Jump to ratings and reviews
Rate this book

দ্য রোড টু অপারেশন আল আকসা ফ্লাড

Rate this book
অপারেশন আল আকসা ফ্লাডের পর ইজরাইলের নির্বিচার গণহত্যার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে- হামাসের এই অপারেশন কি তাহলে ভুল ছিল? এই অপারেশন না হলেই কি ফিলিস্তিনিরা তুলনামূলক নিরাপদ থাকত? হামাসের কি উচিত ছিল সহিংসতা পরিত্যাগ করে শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে আন্দোলন করা?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই তুলে ধরা হয়েছে এই বইয়ে। এই বই মূলত ২০২৩ সালের ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ফিলিস্তিনিদের ৭৫ বছরের সংগ্রামের ইতিহাস; যেখানে সেই বহুল উচ্চারিত বাক্যটিরই বিশ্লেষণ ফুটে উঠেছে যে, এই সংকট অক্টোবরের ৭ তারিখে শুরু হয়নি; এই গন্তব্যে পৌঁছার আগে ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে।

ইজরাইলের প্রতিনিয়ত আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠা, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে গণহত্যার মধ্য দিয়ে দমন করা, উগ্র থেকে উগ্রতর ইহুদি জাতীয়বাদকে আলিঙ্গন করা এবং আল আকসা মসজিদ দখল করার প্রচেষ্টা কীভাবে ধীরে ধীরে এ রকম একটা অপারেশনকে অপরিহার্য করে তুলেছিল, ইতিহাসের আলোকে সেটাই প্রমাণ করা হয়েছে এই বইয়ে।

এই বই আপনাকে অপারেশন আল আকসা ফ্লাডের পেছনের কারণ এবং হামাসের প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রকৃতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেবে।

248 pages, Hardcover

Published February 7, 2025

10 people are currently reading
44 people want to read

About the author

Mozammel Hossain Toha

7 books294 followers
মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা। জন্মের পর থেকেই লিবিয়াতে পড়ে আছি। পড়াশোনাও করেছি এখানেই - প্রথমে বাংলাদেশী স্কুলে, পরে লিবিয়ান ইউনিভার্সিটিতে।

২০১১ সালের গৃহযুদ্ধের পুরো সময়টা জুড়ে ছিলাম গাদ্দাফীর জন্ম এবং মৃত্যুস্থান সিরতে। এরপর চাকরির সুবাদে দিন কাটিয়েছি ত্রিপোলিতে, বেনগাজিতে এবং ব্রেগায়।

পেশায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, তবে শখ বিচিত্র বিষয়ে। সেগুলো নিয়ে জানতে, চিন্তা করতে এবং লেখালেখি করতে পছন্দ করি। লিখি ফেসবুকে এবং অনলাইন মিডিয়া হাউজ Roar বাংলায়।

ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট, যেখানে আমার লেখাগুলো একত্রে পাওয়া যাবে: https://www.mhtoha.com/

রকমারি লিঙ্ক, যেখান থেকে আমার বই অর্ডার করতে পারবেন: https://www.rokomari.com/book/author/...

Facebook ID: https://www.facebook.com/mozammelhoss...

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
19 (70%)
4 stars
8 (29%)
3 stars
0 (0%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 13 of 13 reviews
Profile Image for Farhan.
20 reviews4 followers
October 6, 2025
Who are we to question the validity of the October 7th attack when we did nothing for them? Everyone should read this book so that we can feel ashamed. "From the river to the sea, Palestine will be free".
1 review
February 8, 2025
ত্বোহা ভাইয়ের নতুন বইয়ের পাণ্ডুলিপি হাতে নিয়ে প্রথমেই বইয়ের নাম পড়লাম—'দ্য রোড টু অপারেশন আল আকসা ফ্লাড'। নাম দেখে অনুমান করলাম, এটি ৭ অক্টোবরের ঘটনা এবং পরবর্তী দেড় বছরের নির্মম হত্যাযজ্ঞ নিয়ে লেখা। তবে বইয়ের সূচনা পড়েই বুঝতে পারলাম, এটিতে কেবল ৭ অক্টোবরের ঘটনার বিবরণ নয়; এর পেছনের ইতিহাস ও কারণ বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বইটিতে গাজা ভূখণ্ডের ইতিহাস, দখলদার ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ইতিহাস, মিশরসহ বিভিন্ন দেশে মুসলিম ব্রাদারহুডের উত্থান, ইয়াসির আরাফাত ও পিএলও-এর উত্থান-পতন, হামাসের রাজনীতি, প্রতিরোধ আন্দোলন এবং যুগ যুগ ধরে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের দুর্দশাগ্রস্ত জীবন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

বিশেষ করে বইটিতে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কীভাবে আরব দেশসহ বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্র ফিলিস্তিনিদের ভুলে গিয়ে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ (নরমালাইজেশন) প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এতে আরও তুলে ধরা হয়েছে কীভাবে ধীরে ধীরে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল হয়ে যাচ্ছে। একটি জাতির কয়েক প্রজন্ম কীভাবে মাতৃভূমি রক্ষার জন্য সংগ্রাম করছে এবং বছরের পর বছর হাজার হাজার মানুষ শহীদ হচ্ছে বা কারাবন্দি হচ্ছে। সীমিত শক্তি সত্ত্বেও কীভাবে সাত অক্টোবরের ঘটনার মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনিরা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হয়, তা বইটিতে বর্ণনা করা হয়েছে।

আমরা যারা সাধারণ মুসলিম, তাদের কাছে ফিলিস্তিন একটি আবেগের নাম। আমাদের প্রজন্ম বড় হয়েছে ফিলিস্তিন ও দখলদারদের সংঘর্ষের খবর দেখে এবং জুমার নামাজে দোয়া শুনে। বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে, ইয়াসির আরাফাত এবং হামাস কিভাবে তাদের শুরুর লক্ষ্য থেকে সরে মাতৃভূমি রক্ষার স্বার্থে দখলদারদের সাথে অসম চুক্তি করতে বাধ্য হয়। বইটি পড়ে বোঝা যাবে আমরা যারা দূর থেকে এই সংগ্রামকে কেবল ধর্মীয় যুদ্ধ হিসেবে দেখি, তা আসলে ফিলিস্তিনিদের কাছে মাতৃভূমি রক্ষার সংগ্রাম।

বইটি পড়ার পর সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি স্পষ্ট হবে তা হলো—দেড় বছরের যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু দেখে আমাদের যাদের মনে প্রশ্ন জেগেছিলো "সাত অক্টোবরের ঘটনা কি সত্যিই প্রয়োজন ছিল? এর কারণে এত মানুষের মৃত্যু কি ঠিক? এই ঘটনা না ঘটলে মানুষগুলো অন্তত বেঁচে থাকতো না?"—বইটি পড়ার পর সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর মিলবে। আমরা যারা দূর থেকে যেটাকে বেঁচে থাকা বলে মনে করি, তা আসলে ফিলিস্তিনিদের জন্য 'বেঁচে থাকা' নয়; বরং তাদের কাছে মৃত্যুবরণই এর চেয়ে শ্রেয়। বইটির শেষ বাক্যটি এই বিষয়টিকে গভীরভাবে প্রতিফলিত করে।

