাথের প্রত্যাবর্তন।
দুর্দান্ত কিংবা অসাধারণ এরকম কিছু না। কিন্তু তারানাথ তান্ত্রিক কে আগের মতোই পাওয়া গিয়েছে, এতেই খুশি।।।
অলাতচক্র পড়ার পর একটা খালি খালি ভাব এসেছিল, তারানাথ কে এই পাওয়া যাবে না, সেই খালি ভাবটা কেটে যাবে হয়ত, এভাবে আরো কিছু গল্প যদি লিখিয়ে নেয়া যায়।।।
মূল নভেলাটিকে বাদ দিলে বইয়ের ভূমিকা এবং মলাটের উপর ব্লার্বটি পড়ে কিঞ্চিৎ বিরক্ত হলাম। কেন হলাম সেইসব ভাঙব না বিশেষ। আর গল্প মোটামুটি চলনসই। পূর্বপুরুষের যোগ্য উত্তরসূরি এসব বলব না এখনই কারণ সেটা পরপর consistently লিখে গেলে বলা যেতে পারে। কিন্তু চাবি'তে কী খোলে সেটা open ending-এর চেয়েও বেশি lazy writing মনে হল। ভূমিকাতে সেই বিষয়ে কৈফিয়ত লিখতে গিয়ে স্রেফ উল্টোপাল্টা কথাবার্তা লেখা। ধুর! তবে রসিক পাঠক এটা বুঝতে পারবেন যে এই গল্পটি আসলে গাদাগুচ্ছের ইউটিউবীয় তারানাথ ফ্যানফিকশনের বিরুদ্ধে ল���খা একটি স্যাটায়ার।
মন্ত্রবলে পিতার মৃত্যুর আভাস পেয়ে তারানাথ গ্রামে ফিরেছে দীর্ঘ অনুপস্থিতির পরে। সে জানে না, আরও এক ভয়ংকর বিপদ ঘনিয়ে আসছে তার পরিবারের ওপরে। লোলুপ অশুভ আত্মারা হরণ করতে চায় তার আত্মপরিচয়, উত্তরাধিকার NOT AT THE LEVEL OF ORIGINAL TARANATH Tantrik BUT DEFINITELY A WELL WRITTEN BOOK OR SHORT NOVEL , FEELING Nostalgic Tathagata Bandopadhyay carries the legacy forward.
যদি তারানাথের চরিত্র চিত্রণ হয়ে থাকে, তাহলে লেখক সফল। মনে হলো পুরানো তারানাথকেই পাওয়া গেল। যদি গল্পের কথা বলি, একদমই জমেনি। আশা করি ভবিষ্যতে আরো জমাটি কিছু পাওয়া যাবে।
দোলপূর্ণিমার নিশীথে, যখন চন্দ্র তার পূর্ণকলায় উদ্ভাসিত, তখন এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হইলাম। শ্রী তথাগত বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'তারানাথের প্রত্যাবর্তন' নামক গ্রন্থে তারানাথ তান্ত্রিকের সহিত এক রুদ্ধশ্বাস রজনী যাপন করিলাম। কাহিনীর প্রারম্ভেই এক অনন্য আবহের সৃষ্টি হইয়াছে—তিব্বতের এক সাধুর আশ্রমে যুবক তারানাথ এক অদ্ভুত বিদ্যার চর্চায় নিমগ্ন। স্বপ্নচারণ! স্বপ্নের মধ্যেই তিনি প্রত্যক্ষ করিলেন পিতা আদিনাথের মৃত্যুসম্ভাবনা, যাহা এক অলৌকিক আহ্বানরূপে আসিল তাঁহার নিকট। পিতৃগৃহে প্রত্যাবর্তন করিলে রহস্য আরও ঘনীভূত হইল; কারণ, ইতিপূর্বে গ্রামের বহুজন নাকি তাহাকে অন্ধকারে দেখিয়াছে! অতঃপর এক অশুভ শক্তির আবির্ভাব, যাহারা শুধু তাঁহার উত্তরাধিকার লুণ্ঠন করিতেই ব্যগ্র নহে, বরং তাঁহার আত্মপরিচয়কেও গ্রাস করিবার অভিপ্রায়ে উদ্যত।
এই গ্রন্থে পূর্বপুরুষের লেখনীর যেরূপ নিপুণ প্রতিচ্ছবি দেখিতে পাই, তাহা সত্যই প্রশংসনীয়। ভাষার শুদ্ধতা, চরিত্রবিন্যাসের সূক্ষ্মতা ও কাহিনীর সূক্ষ্ম সূত্ৰবদ্ধতা যেরূপ নিপুণভাবে গাঁথা হইয়াছে, তাহাতে এটি এক নিখুঁত প্যাস্টিশ বলিলে অতিশয়োক্তি হইবে না। তথাগত বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু তাঁহার পূর্বপুরুষের সাহিত্যিক ধারা বজায় রাখিয়াছেন তাহাই নহে, উহাকে এক নূতন মাত্রায় উন্নীত করিয়াছেন।
সাম্প্রতিক তান্ত্রিক-হররের অনুরাগীরা হয়তো এক নূতন আঙ্গিকের প্রত্যাশা করিয়াছিলেন, কিন্তু ইহা যে কেবল এক ভয়াল কাহিনী নহে, বরং সূক্ষ্ম ব্যঙ্গরসে সিক্ত, তাহা তাঁহারা অনুভব করিবেন পাঠক্রমে। প্রকৃতপক্ষে, লেখক যেরূপ সূক্ষ্ম বুদ্ধিদীপ্ততার সাথে পাঠকের চেতনাকে জাগ্রত করিবার অবকাশ রাখিয়াছেন, তাহা এক বিরল সাহিত্যিক কৌশল।
বইখানি পড়িয়া একমাত্র ইহাই বলিতে পারি—এটি কেবল একটি কামব্যাক নহে, বরং এক অপূর্ব পুনর্জন্ম! আশাকরি, ভবিষ্যতে আরও নব নব আখ্যানে লেখক আমাদের সমৃদ্ধ করিবেন এবং পিতামহ ও পিতার গৌরবময় উত্তরাধিকার সুনিপুণভাবে বহন করিবেন।