আমি ব্যক্তিগতভাবে ত্বোহা ভাইয়ের লেখার ভক্ত। তার রোর বাংলা-তে প্রকাশিত চার শতাধিক আর্টিকেলের প্রায় সবগুলোই পড়েছি। এটি তার চতুর্থ বই। এর আগে তার লেখা স্পাই স্টোরিজ (দুই খণ্ড) এবং গল্পগুলো সিরিয়ার পড়েছি। তবে আমার মনে হয়, এই বইটি তার কমফোর্ট জোন থেকে বেরিয়ে আসা একটি কাজ। বাংলা ভাষাভাষী পাঠকদের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস ও রাজনীতি নিয়ে তোহা ভাইয়ের বিশ্লেষণ অন্যতম। তার পক্ষপাতহীন ও নির্মোহ বিশ্লেষণ এই বইটিকে অনন্য করে তুলেছে। আমার মনে হয়, এই বইটি তার আগের বইগুলোর তুলনায় পাঠকদের মধ্যে আলাদা স্থান করে নেবে। বইটির সূচনা থেকেই পাঠককে আকৃষ্ট করে রাখবে বলে আমার বিশ্বাস। ফলে ফিলিস্তিন নিয়ে যারা আবেগপ্রবণ এবং যারা এই সংকটের ইতিহাস ও পটভূমি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী, তাদের জন্য বইটি একটি অবশ্যপাঠ্য।
Profile Image for Nusrat Faizah.
104 reviews39 followers
May 4, 2025
"দাসদের বিদ্রোহের কৌশল নিয়ে আমরা আলোচনা করতে পারি,সেই বিদ্রোহের ফলাফল নিয়ে বিশ্লেষণ করতে পারি;কিন্তু ন্যূনতম স্বাধীনতার জন্য যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করার মত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়,তাদের সেই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতার সমালোচনা করার নৈতিক অধিকার কি আমাদের মত মুক্ত মানুষের আছে?"
Profile Image for Zahid Hasan Mithu.
34 reviews2 followers
April 14, 2025
গা জা যখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, গা জা বিভিন্ন এলাকাকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে তখন অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন ৭ অক্টোবর থেকে হা মা সের অর্জন কী?

যারা এই প্রশ্ন করছেন তাদের জন্য মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহার লেখা দ্য রোড টু অপারেশন আল আকসা ফ্লাড বই থেকে মাত্র একটা তথ্য উপস্থাপনই যথেষ্ট।

২০০৭ সালে হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরপরই ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হিসাব কষেছিল সর্বনিম্ন কত ক্যালরি খাবার খেয়ে গাজাবাসীর পক্ষে কোনো রকমে বেঁচে থাকা সম্ভব। সেই হিসাবের ওপর ভিত্তি করে ইজরায়েল সে সময় গাজার ভেতরে প্রতিদিন ১০৬ ট্রাক খাবার প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল। দুই দশক পর ২০২২ সালে এসেও গাজায় খাবার প্রবেশের এই পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি।
কী নির্মম, কী নিষ্ঠুরতা!
.
যারা ৭ অক্টোবর নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাদের জন্য এই বই অবশ্যপাঠ্য। এই বই থেকে তারা জানতে পারবেন ৭ অক্টোবরের আগেও ফিলিস্তিনিদের উপর কী পরিমাণ জুলুম নির্যাতন হয়েছে, কীভাবে তাদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করে শরণার্থীতে পরিণত করা হয়েছে, কীভাবে তাদের নিক্ষেপ করা হয়েছে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মুক্ত কারাগারে।

এই বই থেকে আরো জানতে পারবেন হামাস শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কোনো কমতি রাখেনি। কিন্তু ইজরায়েল হামাসকে সেই সুযোগ দেয়নি। তারা তাদের গ্রেটার ইজরায়েল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অবিচল থেকে ফিলিস্তিনের ভূমি দখল করেছে, ফিলিস্তিনিদের হত্যা করেছে এবং অধিকার কেড়ে নিতে নিতে তাদের পশুর চেয়ে নিচু শ্রেণিতে নামিয়ে এনেছে।

সেখানেও থেমে থাকেনি। ইজরায়েলের উগ্র ডানপন্থীরা ক্রমান্বয়ে আল-আকসা মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট করছিল এবং ক্রমেই আল-আকসা মসজিদ তাদের প্রবেশের হার বাড়ছিল। এর পেছনে তাদের লক্ষ্য আল-আকসাকে ধ্বংস করে থার্ড টেম্পল প্রতিষ্ঠাকে আরো ত্বরান্বিত করা। কিন্তু এতকিছু যখন ঘটছে তখন আমিরাত, সৌদি আরব আর তুরস্কের মতো দেশগুলো ইজরায়েলের সাথে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করা নিয়ে ব্যস্ত। ফিলিস্তিনিদের দিকে তারা ফিরেও তাকানো জরুরী মনে করছিল না।

ফলে হামাস সব পরিণতি জেনেই ৭ অক্টোবর অবিশ্বাস্য এক অভিযান পরিচালনা করে। যে অভিযানের মাধ্যমে ইজরায়েলের বিলিয়ন ডলারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। সেই সাথে ভেঙে পড়ে ইজরায়েলের অতি আত্মবিশ্বাস।
.
মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা তার এই বইতে ৭ অক্টোবরের প্রেক্ষাপট চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন। গাজার একদম শুরুর ইতিহাস থেকে ফিলিস্তিনে কীভাবে ইহুদিদের আগমন ঘটলো, কেন ঘটলো, সবকিছুই নিঁখুতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ৭ অক্টোবরের মতো ঘটনা যে অবশ্যম্ভাবী ছিল সেই বিষয়টিও দারুণভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

তথ্যের উপস্থাপন সন্নিবেশ চমৎকার। আমি স্লো রিডার। খুব ভালো বই না হলে আমি সেই বইতে আটকে থাকতে পারিনা। এর আরেক কারণ ফেসবুকের প্রতি আমার মাত্রাতিরিক্ত নেশা। একমাত্র ভালো বই হলেই নিজেকে ফেসবুক থেকে সরিয়ে বইয়ের মধ্যে বুঁদ করে রাখতে পারি। এই বইটি সেরকম একটা বই।

আমি বলব যারা ৭ অক্টোবরের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানতে চান, যারা ফিলিস্তিনের আজকের এই অবস্থার সংক্ষিপ্ত কিন্তু জরুরী আলাপ সমৃদ্ধ কিছু পড়তে চান তাদের জন্য এটি একটি ভালো বই। একই সাথে আমি বলব আপনার যে বন্ধুরা গাজার আজকের অবস্থার জন্য হামাসকে দায়ী করছে তাদের এই বইটি গিফট করুন।
.
লেখক বইয়ের ইতি টেনেছেন একটি প্রশ্ন রেখে। তিনি বলেছেন যারা ন্যূনতম স্বাধীনতার নিজের জীবন উৎসর্গ করতে পারে তাদের আন্দোলন নিয়ে আমরা ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করতে পারি কিন্তু সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতার সমালোচনা করার নৈতিক অধিকার রাখি কিনা।

আসলেই তাই। হাজার কিলোমিটার দূর থেকে আমাদের মনে হতে পারে গাজা কিংবা পশ্চিম তীরের আকাশে ইজরায়েলের যুদ্ধবিমান না ওড়া কিংবা মিসাইলের আঘাত না হানাই হয়তো শান্তি। কিন্তু ভেতরে কত সিস্টেমেটিকভাবে নীরবে নিভৃতে ফিলিস্তিনিদের জীবনকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয় তা হয়তো আমরা অনেকেই অনেকেই জানি না।

অথবা আমরা যারা কখনো নিজের বসতভিটা থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের শিকার হইনি তারা হয়তো কখনো বুঝতেও পারব না সত্তর বছর পর কয়েক মুহূর্তের জন্য নিজ ভূমিতে পা রাখার অনুভূতি কেমন।

বোঝার জন্য এবং জানার জন্য বইটি পড়ুন।
Profile Image for Umama Turna.
83 reviews28 followers
December 31, 2025
Should have read it way earlier. A much needed crash course on Palestine-Israel history, with every notable event in the last century.

- Concise
- Informative
- Un-biased
- Easily explained
- A bit difficult to concentrate because of the large quantity of information

"দাসদের বিদ্রোহের কৌশল নিয়ে আমরা আলোচনা করতে পারি, সেই বিদ্রোহের ফলাফল নিয়ে বিশেষণ করতে পারি; কিন্তু ন্যূনতম স্বাধীনতার জন্য যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করার মতো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়, তাদের সেই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতার সমালোচনা করার নৈতিক অধিকার কি আমাদের মত মুক্ত মানবদের আছে?"

Profile Image for Tousif bin Parves.
20 reviews6 followers
March 3, 2026
মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহার নাম যারা রোর বাংলার নিয়মিত পাঠক, তাদের কাছে আলাদা করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পেশায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, লিবিয়া প্রবাসী এই মানুষটি বছরের পর বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি, ইতিহাস আর ভূরাজনীতি নিয়ে এমন সব লেখা লিখেছেন যে, বাংলা ভাষায় এই বিষয়ে তার সমতুল্য লেখক খুঁজে পাওয়া কঠিন।

উনার রিসেন্ট বই "দ্য রোড টু অপারেশন আল আকসা ফ্লাড"। নামটুকুই বলে দেয় বইয়ের উদ্দেশ্য কী। মাত্র ২২৫ পৃষ্ঠায় ৭৫ বছরের একটি জাতির সংগ্রামের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করা, এই কাজটি যে কতটা কঠিন, সেটা যারা ইতিহাস লেখার কষ্ট বোঝেন তারাই জানেন।

বিশাল কলেবরের একটি বিষয়কে ছোট ছোট চ্যাপ্টারে ভেঙে, প্রতিটি ঘটনাকে তার প্রেক্ষাপটে স্থাপন করে, পাঠককে কোথাও হাঁপিয়ে না তুলে একটানে পড়িয়ে নিয়ে যাওয়া, এটা লেখকের লেখার বিশেষ ধার।

বইয়ে গল্পটা শুরু হয় অনেক আগে থেকে। প্রাচীন গাজা থেকে গাজ্জাতু হাশিম পর্যন্ত। ভূমধ্যসাগরের তীরে এই ছোট ভূখণ্ডটির ইতিহাস হাজার বছরের পুরনো। কিন্তু আধুনিক অর্থে ফিলিস্তিন সংকটের বীজ বোনা হয়েছিল উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে, যখন ইউরোপে ইহুদি জাতীয়তাবাদের একটি নতুন রাজনৈতিক আন্দোলন মাথা তুলল জায়নবাদ।

জায়নবাদের উৎপত্তি নিয়ে অনেকের মনে বিভ্রান্তি আছে। অনেকেই এটাকে ধর্মীয় আন্দোলন বলে ভাবেন। কিন্তু লেখক শুরুতেই এই বিভ্রান্তি কাটিয়ে দেন।

জায়নবাদের গোড়া আসলে ধর্মে নয়, ইউরোপীয় জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক দর্শনে। থিওডর হার্জল, যিনি এই আন্দোলনের মূল প্রবক্তা, তিনি নিজে তেমন ধার্মিক ছিলেন না। তিনি বরং ইউরোপে ইহুদিদের উপর ক্রমবর্ধমান নিপীড়নের প্রতিক্রিয়ায় একটি আলাদা ইহুদি রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্নের গন্তব্য হিসেবে ফিলিস্তিনকে বেছে নেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু শুধু রাজনৈতিক জায়নবাদ নয়, এর সাথে যুক্ত হয়েছিল ক্রিশ্চিয়ান জায়নবাদ প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিষ্টান ধর্মতত্ত্বের একটি ধারা, যেটা বাইবেলের নির্দিষ্ট ব্যাখ্যার ভিত্তিতে ফিলিস্তিনে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে ঈশ্বরের পরিকল্পনার অংশ মনে করে। এই ধারণাটি ব্রিটিশ এবং পরবর্তীতে আমেরিকান রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে ওঠে।

১৯১৭ সালে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেলফোর যে ঘোষণাপত্রে ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য একটি "জাতীয় আবাসস্থল" গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার পেছনে এই দুটো শক্তিরই সম্মিলিত চাপ ছিল।

বেলফোর ঘোষণাটি ইতিহাসের একটি অদ্ভুত মুহূর্ত। এখানে একটি সাম্রাজ্যবাদী শক্তি, যার কাছে ফিলিস্তিনের আসলে কোনো আইনগত মালিকানাই ছিল না, অন্য একটি জাতির ভূমিকে তৃতীয় একটি গোষ্ঠীকে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফেলল। এই ঘোষণাপত্রটি যাদের ভূমির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছিল, সেই ফিলিস্তিনিদের মতামত নেওয়ার প্রয়োজন কেউ মনে করেনি।

এরপর যা হলো সেটাই ইতিহাসে নাকবা বা মহাবিপর্যয় নামে পরিচিত। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র ঘোষণার আগে থেকেই, এবং পরেও, পরিকল্পিতভাবে ফিলিস্তিনিদের নিজেদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ শুরু হয়। সাত লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বা পালাতে বাধ্য হয় কেউ প্রাণের ভয়ে, কেউ গণহত্যার আতঙ্কে, কেউ সরাসরি বলপ্রয়োগে।

দেইর ইয়াসিন গ্রামে যে গণহত্যা হয়েছিল, সেটা হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে নতুন বাস্তবতার সম্মুখীন করেছিল। এই উচ্ছেদ কোনো যুদ্ধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিল না, ছিল পরিকল্পিত জাতিগত নিধনের অংশ।

লেখক এই বিষয়টা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। যেটাকে আন্তর্জাতিক আলোচনায় প্রায়ই "উদ্বাস্তু সমস্যা" বলে হালকা করে বলা হয়, সেটা আসলে ছিল একটা জাতির ইচ্ছাকৃত, পদ্ধতিগত ভিটেমাটি ছিনিয়ে নেওয়া।

নাকবার পর যে প্রশ্নটা স্বাভাবিকভাবেই আসে সেটা হলো এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ কীভাবে সংগঠিত হলো?

বইয়ের দ্বিতীয় পর্বে ত্বোহা এই প্রতিরোধের সূচনার গল্প বলেন।

সেই সময়টায় মুসলিম ব্রাদারহুড আরব বিশ্বে একটি প্রভাবশালী শক্তি। মিশরে হাসান আল বান্নার হাতে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি শুধু মিশরেই নয়, ফিলিস্তিনেও শাখা বিস্তার করেছিল। কিন্তু ১৯৪৮ সালের যুদ্ধে ব্রাদারহুড তেমন কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। ফলে ফিলিস্তিনিদের কাছে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা ধাক্কা খেল।

এই শূন্যতায় উঠে এলেন জামাল আব্দেল নাসের। মিশরীয় এই সামরিক কর্মকর্তা ১৯৫২ সালের অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতায় এসে আরব জাতীয়তাবাদের পতাকা তুলে ধরলেন। তার বক্তৃতায়, তার আদর্শে, আরব বিশ্বের কোটি মানুষ ফিলিস্তিন মুক্তির স্বপ্ন দেখতে শুরু করল। নাসেরের আরব জাতীয়তাবাদ ছিল ধর্মনিরপেক্ষ, প্যান আরব, এবং সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী।

কিন্তু এই প্রতিরোধ আন্দোলনের আরেকটি ধারা বিকশিত হচ্ছিল ভিন্নভাবে, ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব উদ্যোগে। ইয়াসির আরাফাত এবং তার সহযোগীরা ১৯৫৯ সালে কুয়েতে ফাতাহ সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।

ফাতাহর দর্শন ছিল ভিন্ন ফিলিস্তিনিদের মুক্তি কোনো আরব রাষ্ট্রের দানে আসবে না, নিজেদের সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আসতে হবে এবং ১৯৬৪ সালে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন বা পিএলও গঠিত হলো, আরব রাষ্ট্রগুলোর পৃষ্ঠপোষকতায়।

তারপর এলো ১৯৬৭ সালের যুদ্ধ। মাত্র ছয় দিনে ইসরায়েল মিশর, সিরিয়া এবং জর্ডানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অভূতপূর্ব সাফল্য পেল। পশ্চিম তীর, গাজা, সিনাই এবং গোলান মালভূমি দখল হয়ে গেল।

এই পরাজয় আরব জাতীয়তাবাদের কোমর ভেঙে দিল। নাসেরের স্বপ্ন মাটিতে মিশে গেল। ফিলিস্তিনিরা বুঝতে পারল, প্রতিবেশী আরব রাষ্ট্রগুলোর উপর ভরসা করে ভূমি ফেরত পাওয়ার আশা নেই। নিজেদেরকেই নিজের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে হবে।

ছয় দিনের যুদ্ধের পর ফাতাহ এবং পিএলওর হাতে প্রতিরোধের ব্যাটন উঠে এলো। এই পর্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল মুহূর্ত হলো ১৯৬৮ সালের কারামার যুদ্ধ। জর্ডানের একটি ছোট্ট শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বাহিনী বিশাল আক্রমণ চালাল। ফাতাহ যোদ্ধারা পালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিল। ক্ষতি উভয়পক্ষেরই হয়েছিল, কিন্তু ফিলিস্তিনিরা প্রথমবারের মতো ইসরায়েলকে পিছু হটতে বাধ্য করল, যদিও আংশিক এবং সাময়িকভাবে।

এই বিজয় আরব বিশ্বে বিপুল উত্তেজনা তৈরি করল। হাজার হাজার তরুণ ফাতাহতে যোগ দিল।

কিন্তু এই উত্থানের সাথে সাথে এলো ট্র্যাজেডিও। পিএলও জর্ডানে একটি রাষ্ট্রের মধ্যে রাষ্ট্রের মতো কাজ শুরু করল। এটি জর্ডানের রাজা হুসেনের সাথে সংঘাতের জন্ম দিল।

১৯৭০ সালের সেপ্টেম্বরে জর্ডানের সেনাবাহিনী ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের উপর ভয়াবহ আক্রমণ চালাল। এই মাসটি পরিচিত হলো ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর নামে।

হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হলো। এই হত্যাকাণ্ড করেছিল একটি আরব রাষ্ট্র একটি মুসলিম দেশ।

পিএলও সরে গেল লেবাননে। আরাফাত নতুন ঘাঁটি গড়লেন সেখানে। কিন্তু লেবানন নিজেই ছিল একটি ভঙ্গুর দেশ।

খ্রিষ্টান, সুন্নি, শিয়া, ড্রুজসহ নানা সম্প্রদায়ের মধ্যে সূক্ষ্ম ক্ষমতার ভারসাম্যের উপর দাঁড়ানো। পিএলওর উপস্থিতি সেই ভারসাম্য আরও নাজুক করে দিল। ১৯৭৫ সাল থেকে লেবাননে গৃহযুদ্ধ শুরু হলো, যা দেড় দশক ধরে চলল।

১৯৭৩ সালে ইয়োম কিপুর যুদ্ধে মিশর এবং সিরিয়া ইসরায়েলকে প্রথম দিকে চমকে দিলেও শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি আগের মতোই রয়ে গেল। মিশর বুঝে গেল সামরিক পথে ইসরায়েলকে পরাজিত করা যাবে না। আনোয়ার সাদাত ধীরে ধীরে আলোচনার পথে ঝুঁকলেন।

এই সময়ের মধ্যে পিএলওও বদলাচ্ছিল। আরাফাত একদিকে সশস্ত্র সংগ্রামের কথা বলছেন, অন্যদিকে কূটনৈতিক পথে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির চেষ্টা করছেন।

বিপ্লবী বন্দুক আর জয়তুনের ডাল দুটো প্রতীক একসাথে ধরে রাখার এই দ্বৈততা পিএলওর রাজনীতির একটা মূল বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠল।

ইতিমধ্যে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে একটা বড় পরিবর্তন ঘটছিল। ১৯৬৭ সালের বিজয়ের পর একটি নতুন রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্ম হলো।

উগ্র ধর্মীয় জায়নবাদীরা পশ্চিম তীর এবং গাজাকে শুধু দখলকৃত ভূমি নয়, বাইবেলীয় ভবিষ্যদ্বাণীর পূর্ণতার অংশ হিসেবে দেখতে শুরু করল। "গ্রেটার ইসরায়েল", বাইবেলে উল্লিখিত সীমানার মধ্যে একটি ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন। এই ধারার মানুষেরা পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি নির্মাণ শুরু করল। ইসরায়েল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন না করলেও বাস্তবে এই বসতি নির্মাণকে থামাল না।

১৯৮৭ সালে ফিলিস্তিনিদের দমিয়ে রাখার বিরুদ্ধে বিস্ফোরণ ঘটল #প্রথম_ইন্তিফাদা। পশ্চিম তীর এবং গাজার রাস্তায় পাথর হাতে কিশোর-কিশোরীরা ট্যাঙ্কের সামনে দাঁড়াল। এই বিক্ষোভ স্বতঃস্ফূর্ত ছিল, কোনো কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার ফল ছিল না। কিন্তু এই ইন্তিফাদার গর্ভ থেকে জন্ম নিল একটি নতুন সংগঠন হামাস!

হামাস কীভাবে এলো, এই গল্পটা অনেকেই জানেন না বা ভুল জানেন। লেখক এই অংশটি অত্যন্ত যত্নের সাথে লিখেছেন।

১৯৪৮ সালের পর থেকেই গাজায় মুসলিম ব্রাদারহুডের একটি শাখা ছিল, যা মূলত সমাজসেবা এবং ধর্মীয় শিক্ষার কাজ করত। এর নেতৃত্বে ছিলেন শেখ আহমেদ ইয়াসিন।

এমন এক মানুষ যিনি কিশোর বয়সে দুর্ঘটনায় প্যারালাইজড হয়ে গিয়েছিলেন কিন্তু তার মেধা এবং সাংগঠনিক দক্ষতায় গাজার গলিতে গলিতে একটা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন।

১৯৮৭ সালে প্রথম ইন্তিফাদার সময় শেখ ইয়াসিন সিদ্ধান্ত নিলেন, শুধু সমাজসেবা করে বসে থাকার সময় শেষ। গঠিত হলো হামাস বা "হারাকাত আল-মুকাওয়ামা আল-ইসলামিয়া", ইসলামিক প্রতিরোধ আন্দোলন।

মজার বিষয় হলো, হামাসের প্রথম বছরগুলোতে ইসরায়েল এই সংগঠনটিকে পিএলওর বিকল্প হিসেবে পরোক্ষভাবে মদদ দিয়েছিল, ধর্মীয় সংগঠন দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ পিএলওকে দুর্বল করার কৌশলে। এই সিদ্ধান্ত পরে ইসরায়েলের জন্য কতটা ব্যয়বহুল হয়েছে, সেটা ইতিহাস দেখলে বোঝা যায়।

হামাসের ১৯৮৮ সালের প্রথম সনদ ছিল অত্যন্ত কঠোর, ইসরায়েলের অস্তিত্বকে কোনোভাবেই স্বীকার না করা এবং ফিলিস্তিনের সমগ্র ভূখণ্ড মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি। এই সনদটি পশ্চিমা মিডিয়া হামাসকে "সন্ত্রাসী সংগঠন" তকমা দেওয়ার ক্ষেত্রে বারবার ব্যবহার করেছে। কিন্তু একই সময়ে ইসরায়েলের নীতিগুলো কী ছিল, সেটা নিয়ে মিডিয়া ততটা মাথা ঘামায়নি।

এদিকে পিএলও একটা অদ্ভুত পরিণতির দিকে এগোচ্ছিল। ১৯৮২ সালে ইসরায়েল লেবানন আক্রমণ করল মূলত পিএলওকে ধ্বংস করতে। আরাফাতকে তাদের ঘাঁটি থেকে বহিষ্কার করতে হলো। তিনি তিউনিশিয়ায় নির্বাসনে গেলেন।

পিএলও হয়ে পড়ল ভূমিহীন। আবার ১৯৮৭ সালের ইন্তিফাদা দেখিয়ে দিল, ফিলিস্তিনের সংগ্রাম কোনো দূরের নেতার উপর নির্ভরশীল নয়, এটা গণমানুষের আন্দোলন।

এই বাস্তবতায় আরাফাত একটা বড় কৌশলগত পরিবর্তন আনলেন। ১৯৯১ সালের মাদ্রিদ শান্তি সম্মেলনে এবং এরপর ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তিতে পিএলও ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিল এবং সশস্ত্র সংগ্রাম পরিত্যাগ করল। এর বিনিময়ে পেল পশ্চিম তীর এবং গাজার কিছু অংশে স্বায়ত্তশাসনের অধিকার এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ গঠনের সুযোগ।

অসলো চুক্তিকে ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। আরাফাত এবং রাবিন নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন। কিন্তু ত্বোহা দেখান, চুক্তির বাস্তবতাটা ছিল ভিন্ন।

পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি নির্মাণ থামল না বরং বাড়ল। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ হয়ে উঠল মূলত ইসরায়েলের নিরাপত্তা রক্ষার একটি হাতিয়ার। এবং হামাস এই চুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করল। কারণ তারা দেখতে পাচ্ছিল, এই চুক্তি ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করছে না।

হামাসের রাজনীতি যেভাবে বিকশিত হলো, সেই গল্পটা এই বইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি। অনেকেই মনে করেন হামাস শুধু একটি সামরিক সংগঠন। কিন্তু লেখক দেখান, হামাস একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক আন্দোলন ছিল এবং আছে।

অসলো পরবর্তী সময়ে হামাস বারবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল। বিনিময়ে চাইছিল ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ, অবরোধ শিথিল, এবং ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি। ইসরায়েল প্রতিবারই হয় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে, অথবা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই লঙ্ঘন করেছে।

২০০৬ সালের ফিলিস্তিনি নির্বাচনে হামাস জয়ী হলো। এটা ছিল একটা গণতান্ত্রিক রায়। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং ইসরায়েল এই ফলাফল মানতে রাজি ছিল না। ফাতাহর সাথে ক্ষমতা ভাগাভাগির একটা চুক্তি হলো, কিন্তু সেটা টেকসই হলো না। ২০০৭ সালে হামাস গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিল এবং শুরু হলো অবরোধ।

লেখক এই অবরোধের ভয়াবহতাটা তুলে ধরেন তথ্য দিয়ে।

২০০৭ সালেই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হিসাব করেছিল সর্বনিম্ন কত ক্যালরি খাবার খেয়ে গাজাবাসী টিকে থাকতে পারবে! সেই হিসাবের উপর ভিত্তি করে প্রতিদিন ঠিক সেই পরিমাণ খাবারই গাজায় ঢুকতে দেওয়া হতো। না বেশি, না কম।

মানুষকে না মেরে কিন্তু মৃত্যুর দোরগোড়ায় রেখে দেওয়ার এই পদ্ধতির নাম দেওয়া হয়েছিল "putting Gaza on a diet".

এরপর একের পর এক সামরিক অভিযান। অপারেশন সামার রেইনস ২০০৬, অপারেশন কাস্ট লিড ২০০৮-০৯, অপারেশন পিলার অব ডিফেন্স ২০১২, অপারেশন প্রটেক্টিভ এজ ২০১৪।

প্রতিটি অভিযানে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হলো। অবকাঠামো ধ্বংস হলো। কিন্তু প্রতিটি অভিযানের পরেই হামাস আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে এলো।

এই পর্বে উঠে আসে এক বিশেষ চরিত্র, ইয়াহিয়া সিনওয়ার। এই মানুষটিকে নিয়ে লেখা এই বইয়ের কিছু অংশ একটা আলাদা গুরুত্ব বহন করে।

সিনওয়ার জন্মেছিলেন খান ইউনিসের একটি শরণার্থী শিবিরে। ১৯৮৮ সালে ইসরায়েল তাকে গ্রেফতার করে এবং চারটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। কারাগারে তিনি হিব্রু ভাষা শিখলেন, ইসরায়েলি সমাজ এবং সামরিক কৌশল নিয়ে পড়াশোনা করলেন। এই গভীর অধ্যয়ন তাকে ইসরায়েলি মানসিকতা বুঝতে সাহায্য করল। ২০১১ সালে গিলাদ শালিতের বিনিময়ে এক হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি বন্দির সাথে তিনি মুক্তি পেলেন।

মুক্তির পর সিনওয়ার হামাসের গাজা শাখার প্রধান হলেন। তার নেতৃত্বে হামাস আরও সুশৃঙ্খল এবং পরিকল্পিতভাবে সংগঠিত হলো। ২০১৭ সালে হামাস একটি নতুন সনদ প্রকাশ করল। এই নতুন সনদে ইহুদি-বিরোধিতার পরিবর্তে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরোধিতার উপর জোর দেওয়া হলো।

হামাসের রূপান্তর ছিল বাস্তবিক। সশস্ত্র প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়া আবার একই সাথে কূটনৈতিক নমনীয়তা দেখানো।

২০১৮-২০১৯ সালে সিনওয়ার একটি অভূতপূর্ব উদ্যোগ নিলেন, "গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন।" প্রতি শুক্রবার হাজার হাজার ফিলিস্তিনি অস্ত্রহীনভাবে গাজার সীমান্ত বেড়ার দিকে মিছিল করে যেতে লাগল। তারা শুধু দাবি করছিল তাদের পূর্বপুরুষের ভূমিতে ফেরার অধিকার।

ইসরায়েলের সৈন্যরা এই নিরস্ত্র মিছিলকারীদের উপর গুলি চালাল। সেই প্রতিবাদে ৩০০-এরও বেশি মানুষ নিহত এবং হাজার হাজার আহত হলো। পশ্চিমা বিশ্ব নিন্দা জানাল, কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলো না।

ফিলিস্তিনিদের প্রতিটি পদক্ষেপ ইসরায়েল আরও বেশি দমন দিয়ে জবাব দিচ্ছে। এই বাস্তবতায় ফিলিস্তিনিদের সামনে কী পথ ছিল?

এখানে উল্লেখ্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম প্রেসিডেন্সির অধ্যায়। এই পর্বটা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ ট্রাম্পের নীতিগুলো ৭ অক্টোবরের পথ তৈরিতে গভীরভাবে ভূমিকা রেখেছিল।

২০১৭ সালে ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন এবং আমেরিকার দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নিলেন। এই সিদ্ধান্তটা শুধু প্রতীকী ছিল না।

জেরুজালেম ফিলিস্তিনিদের কাছে শুধু ভূমি নয়, পরিচয়ের প্রশ্ন। এই শহর তিনটি ধর্মের কাছে পবিত্র। একতরফাভাবে এটাকে ইসরায়েলের রাজধানী বলে ঘোষণা করা মানে ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ রাজধানীর দাবিকে কার্যত নাকচ করে দেওয়া।

এরপর এলো "ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি" ট্রাম্পের জামাই জারেড কুশনারের নেতৃত্বে প্রস্তুত শান্তি পরিকল্পনা, যেটাতে ফিলিস্তিনিদের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। এই পরিকল্পনায় মূলত ইসরায়েলের দাবির কাছাকাছি একটি ব্যবস্থাপনা ছিল, এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সম্ভাবনা কার্যত শূন্য করে দেওয়া হয়েছিল।

সাথে এলো আব্রাহাম অ্যাকর্ডস। সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান এবং মরক্কো ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করল। ট্রাম্প এটাকে বিশাল কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করলেন। কিন্তু ফিলিস্তিনিদের কাছে এটা ছিল চরম বিশ্বাসঘাতকতা যে আরব দেশগুলো বলত ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান না হলে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে না, তারাই কোনো সমাধান ছাড়াই ইসরায়েলের সাথে হাত মেলাল।

এই পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালে অপারেশন সাইফ আল-কুদস হলো। হামাস এবং অন্যান্য সংগঠনগুলো জেরুজালেমে আল আকসায় ইসরায়েলি পুলিশের অভিযানের জবাবে রকেট নিক্ষেপ শুরু করল। এগারো দিনের এই যুদ্ধে হামাসের রকেটগুলো ইসরায়েলের আয়রন ডোম ভেদ করে পৌঁছে গেল তেল আবিব পর্যন্ত। পুরো আরব বিশ্ব এবং প্রবাসী ফিলিস্তিনিরা এতে উজ্জীবিত হলো। এই অপারেশন হামাসের রাজনৈতিক মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।

ইতিমধ্যে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে উগ্র ডানপন্থীদের উত্থান আরও ত্বরান্বিত হচ্ছিল। বেন-গভির, স্মোট্রিখ এই উগ্র জাতীয়তাবাদীরা ইসরায়েলের নেতানিয়াহু সরকারে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর পদ পেলেন।

তাদের লক্ষ্য ছিল পশ্চিম তীরে আরও বসতি নির্মাণ, আল আকসায় ইহুদিদের প্রবেশাধিকার বাড়ানো, এবং শেষ পর্যন্ত আল আকসা মসজিদ ধ্বংস করে সেখানে "থার্ড টেম্পল" নির্মাণ।

থার্ড টেম্পলের ধারণাটা লেখক বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন বইয়ে।

ইহুদি ধর্মতত্ত্বে মনে করা হয় এক সময় জেরুজালেমে দুটো মন্দির ছিল যা পরে ধ্বংস হয়েছিল। তৃতীয় মন্দির নির্মাণ করা মানে মেসায়ার আগমনের পথ প্রশস্ত করা। এই বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের একটি সংগঠিত আন্দোলন আল আকসার নিচে "টেম্পল মাউন্ট" দাবি করে।

নিরন্তর অবরোধ এবং লাঞ্ছনার মধ্যে, আল আকসার উপর ক্রমবর্ধমান আগ্রাসনের মধ্যে হামাস এবং সিনওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।

৭ অক্টোবর ২০২৩।

অপারেশন আল আকসা ফ্লাড।

ভোরের আলো ফোটার আগেই হাজার হাজার হামাস যোদ্ধা গাজার অবরোধের বেড়া ভেঙে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে প্রবেশ করল। ইসরায়েলের বিলিয়ন ডলারের নজরদারি ব্যবস্থা, স্মার্ট ফেন্স, সেন্সর সব ফাঁকি দিয়ে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর প্রতিক্রিয়া ছিল বিপর্যস্তভাবে ধীর। সেই দিন বেশ কিছু ইসরায়েলি নাগরিক নিহত হলো এবং আরও বেশি সংখ্যক জিম্মি হিসেবে গাজায় নিয়ে যাওয়া হলো।

এই অভিযানটি কেন হলো, তার ব্যাখ্যা সমস্ত বইজুড়েই এসেছে।

অনন্ত অবরোধ, বারবার ব্যর্থ হওয়া শান্তি প্রচেষ্টা, আল আকসার উপর বাড়তে থাকা হুমকি, আরব দেশগুলোর মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয়তা এই সব কিছুর সমাবেশে একটি জাতি বেছে নিল সেই পথ, যেটা তাদের কাছে অবশিষ্ট ছিল।

ত্বোহা এই অধ্যায়ে একটি গভীর প্রশ্ন তোলেন। আমরা দাসদের বিদ্রোহের কৌশল নিয়ে আলোচনা করতে পারি, তার ফলাফল বিশ্লেষণ করতে পারি। কিন্তু ন্যূনতম স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হওয়া মানুষদের সেই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা বিচার করার নৈতিক অধিকার কি আমাদের মত মুক্ত মানুষের আছে?

বইটির এই শেষ প্রশ্নটি পাঠককে দীর্ঘ সময় তাড়া করে বেড়ায়।
This entire review has been hidden because of spoilers.
1 review
May 17, 2025
If you want to understand why HAMAS was founded nearly four decades after the Nakba, if you want to grasp the foundation of the Palestinian resistance, and if you wish to know why they are fighting for that piece of land while we Bangladeshis are leaving the country by any means, YOU SHOULD READ this book. And if possible, read a few more books from the reference.
Profile Image for Mozammel Toha.
Author 7 books294 followers
February 8, 2025
নিজের বই নিজে রেটিং দেওয়াটা অদ্ভুত হলেও যেহেতু বইটা লেখা শেষ করে একবার পড়েছি, তাই না দেওয়ারও কোনো কারণ দেখছি না। তবে রিভিউ দিচ্ছি না; লেখকের কথাটাই এখানে তুলে দিচ্ছি:

ফিলিস্ত��নের উপর একটা বই লেখার প্রয়োজনীয়তা আমি প্রথম অনুভব করেছিলাম ২০২১ সালের হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ, তথা ব্যাটেল অব সোর্ড অব জেরুজালেমের সময়। সে সময়ই আমি লক্ষ্য করেছিলাম, মোটের উপর অধিকাংশ বাংলাদেশী ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার হলেও ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি সম্পর্কে তাদের একটা বড় অংশেরই জানার ঘাটতি আছে। ফলে তাদের অনেকেই হামাস সম্পর্কে বিরূপ ধারণা পোষণ করে। পশ্চিমা গণমাধ্যমের বয়ান দ্বারা প্রভাবিত হয়ে হামাসকে তারা সন্ত্রাসী সংগঠন, বা নিদেনপক্ষে রাজনৈতিক কাণ্ডজ্ঞানহীন সামরিক সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে।

ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, হামাসের রাজনৈতিক বিবর্তনের ইতিহাস, হামাস-ফাতাহ দ্বন্দ্ব, ইসরায়েলের সাথে ফাতাহ এবং হামাসের সম্পর্ক, ইসরায়েলি রাজনীতিতে উগ্র ধর্মীয় ডানপন্থার ক্রমবিকাশ, প্রভৃতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় প্রতিবারই হামাসের রকেট নিক্ষেপের জবাবে ইসরায়েল যখন ফিলিস্তিনিদের উপর বড় ধরনের অপারেশন শুরু করে, পশ্চিমা গণমাধ্যমের বয়ান দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বাংলাদেশীদের অনেকেও তখন তার পেছনে হামাসের রকেট নিক্ষেপকেই বেশি দায়ী করে। ঠিক কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হামাস রকেট ছুঁড়তে বাধ্য হয়েছিল, সেটা তারা বিবেচনা করে না।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস যখন অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড পরিচালনা করে, তখনও আমরা ঠিক একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে পাই। শুরুতে হামাসের সাফল্যে অনেকেই উচ্ছ্বসিত হলেও ইসরায়েল যখন পাল্টা গাযার উপর গণহত্যা শুরু করে, তখন অনেকে��� গাযাবাসীর উপর এই গণহত্যা টেনে আনার জন্য হামাসকে দায়ী করতে শুরু করে। একই সময়ে বিবিসি, সিএনএন, নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতো মূলধারার পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোও হামাসকে এমনভাবে আইএসের মতো সন্ত্রাসী সংগঠনের সাথে তুলনা করতে শুরু করে, তাতে এই আশঙ্কা জোরালো হয়ে উঠতে শুরু করে যে সংবাদের জন্য শুধুমাত্র পশ্চিমা গণমাধ্যমের উপর নির্ভরশীল বাংলাদেশীদের মধ্যেও হামাস সম্পর্কে, এবং সেই ধারাবাহিকতায় ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন সম্পর্কে বিরূপ ধারণা আরও বৃদ্ধি পাবে।

এই সম্ভাবনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে ৭ অক্টোবরের পরপরই পশ্চিমা গণমাধ্যমের বয়ানের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার উদ্দেশ্যে আমার ইউটিউব চ্যানেলে আমি ফিলিস্তিন নিয়ে ভিডিও আপলোড করতে শুরু করেছিলাম। কিন্তু ইয়াহইয়া সিনওয়ার এবং আবু উবায়দাকে নিয়ে করা আমার দুটো ভিডিও পরপর রেস্ট্রিকশন খেয়ে যাওয়ার পর আমাকে থমকে পড়তে হয়। তখনই আমি সিদ্ধান্ত নিই, ইউটিউব বা অন্য কোনো প্লাটফর্মে ভিডিও আপলোড বা লেখালেখি না করে আমার বরং এ বিষয়ে একটা বই লেখা উচিত, যেটা দীর্ঘকাল পর্যন্ত স্থায়ী হবে।

ফিলিস্তিনের উপর বইয়ের কোনো অভাব নেই। কিন্তু আমি সিদ্ধান্ত নেই এমন একটা বই লেখার, যেটা শুধুমাত্র ফিলিস্তিন সঙ্কটের ইতিহাস বা শুধুমাত্র হামাসের ইতিহাস হবে না; বরং যেটা হবে ১৯৪৮ সাল থেকে শুরু করে ২০২৩ সালের ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ সংগ্রামের ইতিহাস, যেখানে ব্যাখ্যা করা হবে কীভাবে মুসলিম ব্রাদারহুড এবং নাসেরের ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে ফাতাহ'র, এরপর ফাতাহ'র ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে হামাসের উত্থান ঘটেছে, কীভাবে হামাস প্রতিরোধ থেকে প্রতিনিধিত্বের রাজনীতিকে বরণ করে নিয়েছে, কীভাবে ফাতাহ'র সাথে দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে হামাস গাযায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে, এবং কীভাবে হামাসের বারবার শান্তি স্থাপনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ইসরায়েল তাদেরকে একের পর এক অসম যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে, এবং সর্বশেষ অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড পরিচালনা করতে বাধ্য করেছে।

এই বই হচ্ছে সেই প্রচেষ্টারই বাস্তবায়ন। বইটা লিখতে গিয়ে আমাকে ফিলিস্তিনি, ইসরায়েলি এবং অন্যান্য দেশীয় লেখক, গবেষক এবং ইতিহাসবিদদের পঞ্চাশেরও অধিক বই, বেশ কিছু ডকুমেন্টারি এবং প্রচুর পত্রিকার সংবাদ থেকে তথ্য গ্রহণ করতে হয়েছে। প্রতিটা তথ্যসূত্রই বইয়ের শেষে উল্লেখ করা আছে। তবে যেহেতু এই বইটা কোনো অ্যাকাডেমিক বই না, বরং সর্বসাধারণের জন্য সহজ ভাষায় লেখা বই, তাই অনেক ক্ষেত্রেই রেফারেন্সগুলো সেকেন্ডারি। অর্থাৎ প্রাইমারি সোর্সে না গিয়ে বিখ্যাত ইতিহাসবিদদের লেখা বইগুলোতে উল্লিখিত তথ্যগুলোকেই আমি সোর্স হিসেবে ব্যবহার করেছি।

সময় মতো বইটা লিখে শেষ করতে পারার জন্য আমি আমার পরিবারের কাছে কৃতজ্ঞ। সেই সাথে বইটা প্রকাশ করার জন্য গার্ডিয়ান প্রকাশনীকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ। বইটা যদি একজন পাঠককেও ফিলিস্তিন সঙ্কটের প্রকৃত রূপ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দিতে পারে, ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলন সম্পর্কে সহানুভূতিশীল করে তুলতে পারে, তাহলেই আমি আমার এই প্রচেষ্টা সার্থক বলে মনে করব।
Profile Image for Rezwan  Toha.
13 reviews2 followers
April 12, 2025
৭ অক্টোবর, ২০২৩
ইজরায়েলের বিলিওন ডলারের স্মার্ট ফেন্স, অত্যাধুনিক সার্ভেইল্যান্স, অটোমেটিক মেশিনগান, রাডারের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিছু হামাস যোদ্ধা আক্রমন করে বসে ইজরাইলের মাটিতে। প্রতিরোধ যোদ্ধাদের কাছে নিঃস্ব হয়ে পরে নিজেদের সর্বেসর্বা দাবি করা ইজরাইল। একের পর এক সৈন্য, বেসামরিক মানুষের মৃত্যু, সৈন্যদের বন্দী করে নিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পরে নেতানিয়াহু প্রশাসন। এর দুইদিন পর নিজেরা সামলে নিয়ে ফুল স্কেলে ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করে গাজায়। কনসেনট্রেশন ক্যাম্প এখন একটা মৃতদেহের ভাগাড়ে পরিণত হয়। বর্তমানে গাজা এখন কোনো শহর না, একটা জীবন্ত কবরের নাম।

গাজার আজকের এই পরিস্থিতি দেখে আপনার একবার হলেও মনে হইছে না যে হামাস কেন আগ বাড়িয়ে আক্রমন করতে গেলো? নিজে থেকে ইজরাইলকে ক্ষেপায়ে যুদ্ধ ডেকে আনার কি দরকার ছিলো? কেও কেও তো বলেই বসলো, "ঠেকানোর ক্ষমতা না থাকলে কেন হামাস আক্রমন করলো?" যেখানে হামাস জানেই তারা এটাক করলে পাল্টা আক্রমনে পুরো গাজা নরক হয়ে যাবে তবুও কিসের আশায় হামাস আগ বাড়িয়ে ইজরাইলকে গাজায় ডেকে আনলো? আবার আরেকদলকে দেখলাম প্রশ্ন করতে যে হামাস কেন ছাড় দিচ্ছেনা। তাদের মতে হচ্ছে হামাস ছাড় দিলেই তো ইজরাইল আক্রমন কমিয়ে দিবে। হামাস এই আক্রমন না করলে হয়তো গাজার আজকের দশা হতোনা। কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে তা কতটুকু যুক্তিযুক্ত?

বর্তমান পরিস্থিতি হিসাবে শুধু ২০২৩ এর পর থেকে এসব ঘটনায় নজর রাখলে এই প্রশ্ন আসাটা স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবতা আসলে পুরোপুরি ভিন্ন। হামাস এর এই রাস্তা ছাড়া অন্য কোনো রাস্তায় যাবার সুযোগ-ই ছিলোনা। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে ঘুরে দাঁড়াইতে হয়, শুধু ঘুরে দাঁড়ানো না, পাল্টা আক্রমনও করতে হয়, রক্তগঙ্গা বয়ে যাবে জেনেও সামনে আগায় যেতে হয়। কিন্তু কেন এই পরিস্থিতি তৈরী হলো? হামাস কেন বাধ্য হতে হলো এত মানুষের জীবন ঝুঁকিতে রেখেও আত্নঘাতী এই সিদ্ধান্ত নিতে?

কোনো আক্রমন না করেও জায়োনিস্ট ইহুদিরা একের পর এক ফিলিস্তিনি অঞ্চল দখল করে নিয়েছে, বারবার শান্তিপ্রস্তাব দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করে ফিলিস্তিনে সেটেলমেন্ট বাড়ানোর কাজ না থামিয়ে একেরপর এক জমি দখল করে গেছে, ফিলিস্তিনিদের আক্রমন, হত্যা, লুট করে গেছে। যেই পশ্চিম তীরে হামাস নেই সেখানেও গত এক বছরে ইহুদি সেটলাররা প্রায় ৭৫০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করছে। সেখানে তো হামাস নাই, তাহলে কেন সেখানেও এত এত আক্রমন করে চলেছে? কীভাবে আরব জাতীয়তাবাদ ও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আজকের ফিলিস্তিনকে এই পরিস্থিতিতে নিয়ে আসছে?

এই অজানা জিনিসগুলা ভালোমতো বুঝতে না পারলে, না জেনে থাকলে হামাসকে দোষ দেয়াই যায়, সন্ত্রাসী বলাই যায় কিন্তু আমরা যদি ইতিহাস ঘাটি এবং একটাবার তাদের জায়গায় নিজেদের বসিয়ে চিন্তা করি তাহলে পরিষ্কার হয়ে যাবে কেন ৭ অক্টোবরের প্রয়োজন ছিলো।

এই কেন এর উত্তরের পুরো প্রেক্ষাপটটাই উঠে আসছে মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা ভাই এর "দ্য রোড টু অপারেশন আল আকসা ফ্লাড" বইয়ে। বইটা ৭ অক্টোবর নিয়ে না বা তার পরবর্তী ঘটনা নিয়ে না, বইটা কেন ৭ অক্টোবর আসলো সেইটা নিয়ে। ইজরায়েলি সেটেলমেন্ট স্থাপন, নাকবা, ৬ দিনের যুদ্ধ, ইন্তিফাদা, ফাতাহ-পিএলও এর উদ্ভব, হামাসের উত্থান, হামাস-আরাফাত দ্বন্দ থেকে শুরু করে হাল আমলের ট্রাম্পের জেরুজালেমকে ইজরায়েলের রাজধানী করা, আরব জাতীয়তাবাদ ও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি সবকিছুই এই বইতে অনেক ভালোমতো তুলে ধরা হয়ছে। বইতে সবচেয়ে ভালো ব্যাপার হলো এখানে গুরুত্বপূর্ন সব তথ্যের বিপরীতে রেফারেন্স দেয়া হয়ছে। রেফারেন্স থাকার জন্য বইটার গ্রহনযোগ্যতা অনেক বেড়ে যায়।

লেখকের বইয়ের লাস্ট একটা লাইন দিয়েই শেষ করি।
"দাসদের বিদ্রোহের কৌশল নিয়ে আমরা আলোচনা করতে পারি, সেই বিদ্রোহের ফলাফল নিয়ে বিশ্লেষণ করতে পারি; কিন্তু ন্যূনতম স্বাধীনতার জন্য যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করার মতো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়, তাদের সেই যৌক্তিক সমালোচনা করার নৈতিক অধিকার কি আমাদের মতো মুক্ত মানুষদের আছে?"
Profile Image for Kzaman Amit.
17 reviews
February 23, 2025
রোড টু অপারেশন আল আকসা ফ্লাড নামটা শুনলেই বোঝা যায় আল আকসা ফ্লাডের পটভূমি নিয়ে লেখা বই। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যু ফলো করা কিংবা না করা মানুষজনও এটা শুনে থাকবেন গত প্রায় দেড় বছর যাবত।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলের ভূখণ্ডের ভেতরে প্রবেশ করে আক্রমণ করে, যেটা সবাইকে অবাক করে দেয়। ইসরায়েলে��� অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আর সার্ভেইল্যান্সকে ফাঁকি দিয়ে যেকোনো আক্রমণই ছিল শুধু মুশকিলই না, অসম্ভব একটা ব্যাপার। কিন্তু হামাস সেটা করে দেখায়, সম্ভবত তারা নিজেরাও এতটা আশা করেনি। যদিও এর পরিণতিও হচ্ছে ভয়াবহ। গাজা এখন আর বাসযোগ্য অবস্থায় নেই।

মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা ভাইয়ের লেখা সবসময়ই একটানে পড়ে যাওয়ার মতো থাকে। এখানেও ব্যতিক্রম নয়। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি নিয়ে উনি দীর্ঘদিন ধরেই লেখালেখি করছেন। বইয়ে আল আকসা ফ্লাডের প্রসঙ্গ বোঝাতে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস আর হামাস-ফাতাহর উত্থানের কথা এসেছে। এগুলোর বিস্তারিত মোটামুটি আগেই জানা ছিল। আমি নিজেই রশিদ খালিদির ফিলিস্তিন যুদ্ধের ১০০ বছর বইটা অনুবাদ করার সময় সেখানে এ বিষয়গুলো পেয়েছিলাম। তবে হামাসের প্রসঙ্গ সেখানে কম ছিল।

আল আকসা ফ্লাড যেহেতু হামাসের অভিযান ছিল, ত্বোহা ভাইয়ের বইয়ে অবধারিতভাবেই হামাসের প্রসঙ্গ আরো বিস্তারিতভাবে এসেছে। বিভিন্ন হামাস নেতাদের নাম এসেছে। আলাদাভাবে বলতে হয় আল আকসার ‘মাস্টারমাইন্ড’ ইয়াহিয়া সিনওয়ারের কথা।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফ্যানবয় আছেন প্রচুর। এখন তো আলাদা একটা ট্রাম্প লীগই হয়ে গেছে। তারা হয়তো জানেন না এই আল আকসা ফ্লাডের পেছনে ট্রাম্পের আগের টার্মের ইসরায়েল বিষয়ে বেশ কিছু নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত দায়ী ছিল। তবে আল আকসার পেছনের এসব ঘটনাগুলো বিস্তারিত আসলেও খোদ আল আকসা অভিযান নিয়ে তেমন বিস্তারিত কিছু পেলাম না। মূল পরিকল্পনা সম্পর্কে হয়তো এখনো অনেক কিছু প্রকাশ পায়নি, তবে অন্তত যেসব বিষয় প্রকাশ্যে এসেছে, সেগুলো আরো বিস্তারিত বলা যেত। পশ্চিমা মিডিয়ার হিপোক্রেসিগুলো আনা যেত। ইয়াহিয়া সিনওয়ারের মৃত্যুর বিষয়টাও আলোড়ন সৃষ্টি করার মতো ছিল, সেটাও বইয়ে মিসিং ছিল। টাইম ম্যাগাজিন তাকে লাল ক্রস দেওয়া ছবি প্রকাশ করে, যেটা এর আগে কেবল হিটলার আর লাদেনের ক্ষেত্রে তারা করে। এসব বিষয়গুলো আনা যেত।

ওভারঅল বইটা ২২৬ পৃষ্ঠার হলেও এক দিনে গল্পের মতো পড়ে ফেলা সম্ভব।
Profile Image for Al- Mubin.
62 reviews1 follower
May 16, 2025
ফিলিস্তিন, যেন আরব ভূখণ্ড তথা মুসলিম বিশ্বের এক দুর্দশার নাম। সেই পঞ্চাশের দশক থেকে শুরু করে আজ অব্ধি যেখানে ফিলিস্তিন-ইজরাঈল দ্বন্দ্ব বিদ্যমান। উদ্দেশ্য প্রণোদিত আর স্বেচ্ছাচারী কিছু আইন করে যখন ফিলিস্তিনকে একটা অবরূদ্ধ কারাগারে পরিণত করা হয়েছে দিনের পর দিন, অথচ ভূখণ্ড তাদের, সেই ভূখন্ডে স্বাধীন ভাবে বাস করার অধিকার ও তাদের। কিন্তু বাস্তবে ঘটছে উল্টোটা।

কোন সন্দেহ ছাড়াই দ্য রোড টু অপারেশন আল আকসা ফ্লাড একটি তথ্যবহুল বই, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। অনেকেই আছে আরব-ইসরাঈল দ্বন্দ্ব বা ফিলিস্তিন-ইসরাঈলের এই দ্বন্দ্ব নিয়ে বিস্তারিত জানতে চায়, তাদের জন্য তথ্যবহুল বই খুবই কম। এই বইটি হতে পারে তাদের জন্য মাস্ট রিড একটা বই। বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে ফিলিস্তিন জাতির ইতিহাস, দিনের পর দিন তারা কিভাবে দুর্দশা আর বঞ্চনার স্বীকার হয়ে একটা অবরূদ্ধ কারাগারে পরিণত হয়েছে সেই ইতিহাস। হামাস-ফাতাহ সহ অন্যান্য রেজিস্ট্যান্স গুলোর কার্যক্রম, ভূমিকাসহ সর্বশেষ অপারেশন আল আকসা ফ্লাড নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, বইটি ভালো। তবে অপারেশন আল আকসা ফ্লাড নিয়ে আরো বিস্তারিত পর্যালোচনা থাকলে আরো ভালো হত।
5 reviews
March 4, 2025
Nicely described the history but it would be better If he would start from the time when Palestine was conquered for the first time by Muslims. At the time of Umar(RA)
Displaying 1 - 13 of 13 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.